ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:০৪:২৪, রবিবার

ইফতারে চাই পুষ্টিকর খাবার

ইফতারে চাই পুষ্টিকর খাবার

সারাদিন রোযা রাখার পর খেজুর এবং তরল পানীয় গ্রহণের পরে এমন কিছু খাবার গ্রহণ করতে হবে যে খাবার গুলো প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে এবং শরীরকে এনার্জিটিক রাখবে। তাই ইফতারে চর্বিযুক্ত ও ভাজা পোড়া খাবার পরিহার যথোপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ থেকে রোজা পালন করা যায়।যেমন:▪️ দই, চিড়া, কলা রাখতে পারেন ইফতার মেনুতে এতে কিছুটা কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস পাওয়া যাবে সেই সাথে এনার্জি ও রয়েছে এবং পেটকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।▪️ ওটস,দুধ/দই, যে কোন ধরনের ধরনের ফল হতে পারে ইফতারির জন্য আদর্শ খাবার।▪️ সবজির পরিমান কিছুটা বাড়িয়ে একটি ডিম যোগ করে এবং কম তেল ব্যবহার করে পরিমিত নুডুলস রাখা যেতে পারে ইফতারির মেনুতে।▪️ মুরগীর মাংস অথবা ডিম, সবজি ও পাউরুটি ব্যবহার করে অথবা আটার রুটি ব্যবহার করে স্যান্ডউইচ বা রোলের মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার ও ইফতারের মেনুতে রাখা যেতে পারে।▪️ দুধের তৈরি যেকোন ধরনের মুখরোচক খাবার পরিমিত পরিমান এবং সেই সাথে একটি মৌসুমী ফল ও ইফতারিতে গ্রহণ করা যাবে।▪️ এছাড়াও চিকেন স্যুপ/ভেজিটেবল স্যুপ ,স্বাস্হ্য সম্মত উপায়ে রান্না করা ঘরে তৈরি হালিম তবে অবশ্যই তা পরিমানমত, ছোলা, সালাদ এবং ডিম দিয়ে তৈরি যেকোন খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে ইফতারির সময়।সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে ধরনের খাবার গ্রহণ করা হবে সে খাবার গুলো থেকে যেন খাদ্যের উপাদান গুলোর চাহিদা পূরণ হয়। এই ধরনের খাবার ইফতারিতে গ্রহণ করলে ক্যালরি চাহিদা পূরনের পাশাপাশি খাদ্য উপাদানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। লেখক : পুষ্টিবিদ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল। টিআর/
কিডনি রোগীরা রোজা রাখবেন যেভাবে (ভিডিও)

শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে কিডনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই অঙ্গ কোনোভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই খাবার দাবার এবং লাইফস্টাইল সম্পর্কে সচেতন হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি না? বা রাখলেও কিভাবে রাখতে হবে? এ নিয়ে একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিয়াম ও আপনার সাস্থ্য’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ-কিডনী রোগ বিভাগের চীফ কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান, বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ, বিআরবি হাসপাতাল। উপস্থাপনা করেন ডা. নন্দিনী সরকার। শ্রুতি লেখক একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ বলেন, বাংলাদেশে দুই কোটিরও বেশি কিডনি রোগী রয়েছে। এ সংখ্যাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিন বলেন, যারা কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে কিডনি রোগের সাথে যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা উচ্চরক্তচাপ থাকে তাদের জন্য রোজা রাখাটা একটু কঠিন হবে। যারা হঠাৎ করে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা চিকিৎসা নিলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যতদিন চিকিৎসা নিবেন ততদিন রোজা না রেখে বাকী সময়গুলোতে রোজা রাখতে পারবেন। কিডনি প্রতিস্থাপনকারীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, যাদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাদের জন্য প্রথম বছর রোজা না রাখাটাই ভালো। তবে এক বছরের পর থেকে তারা রোজা রাখতে পারবেন। যদি তাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা উচ্চরক্তচাপ না থাকে। একজন রোজাদারকে সুস্থ্য থাকার জন্য ইফতার থেকে সেহরীর আগ পর্যন্ত কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। তবে যারা রোদে কাজ করেন তাদের জন্য আরো বেশি পানি পান করতে হবে। তবে যাদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাথা চক্কর দেয় তাদের জন্য আগে রক্তচাপ মেপে নিতে হবে। যদি কম থাকে তাহলে সাথে সাথে রোজা ভেঙ্গে তাকে পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে লবণ যুক্ত পানি বা ডাবের পানি। কিডনি রোগের যারা শেষ পর্যায়ে আছে তাদের রোজা সম্পর্কে ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি রোগের যারা শেষ পর্বে তথা স্টেজ পাঁচে আছে এবং যাদের ডায়ালাইসিস চলছে তাদের জন্য রোজা রাখাটা খুবই কঠিন। তাই তাদের জন্য রোজা না রাখলেও চলবে। তবে কেউ যদি একান্ত রাখতে চান তাহলে ডায়ালাইসিস যেদিন করাবেন সেদিন রাখতে পারেন। টানা ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা  রোজা রাখল। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান করল না তাদের কিডনির ওপর বিরোপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যপ্ত পানি পান করলে এ সমস্যা হবে না। যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে রোজা ভাঙ্গার পর তাদেরকে অবশ্যই তিন লিটারের বেশি পানি পান করতে হবে। কিডনি জটিলতার কারণে যাদের হাত-পা ফুলে গেছে। এ সমস্যাটা যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে তাদেরকে এক লিটার পানি বা তারচেয়ে একটু বেশি পানি পান করতে হবে। তবে পানি অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে। ভিডিও এমএইচ/

আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস

আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সারাবিশ্বে প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছে। থাইরয়েড একটি হরমোনজনিত সমস্যা। ঘাড়ের কাছে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসরিত হরমোন শরীরের মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের প্রতিটি কোষকে প্রভাবিত করে। হরমোন শরীরের শক্তি, পুষ্টি ও অক্সিজেন উৎপাদন করতে সহায়তা করে। এর ব্যতিক্রম হলেই শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, থাইরয়েড সমস্যা হলে হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়, ঠাণ্ডায় স্পর্শকাতরতা বাড়ে, হাত অবশ অনুভূত হয়ে ঘাড়ের পরিবর্ধন শুরু হয়। তা ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, মেয়েদের মাসিকে প্রচুর রক্তপাত হওয়া এবং চুল ও ত্বকে শুস্কতা দেখা দেয়। থাইরয়েড সমস্যা হলে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, ঘার নড়াচড়া করালে অথবা কোনো কিছু গিলে খেতে গেলে অস্বস্তি অথবা ব্যথা অনুভূত হয়। সর্দি, হাম অথবা মাম্পসের মতো ভাইরাসজনিত রোগের সময় এ রোগটি দৃশ্যমান বেশি হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। এসএ/  

রমজানে পায়ুপথের রোগীদের করণীয় কী?

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে মুসলিম জাতি পালন করছে দীর্ঘ একমাসব্যাপী রোজা। একদিকে গরম অন্যদিকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে গিয়ে শারীরিকভাবে আমাদের অনেক সমস্যার ‍মুখোমুখী হতে হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলা পায়ুপথের সমস্যা।  একুশে টিভির দর্শকদের জন্য এবারের আলোচনার বিষয় ‘রমজান ও পায়ুপথের রোগ’। এ বিষয়ে কথা বলেছেন কেয়ার হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. এস এম এ এরফান। একুশে টিভিঃ রমজানে পায়ুপথের কোন কোন রোগগুলো বেশি হতে পারে? ডা. এস এম এ এরফানঃ পায়ুপথের রোগকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমত, যাদের পায়ুপথের রোগ আছে তাদের কি অবস্থা হতে পারে আর দ্বিতীয়ত, পায়ুপথের কোন রোগগুলো বেশি হতে পারে।যারা রমজানের আগে থেকে পায়ুপথের সমস্যায় ভোগেন তাদের পাইলস, ইনার্ফিসার, ফিস্টুলা, কোস্টকাঠিন্যতার সমস্যায় পড়তে হয়। আর মাসের শেষের দিকে ডায়েরিয়া ও আমাশয় সমস্যা হয়ে থাকে। রমজানে এসব রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। আঁশ জাতীয় খাবার কম খাওয়া ও বেশি পরিমাণ ক্যালরি জাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে এ সমস্যা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। একুশে টিভি: রমজানে যারা ইনার্ফিসিয়া সমস্যা আছে, তাদের করণীয় কি হতে পারে? ডা. এস এম এ এরফানঃ রমজানে এ ধরণের রোগের কোস্টকাঠিন্য বেড়ে যায়, তাই এর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ফলে, পায়খানা অনেক শক্ত হয়ে থাকে। এতে করে অনেকের পায়ুপথ ছিড়ে যায় এবং ব্যাথার শুরু হয়। তীব্র ব্যাথার সাথে পায়খানের সাথে রক্তও বের হয়ে থাকে। ফলে, এই সমস্ত রোগীদের জন্য রোজা রাখা খুবই কষ্টোকর হয়ে থাকে। তাই এসমস্ত রোগীদের করণীয় হলো, কোলোরেক্টর সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, কিংবা ভিন্ন কোন ঔষুধ গ্রহণ করা। এছাড়া, পায়খানা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা। এমনকি যদি অপারেশন করার প্রয়োজন হয়, সেটিও দ্রুত সময়ে তা করিয়ে নেয়া। এতে তার জন্য রোজা রাখা সম্ভব হতে পারে। একুশে টিভিঃ দীর্ঘ সময় পানাহারের কারণে পানি কম খাওয়া হচ্ছে কিন্তু ভাজা, পোড়া খাওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। এতে করে নতুন কারো পায়ুপথের সমস্যা হতে পারে কিনা? ডা. এস এম এ এরফানঃ পায়ুপথের বিভিন্ন ধরণের রোগ রমজান মাসেই বেশি হয়ে থাকে। সারাদিন উপবাস থাকায় পানিসহ শাক, সবজি আমরা কম খেয়ে থাকি, ফলে খাবারের এ পরিবর্তনে কোস্টকাঠন্য বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যাদের পায়ুপথ সরু, তাদের ক্ষেত্রে এ আশঙ্কা আরও বেশি। কেননা, পায়খানার সময় সেটি অনেক সময় ছিড়ে যায়, যাকে অ্যানাল ফিসার নামে আমরা জানি। এক্ষেত্রে করণীয় হলো, ইফতারিতে কার্বোহাইড্রেট রিচ ও সাহরিতে ক্যালরির পাশাপাশি আশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। এছাড়া, ইসুবগুলের ভূসি, লেবুর শরবত বেশি করে খেতে হবে। এরপরও, যদি বৃদ্ধি পায় তবে, দ্রুত তাকে কোলেক্টর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে যে ঔষধগুলো দেয়া হয়ে থাকে, তা ব্যবহার করেও রোজা থাকা যায়। একুশে টিভি: পায়ুপথের রোগীদের কোন পর্যায়ে গিয়ে হাসপাতালে যেতে হতে পারে? ডা. এস এম এ এরফানঃ চিকিৎসার উন্নতির ফলে বর্তমানে এসমস্ত রোগীদের তেমন হাসপাতালে যেতে হয়না। তারপরও, যাদের পায়ুপথ অনেক ন্যারো, তাদেরকে অ্যালায়েস নামক একটি অপারেশ করা হয়ে থাকে। যা পায়ুপথের বাহিরে করা হয়ে থাকে। ২৪ ঘন্টা অবজারভেশন শেষে এ সমস্ত রোগীরা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। অপারেশনের দু’তিন পরই তিনি রোজা রাখতে পারেন। পরবর্তী পুনরায় যাতে একই অপারেশন করতে না হয়, সেক্ষেত্রে ভাল একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরাপন্ন হতে হবে। একুশে টিভিঃ পায়ুপথে রোগীদের শঙ্কিত হওয়ার সম্ভাবনা কতুটুকু? ডা. এস এম এ এরফানঃ আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে গেছে। সব ধরণের চিকিৎসা আমাদের আছে,  তাই শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে পায়ুপথের সবধরণের রোগকে পাইলস হিসেবে ধরা হয়। এর সাথে আরো অন্যান্য রোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারও আছে। যেমন অ্যানাল ক্যানাল ক্যানসার,রেকটার ক্যানসার, কোলন ক্যানসার প্রভূতি। পায়ুপথের রোগের সাথে ক্যানসারের যথেষ্ট সম্পর্ক আছে। তাই, সবপ্রথম ক্যানসার আছে কিনা নির্ণয়ে কোলনস্কপি নামে একটি পরীক্ষার করতে হবে।এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত কিনা। ক্যানসার ধরা না পড়লে, অন্যাসব রোগ খুব সহজেই সমাধান সম্ভব। আই/কেআই   

মধু-দারুচিনির কার্যকরী ৬ স্বাস্থ্যগুণ

বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? প্রচুর চুল ঝরে যাচ্ছে বা ওজন কিছুতেই কমছে না? হাতের কাছে দারুচিনি থাকলে চিন্তা কীসের! শুধু বাতের ব্যথা বা ওজন ঝরাতেই নয়, দারুচিনির সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়ে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা যায় অবিশ্বাস্য কম সময়ে! দেখে নেওয়া যাক দারুচিনির ছয়টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ: ১) একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, মধু দারুচিনির পানি খেতে পারলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাতের ব্যথা কমে যায়। এর জন্য ১ গ্লাস গরম পানির সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে খেয়ে নিন। এই দ্রবন সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত খেতে পারলে দেখবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাতের ব্যথা অনেকটাই কমে গিয়েছে। ২) এক গ্লাস গমর পানির সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে রোজ সকালে খেয়ে নিন। এই দ্রবন মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর! ৩) অনেক চেষ্টার পরও ওজন কিছুতেই কমছে না? শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু-দারুচিনির মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর! একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, দারুচিনি আর মধু দ্রুত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। রোজ ১ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো আর ২ চামচ মধু মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানি খালিপেটে খেয়ে নিন। এটি দ্রুত ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর! ৪) প্রচুর চুল ঝরে যাচ্ছে? তাহলে অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ মধু আর ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেষ্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট চুলের ফাঁকা জায়গায় লাগান (যেখান থেকে চুল পড়ে গিয়েছে সেখানে)। এই পেস্ট দিয়ে চুলের গোড়ায় অন্তত ১৫ মিনিট মালিশ করুন। তার পর উষ্ণ পানি দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন চুলের যত্ন নিতে পারলে চুল ঝরার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে, একই সঙ্গে গজাবে নতুন চুলও। ৫) উর্দ্ধমুখী কোলেস্টরল নিয়ে চিন্তিত? এক কাপ চায়ের (দুধ, চিনি ছাড়া) সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ৩ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে দেখুন। এই চা রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেয়ে দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর! ৬) আমাদের হৃদযন্ত্র সুস্থ্য রাখতে দারুচিনি আর মধুর পানির কোনও বিকল্প নেই! রোজ সকালে এক গ্লাস পানির সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে ওই পানি খেতে পারলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

রমজানে ত্বকের যত্ন নিবেন কিভাবে?

রমজানে আলাদাভাবে ত্বকের যত্নের কোন দরকার রয়েছে কিনা? আর যদি যত্নের দরকার হয়, তাহলে তার জন্য কী কী খাবার গ্রহণ করতে হবে? এসব বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. জাহেদ পারভেজ, সহকারী অধ্যাপক চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ। একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দি ডক্টরস’-র এ এবারের পর্বে এসব বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। উপস্থাপনায় ছিলেন- ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। ডা.জাহেদ পারভেজ বলেন, আমরা সারা বছর ত্বকের যে যত্ন নেই রমজানে তারও বেশি যত্ন নেওয়া উচিৎ। কারণ রমজানে আমাদের পানি খাওয়ার পরিমান কম হয়। আর রমজানে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি খেতে হবে। এছাড়া ফল ও পানীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। খেজুরও খাওয়া যেতে পারে বেশি করে। ইফতারির সময় হজমে সমস্যা হবে, এমন খাবার পরিহার করতে হবে। এতে করে টিনেজদের ব্রনের পরিমান বাড়তে পারে। তেল জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, যাদের এলার্জি আছে তারা সাবান ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। মেছতার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে রোদে গেলে মুখে দাগ হয়। সে ক্ষেত্রে বাহিরে থেকে এসে মুখে ঘরোয়াভাবে ফ্রিজে রাখা টমেটো ঘষে নেওয়া যেতে পারে। আর অবশ্যেই বেশি করে পানি খেতে হবে। নারীদের মেকাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই রমজানে কড়া মেকাপ পরিহার করাই উত্তম বলে তিনি জানিয়েছেন। এই গরমে দেখা যায় যে অনেকের বিভিন্ন জায়গায় ইনফেকশন হয়। সেক্ষেত্রে শুধু গোসলের পরে কাপড় পরিবর্তন না করে কয়েকবার পোশাক পরিবর্তন করা যেতে পারে। এছাড়া কিছু পাউডার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে অবশ্যই বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ফলে ফরমালিনের কারণে অনেকের এলার্জি বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এসব ফলের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া শাক সবজি ও ফল খাওয়ার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে তাহলে কিছুটা ফরমালিন থাকলেও কমে যাবে। এছাড়া এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া পরিহার করতে হবে। এগুলা শরীরের জন্য র্দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।   এনএম/এসএইচ/    

ক্যান্সার যোদ্ধা আহনাফের অন্যরকম পৃথিবী

একটি ছেলে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে সে বড় হয়ে রাষ্ট্রনায়ক হবে। দেশের প্রেসিডেন্ট হবে। মানুষের জন্য কাজ করবে। অন্য অনেকে যখন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে ছেলেটি তখন আল্লাহকে বলে, আল্লাহ আমি এমন কিছু করতে চাই যাতে করে মানুষ যুগ যুগ ধরে তার সুফল ভোগ করে। সেই ছেলেটি যখন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র তখন তার ধরা পড়লো ব্লাড ক্যান্সার। পরিচিত মহলে সবাই জানে এ ব্যাধি মহাঘাতক ব্যাধি। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আটকে যায় ছেলেটির সময়- স্বপ্ন। তারপর ছেলেটি কী করে? যার কথা বলছি তিনি নূর এ সাফী আহনাফ। দেশে লিউকআেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটি অব বাংলাদেশ  ( LLSB) নামক একটি সংগঠন ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে কাজ করে। সারাদেশে যার সদস্য সংখ্যা প্রায় আঠারো হাজারেরও বেশি। এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নূর এ সাফী আহনাফ। আহনাফ একজন ক্যান্সার যোদ্ধা। রোগী না বলে যোদ্ধা বলছি এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন। নিজে যেমন হতাশাকে নিজের জীবনে ঠাঁই দেননি তেমনি তার মতো অনেক ক্যান্সার যোদ্ধার জীবনের অনুপ্রেরণা তিনি। আহনাফ যখন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র তখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই আহনাফ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে সম্মান শেষ বর্ষে পড়ছেন। জড়িত আছেন বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী কাজে। ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। ক্যান্সার ধরা পড়ার সময়ের স্মৃতিচারণ করে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে আহনাফ বলেন, আমি যখন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ি, তখন হঠাৎ করে আমার শরীরটা খারাপ করে। খারাপ মানে, আমার প্রতিনিয়ত মনে হচ্ছিল `সামথিং ইজ রং`। মনে হচ্ছিল শরীরটা আগের মতো নাই। শরীরের কোথাও যেন কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। আমার বাবা - মা দুজনেই সরকারী চাকুরীজীবী। আমি ঢাকায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে- এর হোস্টেলে থাকি। আর তারা থাকেন জামালপুর। আম্মু আমাকে বললেন ডাক্তার দেখাও। অতীতের সময়গুলোতে ফিরে গিয়ে আহনাফ বলেন, আমাদের কলেজে নিয়ম কানুন ছিল খুব কড়া। অনেকটা ক্যাডেট কলেজের মতো। সবসময় আমরা হোস্টেলেই থাকতাম। বাবা মায়ের সাথে কাটানোর জন্য বড় সুযোগ ছিল ছুটি। খুব বড় বড় ছুটি হতো। ৎ কয়েকদিন পরেই ছিল কুরবানী ঈদের ছুটি। ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছটফট করছিলাম। তার একদিন আগে রাতের বেলা সারা শরীরে বেশকিছু জায়গায় লাল লাল দাগ যায়। কিন্তু আমি সেটাকে তেমন পাত্তা দেইনি। যেহেতু দীর্ঘদিন আমার শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না, মনের ভেতরটাও কেমন কেমন করছিল তাই পরেরদিন ডাক্তারের কাছে যাই। সাথে আমার বাবা ছিলেন। ডাক্তার হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। ওনাকে আমি প্রথমে গায়ের লাল দাগগুলো দেখাই। তিনি সবকিছু দেখে বললেন, তুমি যেহেতু ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছ চলে যাও। ছুটি শেষ হলে একবার আসিও। আমি ডাক্তারের এমন আশ্বাস শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আসছি এমন সময় ডাক্তার আবার বললেন, তুমি যেহেতু আসছ আমি আরেকবার একটু দেখি। আহনাফ অতীত হাতড়ে বলেন, যদিও আমার শরীর ভাল যাচ্ছিল না তবুও আমি নিজেকে সুস্থ মনে করতাম। আমি ভাবতাম, শরীর ভাল নেই এটা আমার অহেতুক মানসিক দুঃশ্চিন্তা। তাই আমি ডাক্তারের রিপোর্ট খুলেও দেখিনি। তবে আমার বাবা জানতেন। তিনি আমাকে বলেননি। নিজে নিজে কান্না করতেন। ওনার কান্না দেখে আমি আশ্চর্য্য হতাম ও ওনাকে সান্ত্বনা দিতাম। আমি ভাবতাম, আমার তো কিছু হয়নি। তাহলে বাবা কান্না করেন কেন? আহনাফ বলেন, আমি প্রথম আমার ক্যান্সার হওয়ার খবর জানতে পারি ফেসবুকে। আমি কলেজে বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুব সক্রিয় ছিলাম। নিয়মিত বিতর্ক করতাম। ডিবেট সোসাইটির প্রধান ছিলাম। ফলে বন্ধুরা আমাকে ভালবাসে। তারা আমার ক্যান্সার হওয়ার খবরটি জেনে গিয়েছিল। দোয়া চেয়ে তারাই প্রথম খবরটি ফেসবুকে দেয়। একদিন দুপুরে ফেসবুকের নিউজফিডে ঘুরতে ঘুরতে খরবটি আমার চোখে পড়ে। ব্লাড ক্যান্সারের অনেকগুলো ধরণ রয়েছে। আহনাফ যে ক্যান্সারে আক্রান্ত তার নাম ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া। সংক্ষেপে একে বলা হয় CML. প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে CML দিবস হিসেবে পালন করা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সাথে আলাপকালে আহনাফ বলেন, "আমার জীবনটা নাটকীয়তায় ভরা। এখানেও একটি নাটকীয়তা আছে। ২২ সেপ্টেম্বর CML ডে। আবার এই ২২ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন।" ব্যাপারটি হয়তো কাকতালীয়। কিন্তু এই কাকতালীয়তার মাঝেই যে এক গভীর বিষাদ লুকিয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম যখন আহনাফ জানলেন তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তখন তার অনুভূতিটা কেমন হয়েছিল? একুশে টেলিভিশন অনলাইনে আড্ডাচ্ছলে আহনাফ বলেন, সত্যি কথা হচ্ছে জানার সাথে সাথে আমার কিছু দুঃখ হয়েছিল। আবার কিছু আনন্দও হয়েছিল। দুঃখ হয়েছিল এই কারণে ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল আমি কোনো একদিন দেশের প্রেসিডেন্ট হব। রাষ্ট্রনায়ক হব। কিন্তু ক্যান্সার আমার সেই স্বপ্ন পূরণে কী বাধা হয়ে দাঁড়াল? এই প্রশ্নটা আমাকে পীড়া দিতে থাকে। আমার স্বপ্ন ছিল আমি পৃথিবী ঘুরে দেখব। আল্লাহর সৃষ্টি এত সুন্দর পৃথিবী। পৃথিবী ঘুরে দেখাটাও আমার কাছে ইবাদাত। আমার মনে একটা কষ্ট দানা বাঁধতে থাকে। হায়! আমার কী পৃথিবী ঘুরে দেখা হবে না? আহনাফ বলেন, কিন্তু কিছুক্ষন পরে আমার একধরনের সুখানুভূতি তৈরি হয়। সুখানুভূতি হচ্ছে এ জন্য, এমন একটা জিনিস আমি ধারন করে আছি যা পৃথিবীতে সবার নেই বা খুব কম লোকের আছে। আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম এটা আমার জন্য স্রষ্টার আশীর্বাদ। যে অভিজ্ঞতা আমার হবে বা হচ্ছে তা অন্য সবার হবে না। নিজেকে সাহস দেওয়ার জন্য এটা ছিল আমার সবচেয়ে বড় যুক্তি। তবে আমাকে তখন প্রায় স্টেরয়েড দিয়ে রাখা হত। ফলে অামাকে কোন মানসিক চাপ নিতে হতো না বা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। আহনাফ এর ভাষায়, সে এক কষ্টকর সময়। ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। শরীর দুর্বল লাগত। খেতে পারতেন না। বমি হতো। রাতে ঘুমাতে পারতেন না। হাত পা নাড়াতে কষ্ট হতো। শরীরে ছোপ ছোপ লাল লাল দাগ। ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আহনাফ- এর বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। কিন্তু তার সাথে ম্যাচিং করে এমন বোনমেরু পাওয়া যায়নি। ভাই বোন হলে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি আহনাফ- এর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। চিকিৎসার জন্য আহনাফ কে কলকাতা টাটা মেডিকেল  সেন্টারে ডা. মামেন চেন্ডির অধীনে ভর্তি করানো হয়। ক্যান্সার একটি ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার হলে রক্ষা নাই। ক্যান্সারের চিকিৎসা খুব ব্যায়বহুল। সহজে কান্সারের চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এমন অনেক কথা ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত। আহনাফ - এর জীবনেও এর অনেকগুলো সত্য হয়েছে। তবে আসল বিষয় হলো আহনাফ হাসিমুখে সে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালে আহনাফ নিয়মিত ফিচার লেখেন। টেন মিনিট স্কুলে কন্টেন্ট কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেন। ইকোনোমিকস ক্যারিয়ার অ্যালাইন্স- এ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। অ্যাকসন এইড- এ তিনি একজন ইন্টারপ্রেটার অ্যান্ড ফ্যাসিলেটার। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করা আহনাফ- পড়াশুনায়ও ভাল ফলাফল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আহনাফ এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন স্কলারশিপ সহ। পরবর্তীতে ক্যান্সার নিয়ে যুদ্ধ করতে করতেও তিনি একই ফলাফল অর্জন করেন। ঢাকা বোর্ডে তার অবস্থান ছিল ৭৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ২৩২। আহনাফ তাদের একজন যারা সবসময় হাসিখুশী থাকে। নিজেকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আহনাফ বলেন, আমি যখন টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হই, তখন অামি অবাক হয়ে গেলাম। আশেপাশে এত এত ক্যান্সার রোগী যেন এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। (আগামী পর্বেঃ ক্যান্সার রোগীদের মানসিক শক্তি)  আআ//

‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে ননক্যাডার ডাক্তারদের ক্যাডারভুক্ত করা সম্ভব’

প্রধানমন্ত্রী চাইলে নন ক্যাডার ডাক্তারদের ক্যাডারভুক্ত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ডা. উম্মে তাহেরা ইলা। তিনি বলেন, হতে পারে এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা ক্যাডারভুক্ত করার দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলন করে আসছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে প্রায় আড়াই হাজার নন-ক্যাডার চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দুপুর একটায় শেষ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নন ক্যাডার ডাক্তারদের পঞ্চাশ জনের একটি প্রতিনিধি দল আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যায়। কিন্তু প্রতিনিধি দলটি পৌঁছাতে দেরী হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। সেই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলে উম্মে তাহেরা ইলা। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হলে উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, আমাদের মূল দাবি একটাই। সেটা হলো ৩৯ তম বিসিএস- এর ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর যে আট হাজার ৩৬০ জন ডাক্তারকে নন ক্যাডার করে রাখা হয়েছে, শুন্য পদের কারণে তাদেরকে (আমাদেরকে) পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমাদের দাবি হচ্ছে অতি দ্রুত শূন্য পদ সৃষ্টির মাধ্যমে আট হাজার ৩৬০ জন নন ক্যাডারকে ক্যাডারভুক্ত করে পদায়ন করা হোক। নিয়োগ দেওয়ার মতো পদ খালি না থাকলে নিয়োগ কীভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নে এই আন্দোলনকারী ডাক্তার বলেন, এই বিশাল জনবহুল দেশে আরও প্রায় ছাপ্পান্ন হাজার নতুন  ডাক্তারের জন্য পদ দরকার। সেখানে ৩৯তম বিসিএস- এ উত্তীর্ণ যে আট হাজার ৩৬০ জন ননক্যাডার অবস্থায় আছে তাদেরকে পদায়ন করা সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার মাত্র। হতে পারে এটা জটিল একটা প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, দেশে ১০৫টি মেডিকেল কলেজে ২৫ হাজার ৩০০ জন শিক্ষক প্রয়োজন থাকলেও সেখানে মাত্র ৯ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৬৩ শতাংশ শিক্ষক সংকট রেখেই মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা চলছে। যোগ্যদের ক্যাডারভুক্তি করলে এসব কলেজে শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে। ডা. উম্মে তাহেলা ইলা বলেন, আমরা এ দাবি নিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছিলাম। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছি। দু`জনেই আমাদেরকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আশ্বাস পেলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। যা আমাদেরকে রাজপথে থাকতে বাধ্য করেছে। সেই আশ্বাসের আলো আমাদের অনেক স্বপ্ন দেখালেও দাবি আদায়ের কোন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ইতোপূর্বে কখনো নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার নিয়োগ হয়নি। সেক্ষেত্রে এমন দাবি কতোটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, এখানে নন ক্যাডার থেকে ক্যাডার করার মতো ব্যাপার নয়। এটা ছিল স্পেশাল বিসিএস। আমরা মনে করি, আমাদের রেজাল্টটা অসম্পূর্ণ রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে আমাদের বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তাড়াহুড়ো ছিল ৪০ ও ৪১তম বিসিএস নিয়ে। ফলে সিদ্ধান্তের আগেই ফলাফল ঘোষিত হয়ে গেছে। তাই সার্কুলারে ঘোষিত পদ ও কোটার ক্রমানুসারে কিছু নিয়োগ পেলেও বাকিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করছি অতিদ্রুত এ জটিলতা কাটিয়ে বাকি আট হাজার ৩৬০ জনকে ক্যাডারভুক্ত করা হবে। নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার হওয়ার জন্য চিকিৎসকদের এ দাবি কতোটুকু যৌক্তিক এমন প্রসঙ্গে ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, আমরা যারা আন্দোলন করছি তারা সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন। ক্যাডার হওয়ার জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তার সব শর্ত আমরা পূরণ করেছি। এজন্যই আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় এসেছি। শনিবারের মানববন্ধনে আন্দোলনরত ডাক্তাররা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্যাডারভুক্ত না করা হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কিন্তু একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের অন্যতম মুখপাত্র ডা. উম্মে তাহেরা ইলা বলেন, এই গরমে রোজা রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া আমাদের সহকর্মীদের জন্য কঠিন। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিবেন- এমন বিশ্বাসের জায়গা থেকে আপাতত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত রাখছি। তবে নতুন কর্মসূচি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগের অনুমতি দেন। এ লক্ষ্যে আয়োজিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হন। তবে সেখান থেকে মাত্র চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ আরও আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক অনিশ্চয়তায় পড়েন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছিল ১৩ হাজার ২০০ জন। মৌখিক পরীক্ষায় ৩০০ জন উত্তীর্ণ হননি। এরমধ্যে নন ক্যাডারভুক্ত হয়েছে আট হাজার ৩৬০ জন। আর ক্যাডারভুক্ত হয়েছে চার হাজার ৭৯২ এরমধ্যে অল্পকিছু সংখ্যক উত্তীর্ণ হননি।   আ আ// এসএইচ/

রোজায় দেহের পুষ্টি  

সিয়াম বা রোজার মাধ্যমে মানুষ আত্মিক, শারীরিক ও সামাজিক উন্নতি লাভ করে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা পালন করছে। এ সিয়াম পালনে আমাদের খাদ্যভাসে কিছুটা পরিবর্তন করতে হয়। একজন রোজাদার আল্লাহর নির্দেশে সারাদিন পানাহার থেকে সিয়াম পালন করেন। সিয়াম পালনকালে যাতে আমাদের শরীর ঠিক থাকে, সুস্থতার সঙ্গে যাতে আমরা রোজা রাখতে পারি, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে একুশে টিভির সঙ্গে কথা বলেছেন, রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশায়ান ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন। একুশে টিভি:  রমজানে আমরা কিভাবে দেহের পুষ্টি ঠিক রাখতে পারি? ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন:  প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করেই আমাদের রোজা রাখতে হচ্ছে। সুস্থ ও সুন্দরভাবে ইবাদতের মাধ্যমে রোজা রাখতে চাই, সেক্ষেত্রে আমাদের ব্যালেন্সডাইয়েট বা ব্যালেন্স নিউট্রিশন ঠিক রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে পানির পরিমাণের দিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। দেহের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ফলের রস, মিনারেল ওয়াটারসহ সুপেয় পানি পান করা যেতে পারে। এতে করে আমাদের শরীর রিহাইড্রেট করবে, শক্তি জোগাবে। একুশে টিভি: ইফতারে অনেক খাবারকে মুখরোচক করতে তেল বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে কি বলেবেন? ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন:  সারাদিন আমরা অভুক্ত থেকে রোজা থাকছি। তাই, খাবারটা অবশ্যই ‍সুস্বাদু হওয়া জরুরি। শুধু তেল ও ভাজা পোড়া দিয়েই যে তা করা যায়, তা নয়। খাবারকে মুখরোচক করতে স্পাইসেস বা হার্ব ব্যবহার করতে পারি। তেলের পরিমাণ কমিয়ে লেবু, ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার আগুনে পুড়িয়েও বিভিন্ন খাবার তৈরি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে, কুকিং প্রসেসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একুশে টিভি : উত্তম ইফতারে কি ধরণের খাবার থাকতে পারে? ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন:  সারাদিন রোজা থাকার কারণে আমাদের শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই যে খাবারগুলো শরীরে শক্তি বাড়ায় এমন খাবার খাওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে, ছোলা, হালিম, খেজুর সবচেয়ে আদর্শ খাবার। তবে, অবশ্যই তেলের পরিমাণ কম হওয়া জরুরি। ছোলায় প্রচুর ফাইবার আছে। হালিম অত্যন্ত মুখরোচক একটি খাবার। তবে, সেটি বাজারের না হয়ে বাসায় তৈরি হওয়াই ভালো। খেজুরে পটাশিয়াম আছে। যা আমাদের শরীরের সেলগুলোকে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া, খেজুরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ আছে। যা আমাদের ক্যালরিকে দ্রুত সাপ্লাই করছে। তাই, সেহরী ও ইফতারিতে খেজুর আমাদের জন্য অনেক বেশি উপকারি।  একুশে টিভি : গর্ভবতী নারীদের ইফতার ও সেহরি কি রকম হতে পারে? ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন: এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম লক্ষ্য রাখতে হবে তিনি কোন ট্রাইমিস্টারে আছেন? প্রেগনেনসিকে তিন মাস করে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়ে থাকে। এ স্তর অনুযায়ী তার ইফতার ও সেহরির খাবার তালিকা হওয়া উচিৎ। একজন গর্ভবতী নারীকে আমরা সেকেন্ড ট্রাইমিস্টার পর্যন্ত রোজা রাখতে দেই। কিন্তু যে সময়টাতে পেটের শিশু দ্রুত বেড়ে ওঠে, মাংস বৃদ্ধি, ব্রেন, হারের ডেভলপমেন্ট হয় অর্থাৎ শেষের তিনমাস আমরা রোজা না রাখতে পরামর্শ দেই। আর যদি কোন নারী রেখেই থাকেন, সেক্ষেত্রে তাকে দৈনিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতেই হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ট্রাইমিস্টার থেকে প্রতিদিন একটি কুসুম ছাড়া, আরেকটি কুসুমসহ দুটি করে ডিম, নিম্নে দুগ্লাস দুধ, এক কাপ টকদই এবং ছয় থেকে সাত টুকরো মাছ-মাংস খেতে হবে। আয়রন, ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে পারলে তাহলে রোজা রাখলে কোন সমস্যা নেই। অনেক নারীর গর্ভকালীন ডায়বেটিকস হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে হাইপো অথবা হাইপার গ্লাইসিম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অর্থাৎ, ব্লাড সুগার কমে যাওয়া আবার কখনো বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে, ইফতারের সময় অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সেহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোড্রেট যুক্ত খাবার যেমন, লাল চালের ভাত, আপেল, খেজুর প্রভূতি খাওয়া যেতে পারে। একুশে টিভি : যার উচ্চ রক্তচাপ আছে, তার ইফতার ও সেহরি কি ধরণের হওয়া উচিৎ? ডা. চৌধুরী তাসনীম হাসিন: এসমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, ব্লাড প্রেসার যাতে না বাড়তে পারে, সে জন্য অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত-পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এতে করে রক্তের সোডিয়ামকে এটি সাপপেস করে রাখবে। যেমন তিনি ডাবের পানি, লেবু দিয়ে শরবত খেতে পারেন। যদি ডায়বেটিকস না থাকে তাহলে কলা খেতে পারেন। এমনকি গরুর গোস্তও খেতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই চর্বিমুক্ত হতে হবে।     আই//  এসএইচ/

সংকটের আবর্তে বান্দরবান সদর হাসপাতাল (ভিডিও)

প্রয়োজনের অর্ধেক লোকবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যার বান্দরবান সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও সংকট রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ী এই জনপদের সরকারি হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। ১৯৮৯ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে সদর হাসপাতালটি। ২০০৫ সালে এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বর্তমানে ৫০ শয্যার অনুমোদিত ২১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৯ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে চট্টগ্রাম মেডিকেল অথবা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে হয় বাইরে থেকে। এতে গরীব রোগীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। প্রয়োজনীয় লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানালেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। সীমিত লোকবল ও নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার কথা জানান জেলা সিভিল সার্জন। দুর্গম পাহাড়ের গরীব ও অসহায় রোগীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ শিগগিরই প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের দাবি বান্দরবানবাসীর।

রমজানে জন্ডিস রোগীদের করণীয় (ভিডিও)

এবারের রমজানে আবহাওয়া গরম থাকার কারণে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। পূর্বে যাদের জন্ডিস ছিল তাদের জন্ডিস আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই রমজানে যেন জন্ডিস না হয় এবং জন্ডিস রোগীরা কিভাবে রোজা রাখবেন এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিয়াম ও আপনার স্বাস্থ্য’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে। জন্ডিস নিয়ে আলোচনা করেছেন- অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ (পরিপাকতন্ত্র ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরিচালক শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল)। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন- ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। যা একুশের টিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো : অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, জন্ডিস হচ্ছে সবার কাছে একটি পরিচিত সমস্যা। জন্ডিস কোনো রোগ নয়। এটি অন্যান্য রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। জন্ডিস সাধারণত দুইভাবে হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবাণুবাহিত জন্ডিস সাধারণত বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ না করার কারণে হতে পারে। অন্যদিকে দূষিত রক্ত গ্রহণ করার মধ্যমেও জন্ডিস হয়। তাই খাবার ও রক্ত গ্রহণে আমাদের সচেতন হতে হবে।   তিনি বলেন, সাধারণ জন্ডিস হিসেবে পরিচিত ‘এ’ ও ‘ই’ মূলত খাবারের দূষণের কারণে হয়ে থাকে। তাই খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। পরিবারের সবাইকে বিশুদ্ধে খাবারের গ্রহণে সচেষ্ট থাকতে হবে। অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, গরমের সময় সাধারণত জন্ডিস বেশি হয়ে থাকে। গরমের সময় রাস্তার খাবার, খোলা বাসি খাবার, পঁচা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে জন্ডিস হয়ে থাকে। এই ধরুন রাস্তার পাশে আখের রস বিক্রি হচ্ছে বা লেবুর পানি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখার বিষয় হচ্ছে যারা এগুলো বিক্রি করছেন তারা কতটুকু হাইজিন মেনে চলছেন। একটা রেস্তোরায় খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এরমধ্যে তাদের পানিটা বিশুদ্ধ নয়। ফলে এ রোস্তোরায় যতজন লোক খাবার খাবেন তাদের সবারই ক্ষতি হবে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বর্তমানে আমাদের সরকার বিশুদ্ধ পানি এবং পয়:নিষ্কাষণের বিষয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  পূর্বে বিশুদ্ধ পানি এবং পয়: নিষ্কাষণের যে ব্যবস্থা ছিল তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে জোড়ালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। নেশাগ্রস্ত লোকের রক্ত গ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন,  নেশাগ্রস্ত  ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস বেশি দেখা যায়। তাই তাদের রক্ত গ্রহণ করার ব্যপারে সচেতন হতে হবে। তবে আশার দিক হচ্ছে আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক হাসপাতালে রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিচ্ছে। ভেজাল খাবার সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, ভেজাল খাবার, মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন এ সমস্ত খাবার বাজারে বিক্রি করতে না পারে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কেননা ভেজাল খাবার গ্রহণের কারণে জন্ডিসসহ অন্যান্য মরণরোগ হতে পারে।   স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শরীরে যত প্রকার রোগ হয় তার মধ্যে অধিকাংশই খাবারের সাথে সম্পর্কিত। তাই আমরা যদি সঠিক খাবারটা গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমরা অনেকগুলো রোগ থেকে মুক্তি পাব। জন্ডিস রোগীদের জন্য সুচিকিৎসা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জন্ডিস রোগীদের অন্যতম চিকিৎসা হচ্ছে বিশ্রাম নেওয়া। খাবার গ্রহণে সচেতনতা। স্বল্প মেয়াদী জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীর সাধারণত জ্বর হয়। পরে তার চোখ ও পস্রাব হলুদ হয়ে যায়। ক্ষুদা কমে যায়। পেটে ব্যথা হয়। বমি বমি ভাব হয়। শরীর দূর্বল হয়ে যায়। জন্ডিস রোগীদের রোজা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, জন্ডিস রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে রোগের মাত্রার ওপর নির্ভর করবে। যদি কারো বেশি জন্ডিস থাকে, শরীর দূর্বল হয় এবং ঠিক মতো খাবার খেতে না পারে সে ক্ষেত্রে রোজা না রাখা যেতে পারে। তবে রোগী যদি ক্ষেতে পারে সেক্ষেত্রে রোজা রাখতে পারে। পরিশেষে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, এই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক কার্ক্রম শুরু হয়েছে। তবে এখনো বড় পরিসরে কাজ শুরু হয়নি। আশা করছি অচিরেই এখানে লিভার ক্যান্সারের রোগীসহ পেটের নানা সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হবে। (শ্রুতি লিখন : মাহমুদুল হাসান) বিস্তারিত দেখেনু ভিডিওতে : এমএইচ/  

উচ্চ রক্তচাপ হলে যা করবেন

দেশে উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আগে বয়স্কদের মধ্যে রক্তচাপের প্রবণতা বেশি থাকলে তরুণরাও এই নীরব ঘাতকের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই জানেনই না যে, তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে দেড় শ’কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। এই রোগে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। মনে রাখা উচিত, উচ্চ রক্তচাপ প্রায়ই একটি স্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ একবার আক্রান্ত হলে আর ভাল হয় না, তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। এর জন্য চিকিৎসা ও প্রতিরোধ দুটোই জরুরি। তা না হলে বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি হঠাৎ করে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে। একবার উচ্চ রক্তচাপ হয়ে গেলে তা আর ভাল হয় না। একে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধপত্র সেবন করতে হবে। অনেক রোগী কিছুদিন ওষুধ খাবার পর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধ বন্ধ করে দেন। মনে করেন, রক্তচাপ তো ভাল হয়ে গেছে, কাজেই ওষুধ খাওয়ার দরকার কি? এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কোনক্রমেই ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা সেবন বন্ধ করা যাবে না। অনেকেই আবার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত জানার পরেও ওষুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করেন বা খেতে চান না। কারও কারও ধারণা একবার ওষুধ খেলে তা আর বন্ধ করা যাবে না, তাই ওষুধ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ এমনও ভাবেন যে, উচ্চ রক্তচাপ তার দৈনন্দিন জীবন প্রবাহে কোনো সমস্যা করছে না বা রোগের কোনো লক্ষণ নেই, তাই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতে চান না বা প্রয়োজন মনে করেন না। মনে করেন, ভালই তো আছি, ওষুধের কি দরকার? বলাবাহুল্য, এই ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং অযৌক্তিক। এই ধরনের রোগীরাই হঠাৎ করে হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, এমনকি তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও অমূলক নয়। তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং নিয়মিত চেক আপ করাতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিরোধই সর্বোত্তম। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের শৃঙ্খলা মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি। লেখক: সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান, মেডিসিন অনুষদবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

ননক্যাডার চিকিৎসকদের ক্যাডারভুক্ত করার দাবি

৩৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা ক্যাডারভুক্ত করার দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলন করে আসছে । আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে প্রায় আড়াই হাজার নন-ক্যাডার চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সকাল ১০ টায় শুরু হয় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, দুপুর ১টার দিকে এ কর্মসূচি শেষ হয়। এসময় নিয়োগবঞ্চিত থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রায় আড়াই হাজার নন-ক্যাডার চিকিৎসক। তারা বলেন, ক্যাডারভুক্ত না করা হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সারাদেশে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। সে নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করে। এ পরীক্ষায় ৩৮ হাজার চিকিৎসক অংগ্রহণ করে আট হাজার ৩৬০ জন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করলেও শূন্যপদের সংখ্যা কম হওয়ায় উত্তীর্ণ মাত্র চার হাজার ৫০০ জনকে ক্যাডার করে বাকিদের নন-ক্যাডার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেন, দেশে ১০৫টি মেডিকেল কলেজে ২৫ হাজার ৩০০ জন শিক্ষক প্রয়োজন থাকলেও সেখানে মাত্র ৯ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৬৩ শতাংশ শিক্ষক সংকট রেখেই মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা চলছে। যোগ্যদের ক্যাডারভুক্তি করলেও এসব কলেজে শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগের অনুমতি দেন। এ লক্ষ্যে আয়োজিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হন। তবে সেখান থেকে মাত্র চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ আরও আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক অনিশ্চয়তায় পড়েন। টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি