ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৯:০১:২৪, বুধবার

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানেই বিষ

জনসচেতনতা

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানেই বিষ

ওষুধ তৈরির উপদানেই রয়েছে বিষ। আর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানেই বিষ। এছাড়া অনেক ওষুধের দোকানে কোনও ব্যবস্থাপনা ছাড়া ওষুধ প্রদান করা হয়। অনেক সময় নানা রোগের জন্য এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রেসক্রিপশান ছাড়াই প্রদান করা হয়। তাই যে ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে, সেই ওষুধ যদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়, তাহলে তা কি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারবে? আসলে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সচেতনতার অভাবে ফার্মাসি থেকে সেই বিষ কিনে খাচ্ছি আমরা। অনেক সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খায়। তারা ভাবতেও পারে না যে ওষুধের দোকানি তাকে ওষুধের বদলে বিষ বিক্রি করবে। কিন্তু অনেক দোকানিই মানুষকে ঠকাতে এই অপকর্মটি করে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শুধু জনগণের স্বাস্থ্যগত ক্ষতিই করে না, এগুলো পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া, ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশাল। তাই মুনাফালোভী কোম্পানিগুলোর অনৈতিক কাজ করতে বাধছে না। তারা দেদার উৎপাদন করে চলেছে মানহীন ওষুধ। কিন্তু ওষুধ তো শখ করে খাওয়ার কোন ‘রসগোল্লা’ নয়, এ হচ্ছে এক অর্থে জীবনরক্ষাকারী দরকারি বস্তু। অথচ জীবন রক্ষার জন্য ওষুধ সেবন করতে গিয়ে সে ওষুধ জীবন সংহারে সক্রিয় হয়ে উঠছে! আবার অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজার থেকে তুলে নিতেও গড়িমসি করে অনেক কোম্পানি। এ জন্য সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজার থেকে জব্দ করে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আর ২ জুলাইয়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সোমবার দুপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নির্দেশ দেন। এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নামের বিষটির ব্যবহারে মানুষের যে পরিমাণ ক্ষতি করে তা সংক্ষেপে বলার মতো নয় বলে মনে করেন ওষুধ বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, এই বিষ মানুষের কিডনি, লিভার, হৃতপিণ্ড, ফুসফুস, অস্থিমজ্জা, পাকস্থলী, রক্তকোষ, জননেন্দ্রিয় ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক হলে তা তৈরি করতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু, যা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা চরম আশঙ্কায় রয়েছেন। এই ওষুধ বিশেষজ্ঞ বলেন, নকল-ভেজাল-নিম্নমান-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি তাই নিছক একটি সাধারণ অপরাধ নয়। অসংখ্য মানুষের প্রাণঘাতী স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটছে বলে এটি গণহত্যার সমান অপরাধ এবং অপরাধীর সেভাবেই বিচার হওয়া উচিত। কারণ এই অপরাধ শুধু একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে না, কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য মানুষের প্রাণ। নীরব মৃত্যু বলে এই গণহত্যা চোখে দেখা যাচ্ছে না। আসলে ওষুধ উত্পাদনের পর এর উত্পাদনকারী কোম্পানি এর একটি মেয়াদ লিখে দেয়। এই সময়সীমা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়। এই সময়সীমার পর ওষুধটি আর ওষুধ থাকে না। তখন এটি বিষে পরিণত হয়। তাই ওষুধ বিক্রেতাকে ওষুধ বিক্রির সময় এই তারিখের আগে বিক্রির বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। আসলে নিয়ম হচ্ছে, কোনও দোকানে কোনও কোম্পানির ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা কোম্পানিকে জানাতে হয় কমপক্ষে তিন মাস আগে। কোম্পানি তখন সেগুলো দোকান থেকে নিয়ে যায় এবং তার বদলে সমপরিমাণ ওষুধ দোকানিকে দিয়ে যায়। যেসব ওষুধ কোম্পানি অনিয়মের আখড়া বা মানুষ মেরে হলেও দ্রুত বড়লোক হতে চায় তারা এগুলো দোকান থেকে তুলে নিতে গড়িমসি করে। তখন নিয়ম হচ্ছে দোকানি ওষুধ প্রশাসনকে বিষয়টি জানাবে। তখন বাকি কাজগুলো ওষুধ প্রশাসন করবে। কোনও অবস্থাতেই দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা যাবে না। অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি না করলে দোকানির সামন্যতম কোনও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কিন্তু তার পরও যদি কোনও দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থেকে যায়, তাহলে স্বতঃসিদ্ধভাবেই বুঝতে হবে দোকানির কুমতলব রয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের বিনিময়ে সে অন্যায় মুনাফা করতে চায়।
হিমালয়ের বরফ গলছে বাড়ছে শঙ্কা

গত ৪০ বছরে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তোলা ছবি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয়ের বরফ আশঙ্কাজনক হারে গলছে ৷ এমন অবস্থা চলতে থাকলে অন্তত এক শত কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বুধবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গত শতকের তুলনায় হিমালয়ের হিমবাহ এখন দ্বিগুণ হারে গলছে ৷ ২০০০ সাল থেকে বছরে শতকরা এক ভাগ করে গলছে বরফ ৷ ফলে বছরে সাড়ে পাঁচ ফুট (৫০ সেন্টিমিটার) এর চেয়েও বেশি করে বরফ কমে যাচ্ছে। আগের ২৫ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হারে কমছে বরফ ৷ এ হারে বরফ গলায় কারণে আশঙ্কায় আছেন স্বয়ং বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে ভারত, চীন, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের অন্তত এক শত কোটি মানুষের জন্য পানির সংকট দেখা দিতে পারে ৷ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ গবেষক জোশুয়া মাউরার বলেন,‘যে হারে বরফ কমছে তা সত্যিই আশঙ্কাজনক, তবে বরফ গলার হার দ্বিগুন বেড়ে যাওয়াটা আরও বেশি আশঙ্কাজনক।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমবাহের গলন রোধ করতে বিশ্বের উষ্ণতা কমাতে হবে। জুনের এ শেষে জার্মানির বন শহরে জলবায়ু সম্মেলন চলছে ৷ ঠিক এ সময়েই সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হলো প্রতিবেদনটি ৷ এবারের সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা মূলত ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করছেন ৷ (সূত্র:ডয়চে ভেলে) এমএস/কেআই

‘চিনি খাওয়াকে ধূমপানের মতোই দেখতে হবে’

চিনি বা চিনি জাতীয় জিনিস খাওয়ার ব্যাপারে এখনই মানুষকে শতর্ক করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন ব্রিটেনের আইপিপিআরের পরিচালক টম কিবাসি। তিনি বলেন, প্লেইন প্যাকেজিং অর্থাৎ মিষ্টিজাতীয় জিনিসকে অনাকর্ষণীয় সাদা প্যাকেটে বিক্রি করা শুরু করলে অতিরিক্ত সুগার খাওয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। আর এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুকি অনেকটা কমে আসবে। এর সাথে জাংক ফুড বা চটজলদি খাবারের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলেছেন তিনি। ব্রিটেনের ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি রিসার্চ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছেন, এসব পানীয়, এবং মিষ্টি ও স্ন্যাকস-কেও সাদা মোড়কে বাজারজাত করা উচিত - যাতে একে কম আকর্ষণীয় দেখায়। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় জিনিস খাও কমাতেই এটা করা দরকার - এক রিপোর্টে বলছেন তারা। ব্রিটেনের জাতীয় ডায়েট এ্যান্ড নিউটিশন সার্ভে নামের এক জরিপে দেখা গেছে, একজন টিনএজারের (মোট ক্যালরির অংশ হিসেবে) যতটুকু সুগার খাওয়া উচিৎ - প্রকৃতপক্ষে সে তার তিনগুণ বেশি খাচ্ছে। ব্রিটেনে সরকারের মন্ত্রীরাও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন বলে খবর বেরিয়েছে। কিন্তু অনেকে প্রশ্ন করছেন যে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে কিনা। চিনি-মেশানো খাবার উৎপাদন-বাজারজাতকরণের সাথে যুক্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তারা বলছে এটা বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতার স্বাথীনতার বিরোধী। কিন্তু তামাক শিল্পও এক সময় এই একই যুক্তি তুলে ধরেছিল, কিন্তু তা সরকারের কঠোর ধূমপানবিরোধী অবস্থানকে দমাতে পারে নি। ব্রিটেনে যখন স্বাস্থ্য আন্দোলনকারী ও শিক্ষাবিদরা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন প্রথম দিকে সরকার তা উপেক্ষা করেছিল। কিন্তু পরে তা পরিবর্তিত হতে থাকে। নানা রকম পদক্ষেপ নেবার ফলে ব্রিটেনে গত ১০ বছরে ধূমপায়ীর সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে অনেকে ভেপিং বা ই-সিগারেটের আবিষ্কারের কথাও বলেন কিন্তু কঠোর সরকারি নীতি নি:সন্দেহে একটা বড় ভুমিকা পালন করেছে। তাই চিনিজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রেও সরকারি নীতি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

গণপরিবহনে নারীর জন্য ৫টি বিপদ সংকেত

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের একটি বাসে একজন নার্সকে ধর্ষণের পর তাকে হত্যার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই নার্স গত সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জে নিজ গ্রামে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হন। পরে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাপরিচালক মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, তাদের এক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৮ সালে গণপরিবহনে ২১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা এর চাইতেও অনেক বেশি বলে জানান মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তাই এ রকম পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে নারীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন? রাতে খালি বাসে না চড়া গণপরিবহনে চলাচল করা নারীদের অধিকাংশই জানান যে রাতে গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময়ই তারা অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে থাকেন। ঢাকার বাসিন্দা মার্জিয়া প্রভা জানান, রাতে বাসে চলাচলের সময় অপেক্ষাকৃত খালি বাসে কখনোই ওঠেন না তিনি। ‘রাতে অনেক সময় দেরি হয়ে গেলেও খালি বাসে উঠি না। অনেক সময় যেই বাসে অল্প কয়েকজন পুরুষ যাত্রী থাকেন, যেখানে আমিই একমাত্র নারী যাত্রী, সে সব বাসেও উঠি না।’ এছাড়াও রাতে চলাচলের সময় কোন প্রতিষ্ঠানের বাস, সেটি কোন রাস্তা দিয়ে যাবে এ সব বিষয়ও বিবেচনায় রাখেন বলে জানান গণপরিবহনে চলাচল করা নারী যাত্রীরা। কোন পথ দিয়ে যাচ্ছে নারীদের অধিকাংশই জানান যে গণপরিবহনটি কোন রাস্তা দিয়ে যাবে সে বিষয়টিও তারা আগে থেকে চিন্তা করে থাকেন। বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এ রকম একজন শাহনাজ পারভীনকে প্রায়ই গণপরিবহনে চলাচল করতে হয়। তার বাসা অপেক্ষাকৃত নির্জন একটি এলাকায়। ভাড়ায়-চালিত মাইক্রোবাসে চলাচল করতে গিয়ে একবার বিরুপ অভিজ্ঞতার শিকার হন তিনি। এরপর থেকে সন্ধ্যার পর সে সব এলাকায় সাধারণত একা গণপরিবহণ ব্যবহার করেন না তিনি। নির্জন এলাকা দিয়ে চলাচল করার বিষয়ে মার্জিয়া প্রভা বলেন, সন্ধ্যার পর বাস কোন রাস্তা দিয়ে যাবে, নারী হিসেবে সে বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখতে হয়। অনেক সময় অসুবিধা হলেও বিশেষ কিছু এলাকা পার হওয়ার আগেই বাস থেকে নেমে পড়ি। পরিবহন শ্রমিকদের আচরণ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাপরিচালক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গণপরিবহনে চলাচলের সময় পরিবহন শ্রমিকদের আচরণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন নারীদের। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় সব বাসেই ড্রাইভারের পাশে বা পিছনে নারীদের সিট রাখা থাকে। তাই ড্রাইভার যদি নারীদের দিকে বারবার তাকান বা লুকিং গ্লাস দিয়ে বারবার দেখেন তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। শাহনাজ পারভীন বলেন, নির্জন এলাকা দিয়ে চলার সময় বা একা নারী হিসেবে কোনও গণপরিবহনে চলাচল করার সময় চালক, সুপারভাইজার বা হেলপারের আচরণের দিকে সবসময় খেয়াল রাখলে নারীরা পরিবর্তনটা বুঝতে পারবেন। নিজের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মাশহুদা হক ইফা জানান, একবার বাসে একটি ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই বাসের চালক ও সহকারীর বিরুপ আচরণের শিকার হন তিনি। সে সময় তার সহযাত্রীরাও ওই ঘটনার কোনও প্রতিবাদ করেননি বলে জানান তিনি। যাত্রী হিসেবে যখন একা গণপরিবহনে চলাচল করেন এমন কয়েকজন নারী জানান, নির্জন এলাকা দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বা রাতে তারা কখনোই একা চড়েন না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাপরিচালক মোজাম্মেল হক চৌধুরীও বলেন, গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে বাসে কখনোই একা ওঠা উচিত নয় একজন নারীর। নারীদের অধিকাংশই মনে করেন যখন কোনও বাসে তারা একা থাকেন তখন সামনের দিকে দরজার কাছের সিটে বসলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বোধ করেন তারা। বিশেষ গণপরিবহন এড়িয়ে চলা প্রায়ই রাতে বাসে যাতায়াত করেন এমন একজন সুরাইয়া জাহান জানান যে তিনি পরিচিত প্রতিষ্ঠানের বাস ছাড়া ওঠেন না। ‘বেশ কয়েকবার দেখেছি চেনা রুটে অল্প যাত্রী নিয়ে অচেনা বাস চলাচল করছে। সে সব বাসে কখনোই উঠি না’, বলেন তিনি। সূত্র: বিবিসি একে//

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’: ঝড়ের সময় যা যা করা উচিত

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশে আঘাত হানবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায়। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সে সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সাইক্লোনের মতো পরিস্থিতির সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে কিছু বিষয়ে নজর দিলে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপদ এড়ানো যায়৷ তাই এই সময় কী সব কাজ করা উচিত তা একবার জেনে নিন- ১. সবার আগে যেটা জরুরি তা হল প্যানিক না করা৷ মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপদের মোকাবিলা করতে হবে৷ ২. বাড়ির আশেপাশে বড় গাছের শুকিয়ে যাওয়া ডাল থাকলে আগে তা কেটে ফেলুন৷ ৩. প্রবল ঝড়ে উড়ে যেতে পারে এমন বস্তু খোলা জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলুন৷ যেমন আলগা হয়ে যাওয়া ইট, টিন, ময়লার বাক্স, সাইন বোর্ড ইত্যাদি৷ কারণ দমকা হাওয়ায় এই সব উড়ে গিয়ে কোনও বিপদ ঘটাতে পারে৷ ৪. বাড়িতে মেরামতের প্রয়োজনের হলে আগেই সেটা করিয়ে নিন৷ ৫. হাতের সামনে কাঠের বোর্ড রাখুন৷ কাঠ বিদ্যুত অপরিবাহী৷ ৬. টর্চ হাতের কাছে রাখুন৷ ৭. বাড়িতে খাবার মজুত করে রাখুন৷ বিশেষ করে নষ্ট না হয় এমন শুকনো খাবার৷ সব পাত্রে পানীয় জল ভরে রাখুন৷ ৮. প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করে রাখুন৷ ফার্স্ট এড বক্স হাতের কাছে রাখবেন৷ ৯. কাজে যাওয়ার থাকলে আগে বাড়ি থেকে বের হন৷ অথবা কাজ থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসুন৷ ১০. ঝড়ের সময় বাড়িতেই থাকুন৷ বাড়ির এমন এক জায়গা বেছে নিন, যেখানে নির্ভয়ে থাকতে পারবেন৷ ১১. কাঁচের জানলা থাকলে আগে থেকে তাতে শক্ত করে বোর্ড জাতীয় কিছু ঝুলিয়ে দিন৷ না হলে জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ ১২. বাড়ির একতলায় যদি মিটার বক্স থাকে তাহলে ইলেকট্রিকের তার ঠিক আছে কি না দেখে নিন৷ অনেক সময় মিটারের তার ঝুলে সেখান থেকে বিপত্তি ঘটে যেতে পারে৷ ১৩. পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন৷ কোনও গুজবে কান দেবেন না৷ একে//

শিশুর কতক্ষণ টিভি দেখা-মোবাইল ঘাঁটা নিরাপদ, জানাল ডব্লিউএইচও

কর্মব্যস্ততার চাপে বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই তাদের সন্তানকে দেওয়ার মতো সময় অনেকটাই কমে গেছে। একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যাও এখন ‘হাতে গোনা’। ফলে শিশুকে সময় দেওয়ার মতো কেউ নেই। তাই শিশুর খেলাধুলার তেমন সুযোগ থাকে না। কারণ তাকে মাঠে বা পার্কে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই। ফলে ক্রেস নয়তো বদ্ধ ঘরে স্মার্টফোন, টিভি, কম্পিউটারের সঙ্গেই কাটে এখনকার বেশির ভাগ শিশুর শৈশব। অনেকে অবশ্য সন্তানের দেখভালের জন্য একটি লোক রাখেন গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে। এ ছাড়া উপায় কী! তাই ইদানীং স্মার্টফোন, টিভি আর কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটাতেই বাচ্চারা বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক! স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের প্রতি সন্তানের অতিরিক্ত আকর্ষণ যে তার শারীরিক বাড়-বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তা এখন বেশির ভাগ বাবা-মায়েই বোঝেন। কিন্তু ঠিক কতক্ষণ স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটানো শিশুর জন্য নিরাপদ তা কি জানেন? এ প্রশ্নের উত্তর মিলেছে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও একটি নির্দেশিকায়। ঠিক কী বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক- সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যত বেশি সময় শিশু টিভি, স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সঙ্গে কাটাবে, ততই তার মানসিক, শারীরিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ওই নির্দেশিকাতে স্পষ্টই বলা হয়েছে, শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য টিভির পর্দা নয়, খেলার মাঠেই উপযুক্ত। ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের যত বেশি করে শারীরিক ক্রিয়াকলাপে, দোড়ঝাপ, খেলাধুলায় নিযুক্ত করা যায়, ততই ভাল। ডব্লিউএইচও- এর এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে সঙ্গে যতটা কম সময় কাটাবে, ততই ভাল। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে বড়জোড় ১ ঘণ্টা টিভি বা কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে। এর বেশি হলেই বাড়বে বিপদ! সুতরাং, সন্তানের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই নির্দেশিকা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: জি নিউজ একে//

শিশুর বিকাশে পুষ্টিকর খাবার আর খেলাধুলাই যথেষ্ট নয়: গবেষণা

ঢাকার বাসিন্দা মৌটুসি রহমানের ছেলের বয়স দেড় বছর। তিনি এতদিন ধরে শিশুর যত্ন বলতে শুধু পুষ্টিকর খাবার আর সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়ার কথাই জানতেন। অথচ মায়ের গর্ভ থেকেই যে শিশুর বিকাশ শুরু হয় এবং এর পেছনে যে আরও অনেকগুলো বিষয় জড়িত তা নিয়ে কোনও ধারণাই ছিল না মৌটুসির। এর পেছনে প্রচারণার অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। মৌটুসি রহমান বলেন, শিশুর বিকাশে আসলে কি করতে হয় তার বিস্তারিত আমি কিছুই জানি না। যেভাবে ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় সেভাবে যদি এ বিষয়ে প্রচার চালানো হতো। আমরা জানতে পারতাম। ‘আমি সবই শিখেছি আমার মায়ের কাছ থেকে। কিছু হয়তো ইন্টারনেট থেকে দেখেছি। কিন্তু যারা দরিদ্র বা স্বল্প-শিক্ষিত তারা কিভাবে জানবে?’ শামনাজও এতদিন মনে করতেন যে শিশুর বিকাশের পুরোটাই নির্ভর করে, পুষ্টিকর খাবার, ভাল স্কুলের শিক্ষা এবং খেলাধুলার ওপর। এর পাশাপাশি শিশুর বিকাশে যোগাযোগের যে বিশাল ভূমিকা আছে সে বিষয়টি জনসচেতনতার ক্ষেত্রে কখনোই গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি জানান। ‘কিভাবে বাচ্চাকে লালন পালন করতে হয়, তাদের কোন বিষয়গুলো মনোযোগ দিতে হয়, কিভাবে বাচ্চার সঙ্গে এনগেজ হওয়া প্রয়োজন এই বিষয়গুলো বুঝতে পারিনি।’ ‘আমার মনে হতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, খেলতে নিয়ে যাওয়া, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এটাই সব বলে মনে হতো।’ শিশুর জন্মের পর থেকে প্রথম আট বছর তার শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ের মধ্যে শিশুর অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা সার্বিক বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ এ দিকটি বাংলাদেশে এখনও অবহেলিত বলে ব্র্যাকের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট বা প্রারম্ভিক শৈশব সেবা নিয়ে ওই গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন অধ্যাপক ফেরদৌসি খানম। তিনি মনে করেন, আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিশেষ করণীয় আছে। ফেরদৌসি খানম বলেন, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সময়টা হল তার সারা জীবনের ভীত গড়ে দেয়। এই ভীত যদি মজবুত না হয়, ওই শিশুটা হয়তো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে, বা সমাজের অন্য কারও সঙ্গে মিশতে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। ‘তাই প্রাথমিক কেয়ার গিভার মানে মা-বাবা, পরিবার, থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে যারা আছেন মানে কমিউনিটি, সরকার, অর্থাৎ যারা উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’ এছাড়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা করা, গল্প শোনানো, ভাল পরিবেশে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, যেন তাদের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। শিশুর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে ফেরদৌসি খানম যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তার ব্যাপারে দেশের বেশিরভাগ অভিভাবকের তেমন পরিষ্কার ধারণা নেই বলে গবেষণা থেকে জানা যায়। এছাড়া শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা, সন্তান প্রতিপালনে বাবার ভূমিকা মায়ের তুলনায় কম থাকা এমন আরও নানা বিষয় শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে বাধার সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে শিশুর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে জানান মনোরোগবিদ ড. মেখলা সরকার। মেখলা সরকার বলেন, একটি শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি জরুরি তার এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টরটা জরুরি। অর্থাৎ তার পরিবার, আশেপাশের মানুষ, বেড়ে ওঠার পরিবেশ কেমন সেটার ওপর শিশুর মানসিক বিকাশ নির্ভর করে। ‘এখন যদি জেনেটিক ফ্যাক্টর ঠিক থাকে কিন্তু এনভায়রনমেন্টে গলদ থাকে তাহলে বাচ্চার মধ্য ভীতি সঞ্চার হতে পারে, উদ্বেগে ভুগতে পারে, ইনসিকিওর হয়ে যেতে পারে, অবসাদগ্রস্ত হতে পারে এমনকি আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।’ তবে বাংলাদেশে যে সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে বা যাদের বেড়ে ওঠার মৌলিক নিয়ামকগুলোর অভাব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই প্রারম্ভিক শৈশব সেবা নিশ্চিত করা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অধ্যাপক ফেরদৌসি খানম। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের আরও বেশি বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি একে//

আচমকা রক্তপাত হলে প্রথমেই যা করবেন

রক্তপাত একটি অতি পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে যাদের বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে, তাদের তো নিত্যদিনের সমস্যা এটি। খেলতে গিয়ে লেগে কেটে যাওয়া বা অনেক সময় বেশ গভীর ক্ষত থেকে রক্তপাত হয়ে থাকে। রক্তপাত শরীরের যে কোনও অংশ থেকেই হতে পারে। অনেক সময় বাইরে যে রক্তপাত হয় তার সঙ্গে আভ্যন্তরীণ রক্তপাতও হয়ে থাকে। তাই আচমকা যদি কারও রক্তপাত হয় সে ক্ষেত্রে কী করবেন? প্রাথমিক চিকিত্সা পদ্ধতিই বা কী? কারও যদি হাত-পা-মাথা যে কোনও অংশ থেকে রক্ত বেরতে শুরু করে তবে তাকে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে আভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে আপনাকে অন্য কয়েকটি পদক্ষেপ করতে হবে। সাধারণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে রোগীকে ভালোভাবে শুইয়ে দিন। পরিষ্কার তুলা নিয়ে কাটা জায়গায় উপরে ধীরে ধীরে প্রেস করুন। যতক্ষণ না রক্তের পরিমাণ কমছে, ততক্ষণ তুলা দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে। যদি রক্তপাত না কমে তবে তুলার উপর আরও তুলা চাপুন। ভেজা তুলাগুলো সরিয়ে দেবেন না। রক্তপাত বন্ধ হলে জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগান। ব্যান্ডেজ বাঁধুন, তবে খুব জোর দিয়ে বাঁধবেন না। আর আভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে রোগীকে শুইয়ে দিন। পায়ের নিচে বালিশ দিন। কোনভাবেই রোগীকে নড়তে দেবেন না। কোনও কিছু খাওয়াতে যাবেন না। পানিও না। গরম পানির ব্যাগ বা বরফ দিতে পারেন যেখানে খুব বেশি ব্যথা হচ্ছে। দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। সূত্র: এই সময় একে//

রান্নায় এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে ক্যানসার

আজকাল বেশির ভাগ বাড়িতেই আগেভাগে রান্না করে রাখা হয়। এবং পরে তা গরম করে খাওয়া হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পরিবারের সবাই চোখ বুজে খান মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবার। রোজ বেড়ে চলা এই অভ্যেসের মধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসকরা।‌ একবার রান্না করা খাওয়ার বারংবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা কতটা স্বাস্থ্যকর? ‘জার্নাল অব এগ্রিকালচারকাল ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রি’-র একটি প্রতিবেদনে একদল গবেষক নিজেদের পরীক্ষার বিস্তারিত প্রমাণ পেশ করে দেখিয়েছেন, মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবারে ভিটামিন বি১২ ক্রমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এক এক বার খাবার গরম করলে খাবারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভিটামিন বি১২ নষ্ট হয়। দুধ ও মাংস জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২ থাকে। কাজেই এই ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে খাবারের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় ব্যাপকভাবে। আরও ভয়ের কথা শোনাচ্ছেন শহরের চিকিৎসক সায়ন্তন মিত্র। তার মতে, ‘মাইক্রোওয়েভিং-এর পরে খাবারে কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি হয়। যেমন বেঞ্জিন, জাইলিন ইত্যাদি। এগুলো ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে ডেকে আনে। এমনকি, প্লাস্টিকের খাবারে খাবার গরম করলেও সেখান থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়। এগুলো সবই কার্সিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যানসারের কারণ। কাজেই খাবার বারবার মাইক্রোওয়েভে গরম না করাই ভাল।’ প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদস্পন্দনের গতিরও তারতম্য ঘটে মাইক্রোওয়েভ থেকে নির্গত রেডিয়েশনের কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম, দুধ, মাংস, মাশরুম জাতীয় খাবার গরম করে খাওয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর। কিন্তু জীবনে ব্যস্ততা তো থাকবেই। প্রতি বেলায় খাবার তৈরি করার কথা ভাবাও অসম্ভব। তাহলে কি ক্যনসারকেই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে হাতঘড়ির সঙ্গে দৌঁড়ে হেরে গিয়ে? হাল না ছেড়ে, অভ্যাসে বরং সামান্য বদল আনার চেষ্টা করা যাক না! ১. প্রতিদিনের রান্না প্রতিদিন করুন। ২. খাবার ফ্রিজ থেকে বের করে তাড়াহুড়া করে মাইক্রোওয়েভে না দিয়ে স্বাভাবিক উষ্ণতায় নিয়ে আসুন। ৩. পানি গরম করার সময় গ্যস ওভেন ব্যবহার করুন। ৪. টোস্টার ওভেনটিকে কাজে লাগাতে পারেন। ৫. মাইক্রোওয়েভ প্রয়োজনীয় কিন্তু অপরিহার্য নয়, এই সত্য না বুঝলে বিপদ কিন্তু পিছু ছাড়বে না। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

গ্যাস সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় ৭

বিপদ কখনও বলে আসে না। তাই আগাম সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি! বাড়িকে সুরক্ষিত করার জন্য মজবুত দরজা-জানলা আর লোহার গ্রিল লাগানো ছাড়াও অনেক কিছু করার থাকে। চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি এড়াতে দরজায় শক্তপোক্ত তালা বা বাড়ির একাধিক জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথাই ভাবেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু বিপদ বলতে কি শুধু চুরি-ডাকাতির ভয়? শর্ট সার্কিট থেকে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বা তারের লাইনগুলোর নিয়মিত দেখভাল করা বা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা জরুরি! এ ছড়াও বাড়ি-ঘর সুরক্ষিত করতে আর একটা বিষয়ে আগাম সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর সেটা হল আমাদের রান্নাঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার। গ্যাস সিলিন্ডার থেকেও যে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, সে কথা আমরা প্রায় সবাই জানি। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটা জরুরি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে কোথাও ফাটা বা ছিদ্র আছে কি না বা গ্যাসের নব ঠিক মতো বন্ধ করা হয়েছে কি না ইত্যাদি। এবার জেনে নিন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ বা কোনও রকম দুর্ঘটনা এড়াতে কী কী করণীয়- ১. গ্যাস বন্ধ করে রান্নাঘর থেকে বেরনোর আগে অবশ্যই দেখে নিন গ্যাসের পাইপটি যেন কোনভাবেই গ্যাস ওভেনের গরম বার্নারের গায়ে লেগে না থাকে। ২. অনেকেই গ্যাস জ্বালানোর লাইটার বা দেশলাই ব্যবহারের পর সেটি সিলিন্ডারের উপরেই রেখে দেন। খেয়াল রাখবেন, সিলিন্ডার গরম হতে পারে এমন কোনও কাজ করবেন না। গ্যাস ওভেন, সিলিন্ডার বা গ্যাসের পাইপ কখনওই যেন খুব কাছাকাছি এসে না পড়ে! সব সময় এগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। ৩. পাইপ পরিষ্কার রাখতে অনেকেই গ্যাসের পাইপের গায়ে কোনও কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে রাখেন। এমনটা কখনওই করবেন না। কারণ এ ক্ষেত্রে পাইপ থেকে গ্যাস লিক হলেও তা ধরা পড়বে না। ৪. একই পাইপ বছরের পর বছর ব্যবহার করবেন না। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতি ২-৩ বছর পর পর গ্যাসের পাইপ বদলে ফেলুন। ৫. অনেকেই পাইপ পরিষ্কার করতে সাবান ব্যবহার করেন। এমনটা কখনওই করবেন না। কারণ এর ফলে মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারে। গ্যাসের পাইপ পরিষ্কার করার জন্য শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। পাইপটি খুব নোংরা হলে মোছার কাপড়টি হালকা করে জলে ভিজিয়ে নিন। সেই ভেজা কাপড় দিয়েই পরিষ্কার করুন গ্যাসের পাইপ। ৬. রান্নাঘর থেকে বেরনোর আগে সিলিন্ডারের মুখ সেফটি ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। ৭. রান্নাঘরে ঢুকেই গ্যাসের গন্ধ পেলে তখনই বাইরে বেরিয়ে আসুন। ওই অবস্থায় কোনও সুইচ বোর্ড বা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম চালু করবেন না। মনে রাখবেন, রান্নার গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারি। ফলে গ্যাস লিক করলেও তা মেঝের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে। তাই প্রাথমিকভাবে কাপড়, তোয়ালে বা হাতপাখার সাহায্যে হাওয়া দিয়ে গ্যাস রান্নাঘরের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝলে বা গ্যাসের গন্ধে সারা বাড়িময় ভরে যাচ্ছে বুঝলে দেরি না করে খবর দিন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার হেল্প লাইন নম্বরে। সূত্র: জি নিউজ একে//

মাল্টিটাস্কিং করলে যে ক্ষতি হয়

কোনও নির্দিষ্ট সময়ে মন দিয়ে একটা কাজ করা এখন প্রায় অলীক ব্যাপার৷ একটা শুরু করতে না করতে এসে যায় আর একটি, তার পর আর একটি, তার পর আবা...৷ মাল্টিটাস্কিং এখন সবার জীবনের অঙ্গ৷ সে ঘরে হোক, কি বাইরে৷ ঘরে-বাইরে হলে তো কথাই নেই, কীভাবে যে স্ট্রেস বাড়ে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন৷ নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না৷ সময় থাকে না আরাম-বিরামেরও৷ কম বয়সে সে সব কোনও মতে সামলানো গেলেও বয়স বাড়লে কাজের মান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি বিগড়াতে শুরু করে শরীর-মন৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ দিন ধরে মাল্টিটাস্কিং করে গেলে ব্রেনের কার্যকারিতা কমতে শুরু করে৷ কমে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা, আই কিউ৷ কেন এমন মোটামুটি একই দক্ষতা সম্পন্ন এক দল মাল্টিটাস্কার ঠাণ্ডা মাথায় একটা করে কাজ শেষ করেন- এমন এক দল মানুষকে নিয়ে স্টাডি করে গবেষকরা দেখলেন যে, যারা বহু দিন ধরে মাল্টিটাস্কিং করে চলেছেন, তাদের কিছু বুঝতে ও মনে রাখতে যত সময় লাগছে, অন্যদের তত লাগছে না৷ একসঙ্গে ২–৩টি কাজ করতে দিয়েও দেখা গেল সাধারণত যারা মাল্টিটাস্কিং করেন না, তারা অনেক দ্রুত ও অনেক ভালভাবে কাজগুলো করতে পারছেন৷ কারণ ব্রেনের ধর্ম হল, এক বারে একটা বিষয়ে ‘ফোকাস’ করা৷ দীর্ঘ দিন ধরে তাকে অবহেলা করে এক সঙ্গে একাধিক কাজ করে চললে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা ও চিন্তাকে সাজানোর দক্ষতা কমে যায়৷ হাজারো তথ্যের ভিড় থেকে দরকারিগুলোকে ছেঁকে তুলে তাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি ধীর হয়৷ এক কাজ শেষ করে চটপট অন্য কাজে ঢুকে পড়তেও অসুবিধা হয় প্রায় সময়ই৷ বিপদ ঠেকাতে মাল্টিটাস্কিং পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না৷ কিন্তু তার দরুন যে যে বিপদ হয় তার প্রকোপ কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে৷ যেমন- * লো ক্যালোরির পুষ্টিকর খাবার খান৷ শরীর পুষ্টি পেলে পুষ্টি পাবে ব্রেনও৷ কাজের ধরন অনুযায়ী কী খাবেন, কতটা খাবেন, কী খাবেন না তা জেনে নিন ডায়াটিশিয়ানের কাছে৷ সাধারণত সেমি–তে উচ্চতা মেপে তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে পাওয়া যায় আদর্শ ওজন, অর্থাৎ ওজন যা হওয়া উচিত৷ তাকে ৩০০ দিয়ে গুণ করলে জানা যায় কত ক্যালোরি খাওয়া উচিত৷ এমন ব্যবস্থা করুন যাতে সেই ক্যালোরির সবটুকুই প্রায় পুষ্টিকর খাবার থেকে আসে৷ এর পাশাপাশি সারা দিনে আরও কয়েকটি বিশেষ খাবার খান৷ ব্রেনের ক্ষতির হার কমবে৷ যেমন– * ২–৩ কাপ দুধ-চিনি ছাড়া গ্রিন টি৷ * ২-৩ রকমের টাটকা ফল৷ একেক দিন একেক রকম৷ * দু’-চারটি করে অ্যালমন্ড, আখরোট, কিসমিস৷ * তৈলাক্ত মাছ, সপ্তাহে অন্তত দু’বার৷ * টাটকা শাকসবজি, বিন্স, স্যালাড৷ * এক-আধ গ্লাস রেড ওয়াইন, সপ্তাহে ৩–৪ বার৷ * এক টুকরো ডার্ক চকলেট৷ ৩৫–এর পর, বিশেষ করে মেয়েদের শরীরে কিছু ভিটামিন–মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা বাড়ে৷ খাবার খেয়ে তা পূরণ করা না গেলে চাপ পড়ে ব্রেনে৷ সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে৷ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

শরীরে এসিড পড়লে কী করবেন?

এসিড লাগলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত কী করা উচিত, অনেকেই তা জানেন না। এসিড-ক্ষতে পানি লাগলে ক্ষতি হবে, এমন ভ্রান্ত ধারণাও আছে কোথাও কোথাও। অনেকে আবার পানি দিয়ে ক্ষতস্থান একটু ধুয়েই স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে লোশন এনে লাগান। কেউ কেউ তার উপরে চাদর জড়িয়ে দেন। এতে ফল হয় উল্টো। তাই এসিড হানার শিকার হলে বা অন্য কোনওভাবে গায়ে এসিড পড়লে কী করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক। শরীরের যেখানে এসিড লাগবে, সেখানে অনবরত পানি দিয়ে যান। এসিড-আক্রান্তকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত ক্ষতস্থানে পানি ছাড়া যেন আর কিছুই দেওয়া না হয়। তাতে চিকিৎসকদের আক্রান্তকে চিকিৎসা করতে সুবিধা হবে। শুধু তা-ই নয়, এই পদ্ধতিতে ক্ষতও অনেকটা কমানো যায়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এসিডের ক্ষত নির্ভর করে এসিডটা কত জোরালো, তার উপরে। তবে শুরু থেকে পানি ঢেলে যেতে পারলে এসিড অনেকটাই ধুয়ে যায়। পানি ঢাললে এসিডের ক্ষত যে কমে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তা জানিয়েছেন ভারতের এসিড-আক্রান্ত এক তরুণী। পূর্ব মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী ২০১৫ সালে এসিড-হানার শিকার হন। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখ এবং শরীরে অন্যত্র এসিড পড়তেই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ মেরেছিল ওই তরুণী। অনেকক্ষণ পানিতে ডুবে থাকার পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। হাসপাতালের চিকিৎসক পরে ওই তরুণীকে জানিয়েছিলেন, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ায় তার এসিড অনেকটাই ধুয়ে গিয়েছিল। তাতে পরবর্তী কালে তার চিকিৎসায় সুবিধা হয়। ওই তরুণী বলেন, ‘আমি জানতাম না যে, পানি ঢালতে হয়। আসলে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পুকুরে ঝাঁপ মেরেছিলাম। পরে হাসপাতালে জানতে পারি, কাজটা ভালই করেছিলাম।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

রান্না করতে গিয়ে ত্বক পুড়ে গেলে কী করবেন?

বাড়িতে মায়ের বা নিজের স্ত্রীর বা কারুর রান্না করতে গিয়ে যদি কোথাও পুড়ে যায়, তবে তাৎক্ষনিক আরামের জন্যে এবং চিকিৎসার জন্যে কি করবেন? হাতের কাছে থাকা জিনিস দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। কারণ ঘরোয়া টোটকাই সব থেকে প্রথমে হাতের কাছে পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক সাবধানতায় যদি কিছু ভুল হয় তা পোড়া অংশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন সে রকমই কিছু ঘরোয়া টোটকার সুলুক সন্ধান যা কাজে লাগতে পারে আপনারও। জায়গাটা প্রথমে ঠাণ্ডা করুন এবং পর্যবেক্ষণ করুন পোড়া অংশের পাশে বা উপরে কোনও জামাকাপড় থাকলে তা সাবধানতার সঙ্গে সরিয়ে ফেলুন। অহেতুক ঘষা যেন পোড়া অংশে না লাগে। এবার ঠাণ্ডা পানিতে ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত পোড়া জায়গায় লাগান বা অই পোড়া অংশ ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা ভাল কিন্তু কোনভাবেই বরফ পোড়া জায়গায় লাগাবেন না। ঠাণ্ডা পানি লাগানোর ফলে আপনার পোড়া জায়গার ব্যথা কিছুটা হলেও কমবে। নতুন করে যেন আঘাত না লাগে আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় যাতে নোংরা না লাগে সে দিকে সতর্ক থাকুন। চেষ্টা করুন পোড়া জায়গা পরিস্কার করতে। ঢেকে রাখার জন্যে গজ কাপড়ের ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে অতিরিক্ত সাবধানতার জন্যে কোনও সুতির কাপড় ব্যান্ডেজের নিচে রাখতে পারেন। তুলা ব্যবহার না করাই ভাল কারন তুলার আঁশ ক্ষতস্থানে লেগে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ঢেকে রাখার আর একটা কারণ হল ক্ষতস্থান উন্মুক্ত রাখলে সে ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ওষুধ হিসাবে কি কি ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী গাছের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। অল্প পরিমাণে এই গাছের জেল হাতে নিয়ে ক্ষতস্থানে লাগালে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। মধু আমাদের সবার বাড়িতেই কম বেশি থাকে। পোড়া জায়গার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যে এর থেকে ভাল ওষুধ হয় না বলে অনেকেই মনে করেন। মধু ক্ষতস্থানকে ইনফেকশনের হাত থেকেও বাঁচায়। আদার রসও পোড়া জায়গার আরাম পেতে অনেকটাই সাহায্য করে। অল্প ছেঁকা খেলে পুদিনা পাতার রস বা বাড়ির দাঁত মাজার পেস্ট অল্প লাগিয়ে দেখুন, আরাম পাবেন। তবে ভিনিগার কখনই ব্যবহার করবেন না। অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম বাড়িতে থাকলে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করতে পারেন। ফোসকা পড়লে সাবধান পুড়ে গেলে ফোসকা পড়বে না এটা সাধারণত হয় না। কিন্তু একে সতর্ক হয়ে এর খেয়াল রাখা উচিত। অনেকেই মনে করেন ফোসকা ফাটিয়ে দিলে হয়তো ক্ষত তাড়াতাড়ি সারবে। কিন্তু বাস্তবে মোটেই তা হয় না। এতে আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পোড়া জায়গা যত কম বা বেশিই হোক না কেন, প্রাথমিক সাবধানতা বা চিকিৎসার পরে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেটা ব্যান্ডেজ বাঁধাই হোক বা পরিস্কার করা, চেষ্টা করুন কাছাকাছি হসপিটাল বা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার। কারণ প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাকি কি করা উচিত বা উচিত নয়, তা জানতে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে যাওয়াই ভাল। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি