ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:৪৮:৪৭, শুক্রবার

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র উদ্যোগে পুঁথি পাঠের আসর

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র উদ্যোগে পুঁথি পাঠের আসর

শতবর্ষের ঐতিহ্যমণ্ডিত চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র উদ্যোগে প্রথমবারের মত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজসংস্কৃতি পুঁথি পাঠের এক বর্ণাঢ্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭ টায় ৩২ তোপখানা রোডস্থ চট্টগ্রাম ভবনে সমিতির মিলনায়তনে আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পুঁথি পাঠের আসরের শুভ উদ্বোধন করেন। পুঁথির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ক্রমবিকাশের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নির্বাহী সদস্য আহমদ মমতাজ। সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সদস্য-সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা কামাল চৌধুরী শানুর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমিতির সহসভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দীন খান। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও জীবন সদস্যদেরকে কষ্ট স্বীকার করে এই আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মাবুদ। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেন সমিতির সাবেক সভাপতি ও আজিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক চৌধুরীর পুত্র ও সমিতির দাতা জীবনসদস্য মো. রাজীবুল হক চৌধুরী। এই আসরের মূল আকর্ষণ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট পুঁথিপাঠক শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ। তাঁর সহযোগিতায় ছিলেন- তবলায় মো. সৈয়দুল হক, দোতারায় চিত্তরঞ্জন বর্মন, বাঁশিতে টিটু দেবনাথ, অক্টোপ্যাডে প্রণব রায়, কী বোর্ডে রতন মজুমদার, শিল্পী শিউলী মজুমদার ও ফিরোজা আকতার সামান্তা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব মো. দিদারুল আনোয়ার, সাবেক সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক, আবু আলম চৌধুরী ও মিসেস লায়লা সিদ্দিকী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য-সচিব মুহাম্মদ মারুফ শাহ চৌধুরী, নির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সহসভাপতি ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সহসভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ খালেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম ও নাছির উদ্দিন, হাসপাতাল কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউল ইসলাম মহিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরীন সিদ্দিকা লিনা। নির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সহসভাপতি ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সহসভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুদ্দিন আহমদ (বাবুল), শফিকুর রহমান শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মাহমুদ সালাহ্উদ্দীন চৌধুরী, সাহিত্য ও সেমিনার সম্পাদক ইঞ্জনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক, ক্রীড়া সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ রাসেল, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান (মন্টু), মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আনিচ উল মাওয়া (আরজু), আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুল কবির চৌধুরী, মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (হিরো), মোহাম্মদ মনসুর আলী চৌধুরী, মো. কামাল হোসেন তালুকদার, রাহুল বড়ুয়া, মোঃ গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী, মোস্তফা ইকবাল চৌধুরী (মুকুল), আলম ইশরাক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ আবছার চৌধুরী, আবরাজ নুরুল আলম ও আজম উদ্দীন তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ সমিতির অনেক জীবন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এসি  
মালঞ্চের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবের জমকালো প্রস্তুতি

পটিয়াস্থ সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চ প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ মে (বুধবার) পটিয়া খাসমহলস্থ কর্ণফূলী কমিউনিটি সেন্টার সবুজ চত্বরে দিনব্যাপি বইমেলা, গুণীজন সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতি ম্যাচসহ নানা আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে মালঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শিবুকান্তি দাশ জানিয়েছেন, এবারে মালঞ্চ গুনীজন সম্মাননা পাচ্ছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। মালঞ্চ সংগঠকদের  মধ্যে সম্মাননা পাচ্ছেন চিকিৎসক ডা. দিলীপ ভট্টচার্য্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আলীম ও লেখক গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক। এছাড়া নানা উদ্দীপনামূলক অনুষ্টানের ব্যাপক প্রস্তুতি কাজ এগিয়ে চলছে। পুরোদিন মালঞ্চ পরিবারের সদস্যরা যাতে আনন্দে ভাসে তার জন্য নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রকাশ করা হবে  ইতিহাস ভিত্তিক সংকলন ‘মালঞ্চ’। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বুধবার সকাল ৯টায় সূচনা করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। বিকাল  ৩টায় দ্বিতীয় পর্বে উদ্ভোধন করবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আগ্রহী সাহিত্য সংস্কৃতিপ্রেমীগণ  নিধারিত ফরমে নিবন্ধন করতে পারেন। নিবন্ধনের জন্য যোগাযোগ আবদুর রহমান রুবেল ০১৮৪০০২৪১৮৫। কেআই/  

রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন চলছে

বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণে চলছে ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। রমনার বটমূলের প্রভাতী আয়োজনে ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’ আহ্বান নিয়ে সাজানো হয়েছে। পহেলা বৈশাখ ভোর সোয়া ছটায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হয় রাগালাপ দিয়ে। এরপরই চলে প্রত্যূষে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও সৃষ্টির মাহাত্ম্য নিয়ে ভোরের সুরে বাঁধা গানের গুচ্ছ। পরের পর্বে অনাচারকে প্রতিহত করা এবং অশুভকে জয় করার জাগরণী সুরবাণী, গান, পাঠ, আবৃত্তিতে দেশ-মানুষ-মনুষ্যত্বকে ভালবাসবার প্রত্যয় নিয়ে উৎসবে যোগদিয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটায় দেশের সব অত্যাচারে নির্যাতিতদের শ্রদ্ধায় ও অনাচারের প্রতিবাদে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।  সংস্কৃতি সংগঠন ছায়ানটের শিক্ষার্থী-প্রাক্তনী-শিক্ষক নিয়ে, ছোট বড় মিলিয়ে এবারের অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করবে প্রায় শ’খানেক শিল্পী। অনুষ্ঠানে থাকছে ১৩টি একক, ১৩টি সম্মেলক গান এবং ২টি আবৃত্তি। এসএ/  

বর্ষবরণে মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উদীচীর সমাবেশ

পহেলা বৈশাখ বাংলা ও বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থিত উদীচী’র সাড়ে তিন শতাধিক শাখা সংসদের উদ্যোগে একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজিত হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম ও ইকবালুল হক খান, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত ও আকরামুল হক, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন এবং মীর্জা আতিকুজ্জামান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় সঙ্কোচনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায় তাদের স্বার্থই রক্ষা করা হলো। উদীচী সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মানবে না। অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী অপশক্তির আক্রমণ ও রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যাত্রাপালাসহ সংস্কৃতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধারা চলতে দেওয়া যায় না। উদীচী সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে এদেশের চিরায়ত সংস্কৃতির ওপর বর্বর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জাগরণ বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন জামসেদ আনোয়ার তপন। এছাড়া, নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে সবাইকে ঘরে বন্দী করে দেয়ার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, বিকাল ৬টার মধ্যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ করা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষেধ করা বিষয় সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। সংস্কৃতি কর্মীসহ সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষের প্রবল আপত্তির মুখেও গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণ উৎসবকে নির্দিষ্ট সময়ের ঘেরাটোপে বেঁধে দেওয়ার একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে সরকার। বারবার আপত্তি জানানোর পরও এবারও রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের সব উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে উৎসবমুখর বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাসকে দমন করা হচ্ছে তাই, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বিকাল ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার এ নির্দেশনা গ্রহণযোগ্য নয়। এধরনের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাবে। এছাড়া, বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা-ও সার্বিকভাবে উৎসবের বৈচিত্র্যকে খর্ব করবে। নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে কালকের মানববন্ধনে যোগ দেবে উদীচী- ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে আগামীকাল বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণভবন থেকে বঙ্গভবন মানববন্ধন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাল সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করবে উদীচীর সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা। এসএইচ/

পাহাড়ীদের বর্ষবরণ উৎসবের প্রথম দিন আজ (ভিডিও)

পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে পাহাড়ীদের বর্ষবরণের উৎসব বৈসাবি। উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বর্ষবরণের উৎসবের প্রথম দিন আজ। চৈত্রের শেষ বেলায় রঙিন ফুল নদীতে ভসিয়ে পুরোনোকে বিদায় দেয় পাহাড়ি তরুনীরা। সূচনা হয় বৈসাবি উৎসবের। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বৈসুু-সাংগ্রাই-বিজুর উৎসব এখন পাহাড়ে পাহাড়ে। নতুন পোশাক পরে, ঘরে ঘরে পাঁচন রান্না আর ঘরবাড়ি সাজ-সজ্জার আয়োজন চলছে। উৎসবের প্রথম দিনে নদীতে ফুল ভাসানো ছাড়াও বয়স্ক পূজা, বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা আর ঐতিহ্যবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম। ৪দিনের এই উৎসবে আরো থাকছে সমবেত প্রার্থনা, জলকেলি, পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান আর হাজারো প্রদীপ প্রজ্জলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃগোষ্ঠীগুলো এই বছরান্তের উৎসবকে নানা নামে ডাকলেও, সবার নিবেদন একই! এটাই নৃগোষ্ঠীগুলোর মৈত্রী বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা পেলেন পাঁচ শিল্পী

শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিবছর প্রতিটি জেলার পাঁচজন গুনী ব্যক্তিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা প্রদান করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মৌলভীবাজার পাঁচ গুণী শিল্পীকে এই সম্মাননা প্রদান করেছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, লোকসংস্কৃতি গবেষণায় রসময় মোহান্ত, সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষণায় নৃপেন্দ্রলাল দাশ, কণ্ঠসঙ্গীতে রানু সরকার, যাত্রাশিল্পে বীরপ্রতীক ফোরকান উদ্দিন, চলচ্চিত্রে সৌমিত্র দেব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের পর পরিবেশিত হয় নৃত্যসংগঠন শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশের পরিচালনায় একটি নৃত্যনাট্য ‘ইছামতির বাঁকে’। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, জেলার চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি ও মৌলভী বাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো.কামাল হোসেন, সংস্কৃতিসেবী ডা. এম এ আহাদ। কেআই/  

জমে উঠেছে বৈশাখী আয়োজন

আসছে বৈশাখ। আর তাই আসন্ন বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে বৈশাখী আয়োজন। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, গৃহসামগ্রী। চাহিদাও বেড়েছে অনেক। এসব পণ্যের জোগান দিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো পণ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ফুল, ফল ও পর্যটনের ব্যবসাও। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈশাখের অন্যতম একটি উপকরণ হচ্ছে ইলিশ। বছরের পুরো সময় ইলিশের দাম স্বাভাবিক থাকলেও বৈশাখী হাওয়া এলেই হু-হু করে বেড়ে যায় এর দম। আগে প্রতি এক কেজি ইলিশের দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পহেলা বৈশাখ যত ঘনিয়ে আসবে, এর দাম আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ইলিশকেন্দ্রিক বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হচ্ছে। এর একটি অংশ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পর্যন্ত যাচ্ছে। বৈশাখে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পোশাকের মধ্যে মেয়েদের শাড়ি, থ্রিপিস, সালোয়ার-কামিজ, অলংকার, গ্রামীণ চিত্রপট আঁকা নানা ধরনের সামগ্রী। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই থাকে দেশীয় তাঁতের কাপড়ের এবং দেশীয় উপকরণে তৈরি। এগুলো করে থাকেন গ্রামের তাঁতি ও ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তারা। ফলে এসব শিল্প চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রাম ও শহরে যেসব বৈশাখী মেলা বসে, সেগুলোয় খেলনার পাশাপাশি থাকে নানা ধরনের উপকরণ। বৈশাখে গৃহসামগ্রীর মধ্যে বিশেষ করে টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্রসহ নানা উপকরণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এগুলোর উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি এগুলোর ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে কোম্পানিগুলো বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছে। এদিকে বৈসাবি ও বৈশাখী উৎসব ঘিরে পাহাড়ের অর্থনীতিতে বিরাজ করছে চাঙাভাব। রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় নতুন করে সাজানো হয়েছে শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো। জমজমাট মেলা বসেছে বিভিন্ন স্থানে। জমে উঠতে শুরু করেছে ফলমূল, সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজার। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসবকে নিজ ভাষায় ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাইন এবং চাকমারা বিজু নামে পালন করে থাকে। এ তিন শব্দের আদ্যাক্ষর মিলিয়ে সম্মিলিত নাম দেয়া হয়েছে বৈসাবি। বৈসাবি পালিত হয় প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে ২৯-৩০ চৈত্র ও পহেলা বৈশাখ। বৈসাবিতে একাকার হয়ে যায় বৈশাখী উৎসব। পাহাড়িদের বৈসাবি এবং আবহমান বাংলার চিরায়িত বৈশাখী উৎসব ঘিরে এবারও চাঙা হয়ে উঠেছে পাহাড়ের ব্যবসাপাতি। বৈসাবি ও বৈশাখী উৎসবটি সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কেনাকাটা। তবে পুরোপুরি কেনাকাটা জমবে ৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। উৎসব ঘিরে পোশাক ও মনিহারি পণ্য কেনাকাটা শুরু হয়েছে রাঙ্গামাটির স্থানীয় বাজারে। দোকানিরা তুলেছেন বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। নারী ও শিশুদের কাপড় সেলাই নিয়ে ব্যস্ত দর্জিরা। বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলায় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ভিড় জমছে ক্রেতাদের। রাঙ্গামাটির বাজারগুলোতে পাহাড়িদের শ্রমজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের ভিড় জমছে ধীরে ধীরে। উৎসব আয়োজন ও আপ্যায়ন প্রস্তুতি নিয়ে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা শুরু করেছেন কর্তা ও গৃহণীরা। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোররা কিনছেন জামাকাপড় ও মনিহারি সামগ্রী। এসএ/

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে নিয়ে মতবিনিময় সভার মধ্যদিয়ে শেষ হলো জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের চার দিনের আয়োজন। শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে নিয়ে মতবিনিময় সভা, স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের বাস্তবায়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহমান অঞ্জন। এতে সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা হায়দার রিজভী। উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দেড় শতাধিক তরুণ নির্মাতা অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় চলচ্চিত্রের সমস্যা, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌছানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। মতবিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রীতি সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। গত ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিবসটি উদযাপন করছে। ৩-৬ এপ্রিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, বিষয়ভিত্তিক প্যানেল বৈঠক, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে মত বিনিময় সভা, চলচ্চিত্রের আড্ডা ও প্রীতি সম্মিলনীসহ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন ২০১৯ আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। কেআই/

‘কত ফুল ঝরে গেছে’ গানের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে শিল্পী বৈশাখী ইবনাত পাওশির গানের অ্যালবাম ‘কত ফুল ঝরে গেছে’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান, সঙ্গতজ্ঞ শ্রী অনিল কুমার সাহা, সঙ্গীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং বিজয় টিভির নির্বাহী পরিচালক নায়লা বারী। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বৈশাখী ইবনাত পাওশির পিতা মো. নজরুল ইসলাম সরকার। এতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর মাতা মমতাজ বেগম ও নজরুল ইন্সটিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ভুইয়া। কেআই/    

চারুকলায় ধুম প্রস্তুতি

চৈত্রের কাঠফাটা রোদ ও কালবৈশাখীর আনাগোনা জানান দিচ্ছে যে প্রকৃতিতে বৈশাখ আসছে। আর পহেলা বৈশাখের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এখন চলছে ধুম প্রস্তুতি। এক প্রান্তে চলছে শোভাযাত্রার শিল্প কাঠামো নির্মাণের কাজ, অন্যপ্রান্তে চলছে শোভাযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য জলরঙ, সরাচিত্র, মুখোশ, পুতুল তৈরি ও বিক্রি। দিন-রাত বিরামহীন চলছে এ প্রস্তুতি। যাকে ঘিরে পুরো চারুকলা অনুষদ এখন উৎসবমুখর ও ব্যস্ত। বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রার দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অনুষদের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক ও চারুশিল্পীরাও যোগ দিয়েছেন। গত ১৯ মার্চ ছবি এঁকে এ প্রস্তুতিকার্যের উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, কবিগুরু ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের ৪৮ নম্বর কবিতার ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ বাণীকে শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও নানা ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সে জন্যই এবারের শোভাযাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎসব সন্ধান করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার সমন্বয়ক তন্ময় দেবনাথ জানান, এখনও শিল্প কাঠামোর সংখ্যা চূড়ান্ত হয়নি। তবে ১০টির মত শিল্প কাঠামো থাকবে এবারের শোভাযাত্রায়। এর মধ্যে রয়েছে ঘোড়া, পাখি, উল্টা কলসি। সবচেয়ে আর্কষণীয় কাঠামো হিসেবে থাকছে বাঘ ও বকের শিল্প কাঠামো। বাঘ ও বকের রূপকথা অবলম্বনে এ শিল্প কাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরুর বছরেই তা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। এর পর থেকে এটা বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এ আনন্দ শোভাযাত্রা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম ধারণ করে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে এ শোভাযাত্রা। এসএ/  

শুরু হচ্ছে ওয়াও ঢাকা ফেস্টিভ্যাল

যুক্তরাজ্যের ওয়াও ফাউন্ডেশনের অংশীদারিত্বে ব্রিটিশ কাউন্সিল রাজধানী ঢাকাতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করছে ওয়াও- উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল এ ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে।  এ ফেস্টিভ্যাল শুরুর পূর্বে আজ ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। সম্মেলনে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিউ নিউটন, হেড অব আর্টস নাহিন ইদ্রিস, মঙ্গলদীপের প্রতিষ্ঠাতা সারা যাকের, লিপিং বাউন্ডারিজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাগুফে হোসেন এবং বহ্নিশিখার প্রতিষ্ঠাতা তাশাফি হোসেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন প্যানেল আলোচকরা ওয়াও ফেস্টিভ্যাল নিয়ে ধারণা প্রদান করেন। নারী ও কিশোরীদের সফলতা ও অর্জনসমূহ উদযাপন এবং বিশ্বজুড়ে তারা যে ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় তার ওপর আলোকপাত করেই অনুষ্ঠিত হয় ওয়াও আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল। সবার জন্য আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যাল ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা বক্তা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।জেন্ডার সমতার অগ্রগতিতে এ ফেস্টিভ্যালের গুরুত্ব নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিউ নিউটন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আর্টস প্রোগ্রাম পোর্টফোলিওর অধীনে নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে আমাদের কাজের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ওয়াও ফেস্টিভ্যাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ কাউন্সিলে আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদার ও সম্ভাবনাময় সমাজ বিনির্মাণের পাশাপাশি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৫ নম্বর লক্ষ্য ‘জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন’ অর্জনের ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা অর্জন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং স্থানীয় প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়নের প্রভাবশালী মাধ্যম ওয়াও ফেস্টিভ্যাল। বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরিতে এবং দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে তাদের সম্ভাবনা অর্জনে এবং জীবন পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রভাব তৈরিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে ওয়াও ফেস্টিভ্যাল।’ ওয়াও ঢাকার লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব আর্টস নাহিন ইদ্রিস বলেন, ‘ওয়াও ঢাকার অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা, এ শহর এবং এখানে যারা প্রতিদিন বাস করেন এবং কাজ করেন তাদের ওপর গুরুত্বারোপ করা। পাশাপাশি, ফেস্টিভ্যালে দর্শনার্থী বক্তা, প্যানেল আলোচক ও নারীদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহী করা হবে। এসএইচ/

এবার ভাস্কর নভেরা আহমেদ গুগল ডুডলে

ভাস্কর নভেরা আহমেদের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিশেষ ডুডলে তাকে স্মরণ করছে গুগল। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে ঢুকলেই চোখে পড়ছে বিশেষ ডুডলটি। ডুডলে ক্লিক করলে নভেরা আহমেদকে নিয়ে গুগলে নানা অনুসন্ধানের ফল দেখাচ্ছে। নভেরা আহমেদ ১৯৩০ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের ভাস্কর্য শিল্পের অন্যতম অগ্রদূত তিনি। তিনি ভাস্কর হামিদুর রহমানের সঙ্গে জাতীয় শহীদ মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ অন্তরাল জীবনের পর ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্যারিসে তার রেট্রোসপেকটিভ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূত্রে নভেরার বাবা সৈয়দ আহমেদ কর্মরত ছিলেন সুন্দরবন অঞ্চলে। নভেরার জন্ম সুন্দরবনে। চাচা আদর করে নাম রাখেন নভেরা। পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তরপাড়া। চাকরিসূত্রে নভেরার বাবা পরে কলকাতায় ছিলেন। নভেরার শৈশব কেটেছে কলকাতায়। নভেরা কলকাতার লরেটায় স্কুলজীবন কাটিয়েছেন। স্কুলজীবনেই তিনি ভাস্কর্য গড়তেন। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত ভাগ হয়ে যাওয়ার পর তারা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুমিল্লায় চলে আসেন। এ সময় নভেরা কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। বাবার অবসরগ্রহণের পর তারা সবাই আদি নিবাস চট্টগ্রামে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৫০ সালে তিনি লন্ডনে যান। নভেরা ১৯৫১ সালে ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফট সেরন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং ও স্কাল্পচার কোর্সে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে নভেরা কোর্স শেষ করে ডিপ্লোমা পান। নভেরার ভাস্কর্য তৈরির মূল প্রবণতা ছিল ‘ফিগারেটিভ এক্সপ্রেশন’ এবং প্রধান বিষয়বস্তু ছিল নারীর প্রতিমূর্তি। তথাকথিত ভাস্কর্য শিল্পে আমরা ইন্দ্রিয় সুখাবহ নারীর যে রোমান্টিসিজম দেখি, নভেরার তৈরি ভাস্কর্যগুলো এই বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত এবং অনেক বেশি মেদহীন, ঋজু। তার ভাস্কর্যে মূর্ততার চেয়ে বেশি জোর দিতেন বিমূর্ত অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে। নভেরার ভাস্কর্যের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে ‘চাইল্ড ফিলোসফার’, ‘মা ও শিশু’, ‘এক্সটার্মিনেটিং অ্যাঞ্জেল’, ‘পরিবার’ (১৯৫৮), ‘যুগল’ (১৯৬৯), ‘ইকারুস’ (১৯৬৯), ‘জেব্রা ক্রসিং’ (১৯৬৮) ইত্যাদি। ১৯৭৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্যারিসে নভেরার বেশ কিছু ছবি এঁকেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর ৪৩টি চিত্রকর্মের খোঁজ মেলে। তার কাজের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ বিদ্যমান ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে, এ ছাড়া প্যারিসে গ্রেগরি দ্য ব্রুহনসের স্টুডিওতে নয়টি ভাস্কর্য ও ৪৩টি চিত্রকর্ম রয়েছে। ১৯৫৮ সালে স্থপতি হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের শিল্পকর্মের যৌথ একটি প্রদর্শনী হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারে। এরপর তিনবার নভেরার একক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৪১ বছর অন্তরালের পর ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে প্যারিসে নভেরার একটি রেট্রোস্পেকটিভ প্রদর্শনী হয়। ১৯৯৭-এ বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৫ সালের ৫ মে ফ্রান্সের প্যারিসে ইন্তেকাল করেছেন তিনি। এসএ/

শিল্পকলায়  স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় সাভার স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে পুলিশ নারী কল্যান শিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য ও সমবেত সংগীত, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সমবেত সংগীত, ও পৃথিবী এবার এসে, ঐ উজ্জ্বল দিন এবং বসন্ত বাতাসে সইগো গানের কথায় দীপা খন্দকারের নৃত্য পরিচালনায় দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমবেত নৃত্য। এছাড়াও একক সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী লুইপা এবং শফি মন্ডল । সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সমবেত নৃত্য: ‘ধন ধান্য পুস্প ভরা, জ্বলে উঠো বাংলাদেশ, গর্জে উঠো বাংলাদেশ গানের কথায় নৃত্য পরিচালনায় অনিক বোস,পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, চলো এগিয়ে যাবো বাধা মানিনা গানের কথায় নৃত্য পরিচালনায় লিখন রায়, গেরিলা গেরিলা এবং রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেব আমরা গানের কথায় নৃত্য পরিচালনায় লায়লা হাসান। সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ডালিয়া আহমেদ, একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রফিকুল আলম, আইরিন পারভীন, আল আমিন,  নাজিয়া সুলতানা বৃষ্টি, বিউটি, হৈমন্তি রক্ষিত এবং সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাসকুর-এ সাত্তার কল্লোল। কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি