ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫৭:৪২, বুধবার

বেকারত্ব দূরীকরণে প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষা

বেকারত্ব দূরীকরণে প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষা

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। একমাত্র সুশিক্ষাই পারে মানুষকে অন্ধকারাচ্ছন্ন জগৎ থেকে আলোর জগতে ফিরিয়ে আনতে। বাস্তবমুখী বা কর্মমুখী শিক্ষা একটি জাতিকে স্বর্ণশিখরে পৌঁছাতে পারে। তবে আমাদের দেশে কর্মমুখী শিক্ষার অভাবে বাড়ছে বেকারত্বের হার এমনটাই মনে করেন ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর তুহিন আফরোজা আলম। তিনি বর্তমানে ঢাকা মডার্ন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতি সময়ে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক দিক নিয়ে তিনি সাক্ষাতকার দিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। তার কথায় উঠে এসেছে শিক্ষার্থীদের চাকরির সমস্যাসহ শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি-গলদ। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি না পাওয়ার বড় কারণ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। বর্তমানে সমাজের অনেক শিক্ষার্থী মনে করে এমএ পাশ না করলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমাদের সমাজ শিক্ষার মানকে গুরুত্ব না দিয়ে ডিগ্রিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এছাড়া আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা চাকরির বাজারের সঙ্গে তেমন সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এজন্যই গ্রাজুয়েশন করেও চাকরি হচ্ছে না বহু তরুণের। বাড়ছে বেকারত্ব। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নানা অপরাধ। এর থেকে বের হয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই। প্রশ্ন: আমাদের দেশে অসংখ্যা শিক্ষিত লোক রয়েছে অথচ পোশাক শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিদেশি এক্সপার্টদের বেশি বেতনে আনা হচ্ছে। কেন আমরা সে জায়গাটা নিতে পারছি না? কেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি মিলছে না? তুহিন আফরোজা আলম: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীকে একদিকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে পারছে না উদ্দোক্তা তৈরি করতে করতে। বাজারে যে ধরনের চাকরি রয়েছে, সেই ধরনের দক্ষ শিক্ষার্থী আমরা তৈরি করতে পারছি না। ফলে পড়াশুনা শেষ করে চাকরির জন্য আবার নতুন করে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। এ কারণে চাকরির বাজার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা বা হাতে কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রশ্ন: জনসংখ্যার বোনাসকাল (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) অতিবাহিত করছে দেশ। অথচ সরকারি হিসেবে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি। আমরা দেশের এই বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে কেন কাজে লাগাতে পারছি না? মূল সমস্যা ও সমাধান কোথায় নিহিত? তুহিন আফরোজা আলম: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট একটা টেকনিক্যাল বিষয়। কারণ আধুনিক বিশ্বে শারীরিক ক্ষমতা কোনো ক্ষমতা না। এই ব্যারোমিটারটা ৬০ বছর আগে ঠিক ছিল। কিন্তু আজকে আমাদের এখানে এটা ঠিক না। কারণ এখন শারীরিক শক্তির জায়গাতে টেকনোলজিটাই বড় ব্যাপার। বহির্বিশ্ব তাদের এই সময়টাকে টেকনোলজিতে গুরুত্ব দিয়েছে। যে কারণে তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা মানুষের আয়ুস্কাল বাড়িয়েছে। তারা ১২০ বছরে বৃদ্ধ হয়। আমাদের দেশে ৬০ পেরুতেই বৃদ্ধ হয়ে পড়ি। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে এ যুবশক্তি বা শ্রমঘণ্টা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। সেক্ষেত্রে প্রযোজনে বহির্বিশ্বের সহযোগিতা কাজে লাগানো যায়। অতি দ্রুত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তা না হলে গায়ের শক্তি দিয়ে কিছু হবে না। বোঝা-ই বাড়বে। প্রশ্ন: অনেকে বলে থাকেন- শিক্ষা ব্যবস্থা এখন সনদ নির্ভর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। ফলে মেধাবীরা দেশের সম্পদ হওয়ার পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। এপরিস্থিতি থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায়? তুহিন আফরোজা আলম: নৈতিক শিক্ষার মূলভিত্তি হচ্ছে পরিবার। পরিবার থেকে আমরা নৈতিক শিক্ষা লাভ করতে পারি। বর্তমানে আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ধ্বসে যাচ্ছে। একশ’ বছর আগে আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি আজ তা পাচ্ছি না। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুখ জিনিসটার সংজ্ঞা খুঁজে না পাওয়া। সুখটা যে নীতির ওপর, সন্তুষ্টির ওপর, আত্মতৃপ্তির ওপর নির্ভর করে সেটা অনুধাবন করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যে কারণে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শিক্ষিত হয়েও নীতি-নৈতিকতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে পিতামাতারা ছেলে-মেয়েদের তেমন সময় দেয় না। যে কারণে ক্রমেই আমাদের সমাজ থেকে নৈতিকতা ধ্বংস হচ্ছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিবারিক শিক্ষা, মমত্ববোধ, সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। পারিবারিকভাবে অনুধাবনে আনতে হবে যে, জীবনে নীতি-নৈতিকতার মধ্যেই সুখ। মা-বাবাকে আগে পরিশুদ্ধ হতে হবে। তারপর সন্তানদেরও নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন মানুষকে বোঝানো হয় না পরার্থে জীবন দেওয়ার গল্প। অন্যের উপকারে নিজের সুখ পাওয়ার গল্প। ভোগে সুখ নয় ত্যাগেই সুখ। যার কারণে শিক্ষিত হয়েও ছেলে-মেয়েরা নীতি-নৈতিকতা, অন্যের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নৈতিকতা শেখানো হয় না। তারা জিপিএ উন্নয়নে ব্যস্ত। ছেলে-মেয়েরা ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত থাকছে। প্রতিবেশির খোঁজ নিচ্ছে না। আর সে ক্যারিয়ার হচ্ছে শুধুমাত্র নিজেকে ঘিরে। তাই আগের মতো এখন আর যৌথ পরিবারও দেখা যায় না। তথ্য-প্রযুক্তি অপব্যবহার আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। পরস্পর যোগাযোগ ও মমত্ববোধ বিনষ্ট করছে। চারজন ঘরে থাকলে কেউ মোবাইল, কেউ টেলিভিশন, কেউ ল্যাপটপ, কেউবা একা একাই ঘুরছে। এসব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের আবার ফিরে আসতে হবে আমাদের মাটির কাছে, বাঙালির সংস্কৃতির কাছে। আবার ফিরতে হবে আমাদের অতিত ঐতিহ্যের কাছে। একাডেমিক ক্ষেত্রে পড়া-লেখার ভারটা কমাতে হবে। আমি মনে করি ছেলে-মেয়েদের যুক্ত করে রাখা হয়েছে তথাকথিত পাঠ্যপুস্তকে। এটা আসলে পাঠ্যপুস্তক না, অপাঠ্যপুস্তক। এছাড়া পাঠপুস্তকে নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। তাহলে আমাদের সমাজে আবার নৈতিকতা আসবে। সভ্য সমাজ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। প্রশ্ন: সমাজের নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের করণীয় কী? তুহিন আফরোজা আলম: প্রথমে পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পিতামাতা সবসময় সন্তানকে সময় দিতে হবে। সন্তান কি করছে, পিতামাতাকে খোঁজ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষার প্রসার বৃদ্ধি করতে হবে। নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্বে অনুশীলন বাড়াতে হবে। প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘদিন ঢাকা কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোন মধুর স্মৃতি যদি বলতেন? তুহিন আফরোজ আলম: ঢাকা কলেজের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এসব স্মৃতি নিয়ে অনেক বড় বই লিখতে পারতাম। বিশেষ করে স্মরণ করতে চাই এইচএসসি শিক্ষার্থীদের কথা। ক্লাস বাদ দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মাঠে খেলতো। তবে আমাকে দেখলে তারা মাঠ থেকে ছুটে ক্লাসে চলে আসতো। এই দিনগুলো এখনও আমার স্মৃতি, আমার চোখে এখনও ভাসে। অনেক সময় কলেজের সামনে থেকে বা সাইন্সল্যাব, সিটি কলেজের সামনে থেকে হাত ধরে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতাম ক্লাসে। যতদিন ঢাকা কলেজে দায়িত্ব পালন করেছি। শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছি। ঢাকা মর্ডান কলেজকেও ঢাকা কলেজের আদলে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে চাই। একুশে টিভি অনলাইন: ছাত্রজীবনের এমন কোনো কষ্টের স্মৃতি আছে কি- না যা বলা যায়- তুহিন আফরোজা আলম: আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশের অর্থনীতি ভালছিলো না। বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিলো এলোমেলো অবস্থায়। এসময় আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে সবেমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছি। তখনকার আমাদের হোস্টেল জীবন অনেক কষ্টের ছিলো। আমি মন্নুজান হলে থাকতাম। সেখানে একবেলা রুটি একবেলা ভাত দেওয়া হতো। সেই ভাতের চালের মানও অনেক নিম্নমানের ছিল। এভাবে অনেক কষ্টে শিক্ষাজীবন শেষ করেছি। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে আপনি কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন ? তুহিন আফরোজা আলম : বর্তমানে আমি ঢাকা মডার্ন কলেজে দায়িত্ব পালন করছি। ঢাকা কলেজ থেকে অবসরে যাওয়ার পরে আমি বসে থাকিনি। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে উৎস্বর্গ করেছি। এই কলেজকেও ঢাকা কলেজের মতো কলেজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন আঙ্গিকে ঢাকা মডার্ন কলেজকে একটি আদর্শ ও উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আলোকিত মানুষ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে নিরলস প্রচেষ্টা। বর্তমান যুগ অসীম প্রতিযোগিতার যুগ, জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের যুগ। অগ্রসরমান প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে জ্ঞান বিকাশের পাশাপাশি নৈতিকতার অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে- যা নিয়ত ভাবিয়ে তুলছে শিক্ষক, অভিভাবক তথা সচেতন ব্যাক্তিবর্গকে। এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন নৈতিকতার চর্চা নিরলসভাবে কাজ করা। আমি চাই মানসম্মত একটি উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে যেখানে শুধু ভালো ছাত্র নয় বরং ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে। ঢাকা মডার্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের এই চাহিদা পূরণে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের মেধা ও মনন বিকাশের লক্ষ্যে নতুন আঙ্গিক্বে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক গড়ার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঢাকা মডার্ন কলেজে শিক্ষার্থীদেরকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রশ্ন: এই কলেজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যদি একটু বলতেন? ঢাকা মডার্ন কলেজে দায়িত্ব পালন করছি দীর্ঘ ২ বছর ধরে। এখানে অনেক কিছু করা সম্ভব হয়েছে। এখন বর্তমানে কলেজে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা দায়িত্ব পর কলেজকে আলাদা রূপ দিয়েছি। বর্তমানে এখানে ২৫ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছে। Skylark education Foundation এর অধিনে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়। নিয়মিত পাঠ পরিকল্পনা নিবীড় পর্যবেক্ষণ ক্লাসটেস্ট মাসিক পরীক্ষা,সহশিক্ষা কাজক্রম এই প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে আকর্ষণীয়। অধ্যাপক তুহিন আফরোজা আলম, ১৯৭৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম,কম পাশ করেন। ১৯৮২ সালে বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে চাকরি শুরু করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে ১৩ টা কলেজে চাকরি করেন। ২০০৯ সালে ঢাকা কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে সফলভাবে দায়িত্বপালন করে সরকারি চাকরির ইতি টানেন। এরপর যোগদান করেন ঢাকা মডার্ন কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার সরাসরি নির্দেশনা ও তত্বাবধানে ঢাকা মডার্ন কলেজেটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়মিত ছাত্র শিক্ষকদের জন্য একজন গাইড টির্চার নির্ধারণ ও মনিটরিং আমনোযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ,সম্ভ্যাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রেরণ দান সিসি ক্যমেরা ডিজিটার কমেন্ট পাঠদান এ প্রতিষ্ঠানকে করেছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠের অধিকারী।  প্রশ্ন: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনার  ধন্যবাদ।  অধ্যাপক তুহিন আফরোজা আলম:  একুশে টিভি পরিবারকে ধন্যবাদ।    টিআর/
‘‘ছাত্রলীগ শুধু মিছিল মিটিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু`র সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় টিএসসিসহ নানা ইস্যুতে গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। ডাকসু`র প্রাপ্তি কী, ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কী কাজ করবেন, শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সাথে। উঠে এসেছে ডাকসু ভিপি নুর প্রসঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ডাকসু নির্বাচনের পর কয়েকমাস অতিবাহিত হল। আপনার জায়গা থেকে এই সময়ের মধ্যে আপনাদের প্রাপ্তি কী বলে মনে করছেন?আসিফ তালুকদারঃ দীর্ঘ আঠাশ বছর পর অচলায়তন ভেঙ্গে ডাকসু যাত্রা শুরু করল। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের অভাব অভিযোগের ভিত্তিতে যে দাবিগুলো উঠেছিল আমরা চেষ্টা করছি সেগুলো নিয়ে কাজ করতে।বিশেষ করে গত দু`আড়াই মাসে যে কাজগুলো হয়েছে আমি আমার জায়গা থেকে খুব সন্তুষ্ট। যেহেতু দীর্ঘদিন ডাকসু ছিলনা তাই ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নানা চাওয়া পাওয়া, মান অভিমান জমা হয়েছে। আমাদের মেয়াদ মাত্র এক বছরের। এই এক বছরে সব সমস্যার সমাধান করা বাস্তবিক অর্থেই সম্ভব না। যেহেতু ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, ডাকসু কার্যকর হয়েছে, তাই আমরা চাচ্ছি এই কেবিনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক কাজের ভিত্তি স্থাপন করা যার মাধ্যমে ডাকসু`র ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।আগামীতে যারা ডাকসু নেতৃত্বে আসবেন তারা নিশ্চয় আরো ভাল কাজ করতে পারবেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ডাকসু`র নেতৃত্বে শুরু হয়েছে এমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজের কথা বলুন যেগুলোতে ডাকসু`র সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আপনি ভূমিকা রেখেছেন।আসিফ তালুকদারঃ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়া হত। এটা দীর্ঘদিনের অভিযোগ। আমরা বিভাগগুলোর সাথে কথা বলে ফরমের দাম কমানো ও ভর্তি ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছি।সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমার নিজ উদোগে টিএসসি কেন্দ্রীক কিছু কাজ হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি টিএসসি কেন্দ্রীক যে সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রয়েছে তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে। তাদের যেসকল অনুষ্ঠানগুলো থাকে সেসকল অনুষ্ঠানগুলোতে সহায়তা করতে এবং সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের তার সাথে সম্পর্কিত করতে। আমরা ইতোমধ্যে কিছু অনুষ্ঠান করেছি। টিএসসি কেন্দ্রীক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যখন যে কাজে সহযোগিতা চাচ্ছে আমরা তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছি। আপনি টিএসসির বাউন্ডারিটা দেখেছেন। এই লাইনটা অনেক ছোট। মেইন গেইট বন্ধ থাকলেও অনেক পথশিশু দেওয়াল টপকে ভেতরে চলে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রী ভাই বোনেরা অভিযোগ করে আসছে তারা এখান থেকে মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিস সুযোগ পেলে চুরি করে নিয়ে যায়। সেজন্য খুব শীঘ্রই আমরা বাউন্ডারি লাইনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।টিএসসিসহ আশেপাশে যতোগুলো বিদ্যুতের লাইন আছে সবগুলো খুব পুরনো। বর্তমানে অগ্নিকান্ডের সমস্যা খুব ভয়াবহ। আগুনের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুতের সংযোগ খুব দ্রুত সংস্কারে আমরা হাত দিতে যাচ্ছি। টিএসসি অডিটোরায়ামে ব্যাপক সংস্কার আনতে যাচ্ছি। শব্দ ও আলোকসজ্জা, আনা হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামটিতে ডেকোরেটার্সেও আসবে পরিবর্তন। আসা করছি রমজান মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে দুটো দিয়েছিল। একটি হলো টিএসসিকে ধূমপান মুক্ত করা। যদিও টিএসসি আগে থেকেই ননস্মোকিং জোন ছিল তথাপি তদারকির অভাবে বা আমাদের সচেতনতার অভাবে সবাই আবার ধূমপান শুরু করেছিল। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ডাকসু`র পক্ষ থেকে পায়ে হেঁটে হেঁটে ফুল নিয়ে চকলেট নিয়ে আমরা আহবান জানিয়েছি টিএসসির ভেতরে যেন কেউ ধূমপান না করে। এ প্রচারনায় আমরা যথেষ্ঠ সাড়া পেয়েছি। এখন টিএসসি ধূমপান মুক্ত। আরেকটি বিষয় হলো আগে শুক্র-শনিবার টিএসসির গেইট সবসময় বন্ধ করে রাখা হতো। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল। যে সারা সপ্তাহ ক্লাস করার পরে, টিউশানি করার পরে ছুটির দিনে টিএসসিতে আসার সুযোগ পেতনা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ হয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। দাবি জানিয়েছিলাম, সপ্তাহে সাত দিন যেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিএসসি অবমুক্ত রাখা হয়। সেই দাবির প্রেক্ষিতে টিএসসিতে এখন সাতদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। আরেকটি কথা না বললেই নয়। রমজান মাসে টিএসসি প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা ইফতার করে থাকে। অন্যান্য বছর দেখা গেছে ইফতার পরবর্তী সময়ে টিএসসি প্রাঙ্গন খুব অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আসলে কাউকে দোষ দেওয়ার সুযোগও ছিল না। কারন, ময়লা ফেলার কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া ইফতারের পরপর সবাই নামাজ পড়তে যায়। অল্প সময়ে বাইরে প্যাকেট ফেলা সম্ভব ছিল না। এবার আমরা ডাকসু`র নেতৃত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহযোগিতায় মাঠে বেশ কিছু বিন দিয়েছি। ইফতারের আগে কিছু অস্থায়ী বিন দেওয়া হয়। ফলে ইফতারের পরে শিক্ষার্থীরা খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, খোসা সব বিনে ফেলতে পারছে। সবকিছু মিলিয়ে একটি আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ডাকসু এগিয়ে যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর একটি ভিন্ন ব্যানার থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সেই জায়গা থেকে তার সাথে কাজ করতে গিয়ে কোন রকম দ্বন্দ্ব বা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে কিনা?আসিফ তালুকদারঃ নুর ডাকসু`র নির্বাচিত ভিপি। তার আলাদা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। সেটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রশ্নে যে যেই দল বা সংগঠন থেকেই আসুক না কেন সবাই এক ও অভিন্ন মতামত রাখতে বাধ্য। কারণ, আমরা নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ডাকসুতে আসিনি।আমরা ডাকসুতে এসেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতাল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে।আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু মিটিং করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে মিটিংগুলো বেশ সফল। মাননীয় উপাচার্য মহোদয় জাপান যাচ্ছেন। তিনি জাপান থেকে ফিরে এলে আমরা ফাইনাল বাজেট মিটিংটা করব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সম্প্রতি আপনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন। এ দায়িত্বটা আপনি কীভাবে পালন করবেন তা নিয়ে কিছু ভেবেছেন?আসিফ তালুকদারঃ আমার বড় পরিচয় আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী। আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলেই আমি ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সুযোগ পেয়েছি। আর ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছি বলেই আপনার বা গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। আমি অত্যান্ত খুশী কারণ আমার শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মূল্যায়ন করেছেন, ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারন সম্পাদক আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাদের আবেগের জায়গা। এই সংগঠনের জন্য আমি রাজপথে স্লোগান ধরি, হাতে কলম তুলে নেই। দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকি। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমার আত্মার সাথে জড়িত। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি হলো সাহিত্য সম্পাদক। এ পদটি আমার কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।সাহিত্য সম্পাদক পদটি এবারই প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছে। আগে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এই কাজ করতেন। কিন্তু যেহেতু এর পরিমন্ডলটা অনেক বড় তাই আলাদাভাবেই সাহিত্য সম্পাদক পদটি করা হল। এই পদকে ঘিরে আমার কিছু ইচ্ছা ও পরিকল্পনা রয়েছে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করব ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা শুধু মিছিল মিটিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেধাভিত্তিক চর্চার মাধ্যমে সোনার ছাত্রলীগ গড়ার যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন সেই মেধাভিত্তিক ছাত্রলীগ গড়তে, মেধাভিত্তিক রাজনীতি গড়তে, নেতাকর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে যে ধরনের সাহিত্য নির্ভর কর্মসূচী নেওয়া প্রয়োজন আমি আমার জায়গা থেকে তা করার চেষ্টা করব।সামনে আগস্ট মাস আসছে। আমাদের জাতীয় জীবনে শোকের মাস। এ মাসকে ঘিরে আমাদের পরিকল্পপনা রয়েছে। আগষ্টে একটি বড় স্মারক গ্রন্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি যতোদিন দায়িত্বে থাকব ততোদিন নিয়মিত একটি সাহিত্য কাগজ করার পরিকল্পনা আছে। যখন আমি বা আমরা দায়িত্বে থাকব না তখন যারা আসবে তারাও যেন এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সেই প্রত্যাশা থাকবে।যেহেতু আমি ডাকসু`র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সেহেতু সার্বজনীন ভাবে আমার দায়িত্বটা আরো বেশী। বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচী, ঋতু ভিত্তিক কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হল। নবগঠিত কমিটির অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেই কমিটির একজন হিসেবে অভিযোগগুলোকে আপনি কীভাবে দেখছেন?আসিফ তালুকদারঃ উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রায় চল্লিশ লক্ষ নেতা কর্মী সংগঠনটির সাথে জড়িত।প্রত্যেকটি সম্মেলনের পরেই যখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয় তখন কিছু মান অভিমান তর্ক বিতর্ক এসে যায়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবাধ সম্প্রসারনের ফলে অনেক ছোট বিষয়গুলো বড় অাকার ধারন করে। এটা একটা বড় সমস্যা। যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো কিন্তু আমাদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সেখানে যোগ্যদের জায়গা করে দেওয়া হবে। যদি ছাত্রলীগ অভিযোগ অস্বীকার করত, বলত ছাত্রলীগ সকল ভুলের উর্দ্ধে তাহলে না হয় কথা ছিল। তাছাড়া ছাত্রলীগ একটি পরিবার। এখানে নেতাকর্মীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি, মান অভিমান আছে। বড় পরিবারে ভুল বুঝাবুঝি থাকবেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মাধ্যমে আমি সকল নেতাকর্মী ভাইবোনদের আহবান করব, সবকিছু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলাপ করা আমাদের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কিছু কিছু বিষয় আমরা সংশোধনের জন্যই আলাপ করে থাকি। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে সেই আলাপ বা সমালোচনা যেন গঠণমূলক হয়ে থাকে।সমালোচনা যেন শুধু সমালোচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সমালোচনার ভাষা যদি সমালোচিত হয়ে যায় তাহলে সেই সমালোচনা কার্যত ভাল কিছু বয়ে আনে না। পাশাপাশি আমি ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের কাছে দাবি জানাব, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মতামত প্রকাশের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। যেখানে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে গঠণমূলক কথা বলার সুযোগ পাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ মুজিব বর্ষ নিয়ে ছাত্রলীগ কেমন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে?আসিফ তালুকদারঃ মুজিব বর্ষ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। কৌশলগত কারণে আপাতত সেই পরিকল্পনা বলতে চাচ্ছি না। `মুজিব বর্ষ` আমাদের জন্য আবেগময় একটি সময়। নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করেছে । ডাকসুতে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে মুজিব বর্ষ একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মুজিব বর্ষ আমাদের জন্য সৌভাগ্যের একটি ব্যাপার। আমরা অবশ্যই ব্যাতিক্রম ভাবে ও স্মরনীয়ভাবে মুজিব বর্ষ পালন করব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হলো। একদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অন্যদিকে ডাকসু। কাজ করতে গিয়ে নেতৃত্বের এই জায়গাটা সাংঘর্ষিক মনে হয় কী?আসিফ তালুকদারঃ যখন ডাকসু ছিলনা তখনো ছাত্রদের অধিকার আদায়ের নানা বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের পাশে ছিল ছাত্রলীগ। গত দশবছরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ অনেক কাজ করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো গণমাধ্যমে কর্মরত ভাই বোনেরা কেন যেন ছাত্রলীগের ইতিবাচক কাজগুলো এড়িয়ে যায়। দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন।এর আসল কারণ কী তা আমাদের বোধগম্য নয়। এই ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পেছনেও ছাত্রলীগের বড় একটি ভূমিকা আছে আমরা চেয়েছি ডাকসু কার্যকর হোক। যাতে আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি। আমাদের বড় পরিচয় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ডাকসু ভিপি নুরু তার নিজের একটি ব্যানার থেকে এসেছে। আমরা পারষ্পরিক একটি মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করছি। সব মিলিয়ে কোথাও আমাদের নেতৃত্ব বা সম্পর্ক সাংঘর্ষিক নয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সাম্প্রতিক সময়ে আপনার পদ পদবী ও রাজনৈতিক পরিচিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একদিকে ডাকসু`র সাংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন। এই ধারাবাহিকতায় আগামীতে আপনি নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?আসিফ তালুকদারঃ আমি যখন ডাকসু নির্বাচন করছিলাম তখন আমার আলাদা কোন নির্বাচনী ইশতেহার ছিল না। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের যেসব অভাব অভিযোগ আছে তাই আমার ইশতেহার। আমি নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাই তা নিয়ে কখনোই ভাবিনি। বরং যে দায়িত্বটা পেয়েছি তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করতে চাই। দিনশেষে নিয়তি আমাকে বলে দিবে আমার কোথায় যাওয়া উচিত। আআ//

‘জর্জিয়া ও বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই’

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায়। ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন বিদেশ গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিবেন। তাই দেশে থাকতে পড়েছেন, ঢাকার ডনস্‌হাইস্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে। আর এখান থেকেই মাধ্যমিক পাস করে ১৯৮১ সালে পাড়ি জমান আমেরিকায়। পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমানো চন্দন সে বছরেই সেখানে ভর্তি হন নর্থ ক্যারোলাইনার সেন্ট্রাল পিডমন্ট কমিউনিটি কলেজে। তার পরে তিনি জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউজিএ) থেকে ইকোনমিকস অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজে বিবিএ ও এমবিএ করেন। পড়াশোনা করতে যাওয়া সেই বাংলাদেশি ছেলেটি যে একদিন মার্কিন সিনেটর হবে, হয়তো তিনিও কখনো ভাবেননি। পড়াশোনা করতে যাওয়া সেই ছেলেটি একসময় সম্পৃক্ত হন রাজনীতির সঙ্গে। তার পরে তিনি আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৫ নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত হন স্টেট সিনেটর হিসেবে।  ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক নির্বাচনে চন্দন মোট ৪ হাজার ২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কার্ট থম্পসন পান ১ হাজার ৮৮৫ ভোট। প্রাথমিক বাছাইয়ে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৬৮ শতাংশই আস্থা রাখেন শেখ রহমানের ওপর। তারপর গত নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে রিপাবলিকান বা অন্য কোনো দল থেকে কোনো প্রার্থী না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দীর্ঘ চার বছর পর তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। নিজের বাড়ি কিশোরগঞ্জে গিয়েছেন মায়ের কাছে। এই সিনেটর এসেছেন একুশে টেলিভিশনের কার্যালয়ে। একুশে টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশনের অনলাইন প্রতিবেদক নিলয় মামুন। একুশেটিভি অনলাইন: একজন বাংলাদেশি হিসেবে কিভাবে সেখানকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন ? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: ১৯৮২ সালে প্রথম আমি একজন প্রার্থীর প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করি। তবে এছাড়া আমি জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়ি তখন আমি ছাত্র প্রতিনিধি ছিলাম। এভাবেই ধীরে ধীরে আমি রাজনীতিরি সঙ্গে সংযুক্ত হই। একুশে টিভি অনলাইন: একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমেরিকার সিনেটর পর্যন্ত পোঁছাতে, আপনাকে কি কি সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: আসলে সেখানে প্রথমে গিয়ে আমাকে ৯০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতে হয়েছে। আমি কোন দিক চিন্তা করিনি, তাদের সঙ্গে যত দ্রুত মেশা যায় আমি সেটার জন্য চেষ্টা করেছি। আমেরকিায় অনেকে আছে মুসলমানদের দেখতে পারে না, বর্ণবাদী বিভিন্ন ধরনের লোকই আছে। তবে এটাও সত্যি যে সেখানে যার যোগ্যতা আছে তাকে সেই দেশের মানুষ অবশ্যই গুরুত্ব দেয়। আর আমিও এভাবে সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু প্রথমে একটু সমস্যা হয়েছে আমার গায়ের রংয়ের কারণে আমাকে মধ্যপ্রাচ্যের লোক মনে করতো অনেকে। তবে ধীরে ধীরে এ সমস্যা কেটে যায়।  একুশে টিভি অনলাইন: অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্চলতা কিভাবে এসেছে? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: বাংলাদেশ থেকে  যখন আমি যাই তখন দুবছরের মাথায় আমাকে অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে। অর্থের অভাবে আমাকে কয়েক বছর ড্রপও দিতে হয়েছে কলেজে। আমার ৪ বছরের কোর্স শেষ করতে ১৩-১৪ বছরের মতও সময় লেগেছে। এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে উঠে এসেছি। আমি টাকার জন্য ডিশ ওয়াসের কাজ করেছি, ক্যাব চালিয়েছি। এমন সব কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছি। বর্তমানে আমি আবাসন ব্যবসা ও রেন্টাল প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আছি। একুশে টিভি অনলাইন: বাংলাদেশর রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যদি কিছু বলতেন ? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: আসলে এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ অনেক ক্রেডিট পেয়েছে। তবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বালাদেশের অগ্রগতি কেমন আমি সেটা তেমন জানি না। তবে আমি খোঁজ নিব। এছাড়া আমার জায়গা থেকে এ বিষয়ে কিছু করার থাকলে অবশ্যই আমি করবো। একুশে টিভি অনলাইন: নিজের অবস্থান কোথায় দেখতে চান ? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: আসলে আমি তো আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারবো না। তবে জর্জিয়ার জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে,তাদের জন্য যদি কিছু করতে পারি। তাহলে সেটাই আমার বড় পাওয়া হবে। এছাড়া নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের জন্য কিছু করাই আমার লক্ষ্য। একুশে টিভি অনলাইন: বাংলাদেশের কি কি উন্নতি এবার দেশে আপনার চোখে পড়েছে ? শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন: আসলে বাংলাদেশের সাফল্য সত্যি প্রশংসনীয়। উল্লেখ যোগ্য উন্নতির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে। একটি দেশের উন্নতির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক গুরুত্ব বহণ করে। একুশে টিভি অনলাইন: বাংলাদেশের তরুণদের জন্য কোন পরামর্শ আছে কি-না? আসলে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে দেশে পড়াশোনা হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি টেকনোলজি সম্পর্কে ধারণা বাড়ানোর জন্য বলবো। তবে কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শই দিতে চাই। ব্যর্থতার পরে অবশ্যই সফলতা আসবেই ।    এসএইচ/

ছোট স্বপ্ন থেকে সাহসী উদ্যোক্তা সাবরিনা জামান

সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার পথের বাঁকে থাকে ছোট ছোট অনেক গল্প। যে গল্প বিশ্বাসের, যে গল্প পরিশ্রমের, যে গল্প ধৈর্য্য ধারনের, যে গল্প সাহসীকতার। ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় পথচলা। নানা বাধা আসে চলার পথে। ঝুঁকি সামলে নিতে না নিতে আবার ঝুঁকি আসে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নিজের পেশা নিয়ে সংশয়, সফল হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়; একজন উদ্যোক্তার এসবগুলো অভিজ্ঞতাই অর্জিত হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এতসব বাঁধা পেরিয়ে সফল ও সাহসী উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছেন ইমপ্যাক্ট পিআর-এর প্রধান নির্বাহী সাবরিনা জামান। দীর্ঘ ১২ বছর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে কাজ করছেন। অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। প্রথম দু’জনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠান শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অর্ধ-শতাধিক লোক কাজ করছে। রসুইঘরের বদলে এখন তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিষ্ঠানটি সামলানোর কাজে। তবে এই সাফল্যের পথটা মসৃণ ছিল না। নিজের সাহসী উদ্যোক্তা হয়ে উঠার সার্বিক বিষয় নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: ইমপ্যাক্ট পিআর বাংলাদেশে প্রথম পিআর এজেন্সি এটা সবাই জানে। প্রশ্ন হলো- কিভাবে এর পথচলা শুরু হয়- সাবরিনা জামান: প্রকৃত অর্থে পিআর যে আলাদা একটি সার্ভিস সেক্টর হতে পারে সেটা নিয়ে সর্বপ্রথম কাজ করে ইমপ্যাক্ট পিআর। শুরুতে আমাদের মাথায় চিন্তা আসে যে বাংলাদেশে এ ধরনের কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে আমরা নিজ থেকে কাজটা শুরু করতে পারেনি। কারণ আমি একটা ছোট চাকরি করি। যা দিয়ে এমন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব ছিলো না। যে কারণে আমরা উদ্যোক্তা খোঁজা শুরু করলাম। এই আইডিয়া নিয়ে দেশের বড় বড় কয়েকটি বিজ্ঞপনী সংস্থার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বোঝানোর চেষ্টা করলাম, দেশে পিআর নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাদের কারো পক্ষেই দেশে পিআরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়নি এবং পিআর এজেন্সি শুরুর বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বললেন- এর মাকের্ট তৈরি করা বাংলাদেশে কোন দিন সম্ভব নয়। এমন আচরণের কারণে শুরুতেই আমরা কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। একুশে টিভি অনলাইন: পিছিয়ে গিয়ে আবার কিভাবে সামনের দিকে এগুলেন? সাবরিনা জামান: তবে নিজের উপর বেশ আত্মবিশ্বাস ছিল।  মনে হয়েছে-এখানে সম্ভাবনাময় কিছু করার বেশ সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এই মাকের্টটা এমনিতেই পড়ে রয়েছে। কেউ এটা নিয়ে কাজ করছে না। পরিশেষে  আমি নিজে এবং বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান নির্বাহী এবং ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের সম্পাদক মো. শামসুর রহমান, নামকরা ব্যবসায়ী ইন্টারন্যাশনাল অফিস ইকুইপমেন্ট (আইওই) এর সিইও এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম এর সঙ্গে আলাপ করি। তিনি আইডিয়াটা স্বাদরে গ্রহণ করেন এবং পিআর এজেন্সি চালু করার জন্য সার্বিক সহায়তা করেন। এভাবে ২০০৫ সালে দু’জনের হাত ধরে দেশের প্রথম পিআর এজেন্সি হিসেবে ইমপ্যাক্ট পিআরের যাত্রা শুরু। তবে প্রথম ৫-৬ বছরের পথ চলা খুবই কঠিন ছিলো। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে, ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার গিয়ে বুঝাতে হয়েছে পিআর কি। তবুও তারা বুঝতে চেষ্টা করেনি। বড় বড় কোম্পানির কাছে গিয়ে পিআর সম্পর্কে ব্রিফ করতে হতো। কারণ বিষয়টি সবার কাছেই একেবারে নতুন ছিল। সেসময় এশিয়া এনার্জি নামে একটি বহুজাতিক জ্বালানী কোম্পানি এবং দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ বেক্সিমকো তাদের সবগুলো কোম্পানির পিআর এর জন্য ইমপ্যাক্ট পিআরকে দায়িত্ব দেয়। শুরুতে এই দুইটি কোম্পানি নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয়। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে এই সেক্টরের অবস্থা কেমন? সাবরিনা জামান: বর্তমানেও আমরা অনেকগুলো বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হচ্ছি। এখনও মার্কেট বুঝে না পিআর কি। আপনি যদি ৫ বছর আগে প্রশ্ন করতেন পিআর কি, আমি বলতাম ভালো প্রেস রিলিজ লেখা পিআর এজেন্সির কাজ। একটা ভাল সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া পিআর এজেন্সির কাজ। গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দায়িত্ব পিআর। কিন্তু এই ধারণার পরিবর্তন এসেছে। এই জায়াগ থেকে আমরা অনেকটা বের হয়ে এসেছি। প্রথম কয়েকবছর ইমপ্যাক্ট পিআর একচেটিয়া ব্যবসা করে। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পিআর এজেন্সি বাজারে আসলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতএব আমরা কিছুটা হলেও এর গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। একুশে টিভি অনলাইন: দেশে এখন অনেকগুলো পিআর এজেন্সি। মূলত পিআর এর কাজ কি? সাবরিনা জামান: বর্তমানে আমরা পিআর এজেন্সির গুরুত্ব মাকের্টে তৈরি করেছি। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন। ধরুন একুশে টিভি অনলাইনকে বাংলাদেশে ১ নম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসাবে দেখতে চায়। এজন্য পিআর এজেন্সি যা করা দরকার তাই করবে। পিআর এজেন্সি এক বছরের একটা কেলেন্ডার তৈরি করে দিবে। যেখানে এবছরে কিভাবে ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকবে। আর পিআর এজেন্সির কাজ হলো এই এক বছরে সঠিক সেবা নিশ্চিত করে ইটিভি অনলাইনকে বাংলাদেশের ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করানো। তবে এমন সার্ভিসটা সব পিআর এজেন্সির মধ্যে নেই। সেক্টরটা এখনও নতুন এবং এর কোন প্ল্যাটফর্ম বা গাইডলাইন নেই। এ কারণে প্রতিটি পিআর অ্যাক্টিভিটির জন্য কোন স্টান্ডার্ড মূল্য নির্ধারিত হয়নি। একই কাজের জন্য একেক এজেন্সি একেক ধরণের অসম বাজেট দেয়। এতে ক্লায়েন্ট বা কোম্পানিগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়। এ কারণে পিআর এজেন্সিগুলোর একটি আলাদা প্লাটফর্ম থাকা জরুরি। একুশে টিভি অনলাইন: এই প্লাটফর্ম নিয়ে আপনাদের স্বপ্ন বা ভবিষৎ পরিকল্পনা কি? সাবরিনা জামান: আমাদের একটা ছোট স্বপ্ন আছে। সেটা হচ্ছে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিটা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করাবো। বাংলাদেশে পিআর এজেন্সি হবে। যখন এই ইন্ডাস্ট্রিটার গুরুত্ব মানুষ ভালভাবে বুঝতে পারবে। তখন ইমপ্যাক্ট পিআর সকল পিআর এজেন্সি নিয়ে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করবে। যার মাধ্যমে সকল পিআর এজেন্সি পরিচালিত হবে। আমি অনেক বার এ ইন্ডাস্ট্রিটা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চেয়েছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন আমার নেশার কারণে বার বার ফিরে এসেছি। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩০জন লোক কাজ করে। আশা করি আমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। একুশে টিভি অনলাইন: পড়ালেখার জন্য দেশের বাহিরে চলে গিয়েছিলেন। বিদেশে স্থায়ী না হয়ে দেশে কেন ফিরলেন? সাবরিনা জামান: এর মূল কারণ ছিল আমার বাবা-মা। দ্বিতীয় কারণ ছিল দেশপ্রেম, তৃতীয় আমার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দেয় না। আমি বিদেশ থেকেও ইমপ্যাক্ট পিআরে কাজ করতাম। আমি জন্মগতভাবে  ব্রিটেনের নাগরিক ছিলাম। চাইলে ওই দেশে অনেক ভালকিছু করতে পারতাম। শুধু আমার বাবা-মা, আমার দেশপ্রেম এবং আমার স্বপ্ন আমাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। একুশে টিভি অনলাইন: এমন পেশায় কেন আসলেন? সাবরিনা জামান: সত্যি কথা বলতে আমি নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালবাসি। একইসঙ্গে আমি কথা বলতে খুব পছন্দ করি। এবং মানুষ আমার কথা শুনতেও পছন্দ করে। কাজেই মার্কেটিং, সেলস এসব জায়গাতেই আমার চলে যাওয়া উচিত। তবে পর্যটন, হসপিটালিটি বা সেলস-মার্কেটিং জগতে এসে ছোট-খাটো একটি চাকরি করেছি কিছুদিন। আমি যখন মাস্টার্স পরীক্ষা দেই তখন পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেখি, ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম তাদের সেলস টিমে লোক নেবে। সেখানে আমি ইন্টারভিউ দেই এবং চাকরিটা পাই। বাংলাদেশে কেএলএম-এর অপারেশন বেশ ছোট ছিল এবং তাদের সেলস আর মার্কেটিং একই টিম করতো। সেখানেও তাদের কথা সহজেই মানুষকে পৌঁছে দিতে পেরেছিলাম, এবং বুঝলাম গণসংযোগের পেশাটাই আমার জন্য উত্তম হবে। একুশে টিভি অনলাইন: এই সেক্টর সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে চান? সাবরিনা জামান: কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞাতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এই পেশা সম্পর্কে অনেকে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। কিছু এজেন্সির নেতিবাচক চর্চার কারণে এমনটি হয়েছে। অনেকে ভাবেন টাকা দিয়ে কাজ করায় পিআর এজেন্সি। তবে যারা এমনটি করে তারা বেশিদিন মার্কেটে টিকতে পারে না। কাজের মূল্যায়ন সবখানে আছে। আমি দেখেছি, অনেক ক্লায়েন্ট আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়ে বাজেটের দিক বিবেচনা করে, আবার ফিরে এসেছে শুধুমাত্র কাজে মুগ্ধ হয়ে। অবাস্তব আশা দিয়ে কাজ নিয়ে ক্লায়েন্ট অসন্তুষ্ট করা কোন ভাবেই ঠিক নয়। এজন্যই প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে টিকে আছি। তবে এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেক্টরটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সে সঙ্গে বিদেশি বহুজাতিক পিআর এবং কমিউনিকেশন এজেন্সিগুলোর সঙ্গে দেশিও অনেক এজেন্সি সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানের পিআর চর্চা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি বড় একটি সার্ভিস সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একুশে টিভি অনলাইন: একজন উদ্যোক্তা অর্থনৈতিক সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে? সাবরিনা জামান: আমার মনে হয় উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না। স্বপ্ন বাস্তাবায়নে সংগ্রামের প্রয়োজন হয়। কোন ব্যক্তি যদি স্বপ্ন দেখে যে উদ্যোক্ত হতে চায়। তাহলে অবশ্যই তার অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে। পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, যদি সে ব্যক্তি অর্থ দিতে রাজি হয় তাহলে পথে নামতে হবে। এই পথ আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। টিআর/এসি

সবারই বিদায় হজের ভাষণ পড়া উচিত: আরমা দত্ত

সবারই বিদায় হজের ভাষণ ও মদীনা সনদ পড়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত। তিনি বলেন, বিদায় হজে মোহাম্মদ ( সা) বলেছেন, "তোমরা কোন নারীর প্রতি অবিচার করোনা।" একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আরমা দত্ত বলেন, এদেশের অধিকাংশ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম শান্তির জায়গা। কিন্তু মোহাম্মদ ( সা) এর বিদায় হজের ভাষন ও মদীনা সনদ না পড়লে ধর্মের প্রকৃত মর্মার্থ বুঝা যাবেনা। সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি`র নিহত হওয়ার বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আরমা দত্ত বলেন, বিদায় হজে তিনটা প্রধান বিষয় মুহাম্মদ ( সা) বলে গেছেন। একটা হলো, তুমি কোন নারীর প্রতি অবিচার করবে না। দ্বিতীয়টি হলো, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দিবে। তৃতীয়টি হলো, সুদের ব্যাবসা করবে না। কিন্তু সমীক্ষা চালালে দেখা যাবে অধিকাংশ লোক এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে জানেন না। যদি কেউ এ তিনটি বিষয় জানে এবং মানে তাহলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আরমা দত্ত বলেন, নারীকে শোষণ করতে গিয়ে অনেকে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা ধর্মের অপব্যবহার করছে। আমি বহু লোককে জিজ্ঞেস করেছি এবং বলেছি, আপনারা বায়বীয় কথা না বলে মুহাম্মদ ( সা) এর ভাষনকে দলিল হিসেবে তুলে আনুন। আর কোনো ধর্মে এত শক্তিশালী দর্শন আছে বলে মনে হয় না। আরমা দত্ত বলেন, মুহাম্মদ ( সা) স্পষ্ট বলে গেছেন, কোন নারীকে অমর্যাদা করবে না। আজকে যারা খুব ধর্মের কথা বলে তারা ধর্মের অপব্যবহার করছে, তাদের অনেকে ধর্মের মূল জায়গাটা জানে না। ধর্মের মূল দর্শনটাই তারা চর্চা করে না। আমরা যদি প্রতিজ্ঞা করি, বিদায় হজ্বের এ তিনটা বিষয় মেনে চলব, তাহলে পরিবর্তন আমার ঘরে, সমাজে, দেশে আসবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে ধর্ষনের জন্য বা যৌন হয়রানীর জন্য কোন কোন মহল পোশাককে দায়ী করে থাকে এমন প্রসঙ্গে আরমা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা খুব সুন্দর ও শালীন পোশাক পড়ে থাকে। আমাদের দেশের মেয়েরা যথেষ্ট শালীন। সমস্যা হলো আমাদের বিকৃত রুচি। তবে আশার কথা হলো একটা পরিবর্তন আসছে। আরমা দত্তের মতে, শুধুমাত্র শাস্তি নয়, পুরো ব্যাপারটাকে আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে। একেবারে ছোট বয়স থেকেই বাচ্চাদের শেখাতে হবে নারী শ্রদ্ধার পাত্র। নারী মায়ের জাতি। নারীর জঠর থেকে তুমি এসেছ। একটা মেয়েকে অপমান করা মানে মাকে অপমান করা। নারীকে যদি মায়ের চোখে দেখা হয়, তাহলে সে যে পোশাকই পড়ুক না কেন সমস্যা কোথায়? আশাবাদ ব্যক্ত করে আরমা দত্ত বলেন, নারীদেরকে অবদমিত করা, যৌন হেনস্থা করার যে সংস্কৃতি চলছে তা বদলাবে। শীঘ্রই এমন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবেই। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত সাড়ে ন`টায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে নিজ মাদ্রাসার ছাদে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন দিলে শরীরের আশি ভাগ পুড়ে যায়। ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসি  

‘পাকিস্তানকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার’  

ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশের জন্যই পাকিস্তান ক্ষতিকর। তারা পুলওয়ামাতে জঙ্গি হামলা করার পর আবার চারজনকে হত্যা করেছে। তাদের এখন উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার বলে মনে করেন সংগীত শিল্পী কমলিকা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, পাকিস্তান বার বার একই কাজ করে যাচ্ছে। এবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।     কমলিকা গানের ভুবনের মানুষ। তিনি একজন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার সমান বিচরণ। বিয়ে করেছেন বাংলাদেশে। তার বাড়ি পশ্চিম বঙ্গের নদীয়ায়। ছোট বেলা থেকেই তিনি নাচ গানের সঙ্গে যুক্ত। মা-বাবার হাতেই তার গানের হাতে খড়ি। তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘রবি কথা’। তারপর তিনি রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি অনেকগুলো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেন।   সম্প্রতি ভারতের কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় এ সংগীত শিল্পী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমার শ্বশুর বাড়ি বাংলাদেশে। আমি দেখি এখানে পাকিস্তানের শিল্পীরা এলাও হয় না কিন্তু ভারতে তারা কাজ করতে পারে। এখন সময় হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার। তবে বাংলাদেশে এসে মনে হয়েছে এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। তারা অনেকেই কাশ্মীরে হামলার ঘটনায় সোচ্চার। আগামীর ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কমলিকা চক্রবর্তী বলেন, ভবিষ্যতে রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে। আমার বাবা রাজনীতি করতেন অন্যদিকে আমার শ্বশুর পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি তৃণমূল কংগ্রেস এর মিছিল মিটিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকি। নির্বাচনের সময় তৃণমূলের জন্য আমি একটি নির্বাচনি গানও করি। যা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু কাজ করে যেতে চাই।  গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই বাংলাতেই কাজ করতে চাই। কলকাতায় ইতোমধ্যে দুটি মিউজিক ভিডিও’র কাজ শেষ করেছি। সামনে মুক্তি পাবে। এছাড়া সিনেমার গান নিয়েও কাজ করছি। এর আগে বাংলাদেশের একটি সিনেমায় গান করেছি। আরও কিছু কাজ আছে সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছি। দুই বাংলার মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন? তুলনা করতে বললে, একটু হেসে...বললেন, অবশ্যই আমার জন্মভূমি বেশি প্রিয়। তবে এ দেশকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার শ্বশুর বাড়ি এখানে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। তার পরিবারকে যেভাবে হত্যা করা হলো- তিনি দাঁতে দাঁত কামড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরল ঘটনা। আমি হলেও এটা পারতাম না। তিনি যতদিন থাকবেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ততটাই মজবুত থাকবে। গানে বিশেষ অবদান রাখায় কমলিকা চক্রবর্তীকে গেল বছর দুবাইতে ‘গ্লোবাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গানের মধ্যে দিয়েই তিনি আজীবন মানুষের মনে স্থান করে নিতে চান। পাশাপাশি সমাজকে, প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে যুক্ত হতে চান রাজনীতিতে। এসি     

প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই: ফরিদা খানম সাকি

ফরিদা খানম সাকি। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিক ভাবে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।   ফরিদা খানম সাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তিনি নন; তার এক ভাই এবং এক বোনও মুক্তিযোদ্ধা। তার আপন সেজ মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সারাজীবন রাজনীতি করা মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ছিলেন শেখ হাসিনা`র ( বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) সহপাঠী। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ তার সাধাসিধে জীবন অন্য অনেকের চেয়ে ব্যতিক্রম করে তুলেছে তাকে। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পাওয়া ফরিদা খানম সাকি`র ছাত্ররাজনীতির স্মৃতি মানেই ছয়দফা, গণঅভ্যুথান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছেন শেখ হাসিনাকে (আজকের প্রধানমন্ত্রী)। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমি যখন রোকেয়া হলে থাকি তখন তিনি (শেখ হাসিনা) রোকেয়া হলে খুব জনপ্রিয়। শুধু ছাত্রীরা নয়, হলে কর্মচারীরাও তাকে ভালবাসত। বঙ্গবন্ধু`র ইশারায় তখন দেশ চলে। অথচ তার মেয়ে হয়েও তিনি ছিলেন খুব সাধারণ। সবার সঙ্গে মিশতেন। অনেকে আশ্চর্য্য হয়ে যেত। এত বড় নেতার মেয়ে। অথচ কোন অহংকার নেই।   ফরিদা খানম সাকি বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, বঙ্গবন্ধু`র পরিবারের সবাই ছিল নিরহংকার ও সাধাসিধে ধরনের। ৩২ নাম্বারে গিয়ে আমরা কখনো না খেয়ে ফিরেছি এমন নজির নেই। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানম সাকি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন রাজনীতি করার। বঙ্গবন্ধু`র ছয় দফা যখন দেশের মানুষকে নতুন প্রেরণায় উজ্জ্বীবীত করে তখন থেকেই নোয়াখালীর মিটিং, মিছিলে বিচরণ শুরু করেন ফরিদা খানম সাকি। পরবর্তীতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন রোকেয়া হলে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ছিলেন তখনকার ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে নোয়াখালীর এমন কোন বাড়ী নেই যেখানে তিনি নৌকা`র পক্ষে গণসংযোগ চালাননি। ২৫ মার্চের কালো রাতে তিনি সহ সাতজন মেয়ে অনেকটা অলৌকিক ভাবে হানাদারদের বুলেট থেকে বেঁচে যান। কিন্তু নোয়াখালীতে তার পরিবার মনে করেছিল, সাকি আর বেঁচে নেই। তিনি জীবিত আছেন এখবরটি নিশ্চিত হতে তাদের সময় লেগেছিল এক সপ্তাহ। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফরিদা খানম সাকি বলেন, ২৫ মার্চের রাতে রোকেয়া হলের হাউস টিউটর সায়রা বেগম আমাদের সাতজন মেয়েকে স্টোররুমে লুকিয়ে রেখেছিলেন। নয়তো সেদিন আমাদের অবস্থা অন্যান্য হলের ছাত্রদের মতো হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফরিদা খানম সাকি ঢাকা শহরে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে নিজ এলাকা নোয়াখালীর মাইজদীতে চলে যান। সেখানে শহর থেকে যেসব মানুষ প্রাণ বাঁচাতে গ্রামে ফিরে যাচ্ছিল তাদের সেবায় লেগে যান। তাদের খাওয়ানো, তাদের জন্য পোশাক সংগ্রহ সহ নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন। এরমধ্যে একদিন স্থানীয় রাজাকারদের প্ররোচনায় তার মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলুকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায় ও হত্যা করে। ফরিদা খানম সাকি তার এক বোন ও ভাই সহ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। খুব অল্প সময়ে তিনি স্টেনগান চালানো আয়ত্ব করেন নিখুঁত ভাবে। পরবর্তীতে সেনবাগ গেরিলা যুদ্ধে তা ভাল কাজ দেয়। সেই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বেশ ক্ষতি হয়। নিজ বাসায় বসে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা খানম সাকি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেটাই আমার বড় পরিচয়। সংসদ সদস্য অনেকে আসবে যাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আর আসবে না। ফরিদা খানম সাকি`র বিয়ে হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবারে। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমবার ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে। বঙ্গবন্ধু`র সরাসরি স্নেহ পাওয়া মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেকে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন নোয়াখালী জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান। চৌমুহনী এসএ কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ পরবর্তী প্রেক্ষাপট স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে ফরিদা খানম সাকি বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমান আমার স্বামীকে তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য ও তার সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমার স্বামী তাতে রাজী না হওয়ায় বারবার তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। কারাগারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী পণ করেছিলেন, মৃত্যু হলেও তিনি আদর্শ ত্যাগ করবেন না।  দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর রাজনীতির মাঠে থেকে এবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। কীভাবে প্রথম জানলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম আমার স্বামীকে ফোন করে বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী ফরম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মনোনয়ন পেয়েছি এ খবরটাও তিনি প্রথম আমার স্বামীকে ফোনে জানান। রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনে নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন। মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন। চুয়ান্ন বছরের রাজনীতিতে এই প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে সংসদ সদস্য হলেন। এমন অবস্থায় কী ভাবছেন জানতে চাইলে ফরিদা খানম সাকি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যে কোন কিছুর বিনিময়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। এসি     

আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হবে ওয়েল ফুড  

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ওয়েল গ্রুপ। চট্টগ্রাম ভিত্তিক ওয়েল গ্রুপের মূল ব্যবসা টেক্মটাইল। তবে ‘খাদ্য ব্যবসায়’ এসে সুনাম কুড়িয়েছে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েল ফুড’। মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে জানান দিচ্ছে বিশ্বকে।   ওয়েল ফুডের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এরই মধ্যে ৫৭টি আউটলেট চালু করেছে ওয়েল ফুড। ওয়েল গ্রুপের বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম।       সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।      একুশে টিভি অনলাইন: ওয়েল ফুডের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?   সৈয়দ নুরুল ইসলাম: ওয়েল গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়েল ফুড। আমাদের মোট টার্নওভারের মাত্র ১০ শতাংশ ওয়েল ফুডের ব্যবসা। এখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ আমাদের ওয়েল ফুডের ব্যবসায়ী হিসাবে বেশি চেনে। যে কারণে বর্তমানে আমরা অধিকাংশ সময় ওয়েল ফুডে দিচ্ছি। আমি মনে করি, আমাদের এই ফুড ব্যবসা অনেক দূর যাবে। বর্তমানে আমরা ব্র্যান্ড ও মান বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য হাজার কোটি টাকা রেখে যেতে পারবো না হয়তো। তবে আমি হাজার কোটি টাকা দামের একটা ব্র্যান্ড রেখে যাবো। সেই মানের ব্র্যান্ড তৈরিতেই কাজ করছি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে ওয়েল ফুড বাংলাদেশের এক নম্বর ব্র্যান্ড হবে। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হিসাবে দেখতে চায় ওয়েল ফুড। আপনি আমাদের আউটলেটে যান মানসম্মত খাদ্যপণ্য পাবেন। আমরা সবসময় মানসম্মত পণ্য নিশ্চিতে কাজ করছি। আমরা ভাল পণ্য বিক্রি করবো ভাল দাম নিয়ে। আজকে আমেরিকার কেএফসি’কে যেমন বাংলাদেশে দেখছেন, বেকারি শিল্পে ওয়েল ফুডকে এমন ভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের এক নম্বর ব্র্যান্ড হিসাবে চিনবে।   একুশে টিভি অনলাইন: শুরুটা কেমন ছিলো?      সৈয়দ নুরুল ইসলাম: মালয়েশিয়া ভ্রমণে ২০০৬ সালে দেখলাম এক নতুন কনসেপ্ট; অর্ডার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রুটি-বিস্কুট-কেক ক্রেতার সামনে বানিয়ে তাৎক্ষণিক (লাইভ) বিক্রি হচ্ছে। সেই ধারণা আমাকে বেশ আকৃষ্ট করল। স্বপ্ন বুনতে লাগলাম এই ধরনের একটি ফাস্ট ফুড-বেকারি শপ বানানোর। দেশে এসে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের ছোট্ট পরিসরে ২০০৬ সালেই যাত্রা শুরু করলাম আমার স্বপ্নের ফাস্ট ফুড শপ; নাম দিলাম ‘ওয়েল ফুড’। ব্রেড থেকে শুরু করে কেক-বিস্কুট প্রায় সব আইটেমই ছিল সেই ওয়েল ফুডে। সঙ্গে যুক্ত করলাম মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ফাস্ট ফুড শপ ‘সুগার বান’কে।  একুশে টিভি অনলাইন: ব্যবসার শুরুতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না?      সৈয়দ নুরুল ইসলাম: ব্যবসার শুরুর দিকে তেমন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি। কারণ ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। শুরুতেই বেশ ভালো সাড়া পেয়ে শখের শপ আর এই ছোট্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ রইল না; চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্য বানিয়ে ক্রেতার সামনে বিক্রি করা আর সম্ভব হলো না। পরিধি বাড়িয়ে এরপর চট্টগ্রামের মুরাদপুরে প্রথম কিচেন বা কারখানা করলাম। সেখান থেকেই চট্টগ্রামের শাখা খোলা এবং পণ্য সরবরাহ শুরু হলো। একের পর এক বেড়ে চট্টগ্রামে ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে দাঁড়াল ২৬টিতে। নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখন ওয়েল ফুডের শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়িয়ে এখন আমাদের ব্যবসা উত্তরে হাটহাজারী; দক্ষিণে পটিয়া ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সুনাম কাজে লাগিয়ে আমরা রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রার পরিকল্পনা করলাম। ২০১৩ সালে আমরা প্রথম ঢাকায় গিয়ে ওয়েল ফুডের ব্যবসা শুরু করলাম। পাঁচ বছরের ব্যবধানেই রাজধানী ঢাকায় ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে এখন ২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এরপর আমরা গেলাম সিলেটে। সেখানে আমাদের শাখা রয়েছে পাঁচটি। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তিনটি বড় শহরে আমাদের শাখার সংখ্যা এখন ৫৭টি। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক গন্তব্যে ওয়েল ফুড পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। শখের ব্যবসা দিয়ে শুরু হলেও ওয়েল ফুড দিয়েই লোকজন এখন আমাদের (ওয়েল গ্রুপকে) চেনে। আগে হাজার কোটি টাকার টেক্সটাইল ব্যবসা করলেও কেউ আমাদের চিনত না। ওয়েল ফুডের সেই চেনার জায়গাটাতেই আমরা কাজ করছি। উদ্দেশ্য আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে এই ব্যবসার পরিসর কেমন?     সৈয়দ নুরুল ইসলাম: বর্তমানে ওয়েল ফুডের ব্যবসা মাসে গড়ে আড়াই কোটি টাকা। ওয়েল ফুডের আউটলেটভিত্তিক ব্যবসাকে আমরা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। কয়েক বছরেই দ্রুত কয়েক শ কোটি টাকার ব্যবসা করব এমনটা চিন্তা করি না। কারণ ওয়েল ফুডের ক্রেতা হচ্ছেন উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এই ক্রেতার রুচি-ধরনও আলাদা। তাদের টার্গেট করেই আমরা মান-স্বাদ বজায় রেখেই সামনে এগুচ্ছি। তাই সঠিক মান ও ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রেখে ব্যবসা করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।  একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। সৈয়দ নুরুল ইসলাম: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। এসি        

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি