চতুর্থ বছরে পা রাখলো আওয়ামী লীগ সরকার

টানা দ্বিতীয়মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার পূর্ণ করলো তিন বছর। চতুর্থ বছরে পা রাখলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এ সরকার। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমান সরকার চতুর্থ বছরে অনেক পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। তবে, নিজ সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে এখনও খানিকটা পিছিয়ে বলেও মনে করেন তারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী হয়। পরে ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

প্রথম বছরেই সরকারকে সামাল দিতে হয় বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলন। অব্যাহত থাকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে নিষ্পত্তি হয় সমুদ্রসীমার; দেশের মানচিত্রে যোগ হয় বিপুল সমুদ্র সম্পদ।

তুমুল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথেও নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, উপজেলা নির্বাচন নিয়েও বেশ খানিকটা সমালোচনার মুখোমুখি হয় সরকার।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত চুক্তি ও ছিটমহল বিনিময়ও সরকারের বড় সাফল্য। এদিকে, তৃতীয় বছরে প্রায় চল্লিশভাগ শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর কাজ। যাত্রা শুরু করেছে পায়রা সমুদ্র বন্দর। এগিয়ে চলেছে মেগাপ্রকল্পগুলো। তারপরও সরকার হোঁচট খেয়েছে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের উত্থানে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, নিজ সংস্কৃতির উন্নয়নই পারে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ রুখে দিতে।

এদিকে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজও প্রায় শেষের পথে। রেমিটেন্স ছুয়েছে দেড়’শ কোটি ডলারের মাইলফলকে। বিদ্যুৎ পাচ্ছে ৭৮ ভাগ মানুষ। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বললেন, রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে উন্নয়নের সাথে চাই প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের মানোন্নয়ন।

এদিকে, গেল তিন বছরে সফল রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ইউনেসকো’র ‘শান্তিরবৃক্ষ’, জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’, ওঈঞং রহ ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ অধিৎফ-২০১৫সহ আরো অনেক আর্ন্তজাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃঢ় নেতৃত্বে আরো বাংলাদেশ একদিন দাড়াবে উন্নত দেশের কাতারে এমন বিশ্বাসও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের।

Leave a Reply