ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৫৯:০০, শুক্রবার

আগামী ২ মাসের মধ্যে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

আগামী ২ মাসের মধ্যে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

সরকার নতুন করে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যেই পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ম্যালেরিয়া একটি মরণব্যাধি উল্লেখ করে মন্ত্রী এই রোগ প্রতিরোধে মশা নির্মূল করার আহ্বান জানান। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা সরকার বিনামূল্যে প্রদান করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনা হবে।’স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হবে না বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের যা প্রয়োজন, আমরা তাই ক্রয় করব। তার বেশি আমরা করব না। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতি আছে। হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি প্যাকেটে বন্দি আছে। বিভিন্ন জায়গায় আনইউজড অবস্থায় আছে। কাজেই বিষয়গুলো আগামীতে যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখছি। সার্ভিস আরো ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছি। ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে পাঁচ হাজার নিয়োগ আমরা করে ফেলব।’ টিআর/
ব্যাকটেরিয়া যেভাবে মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে

আমরা মানুষ হয়েছি আমাদের মন, আমাদের চিন্তা করার শক্তি আর আবেগের জন্যেই। কিন্তু ইদানীং একটি নতুন এবং আলোচিত ধারণা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে যে সব ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবগুলোর বাস, বিশেষ করে অন্ত্রে-মস্তিষ্ককে পরিচালনায় সে সবের এক ধরনের অদৃশ্য হাত রয়েছে। বিজ্ঞান এখনও জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে, কিভাবে আমাদের ভেতরে এতসব কোটি কোটি অণুজীব বাস করছে এবং সেই সঙ্গে কিভাবে তারা শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তবে হতাশা, অটিজম এবং মস্তিষ্কের কোষ নিউরনকে বিকল করে দেয় এমন সব রোগের জন্যে এ ধরনের জীবাণুর এক ধরনের যোগসূত্র কিন্তু মেলে। গবেষকেরা মনে করছেন, যে তারা এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে জেনেছেন যেগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলোকে তারা বলছেন, ‘মুড মাইক্রোবস’ বা ‘সাইকোবায়োটিকস’। জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালানো হয়। যে ইঁদুরগুলো কখনোই কোনও ধরনের জীবাণুর সংস্পর্শে আসেনি সেগুলো সাধারণ ইঁদুরের চাইতে বেশি পরিমাণ স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে যখন তারা কোনও সমস্যায় পরে। এটিকে চিন্তার ক্ষেত্রে অণুজীবের অস্তিত্ব বা প্রভাবের বড় একটি ইঙ্গিত বলে ধরে নেওয়া হয়। কিভাবে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া আমাদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে? বলা হয় যে একটি উপায় হলো আমাদের ভেগাস স্নায়ু। যা তথ্য বহনকারী একটি সুপার হাইওয়ের মতো কাজ করে, যোগসূত্র ঘটায় অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের। ব্যাকটেরিয়া হজমের সময়ে আঁশ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে তার এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। শর্ট চেইন ফ্যাটি এসিড উৎপাদিত হয়, যা কিনা শরীরের চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। অভ্যন্তরে বাস করা সব ধরনের অণুজীবকে বলা হয়ে থাকে ‘মাইক্রোবায়োম’। গবেষকরা অন্ত্রের ‘মাইক্রোবায়োম’-এর সঙ্গে পারকিনসন্স রোগীর মস্তিষ্কের এক ধরনের যোগসূত্র দেখেছেন। যদিও পারকিনসন্স স্পষ্টভাবেই এক ধরনের স্নায়বিক বৈকল্য। যার কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পেশীগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ক্যালটেকের মেডিকেল মাইক্রো বায়োলজিস্ট প্রফেসর সার্কিস ম্যাজমানিয়ান দেখিয়েছেন যে, এখানে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও একভাবে জড়িত। তিনি তার গবেষণায় ‘মাইক্রোবায়োম’-এর খুব সুনির্দিষ্ট পার্থক্য পেয়েছেন পারকিনসন্স রোগী এবং সুস্থ ব্যক্তির মাঝে। আর এ ধরনের গবেষণাই ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া কিংবা ‘মাইক্রোবায়োম’-এর পরিবর্তন ঘটিয়ে স্নায়বিক বা মস্তিষ্কের রোগের চিকিৎসায়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ড. ক্রিস্টিন টিলিশ মনে করেন এ সম্ভাবনা নিয়ে আরও অনেক বেশি গবেষণার প্রয়োজন। যাতে করে অণুজীবের নিয়ন্ত্রণ ঘটিয়ে সত্যিই মানসিক স্বাস্থ্যেরও এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। সূত্র: বিবিসি একে//

আইসিইউতে রোগী মৃত্যুর বড় কারণ ‘সুপারবাগ’

চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ-তে থাকা রোগীদের একটি বড় অংশের মৃত্যুর পেছনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দায়ী, যাদেরকে এই ক্ষমতার জন্য ‘সুপারবাগ’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইসিইউ-তে থাকা রোগীদের বেশীরভাগের শরীরেই সুপারবাগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আইসিইউতে যে সব রোগীরা মারা যাচ্ছেন, তারা এমনিতেই জটিল রোগী, তাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, তাদের আরও অনেক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা এটাও দেখেছি, তাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেসিস্ট্যান্স সুপারবাগ পাওয়া গেছে।’ ‘হয়তো তাদের মৃত্যুর আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু দেখা গেছে মারা যাওয়া রোগীদের আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়ার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স। এ সব আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, আবার কখনও কখনও সব ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হতে দেখা যায়।’ ২০১৮ সালে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ-তে মোট ৯০০ রোগী ভর্তি হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৪০০ জন মারা যায়। এদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছিল। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রোগীরা আসেন, তারা আগেই বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখানে আসেন। ফলে সেখান থেকেই তারা এ ধরণের ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বা এখানেও আক্রান্ত হতে পারেন। অধ্যাপক রহমান বলেন, এ সব রোগীর বেশিরভাগই অন্যান্য হাসপাতাল থেকে এসেছিলেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওইসব আইসিইউ-তে যথেষ্ট তদারকি নেই। অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেসিস্ট্যান্স (এএমআর) বলতে কী বোঝায়? অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, যে সব ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মানুষের শরীরকে আক্রমণ করে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের সংস্পর্শে থাকার কারণে ওই সব ওষুধ থেকে বেঁচে যাওয়ার কিছু ক্ষমতা অর্জন করে। এটাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স। কেন এটা এতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? এ ধরণের ওষুধ প্রতিরোধী সক্ষমতা অর্জন করে যে সব ব্যাকটেরিয়া, তারা সেই ক্ষমতা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে খুবই দ্রুত গতিতে অনেক ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এই সামর্থ্য তৈরি হয়। ফলে আর কোনও অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই এই জীবাণুগুলোকে দমন করা যায় না, অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ফলে রোগীকে সুস্থ করে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। সুপারবাগ বা অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেসিস্ট্যান্স শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, সারা বিশ্বেই এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এবং কম নজরদারি থাকায় বাংলাদেশে এই সমস্যাটি দ্রুত গতিতে বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রতিবেশে এই রেসিস্ট্যান্স কিভাবে তৈরি হয়? আমরা যে সব প্রাণীর মাংস বা শাকসবজি খাই- সেই সব প্রাণীর শরীরে বা সবজির উৎপাদনে যদি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেগুলো রেসিস্ট্যান্স তৈরি করে, যার প্রভাব মানুষের ওপর পড়ে। অধ্যাপক রহমান জানান, ‘মানুষের প্রোটিনের জন্য মাছ, মুরগি, গরু দরকার এবং সেগুলোকে সস্তায় বাঁচানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দরকার। অর্থাৎ মানুষকে তার প্রোটিনের জন্যে ভবিষ্যতকে ঝুঁকিগ্রস্ত করা হচ্ছে।’ এছাড়া হাসপাতাল থেকে শুরু করে রেসিস্ট্যান্ট ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র থেকেও তা ছড়াতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু আইসিইউতে কেন এ রকম ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ? অধ্যাপক সায়েদুর রহমান এর জন্যে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। ‘অসুস্থ হওয়ায় রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, ফলে অন্যান্য সময় তিনি যে সব ব্যাকটেরিয়াকে নিজে সামলাতে পারতেন, তখন সেটা আর তিনি পারেন না।’ ‘দ্বিতীয়ত, আমাদের হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) আসা রোগীরা সাধারণত অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার পর এখানে আসেন। কিন্তু সে সব হাসপাতালে তুলনামূলকভাবে সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকানোর ক্ষেত্রে তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল। ফলে তারা এমন কিছু ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হন, যেগুলো এর মধ্যেই ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে গেছে।’ ‘তৃতীয়ত, আইসিইউতে সংক্রমণ। এ ক্ষেত্রে যে সব সুপারিশ করা হয়ে থাকে, আমাদের দেশে আইসিইউতে সেগুলো সেভাবে মানা হয় না। ফলে রোগীরা আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর খারাপ ধরণের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। যে কারণে এই হারটি ধীরে ধীরে বাড়ছে।’ দেশের একমাত্র চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলছেন, আট বছর আগে এই হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল, তবে এখন এই হার অন্তত তিনগুণ বেড়েছে। এ ধরণের সংক্রমণের পেছনে কারণ কী? অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা এখনও চলছে। সেগুলোর ফলাফল প্রকাশিত হলে হয়তো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে যে সব কারণ এখন ধারণা করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, সংক্রমণ ঠেকাতে যে সব ব্যবস্থা হাসপাতালে থাকা উচিত, এখানে সেগুলো খুবই দুর্বল।’ ‘বাংলাদেশে ঢালাওভাবে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওভার দা কাউন্টার অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছে।’ ২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি তিনজন রোগীর একজন চিকিৎসকের কোনও পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকেন। ‘কোটি কোটি মুরগীতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো নানাভাবে মানুষের শরীরে চলে আসছে।’ আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানীরা বলেছেন, অনেক শিশুর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট দেখা গেছে, যদিও ওই শিশু হয়তো তেমন কোনও ওষুধ খায়নি। জিনের মাধ্যমে তাদের শরীরে এটি তৈরি হয়েছে। ‘এর মানে শিশু এন্টিবায়োটিক না খেলেও প্রকৃতি-পরিবেশে থাকা এ সব ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট জীবাণু তাদের শরীরে প্রবেশ করছে এবং ওষুধ কাজ করছে না,’ বলেছেন আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম। তাহলে বাজারে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের কী অবস্থা? অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলছেন, ‘সাধারণভাবে আমাদের গবেষণাটি হচ্ছে হাসপাতাল-কেন্দ্রিক, যেখানে তুলনামূলক জটিল রোগীরা আসেন। সে সব পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের অর্ধেক ক্ষেত্রে, আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগে যে সব অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে তাদের চিকিৎসা করা যেতো, তার অন্তত অর্ধেক ওষুধ কার্যকারিতা হারিয়েছে।’ ‘সুতরা আমরা বুঝতে পারছি, এইভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াগুলো বিপদজনকভাবে প্রতিরোধী হয়ে উঠবে এবং মানুষের চিকিৎসা করাটা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।’ কীভাবে সমস্যাটির মোকাবেলা করা যেতে পারে? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, প্রথমত, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করা দরকার। সেটা করার সহজ পদ্ধতি হলো, এ রকম ওষুধের প্যাকেটগুলো লাল রঙ করে ফেলা, যাতে সবাই বুঝতে পারে যে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। ‘পশুসম্পদে, বিশেষ করে মুরগিতে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করা। কারণ এ সব অ্যান্টিবায়োটিক পরিবেশে মিশে প্রতিরোধী হয়ে উঠলে তা মানুষের জীবনের জন্য অনেক ঝুঁকি তৈরি করবে।’ ‘প্রতিটা হাসপাতালে সরকারের নজরদারি বা টিম করে দিতে হবে, যাতে সেখানে সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো অবশ্যই নিশ্চিত করা হয়।’ অধ্যাপক রহমান বলেন, একসঙ্গে এ সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘তা না হলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যাবে। কারণ এখানে ছোট্ট জায়গা, মানুষ বেশি, ফলে দ্রুত সংক্রমণ বা জীবাণু ছড়াতে পারে’- সতর্ক বার্তা জানালেন এই চিকিৎসক। সূত্র: বিবিসি একে//

একবিংশ শতাব্দীর যমদূত সুপারবাগ!

অতিসম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউতে মারা যাওয়া রোগীদের ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হলো সুপারবাগ। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউর চিকিৎসক ড. সায়েদুর রহমানের মতে, ২০১৮ সালে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে ভর্তি হওয়া আনুমানিক ৯০০ রোগীর মধ্যে ৪০০ জনই মারা গেছে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে। দ্য টেলিগ্রাফের এই প্রতিবেদনটি গত সোমবার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের এক গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি রোগীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছে। গত ৫ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ‘অকেজো ওষুধ অজেয় জীবাণু’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং করণীয় নিয়ে আমি অতীতে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছি। তবে লেখাই সার হয়েছে, কাজের কাজ তেমন কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না। মনে হয় আমরা জেনে-বুঝেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছি। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু আমার, আপনার ও কারোই বিষয়টি উপলব্ধিতে আসছে না। কয়েক দিন আগে এক নামকরা হাসপাতালের জীবাণু কালচারের একটি রিপোর্ট আমার হাতে এসেছিল। এক বছরের এক শিশুর ঘায়ের পুঁজ কালচার করে ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায়। জীবাণু কালচার করে দেখা গেছে, ই. কোলাইয়ের বিরুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত সব অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট। এসব অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে রয়েছে—অ্যামোক্সিসিলিন, সেপ্টাজিডিম, জেন্টামাইসিন, কোট্রাইমোক্সাজল, অ্যামিকাসিন, ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড, সেফুরক্সিম, সেফোটেক্সামিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজেট্রোনাম, নেটিলমাইসিন ও সেফট্রিয়াক্সন। শুধু একটি মাত্র অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে; আর তা হলো মেরোপেনেম। আমি রিপোর্টটি দেখে হতভম্ব হয়ে গেছি। ১৩টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে শুধু একটি অ্যান্টিবায়োটিক ই. কোলাই জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর, আর বাকি ১২টিই রেজিস্ট্যান্ট। এই রিপোর্ট যদি সত্যি হয় তাহলে আমরা সমূহ বিপদে আছি, যে বিপদের ভয়াবহতা আমাদের কল্পনাশক্তির বাইরে। ১৯৪২ সালের ১৪ মার্চ স্টেফাইলোকক্কাস প্রজাতির জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত প্রথম রোগীর সফল চিকিৎসা হয় মার্ক কম্পানি কর্তৃক উৎপাদিত পেনিসিলিন দ্বারা। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং কর্তৃক আবিষ্কৃত পেনিসিলিন হলো প্রথম সফল ও কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক, যা দ্বারা বিশ্বের লাখো-কোটি মানুষের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পেনিসিলিন-পরবর্তী যুগে আমরা বিভিন্ন গ্রুপের অসংখ্য কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছি, যা হরেক রকম জীবাণু নাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তারপর শুরু হলো আসল বিপর্যয়। এর প্রধান কারণ হলো মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস (MRSA) নামক জীবাণুর প্রাদুর্ভাব, যার বিরুদ্ধে পেনিসিলিন গ্রুপের সবচেয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক মেথিসিলিনের অকার্যকারিতা। মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াসের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রামক রোগ ও অ্যান্টিবায়োটিক যুগের এক মহাবিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়ে গেল। ২০১৩ সালে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ১৮টি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর তালিকা প্রকাশ করে, যা মানবসভ্যতার জন্য এক মহাহুমকি ও অশনিসংকেতের কারণ হয়ে দাঁড়াল। নতুন নতুন সংক্রামক রোগের উৎপত্তি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সূত্রপাত ও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এত লেখালেখি ও সতর্কতা জারির পরও বিশ্বের মানুষ ব্যাপারটির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না এবং গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে না। এ ধরনের অজ্ঞতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অবহেলা, অসতর্কতা ও যুক্তিহীন আচরণ আমাদের জন্য আরো বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে। এই অদ্ভুত আচরণের সম্ভাব্য কারণ নিহিত রয়েছে মানুষের মনোস্তাত্ত্বিক আচরণে। মানুষ মনে করে, ব্যথা, বেদনা, ডায়রিয়া, আমাশয়, অ্যান্টাসিড, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ওষুধের মতো অ্যান্টিবায়োটিকও এক ধরনের ওষুধ। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিক কোন দিক থেকে আলাদা যে তাকে নিয়ে সংযত, সতর্ক ও যুক্তিসংগত আচরণ করতে হবে। কিন্তু এই তুলনার মধ্যে বিরাট একটি গলদ থেকে যাচ্ছে, যা কারো নজরে পড়ছে না। অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্য সব ওষুধ কাজ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সিস্টেমের ওপর। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে শরীর আক্রমণকারী বহিরাগত মারণঘাতী বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে। জীবাণু যদি শরীর আক্রমণ করে, তবে শরীরকে অবশ্যই সব জীবাণু ধ্বংস করতে হবে। নতুবা জীবাণু শরীরকে ধ্বংস করে মৃত্যু ডেকে আনবে। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা জীবাণু বিনাশে সক্ষম না হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা সংক্রামক রোগের চিকিৎসা চলে আসছিল। কিন্তু আমরা অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী ও বেপরোয়া হয়ে অযৌক্তিকভাবে ক্ষুদ্র জীবাণুর অলৌকিক ক্ষমতাকে খাটো করে দেখা শুরু করি। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে, সেই প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার ও প্রয়োগের পর থেকেই জীবাণু স্মার্ট হতে শুরু করে এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতাকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তারই ফলে আমরা পেলাম অ্যাটম বোমাসম অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু, যাকে সুপারবাগও বলা হয়। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বব্যাপী জ্ঞানী-গুণী, গবেষক ও বিজ্ঞানীরা অসীম ক্ষমতাধর, অপ্রতিরোধ্য ক্ষুদ্র অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু বা সুপারবাগের আতঙ্কে আতঙ্কিত, ছোট-বড় সংক্রামক রোগ চিকিৎসার ব্যর্থতার ভয়ে অসহায় ও আতঙ্কিত। অ্যান্টিবায়োটিকের সূত্রপাত থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যত অ্যান্টিবায়োটিক এসেছে তার বেশির ভাগকে অকার্যকর করে দিয়েছে এই সুপারবাগ। গনোরিয়াসহ কিছু সাধারণ সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় একসময় পেনিসিলিন অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ ছিল। পেনিসিলিন যখন অকার্যকর হয়ে গেল, তখন বাজারে এলো সাড়াজাগানো টেট্রাসাইক্লিন। টেট্রাসাইক্লিন অকার্যকর হতেও বেশি সময় লাগল না। তারপর এলো ক্লোরোকুইনোলন গ্রুপের সিপ্রোফ্লক্সাসিন, নালিডিক্সিক অ্যাসিড, ল্যাভোফ্লক্সাসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক। দোর্দণ্ড প্রতাপে জীবাণুকে পরাস্ত করল বেশ কয়েক বছর ধরে এই ডাকসাইটে অ্যান্টিবায়োটিক। জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারিয়ে একসময় এই ক্ষমতাধর ওষুধেরও অপমৃত্যু ঘটল। একসময় ভীষণ শক্তিশালী ভূমিকা পালন করলেও এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেফালোস্পোরিন গ্রুপের বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক। এখন কিছু কিছু জীবাণুকে পরাস্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে সেফট্রিয়াক্সন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন কম্বিনেশন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে। তাও কত দিন কার্যকর থাকবে বলা মুশকিল। এখন রিকশাওয়ালা-হকারের মতো অতিসাধারণ মানুষও জিম্যাক্সের (অ্যাজিথ্রোমাইসিন) নাম জানে, ব্যবহার করে, অন্যকে ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। আমি তাজ্জব হয়ে যাই। কার্বাপেনেমকে এত দিন একমাত্র নন-রেজিস্ট্যান্ট শতভাগ কার্যকর শেষ অবলম্বন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে গণ্য করা হতো। এখন জীবন বিপন্নকারী অন্ত্রের জীবাণু ক্লেবসিলা নিউমোনি কার্বাপেনেমের কার্যকারিতাকে ব্যর্থ করে দিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তার পর? তারপর আপাতত আমাদের থলেতে আর অবশিষ্ট বিশেষ কিছু রইল না। এটা তো হওয়ারই ছিল। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং জীবাণুর বিরুদ্ধে পেনিসিলিনের নাটকীয় কার্যকারিতার পাশাপাশি মানবসভ্যতাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যখন একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাবে, এক অসম যুদ্ধে মানুষ পরাজিত হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে। গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক অর্থনীতিবিদ জিম ও নিল ও তাঁর সহকর্মী কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়, প্যারাসাইট ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু সংক্রমণে প্রতিবছর আট লাখ মানুষ মারা যায়। এই প্রবণতা বজায় থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর এক কোটি মানুষ মারা যাবে এবং বিশ্বের মোট জিডিপির ৩ থেকে ৪ শতাংশ অর্থ এই সমস্যা মোকাবেলায় ব্যয় করতে হবে। এখনই যুক্তরাষ্ট্রকে এক বা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় প্রতিবছর ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিষ্কার নয় বলে এই সমস্যাকে আমরা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারছি না। অ্যান্টিবায়োটিক মূলত জীবাণুর কোষপ্রাচীর সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং জীবাণুর বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়। ফলে জীবাণু মারা যায়। অন্যদিকে স্মার্ট জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ধ্বংস করার জন্য বেশ কিছু বিধ্বংসী পন্থা অবলম্বন করে। প্রথমত, জীবাণুর বিশেষ কোনো এনজাইম অ্যান্টিবায়োটিকের গাঠনিক সংকেতে এমন কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, যার কারণে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় জীবাণু এমন সব এনজাইম তৈরি করে যা অ্যান্টিবায়োটিকের গাঠনিক সংকেতকে ভেঙে দিতে সক্ষম। গাঠনিক সংকেত ভেঙে গেলে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ে। তৃতীয়ত, কোনো কোনো জীবাণু আছে, যেগুলো জন্মগতভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল নয়। যেমন—গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণুগুলোর কোষপ্রাচীর এমন জটিলভাবে তৈরি, যার বিরুদ্ধে অনেক অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। চতুর্থত, জেনেটিক মিউটেশনের (জিনের রাসায়নিক পরিবর্তন) মাধ্যমে অনেক জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। কোটি কোটি জীবাণুর মধ্যে যেকোনো একটি জীবাণু যদি মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যায়, সেই জীবাণু পরবর্তী সময়ে বংশ বৃদ্ধি ও বিস্তারের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এসব জীবাণু পরিবর্তিত জিনকে অন্য জীবাণুতে স্থানান্তর করার মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর ব্যাপক বিস্তার ঘটায়। এসব জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোনো রোগী তখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা সংক্রমণমুক্ত হয়ে আরোগ্য লাভ করে না। ফলে রোগী অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অযৌক্তিক ব্যবহারের জন্য অনুন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে মূলত বেশি দায়ী করা হয়। কারণ এসব দেশে মানুষ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টেবায়োটিক কিনতে ও ব্যবহার করতে পারে। তাই অপব্যবহার হয় বেশি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোও অ্যান্টিবায়োটিক অপব্যবহার ও অযৌক্তিক ব্যবহারে কম যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর শ্বাসনালির সংক্রমণে চার কোটি মানুষকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। ২০১৩ সালে জার্নাল অব দ্য অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল কেমোথেরাপিতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, চার কোটির মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষকে অপ্রয়োজনেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহীতার বেশির ভাগই হয় মূলত ভাইরাস সংক্রমণের শিকার। এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। এভাবে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম কারণ। সাধারণত হাসপাতালগুলোতে সংক্রামক রোগের উৎপত্তি ও বিস্তারলাভ ঘটে বেশি। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিহত করতে হলে হাসপাতালে সংক্রামক রোগের উৎপত্তি ও বিস্তার বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষের মধ্যে আরো একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অসংখ্য মানুষ মনে করে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়, জীবাণু নয়। জীবাণু রেজিস্ট্যান্ট হওয়ার ভয় থাকলে মানুষ ওষুধের পূর্ণ কোর্স সমাপ্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিত। জীবাণুর পূর্ণ কোর্স সমাপ্ত না করলে জীবাণুর বেঁচে যাওয়া অবশিষ্টাংশ আবার দ্রুত বংশবিস্তারের মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার ব্যাপারটি যদি আমরা বুঝতে পারতাম, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্ক না হয়ে পারতাম না। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনে ওষুধ কমপানিগুলোর অনীহার কারণ নিয়ে একটু আলোচনা করা যেতে পারে। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পুঁজি বিনিয়োগ করে একটি অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করে বেশি মুনাফা করা যায় না। কম্পানিগুলোর মতে, মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে অল্প কয়েক দিনের জন্য। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ক্ষেত্রে যেমন রোগীকে আজীবন ওষুধ গ্রহণ করতে হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে তেমন ঘটে না। দ্বিতীয়ত, একটি অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হওয়ার পর যদি অল্প কয়েক বছরে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়, তাহলে ওষুধ কম্পানির পুঁজিও উঠে আসে না, মুনাফা তো পরের কথা। এ ছাড়া উদ্ভাবনের পর কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অ্যাপ্রোভাল পেতে কম্পানিগুলোকে অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ্রোভাল পাওয়াও যায় না। এসব কারণে ওষুধ কম্পানিগুলো অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনে পুঁজি বিনিয়োগে আজকাল আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোগী, জয়ী হচ্ছে রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া। এ হলো সত্যিকার অর্থে অশনিসংকেত। তবে ওষুধ কম্পানির মালিকরা কি জানে, কোনো না কোনো সময় তারাও রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার শিকার হতে পারে। তাই নতুন নতুন কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও ওষুধ কম্পানিগুলোকে সময় থাকতে এগিয়ে আসতেই হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা অনেক সময়ই কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করি না। আর যখন করি, তখন আর ফিরে আসা বা ফিরে যাওয়ার সময় থাকে না। আর সেই কারণে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করার জন্য বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি সরকার, প্রতিটি চিকিৎসক, রোগী, মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে বারবার। কারণ এই মহাবিপর্যয় সৃষ্টিকারী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকানো না গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানবসভ্যতাকে চরম মূল্য দিতে হবে। লেখক : প্রফেসর, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্য্যলয়। drmuniruddin@gmail.com এসএ/

সাধারণত পেটে ব্যথার কারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

পেটে ব্যথা স্বাভাবিক সমস্যা। অনেকেই এতে আক্রান্ত হয়। পেটে ব্যথা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ব্যথার ধরন অনুযায়ী এবং পেটের কোন জায়গায় ব্যথা রয়েছে, সে সবের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত পেটে ব্যথার কারণ অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এছাড়া কারও পিত্তথলি, কিডনিতে পাথর হলে অথবা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা হলেও পেট ব্যথা হতে পারে। মূত্রনালি অথবা মূত্রাশয়ে সংক্রমণ হলেও পেটে ব্যথা হতে পারে। পেটের ওপরের দিকে ব্যথা হলে বুঝতে হবে এসিডিটি সমস্যার কারণে হয়েছে। পিত্তথলির ব্যথা হয় পেটের ওপরের ডান পাশের পাঁজরের নিচে। অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা হয় পেটের ডান দিকে এবং মূত্রাশয়ের ব্যথা হয় পেটের নিচের দিকে। এসিডিটির সমস্যা হলে তা খুব সাধারণ। এ সমস্যায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করলে ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া ব্যথার সঙ্গে বমি, পেটের ব্যথা তীব্র হলে এবং তা শরীরের কোন জায়গায় হচ্ছে-এ সব শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন অথবা পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে অগ্রসর হোন, ভালো থাকুন। লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশে প্রথমবারের মতো রক্তপাতহীন লেজার সার্জারি সম্পন্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পায়ুপথে (কলোরেক্টাল) কোনো রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই রক্তপাতবিহীনভাবে সফল লেজার সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু তাহেরের নেতৃত্বে আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সফলভাবে এ অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার (২০ এপ্রিল) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসএমএমইউর জনসংযোগ অফিসার প্রশান্ত কুমার মজুমদার। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শনিবার তিন রোগীর লেজার সার্জারি সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে পাইলস, ফিস্টুলা ও ফিশার রোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে এ অস্ত্রোপচার করেন কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু তাহের। এসময় কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহাদত হোসেন ও অধ্যাপক ডা. মো. সাহাদত হোসেন শেখ উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এ অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে ডা. আহসান, ডা. অরুন, ডা. ইশতিয়াক, ডা. শ্যামল, ডা. রাকেশ, ডা. মো. ওয়াজিবুল্লাহ, ডা. আলী রেজা, ডা. সাবরিন প্রমুখ সার্জনরা অংশগ্রহণ করেন। লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনোরকম কাটা ছাড়াই রক্তপাতবিহীন পায়ুপথের রোগসমূহে আক্রান্ত রোগীদের সফলভাবে সার্জারি সম্পন্ন করায় কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। প্রসঙ্গত, এসব রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পায়ুপথের সমস্যায় ভুগছিলেন। যথাসময়ে এই ধরনের রোগীদের অস্ত্রোপচার করা না হলে পায়ুপথে রক্ত যাওয়া, ব্যাথা অনুভূত হওয়া, পুঁজ পড়া, চুলকানি ও পায়ুপথের চারদিকে ভিজে থাকা ইত্যাদি সমস্যায় রোগীরা কষ্ট পেয়ে থাকেন এবং আরো নানা ধরণের অসুবিধা ভোগ করেন।   এসএইচ/

ঢাকা ও আশপাশে ডায়রিয়ার প্রকোপ (ভিডিও)

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ। আইসিডিডিআরবিতে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে সাড়ে ৮শ মানুষ। রোগীর চাপ সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রীষ্মের কারণেই এই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। দীর্ঘ এই লাইন রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। এসব রোগীর অধিকাংশই ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার। গত কয়েক দিনের তাপদাহে ঘন্টার গড়ে অর্ধ শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত এসব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত গরমের কারণেই এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বয়স্কদের পাশাপাশি রয়েছে শিশুরাও। তবে আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তীব্র গরমে ঘরে তৈরি খাবার, বিশুদ্ধ পানি পানসহ রসালো ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ তাদের।

কাশি সারাতে ঘরোয়া ৫ টোটকা

শুকনো বা কফওয়ালা কোনও না কোনও কাশির সমস্যায় ভুগছেন বহুদিন যাবৎ। অথচ কথায় কথায় ডাক্তারের কাছে যেতেও ভালো লাগে না। বরং আপনি হয়তো এমন উপায় খুঁজছেন যাতে বাড়ি বসেই সেরে যায় কাশির দমক। উপায় অবশ্যই আছে এবং তা আপনার হাতের নাগালের মধ্যেই। বাইরে গিয়ে আর মেটাতে হবে না কাশির সমস্যা, প্রয়োজন পড়বে না ডাক্তারের ওষুধের। শুধু নিচের থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দমত যে কোনও সমাধান আর মেনে চলুন নিয়মিত। এক নয় বেছে নিতে পারেন একাধিক উপায়ও, এতে আখেরে লাভ আপনারই। শিউলিপাতার রস খান অনেকের বাড়িতেই থাকে শিউলি ফুলের গাছ। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে গাছের থেকে ২-৩টি পাতা তুলে নিন। ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন যাতে পোকামাকড়ের নোংরা না লেগে থাকে। এরপর পুরে নিন মুখে। ভালো করে চিবিয়ে যতটুকু রস আছে খেয়ে নিন, ফেলে দিন ছিবড়েটুকু। আপনার কাশিতে যদি কফ বের হয় তবে এর থেকে ভালো ওষুধ বাজারে পাবেন বলে মনে হয় না। এর রস যদিও অত্যন্ত তেতো প্রকৃতির, কিন্তু এটি নিয়মিত খেলে কাশির দমক তো কমবেই, গায়েব হবে কফের চিহ্নও। তুলসী পাতা খান কাশির সমস্যা মেটাতে অন্যতম ভালো ভেষজ হল তুলসিপাতা। তুলসীর পাতা শরীরের থেকে কাশি ও কফ দূর করতে অসম্ভব উপকারী। সকালে ঘুম থেকে উঠে গাছের থেকে আট দশটা ছোট তুলসী পাতা তুলে ভালো করে ধুয়ে পানি দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। এর ছিবড়ে হয় না, ফলে পুরোটাই আপনার পেটে যাবে। তুলসিপাতায় অ্যান্টিটিউসিভ ও এক্সপেকটোরেন্ট নামক দুটি উপাদান থাকে যা বুকে জমে থাকা কফকে তরল করে বেরোতে সাহায্য করে। মধু খান কাশির সমস্যা মেটাতে আরেক ধনন্তরি হল মধু। শিউলি আর তুলসীর মতই মধুর উপকারিতার শেষ নেই। আপনার কাশি যদি খুসখুসে প্রকৃতির হয়, তবে প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খান। প্রথমে আদা থেতো করে একচামচ মত রস বের করে নিন। এরপর এক চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি মেনে চললে দেখবেন কয়েকদিনের ভিতরেই আপনার কাশি একেবারেই কমে গেছে। বুকে যদি কফ জমে থাকে তবেও কিন্তু মধু সমান কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে মধু খাওয়ার পদ্ধতি অন্যরকম। মধু খেতে হবে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে, অথবা সকালের চায়ের সঙ্গেও খেতে পারেন। গরম পানি বা চায়ের সঙ্গে মধু খেলে আপনার বুকে জমা কফগুলোকে মধু গলিয়ে দেয়, ও শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আনারস বেছে নিন হঠাৎ আনারস কেন? আসলে আনারসে এমন একটি উপাদান থাকে যা আপনার গলায় জমে থাকা মিউকাসকে পরিস্কার করে। এই মিউকাসের জন্যই সাধারণত কাশি হয়। আনারসের এই উপাদানের নাম ব্রোমেলাইন। এটি শুধু আনারসেই মেলে। অনেকেই খাবার পরে নিয়মিত ফল খান‌। এবার থেকে তবে খাবার পরে ফল হিসেবে আনারস বাছুন, খেতেও ভালো লাগবে, কাশির সমস্যাও মিটবে। গার্গল করুন শেষের উপায়টি সবথেকে সহজ ও করতেও বেশ সুবিধা। অল্প গরম পানিতে হাফ চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করুন। এতে গলার খুসখুসানি কমে যাবে, কাশি ছাড়াই গলায় জমা কফও সহজে বেরিয়ে আসবে। নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল, দেখা দেয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সে কারণেই ওষুধের বদলে আজকাল অনেকেই এ সব প্রাকৃতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন। আপনিও তাই বেছে নিতে পারেন এই সমাধানগুলো। এতে আপনার ভালো হবেই। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ বা ডিমেনশিয়া

দেশে বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু মনে রাখতে পারে না। ২০১৫ সালে দেশে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ। ২০৩০ সালে ওই সংখ্যা বেড়ে নয় লাখ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আলঝেইমার সোসাইটি। ডিমেনশিয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে আলঝেইমার্স। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য দিয়েছে। ওই সংস্থা জানিয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ওই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ হওয়ার আশঙ্কা আছে। রোগটির কারণে একটু আগে করা কাজও ভুলে যায় রোগী। সোসাইটির একজন সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা বলেন, ‘দিন দিন রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সে হিসেবে প্রতিকারের ব্যবস্থা খুব কম।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করা দরকার। তাহলে আক্রান্ত হলেও মানুষ বৃদ্ধ বয়সে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হবে না।’ সেলিনা জাহান জানান, দেশের ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার ৪০-৫০ বছর বয়সের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশে যারা দরিদ্রসীমার নিচে আছে তাদের ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চবিত্ত অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু মূলত রোগটির ক্ষেত্রে বেশি দরকার সচেতনতা।’ সেলিনা জাহান বলেন, ‘ডিমেনশিয়া নিয়ে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। রোগটির তেমন চিকিৎসা নেই।’ তবে রোগটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সেলিনা জাহান বলেন, ‘সচেতন হলে রোগটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। বৃদ্ধ বয়সের করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারব।’ টিআর/

অতিরিক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে যে ক্ষতি হয়

দাঁত মাজার সময় টুথব্রাশে একটু বেশি পেস্ট লাগিয়ে নিতে আমরা অনেকেই পছন্দ করি। বেশি পেস্ট মানে মুখের ভেতর বেশি ফেনা এবং দাঁত ঝকঝকে পরিষ্কার! এই ধারণা আমাদের অনেকেরই আছ। বিশেষ করে বাচ্চার দাঁত মাজানোর সময় একটু বেশি পেস্ট দেওয়ার প্রবণতা অনেকেরই থাকে। কিন্তু একে বিপজ্জ্বনক আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত পেস্ট দাঁতের ক্ষয় ডেকে আনতে পারে বলে সাবধান করছেন তারা। দাঁত মাজার সময় টুথব্রাশের ব্রিসলের আগা থেকে শেষ পর্যন্ত টুথপেস্টে ঢেকে দিই আমরা। কিন্তু কখনও মনে হয়েছে যে ঠিক কতটা পেস্ট নেওয়া স্বাস্থ্যকর? বিশেষ করে বাচ্চারা অতিরিক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে তাদের দাঁতে খুব তাড়াতাড়ি ক্যাভিটি ধরে যেতে পারে। পেস্টের চটচটে উপাদানের কারণেই এটি হয়ে থাকে। তাই ছোট্ট একটা মটরশুটির দানার আকারের পেস্ট নিন, তার বেশি কখনোই নয়। দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে টুথপেস্টে থাকা ফ্ল‌ুরাইডের অনেক উপকারিতা থাকলেও এটি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। তাই তিন বছরের ছোট বাচ্চাকে একটা চালের দানার সমান পেস্ট দিতে বলছেন তারা। না হলে দাঁতে ক্যাভিটি ধরে গিয়ে দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। সূত্র: এই সময় একে//

নোয়াখালীতে আশংকাজনক হারে বেড়েছে শিশুরোগ (ভিডিও)

নোয়াখালীতে আশংকাজনক হারে বেড়েছে শিশুরোগ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, অক্সিজেন ও বেড ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব, সংকিত না হয়ে যতœ নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শুধু শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে দেড় শতাধিক শিশু। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর, ডাইরিয়াসহ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত এসব শিশু। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হলেও অনেকের মিলছে না বেড, থাকতে হচ্ছে বারান্দার ফ্লোরে। আবার পাচ্ছে না পর্যাপ্ত ওষুধ, অক্সিজেন ও সঠিক চিকিৎসা। এদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, ওষুধ ও বেড না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব, তাই সংকিত না হয়ে যতœ নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সংকটময় মুহুর্তে কর্তৃপক্ষকে আরো গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার আহ্বান ভুক্তভোগীদের।     

গরমে সুস্থ্য থাকতে কি করবেন, কি করবেন না

রোদের তীব্রতা বেশি থাকে বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত । জরুরি কাজ না থাকলে এ সময় বাইরে বের হবেন না। শরীরে যেন সরাসরি রোদ না লাগে তার জন্য ছাতা, চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি কিংবা ক্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। আর যারা মাঠে কাজ করেন তারা মাথায় মাথাল জাতীয় টুপি ব্যবহার করতে পারেন। গরমের সময় ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিষ্কার পানি বের হয়ে যায় বলে এই সময়টাতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। অল্প পরিমান লবণ মিশিয়ে পানি পান করতে পারলে আরো ভালো। ফলের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে জুসটা যেন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সাদা রঙের কাপড়, সুতির কাপড়, নরম কাপড় শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। জিন্সের কাপড়, মোটা কাপড়, কালো ও গাড় রঙের কাপড় এড়িয়ে চলুন। পায়ে বাতাস চলাচলের জন্য খোলামেলা জুতা, চামড়ার জুতা পরুন। সিনথেটিকের জুতা ও মোজা এড়িয়ে চলা ভাল। যে সব খাবার হজম করতে সময় বেলি লাগে, শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন, খাবারের মেন্যু থেকে বাদ দিন তেলযুক্ত খাবার, মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্টফুড। গরমে ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খান। রান্না করে রাখা খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিতে হবে খাবারটি নষ্ট হয়েছে কি না, পুরনো খাবর এড়িয়ে চলা ভাল। ঘড় ঠান্ডা রাখতে ফ্যানের নীচে পানি ভর্তি পাত্র রাখুন, যা ঘড়কে অনেকটা ঠান্ডা রাখবে। শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রত্যেকাদিন গোসল করুন, একাধিকবার শরীর ধুয়ে নিতে না পারলে অন্তত হাত, পা, মুখ ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সঙ্গে ভিজা রুমাল রাখুন , কিছুক্ষণ পর পর মুখ মুছুন। প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন, যার লক্ষন -মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বাগেরহাটে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বাগেরহাটে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে শহরের সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বাগেরহাট মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, স্বাস্থ্য বিভাগ, নাসিং ইনস্টিটিউটসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের এসিলাহা মিলনায়তনে সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য দেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন পুলক দেবনাথ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুরু পদ ঘোষ, মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ কুমার বকশি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা দিতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। সেবা নিতে এসে রোগী ও রোগীর স্বজনরা যেনো বিড়ম্বনার স্বীকার না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি