ঢাকা, ২০১৯-০৫-২১ ১৮:৩৭:৪২, মঙ্গলবার

Ekushey Television Ltd.

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন- প্রস্তুতি (পর্ব ১)

হাসানুর রহমান (রাজু)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০২ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৬:৪০ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার

দেশ থেকে প্রায়ই ইমেইল বা ইনবক্সে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো পাই। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী অনেকে শুরুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায় না, তাই একদম প্রাথমিক খুঁটিনাটি নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য আমার এই লিখাটি। আমি ধীরে ধীরে সবগুলো দেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ বিদেশে উচ্চ শিক্ষার প্রথম পর্ব। এখান থেকে আপনি ব্যাসিক কিছু বিষয়ে জানতে পারবেন আশা করি ।

প্রথমে কিছু প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই।

FAQ (Frequently Asked Question)

* দেশের বাহিরে Higher Study (Masters/PhD) করতে চাই, কিভাবে শুরু করতে হবে?

* আমার আন্ডারগ্রাজুয়েটের সিজিপিএ কম, আমার কি স্কলারশিপ হবে?

* অনেক প্রফেসরকে ইমেইল করেছি কিন্তু কোনও রিপ্লাই পাচ্ছি না, কেন?

* IELTS-এর স্কোর কত লাগবে? ও IELTS ছাড়া কি স্কলারশিপ হবে না?

* বাহিরে পিএইচডি/মাস্টার্স করতে চাই, আমার কোন পাবলিকেশন নেই, কি করব?

* আমি অ্যাডমিশন পাচ্ছি কিন্তু স্কলারশিপ পাচ্ছি না, কিভাবে পাব?

বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও, বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য (ভর্তি ও স্কলারশিপ) সাধারণত যে সব ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়:

* ব্যাচেলর (এবং মাস্টার্স)-এর সিজিপিএ

* একজন প্রফেসর

* Language Test Score (IELTS/TOEFL)
* LOR (Letter of Recommendation)
* SOP (Statement of Purpose)/Motivation letter 
* CV/ Resume

* পাবলিকেশন

নিজেকে প্রস্তুত করতে করণীয়

১. সিজিপিএ: ভাল সিজিপিএ (৩.৫ এর উপরে) ভর্তিতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অনেকের ধারণা অনেক ভাল সিজিপিএ ছাড়া ভর্তি ও ফান্ড পাওয়া যায় না, এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। আমার পরিচিত কয়েকজন এখন নামকরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে যাদের সিজিপিএ- ৩.৫ এর নিচে। সিজিপিএ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত হিসেবে সিজিপিএ-৩.০ -৩.২৫ ও চায়। তবে এক্ষেত্রে ও IELTS / TOEFL এর স্কোর যত বেশি হবে তত ভাল। সিজিপিএ এর সঙ্গে মোটিভেশন লেটার, সিভি, পাবলিকেশন এসবও গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে।

 ২. IELTS -এর প্রস্তুতি ও স্কোর: ভর্তি ও স্কলারশিপের আরেকটি প্রধান শর্ত হলো আইইএলটিএস স্কোর । আমার জানামতে সব ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে Language Test Score চায় (যেমন, IELTS স্কোর: সাধারণত ৬ থেকে ৭), মনে রাখবেন স্কোর যত ভাল হবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তত বাড়বে। বেসিক লেভেল স্ট্রং করে একটু সময় নিয়ে আয়েল্টস পরীক্ষা দিলে আশানুরূপ স্কোর আসার সম্ভাবনা বেশি । IELTS এর জন্য ক্যামব্রিজ সিরিজ ৫-৯ এর বইগুলো বেশ সহায়ক ভুমিকা পালন করে। কত দিন ধরে প্রস্তুতি নেবেন, এটা আপনার দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে। আমার মতে অন্তত তিন মাস সময় হাতে রাখা ভাল । (বিস্তারিত পর্ব-৪ এ )

৩. প্রফেসর ম্যানেজ করা: পছন্দের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পেইজ থেকে সাবজেক্ট ও প্রফেসর বাছাই করে তার তথ্য ও ইমেইল আইডি সংগ্রহ করতে হবে। যেহেতু এডমিশন ও স্কলারশিপ পাওয়ার মোক্ষম উপায় প্রফেসর ম্যানেজ করা, তাই প্রফেসরের গবেষণার ধরন ভালভাবে জেনে এবং খুব সতর্কতার সাথে প্রথম ইমেইলটা করতে হবে। অনেক সময় ইমেইলের কোন উত্তর পাওয়া যায় না, সেক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে ও সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে ইমেইল করতে হবে। আরেকজনের ইমেইল বা গুগল সার্চ করে ধারণা নেওয়া যাবে কিন্তু কপি পেস্ট করে ইমেইল করা ঠিক না। (বিস্তারিত পর্ব-২ ও ৩ এ )

৪. পাবলিকেশন বা রিসার্চ অভিজ্ঞতা বাড়ানো: ভালো মানের জার্নালে পাবলিকেশন থাকলে পিএইচডি/ মাস্টার্স স্কলারশিপ পেতে সুবিধা হয়। যাদের সুযোগ আছে তাদের ভাল পাবলিকেশনের সংখ্যা বাড়াতে হবে, কিন্তু যাদের সুযোগ নেই তারা দেশে থিসিস/প্রোজেক্ট করে রিসার্চ অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারেন । পিএইচডি ও মাস্টার্স উভয়ের ক্ষেত্রে পাবলিকেশন বা রিসার্চ অভিজ্ঞতা গুরুত্তপূর্ণ, তবে কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে পাবলিকেশনের শর্ত শিথিল আছে।

৫. এসওপি তৈরি করা: এখানে আপনি নিজেকে তুলে ধরবেন। মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এটিকে বিশেষ বিবেচনা করে থাকে। একটি সুন্দর Statement of Purpose –এর কারণে আপনি ভর্তির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। নিজের অভিজ্ঞতা, কেন এ বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি তা নিয়ে সুস্পষ্ট করে লিখতে হবে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের Statement of Purpose –এর জন্য নিজস্ব ফরম্যাট রয়েছে সে ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করুন। (বিস্তারিত পর্ব-৬ এ )

৬. এলওআর তৈরি করা: এটা আসলে আপনার পরিচিত যেমন আপনার সুপারভাইজার, বিভাগীয় শিক্ষক কিংবা বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশপত্র। ক্ষেত্র ভেদে ২/৩ টা লাগতে পারে। রিকমেন্ডেশন লেটারে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে ছাত্র বা ছাত্রীটির কোথায় দুর্বলতা ও কোথায় তার দক্ষতা আছে এবং সে যে বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক তাতে তার অভিজ্ঞতা কতটুকু তাও উল্লেখ থাকতে হবে। (বিস্তারিত পর্ব-৭ এ )

৭. সিভি তৈরি করা: সিভি হতে হবে প্রফেশনাল ও ইনফরমেটিভ । মোটামুটি গুরুত্বপূর্ন যেমন একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা/প্রজেক্ট, পাবলিকেশন এবং অ্যাওয়ার্ড (যদি থাকে) স্পষ্টভাবে শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে হবে। আরেকজনের সিভি হুবহু কপি পেস্ট না করে, সেই ফরমেট থেকে ধারণা নিয়ে নিজের মত করে লিখা ভাল। আর যে ল্যাবে যেতে চান তার সঙ্গে পরিকল্পনা ঠিক রেখে খুব মার্জিতভাবে আপনার কথা উপস্থাপন করুন। (বিস্তারিত পর্ব-৫ এ )

প্রতিটি ধাপ আবার আলাদা করে বর্ণনা করেছি, তা কয়েক পর্বে উপস্থাপন করবো।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর। পিএইচডি গবেষক, টোকিও মেট্রপলিটান ইউনিভার্সিটি, জাপান।

একে//



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি