ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ১০:২৩:৫৮, বুধবার

Ekushey Television Ltd.

মুক্তির সংগ্রাম ও শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

মেহেদী হাসান

প্রকাশিত : ০৩:১৩ পিএম, ১৭ মে ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:১৪ পিএম, ১৭ মে ২০১৯ শুক্রবার

আজ  ১৭ মে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তির-সংগ্রাম অভিযাত্রার এক ঐতিহাসিক দিন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রক্তাত্ব স্বদেশে তিনি যখন ফিরলেন, এ বদ্বীপ তখন এক বিশাল কারাগার।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর অবৈধ সামরিক শাসনের জাতাকলে পিষ্ঠ ছিল দেশের মানুষ ও সংবিধান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী ও কারাগারে জাতীয় চার নেতার খুনিচক্র রাষ্টক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।

গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক ভিন্নমতের উপর নিয়মিত নির্যাতন ও নিপীড়ন ছিল ঐ অবৈধ সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচী। এমনকি সামরিক বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হাজার হাজার কর্মকর্তা ও সৈন্য চাকরিচ্যুত ও প্রহসনের বিচারে হত্যার শিকার হন।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী-শক্তি রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ বাহিনীর সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন  হচ্ছিল সুপরিকল্পিতভাবে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ছিল উপেক্ষিত।

নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও ষড়যন্ত্রের শিকার ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

এমন অবস্থায় ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদ ভারতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে দিল্লিতে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দলটির হাল ধরার অনুরোধ জানান। দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও খুনী সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল। ঐ কাউন্সিলে তাঁর অবর্তমানে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগে সভানেত্রী নির্বাচন করা হয়।

১৯৮১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত সভানেত্রীকে এ ব্যাপারে অবহিত করার জন্য দিল্লি যান এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশে ফেরার কর্মসূচি ঠিক করেন। সে সময় তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সাড়ে নয় বছর ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আট বছরের শিশু বালক-বালিকা।

ওদেরকে ছোট বোন রেহানার কাছে দিয়ে মুক্তিকামী জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জয় ও পুতুল অনেকটাই মাতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়ে বড় হয়। মা হয়ে যে সময়টা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সন্তানের কাছে থাকার তখন ওরা মাকে পায় নাই।

একদিকে সংগঠনকে সুগসংগঠিত করে গড়ে তোলা অন্যদিকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়া মা-সন্তানদের এই আত্মদান মানুষকে আরও উজ্জীবিত করে তোলা। কিন্তু সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বিভিন্ন কূটকৌশলের আশ্রয় ও হুমকি প্রদানের মাধ্যমে রুখতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

গণমানুষের মুক্তির ডাক আর স্বজন হারানোর তীব্র শোক বুকে চেপে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার দিনটি ছিল অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ। মুষলধারে বৃষ্টিতে প্লাবিত ছিল রাজধানী ঢাকা। এরপরও বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে বিমানবন্দরে ছিল মুক্তিকামী লাখো মানুষের সমাগম।

এ যেন আরেক ১০ জানুয়ারি যেদিন ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। যেদিন প্রকৃতি স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল বাঙালি। তেমনি ১৭ মে বাঙালি পেয়েছিল প্রকৃত মুক্তির এক দিশারী-শেখ হাসিনাকে। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানো হলো বঙ্গবন্ধু কন্যাকে।

এক বুক জ্বালা আর কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত শেখ হাসিনা সেদিন শপথ নিয়েছিলেন মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি অবিচল থাকবেন। দুঃখী মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে তিনি অবিচল লড়াইয়ে নিয়োজিত থাকবেন।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে গণবিরোধী অগণতান্ত্রিক জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে শুরু করেন দুর্বার আন্দোলন। মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন জাতির পিতা হত্যার বিচার দাবিতে এবং অসাংবিধানিক সরকারের পদত্যাগের দাবিতে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান।

এই সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সুযোগ খুজতে থাকেন রাষ্টক্ষমতা দখলে। তারই ধারাবাহিকতায় সামরিক জান্তা এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নীলনকশার মাধ্যমে রাষ্ট ক্ষমতা দখল করলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিবাদী হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ। শুরু হয় স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী এক দীর্ঘমেয়াদী লড়াই-সংগ্রামের।

এ সংগ্রামে বার বার তিনি কারাভোগ করেন ও গৃহবন্দী হন। ক্ষমতাশীল বিএনপির কাছ থেকে এরশাদ ক্ষমতা কেড়ে নিলেও বিএনপি তখন ছিল নিশ্চুপ। অথচ শেখ হাসিনাই প্রথম সমমনা ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক আন্দোলন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলের ঐক্যবদ্ধ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা মনে করেন রাষ্ট পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের একমাত্র উপায় গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচন। তাই তিনি সবসময় নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য জনগণের কাছে গিয়েছিন এবং প্রতিকূল পরিবেশেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উল্লেখ্যযোগ্য দিক হলো নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত হলেও তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের শতকরা হার বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছেন। যা তৃণমূলে আওয়ামী লীগের জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে দীর্ঘ ২১ বছর পর ২৩ জুন সরকার গঠন করে। অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেমন চালাবেন তিনি। কিন্তু অসম্ভব দ্রুতগতিতে তিনি একজন নেত্রী থেকে রাষ্টনায়ক হিসেবে উদ্ভাসিত হন।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি জাতীয় ঐক্যমতের ডাক দেন। নতুন সরকারের প্রথম কেবিনেট মিটিং-এ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষাকবচ কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর কলংকিত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে জাতীয় সংসদ। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেন।

পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের উদ্যোগও নেন তিনি। সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি সম্পন্নের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ তিন দশকের কূটনৈতিক টানাপোড়নের সমাধান করেন এবং খাদ্য ঘাটতি পূরণে পদ্মা নদীর অববাহিকায় কৃষি বিপ্লব গড়ে তোলেন।

নতুন সরকারের মাত্র দেড় বছরের মাথায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় দশ ভাগ অঞ্চল নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন দেশের পার্বত্য অঞ্চলে।

গঙ্গার পানি চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির কারণে অঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। কারণ কোনো প্রকার তৃতীয় শক্তির মধ্যস্থতা এবং কোনো আন্তর্জাতিক পরাশক্তির সাহায্য ছাড়াই রক্তপাতহীন এসব জটিল সমস্যার সমাধান বিশ্ব রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।

শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের মঙ্গলে সারাক্ষণ নিয়োজিত রাখেন নিজেকে। এমনকি বিরোধী দলে থাকাকালীন তিনি দেশ ও মানুষের সমস্যাসমূহ নিবিড়ভাবে ভাবেন এবং সমাধানের সকল বিকল্প নিয়ে প্রায়গিক গবেষণা করেন। তিনি প্রথাগত রাজনৈতিক চিন্তার বাইরে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধুর পর যে সকল ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সরকার গঠন করেছেন তারা সবাই শাসক হিসেবে জনগণকে শোষনের চেষ্টায় উপনিত ছিলেন। কিন্তু একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার জনগণের নিবেদিত সেবক হিসেবে সচেষ্ট রয়েছেন এবং মানুষ তার নেতৃত্বে নিরাপদ জীবন উপভোগ করছেন।

বাংলাদেশে সংবিধান সম্মতভাবে সরকার পরিচালনা করে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রথা প্রর্বতন করেন শেখ হাসিনা ২০০১ সালে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে আরো তিন বার তিনি সাংবিধানিকভাবে সরকার গঠন এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে চলছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে তিনি শুধু এদেশের রাজনীতিতেই নয় বরং বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনা এক অদম্য ও অসম সাহসী রাষ্টনায়ক হিসেবে বিবেচিত হন।

তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী সকল শক্তিকে এ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যত বড় শক্তিই সংঘবদ্ধ হোক না কেন; বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে তা প্রতিরোধ করতে ও জবাব দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশে সমসাময়িক যে কয়জন রাজনৈতিক নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে চলছেন তাদের মধ্যে শেখ হাসিনার প্রাত্যহিক জীবন ও কর্ম জনগণের কাছে সবসময় স্বচ্ছ ও অবগত থাকে।

দিনের প্রথম ভাগ থেকে রাত পর্যন্ত তার প্রতিটি কর্মসূচি জনসম্পৃক্ত। তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো জনগণের কাছে কখনো রহস্যময় নেতা বা মানুষ হিসেবে নিজেকে রাখেননি। শিশু থেকে বায়োজোষ্ঠ প্রত্যেককেই তিনি তাঁর স্নেহ ও ভালোবাসার আঁচলে আবদ্ধ করেছেন।

এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর সরকার বহুমাত্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন এবং বাস্তবায়ন করে চলছেন। যার সুফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুণগত শিক্ষা প্রর্বতনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে তাঁর সরকার। সকলের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণে নিবেদিত প্রাণ এক রাষ্টনায়ক তিনি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবরে সাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখতে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে মুক্তির সনদ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মানের প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করে চলছেন। টেকসই উন্নয়নের বৈশ্বিক রূপকল্প প্রণয়নে তিনি আজ এক অভিজ্ঞ প্রাণ।

শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছেন নতুন নতুন অনন্য ইতিহাস। তিনি প্রতিনিয়ত নিজেই নিজেকে ভিন্ন মাত্রাই অতিক্রম করে চলছেন। তাঁর দুরর্দশী নেতৃত্ব এবং হিমালয় সময় ব্যক্তিত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক বৈশ্বিক উদাহরণ।

তিনি মানবিক আচরণে সমসাময়িক সকল বিশ্ব নেতাদের উপরে অবস্থান করেন। মিয়ানমারের প্রায় ১০ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে প্রাণরক্ষার মাধ্যমে তিনি বিশ্ব নেতাদের মানবিক দৈন্যতার প্রশ্নটি সবার সামনে আনেন।

স্বাধীনতা পূর্বাপর দেশের জনসংখ্যাকে সকল রাষ্ট ও সরকার প্রধানগণ সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনিই প্রথম দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তাঁদের আত্মনিয়োগের জন্য বহুমাত্রিকভাবে যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলছেন।

যার ফলে আজ বিশ্বের যে কোনো দেশ বা সংস্থার জরিপে আগামী এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবদানের সকল পরিমাপক একটি উন্নত-সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল মানবিক রাষ্টের প্রতিচ্ছবি।

শেখ হাসিনার এই মুক্তির সংগ্রামে তিনি সবসময় অনুপ্রাণিত হয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিচল সংগ্রামী আদর্শে। বাংলার মানুষের ভালোবাসা ও মহান সৃষ্টিকর্তার ভরসায় তিনি বারবার মৃত্যুকূপ পেরিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে।

লেখক: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি