ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ১১:৪৮:২১, বৃহস্পতিবার

Ekushey Television Ltd.

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কাঠের বাড়ি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৩৪ পিএম, ১ জুন ২০১৯ শনিবার | আপডেট: ০৫:৩৩ পিএম, ১ জুন ২০১৯ শনিবার

কাঠের বাড়ি। শত হাজার কারুকার্য বা বাহারি বিচিত্র ঢং নিয়ে ঐতিহ্যের প্রমত্যভাবে বয়ে চলছে কাঠের বাড়ি।পাহাড়ি অঞ্চল, শীত প্রধান অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে কাঠের নানা রকমের বাড়ি দেখা যায়। অনেক সময় আধুনিকতার একটু ছোঁয়ায় এ কাঠের বাড়ি হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের এক অন্যান্য নির্দশন।

ছোট ছোট কক্ষের সমন্বয়ে এক তলা, দ্বিতলা, ৩য় তলা কাঠের ঘরের সঙ্গে আমরা কম বেশি পরিচিত। তবে কাঠের বাড়ি বা ঘরের উচ্চতা যদি হয় ১৮ তলা তাহলে চোখ তো কপালে উঠার দশা। কিন্তু এমনই ঘটেছে নরওয়েতে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আধুনিক বহুতল এ কাঠের বাড়ি।

মিয়োসা হ্রদের তীরে ১৮ তলা কাঠের  এ বাড়িটির উচ্চতা ৮৫ মিটার। নরওয়ের এই বাড়ির মতো পৃথিবীর অন্য কোথাও এমন বাড়ি নেই। এই বাড়ির প্রকল্পটি স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ী আর্তুর বুর্খাটের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল।

কংক্রিট ও ইস্পাতের বাড়ি নির্মাণের চেয়ে এই বাড়ি নির্মাণে কার্বন কম নির্গমন হয়েছে। ইস্পাত ও কংক্রিটের তুলনায় এই ভবন ৬০ শতাংশ কম সিওটু নির্গমন করে ৷ কাঠ দিয়ে অনেক কিছু নির্মাণ করা যায়। এমন জটিল ও বহুতল ভবনও নির্মাণ করা সম্ভব কাঠ দিয়ে। এমনটি বলছিলেন প্রকল্প প্রধান আর্তুর বুর্খাটে।

এ বাড়ির বাসিন্দা লাইফ আটলে ভিকেন বলেন, ‘কাঠের ঘরে থাকার মজাই আলাদা। এই ঘরের চারিপাশে কাঠের সংস্পর্শ রয়েছে। কাঠের উষ্ণ তাপমাত্রায় বিশেষ এক অনুভূতির মধ্যে এখানে বসবাস করা যায়।’

কাঠের ঘরে থাকলে মনে হয় যেন ঘরটা জীবন্ত। অন্যদিকে কংক্রিটের ঘরে থাকলে জড়বস্তু মনে হয় বলে মন্তব্য করেন বাড়ির অন্য এক বাসিন্দা।

বহু বছরের মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে এই ভবনটিকে তীব্র বাতাস ও চরম আবহাওয়ার ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণে পারদর্শী একটি কোম্পানি বাড়িটি ডিজাইন করেছে৷

প্রকল্পের সমন্বয়ক ও্যস্টেন এলিগসাস বলেন, এ কাজটা আমাদের জন্য নতুন ছিল। কঠোর পরিশ্রম ও র্নিঘুম রাত কাটানোর পর আমরা এটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এত উঁচু ভবন তার উপর সব হালকা উপকরণ, এটা আমাদের জন্য সমস্যা ছিল। উপরন্তু উপত্যাকায় ধমকা হওয়ার জোড়াজুড়িতে ভবনটি হেলে পড়ার ভয় ছিল।’

এই কাঠের ভবনের ভর সামলাতে ভবনের স্তম্ভগুলোকে মাটির অনেক গভীরে বসানো হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও বড় বিষয় ছিল ৷ মোটা কাঠের স্তম্ভগুলি এমনকি ইস্পাতের তুলনায় আরও বেশিক্ষণ আগুনের শিখা সামলাতে পারে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে এটাও বড় সুবিধা ৷ হোটেল ও সম্মেলন কক্ষও রয়েছে কাঠের এ বহুতল ভবনে। বহুতল এই কাঠের ব্যতিক্রমী মিয়োসা টাওয়ারকে ভবিষ্যতের ফ্ল্যাটবাড়ির ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে৷

বাড়িটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের প্রতীক মনে করেন প্রকল্প সমন্বয়ক। ভবিষ্যতে নির্মাণের ক্ষেত্রে কাঠ পরিবেশবান্ধব উপকরণ হতে পারে৷

এমএস/কেআই

ফটো গ্যালারি



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি