আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

আজ ঐতিহাসিক সাতই মার্চ। একটি ভাষণের জন্মদিবস। যে ভাষণেই সূচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের এ দিনেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। সে সময়কার রেসকোর্স ময়দান, আজকের সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের অযুত মানুষের সমাবেশেই বাংলার মানুষ পেয়ে যান মুক্তিযুদ্ধের বার্তা। পরবর্তী নয়মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত হয় পাকিস্তান; জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এক যুগেরও বেশী সময় সামরিক শাসনের পর ১৯৭০এর ডিসেম্বরে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ জয় পায়, আওয়ামী লীগ।

কিন্তু তারপর থেকেই সামরিক সরকার, পশ্চিম পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। দুই মাস টালবাহানা করে ৩রা মার্চ গনপরিষদের অধিবেশনের কথা বলেও ১ মার্চ তা স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। এরপর থেকেই স্বায়ত্বশাসন থেকে স্বাধীনতার দাবিতে অসহযোগ, হরতাল, বিক্ষোভে উত্তাল পূর্বপাকিস্তান।

পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন শুরু করে। অণ্যদিকে ঘটাতে থাকে সৈন্য সমাবেশ। তবে এরইমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বঙ্গবন্ধু, আসে সেই ঐতিহাসিক সাতই মার্চ। সামরিক শাসকদের যেকোন স্বৈরাচারী পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের মঞ্চে আসেন বঙ্গবন্ধু।

উত্তাল জনসমুদ্রে ১৮ মিনিটের ভাষনে সামরিক বাহিনীর হত্যার তদন্ত, তাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়া, জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দেয়ার দাবির পাশাপাশি দেন দেশবাসীর বহুপ্রতিক্ষীত স্বাধীনতার ডাক।

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সে ভাষনে বঙ্গবন্ধু আর হুকুম দিতে না পারার শংকা জানালেও দেশবাসীর করণীয় তুলে ধরেন।

সেই জনসভার স্বাধীনতার দাবির ব্যানারে ফেস্টুন আর বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা উপস্থিত লাখো জনতার মনের কথা হয়ে উঠায় গগনবিদারী শ্লোগানে স্পষ্ঠ হয়ে ওঠে রচিত হতে চলেছে-স্বাধীন বাংলাদেশের মহাকাব্য।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের জনসভার পর পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও গোপনে শক্তিবৃদ্ধি করতে থাকে, ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে চালায় বিশ্বইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা। রাখে দাঁড়ায় বাঙ্গালীরাও। শুরু হয় বীর বাঙ্গালীর সশস্ত্র যুদ্ধ; ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষের জীবন আর লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ।

Leave a Reply