ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৪৯:২৩, শুক্রবার

‘রোহিঙ্গাদের প্রাণহানি হলে দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের’

‘রোহিঙ্গাদের প্রাণহানি হলে দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের’

ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করতে বাধা দেওয়ায় কক্সবাজারে বর্ষায় ভূমিধসসহ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারালে তার দায় আন্তর্জাতিক সস্প্রদায়কে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতিসংঘের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার হাই কমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যান্টনিও ভিটোরিনো এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ভাসানচরে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তরে জাতিসংঘসহ আরো কয়েকটি পশ্চিমা দেশ বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী বর্ষায় কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ভূমিধসসহ অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারালে তার জন্য বাংলাদেশ নয় বরং জাতিসংঘসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দায়ী থাকবে। জোর করে কাউকে ভাসানচরে নেওয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা জোর করে কাওকে ভাষানচরে নিতে চাই না। তবে যারা যাবে তাদের জন্য একটি ভালো অবস্থান হবে। আমরা নিজের পয়সায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। ওখানে গেলে রোহিঙ্গারা কাজকর্ম করতে পারবে। মাছ ধরতে পারবে, গরু পালন করতে পারবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের তিন সংস্থার প্রধানকে মিয়ানমারে কাজ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বলেছি আপনাদের এখানে কাজ নাই, মিয়ানমারে যান। আমি বেশ শক্তভাবে বলেছি। আপনারা ওখানে বেশি জোর দেন, এখানে না। আমি জিজ্ঞাসা করেছি আপনারা কতবার সেখানে গিয়েছেন, সেখানে আপনাদের কতজন কাজ করে। এখানে এক হাজারের বেশি লোক কাজ করে। ওখানে বেশি কাজ করেন, এখান থেকে বিদায় হোন। আপনারা মিয়ানমারকে কনভিন্স করেন, যাতে তারা তাদের লোক নিয়ে যায় এবং ওখানে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে চাই না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে, সমাধানও তাদের করতে হবে। আমরা যুদ্ধ করবো না, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। আমাকে কেউ কেউ বলেছে তোমরা যদি চাও তবে আমরা সেখানে কিছু একটা মহড়া করতে পারি। আর এটা অত্যন্ত পাওয়ারফুল লোক বলেছেন। এটি ব্যক্তি না দেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ। আমরা খুব একটা পাত্তা দেই নাই। তারা বলেছেন তোমরা চাইলে আমরা তোমাদের হয়ে ক্ষমতা দেখাতে পারি। আমরা বলেছি না, কারণ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই। মিয়ানমার এর আগে লোক নিয়ে গেছে এবং আমরা আশাবাদী। মিয়ানমারের অস্ত্রের যোগানের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, আমি তাদের বলেছি রাখাইনে কে বা কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে? ওখানে মারামারি হচ্ছে কে অস্ত্র সরবরাহ করছে আপনারা সেটি বের করেন। বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে এবং বিভিন্ন তথ্য আমরা পাই। কিন্তু মিডিয়াতে কখনো আসে না অস্ত্র কোন দেশের তৈরি, কোন কোম্পানির তৈরি বুলেটে বা শ্রাপনেলে লোকটা মারা গেছে। এখন এটি জানার সময়, কারা এইসব অস্ত্র সরবরাহ করছে। এগুলো জানা গেলে সন্ত্রাস কমে যাবে। আরকে//  
শিল্পকলায় ১৯তম এশিয়ান ঘুড়ি প্রদর্শনী শুরু

রাজধানীতে শুরু হয়েছে ১৯তম এশিয়ান ঘুড়ি প্রদর্শনী। ঢাকাবাসী’র আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী’র জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। এ’সময় হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান সংস্কৃতিজনেরা। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত উড়ে বেড়ায় যেসব ঘুড়ি সেগুলোই ধরে বেঁধে রাখা হয়েছে এখানের দেয়ালে-দেয়ালে। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, চায়না, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ঘুড়ি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় হরেক রকম ঘুড়ির এ প্রদর্শনী। যা দেখে মুগ্ধ দর্শকরা। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী বলেন, এমন আয়োজনে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যেমন বাড়ে, তেমনি ঘটে সংস্কৃতির বিকাশ। ঢাকাবাসী সংগঠনের আয়োজনে ছয় দিনের এ প্রদর্শনী চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। আরকে//

তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমের সবচেয়ে তপ্ত দিন পার হলো আজ বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল)। এদিন তাপমাত্রার সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে দেশ। এই গরমে হাঁসফাঁস দশায় কেটেছে দেশবাসীর। তবে আগামী রোববার থেকে সারাদেশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা ও সৈয়দপুর অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫ টা ২৮ মিনিটে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ঢাকায় ৩৭ দশমিক ১, ফরিদপুরে ৩৭ দশমিক ৪, ফেনীতে ৩৭ দশমিক ৩, পটুয়াখালীতে ৩৭ দশমিক ২, ঈশ্বরদীতে ৩৭ দশমিক ২ এবং সীতাকুণ্ডে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনায়। আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টা এমন তাপপ্রবাহ বিরাজ করবে। আপাতত তাপমাত্রা আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তপ্ত রোদে ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ ছিল প্রচণ্ড অস্বস্তিতে। সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে শ্রমজীবী মানুষকে। আরকে//

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ-বিদেশের বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে দেশে অধিকহারে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প কারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করার পর থেকেই ব্যাপকভাবে বেসরকারি খাতকে আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি এবং সারাদেশে একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেইসঙ্গে প্রতিটি এলাকায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু উৎপাদনই করবো না। উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে দেশে সৃষ্ট বাজারে তা যেমন সরবরাহ করতে হবে তেমনি বিদেশে নতুন নতুন বাজারও আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ইনস্টিটিউট এবং স্থাপনার উদ্বোধনকালে একথা বলেন। গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে উদ্বোধনকৃত এসব ইনস্টিটিউট এবং স্থাপনাগুলো হচ্ছে- মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, গোপালগঞ্জ, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, কিশোরগঞ্জ, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ, জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং আঞ্চলিক রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার, গোপালগঞ্জ, হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ, সরকারি ভেটেরেনারি কলেজ, কেলকুচি সিরাজগঞ্জ এবং মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ে ডকইয়ার্ড, মৎস্য বন্দর,চট্টগ্রাম। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে আমাদের গৃহিনীদের কোটা-বাছার ঝামেলা অনেকাংশে কমে গিয়ে রান্নার সময় সাশ্রয় হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, এটা আবার বিদেশেও রফতানি করা যাবে। কেননা, বিদেশে এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এটা কোনদিনও কমবে না। প্রায় ৯০ লাখের ওপর আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যে দেশেই থাকুক আর সে দেশের খাবার যত ভালোই হোক না কেন, তারা কিন্তু খুঁজে ফেরে দেশের মাছ-তরকারিটা বা ফলটা কোথায় পাওয়া যায়। অনেকে আবার এগুলোর ব্যবসাও করেন। তিনি বলেন, আমরা যত বেশি আমাদের ফসল উৎপাদন এবং উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাত করতে পারবো তত আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের রফতানি করতে পারবো।তিনি এ সময় বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে উৎপাদনমুখী করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মৎস্য এবং প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইসুল ইসলাম মন্ডল প্রকল্পগুলোর ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে দারিদ্রের হার ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে নামিয়ে আনার উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, এক সময় দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশ বানিয়ে রাখা হত। কারণ, তখন যারা (বিএনপি-জামায়াত) ক্ষমতাসীন ছিল তারা নিজেদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত ছিল এবং তারা মনে করতো দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হলে আর বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাওয়া যাবে না।খাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে তার সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টি একান্তভাবে দরকার। আমরা চাই আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষ সুস্বাস্থ্যেও অধিকারী হবে, কর্মক্ষম হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পুষ্টিকর খাদ্যের জন্য আমিষের যে প্রয়োজন সেটা মেটানো একান্তভাবে দরকার এবং সেদিকেই আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এসময় জাতির পিতার বক্তৃতা থেকে ‘আমাদের মাটি আছে, পানি আছে, প্রাণি সম্পদ আছে, মানুষ আছে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো’ উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদাসহ সবধরণের চাহিদা মেটানেরও আমরা চেষ্টা করছি।’ দেশীয় প্রবাদ ‘পেটে খেলে পিঠে সয়’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমাদের দেশে এখন সব থেকে প্রয়োজন দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। যা করতে তার সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এসএইচ/

ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলাচল উদ্বোধন করেছেন। আজ বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটি চলাচলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। হুইসেল বাজিয়ে এবং সবুজ পতাকা উড়িয়ে তিনি ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদ ও রাজশাহীর আমের কথা মাথায় রেখে এ সময়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হচ্ছে।অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। ১২টি বগি নিয়ে ট্রেনটি বিরতিহীনভাবে চলবে। এসব বগির মধ্যে শোভন চেয়ারের বগি ৭টি, যার আসন সংখ্যা ৬৬৪টি। এসি বগি ২টি, আসন সংখ্যা ১৬০টি। এছাড়া একটি পাওয়ার কার রয়েছে যার আসন সংখ্যা ১৬টি। দু’টি গার্ডব্রেকের আসন সংখ্যা ১০৮টি। এছাড়া ট্রেনটিতে রয়েছে একটি খাওয়ার বগি। মোট আসন সংখ্যা ৯৪৮টি।ট্রেনটিতে সংযুক্ত রয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট। এ কারণে মলমূত্র রেললাইনের ওপরে পড়বে না। ট্রেনটিতে থাকছে রিক্লেনার চেয়ার। আছে ওয়াইফাই সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। যার মাধ্যমে স্টেশন ও ভ্রমণের তথ্য প্রদর্শন করা হবে।রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছতে ট্রেনটির সময় লাগবে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। সপ্তাহের শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টায় ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। আবার দুপুর দেড়টায় ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এসএইচ/

চলতি সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। আজ সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্পিকার প্রয়োজনে এসময় পরিবর্তন করতে পারবেন বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সদস্য রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আনিসুল হক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী সভায় অংশগ্রহণ করেন।সভায় শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ রেখে এ অধিবেশনের কর্মদিবস হবে ৫ দিন এবং প্রতিদিন বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৪এপ্রিল, বুধবার ৬ টা ৪৫ মিনিটে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। সভার শুরুতে শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত গীর্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সাবেক মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি’র নাতি শিশু জায়ান চৌধুরীর নির্মম মৃত্যুতেও শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে কমিটি। এ অধিবেশনে ১৪৭ বিধিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয় একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য এ পর্যন্ত ১টি সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া গেছে। এছাড়া গত অধিবেশনে অনিষ্পন্ন ৫টি বিলসহ মোট ৬টি সরকারি বিল রয়েছে। এর মধ্যে পাশের অপেক্ষায় ৩টি, কমিটিতে পরীক্ষাধীন ২টি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় ১টি সরকারি বিল রয়েছে। বেসরকারি সদস্যদের কাছ হতে কোনো বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। পূর্বে জমা দেওয়া ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে।সভায় জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৪৪টি ও সাধারণ প্রশ্ন ১ হাজার ৪০টিসহ এ পর্যন্ত প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১০৮৪টি।সভায় আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পস্তাব (বিধি ১৩১) ১০৪টি, বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিশের সংখ্যা (বিধি ১৬৪) ১টি, মনোযোগ আকর্শনের নোটিশ (বিধি ৭১) ৮৮টি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার (বিধি ৬৮) ২টি নোটিশ পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবাদানকারীর পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।’ আগামীকাল কমিউনিটি ক্লিনিকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। আবদুল হামিদ বলেন, ‘দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক যেন গ্রামের দরিদ্র মানুষকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে, এ জন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি গ্রুপ ও সাপোর্ট গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আরও উদ্যোগী হবেন।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সারাদেশের হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, মেডিকেল শিক্ষার প্রসারে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ। বর্তমানে সারাদেশে ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারগণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন,‘কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রায় ৩০ ধরণের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিনামূল্যে জনগণকে প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ কার্যক্রম আজ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে।’আবদুল হামিদ বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিস্তর উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি ও সার্বিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ বাণীতে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। এসএইচ/

দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্য উৎপাদন হওয়ায় বর্তমানে দেশে খাদ্যের কোন ঘাটতি নেই। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের বেনজীর আহমদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার জন্য প্রতিদিন প্রতিজনের ৫০৯ গ্রাম হিসাবে বছরে ৩ কোটি ৬ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন খাদশস্যের চাহিদা রয়েছে। ২০১৭-’১৮ অর্থ বছরে নীট ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উপাদন হয়। এর মধ্যে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টন চাল এবং ৯লাখ ৩৪ হাজার টন অন্যান্য খাদ্যশস্য রয়েছে। এ হিসাবে ২২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত উৎপাদন হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আসন্ন বোরো মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তিনি জানান, এরমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান, ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল রয়েছে। প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৬ টাকা, সিদ্ধ চালের প্রতিকেজি ৩৬ টাকা ও আতপ চালের প্রতি কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, চলতি মাস থেকেই এ সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে। এসএইচ/

নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড উদ্বোধন শনিবার

কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড-২০১৯। আগামী শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতিসংঘ ঘোষিত ‘জিরো হাঙ্গার’ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এর আয়োজন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মলনে একথা জানিয়েছেন ‘মিটিং দ্যা আন্ডার নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ’ কর্মসূচির চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার নাওকি মিনামিগুচি। তিনি বলেন, তরুণদের মাঝে পুষ্টি সম্পৃক্ততা বাড়াতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে শনিবার (২৭ এপ্রিল) নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘মিটিং দ্যা আন্ডার নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে সাহায্য করবে বিআইআইডি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করবেন। এসময় উপস্থিত থাকবেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশে এফএও’র প্রতিনিধি রবার্ট ডি-সিম্পসন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি মেনফ্রেড ফার্নহলজ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফপিএমইউর মহাপরিচালক বদরুল আরেফিন, বিআইআইডির চেয়ারম্যান মো. শহীদ উদ্দিন আকবর প্রমুখ। আরকে//

ওয়াসার পানি কে কীভাবে খাবে সেটা নিজস্ব ব্যাপার: তাজুল ইসলাম

রাজধানীতে ওয়াসার পানি সরাসরি, ফুটিয়ে অথবা ফিল্টার করে কে কীভাবে পান করবে তা নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে `অগ্নিনির্বাপণ প্রতিরোধে করণীয়` নির্ধারণের লক্ষ্যে সভার শুরুতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ওয়াসার পাইপলাইনের পানি খাওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, শ্রমিকেরা জগভরে পানি খায়, কিন্তু অসুস্থ হয়নি এক বছরেও। ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান গত ২০ এপ্রিল বলেছিলেন, ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। সংস্থার এমডির এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে ২৩ এপ্রিল এসেছিলেন জুরাইনের কিছু বাসিন্দা। কিন্তু এমডিকে শরবত খাওয়াতে পারেননি তারা। এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ওয়াসা নিয়ে ইদানীং বেশ কথাবার্তা চলছে। আমি এখানে কথা বলি, পানির ৯৯ পার্সেন্ট ব্যবহার হয় ড্রিংকেবল ওয়াটার না, নন-ড্রিংকেবল ওয়াটার হিসেব। ৯৯ পার্সেন্ট পানি ব্যবহার হয় কিসে- ধোয়ামোছার কাজে, গোসল করা ইত্যাদি কাজে। আর ওয়ান পার্সেন্ট পানি সরবরাহ করা হয় খাওয়ার জন্য। মন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই শহরে বসবাস করি, চট্টগ্রামে বসবাস করি, আমি গ্রামে বসবাস করি; যেহেতু রাজনীতি করি বাংলাদেশের বেশিরভাগ জায়গায় যাই। আমি ভেরি অনেস্টলি বলি, নট দ্যা সেন্স অব এনি পারশিয়াল অর পলিটিক্যাল; আমরা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি, বহুদিন গোসল না করে অফিসে আসছি। গুলশানের মতন জায়গায় আমি বসবাস করি, যেটাকে নাম্বার ওয়ান পশ এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমি চট্টগ্রামে খুলশিতে থাকি, সেখানেও দেখা গেছে যে আমি গোসল করতে পারিনি। গাড়িতে করে পানি আনিয়ে ব্যবহার করছি। চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকায় ৩/৪ বছর পর্যন্ত ওয়াসার কোনো পানি যায়নি। হালিশহর এলাকায় পানি পাওয়া যাবে না- এই মানসিকতা নিয়ে সবাই মাইন্ডসেট হয়ে গেছে, যদি আসে এটা একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটবে। ঢাকা শহরে গত ৭-৮ বছরের মধ্যে পানি আমার বাসায় আসেনি, এমন কোনো ঘটনা নেই। আর অ্যাপারেন্টলি পানি দেখে আমার কাছে কখনই মনে হয়নি যে এই পানিটার মধ্যে ময়লা আছে। আগের তুলনায় পানির মান উন্নত হয়েছে। উপরন্তু এখন ফুটিয়ে খাওয়া বা ফিল্টারে ফিল্টারিং করে খাওয়া অথবা ডাইরেক্ট খাওয়া- এটা ডিপেন্ড করে কারা কীভাবে? দাবি করে মন্ত্রী বলেন, আমেরিকাতেও দেখা গেছে কেউই পাইপ লাইনের পানি খায় না, বাজার থেকে কিনে আনে। সিঙ্গাপুরেও দেখেছি ড্রিংকেবল পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা আছে হোটেলে কিন্তু সেখানেও মিনারেল পানি, বোতলের পানি রাখা আছে। আমরা কেউ কারেজিয়াস হই না সেটা খাওয়ার জন্য। কে খাবে না খাবে। আমাদের এখানে নির্মাণ শ্রমিকেরা নিয়মিত, আমি এক জায়গায় একবছর পর্যন্ত, সেখানে আমি মাঝে মধ্যে যাই, সেখানে দেখি পাইপলাইনের পানি জগে নেয় এবং খায়। এক বছর পর্যন্ত তারা অসুস্থ হয়নি। ঘটনাটা হলো কে খাবে কে খাবে না- এটা ডিপেন্ড করবে আপনি কতটুকু রিস্ক নেবেন। মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ শুধু ড্রিংকেবল ওয়াটার সাপ্লাই দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো পাইপলাইন সব জায়গায় করে দিয়েছে- আমার জানা নেই। আর এটা যে পরিমাণ এক্সপেন্সিভ হবে যদি করতে হয়, এটাকে পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, এটার জন্য বছরে ১০-১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে। যদি আলাদা পাইপ লাইন করেন, একেবারে ড্রিংকেবল ওয়াটার। পানি কন্টামিনেটেড (দূষিত) কোথায় হয়? ওয়াসার পাইপলাইনের সোর্স থেকে আমরা পানি এনেছি, আমরা দেখেছি যেখানে উৎপাদন হয় সেখানে পানি ঠিক আছে। প্রত্যেক বাড়িতে তো রিজার্ভার আছে, রিজার্ভার আপনি কতটুকু মেইনটেন করতে পারেন? আর ইউ শিওর ইউ কিপ ইট হাইজিনিক? যদি না রাখতে পারেন সেখানে কন্টামিনেশন হতে পারে। আলোচনা-সমালোচনা সরকারের সংস্থাগুলোকে সহজভাবে আমলে নেওয়া উচিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাহলে আমাদের আর কিছু করণীয় আছে কিনা, কোথায় কোন ভুলত্রুটি আছে কিনা; তাতে করে আমরা সংশোধন ও সচেতন হতে পারবো। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি