ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৫৮:১১, বুধবার

চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায়

চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায়

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি নাই এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। নিয়মিত ওষুধ তো খানই তবুও অফিস-আদালতে কিংবা কাজকর্মে যাওয়ার সময় সঙ্গে এসিডিটির ওষুধও নিয়ে যান।
দাঁতে ব্যথা হলে কী করবেন?

দাঁত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার খেতে এবং কথা বলতে দাঁতের সাহায্য লাগে। তেমনি সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি করে। আমাদের নানা কু’অভ্যাসের জন্য দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর একপর্যায়ে অনুভব হয় ব্যথা। এই ব্যথা ক্রমে তীব্রতর হয় এবং অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ নেয়। অনেক সময় ইনফেকশনও হতে পারে। তবে নিজের সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকতে পারবেন। দাঁতের ব্যথা নিয়ে ভুক্তভোগীই ভীষণরকম ভীত থাকেন। কারও কথায় এই ব্যথা নাকি মৃত্যুযন্ত্রণার সমান। কেউ বলে, আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়। অনেকের বক্তব্য, দাঁতে যেন সুচ ফোটানো হচ্ছে। তাই দাঁতের ব্যথা নিয়ে প্রতিটি মানুষকে প্রথম থেকেই সচেতন থাকতে হবে। এবার জেনে নিন দাঁত ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা: দাঁতে গর্ত সঠিক উপায়ে দাঁত না মাজলে বা খাওয়ার পর ভালো করে মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতের মধ্যে খাবার আটকে থাকতে পারে। সেই খাবার দাঁতের মধ্যে পচে গিয়ে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের ক্যালশিয়ামকে টেনে নেয়। ফলে দাঁতের সেই অংশে গর্ত তৈরি হয়। কিছু দিন পর গর্তটি দাঁতের নার্ভ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেই তৈরি হয় সমস্যা। বাইরে থেকে গর্ত হয়ে রোগ-জীবাণু নার্ভে আক্রমণ করে। দেখা দেয় ইনফ্লামেশন। তখনই শুরু হয়ে যায় অসহ্য যন্ত্রণা। দাঁতের মধ্যে কালো দাগ হল গর্তের প্রাথমিক লক্ষণ। এই গর্ত নার্ভ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা করানো ভালো। এটাই হল রোগের প্রাথমিক পর্যায়। এক্ষেত্রে দাঁতে ফিলিং করতে হয়। অর্থাৎ দাঁতের গর্তকে নির্দিষ্ট উপায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নানা ধরনের ফিলিং রয়েছে— টেম্পোরারি, সেমি পারমানেন্ট ও পারমানেন্ট। আবার দাঁতের গর্ত স্নায়ুতে পৌঁছে ইনফ্লামেশন তৈরি করলে চিকিৎসা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দাঁত বাঁচানোর একমাত্র পথ হল রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট। দাঁতে আঘাত লেগে ভাঙাকোনও কারণে দাঁতে আঘাত লেগে নির্দিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে বা ফ্র্যাকচার হলে নার্ভ এন্ডিং বেরিয়ে আসে। ফলে নার্ভে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নার্ভে সংক্রমণ হলে তীব্র ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এই সমস্যার সমাধানে দাঁতটিকে ক্যাপিং করতে হয়।অনেক সময় আঘাত লেগে পুরো দাঁতটি উপড়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানসম্মত ভাষায় এর নাম অ্যাভালশন। এক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার মধ্যে সেই নির্দিষ্ট দাঁতটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা ওই দাঁতটিকে পুনরায় সেখানে বসিয়ে দিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে উপড়ে যাওয়া দাঁতটিকে সঙ্গে সঙ্গে সংগ্রহ করে দুধ, ডাবের জল বা মুখের লালার মধ্যে ডুবিয়ে দিতে হবে। এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। দাঁতের গোড়ায় ময়লা জমামাড়ি ও দাঁত একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকে। এবার দাঁতের গোড়ায় ময়লা জমলে মাড়ি ও দাঁতের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। একে অপরের থেকে দূরে সরে আসে। ফলে সেই জায়গায় অসংখ্য নার্ভ রুট বেরিয়ে যায়। এই নার্ভ রুটগুলো সংবেদনশীল হয়ে পড়লে মূল নার্ভে সেই বার্তা পৌঁছায়। এর থেকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মাড়ির চিকিৎসা করতে হবে। হাড়ে ইনফেকশনপ্রাথমিকভাবে দাঁতের ব্যথাকে আমল না দিলে দাঁতের নার্ভের মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক সময় এ থেকে মাড়ির হাড়ে ইনফেকশন হয়। এক্ষেত্রে হাড়ে পুঁজ পর্যন্ত জমে। মুখ ফুলে যায়, জ্বর আসে, তীব্র যন্ত্রণা হয়। এর চিকিৎসা হল রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট। এছাড়াও বর্তমানে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওই মৃত দাঁতটিকে জীবন্ত করে তোলা যায়।এ ছাড়া দাঁতের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে লবঙ্গ তেল লাগাতে পারেন। চাইলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেটও খেতে পারেন। তবে ব্যথা কমাতে সেঁক দেবেন না। এর ফল হতে পারে উল্টো। এই সমস্যা একদমই জমিয়ে রাখা উচিত নয়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান বর্তমান পত্রিকা। এএইচ/আরকে

বাগেরহাটে পৌনে দুইলাখ শিশুকে ‘এ প্লাস ক্যাপসুল’ খাওয়ানো হবে

‘ভিটামিন এ খাওয়ান শিশুর মৃত্যুর ঝুকি কমান’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৮ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আগামী শনিবার সারাদিন জেলার ৯ উপজেলায় এক হাজার ৯০০ টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। আজ বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সিভিল সার্জনের কার্যলয়ের হল রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এ সব তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় সিভিল সার্জন ডা. জিকেএম সামসুজ্জামান জানান, জেলার ৯ উপজেলায় এক হাজার ৯০০ অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৮ শিশুকে  ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবেন। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৮ হাজার ৫৬০ শিশুকে নীল রংয়ের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী এক লাখ ৪৭ হাজার ৩১৫ শিশুকে একটি করে লাল রংয়ের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। যাতে শতভাগ শিশু ভিাটমিন এ ক্যাপসুল পায় এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ গভীর পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধায়ন করবে এ কর্মসূচিকে। এর আগে এ বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট জেলায় এক লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৩ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। সিভিল সার্জন ডা. জিকেএম সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অবহিতকরণ কর্মশালায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাব সভাপতি আহাদ উদ্দিন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাকি তালুকদার, ডা. প্রদিপ কুমার বখসী, সাংবাদিক আহসানুল করিম, আলী আকবর টুটুল, মাহফুজুর রহমান, মোল্লা মাসুদুল হক, শেখ আজমল হোসেন, আজাদুল হক, মোয়াজ্জেম হোসেন মজনু প্রমুখ।  

ডায়াবেটিস রোগিদের যেসব ফল খেতে বাধা নেই

ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত ফল খেতে সাবধানতা অবলম্বন করে থাকেন। কেননা কিছু ফল আছে যা অতি সহজেই রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এমনও ফল আছে যা  খেতে বাধা নেই। অর্থাৎ যত ইচ্ছা ততো খেতে পারবেন। যা খেলে ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে। জেনে নেই সেই ফলগুলো কি কি: কালো জাম : কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। ফলটি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও কালো জামের বীজ গুড়ো করে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। জামরুল : জামরুলে আছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার যা ডায়াবেটিস এর জন্য উপকারী। এই ফল রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ফল যত বেশি খাবেন ততো ভাল। কামরাঙ্গা : টক ফল কামরাঙ্গায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আমড়া : আমড়া একটি পুষ্টিকর টক ফল। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি খুবই উপকারী। আমলকী : টক ও কষ জাতীয় ফল আমলকী। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত ২টি করে আমলকী খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জাম্বুরা : জাম্বুরা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। ফলটি স্বাদে টক-মিষ্টি। যত ইচ্ছা ততো খাওয়া যাবে এই ফল। কচি ডাব : শাঁসযুক্ত ডাবের পানি মিষ্টি হয়ে থাকে কিন্তু কচি ডাবের পানি স্বাদে লবণ। ডায়াবেটিসের কোন ক্ষতি করে না বরং উপকারই করে থাকে কচি ডাব। যেকোন টক জাতীয় ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবারই উচিত প্রতিদিন এই ফলগুলো খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির গাইড বই। এএইচ/  

জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগীর ফল খাওয়ার পরিমাণ

এখন চলছে ফলের মৌসুম। চারদিকে শুধু ফল আর ফল। নানা রংয়ের বিভিন্ন স্বাদের দেশি-বিদেশি ফলে ভরপুর। এই সময় কম বেশি সবাই ফল খেয়ে থাকেন। কিন্তু যারা রোগী বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। তারা কি ফল খাবেন না? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে তাদেরও ফল খাওয়া একেবারেই নিষেধ নয়। তবে ফলমূল খাওয়ার বেলায় তাদের হিসাব করে অর্থাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের বেলায় ক্যালরী, শর্করা, প্রোটিন এবং ফ্যাট ইত্যাদি বিবেচনা করে খেতে হয়। এগুলো যে খাবারে কম থাকে সেগুলো রোগীর জন্য খাওয়া উত্তম। এবার জেনে নেই ডায়াবেটিস রোগী দিনে কোন ফল কতটুকু খেতে পারবেন : আম : সর্বত্র এখন আমের মৌ মৌ গন্ধ। এই ফলটি স্বাদে অতুলনীয়। খেতে সবারই মন চায়। ডায়াবেটিস রোগীও খেতে পারবেন। যার পরিমাণ ৩০ গ্রাম অর্থাৎ ছোট আমের অর্ধেক। কাঁঠাল : জাতীয় ফল কাঁঠাল। পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা ৫০ গ্রাম কাঁঠাল খেতে পারবেন। মাঝারি আকারের ৩টি কোয়া। লিচু : স্বল্প সময়ের ফল লিচু। ডায়াবেটিস রোগীরও মন চায় এই ফল খেতে। তবে তারাও খেতে পারবেন ৪০ গ্রাম লিচু। গুনে গুনে বড় আকারের ৬টা। আনারস : এই ফলও খেতে পারবেন, তবে ৬০ গ্রাম। সাড়ে তিন ইঞ্চি মাপের এক অথবা দুই টুকরা। তরমুজ : এই ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না ডায়াবেটিস রোগী। তরমুজ খাবেন ১৫০ গ্রাম। ৩.৫ ইঞ্চি ×৩.৫ ইঞ্চি× ৬ ইঞ্চি সাইজের এক ফালি। পেয়ারা : কাঁচা পেয়ারা বেশি খেতে পারবেন তবে পাকা পেয়ারা খেতে পারবেন ৪০ গ্রাম। অর্থাৎ বড় সাইজের ১টি। পেঁপে : কাঁচা অবস্থায় যত খান বাধা নেই। ডায়াবেটিস রোগীরা ৬০ গ্রাম পাকা পেঁপে খেতে পারবেন। ৩.৫ ইঞ্চি ×২ .৫ ইঞ্চি মাপের এক টুকরা। আতা ফল : গ্রাম বাংলার ফল আতা। ৩০ গ্রাম ওজনের মাঝারি সাইজের একটি ফল খাওয়া যাবে। পাকা কলা : ডায়াবেটিস রোগী পাকা কলা খেতে পারবেন ২৫ গ্রাম। যা একটি কলার অর্ধেক। বেদানা : বেদানা খেতে পারবেন ৪০ গ্রাম। একটি ফলের অর্ধেক। মিষ্টি বরই : টক বরই বেশি পরিমাণে খেতে পারবেন এই রোগীরা। কিন্তু মিষ্টি বরই ২৫ গ্রাম খাওয়া যাবে। মাঝারি আকারের ৬টি। কমলা : কমলা খাওয়া থেকেও বঞ্চিত হবেন না। এই ফল ৬০ গ্রাম খাওয়া যাবে। মধ্যম আকারের একটি। আপেল : ডায়াবেটিস রোগীরা মাঝারি সাইজের একটি আপেল খেতে পারবেন। যার ওজন হবে ৪০ গ্রাম। মাল্টা : এই ফল খাবেন ৫০ গ্রাম। অর্থাৎ মধ্যম আকারের একটি। নাসপাতি : ৪০ গ্রাম নাসপাতি খাবেন। এটিও মাঝারি সাইজের হতে হবে। পাকা বেল : আধা কাপ পরিমাণ বেল খাবেন। যার ওজন হবে ৩০ গ্রাম। মনে রাখবেন এই ফলগুলো একদিনে সব খাওয়া যাবে না। প্রতিদিন এর মধ্য থেকে একটি ফল খেতে পারবেন। তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির গাইড বই। এএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি