ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৪৫:২৬, বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠন জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এই উপলক্ষে ২৩ জুন নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সভা পরিচলনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম চঞ্চল এমপি। সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এরপর জাতীয় সংগীত ও শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে মূল আলোচনা পূর্ব শুরু হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস,সংগ্রাম,অর্জন ও স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরিতে এই সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, আওয়ামী লীগ তা বাস্তবায়ন করে। আওয়ামী লীগ এর হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আর এই আওয়ামী লীগ এর হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে জায়গা করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পরে তাহার সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২৩ জুন বাঙালির জাতীয় জীবনে এক অনন্য দিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ঢাকার স্বামীবাগে কাজী মুহাম্মদ বশির হুমায়ুনের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগ বাঙালির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলা ও বাঙালির সকল অর্জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে চলছে। দেশের এই সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিরোধী অপশক্তি বহুমুখী অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র সমূলে উৎপাটন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আওয়ামী লীগ সরকারকে আমরা প্রবাসীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এটাই হোক আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের অঙ্গীকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, সহ-সভাপতি সামসুউদ্দীন আজাদ, লুৎফর করিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুর হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, কৃষি সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, ডা. মাসিদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সরাফ সরকার, গোলাম মওলা, সামছুল আবেদিন,আব্দুল হামিদ, খোরশেদ খন্দকার, জহির আলী, এম আনোয়ার, এম এ বিপ্লব, আলী গজনবী,আতাউল গনি আসাদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মিয়া ,নিউইয়র্ক মহানগর লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নুরজামান সর্রদার , সাখাওয়াত বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ আহ্বায়ক তারিকুল হাযদার, শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল হক খোকন, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান প্রমুখ। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর আলোচনা সভা শেষ করে দলীয় নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের সদর দপ্তর এর সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেআই/
নিউইয়র্কে চার দিনব্যাপী বইমেলা সম্পন্ন

নিউইয়র্ক চার দিনব্যাপী বইমেলা ও বাংলাদেশ উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৪ জুন (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়ে সোমবার ১৭ জুন শেষ হয়েছে। এই মেলার আয়োজক ছিলেন নিউইয়র্কের বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। গত ২৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মেলার আয়োজন করে থাকলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে বইমেলা ও বাংলাদেশ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বইমেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ কিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড.সিদ্দিকুর রহমান,নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা,ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক। এর আগে অনুষ্ঠানের মঞ্চে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করেন আমন্ত্রিত কবি, লেখক, প্রকাশক, সাহিত্যিক ও গুণীজনেরা। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন লেখক ফেরদৌস সাজেদীন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন,আনিসুল হক,নাজমুননেসা পিয়ারী,কণা রেজা,আমীরুল ইসলাম, নাট্যব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি জাফর আহমদ রাশেদ প্রমুখ। এবারের বইমেলায় অভিবাসী লেখকদের রচিত সেরা গ্রন্থের জন্য একটি বার্ষিক পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এবছর আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য আলোচনা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। বইমেলার চতুর্থ ও শেষদিন সোমবার জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় বই প্রদর্শনী। কেআই/

নিউইয়র্কে হামলা চেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার

টাইমস স্কয়ারে হামলা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি আশিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। শুক্রবার (৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে তাকে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে হামলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনার পাশাপাশি জামিন আবেদনও নাকচ করে দেন দেশটির আদালত। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশিকুল আলম (২২) নামের ওই যুবক নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে থাকেন। বেশ কিছুদিন নজদারিতে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  তার যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড রয়েছে। গ্রেফতারের একদিন পর শুক্রবার ব্রুকলিনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আশিকুলকে হাজির করা হয়। আইনজীবী জেমস ডারো তার মক্কেলকে দুই লাখ ডলার মুচলেকা নিয়ে সংশোধনের জন্য কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দি রাখার অনুরোধ জানান। ডারো আরও জানান, আশিকুল তার মা-বাবার সঙ্গেই থাকেন এবং তারা বন্ডে স্বাক্ষর করার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানির পর বিচারপতি চেরিল পোলাক আশিকুলকে জামিন না দিয়ে আটক রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ২১ জুন পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য্য করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আশিকুল আলাপচারিতায় টাইমস স্কয়ারে গ্রেনেড নিক্ষেপের ইচ্ছা প্রকাশের পর বেশ কিছু দিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন। ছদ্মবেশে একজন গোয়েন্দা তার পিছু নিয়েছিল। ওই গোয়েন্দার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন আশিকুল। সিরিয়াল নম্বর নষ্ট করা আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে চান তিনি। সেই মোতাবেক আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল তাকে। এরপর এফবিআই এজেন্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তার সঙ্গে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুইটি গ্লক ১৯ আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল উদ্ধারের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এক কর্মকর্তা জানান, আশিকুলকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। একজন গোয়েন্দা ছদ্মবেশে তাকে অনুসরণ করছিলেন। ওই গোয়েন্দার সঙ্গে কথাও হয়েছিল আশিকুলের। দুইজনের সাক্ষাতে সে (আশিকুল) নাইন ইলেভেন হামলাকে সমর্থন জানিয়েছিল। হামলায় সুইসাইড ভেস্ট ও হাতবোমা ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেছিল সে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি রিচার্ড ডোনোঘুয়ে এক বিবৃতিতে জানান, ‘অভিযোগ অনুযায়ী, আশিকুল আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যা ও টাইমস স্কয়ারে বেসামরিকদের ওপর হামলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবৈধ অস্ত্র কিনেছিল।’ সে টাইমস স্কয়ার কিংবা এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য ওয়াশিংটনে হামলার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। সূত্র: দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস আই//

হায়রে স্বপ্নের আমেরিকা!

