আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় ২০০২ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী
প্রকাশিত : ২০:০৭, ২ এপ্রিল ২০২৫

‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ স্লোগানে উত্তর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০০২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আনন্দমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন ইমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ও সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বরণ করেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর রাজু বড়ুয়া ও সাহিদা ইয়াছমিন ভুঁইয়ার যৌথ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিরন বড়ুয়া।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রেয়াজুল ইসলাম ইমন ভুঁইয়া। এ সময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাওলানা রবিউল হোসেন নিজামী, মমিনুল হক বিএসসি, গিয়াস উদ্দিন এবং বর্তমান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান।
এদিকে পুনর্মিলনী উৎসবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিলেন আনন্দে, যেন তারা ফিরে গেছেন নিজেদের শৈশবে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার একত্রিত হতে পেয়ে তাদের সব ক্লান্তি যেন দূর হয়ে গিয়েছিল। একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার তৈরি করছিলেন তারা এবং আনন্দময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করছিলেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাহিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমরা শৈশব-কৈশোরের খোঁজে এখানে ছুটে এসেছি, স্বপ্নের দুয়ারে, স্মৃতির আঙিনায়। বহুদিন পর স্কুলবন্ধুদের একত্রিত করতে পারলাম। নানা ব্যস্ততায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। ঈদকে উপলক্ষ করে বন্ধুদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিই, আর সেই ভাবনা বাস্তবায়ন করতেই এই মিলনমেলা। সত্যিই দারুণ একটা দিন কাটিয়েছি।’
রেয়াজুল ইসলাম ইমন ভুঁইয়া নামে আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘এই মিলন মেলা ঈদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ ঢাকা, কেউ চট্টগ্রাম, কেউবা আরও দূরদূরান্তের জেলায়। জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালেভদ্রে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম এবারের ঈদের ছুটিতে সবাই একত্রিত হতে। সবাইকে দীর্ঘ ২৩ বছর পর পেয়ে অসাধারণ এক সময় উপভোগ করছি।’
উদযাপন কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না, হারিয়ে যাবার নয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে আমরা হয়তো ব্যস্ত থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে যায় না, অমলিন হয়ে থাকে স্মৃতিপটে। এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের মতো কখনও স্মৃতিময় হয় না। প্রকৃত বন্ধুই হলো স্কুল জীবনের খেলার সাথীরাই। তাদের সঙ্গেই এমন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো কাটানো যায়।’
মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরো আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেখানে একে অপরের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, এবং সবার মধ্যে এক অনন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।
এসএস//
আরও পড়ুন