চট্টগ্রামে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বেহাল দশা

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগাক্রান্ত। হাসপাতালে মশা, মাছির উপদ্রব আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের। থাকেন না নার্স, চিকিৎসক। দেয়া হয়না পর্যাপ্ত পানিসহ রোগীদের খাওয়ার। ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ড।

আনোয়ারার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আবদুর রহমান শ্বাস কষ্ট রোগের চিকিৎসা নিতে ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আসেন দু’দিন আগে। কিন্তু চিকিৎসকদের দেখা না মেলায় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছেন দু’দিন ধরে। নেই তার খোঁজ নেয়ার মানুষও।

হাসাপাতালে অফিস আছে, চিকিৎসকদের আছে চেম্বার, নাম ফলক। নেই শুধু চিকিৎসক আর নার্স। হাসপাতালের ভেতরে হকারদের অবাধ আনাগোনা। একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি রাখা হয়েছে রোগীদের ওয়ার্ডে- যেখানে দেখা মিলবে ময়লা আবর্জনার ভাগার, গাড়ির গ্যারেজ আর রোগীদের রান্নার ব্যস্ততা। অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের দুর্গন্ধে, সুস্থ মানুষও অসুস্থ হওয়ার যোগাড়।

ফৌজদারহাটে ২৮ একর জায়গার উপর গড়ে উঠা হাসপাতালটি নিয়ে রোগীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। খাবারের জন্য রোগীদের জনপ্রতি ১২৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও, সরবরাহ করা হয় নিম্ম মানের খাবার

মশা, মাছির উপদ্রবের মধ্যে বসবাসকারী রোগীদের জন্যে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাই নেই; আর চিকিৎসক, সেতো সোনার হরিণ।

শধু হাসপাতাল নয়, তদারকি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের বিভাগীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অফিসটিও যেন রোগাক্রান্ত। হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়ে সেখানে কারো মাথা ব্যাথা নেই। অফিসে নেই পরিচালক। সহকারী পরিচালক থাকলেও তিনি কথা বলতে নারাজ।

হাসপাতালের এসব অনিয়ম-দুনীতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

Leave a Reply