স্বামীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
প্রকাশিত : ১৭:১৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১০ জানুয়ারি প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে তরুণ তরুণী বিয়ে করেন। এতে অভিভাবকরা মেনে না নেয়ায় তরুণী একাই ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এবং তার স্বামী একই এলাকার আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় তরুণীর সাথে তার স্বামী দেখা করতে যাওয়ার পথে পূর্ব লামাপাড়া এলাকার মনিরের ছেলে নাজমুল ও তার বন্ধু রনি দলবল নিয়ে তাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এরপর গলায় ছুরি ধরে নির্যাতনের ভিডিও করেন। সেই ভিডিও তরুবীকে দেখিয়ে নাজমুল ও রনি পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর তাদের স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে দুটি মোবাইল ও সাথে থাকা নগদ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, তাৎক্ষনিক বিষয়টি থানায় জানানো হয়নি। এজন্য ধর্ষকরা সুযোগ পেয়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এদিকে ধর্ষণের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির নারায়ণগঞ্জ সদর থানার প্রতিনিধি সদস্য লুবনা রহমান একুশে টেলিভিশনকে জানায়, ক্ষোভ এবং বেদনা নিয়ে বলতে হয় অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশে একটার পর একটা ধর্ষন চলছেই। টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতি এবং গণধর্ষণ, বাসায় ঢুকে ধর্ষন,অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধর্ষন সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ গোদনাইলে ২ জন গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষন এবং গতকাল রাতে কাঁচপুরের ৬ বছরের বাচ্চাকে ধর্ষন করা হয়। আমরা জাতীয় নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা গুলোর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষনের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দেশের এই লাগামহীন চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই,ধর্ষন এর ঘটনা ঘটলেও দেশের প্রশাসন এখনো নিরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা দাবি করি অতিদ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে সর্বচ্চো শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন নিপীড়ন বন্ধে শহর-গ্রাম,পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্যাম্পাস এবং কর্মসংস্থানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠন করতে হবে।
বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি সমাজের অপরাধপ্রবণতাকে আজ লাগামহীন করেছে তা ভেঙে ফেলতে হবে। বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সকল ধর্ষণ-নিপীড়ণের বিচার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রে বিচারবিভাগকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
এছাড়া লুবনা রহমান আরও বলেন, পুলিশ আগে মামলা নেয় নাই শুধু সাধারণ একটা অভিযোগ নিয়েছিলো লুবনা রহমান গিয়ে মামলা করার পরে পদক্ষেপ নেই পুলিশ। পরবর্তিতে পুলিশ তাকে আশ্বাস দেন যত দূরত্ব সম্ভব ধর্ষণকারীদের ধরা হবে।
আরও পড়ুন