ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৬ ২৩:৪৫:১৬, রবিবার

Ekushey Television Ltd.

‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে ননক্যাডার ডাক্তারদের ক্যাডারভুক্ত করা সম্ভব’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২১ পিএম, ১৯ মে ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ০৯:০২ পিএম, ১৯ মে ২০১৯ রবিবার

প্রধানমন্ত্রী চাইলে নন ক্যাডার ডাক্তারদের ক্যাডারভুক্ত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ডা. উম্মে তাহেরা ইলা। তিনি বলেন, হতে পারে এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

৩৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা ক্যাডারভুক্ত করার দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলন করে আসছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে প্রায় আড়াই হাজার নন-ক্যাডার চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দুপুর একটায় শেষ হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় নন ক্যাডার ডাক্তারদের পঞ্চাশ জনের একটি প্রতিনিধি দল আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যায়। কিন্তু প্রতিনিধি দলটি পৌঁছাতে দেরী হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। সেই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলে উম্মে তাহেরা ইলা।

একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হলে উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, আমাদের মূল দাবি একটাই। সেটা হলো ৩৯ তম বিসিএস- এর ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর যে আট হাজার ৩৬০ জন ডাক্তারকে নন ক্যাডার করে রাখা হয়েছে, শুন্য পদের কারণে তাদেরকে (আমাদেরকে) পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমাদের দাবি হচ্ছে অতি দ্রুত শূন্য পদ সৃষ্টির মাধ্যমে আট হাজার ৩৬০ জন নন ক্যাডারকে ক্যাডারভুক্ত করে পদায়ন করা হোক।

নিয়োগ দেওয়ার মতো পদ খালি না থাকলে নিয়োগ কীভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নে এই আন্দোলনকারী ডাক্তার বলেন, এই বিশাল জনবহুল দেশে আরও প্রায় ছাপ্পান্ন হাজার নতুন  ডাক্তারের জন্য পদ দরকার। সেখানে ৩৯তম বিসিএস- এ উত্তীর্ণ যে আট হাজার ৩৬০ জন ননক্যাডার অবস্থায় আছে তাদেরকে পদায়ন করা সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার মাত্র। হতে পারে এটা জটিল একটা প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, দেশে ১০৫টি মেডিকেল কলেজে ২৫ হাজার ৩০০ জন শিক্ষক প্রয়োজন থাকলেও সেখানে মাত্র ৯ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৬৩ শতাংশ শিক্ষক সংকট রেখেই মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা চলছে। যোগ্যদের ক্যাডারভুক্তি করলে এসব কলেজে শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে।

ডা. উম্মে তাহেলা ইলা বলেন, আমরা এ দাবি নিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছিলাম। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছি। দু`জনেই আমাদেরকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আশ্বাস পেলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। যা আমাদেরকে রাজপথে থাকতে বাধ্য করেছে। সেই আশ্বাসের আলো আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখালেও দাবি আদায়ের কোন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ইতোপূর্বে কখনো নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার নিয়োগ হয়নি। সেক্ষেত্রে এমন দাবি কতোটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, এখানে নন ক্যাডার থেকে ক্যাডার করার মতো ব্যাপার নয়। এটা ছিল স্পেশাল বিসিএস। আমরা মনে করি, আমাদের রেজাল্টটা অসম্পূর্ণ রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে আমাদের বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তাড়াহুড়ো ছিল ৪০ ও ৪১তম বিসিএস নিয়ে। ফলে সিদ্ধান্তের আগেই ফলাফল ঘোষিত হয়ে গেছে। তাই সার্কুলারে ঘোষিত পদ ও কোটার ক্রমানুসারে কিছু নিয়োগ পেলেও বাকিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করছি অতিদ্রুত এ জটিলতা কাটিয়ে বাকি আট হাজার ৩৬০ জনকে ক্যাডারভুক্ত করা হবে।

নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার হওয়ার জন্য চিকিৎসকদের এ দাবি কতোটুকু যৌক্তিক এমন প্রসঙ্গে ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, আমরা যারা আন্দোলন করছি তারা সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন। ক্যাডার হওয়ার জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তার সব শর্ত আমরা পূরণ করেছি। এজন্যই আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় এসেছি।

শনিবারের মানববন্ধনে আন্দোলনরত ডাক্তাররা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্যাডারভুক্ত না করা হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কিন্তু একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের অন্যতম মুখপাত্র ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, এই গরমে রোজা রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া আমাদের সহকর্মীদের জন্য কঠিন। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিবেন- এমন বিশ্বাসের জায়গা থেকে আপাতত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত রাখছি। তবে নতুন কর্মসূচি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগের অনুমতি দেন। এ লক্ষ্যে আয়োজিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হন। তবে সেখান থেকে মাত্র চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ আরও আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক অনিশ্চয়তায় পড়েন।

লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছিল ১৩ হাজার ২০০ জন। মৌখিক পরীক্ষায় ৩০০ জন উত্তীর্ণ হননি। এরমধ্যে নন ক্যাডারভুক্ত হয়েছে আট হাজার ৩৬০ জন। আর ক্যাডারভুক্ত হয়েছে চার হাজার ৭৯২ এরমধ্যে অল্পকিছু সংখ্যক উত্তীর্ণ হননি।

 

আ আ// এসএইচ/



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি