ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৪৮:৪৩, বুধবার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তিতে চলছে দৌঁড়ঝাপ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তিতে চলছে দৌঁড়ঝাপ

দেশের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে এমপিওভূক্ত করা হচ্ছে। শীঘ্রই দেশের কয়েক সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করা হবে। সরকারের উপর মহলের সম্মতি পেলেই ঘোষণা করা হবে নতুন এমপিওভূক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা। এদিকে আগামী বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়লেও তা যথোপযুক্ত নয় বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে এমপিওভূক্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলে তদবিরের দৌঁড়ঝাপ চলছে। জানা যায়, বেসরকারী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভূক্ত করতে নীতিমালার শর্ত কিছুটা শিথিল করতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে হাওড়, বিল, পাহাড়, চরাঞ্চলসহ দেশের সব অঞ্চলে এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকুক। এর মধ্যে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অনগ্রসর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে এমপিও’র তালিকায় আনতে এই শর্ত শিথিলের চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিওভূক্তির জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বেশ চাপ রয়েছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী তালিকা করে রেখেছে মন্ত্রণালয়। সরকারের সম্মতি পেলেই এ তালিকা প্রকাশ করা হবে। নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভূক্ত করতে অনেক সংসদ সদস্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। সম্প্রতি সংসদের এক অধিবেশনে এক সাংসদ এ নিয়ে কথা বললে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, নীতিমালার বাইরে এমপিওভূক্ত করার কোন চিন্তা মন্ত্রণালয়ের নেই। সেই সাথে যে সব এলাকায় এমপিওভূক্তির জন্য যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সে সব এলাকার জন্য শর্ত শিথিল করতে পারে মন্ত্রণালয়। প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর পর এ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এবার অন্তত তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। এ দিকে দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব পেলেও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ খাতের বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তারা শিক্ষার জন্য পৃথক বাজেট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের শুরুতেই শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করে নিয়ে ব্যয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তদারকি বাড়ানোর কথা বলছেন তারা। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে তবে এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষাকে মান সম্মত করতে হলে এ খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।’ মান সম্মত শিক্ষার জন্য শিক্ষকের মান বৃদ্ধি করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকের মান বৃদ্ধির জন্য ব্যাপকভাবে কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ভালো শিক্ষার জন্য ভালো শিক্ষক দরকার। অন্যথায় ভালো শিক্ষা পাওয়া যাবে না।’ মেধাবীরা আমলাতান্ত্রিক পেশায় বা ব্যাংকিং পেশায় যেতে যতটুকু আগ্রহী ততটুকু শিক্ষকতা পেশায় যেতে আগ্রহী নন বলে মন্তব্য করে এ শিক্ষাবিদ বলেন, ‘মেধাবীদের শিক্ষাকতা পেশায় আনতে হলে সুযোগ ও সুবিধা বাড়াতে হবে।’ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ছাড়া কখনই উন্নয়নের স্থায়ীত্ব আসবে না বলে মনে করেন আরেফিন। তিনি বলেন, ‘এখনও বাজেট আলোচনা চলছে। শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো সুযোগ এখনও রয়েছে।’ মোট বাজেটের অন্তত ২০ ভাগ এই খাতে ব্যয় করা উচিত বলে মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ।   সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সোমবার এক গণমাধ্যমকে বলেন, `শিক্ষার বাজেট শুভঙ্করের ফাঁকি। এবারের বাজেটে শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে এ খাতে। এর কারণ, এমপিওভুক্তি ও শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা চালু। তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়নের টাকা কোথায়? টাকা ছাড়া শিক্ষানীতিই বা বাস্তবায়ন হবে কীভাবে?` আগামী অর্থ বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে চলতি বাজেটের চেয়ে ১৩ হাজার ২৩১ কোটি টাকা বেড়ে ৭৯ হাজার ৪৮৬ কোটি করা হয়েছে। মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ২ ভাগ অর্থ এবার এই খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য এবারের বাজেটেও পৃথক কোনো বরাদ্দ নেই। এদিকে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে সরকার বলে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। তবে বাজেটে ব্যাপকভাবে জনপ্রত্যাশা থাকলেও শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, শিক্ষক নিয়োগের পৃথক কর্ম-কমিশন ও বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, এ বছর এমপিওভুক্তি খাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্তত এক হাজার ২১০ কোটি টাকা খরচ করবে। গত জুলাইয়ে এমপিওভুক্তির এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারির পর যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করতে চারটি মানদ ঠিক করে মন্ত্রণালয়। এগুলোর জন্য রাখা হয় ১০০ নম্বর। গত বছরের আগস্টে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। ৯ হাজার ৬১৪টি আবেদন জমা পড়ে। সব শর্ত পূরণ করতে পেরেছে দুই হাজার ৭৬২টি প্রতিষ্ঠান। তবে বাছাইয়ে দেখা গেছে, দেশের সব এলাকা এটি কভার করতে পারেনি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আবেদন করা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে না। এমপিওবিহীন সাত হাজার ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করতে গেলে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা লাগবে। এর মধ্যে এক হাজার ২২৭টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২১৯ কোটি ৭১ হাজার ৩০০ টাকা, এক হাজার ৮৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৬৮ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা, এমপিওভুক্ত তিন হাজার ২৭৫টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাধ্যমিকে উন্নীত করে এমপিওভুক্ত করতে ৫২২ কোটি ৬০ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা, ৫১৮টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজের জন্য ৩৫৭ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং এমপিওভুক্ত এক হাজার ৩৩টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজকে ডিগ্রি স্তরে উন্নীত করে এমপিওভুক্ত করতে ৭১৭ কোটি ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৫০ টাকা লাগবে। ডিগ্রি কলেজ এমপিওভুক্ত করতে বছরে লাগবে ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক কলেজের জন্য লাগবে ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা, আর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য লাগবে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এমএস/ 
ভিক্ষুকদের দৌরাত্মে অতীষ্ঠ রাজধানীবাসী (ভিডিও)

বহু আগেই ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা ঘোষণা হয়েছে রাজধানী ঢাকা। কিন্তু তা কেবল নথি-নিয়মে। সম্প্রতি ভিক্ষুকের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি এদের দৌরাত্মে অতীষ্ঠ রাজধানীবাসী। কর্পোরেশন বলছে, ভিক্ষুক পাকড়াও অভিযান শিগরগিরই। স্থান রাজধানীর গুলশান-২। চলছে ভিক্ষাবৃত্তি। আশপাশের সবগুলো এলাকাতেই ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ। আছে পুলিশি গ্রেফতারের নিয়ম। এদিকে একুশের ক্যামেরা দেখে পালানোর চেষ্টা করছে তারা। শুধু গুলশান নয়। ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারাতেও একই চিত্র। প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ভিক্ষাবৃত্তি চলছে জোরেশোরেই। অভিজাত এলাকার মানুষের কাছে এ এক নিত্য যন্ত্রণা। টাকা না পেলে নাস্তানাবুদ করতেও ছাড়েন না ভিক্ষুকেরা। সিটি করপোরেশন বলছে, দেশের সুনাম রক্ষায় ভিক্ষুকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে সব ধরণের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধ পরিকর উত্তর সিটি মেয়র। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/  

বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম সহযোগী জাইকা

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে রাষ্ট্র হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে জাপান। আর সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে দেশের উন্নয়নে অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। ১৯৭২ সাল থেকে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ মোট এক হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। জাইকার অর্থায়নে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সড়কে ৫৫০টি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইওয়ে রোডে ১৩৪ টি বড় ও ছোট ব্রীজ ও গ্রামের সড়কে ৪০০ এর উপরে ব্রীজ নির্মাণ করেছে জাইকা। ১৯৯৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ১১৭ টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করেছে জাইকা। ১৩০০০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করা হয়েছে জাইকার অর্থায়নে। গ্রাম্য এলাকায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার কালভার্ট ও ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে জাইকার অর্থায়নে। জাইকার অর্থায়নে ২৩৭০ মেগা ওয়ার্ট বিদুৎ উৎপাদন হয়েছে দেশে। যা বাংলাদেশের ২৪% শতাংশ বিদুৎ চাহিদা পূরণ করবে। বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালের পর থেকে ৮০ টির বেশি লোন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে জাইকা। প্রতিবছর প্রায় ২০টির মত প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা। বর্তমানে দেশে জাইকার বড় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্প। ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাইকা জানিয়েছে। আর ঢাকায় গণপরিবহনের উন্নয়নে গৃহীত মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটির সব প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে তারা জানিয়েছে। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে এমআরটির ছয়টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমআরটি-৬ এ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। এছাড়া মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৫ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা দিয়েছে সংস্থাটি। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। এই প্রকল্পে ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে কাজ বেশ এগিয়েছে। মাঝে হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির কারণে কিছুদিন এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এদিকে আজ বুধবার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই চুক্তি হয়। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি ও ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ চুক্তিতে সই করেন। জাপানী এই অর্থে মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১), বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্প(২), জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২) ও মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে (৫) এই অর্থায়ন করা হবে। আরকে//

সুপেয় পানি বঞ্চিত রাজধানীবাসি

সুপেয় জল আর, পরিচ্ছন্নতা ও পয়নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার্য পানির অধিকার মৌলিক অধিকার। রাজধানীবাসি কী সে অধিকার পাচ্ছে? শুধু পানি বঞ্চিতরাই নয়, যারা পানি পাচ্ছেণ তারাও আছেন বিপাকে। আর্থাৎ পানি আছে, তবে ব্যবহারের অযোগ্য। কোথাও লাল আবার কোথাও কালো কিংবা অণ্য কোন রংয়ের পানি বয়ে যাচ্ছে। সাথে দুর্গন্ধ। বছরের পর বছর ভূ-র্গভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পনিরস্তর নিচে নামায় সংকিত বিশেষজ্ঞরা।    প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার নানা সমস্যার মধ্যে বড় সমস্যা নিরাপদ পানি সরবারহ। বহু বছর ধরেই এ সংকট চলছে। সমাধানে শত শত কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প যুগের পর যুগ বাস্তবায় করা হয়েছে, কিন্তু সমাধান এখনো আসেনি। পানির লাইনে পানি নাই তো কী হয়েছে পানি আছে চোখে-অভিমান আর কষ্টে এভাবে ভেঙ্গে পরছেন বাড্ডার এ নারী। শুধু এ নারী নয় দক্ষিণ বাড্ডা আলাতুন নেসা স্কুলের গলিতে পানির লাইনের অবস্থা করুন। পানি না পেয়ে দীর্ঘ লাইনের দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। এই তাপদাহের কালে দিনের পর দিন পানিশূণ্য ঘরবাড়ি। কষ্টের দিন যাপন করছেন মধ্য বাড্ডার হাজার হাজার বাসিন্দা। তারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে জীবন আর চলেনা। রাজধানীর কদমতলী, শ্যামপুর, শনিরআখড়া, দণিয়ায়ও রয়েছে ব্যাপক পানি সংকট। প্রায় তিন মাস ধরে পানি পাচ্ছেন না এসব এলাকার মানুষ। এজন্য প্রতিটি বাড়িতে বসানো হয়েছে চাপ কল, একই সাথে কয়েকটি করে মটর। তার পরেও সমাধাণ মিলেনি। আর যারা একটু পানি পাচ্ছেন তাদের আরো বেশী দুর্গতি। পানির কোন রং না থাকলেও এসব এলাকার ওয়াসার দেয়া পানির রং ভিন্ন ভিন্ন। বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে এমনটাই ধরা পরে একুশের ক্যামেরায়। স্থানীয়রা জানান, এ পানি সম্পূর্ন ব্যবহার অযোগ্য। স্থানীয় পাম্প অপরেটরদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ। বাড়তি টাকার বিনিময়ে তারা নাকি পানি দিয়ে থাকেন। ঢাকা শহরের পানি সরবারহের জন্য শুধু ঢাকা ওয়াসা গভীর নলকূপ বসিয়েছে ৯শতাধিক। আর পানি সংকটের কারণে অনেক বাড়ীতেই নিজস্ব ডিপ-টিউবলতো আছেই। তবে, সেগুলোর সংখ্যা খোদ ওয়াসারও অজানা। এসব কারণে ভূর্গভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এমন আশংকা বিশেষজ্ঞদের। ওয়াসার পানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ওয়াসার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বোতলজাত পানি বাজারে ছেড়ে ওয়াসাই প্রমাণ করছে যে ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ নয়। এসব বিষয়ে কথা হয় ওয়াসার ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের সাথে। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যহত আছে। পনির সংকট সমাধান করে নগরবাসির মৌলিক এ অধিকার নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এমন প্রত্যাশা সবার। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

চরম বিড়ম্বনায় রাজধানীর পথচলতি মানুষ (ভিডিও)

নির্বিঘ্নে হাঁটার জন্য ফুটপাথ। আর তা দখল করে আছে হকার-দোকানি। স্থায়ী ঘর বানিয়ে কেউ আবার জেঁকে বসেছে খোদ রাস্তার উপর। সবমিলে চরম বিড়ম্বনায় রাজধানীর পথচলতি মানুষ। মনে হতে পারে এটি বোধহয় কোন স্থায়ী হাট-বাজার। কিন্তু না। এ চিত্র রাজধানীর ফার্মগেটের। রাস্তার উপর এমন যুৎসই ছাউনি তুলে ব্যবসা করতে দেখা গেল মিরপুর, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, রামপুরা, বাড্ডা, নিউ মার্কেট, কাওয়ানবাজার, মগবাজারসহ আরও অনেক এলাকায়। দু’পাশের ফুটপাথ বছরের পর বছর ধরে দখল। নিরুপায় পথচলতিদের বাধ্য হয়ে নামতে হয় ব্যস্ত রাস্তায়। ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ, চালাচ্ছে যান। দশ মিনিটের পথ পেরুতে ব্যয় হচ্ছে দু’ঘন্টা। হকার-দোকানদের দখলে এখন গলি রাস্তাও। ব্যস্ত সময়ে জটের ধকলে তাই রাজধানীবাসী। ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই অপশক্তি রোধ সম্ভব নয়। হাঁটাচলায় সাচ্ছন্দ্য না থাকায় ক্রমশ: জনবান্ধব রাজধানীর মর্যাদা হারাচ্ছে ঢাকা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/  

‘ভেজালের বিষয়টি একটি চক্রে আবদ্ধ’

বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে ‘খাদ্যে ভেজাল’। এ ব্যাপারে সাধারণত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, র‌্যাব ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে। একুশে টিভির অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান একুশের রাতে’র এবারের বিষয় ছিল- ‘খাদ্যে ভেজাল’। এ বিষয়ে কথা বলেছেন তিন জন আলোচক। যাদের মধ্যে ছিলেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তার বক্তব্যটি একুশের অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন- ফেরদৌসি আহমেদ। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল এ বিষয়টি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। অভিযানে গিয়ে আমরা নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হচ্ছি। প্রতিদিনই নতুন নতুন কায়দায় খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পণ্য বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত সাড়ে খাদ্যে ভেজাল দিয়ে থাকে। এ ভেজালের বিষয়টি চক্রের মতো। যেমন-অনেক সময় একজন চাষী জানে না জমিতে কতটুকু ক্যামিকেল ব্যবহার করতে হবে। তাই তারা অনেক সময় অধিক হারে ক্যামিকেল ব্যবহার করে। এই ক্যামিকেল দেওয়া খাবার আমরা খাচ্ছি। অপরদিকে আম গাছের সুরক্ষার জন্য সাধারণত বার বার স্প্রে করতে হয়। কিন্তু এ আমে পঞ্চাশেরও বেশি বার স্প্রে করা হয়। দোকানে অনেক সময় মোয়াদউত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। এ পণ্যগুলো সাধারণত লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মাছের খাদ্য এবং মুরগীর খাবারে ট্যানারির বর্জ দেওয়া হয়। ট্যানারির বর্জে থাকা মারাত্মক বর্জ পদার্থ মানব শরীরে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ভোগ্যপণ্যকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য রং ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মেয়াদউত্তীর্ণ ভোগ্য পণ্যে আবার তারিখ লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। রেস্টুরেন্টে যে চিকেন বিক্রি করা হয় এগুলোকে মুখরোচক করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়। বাচ্চাদের খাবারেও ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেজাল বিরোধী অভিজানে অনেক নামী-দামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো শুধু আর্টিফিশিয়ালভাবে তৈরি করা হয়। কিন্তু এগুলো বিক্রির জন্য বাহারী বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বিষয়টি দেখা হয়।’ শাস্তির বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভেজালপণ্য বিক্রি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, ওজনে কারচুপি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হলেই আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা করে থাকি। দোকানদারের পাশাপাশি দোকানে যে মাল সরবরাহ করে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিদেশী পণ্যেও মেয়াদের বিষয়ে হেরফের দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে যে পথে মাল আমদানী করা হয়, তথা বন্দরে এর নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে এর লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।’ সারওয়ার আলম বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও ব্যবসায়ীরা এ ব্যপারে সচেতন নন। তাই গত এক দশকে খাবারের ভেজাল বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন দিন এর প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন আগের চেয়ে অভিনব কায়দায় খাবারে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। পূর্বে দুধে ভেজাল হিসেবে আমরা জনাতাম শুধু পানি মিক্স করার বিষয়টি। কিন্তু এখন রাসায়নিক ব্যবহার করে  দুধে ভেজাল দেওয়া হয়।   ভেজাল দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের মনমানসিকতাও দায়ী । তারা সাধারণত আল্প সময়ে অনেক টাকা পয়সার মালিক হতে চান। যেভাবেই হোক তাদের সম্পদ বাড়াতেই হবে।  এ ক্ষেত্রে কার ক্ষতি হলো না হলো তার তোয়াক্কা করছে না। যে নিজে ভেজাল দিচ্ছে সে ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানে, কিন্তু মানে না। অভিযানের আগে আমরা সাধারণত কোনো রকম জানাজানি করি না। এমনকি আমাদের ড্রাইভারও জানে না যে কোথায় অভিযান পরিচালনা করতে যাব। পণ্য বিক্রির আগে পণ্যের গায়ে তিনটি বিষয় উল্লেখ করতে আমরা জোর দিয়েছি। এর মধ্যে উৎপাদন, প্যাকেটজাত এবং মেয়াদউত্তীর্ণের তারিখ যোগ করা। সম্প্রতি আমি নিজে অভিযান পরিচালনা করতে মাংসের বাজারে গিয়েছি। সঙ্গে আমি বাজারের ব্যাগ নিয়েছি। এখন আমরা রাতেও অভিযান পরিচালনা করে থাকি। অনেক দোকানদার মনে করেন রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয় খুবই কম। তবে পণ্য কিনার আগে ভোক্তাকেও সচেতন হতে হবে।’ এমএইচ/  

ভূমিদস্যুদের দখলদাপটে বদলে গেছে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলের চিত্র

ভূমিদস্যুদের দখলদাপটে পরিবর্তন হয়ে গেছে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলের চিত্র। প্রতিনিয়ত হচ্ছে ভরাট, হচ্ছে জলাভূমি, পানি উপচে পড়ে ডুবছে বাড়িঘর। এভাবে চলতে থাকলে, বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে রাজধানীর অনেক এলাকা। রামপুরা বনশ্রী থেকে অল্পদূরের গ্রাম নাসিরাবাদ, মেন্দিপুর, নন্দীপাড়া কিংবা ডেমরার মীরপাড়া। কিছুদিন আগেও এ এলাকার মাঠে ছিল সবুজের সমারোহ। আবাদ হতো মৌসুমী ফসল। বর্ষা-বন্যায় এসব মাঠ ডুবতো, জেগে উঠতো উর্বরা হয়ে। আর ঢাকার পানি সহজে পৌঁছে যেতো বালু কিংবা শীতলক্ষায়। দিন পাল্টেছে। ডেভেলপার কোম্পানির টার্গেটে পড়ে মাঠ এখন পরিণত হয়েছে আবাসিক এলাকায়। চলছে ভরাট, কোথাও আবার সাঁটানো হয়েছে গায়েবি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। যার মালিক খুঁজে পাওয়া দায়। নিচু অঞ্চলে ভরাট চলছে। শুকনো দিনেও তাই পানি জমে আছে ডিএনডি বাঁধের আশেপাশে, বিস্তির্ণ এলাকায়। ডুবছে ঘরবাড়ি, ডুবে আছে হাসপাতাল। জলাবদ্ধতার চলছে বছরের পর বছর ধরে। কৃষিজমি ভরাট বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি পরিবেশবাদীদের। একইসঙ্গে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা কার্যকরের পরামর্শও দেন তারা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

এক পায়ের তামান্নার গল্প

মেয়েটির নাম তামান্না আক্তার নূরা। জন্ম থেকেই দু’টি হাত আর একটি পা নেই তার। মেয়েটি এক পা দিয়ে লিখে পিইসি ও জেএসসি পাস করে এসএসসি পরীক্ষাতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না নূরা। লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। তাই ছয় বছর বয়সে মায়ের কাছে পায়ের ভেতর কাঠি ও কলম দিয়ে লেখা শুরু করে। মাত্র দু’মাসের মধ্যে পা দিয়ে লেখা ও ছবি আঁকা রপ্ত করে ফেলে সে। মেয়ের এই আগ্রহ দেখে বাবা রওশন আলী তাকে ভর্তি করে দেন স্কুলে। হুইল চেয়ারে করে প্রতিদিন স্কুলে আনা-নেয়া করেন নিজেই। এতো প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বাবা মার কষ্টের প্রতিদান দিয়েছে তামান্না। এক পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি এবং সবশেষ এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। ধারাবাহিক এ সাফল্যে খুশি তামান্না ও তার গর্বিত পিতা-মাতা। যখন থেকে তার জ্ঞানবুদ্ধি হয়, তখন তার মা একমাত্র সম্বল বাঁ পায়ের আঙুলের ভেতর চক দিয়ে লেখা রপ্ত করাতেন। সকাল-সন্ধ্যা পড়াতেন। এভাবে এক-দেড় বছর পর তাকে একটি প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মা-ই তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন-আসতেন। ক্লাসে বসিয়ে মা বাইরে বসে থাকতেন মেয়ের ডাকের অপেক্ষায়। হাই স্কুলে ভর্তির পর হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাকে মায়ের মতো বাবাও কখনো কখনো আনা-নেওয়া করতেন। যতক্ষণ না তার স্কুলের পড়া শেষ হতো, ততক্ষণ মা পাশে বসে থাকেন। এ পর্যন্ত মায়ের পরিশ্রমই তার এই ফল এনে দিয়েছে বলে জানাল তামান্না। মায়ের শেখানোর বদৌলতে পা দিয়ে শুধু লেখে না, চামচ ধরে খেতেও পারে সে। এমনকি মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারে। যেন একটি পা-ই তার দুই হাতের সমান। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখানো তামান্না প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল। একসময়  ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। এখন ভবিষ্যতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। একসময় শ্রেণি পুস্তক পাঠের বাইরে অবসরে চিত্রাঙ্কন করলেও এখন আর সেটি করা হয়ে ওঠে না। তার অবসর কাটে কোরআন শরিফ, বিভিন্ন গল্প ও কবিতার বই পড়ে। তামান্নার বাবা বলেন, মেয়েকে বার বার বলি শিক্ষার উদ্দেশ্য চাকরী করা না, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন করা। শত কষ্টের মধ্যেও মেয়ের সাফল্যে আমি সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই। তামান্নার এমন সাফল্যে খুশি তার সহপাঠীরাও। সহপাঠীরা বলেন, মেয়েদের ক্লাস রুম দুতালায়, তামান্না উঠতে পারেনি দেখে নিচে আমাদের সাথেই ক্লাস করতো। তামান্না পড়াশোনায় অনেক ভালো। মেধাবী তামান্নার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে আরো বহুদূর নিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা তার বিদ্যালয় শিক্ষকদেরও। এসএ/  

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাজ কী?

ভেজাল আর নিম্নমানের পণ্যে বাজার সয়লাব বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। নিশ্চিন্তে কোনো পণ্য ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের। নামি দামী কোম্পানিগুলোর পণ্যও এখন উৎপাদন হচ্ছে নিম্নমানের ও ভেজাল উপকরণে। সম্প্রতি ৫২টি পণ্যের মধ্যে ভেজাল উপকরণ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আরও ভালোভাবে সবার সামনে আসে বিষয়টি। বিএসটিআই ৫২টি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মধ্যে ভেজাল পেলেও কোন কার্যকরী ভূমিকা নেয়নি। যার কারণে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) নামে একটি বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা হাইকোর্টে রিট করার মাধ্যমে তা আদালতের সামনে আনে। এর মাধ্যমে মানুষও এ বিষয়ে আরো ভালোভাবে অবগত হয়। আদালত বাজার থেকে এসব পণ্য সরানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখনও এসব পণ্য বাজারে রয়েছে বলে জানা যায়। খুচরো বিক্রেতারা পড়েছেন এ নিয়ে বিপাকে। তারা বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে তারা কি করবেন। অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ  জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ জানিয়েছেন, এই সব পণ্যে কি পরিমাণ ক্ষতিকর জিনিস রয়েছে তারা এখনও এ বিষয়ে অবগত নয়। তবে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৩ দিনের ভেতর বাজার থেকে এই ৫২টি পণ্য সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক।  জানা যায়, জাতীয় সংসদ ১০ অক্টোবর ২০১৩ সালে নাগরিকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুমোদন করে। আর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবারহ, বিপণন, বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগীতা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে গঠিত হয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।  এ কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হলো- আইনের আলোকে উৎকৃষ্ট পন্থায় গৃহীত খাবার সব সময় সবার জন্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পোঁছানো।  কিন্তু  সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ কেমন দায়িত্ব পালন করছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একটা সময় শুধু প্রচার আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা ছিলো নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ার মত কার্যক্রম। পরে ২০১৮ সালে ম্যাজিস্টেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্টেট পায় (বিএফএসএ)। কিন্তু আরও নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদলত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট দরকার বলে জানান নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখন নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা হচ্ছে। তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আমরা ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি।’’ ৫২টি পণ্য যেসব প্রতিষ্ঠানের তারা যে আবার এমন পণ্য তৈরি করবে না এমন নিশ্চয়তা কি? আর এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) কি ভূমিকা নিয়েছে, এমন প্রশ্নে মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘‘ এই বিষয়ে দেখছে বিএসটিআই। যদি পণ্যের গুনগত মান ঠিক না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে বিএসটিআই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। তবে দৈনিক হাজার হাজার পণ্য উৎপাদন হচ্ছে সব তো ধরে ধরে পরীক্ষা করে বাজারে নিয়ে আসা কঠিন।’’তাহলে কিভাবে পণ্যে ভেজাল বা নিম্মমান ঠেকানো যেতে পারে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিয়মিত কারখানাগুলো ভিজিট করার মাধ্যমে এটি ঠেকাতে পারি।’’ এদিকে বিভিন্ন ফল ও শাক সবজির মধ্যে ফরমালিন বা কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু ফরমালিন ব্যবহার করা হয় তিনি এ বিষয়ে মানতে নারাজ। তিনি জানান, ‘এসব অপপ্রচার। কিছু কিছু ফল রয়েছে যেগুলো এমনিতেই অনেক দিন না পঁচে ভালো থাকে। তাহলে এখানে ফরমালিন ব্যবহারের বিষয় কেন আসবে?’’ কলা দ্রুত পাকানোর জন্য কিছু কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় শুধু এটিই উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া কিছু কিছু কৃষক না বুঝেই ফলের মধ্যে স্প্রে করেন। দেখা যাচ্ছে একটি বাগানে একবার স্প্রে করার প্রয়োজন আছে। কিন্তু কৃষক না বুঝেই সেখানে কয়েকবার কেমিক্যাল দিয়ে স্প্রে করেন। এর জন্য তিনি কৃষি বীদদের সঙ্গে কথা বলে স্প্রে করার বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি। শুধু বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যই নয়, সম্প্রতি বাজারে বেশির ভাগ মুরগীকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে। মুরগীকে সুস্থ রাখার জন্য। আর এর মাধ্যমে দেখা গেছে যে, এটি  মানুষের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা কি? এ বিষয়ে মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘‘মুরগীর ফিড পরীক্ষা করার জন্য এ বিষয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরকে আমরা বলেছি। তারা ব্যবস্থা নিবেন।’’ চারদিকে এমন ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের সয়লাব ঠেকানোর ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভবিষৎ পরিকল্পনা কী? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে বাজারে কিছু জিনিস চলে আসার পর তা যদি শনাক্ত হয়, তাহলে দেখা যায় কিছু পণ্য মানুষ এর মধ্যে ব্যবহারও করে ফেলেছে। তাই আমাদের এসব ঠেকানোর জন্য পূর্ব থেকেই এর মূল উৎস বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন বাজারে ভেজাল পণ্য না ঢুকতে পারে। আর নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চলবে। এছাড়া ভোক্তাদের বলবো তারা যেন বিভিন্ন পণ্য কেনার সময় আরো যাচাই বাছাই করে কিনে। এছাড়া কৃষকরাও আরও  সচেতন হয়। তাহলেই এসব ভেজাল খাদ্য পরিহার করা সম্ভব। এ বিষয়ে বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) এর পরিচালক  পলাশ মাহমুদ বলেন, বিএফএসএ চাইলে ভেজাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ অথবা যে কাউকে গ্রেফতারসহ সব ভেজাল বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু তাদের কার্যক্রম সেভাবে চোখে পড়ছে না। মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ বিভাগের মূল কাজ। কিন্তু বাজারে এখনও ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি চলছেই।   এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি