ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:২৫:০১, রবিবার

সময়কে কাজে লাগানোর ৯টি পরামর্শ

সময়কে কাজে লাগানোর ৯টি পরামর্শ

সময় অত্যন্ত মূল্যবান। সময় আর অর্থের ব্যাপারে একটি মৌলিক সত্য হলো দুটিই আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন। এত বেশি প্রয়োজন যে সে চাহিদা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। প্রায় সবাই আমরা মনে করি আরও অর্থ পাওয়া গেলে ভালো হতো। আরও একটু সময় যদি পাওয়া যেত তাহলে কাজটা সুন্দরভাবে করা যেত। আসলে সময়ের অভাবের কারণে কাজ সুচারুরূপে করা যায় না। পরিবারকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা যায় না, নিজেকে নিয়ে যে নিমগ্ন থাকব তাও হয়ে ওঠে না। আমাদের এই প্রজন্মের মাঝেই সময়ের অভাবজনিত হাহাকার সবচেয়ে বেশি। হাহাকার যতই থাকুক এই ব্যাপারে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে গেলে আপনার জীবন এত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠবে যে আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন। আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আক্রান্ত হবেন। অত্যন্ত নিখুঁত ব্যক্তিগত কর্ম নির্ঘণ্ট আপনার উদ্বেগকেই শুধু বাড়িয়ে দেবে। তাই নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্যে সময়ের উপর আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নিম্নের প্রণালীগুলো অনুসরণ করলে সময়ের উপর কর্মতালিকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন নিরূপণ করুন তারপর অর্জনের চেষ্টা করুন সময় বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মতালিকা প্রণয়ন। প্রতি মুহূর্তেই হাজারটি ভিন্ন ধরনের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কোন কাজটি বিশেষভাবে করা প্রয়োজন তা নিরূপণ করতে পারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুপারম্যানের ধারণা ত্যাগ করুন আমরা সবকিছুই নিখুঁত সুন্দরভাবে করতে চাই। আর বড় কিছু করার তাড়না আমাদের স্নায়ুর উপর এক অবর্ণনীয় চাপ সৃষ্টি করে। তবে বড় কিছু করতে চাওয়া ও বড় কিছু করা এর মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। বড় কিছু করতে গেলে ছোটখাট অনেক কিছুকে এড়িয়ে যেতে হয়। বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে উঠুন কাজের ঝামেলা কমানোর জন্যে আপনার জমে থাকা কাজগুলোকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলুন। একটি হচ্ছে জরুরি আরেকটি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি গ্রুপে অনেক তুচ্ছ বিষয়ও থাকতে পারে। যেমন বসের চিৎকার, টেলিফোনের ঘণ্টাধ্বনি এ ধরনের ব্যাপার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, তুচ্ছ বিষয় নিয়েই আমরা বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি মন দিলে দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া যায় এবং সময়ও অনেক বেঁচে যায়। দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্যের জন্যে সময় বাঁচান সবসময় দেখবেন জরুরি কাজ করতে করতে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের প্রয়োজন পূরণ করার পর দূরপ্রসারী কাজের জন্যে সময় পাওয়া যাচ্ছে না। দূরপ্রসারী লক্ষ্যের জন্যে প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় ব্যয় করুন। পরবর্তী জীবনে দেখবেন এই আধঘণ্টা-একঘণ্টা সময়ই আপনাকে বড় ধরনের তৃপ্তি দিচ্ছে। সংখ্যার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ঠিক করুন আপনার যা যা করা প্রয়োজন তার তালিকা প্রস্তুত করুন। তারপর গুরুত্বের ভিত্তিতে এক থেকে দশ পর্যন্ত নম্বর দিন। এক হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, আর দশ হচ্ছে সর্বনিম্ন। এরপর তালিকার প্রতিটি বিষয়কে জরুরি ভিত্তিতে নাম্বার দিন। এক হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি, আর তিন হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম জরুরি। এরপর গুরুত্ব ও জরুরি এই দুই-এর সংখ্যাকে পূরণ করুন। যে কাজের সংখ্যা সবচেয়ে কম তাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বলে বিবেচনা করুন। অগ্রাধিকার নিরূপণের কৌশল অগ্রাধিকার নিরূপণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হচ্ছে প্রতিদিন দিনের কর্মতালিকা প্রস্তুত করা। সারাদিন কি করতে হবে লিখে ফেলুন। তারপর সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর পাশে ‘ক’ চিহ্ন দিন। এরপর এই কাজটি করতে কত সময় লাগতে পারে তা অনুমান করে দেখুন। যদি দেখেন সবগুলো কাজ করতে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে তাহলে তালিকা সংক্ষেপ করুন। সারাদিন অনুসারে কাজগুলো করতে চেষ্টা করুন। গুছিয়ে কাজ করুন আমাদের অনেকেই অগোছালো অবস্থায় কাজ করি। এতে সময় লাগে বেশি। একটু সচেতনভাবে গুছিয়ে কাজ করলে সময় ও অর্থ দুইই বাঁচানো যায়। টেবিল গোছানো ও কাজের চাপ কমানোর জন্যে যে কাজগুলো আপনার অধীনস্থরা করতে পারে সেই কাগজপত্রগুলোর উপর তাদের নাম লিখে সরাসরি তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। নিজের টেবিলে যে কাজগুলো শুধু আপনি নিজেই করবেন সেই কাগজপত্রগুলো রাখুন। অপ্রয়োজনীয় কাগজে টেবিল জাম করে রাখবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার টেবিলে আসা কাগজপত্রের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ প্রয়োজনীয় কাগজ। ৬০ ভাগ কাগজই অপ্রয়োজনীয়। আর যে কাগজগুলো আপনি ফাইল করে রাখছেন তার মাত্র ৫ থেকে ১০ ভাগ আপনার কাজে আসবে। তাই অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্দ্বিধায় ফেলে দিন। সময়ের অপচয় রোধ করুন আমাদের যে সময় নেই তা নয়, আসলে আমাদের মনে হয় আমরা খুব ব্যস্ত। কিন্তু মূল্যবান সময়ের একটা বিরাট অংশ অপচয় হয়, এটা ঠিক। আমাদের অজ্ঞাতসারেই অনেক সময় অহেতুক নষ্ট হয়ে যায়। এই নষ্ট সময়কে বাঁচাতে পারলেও দিনে একাধিক কর্মঘণ্টা যোগ করা সম্ভব। অনাহূত দর্শনার্থী ও ফোন আমাদের দিনের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সময় অনাহূত দর্শনার্থীর সঙ্গে ও টেলিফোনে খোশালাপ করতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এ রকম অনাহূত দর্শনার্থী অফিসে আপনার কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আপনি চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস করার পরিবর্তে একটু হেসে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি আপনার জন্যে কি করতে পারি?’ অফিসকক্ষে দেয়ালে একটি বড় ঘড়ি রাখুন, যাতে করে আপনি প্রয়োজনবোধে ঘড়ির দিকে তাকাতে পারেন। তাহলে আপনি দেখবেন যে, আলাপ অহেতুক দীর্ঘায়িত হচ্ছে না। কাউকে টেলিফোন করলে তাকে খুঁজে, ডেকে আনতে বলে টেলিফোন ধরে রেখে অহেতুক সময় নষ্ট করবেন না। বরং খবর দিয়ে রাখুন যে আপনি আবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে টেলিফোন করবেন। কাউকে রিংব্যাক করতে বললেও নির্দিষ্ট সময়ে রিংব্যাক করতে বলুন। টেলিফোনে আলাপ যাতে দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্যে কাউকে অফিসে টেলিফোন করলে লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে অথবা অফিস ছুটির কিছুক্ষণ আগে করুন। বোকার মতো আমরা অনেক সময় কাজ করার প্রস্তুতি নিতেই প্রচুর সময় ব্যয় করে ফেলি। যেমন কাজ শুরু করার আগে এক কাপ চা বা কফি খেয়ে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া বা কোনও টেলিফোন করার আগে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া। এ সব প্রস্তুতি বাদ দিয়ে সরাসরি কাজে বসে যান এবং সেরে ফেলুন। কাজ শেষ করে নিজেকে চা বা কফি দ্বারা পুরস্কৃত করুন। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো নিয়ে আপনি মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারেন। দীর্ঘসূত্রিতার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। সময় যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আসলে আমরা বুঝি না। আধুনিক সভ্যতাই যে শুধু সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে তা নয়, পবিত্র কোরআন শরীফেও সূরা আর রাহমান-এ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘কুল্লো ইয়াওমিন হুয়া ফিস্শান। ফাবি আইয়্যে আলায়ে রাব্বি ক্যুমা তুকাজ্জিবান।’ অর্থাৎ ‘সময়ের প্রতিটি মুহূর্তেই আমার মহিমা নব নব রূপে দীপ্যমান। তুমি আমার কোন দানকে অস্বীকার করবে?’ বস্তুত, সময়ের অপচয় করা নিজের অজ্ঞাতসারে স্রষ্টার দান ও মহিমাকে অবহেলা করারই শামিল।
রাশিফল : জেনেনিন কেমন যাবে আজকের দিনটি!

রাশি নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা। এটাকে কেউ বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়, দিনের শুরুতে মিলিয়ে নিন- কেমন যাবে আজকের দিনটি। আজ ২৫ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, শনিবার। আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এবং ১৯ রমজান ১৪৪০ হিজরি। নৈসর্গিক রাশিচক্রে রবি আজ মিথুন রাশিতে অবস্থান করছে। আজ যদি আপনার জন্মদিন হয় তবে পাশ্চাত্য জ্যোতিষে আপনি মিথুন রাশির জাতক/জাতিকা। আপনার জন্ম সংখ্যা : ৭। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ : বুধ ও নেপচুন। আপনার শুভ সংখ্যা : ৫ ও ৭। শুভ বার : বুধ ও সোম। শুভ রত্ন : পান্না ও অ্যামিথিস্ট। জেনে নিন আজকে আপনার রাশিতে কী আছে— মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) : আপনি যদি মেষ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ সামাজিক কোনো কাজে অংশ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। পিতৃস্বাস্থ্য ভালো থাকতে পারে। তবে অসুস্থ পিতার শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০ মে) : আপনি যদি বৃষ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আপনার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নতুন কোনো ধারণা পেতে পারেন। জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। কোনো সেলাকের পরামর্শে উপকৃত হতে পারেন। ভাগ্যোন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন) : আপনি যদি মিথুন রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ সময় খুব একটা অনুকূল নাও থাকতে পারে। জৈবিক কামনা-বাসনাকে সংযত রাখুন। অন্যথায় সুনাম ও মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। শরীর ভালো যাবে না। অবহেলা না করে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই) : আপনি যদি কর্কট রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে দিনটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। দাম্পত্য ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলুন। অপরের প্রতি সদাচরণ করুন। আপনজন কেউ শত্রুতা করতে পারে। সিংহ রাশি (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) : আপনি যদি সিংহ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে শরীর ভালো যাবে না। সাময়িক কোনো অসুস্থতায় ভুগতে পারেন। আহারে-বিহারে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কর্মস্থলে কোনো ঝামেলা হতে পারে। কন্যা রাশি (২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর) : আপনি যদি কন্যা রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে বিদ্যার্থীদের জন্য দিনটি শুভ। পড়াশোনায় মন বসাতে পারবেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহবোধ করতে পারেন। নিজের মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। যাত্রা ও যোগাযোগ শুভ। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর) : আপনি যদি তুলা রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ অপ্রত্যাশিত সূত্র থেকে অর্থাগম হতে পারে। মাতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। অসুস্থ মায়ের আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা আছে। আবেগ সংযত রাখুন। আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। বৃশ্চিক রাশি (২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর) : আপনি যদি বৃশ্চিক রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। প্রবাসী আপনজনর কোনো সংবাদ পেতে পারেন। প্রাপ্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন। ধনু রাশি (২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) : আপনি যদি ধনু রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আর্থিক দিক ভালো যেতে পারে। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাগাদা দিন। মূল্যবোধ বজায় রাখুন। পড়াশোনায় আনন্দ পাবেন। মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি) : আপনি যদি মকর রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে দিনটি মোটামুটি শুভ সম্ভাবনাময়। শরীর ভালো থাকতে পারে। অসুস্থদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। দাম্পত্য ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলুন। অপরের প্রতি সদাচরণ করুন। কুম্ভ রাশি (২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) : আপনি যদি  কুম্ভ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে কোনো পূর্বকর্মের ফল ভোগ করতে পারেন। ব্যক্তিগত কোনো ব্যর্থতার জন্য মন খারাপ হতে পারে। শরীর ভালো যাবে না। অবহেলা না করে চিকিত্সা নিন। ঋণগ্রস্ত হতে পারেন। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) : আপনি যদি মীন রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। বড় ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। পেশাগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। এসএ/  

মহৌষধ হিসেবে খাবারে কাজ করে গোলমরিচ

খাবারে গোল মরিচ শুধু স্বাদই বাড়ায় না, এর গুণাগুণও অনেক। বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবেও কাজ করে এই গোলমরিচ। তাই স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ খাওয়া প্রয়োজনীয়। সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে গোলমরিচ অত্যন্ত কার্যকরী, কিন্তু তা ছাড়াও গোলমরিচের বেশ কিছু উপকার রয়েছে।  ত্বকের রোগ থাকলে তার চিকিৎসাতে কাজে লাগে গোলমরিচ। গোলমরিচ গুঁড়ো করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।  এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। ফলে ত্বকে সহজে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন হয়। পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ। গোটা মরিচের খোসা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ফলে গোলমরিচ দিয়ে খাবার বানালে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে সহজেই। গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে। কারণ এটি পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়।  হজম ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাকে এড়ানো যায়। হজমের সমস্যা থেকে অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সেইগুলি এড়ানো যায়। যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করেন তাদের জন্য গোলমরিচ খুবই উপকারী। গোলমরিচ তেলের গন্ধ নিয়মিত সেবন করা  বা সরাসরি  গোলমরিচ খেলেও ধূমপানের প্রতি আসক্তি কমবে অনেকটাই। দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে মুখে গোলমরিচ রাখতে পারেন। ব্যথা নিরাময় করতে গোলমরিচ সাহায্য করে। নাক বন্ধ থাকা, হাঁপানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি দিতেও গোলমরিচের জুড‌়ি মেলা ভার। এক কাপ গরম জলে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হবে। গলা ব্যথা কমবে। গোলমরিচ খেলে শরীর গরম হয়ে ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন কমতে থাকে। ফলে ত্বক ভালো থাকে ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।   এনএম/এসএইচ/    

ভাল আছি! ভাল থাকুন!

সফলতা হচ্ছে এক বিরামহীন সফর। সফলতা গন্তব্য নয়। সফলতা গন্তব্যে পৌঁছানোর একটি পথ। আর গন্তব্যে পৌঁছার জন্যে পথ পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থতাও পরিপূর্ণ সফল জীবনের জন্যে মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। আত্ম-উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডেনিস ওয়েটলি একটি চমৎকার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি ১৯৭৯ সালের। ডেনিস ওয়েটলি শিকাগো থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে যাবেন। সেখানে তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা। ব্যস্ততাকে সামাল দিয়ে শিকাগোর ওহারা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে দেখেন দেরি হয়ে গেছে। দৌড়ে টার্মিনালে পৌঁছে দেখেন গেট বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানে ওঠার সিঁড়ি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। গেটকিপার নারীকে তিনি বিমানটি থামানোর জন্যে অনুনয়, অনুরোধ, তর্ক বিতর্ক করলেন। কোনও লাভ হলো না। চোখের সামনে বিমানটিকে রানওয়ে দিয়ে চলে যেতে দেখলেন। রাগে ক্ষোভে ঝড়ের বেগে তিনি ফিরে এলেন টিকিট কাউন্টারে। আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হলো। তিনি লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়ই জানতে পারলেন, যে বিমানে তার যাওয়ার কথা ছিল, তা আকাশে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের একটি ইঞ্জিন ভেঙে রানওয়েতে পড়ে যায়। হাইড্রোলিক লাইন ও কন্ট্রোল কেবল ছিঁড়ে যায়। পাইলট বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। বিমানের আরোহী ও ক্রু সবাই নিহত হয়। ডেনিস ওয়েটলি এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমি টিকিট লাইন ত্যাগ করে এয়ারপোর্ট হোটেলে একটা রুমে উঠলাম। বিছানার পাশে কারপেটের ওপর নতজানু হয়ে সেজদা করলাম। স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রার্থনা করলাম। এক যুগ পার হয়ে গেছে। এখনও ফ্লাইট ১৯১-এর টিকিটটি আমার কাছে রয়েছে। আমি কখনও টাকা ফেরত নেওয়ার জন্যে টিকিটটি ট্রাভেল এজেন্টের কাছে পাঠাইনি। আমি এই টিকিটটি আমার অফিস কক্ষে বুলেটিন বোর্ডে আটকে রেখেছি। এই টিকিটটি নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিদিনই আমার জন্যে ক্রিসমাস। আমি বেঁচে আছি এটাই তো অনেক বড় রহমত।’ তাই পরিপূর্ণ জীবনের জন্যে মেনে চলুন ৬টি বষয়- মানুষকে গুরুত্ব দিন কোনটা প্রয়োজনীয় আর কি করা ভাল তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিবেচনা করুন। অনেকেই আছেন যারা মূলত নিঃসঙ্গ ও ক্লান্তিকর জীবন যাপন করেন। কারণ তারা ব্যক্তিগত সম্পর্কে অবহেলা করেছেন। অধিকাংশ সময়ই তারা কাজ বা পেশাকে এত বেশি গুরুত্ব দেন যে, বন্ধু ও পরিবার পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। খ্যাতি বা অর্থের পেছনে এরা এতটা অন্ধের মত ছোটেন যে, স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা কাউকেই কোনও সময় দিতে পারেন না। ফলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ও খ্যাতির মাঝেও একেবারে নিঃসঙ্গ ও বঞ্চিত অবস্থায় পড়ে যান। তখন তিনি সন্তান বা স্ত্রীর সময় কামনা করেন। কিন্তু দেখা যায় যে, স্ত্রী বা সন্তানের তাকে দেওয়ার মত সময় নেই। তারা তাদের নিজস্ব জগৎ গড়ে তুলেছে। তাই পরিবারের জন্যে, বন্ধুদের জন্যে, আত্মীয়দের জন্যে, সামাজিক কাজের জন্যে আগে থেকেই সময় বের করে নিন। আন্তরিক বন্ধন গড়ে তুলতে সময় ব্যয় করুন। ক্লান্তিকর জীবন থেকে আপনি মুক্তি পাবেন। সবার সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ ও সম্মানজনক আচরণ করুন অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা বা অবহেলাপূর্ণ আচরণ সবসময় জীবনকে মমতাহীন পাশবিকতার দিকে নিয়ে যায়। অপর পক্ষে বিনয়, সহানুভূতি ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ জীবনকে মহিমান্বিত করে। মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ শুধু বন্ধুদের সঙ্গে নয়, শত্রুদের সঙ্গেও করা যেতে পারে। শত্রুর সঙ্গে সহানুভূতি ও মহানুভব আচরণ অনেক সময় শত্রুতা দূর করতেও সাহায্য করে। আমরা যদি বাংলার বীর ঈশা খাঁর জীবন দেখি, তবে এর জ্বলন্ত প্রমাণ পাই। বিশাল মোঘল বাহিনী যখন ঈশা খাঁর রাজধানী সোনার গাঁ আক্রমণ করল, তখন ঈশা খাঁ মোঘল সেনাপতি মানসিংহকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণের আহ্বান জানালেন। রাজা মানসিংহ আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেল। ঈশা খাঁ অনায়াসে এই সুযোগ গ্রহণ করে মানসিংহকে বধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নতুন তরবারি এগিয়ে দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানালেন। ঈশা খাঁর মহানুভবতা মানসিংহের হৃদয় জয় করল। দুই পক্ষের সন্ধি হল। মানসিংহ দিল্লী ফিরে গেলেন। মহানুভবতা প্রদর্শন না করে ঈশা খাঁ মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। পরিণামে দিল্লী থেকে আরও বিশাল বাহিনী আসত। যার মোকাবিলা হয়তো ঈশা খাঁর পক্ষে করা সম্ভব হতো না। কিন্তু ঈশা খাঁর মহানুভবতা তাকে রক্তক্ষয় ও ভবিষ্যৎ পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। আসলে সহানুভূতি ও মহানুভবতা এমন এক মানবীয় গুণ যা জীবনকে স্বর্গীয় করে তোলে। সবসময় শোকরগুজার থাকুন দুঃখ কষ্টের দিকে সহজেই আমাদের চোখ চলে যায়। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবে বা জাতিগতভাবে অনেকের মধ্যেই নাই নাই খাই খাই ভাব চলে আসে। আপনি যদি আপনার কোন প্রতিবেশী বা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, ভাই কেমন আছেন! তিনি বলবেন, ‘এই কোন রকম আছি’ বা ‘এই কোন রকম কেটে যাচ্ছে’ বা ‘আর থাকা’ ইত্যাকার নানা রকম ক্লান্তিকর কথা। এমনকি একজন কোটিপতিকেও যদি জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছেন? তাকেও বলতে শুনবেন এই একই রকম ক্লান্তিকর কথা। একটি ভাল লেখা সম্পর্কেও মন্তব্য জিজ্ঞেস করুন, খুব কম ব্যক্তিকেই বলতে শুনবেন লেখাটি ভাল হয়েছে। অধিকাংশকেই বলতে শুনবেন ‘এই চলে আরকি’ বা ‘মোটামুটি হয়েছে’। অর্থাৎ সবকিছুতেই নেতিবাচক চিন্তা ও না- শুকরিয়ার মনোভাব। আর এই মনোভাব সবসময় জীবনকে আরও হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়। কিন্তু আপনি যদি একবার প্রো-অ্যাকটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারেন, তখন আপনি দেখবেন জীবনের সুন্দর দিকগুলো আপনার কাছে উদ্ভাসিত হচ্ছে, আপনার হৃদয়কে আনন্দে আপ্লুত করছে। প্রকৃতির নিয়মই হচ্ছে তেলে মাথায় তেল দেওয়া। আপনি যদি একজন ইউরোপীয়কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেমন আছেন? তার যত কষ্ট বা অসুবিধাই থাক না কেন তিনি প্রথম বলবেন, ‘ফাইন’ অর্থাৎ বেশ ভাল আছি। এই বলার মধ্য দিয়ে তিনি ভাল জিনিসকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করেন। দুনিয়াতে এখন তারা নিঃসন্দেহে বৈষয়িক দিক থেকে ভাল আছেন। এ প্রসঙ্গে আমরা হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর একটি বাণী স্মরণ করতে পারি। তিনি বলেছেন সালাম বিনিময়ের পর কেউ তোমার কুশল জিজ্ঞেস করলে বোলো, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভাল আছি।’ দৈনন্দিন জীবনে আপনিও এই ভাল আছি বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনি শোকর গুজার হোন। প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনার ভাল থাকার পরিমাণ বেড়ে যাবে। দুঃখকে শক্তিতে রূপান্তরিত করুন দুঃখ ছাড়া জীবন নেই। ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্য আসে না। সফল মানুষরা সবসময় দুঃখ ও ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। দয়ালু হোন আত্মকেন্দ্রিকতা ও ‘আমারটা আগে’ এই দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে এক ক্লান্তিকর বোঝায় রূপান্তরিত করে। পক্ষান্তরে দয়া ও সহানুভূতি জীবনকে আনন্দে রূপান্তরিত করে। দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন বলতেন, আমার তো জীবন একটাই। যে পথ দিয়ে এখন যাচ্ছি সে পথে তো আর নাও আসতে পারি। এই পথে কারো জন্যে যদি কোন কিছু করার সুযোগ থাকে তবে তা এখনই করা উচিত। দেরি করলে বা অবহেলা করলে কিছু করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারি। অন্যের উপকার যত ক্ষুদ্র আকারেই হোক আজ থেকেই শুরু করুন। দয়াশীল হোন। আলাদা আনন্দ পাবেন। মেঘের আড়ালেই রংধনু রয়েছে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনের আনন্দ সম্ভারকে কখনও উপভোগ করতে পারবেন না। হতাশা ও আনন্দ হচ্ছে এক পরস্পর বিরোধী অবস্থান। হতাশাবোধ আনন্দকে মাটি করে দেয়। আর হৃদয়ে আনন্দের অনুভূতি আনতে পারলে হতাশা পালিয়ে যায়। যারা জীবনের আনন্দকে উপভোগ করেছেন, তারা সবসময় কাঁটার আড়ালে গোলাপকেই দেখেছেন। হেলেন কেলার-এর জীবন দেখুন। শিশু বয়সে রোগ তার শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেয়। তিনি কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সফল বক্তা হিসেবে সারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে ছিল তার প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি লিখেছেন ‘আমাকে এত কিছু দেয়া হয়েছে যে, কি দেয়া হয় নি তা নিয়ে ভাবার কোন সময় আমার নেই।’  শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিহীন এক নারী যদি এত প্রো-অ্যাকটিভ ও প্রত্যয়ী হতে পারেন, শোকর গুজার হতে পারেন, তা হলে আপনি কেন পারবেন না। শোকর গুজার হোন! নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনের আনন্দ সম্ভারকে উপভোগ করুন।

শ্রবনশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে কটন! দাবি গবেষকদের

কাগজ পেচিয়ে বা কাঠি দিয়ে কান খোঁচানোর চেয়ে কটন বাড ঢেড় ভাল এবং নিরাপদ, তাতে কোনও সন্দেহ নেই! কিন্তু জানেন কি বাস্তবে এই কটন বাডও আমাদের কানের মারাত্মক ক্ষতি করে! বিশ্বাস হচ্ছে না! আসুন জেনে নেওয়া যাক এ বিষয়ে চিকিত্সক, বিশেষজ্ঞদের মতামত: বছর খানেক আগের একটি সমীক্ষায় সামনে আসে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন কটন বাড ব্যবহারের ফলে! কটন বাড ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ এটির ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, কটন বাডের ক্ষতিকর দিকগুলির সম্পর্কে জেনেও তারা দিনের পর দিন এটি ব্যবহার করে চলেছেন। মার্কিন চিকিত্সক ড. ক্রিস্টোফার চ্যাং-এর মতে, কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানের এয়ারড্রাম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এর ফলে কানে ব্যথা, রক্তপাত ছাড়াও নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানের ভিতরে থাকা নরম অস্থিগুলি আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে শ্রবনশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, অসাবধানে কটন বাড ব্যবহার করলে শ্রবনশক্তি সম্পূর্ণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে। মার্কিন গবেষকদের মতে, কানের ভেতরে তৈরি হওয়া আঠালো পদার্থ বাইরের ধুলোবালি, সংক্রমণ থেকে আমাদের কানকে রক্ষা করে। কানের ভিতরের এই আঠালো পদার্থ অতিরিক্ত পরিমাণে জমে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা আমাদের ঘুমের সময় বা স্নানের সময় নিজে থেকেই বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে একান্তই যদি তা না হয় আর কানের ভেতরে যদি খুব অস্বস্তি বা চুলকানি হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনও ইয়ার ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে যখন তখন কটন বাডের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

লজ্জা দূর করার ৫ উপায়

লজ্জা একটি সুন্দর আবেগ। লজ্জা মানুষকে ক্ষতিকর প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আর লজ্জার কারণেই আমরা অশোভন কার্যকলাপ থেকে সাধারণত নিজেদের বিরত রাখি। লজ্জার কারণেই আমরা অনেক সময় লোভনীয় কিন্তু সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপ, যেমন চুরি, পরকীয়া প্রেম ইত্যাদি থেকে বিরত থাকি। তবে লজ্জা স্বাভাবিকভাবে হিতকর হলেও এর অতিরিক্ত প্রভাব বা বিকৃত প্রভাব যে কোনও মানুষের জীবনকে বিড়ম্বিত এমনকি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। লজ্জা তখন ক্রোধ, একগুঁয়েমি, অহঙ্কার, বিষণ্নতা, মৌনের মুখোশ পরিধান করতে পারে। সুপ্ত লজ্জায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবসময় লজ্জা ও গর্বের নাগরদোলায় দুলতে থাকে। সাফল্য এদের সাময়িকভাবে গর্বের পথে নিয়ে যায়, আবার যে কোনও ছোটখাট ব্যর্থতাও এদের মধ্যে লজ্জা ও অক্ষমতার অনুভূতিকে চাঙ্গা করে তোলে। এই সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে যত নিষ্কৃতি পাওয়া যায়, ততই জীবন আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। তাই সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে নিন্মোক্ত ৫টি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। লজ্জাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা শনাক্তকরণের মাধ্যমে লজ্জাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন। কোনও মানুষ, স্থান, বিষয় বা কার্যক্রমকে আপনি এড়িয়ে চলেন, তা শনাক্ত করুন। এদের এড়িয়ে চলার পেছনে সুপ্ত লজ্জার কারণগুলো খুজে বের করুন। পালিয়ে না বেড়ানো লজ্জার প্রকৃতি হচ্ছে লুকানো বা পালিয়ে বেড়ানো। তাই একে মোকাবেলা করতে হবে উল্টোভাবে। অর্থাৎ যখন আপনি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলতে যাচ্ছেন, তখন সরাসরি চোখের দিকে তাকান এবং মনে মনে ভাবুন আমার এতে লজ্জা পাবার কিছু নেই। যাদেরকে এড়িয়ে চলবেন ইচ্ছাকৃতভাবে যারা আপনাকে লজ্জাজনিত পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় বলে আপনি মনে করছেন তাদের এড়িয়ে চলুন। তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পাল্টে ফেলুন। পূর্বের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করা বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ডা. গারশেন কাউফম্যান নিরিবিলি বসে ভাবনার মাধ্যমে লজ্জাকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় একবার ক্লাসে বক্তৃতা করতে গিয়ে স্টেজে পড়ে যান। এতে ছাত্রদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। তিনি লজ্জা অনুভব করেন এবং এরপর থেকে তার মনে বক্তৃতাভীতি বাসা বাঁধে। পড়াশুনা শেষ করার পর তিনি এই লজ্জাকে দূর করার জন্যে বেশ কিছুদিন নিরিবিলি বসে পূর্বের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে তা শেষ করতেন ইতিবাচক দৃশ্যের অবতারণা করে। এভাবে তিনি লজ্জাজনক স্মৃতিকে সাফল্যের স্মৃতিতে রূপান্তরিত করেন। বক্তৃতা- যা ছিল এক সময়ে ডা. কাউফম্যানের জন্যে দুঃস্বপ্ন সেটা এক আনন্দের বিষয়ে রূপান্তরিত হয়। ত্রুটিকে সহজে মেনে নিন লজ্জার সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হচ্ছে আত্মসম্মানবোধ ও আত্মবিশ্বাস। নিজেকে সম্মান করতে শুরু করুন। নিজেকে অনন্য সৃষ্টি হিসেবে ভাবুন। কোনও মানুষই দোষক্রুটি মুক্ত নয়। আপনার মাঝেও ত্রুটি থাকতে পারে। সে ত্রুটিকে সহজে মেনে নিন। আর যে গুণগুলো রয়েছে তাকে বিকশিত করুন। আপনার বিকশিত গুণকেই মানুষ তখন সম্মান করবে। আপনারও আত্মসম্মানবোধ বেড়ে যাবে।

জীবনকে টেনশনপ্রুফ করে তোলার ১০ ধাপ

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আমাদের ভয়, সন্দেহ, প্রতিক্রিয়া ও সংস্কার থেকে বেশির ভাগ রোগের জন্ম হয়। মানসিক চাপ, টেনশন, দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা মোকাবেলার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া দ্বারাই নির্ধারিত হয় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অবস্থা। আবার মন দ্বারাই নির্ধারিত হয় কি অসুখে আমরা আক্রান্ত হবো এবং কতদিন বেঁচে থাকব। অবশ্য মন যেমন আমাদের রোগব্যাধি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তেমনি তা নিরাময়, প্রশান্তি ও সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমও হতে পারে। তাই মনের শক্তি প্রয়োগ করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা ও দেহকে টেনশনপ্রুফ করে তোলার জন্যে নিম্নোক্ত দশটি ধাপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে আপনি ক্রমান্বয়ে টেনশনে আক্রান্ত হবেন। নিজের উপরে যদি আস্থা না থাকে তাহলে অন্যদের দাবি ও প্রত্যাশার মুখে নিজেকে অসহায় মনে হবে। আর আপনি সহজেই টেনশনজনিত রোগে আক্রান্ত হবেন। আত্মবিশ্বাসহীনতা কাটিয়ে ওঠার জন্যে নিজেই শক্তির উপর বেশি করে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এর একটি সুন্দর উপায় বলে দিচ্ছি। কাগজ-কলম নিয়ে বসে নিজেকে একজন বিজ্ঞাপন লেখক হিসেবে কল্পনা করুন। মনে করুন, আপনি একটি পণ্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে এই পণ্য বিক্রি করতে হবে। তাই নিজের সম্পর্কে বলতে পারেন এমন ভালো ভালো সব কথা চিন্তা করুন। আর নিজের যা যা গুণ রয়েছে সব এক এক করে লিখুন। গুণাবলী লেখার সময় নিজের কিছু কিছু গুণকে একটু অতিরঞ্জিত করে ফেলুন, কারণ সব বিজ্ঞাপনেই তা করা হয়। নিজের দুর্বলতার কথা যা আপনি ভালো করেই জানেন তা নতুন করে দেখার কোনও প্রয়োজনই নেই। নিজের গুণাবলীর তালিকা বারবার পড়ুন। ‘না’ বলতে শিখুন অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, যারা সবসময় অন্যকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করে, অন্যে কি মনে করবে না করবে তা ভাবে, তারা বেশি টেনশনে ভোগে। আর যারা নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেয় তাদের টেনশন তুলনামূলকভাবে কম। তাই বলে নিষ্ঠুর বা অভদ্র হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার শুধু নিজের প্রয়োজন এবং ইচ্ছা সম্পর্কে আর সজাগ হওয়ার দরকার এবং আপনি যা পছন্দ করেন সে ব্যাপারে আপনার সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত। নিজের জন্যে দৃঢ় হতে শিখুন। আপনি যখন সত্যি সত্যি কিছু একটা করতে চান না তখন বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলুন। আপনি অনুভব করবেন, এই ‘না’ বলতে পারায় আপনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং আপনার টেনশন কমে গেছে। আর যাকে ‘না’ বললেন তিনিও দেখবেন ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিয়েছেন। যা করবেন না কখনোই তা বলবেন না। কারণ করব করব বলে দীর্ঘসূত্রিতা আপনার যেমন টেনশনের কারণ হবে, তেমনি পক্ষেরও তা বিরক্তির উদ্রেক করবে। জীবনের লক্ষ্যস্থির করুন বেঁচে থাকার জন্যে আমাদের দরকার কিছু প্রত্যাশা, অর্জন করার জন্যে কিছু লক্ষ্য, দেখাশোনা করার মতো বা লালন করার মতো কোনোকিছু। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার জীবন শূন্য থাকবে। উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং আশা জীবনের সব সমস্যাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করবে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের জন্যে তারুণ্যে আপনার যা আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল তার একটি তালিকা তৈরি করুন। কল্পনা করুন কৈশোরে কি কি আশা ও উদ্দীপনা আপনাকে উদ্দীপিত করেছিল। এখন চিন্তা করুন সেসব স্বপ্ন ও আশার কোন কোনটি আপনাকে এখন উদ্দীপিত করে। আপনি অনুভব করবেন, আপনার অনেক আশা এখন আপনার নাগালের মধ্যে। আপনি ইচ্ছে করলে, প্রচেষ্টা চালালে সে সব অর্জন করতে পারেন। আর এই নতুন আশাই আপনার জীবনের লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে। অগ্রাধিকার নিরূপণ করুন আপনি যদি আসল সমস্যা ও তুচ্ছ সমস্যার মধ্যে পার্থক্য করতে না পারেন, কোন কাজ আগে করবেন এবং কোনটা পরে করবেন এবং আপনার জন্যে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা যদি নির্ধারণ করতে না পারেন তাহলে আপনি টেনশনে আক্রান্ত হবেন। অহেতুক উৎকণ্ঠার বোঝা বাড়তে থাকবে। আপনি যদি সচেতনভাবে গুরুতর সমস্যা ও তুচ্ছ সমস্যার মধ্যে পার্থক্য স্থাপন না করেন তাহলে মন সবগুলো সমস্যাকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে ধরে নেবে। তাছাড়া আপনি যদি তুচ্ছ জিনিস নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে গুরুতর সমস্যা সমাধানে পিছিয়ে পড়বেন। অবশ্য সমস্যা বা কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন কিছু নয়। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনার জন্যে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কাজে সময় নষ্ট করা বোকামি মাত্র। আপনার জীবনে কি কি বিষয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে তার একটি তালিকা প্রস্তুত করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই দেখবেন, মানসিক চাপ কমে গেছে। আবেগ প্রকাশ পেতে দিন আপনি যদি চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন এবং সবকিছুই নিজের মধ্যে চেপে রাখতে চান তাহলে আপনাকে আবেগ প্রকাশ করতে শিখতে হবে। আপনি যদি দুঃখ পান এবং কাঁদতে ইচ্ছে হয় তাহলে কাঁদুন, হাউমাউ করে কাঁদুন। গবেষকরা দেখেছেন আবেগজনিত কারণে চোখে যে পানি আসে সে পানির রাসায়নিক গঠন ধুলাজনিত কারণে সৃষ্ট চোখের পানির রাসায়নিক গঠন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কান্না জিনিসটি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা প্রতিরোধক। তাই কাঁদতে ইচ্ছে করলে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই- নিঃসঙ্কোচে কাঁদুন। রাগ ও ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলুন রাগ ও ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলতে হবে। কারণ রাগ আপনার জন্যে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্রোধ জমিয়ে রাখলে তা আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে রাগ অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনও কারণে আপনার যদি রাগ হয়ে থাকে, প্রকাশ করে ফেলুন। আপনি যদি রেগে গিয়ে থাকেন, বলুন, আপনি এই কারণে রাগ করেছেন আপনার যদি মনে হয় কোনও শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রাগ প্রকাশ করা দরকার তাহলে তাই করুন। ফুটবলে জোরে একটা লাথি মারুন, দেয়ালে জোরে ২/১টা থাপ্পড়ও মারতে পারেন। কিংবা বাথরুমের কল ছেড়ে জোরে জোরে কথা বলে রাগকে কমিয়ে ফেলতে পারেন। রাগ নিজের মধ্যে পুষে রাখবেন না, যে কোনও উপায়ে একে প্রকাশ করুন। আপনার ভিতরের টেনশন কমে যাবে। একঘেয়েমি দূর করুন আমরা মনে করি, অতিব্যস্ততা ও উৎকণ্ঠা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু কর্মহীনতা ও একঘেঁয়েমিও একইভাবে মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠার কারণ হতে পারে। আপনার যদি মনে হয় জীবন একেবারে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে তাহলে কিছু শখের কাজকর্ম নিয়ে মেতে উঠুন। এটি যেমন কোনোকিছু সংগ্রহের কাজ হতে পারে, তেমনি হতে পারে কোনও সেবামূলক তৎপরতা। আপনি ভালবাসেন এমন কিছু তৎপরতা বা অন্যের উপকার হয় এমন কোনও কাজে জড়াতে পারলে আপনি নিশ্চয় গর্ব অনুভব করবেন। আর মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিতে ভয় পাবেন না। ব্যর্থতার আশঙ্কা রয়েছে এমন কাজের ঝুঁকিও কখনও-সখনও নিতে পারেন। এতে একঘেঁয়েমি দূর হবে। দিনে কয়েকবার হাসুন হাসি কিভাবে মানবদেহে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা এখনও রহস্যাবৃত। কিন্ত হাসি দমকে স্বাভাবিক করে, রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াকে সুন্দর রাখে, রক্তচাপ কমায় এবং অভ্যন্তরীণ নিরাময় হরমোন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। তাই প্রতিদিন হাসার জন্যে নতুন নতুন উপলক্ষ সৃষ্টি করুন। এজন্যে প্রথম, হাস্যোজ্জ্বল, সুখী ও রসিক লোকদের সঙ্গে যতদূর সম্ভব সময় বেশি কাটানোর চেষ্টা করতে থাকুন। দ্বিতীয়ত, মজার মজার বই, কমিক, কার্টুন পড়ুন। এছাড়া শিশুদের সঙ্গে কৌতুক, খেলাধুলা ও মজা করুন। জীবনের সঙ্গে মমতাকে যুক্ত করুন মমতা ও প্রেম এক সর্বপ্লাবী সঞ্জীবক শক্তি। যে কোনও বয়সের নরনারী একটি উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে লাভবান হতে পারেন। আমেরিকার ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছে যে যদি কোনও স্ত্রী প্রতিদিন সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীকে চুমু দিয়ে বিদায় জানায় তাহলে যাত্রাপথে স্বামীর দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কমে যায় এবং স্বামীর আয়ু গড়পড়তা পাঁচ বছর বেশি হয়ে থাকে। কারো প্রতি মমতা বা ভালবাসা থাকলে আপনার অনুভূতিকে গোপন রাখার প্রয়োজন নেই। কাউকে ভালবাসলে তাকে সে কথা বলার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। ঘর থেকে বেরোনোর সময় হাসিমুখে বিদায় নিন বা দিন। প্রিয়জন, বন্ধু বা সন্তান-সন্ততির প্রতি আদর, মমতা ও প্রেমের শালীন প্রকাশে কখনোই সঙ্কোচ করবেন না। মেডিটেশন করুন টিভি বা সিনেমার পর্দার সামনে বসলেই আপনার শরীর-মন শিথিল হবে এমন কোনও কথা নেই। টিভির সামনে বসে থাকা সত্ত্বেও দিনের সমস্যা ও উৎকণ্ঠা আপনার মনোলোকে বিচরণ করতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিথিলায়ন করুন। কল্পনাকে আপনার চিন্তা ও দেহের উপর কর্তৃত্ব করতে দিন। দরজা বন্ধ করে আধ ঘণ্টার জন্যে হাত-পা ছেড়ে কারপেটের উপর বা শক্ত বিছানায় শুয়ে পড়ুন। লম্বা দম নিতে নিতে শরীরকে শিথিল হয়ে যেতে দিন। কল্পনাকে আপনার সবচেয়ে সুখকর স্থান বা স্মৃতিতে বিচরণ করতে দিন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলুন। পাখির কলতান শুনুন। ফুলের গন্ধ অনুভব করুন। আকাশের নীলিমা আর গাছের পাতার সবুজের বৈচিত্র্যে নিজের দৃষ্টিকে হারিয়ে ফেলুন। আপনি শিথিলায়নের গভীর স্তরে পৌঁছে যাবেন। দেহ-মন যেমন প্রশান্ত হয়ে উঠবে, তেমনি সেই অবস্থায় নিজের মনোদৈহিক উন্নয়নের জন্যে অটোসাজেশন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ডাবের পানির কার্যকরী ৪ স্বাস্থ্যগুণ

ডাবের পানির স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে কমবেশি সবারই জানা। এই প্রাকৃতিক পানীয়টি প্রখর রোদে পান করলে তৃষ্ণা তো মিটবেই, পাশাপাশি পাওয়া যাবে শরীরের জন্য নানা স্বাস্থ্যগুণ। আসুন প্রচণ্ড গরমে ডাবের পানি খাওয়ার কয়েকটি আশ্চর্য সুফল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক: শক্তি বৃদ্ধি ডাবের পানিতে থাকা কার্বোহাইড্রেড শরীরে শক্তির ঘাটতিও পূরণ করে। তাই ডাব শুধু তৃষ্ণাই নয়, শক্তির ঘাটতি মিটিয়ে ক্লান্ত শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। ডি-হাইড্রেশন রোধ প্রচণ্ড গরমে শরীরে ঘামের সঙ্গে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায়। শরীরে দেখা দেয় পানির ঘাটতি। ফলে ডি-হাইড্রেশনের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই সমস্যা থেকে বাঁচাতে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ডাবের পানি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই এই গরমে ডায়াবিটিক রোগীদর জন্য ডাবের পানি খুবই উপকারী। রক্তচাপ রোধ গরমের তীব্র দাবদাহে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে অনেকটা পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাবের জল অত্যন্ত কার্যকরী। ডাবের পানিতে থাকা ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম আর পটাশায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গরমে কচি ডাবের জল শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরে পটাশিয়াম, সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

রাশিফল : কেমন যাবে আজকের দিনটি!

রাশি নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা। এটাকে কেউ বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়, দিনের শুরুতে মিলিয়ে নিন- কেমন যাবে আজকের দিনটি। আজ ২১ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার। আজ ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ এবং ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরি। নৈসর্গিক রাশিচক্রে রবি আজ মিথুন রাশিতে অবস্থান করছে। আজ যদি আপনার জন্মদিন হয় তবে পাশ্চাত্য জ্যোতিষে আপনি মিথুন রাশির জাতক/জাতিকা। আপনার জন্ম সংখ্যা : ৩। আপনার ওপর প্রভাবকারী গ্রহ : বুধ ও বৃহস্পতি। আপনার শুভ সংখ্যা : ৩ ও ৫। শুভ বার : বুধ ও বৃহস্পতি। শুভ রত্ন : পান্না ও পোখরাজ। জেনে নিন আজকে আপনার রাশিতে কী আছে— মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) : আপনি যদি মেষ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ সামাজিক সংকট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। পেশাগত দিক ভালো যাবে। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানার্থে বিদেশযাত্রার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে। বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২০ মে) : আপনি যদি বৃষ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আপনার দিনটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। অবহেলা না করে চিকিত্সা নিন। সামাজিক সংকট এড়িয়ে চলুন। জৈবিক কামনা-বাসনাকে সংযত রাখুন। মিথুন রাশি (২১ মে-২০ জুন) : আপনি যদি মিথুন রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ ব্যবসায়িক দিক ভালো যাবে। কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সহযোগিতায় উপকৃত হতে পারেন। পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। অপরের প্রতি সদাচরণ করুন। কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই) : আপনি যদি কর্কট রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে শরীর ভালো যাবে না। সাময়িক কোনো অসুস্থতায় ভুগতে পারেন। খাওয়াদাওয়ায় সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। কর্মপরিবেশ অনুকূল নাও থাকতে পারে। সিংহ রাশি (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) : আপনি যদি সিংহ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে নিজের মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। ব্যক্তিগত সৃজনশীলতায় সুফল পাবেন। ধর্মীয় কাজে আনন্দ পাবেন। সন্তানের কোনো সাফল্যে আনন্দবোধ করতে পারেন। যাত্রা ও যোগাযোগ শুভ। কন্যা রাশি (২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর) : আপনি যদি কন্যা রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে বিলাসদ্রব্য কেনাকাটা হতে পারে। মন ভালো থাকবে। কোনো প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। পারিবারিক পরিবেশ অনুকূল থাকতে পারে। আবেগ সংযত রাখুন। তুলা রাশি (২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর) : আপনি যদি তুলা রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। কাজকর্মে উত্সাহবোধ করবেন। প্রবাসী আপনজনের সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি (২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর) : আপনি যদি বৃশ্চিক রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আজ অধীনস্তদের কাজে লাগাতে পারবেন। মূল্যবোধ সমুন্নত থাকতে পারে। আর্থিক দিক ভালো যাবে। পাওনা টাকা আদায় হতে পারে। বেহাত হওয়া কোনো সম্পদের দখল ফিরে পেতে পারেন। ধনু রাশি (২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) : আপনি যদি ধনু রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে নিজের কোনো কাজের স্বীকৃতি পেতে পারেন। শরীর ভালো থাকতে পারে। মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকতে পারে। ভালো ব্যবহার দিয়ে কাজ আদায় করা সহজ হতে পারে। মকর রাশি (২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি) : আপনি যদি মকর রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে পারবেন। সম্ভাব্যক্ষেত্রে বিদেশযাত্রার সুযোগ পেতে পারেন। ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। ঋণগ্রস্ত হতে পারেন। শরীর ভালো নাও থাকতে পারে। কুম্ভ রাশি (২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) : আপনি যদি  কুম্ভ রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে আর্থিক দিক ভালো যাবে। আয়-উপার্জন বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনো আশা পূরণ হতে পারে। ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন। সাংগঠনিক কাজে সুফল পাবেন। মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) : আপনি যদি মীন রাশির জাতক/জাতিকা হয়ে থাকেন তবে কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকবে। কর্মস্থলে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবেন। পিতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে। সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় হতে পারে। কোনো উচ্চাশা পূরণ হতে পারে। এসএ/

পাউডার পদ্ধতিতে আদা সংরক্ষণ

কথা আছে-বইয়ের বাইরের আবরণ দেখে তার ভেতরটা যাচাই করতে নেই। রান্নার উপকরণের ক্ষেত্রে এ কথাটা প্রযোজ্য আদার ক্ষেত্রে। বাইরের আবরণ দেখে আদার গুণাগুণ বিচার করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর স্বাস্থ্যকর উপকারিতার শেষ নেই। গোটা বিশ্বেই তাই রান্নার অন্যতম মসলা বা উপকরণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে আদা। বাংলাদেশে এটি মসলা হিসেবে খুবই প্রয়োজনীয়। শুধু মসলা হিসেবে নয়, অসুস্থায়ও অনেক বেশি উপকারি মসলা জাতীয় খাদ্যটি। ঠাণ্ডা-সর্দিতে সবচেয়ে কাজে দেয় এই আদা। শীতে উষ্ণতা দেয়। মাছ, মাংস বা যেকোনো তরকারিতে প্রধান উপকরণের একটি হিসাবে বহুকাল ধরে জনপ্রিয় আদা। কাজেই খাদ্যপণ্য হিসেবে আদা টাটকা হওয়াই ভালো। সর্বোচ্চ ফ্লেভার পাওয়া যাবে। এখানে আদা কেনা থেকে শুরু করে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পচনশীল মসলা জাতীয় ফসল আদায় প্রচুর পানি থাকার কারণে দীর্ঘদিন তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। সাধারণত আদা সংগ্রহের পর কৃষকরা মাটির গর্তে তা সংরক্ষণ করে থাকেন। কিন্তু এই পদ্ধতিতে অল্পদিনের মধ্যেই তাতে গাছ ও শিকড় গজায়। তখন গাছ ও শিকড় ভেঙে আদা বাজারজাত করতে হয়। কোনো কোনো সময় মাটির গর্তের আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে আদা পচে যায়। তা ছাড়া গর্ত থেকে আদা বের করার পর অল্পদিনের মধ্যেই তা শুকিয়ে কুঁচকে যায়। ফলে কৃষকরা বাজারে এর কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। তবে এবার দীর্ঘদিন আদা সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ গবেষণার পর আদা সংরক্ষণে `পাউডার` পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এই গবেষক দল। গবেষকরা বলছেন, কোনো রকম প্রিজারভেটিভ বা কেমিক্যাল ছাড়াই আদার পাউডার তৈরির মাধ্যমে পচন শতভাগ রোধ করা সম্ভব। এতে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম পাবেন। ফলে কৃষক পরবর্তীতে উৎপাদন ও ফলন বাড়াতে আগ্রহী হবেন। গবেষক দলের প্রধান ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদ আলম জানান, আদা সংরক্ষণে পাউডার তৈরির জন্য উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন আদা ও লবণ। প্রথমে ত্রুটি ও রোগমুক্ত আদা সংগ্রহ করে ছাল ছড়াতে হবে। তারপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এবার ৩-৫ মি. মি. পুরুত্বে আদা আড়াআড়িভাবে কেটে পানির বাষ্পে ৫-১০ মিনিট সেদ্ধ করতে হবে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় লবণ দ্রবণে (১ লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম লবণ) কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখার পর অভিস্রবণকৃত আদা দ্রবণ থেকে তুলে নিতে হবে। পরে আদার টুকরোগুলোকে মেকানিক্যাল ড্রায়ারের ট্রের ওপর রেখে ৫০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অথবা সোলার ড্রায়ারে ভালোভাবে শুকাতে হবে। ড্রায়ারের সুবিধা না থাকলে সূর্যের তাপে শুকানো যেতে পারে। শুকানোর পর গ্রাইন্ডিং মেশিনে গুঁড়া করে নিতে হবে। তিনি বলেন, আদার পাউডার বিভিন্ন ধরনের বায়ু নিরোধকপাত্রে রেখে ২-৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রান্নায় ব্যবহার করা যাবে। বিজ্ঞানীরা জানান, ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে আদা সংরক্ষণের নতুন এই পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অল্প সময়ে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। আই// এসএইচ/

গরমে ঘামাচি দূর করার কার্যকরি পদ্ধতি

তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘামাচির সমস্যা। এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে অনেকেই বাজার চলতি পাউডার বা লোশন ব্যবহার করেন। তবে চিকিত্সকদের মতে, ঘামাচির সমস্যা দূর করতে এ সবের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা বেশি জরুরি। ঘামাচির হাত থেকে বাঁচতে পাউডার মাখলেও পরদিন অবশ্যই শরীরের ওই অংশ পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। কারণ, পাউডারের গুঁড়োয় ত্বকের লোমকূপের ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, ফুসকুড়ি-সহ আরও নানা সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারে। ঘামাচির সমস্যার মোকাবিলায় বরফ অত্যন্ত কার্যকরী। একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে মুড়ে বরফের টুকরো ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ৮-১০ মিনিট ঘষুন। এর ফলে ঘামাচি মরে গিয়ে ত্বকের জ্বালা, চুলকানি ভাব অনেকটাই কমিয়ে দেবে। মুলতানি মাটি আর গোলাপ জল— ত্বকের জন্য এই দু’টি উপাদান খুবই উপকারী। ঘামাচির অস্বস্তি কমাতে আন্দাজ মতো মুলতানি মাটির সঙ্গে আধা কাপ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ভাল করে মাখিয়ে দিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ত্বকের জ্বালা, চুলকানি ভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। দু’-তিন দিন এই পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারলে ঘামাচির সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে। ত্বকের পরিচর্যায় বেসন অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। এক কাপ বেসনের সঙ্গে আন্দাজ মতো পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্ট ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ভাল করে মাখিয়ে দিন। মিনিট পনেরো পর ঠাণ্ডা পানিতে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি পর পর দু’-তিন দিন কাজে লাগাতে পারলে ঘামাচির সমস্যা থেকে সহজেই নিস্তার পাওয়া যাবে। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

কালোজিরার কার্যকরি ৫ স্বাস্থ্যগুণ

কালোজিরা মুখরোচক ভাজাপোড়া থেকে গৃহস্থের নানা রান্নাবান্নায় ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ ঠান্ডা লেগে সর্দি কাশির সমস্যা থেকে পেটের নানা সমস্যায় কালো জিরা অত্যন্ত কার্যকরী। প্রাচীন কাল থেকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাতেও কালো জিরার ব্যবহার হয়ে আসছে। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতেই নয়, কালো জিরাতে রয়েছে একাধিক আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক: ১) কালো জিরাতে রয়েছে ফসফরাস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের যে কোনও জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে কালো জিরে অত্যন্ত কার্যকর। ২) পেটের সমস্যা নিরাময়ে কালো জিরে অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। কালো জিরা তেল ছাড়া ভেজে, গুঁড়ো করে নিন। আধা কাপ দুধের সঙ্গে এক চিমটে কালো জিরার গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারলে পেটের সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাওয়া সম্ভব। ৩) কালো জিরা অ্যান্টি টক্সিনের মতো কাজ করে। তাই প্রস্রাব স্বাভাবিক, নিয়মিত ও পরিষ্কার রাখতে কালো জিরা অত্যন্ত কার্যকর। ৪) কালো জিরাতে থাকা আয়রন ও ফসফেট শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পেতে পথ্য হিসেবে কালো জিরা একেবারে অব্যর্থ। ৫) অনেকেরই আবহাওয়ার পরিবর্তনে বা বর্ষায় ঠান্ডা লেগে মাথা যন্ত্রণা বা মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। এই সমস্যার অব্যর্থ সমাধান হল কালো জিরা। একটা কাপড়ের পুঁটুলিতে কালো জিরা বেঁধে সেটি রোদে শুকোতে দিন। ঘণ্টা খানেক রোদে রাখার পর কালো জিরে ভরা কাপড়ের পুঁটুলি নাকের কাছে ধরলে বুকে, মাথায় জমে থাকা শ্লেষ্মা তরল হয়ে সহজেই বেরিয়ে যায়। মাথা ধরা বা মাথা ঝিমঝিমে অস্বস্তিও কেটে যায় দ্রুত। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ৫ খাবার

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলেও কখনও কখনও তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে! তাই চিকিত্‍সকদের মতে, জীবনযাত্রায় এবং খাদ্যতালিকায় সামান্য কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারলে ওষুধ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আসুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক: মেথি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি বীজ অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণযোগ্য ফাইবার যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে মেথি। মূলা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাতে রাখুন মূলা। এই সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পালংশাক উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পাতে রাখুন পালংশাক। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও লুটেইন। এই লুটেইন হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গাজর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজর অত্যন্ত কার্যকরী একটি সবজি। গাজরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম যা রক্ত সঞ্চালনের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি শরীরে সোডিয়ামের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি