ঢাকা সেনানিবাসের ২ ভবন বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও বিজয়কেতন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যে কক্ষে ৯ মাস বন্দী এবং যে ট্রায়াল রূমে মামলার বিচার কাজ পরিচালনা করা হয় তা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এখনো। ঢাকা সেনানিবাসের সেই দুটি ভবন এখন বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও বিজয়কেতন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নামে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে শোভা পাচ্ছে সেসময়কার সব স্মৃতি ও ঐতিহাসিক দলিলপত্র।

ঢাকা সেনানিবাসের সামরিক হাসপাতালের পার্শ্বে-ই অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। যেটি ছিল পাকিস্তানী আমলে সে সময়কার সিগন্যাল অফিসার্স মেস। এখানেই সংরক্ষিত আছে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আনীত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিভিন্ন স্মৃতি। জাদুঘর ঘুরে দেখা যায় মামলার অনেক ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও বিভিন্ন ছবি।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ’আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ একটি মাইলফলক। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীকার আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচী অনুযায়ী শুরু হয় ৬ দফার আন্দোলন। তৎকালীণ পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের অসন্তোষ ও স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্দ করতে অধিকার আন্দোলনের এই নেতাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করে পাকিস্তানী সরকার।

পরবর্তীতে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য নামে একটি মামলা করা হয়, যা পরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিতি পায়। রাজবন্দী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে ৯ মাস অন্তরীণ করে রাখা হয় তৎকালীণ এই অফিসার্স মেসের এই কক্ষে। যা এখনো সেই আদলেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত পোশাক,খাট, ট্রাংক সহ বিভিন্ন নিত্য ব্যবহার্য্য এখনো ওভাবেই রাখা হয়েছে আছে। কিছু জিনিষপত্র সেই আদলে তৈরি করা হলেও, কক্ষটি ছিলো এটি-ই। বদলানো হয়নি পুরোনো বৈদ্যুতিক লাইন,ঝুলছে সেই পাখাটি।

সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটি সংস্কার করেছে ১৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বুধবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত সামরিক বেসামরিক সবার জন্য উন্মুক্ত সেনানিবাসে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাদুঘর।

Leave a Reply