হায়রে স্বপ্নের দেশ! ওদের ঈদ ছিল সাদা-মাঠা। ওরা চার বন্ধু। নিউ ইয়র্কে থাকেন। ইয়েলো চালান। কেউ এসেছে ১২ আবার কেউ এসেছে ১৮ বছর আগে। ওরা এখন আমেরিকার নারীর ক্ষমতায়নের লাল ফিতায় বন্দী। চোখ আছে, কিন্তু তাকাতে পারে না। মুখ আছে, কথা বলা যায় না। হাত আছে আঙ্গুল ঊঁচু করে দেখাতে পারে না। পা আছে নিদৃষ্ট সীমানায় ঢুকতে পারে না। কারণ মহামান্য আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য (অনিসপনন মামলার কারণে) ওরা সীল গালা। কিন্তু স্বপ্নের দেশে স্বপ্ন ভঙ্গ করে কিভাবে বাংলার করিডোরে যাবে? গিয়েও বা কী করবে? তাই শয়নে স্বপ্নে যদি সলিল সমাধী ঘটে এ দেশে, তা হলেও খারাপ কী? চার জনের মধ্যে ওদের দু’জন বৈধভাবে প্রবেশ করে। বাকী দুজন লটারী ভিসায়। তারা ঘুরেছে বিভিন্ন রাজ্যে। আয়ের পথ ছিলো সুপ্রশস্ত। আয় করেছে তেমন। তাদের সবার পরিবার এখানে থাকে। তবে বর্তমানে কেউ ২ আবার কেউ ৩ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে পরিবার থেকে বিছিন্ন। সবার স্ত্রী ছাড়াও ১ থেকে ৩টি করে সন্তান রয়েছে। চার জনের মধ্যে মৌখিকভাবে পরিচিত থাকলেও ডিভোর্সির কারণে সবাই বর্তমানে ব্রুকলীনে একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। আমেরিকায় স্ত্রী বা পরিবারের মামলায় পুলিশ খুবই কঠর অবস্থান নিয়ে থাকে। অপরাধির চলা ফেরাতেও থাকে কঠরতা। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কানুন বলে কথা। স্ত্রী ‘ সাথে অনাকাঙক্ষিত, অনভিপ্রেত, অপ্রত্যাশিতভাবে আচরন. ছোটখাট বিবাদ, কিংবা মারধরের হুমকি প্রদান করলে, স্ত্রীর (৯১১) কল করার অভিযোগে পুলিশ সবামী / হয় বন্ধুকে আটক করে কোটে চালান দেয়। ঘটনার ধরন অনুযায়ী মহামান্য আদালত জেল জরিমানা প্রদান করে। তবে যদি ছোটখাট ঘটনা হয়ে থাকে তাতে আর কোন দিন মাননীয় স্ত্রীর সাথে অপ্রত্যাশিতভাবে কোন ঘটনা ঘটাবে না মর্মে কোটে মুচলেকার পর স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে আসে। কিন্তু বিধি বাম এতে শান্তি নেই। কারণ কোট মুচলেকার সময় বলে দেয় আসামী (স্বামী বা বন্ধু ) অন্তত এক বছর বিনা বেতনে প্রতি শনিবার সিটির নির্ধারিত সড়কের দু ধারে/ না হয় খেলার মাঠ / বাগান বাডী নতুবা সিটির সৌন্দর্যবর্ধনকারী স্থানগুলোতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ময়লা আবর্জনার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে থাকবে। আর এটি নিয়নত্রণ করবে সিটি পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। ৩ থেকে ৬ মাস অপরাধী ডিউটি সুসম্পন্ন করেছে মর্মে সংস্থা প্রদত্ত কাগজ কোটে জমা দিতে হবে। এভাবে এক বছর সুন্দরভাবে শনিবারের কার্যদিবস পালন করলে আপনি মুক্তি পাবেন কোট তথা আইনশৃঙ্খলা বাহীনির কাছ থেকে। বিপরীতে বাংলাদেশে অধিকাংশ পরিবারে নারীর মর্যাদা বিষয়ে বল ছিনা। তবে কতিপয় মৌলাভী সাহেবরা নারী সমাজ নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে যা বয়ান করে শ্রী/ বিশ্রী এ নিয়ে আই সিটি এ্যাক্ট এ কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কী না আমার জানা নেই । না থাকলে নীতি মালা করা প্রয়োজন । গেল ঈদের জামাতে চার বন্ধু বিড়ালের মত গা ঘেষে খোলা ময়দানে বসলো। হুজুরের বয়ান শুনল। আকাশে কালো মেঘ যেন বৃষ্টি আসবে। কিন্তু মনে অস্থিরতা। মুখে মলিনতার ছাপ। কোথাও কী যেন হারিয়ে গেছে! নামাজ শেষ করে চার বন্ধু কোলাকুলি করে। অতপর চোখ দিয়ে কষ্টের পানি টুপটাপ করে পড়ে বৃষ্টির মত। একজন অন্যজনকে শান্তনা দেয়। শেষে রাঁধুনীতে ঢুকে পোলাও কোমরার অর্ডার করল। ৪ জনের মধ্যে সবাই সমসাময়িক এবং আমার একই জেলায় বাসিন্দা। ঈদ হিসেবে রেস্টুরেন্ট আমার সঙ্গে দেখা। আমি তখন নিজেকে মন্ত্রীর পদমর্যাদার মনেকরি। কেননা সাদা দবদবে পাজামা-পাঞ্জাবী, তার উপর মুজিব কোট। মাথায় বাহারী টুপি। ওদের চার জনের সঙ্গে এক এক করে আমার কোলাকুলির পর্ব চলে। দোকানের অন্যান্যরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ কেউ ফিস করে বলছে মনে হচ্ছে মন্ত্রী পদমর্যাদার কেউ। হাসি ঠাট্টা করলাম। চার জনের একজন বলল, তসলিম ভাই, আজ ঈদ, মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ। আমি বললাম, মিথ্যা কথা। তারা বললো, : কেন? আমি বললাম : না মদিনার নয়, মুসলমানের ঘরে ঘরে আনন্দ। ওরা বলল : তা অবশ্যই ঠিক। : কী ঠিক?ওরা বললো : না কিছুই না।আমি বললাম, শুনেন ভাই, মদিনায় কখন যে কার সঙ্গে চলে গেছে। এ ঈদে মধুচন্দ্রিমার উৎযাপন করছে কে জানে। এটা নিয়ে ঈদের আনন্দের সময়ে চিন্তা করার দরকার আছে?সবাই হাসল। রাত্রে তাদের বাসায় দাওয়াত দিল। দাওয়াত গ্রহণ করে আমি বিদায় নিলাম।এদিকে চার বন্ধু সারা দিন ঘুরে ফিরে সন্ধ্যায় ডজন খানেক কাচের বোতল ভর্তি স্বচ্ছ পানি কিনে বাসায় গেল। ঘড়ির কাটা তখন ১১টা। আমি রোকন, আসলাম, আমরাও ঘুরে ফিরে চার বন্ধুর বাসায় কলিংবেল টিপতেই এক বন্ধু এসে দরজার খুললো। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি চার জনের চোখ লালচে হয়ে গেছে। স্বচ্ছ পানি এখন ঘোলাটে হয়ে গেছে। আমাদের তিন জনের অনুরোধে একজনে গান ধরল।‘জীবনটাই এক মোমের বাতি/গলে গলে পরে হায়কেউ বুঝে তো কেউবোঝে না! কেমনে যে বুঝাই।গান শেষ করে চারজনের এক বন্ধু বললো, ভাই- প্লিজ কিছু মনে করবেন না। উই আর নো অথেনটিক গ্যাসটিফাই। প্লিজ। সেখানে কেউ পড়েছে হাফ প্যান্ট, কেউ আবার ঐতিহ্যের লুঙ্গি। এভাবে গাদাগাদী করে চার জনেই ঘুমের ঘরে ঢলে পড়েছে। এই তো জীবন! এসএ/

দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ডাকাতের গুলিতে শাহাদাত হোসেন (২৪) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। জোহানেসবার্গের ইস্টরেন্ডের ডিপসলোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহাদাত চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বেপারীপাড়ার এস্তেফাজ উদ্দীনের ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমডি জুনাইদ। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের ইস্টরেন্ডের ডিপসলোটে শাহাদাতের বড় ভাই রুবেলের দোকান রয়েছে। ভাইয়ের ব্যবসার সময় দিতে গত জানুয়ারিতে সেখানে যান শাহাদাত। বাংলাদেশ সময় গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিন-চারজন সশস্ত্র ডাকাত ওই দোকানে ঢুকে লুটপাট করে। ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সময় তারা শাহাদাতকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে বড় ভাই রুবেল ও অন্য প্রবাসীরা গুলিবিদ্ধ শাহাদাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আমেরিকার ভিসা পেতে দিতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে নতুন আইন চালু করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আইন অনুযায়ী ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীকে অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি এখন থেকে দিতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারিত তথ্য। গত বছরের মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই বিধি আরোপের প্রস্তাব করেছিল। তবে, কূটনীতিক ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসার ক্ষেত্রে অবশ্য এই বিধির কঠোরতা থাকছে না। তবে কেউ সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহৃত নাম এবং গত পাঁচ বছর যাবত ব্যবহার করছে এমন ই-মেইল এবং ফোন নম্বর জমা দিতে হবে। গত বছর যখন এই নিয়মের প্রস্তাব করা হয়, তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর হিসেব করে দেখেছিল যে, এর ফলে এক কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা পড়াশুনার জন্য যারা যেতে আগ্রহী তাদের জন্য মূলত এ আইন। তবে কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার না  করে, তাহলে তার ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।  বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মাধ্যমের কর্মকাণ্ড নজরদারীতে রাখতেই এমন আইন চালু করতে চায় মার্কিন প্রশাসন।  দেশটির প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে যে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের জন্য একটি ক্ষেত্র হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের বাছাই করা সম্ভব হবে বলে মনেকরেন কর্মকর্তারা। সেময় মার্কিন সরকারের এমন প্রস্তাবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজদারী করে ইতোপূর্বে কোন ইতিবাচক ফল আসছে এমন প্রমাণ নেই। সংস্থাটির দাবি, এর ফলে মানুষ অনলাইনে তাদের মতপ্রকাশের বিষয়টি নিজে থেকেই সীমিত করে ফেলবে। সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলার বিভিন্ন ঘটনা আমেরিকান সরকারকে এ আইন প্রণয়নে যৌক্তিক পথ দেখিয়েছে। গত মার্চে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নৃশংস হামলা চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি ছড়িয়ে দিয়ে ভিতির সৃষ্টি করেছিল অস্ট্রেলিয়ান এক সন্ত্রাসী। ওই হামলায় ৪০ জন মুসলিম নিহত হয়। পরের মাসে শ্রীলংকায় ইস্টার সান্ডের দিনে ভয়াবহ হামলায় ৩৬০ জনের বেশি লোক মারা যায়। এ হামলার ঘটনায় দেশটির মুসলিমদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায় বৌদ্ধরা। নতুন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম নেয়। এসব কিছু বিবেচনায় এনে ২০১৮ সালের করা এমন আইনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে আমেরিকান প্রশাসন।  তথ্যসূত্র: বিবিসি  আই//এমএইচ//

লন্ডন যেন এক ছোট্ট পৃথিবী

লন্ডনের আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারলেও, এখানে মানুষ চেনা দায়! কে কোন দেশের নাগরিক বোঝার উপায় নেই ! অনায়াসেই তাই লন্ডনকে একটা ছোট্ট পৃথিবী বললে অত্যুক্তি হবে না মোটেও! এশিয়ানরা যে রকম গিজগিজ করছে, তেমনি লাতিন, আফ্রিকানদের কমতি নেই। ফুটপাতে আপনার পাশ দিয়ে সাত ফুট লম্বা কেউ হেঁটে যাবে তো পরক্ষণেই পাঁচ ফিট কেউ আপনাকে অতিক্রম করবে। হোটেলের লিফটে যেমন ক্রোয়েশিয়ার কোনও দম্পতির নিজেদের মধ্যে অপরিচিত ভাষার ব্যবহার কানে আসে, তেমনি আবার টিউবে সহজেই নজর কাড়ে ভারতীয় রমণীর মোবাইল ফোনে বলিউড মুভি দেখার দৃশ্য। দেশটা এমনই বৈচিত্র্য ভরা। সারা পৃথিবীকে যেন দুহাত ভরে আলিঙ্গন করছে। তবে কেউ কোথাও হস্তক্ষেপ না করে! অর্থাৎ যে যার মতো, অযথা ঘাটাতে যায় না কেউ কাউকেই! তাইতো পাশাপাশি সিটে বসেই ভ্রমণ করছে বোরকা ও মিনি স্কার্ট পরা নারী। কে কালো কে সাদা ভ্রুক্ষেপ নেই কারো! আর সেটার সময়ই বা কই? প্রতিটি মানুষ যেন চাবি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া পুতুল। ছুটছে আর ছুটছে। বাসে, ট্রেনে, হেঁটে শুধুই অবিরাম ছুটে চলা। সপ্তাহে পাঁচদিন গাধার খাটুনি। ছুটির দুদিন পরিবারের সময় দেওয়া, বাড়ির কাজ। বাংলাদেশিরাও অদ্ভুতভাবে মানিয়ে নিয়েছে এমন বিলেত জীবনের সঙ্গে। ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। দোকানে, রেষ্টুরেন্টে শুরুর ইংরেজি আলাপ দ্রুতই বাংলা থেকে আঞ্চলিকতায় রূপ পায়। ওভালে তো বাংলাদেশের অনুশীলনের সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুজন ভদ্রলোকের পরিষ্কার বাংলা শুনে চমকে যেতেই হল। একটা বড় প্রজন্মের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানে, হয়তো কখনও বাংলাদেশে যায়নি কিন্তু তবুও মনের ভেতরের এক কোণে কোথাও না কোথাও পূর্বপুরুষের ভিটেকে ঠিকই ধারণ করে রেখেছে। ঠুনকো দেশপ্রেম হয়তো নেই, কিন্তু নিজের কাজে শতভাগ নিয়োজিত এখানে সবাই। তাইতো লাখো বিদেশির ভিড়ে অপরিচিত শহরে হঠাৎ বাঙালি পেয়ে আপনার মনে আবেগ উথলে উঠলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করাই ভালো কারণ অন্য প্রান্তের প্রতিক্রিয়া বিপরীতও হতে পারে! বিবিসি অবলম্বনে

কর্মী পুনঃস্থাপনের পুরনো প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে

  আগামী ১ জুলাই থেকে বিদেশি কর্মীদের পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া চালু করার নোটিশ জারি করেছে মালয়েশিয়া সরকার। ইতোপূর্বে বাতিল করা পুরনো প্রক্রিয়া আবার কার্যকর হচ্ছে।  গতকাল শুক্রবার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কোম্পানি থেকে কোনও কর্মী নিজ দেশে চলে গেলে তার স্থলে অন্য কর্মী নিয়োগ করতে পারবে। যারা এর আগে মালয়েশিয়ায় যে মালিকের অধীনে কর্মরত ছিল এবং সেই পুরনো মালিকই ওই কর্মীকে নিয়ে আসতে পারবে। কারণ পুরাতন কমীরা অভিজ্ঞ, আর যারা ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় দশ বছর অবস্থান, বা বয়স ৪৫ বছর হয়েছে তারা নিয়োগ পাবে না। এ পদ্ধতি সব সেক্টরের জন্য কার্যকর করা হয়েছে।  মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে মালয়েশিয়া সরকার ২০১৭ সালে স্থগিত করা সিস্টেমটির পূর্বস্থাপনের অনুমোদন দেয়। সরকার বিশ্বাস করে যে এই পদ্ধতিতে মালয়েশিয়াতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো হবে না বরং নিয়োগকারীদের জন্য তার কোম্পানিতে কর্মীদের আগের (অনুমোদিত কোটা) সংখ্যাটি বজায় থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনও কোম্পানির সরকার অনুমোদিত ১০০ জন বিদেশি কর্মীর মধ্যে ২০ জন কর্মী নিজ দেশে ইতিমধ্যেই চলে গেয়ে থাকে, তাহলে ওই কোম্পানি চাইলে চলে যাওয়া ২০ জন কর্মীর স্থানে নতুন ২০ জন কর্মীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোটার আবেদন করতে হবে না। কিন্তু এই পদ্ধতিতে নিয়োগকর্তারা কোন দেশের শ্রমিকের বিপরীতে কোন দেশ থেকে  শ্রমিকদের পুনঃস্থাপন করতে পারবেন  তা স্পষ্ট বলা হয়নি। এদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা অবৈধ কর্মীদের প্রতিস্থাপন করতে পারবে কি না এমন ইঙ্গিতও নেই। তবে অবৈধ কর্মী এ সুযোগ পেলে সবার জন্য ভালো হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এম কুলাসেগারন আরও বলেন, পণ্যের উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য শিল্পের মুখোমুখি হওয়া শ্রমিকদের ঘাটতির সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে রফতানির জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। বিদেশি কর্মীদের প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক নিয়োগকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই প্রতিস্থাপনের নামে দালালরা যেন প্রতারিত না হয় সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রবাসীরা। একে//

কায়রো অপেরা হাউসে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা

মিশরের কায়রো অপেরা হাউসে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রামাদান কালচারাল নাইটস’ শীর্ষক পক্ষকালব্যাপী আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে ২৭ মে রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা ছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগীতায় বাংলাদেশের এই সাংস্কৃতিক দলে পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন, শিল্পী সুজিত মুস্তফা, টুনটুন বাউল, মেহেরিন এবং নাসরিন ইলা। যন্ত্র সহযোগী ছিলেন বিনোদ রায়, আতিকুর রহমান, শাহ কামাল,  নয়ন মিয়া এবং শুভ্র। সাংস্কৃতিক দলের দলপ্রধান ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ছানিয়া আক্তার এবং সমন্বয় করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মো. আবদুল্লাহ এবং সদস্য হাবিবুর রহমান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন শেষে ৩১ মে দলটি দেশে ফিরেছেন। কেআই/

সৌদি ভিজিট ভিসার ফি কমছে

বাংলাদেশীদের জন্য ভিজিট ভিসা দু’হাজার টাকা থেকে কমিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উদ্যেগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কমিউনিটি জেদ্দা কতৃক আয়োজিত মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন। আব্দুল মোমেন বলেন, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে সৌদি সরকার পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ২০০ রিয়ালে ভিজিট ভিসা দিচ্ছেন । আমাদের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আসার পর ভিজিট ভিসা নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন যাতে করে ভিজিট ভিসা ফি কমিয়ে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে বিমানবন্দরে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই কাজ শুরু হয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মনিটর করা হবে।" পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে, দুতাবাস ও কনস্যুলেটের সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে ‘দূতাবাস অ্যাপ’ চালু করা হচ্ছে। দূতাবাস অ্যাপের মাধ্যমে প্রত্যেকটা নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বৈধ আবেদন করলে  কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সেবা নিতে আসা অসংখ্য প্রবাসী ভিড়ের কারণে অপেক্ষা করতে হয় প্রবাসীদের এই অপেক্ষা লাঘব করতে আমরা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ব্লাক বক্স পাঠিয়েছি যাতে করে ওয়েটিং রুমে বসে অপেক্ষামান প্রবাসীরা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশ দরিদ্রপীড়িত ছিল। কিন্তু, আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষিতে বাংলাদেশে এখন বাম্পার ফলন হচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয় আগের চেয়ে তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখতে চান। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এগুলো অর্জন করতে অনেক পরিশ্রম করতে হবে"। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুটি নীতি প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরমধ্যে একটি হচ্ছে, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি (অর্থনৈতিক কূটনীতি)। যার মাধ্যমে রূপরেখা অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য যোগাযোগ বৃদ্ধি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আগামী তিন বছরের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসব দেশ থেকে কী ধরণের সুযোগ-সুবিধা ও বাণিজ্য বিনিয়োগ করা যায় তার তালিকা তৈরি করতে তাদেরকে বলা হয়েছে এবং এর সুফল আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও কাউন্সিলর সালাউদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্। অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের জেদ্দা তাইয়েফ, মদিনা থেকে আগত আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী, বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। কেআই/          

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌদি প্রবাসীদের প্রত্যাশা

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ১৪তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৩১ মে পবিত্র মক্কা নগরীতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ মোট ১৪৮টি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে। ওআইসি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়কগুলোতে ওআইসির দেশ সমূহের জাতীয় পতাকায় সু-সজ্জিত করা হয়েছে। এবারের ওআইসি সামিটে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রবাসীরা মনে করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যার কথা সৌদি বাদশার কাছে তুলে ধরবেন। প্রবাসীদের একামা নবায়ন, লেবার বা মক্তব আমেল ফি যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে যার কারণে অসংখ্য প্রবাসী একামা নবায়ন না করে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। প্রবাসী শাহ আলম সাফা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আমরা আশার আলোর চোখ দেখতে পাচ্ছি,আমাদের একামা নবায়ন সমস্যার ও মক্তব আমেল ফি নিয়ে সৌদি বাদশার কাছে ফি কমানোর জন্য অনুরোধ করবেন। শাহেদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অহংকার আমাদের গর্ব, তিনি এখন বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি এখন বিশ্বনেতা। তার কাছে প্রবাসীদের চাওয়া হচ্ছে, তিনি যথাসাধ্য পূরণ করবে বলে আমরা আশাবাদী। বালাদিয়া কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসী নাজিম উদ্দিন বলেন, যেহেতু বিদেশে থাকি আমাদের সুখ দুঃখের খবর প্রধানমন্ত্রী নেবেন। আমাদের সুযোগ সুবিধার জন্য সৌদি সরকারের কাছে আবেদন জানাবে, বিদেশে আসতে অনেক টাকা লাগে অন্যান্য দেশের অনেক কম টাকা লাগে,আমাদের দেশের লোক যেন কম টাকা দিয়ে আসতে পারে আমরা এটাই চাই। সৌদি আরবে অনেক বাংলাদেশী আছেন যারা নামে বেনামে সৌদি কপিলের নামে ব্যবসা করে যাচ্ছেন কিন্তু তাদের বর্তমানে একামা নবায়ন কর্মচারী একামাসহ হাজার হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে যার ফলে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । কমিউনিটি নেতা এম এ সালাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা সৌদি আরব আসছেন এতে আমরা প্রবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা আশা করবো, সৌদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যে একটা টানাপোড়েন আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসার পর তা সমাপ্তি ঘটবে এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সৌদি সরকারের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবী, প্রবাসে মৃত্যুবরণ করলে লাশ পাঠানো নিয়ে একটা জটিলতা দেখা দেয়। লাশ সরকারি খরচে দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় সে লক্ষে তিনি পদক্ষেপ নেবেন। কম খরচে  সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো এবং ফ্রি ভিসাই যেন কোন শ্রমিক না আসতে পারে তার জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। দক্ষ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যেন নারী ও পুরুষ শ্রমিক পাঠান যাতে এখানে এসে সৌদি ভাষা বুঝতে পারেন এবং যেন কাজে যোগদান করতে পারবেন তথাপি যেন বেকার থাকতে না হয়। দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা আছে সৌদি আরবে। তাই সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবী জানান প্রবাসীরা। প্রধানমন্ত্রী যেন প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলে প্রবাসীরা যেন তাদের সমস্যাগুলো থেকে বেড়িয়ে এসে কাজের মাধ্যমে নিজের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে এই প্রত্যাশা এখন সৌদি প্রবাসীদের। কেআই/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি