ঢাকা, রবিবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

২৮ মার্চ: এলাকায় এলাকায় প্রতিরোধ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৩৬, ২৮ মার্চ ২০২২

Ekushey Television Ltd.

২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-শিক্ষক, জনতা যার কাছে যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

২৮ মার্চ সকালে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেয়। পরে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

গণহত্যার রাতে ঢাকায় বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ ২৮ মার্চ দুপুরের দিকে কিছু কিছু এলাকায় স্বাভাবিক হয়। 

এদিন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দুদিনে বাংলার প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

দুদিন বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ ‘দ্য পাকিস্তান অবজারভার’ প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানি সরকারের বিভিন্ন প্রেস নোট আর সরকারি খবরে ভরা ছিল চার পৃষ্ঠার সেই কাগজ।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ২৬ মার্চের বেতার ভাষণের পুরোটা অবজারভার সেদিন ছাপে। ছোট্ট করে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের খবরও ছাপা হয়।

এদিন প্রথমবার আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতার দাবিতে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি। লন্ডনের সেই সমাবেশে অংশ নেন বিদেশিরাও।

চট্টগ্রামের দক্ষিণ থেকে বালুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্রসরমান পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় বাঙালি সেনা, ইপিআর, পুলিশ ও জনতার প্রতিরোধ ব্যূহ টিকতে পারেনি। তাদের পিছিয়ে আসার কৌশল নিতে হয়।

পাকিস্তানি নৌবাহিনী চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে গোলা নিক্ষেপ করে তাদের নৌবহর থেকে। নৌবন্দর এলাকায় পাকিস্তানিরা বাঙালি নৌসেনাদের নিরস্ত্র করে হত্যা করে।

পুরান ঢাকায় জগন্নাথ কলেজ সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবনে বাঙালি শিক্ষক, শিল্পী, হোটেল কর্মচারী, শিল্পীসহ ৮৮ জনকে হত্যা করা হয়। বিউটি বোর্ডিং, প্যারিদাস রোড, ফরাশগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব বাঙালিকে ধরে আনা হয়।

ইংলিশ রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগুনে পোড়া মরদেহ ও আগুনের ধোঁয়া তখনও দেখা যাচ্ছিল।

সিলেটে এমসি কলেজের কাছ চা শ্রমিকদের হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। খাদিমনগরে চা বাগান শ্রমিকদের আগুনে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা।

রংপুর শহর ও সেনানিবাসের পাশের এলাকার বাঙালিরা দেশি অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সেনাছাউনি আক্রমণে এগিয়ে যায়। অসংখ্য সাঁওতাল এই প্রতিরোধে অংশ নেন। পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হয় শতাধিক। সাঁওতালদের ছোঁড়া তীরে নিহত হয় কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন্য।

এদিন যুদ্ধ শুরু হয় পাবনা শহরেও। সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করায় ১০ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে তারা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আশ্রয় নেয়। সংগ্রামী জনতা সে জায়গা ঘিরে ফেলে। সেখানে গোলাগুলি হয়। সব পাকিস্তানি সৈন্য মারা যায়।

নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে ইপিআর ও আনসার সদস্যদের সংগঠিত করা হয়। সমগ্র নোয়াখালীতে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি