সিরিয়ার শিশুদের তাড়া করে যুদ্ধের স্মৃতি

যুদ্ধের স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় সিরিয়ার শিশুদের। দেশের ভেতর আর শরণার্থী ক্যাম্প, যেখানেই যাচ্ছে, যুদ্ধ পিছু ছাড়ছেনা তাদের। তবে, জীবন থেকে যুদ্ধের ক্ষত মুছে ঘরে ফিরতে চায় তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে বেড়ে ওঠা ভবিষৎ প্রজন্মের বড় একটি অংশকে ভয়াবহ মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

যুদ্ধের ভয়াবহতার ছাপ শিশু রোউয়ার চোখেমুখে। তিন বছর আগে সিরিয়ায় চোখের সামনে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার ছবি এখনও গেঁথে আছে ৫ বছর বয়সী এই শিশুর মনে। গৃহহারা রোউয়ার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে লেবাননের শতছিন্ন তাবুতে। তবে, ধ্বংসস্তুপের মধ্যে ফেলে আসা প্রিয় পুতুল আর শৈশবকে এখনও খুঁজে ফেরে রোউয়া।

আর মুস্তফা যেন আরেক যুদ্ধজয়ী সৈনিক। বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট কাটিয়ে নিথর পা আর মাথায় বোমার শার্পনাল নিয়ে এগিয়ে চলছে সে। মিষ্টি হাসি, মায়া জড়ানো বাদামী চোখে, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তার।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, সিরিয়ায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যা ৫৫ লাখের বেশি। সিরিয়ার ভেতর ও প্রতিবেশী দেশের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত এসব শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব, মানসিক চাপ আর ক্রমেই ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি বিপর্যস্ত করছে নতুন প্রজন্মকে।

ময়দান ছেড়ে যুদ্ধ পৌঁছে গেছে সিরিয়ার ঘরে ঘরে। প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের নির্মম শিকার হচ্ছে প্রতিটি মানুষ।

 

Leave a Reply