ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৫৫:০৫, শুক্রবার

মহানবী ও জিব্রাইল (আঃ) এর-কথোপকথন

মহানবী ও জিব্রাইল (আঃ) এর-কথোপকথন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও বার্তাবাহক ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ)এর-কথোপকথন বা হাদিসে জিব্রাইল (আঃ)  ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্মই নয়। একটি পরিপূর্ণ শাশ্বত জীবন বিধান। মানুষে ব্যত্তিগত সামাজিক অর্থনৈতিক  রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিষয়সহ মানুষের সার্বিক জীবনের সব সমস্যার সমাধান রয়েছে মহান রাব্বুল আলামীনের ঐশি পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোর আনুল কারীমের মধ্যে। এ শাশ্বত জীবন বিধান মানব সমাজে বাস্তবে অনুসরণ ও অনুকরণের জন্য সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার মহান মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা বিশ্ববাসীর রহমত সরুপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- তেমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ । তাঁর প্রতিটি কথা, কাজ, অনুমোদন, নির্দেশনা, আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ দুনিয়া –আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী। তাঁকে সমগ্র মানব জাতির শিক্ষক রূপে এ ধরাধমে প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর সে কালজ্বয়ী আদর্শ ও অমিয়বাণী দ্যুাতি ছড়িয়ে পথপদর্শন করেছে যুগ যুগান্তরে। তাঁর পরশে আলোকিত হয়েছে বর্বর জাহিলি সমাজ। ঘন ঘোর অনধকারে নিমজ্জিত জাতি পরিণত হয়েছে গোটা বিশ্বের অনুকরণীয় আদর্শে। একদা হুযুর (সাঃ) সাহাবীদের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববীতে তাশরীফ রাখলেন, এমন সময় এক অপরিচিত ব্যক্তি হুযুর (সাঃ) এর সম্মখে আগমন করে তাকে প্রশ্ন করলেন, ঈমান কি ? তিনি বললেন, ঈমান হল, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আখেরাত তাঁর সাক্ষাত এবং তাঁর রাসূলের উপর এবং পুনরুত্থানের উপর ঈমান আনবে । তারপর তিনি প্রশ্ন করলেন ইসলাম কি ? হুযুর (সাঃ) বললেন, ইসলাম হল, তুমি এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে শরীক করবে না । নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে । তারপর আগন্তক জিজ্ঞেস করলেন, ইহসান কি ? হুযুর (সাঃ) বললেন, তুমি এ খেয়ালে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি মহান আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ । যদি তুমি আল্লাহকে দেখতে না পাও, তবে মনে রাখবে, স্বয়ং আল্লাহ তোমাকে দেখতে পাচ্ছে । তারপর আগন্তক প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত কবে হবে ? হুযুর (সাঃ) বললেন, প্রশ্নকৃত প্রশ্নকারী অপেক্ষা এ বিষয়ে বেশী জ্ঞান নয় । তবে আমি তোমাকে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে খবর দিচ্ছি । তা হল, বান্দী যখন তাঁর মালিককে জন্ম দিবে, যখন নিকৃষ্ট উটের মালিকগণ বড় বড় অট্টালিকা বানিয়ে গৌরব করবে । পাঁচটি বন্তু এমন রয়েছে যার সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জ্ঞাত নয় । অতঃপর রাসূল (সাঃ) নিন্মুক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন- “মহান আল্লাহর কাছেই রয়েছে কেয়ামতের এলেম, বৃষ্টি কখন অবতীর্ণ হবে, মায়েদের রেহেমে কি রয়েছে, তুমি আগামীকাল কি করবে, কোন স্থানে তোমার মৃত্যু হবে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সব কিছু জানেন ও শুনেন” ।তারপর আগন্তক পেছনের দিকে চলে গেলেন । অতঃপর হুযুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে বললেন, তাঁকে ডেকে আন । কিন্তু সাহাবীগণ তাঁকে পেলেন না ।অবশেষে হুযুর (সাঃ) বললেন, ইনি হযরত জিব্রাইল (আঃ) তিনি এসেছিলেন মানুষদেরকে তাদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান দেয়ার জন্য । মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ কতৃক রচিত সহীহ আল-বুখারী, অধ্যায়ঃ ০২, পর্বঃ ঈমান, হাদিস নাম্বারঃ ৪৮, গ্রন্থনা আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল                
ইবাদত-বন্দেগিতে পবিত্র শবেবরাত পালন (ভিডিও)

অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা। মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা রাতভর নফল নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন। পবিত্র রজনী শবে বরাত। ধর্মপ্রান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ইবাদত-বন্দেগিতে সমগুল। মহান ¯্রষ্টার কাছে মাফ চাইছেন। কামনা করেছেন রহমত। বান্দার আবেদনে আল্লাহতালা খুলে দেন রহমতের দরজা। তাই মসজিদ-মসজিদে ভিড় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের। নিজেকে পাপ মুক্তি রাখতে মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ চান তারা। স্বজনসহ অন্যারা যাতে জান্নাতবাসী হন তার জন্যও দোয়া করেছেন মুসল্লীরা। শবে বরাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত। তাই আল্লাহর কাছে সবার প্রার্থনা ছিল, নিজের জন্য, স্বজনদের জন্য, দেশের জন্য, মানবজাতির জন্য। সবাই যেন শান্তিতে থাকে।

যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণে যেসব আয়োজন

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইস্টার সানডে আজ রোববার। এটি খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস। বাইবেল অনুযায়ী, কালভেরি পর্বতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান যিশু। মৃত্যুর ঠিক তিনদিন পর ছিল রোববার, আর সেই পবিত্র দিনে পুনরুত্থান হয় যিশুর। মৃত্যু থেকে পুনরায় জীবিত হয়ে স্বর্গে ফিরে যান তিনি। বলা হয়, যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থান কিংবা নবজন্মকে স্মরণ করার জন্য এই বিশেষ দিনটির নামকরণ করা হয়েছে দেবী ‘ইয়োস্ত্রে’র নাম অনুসারে। জার্মান প্যাগান ধর্মের এই দেবী ইয়োস্ত্রের নাম থেকে এসেছে ইস্টার শব্দটি। তিনি ছিলেন নবজন্ম এবং উর্বরতার দেবী। ছোট খরগোশ এবং ডিম ছিল তার প্রতীক। যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণ করতে ইস্টারের ৪৫ দিন আগে থেকে শুরু হয় বিশেষ কর্মসূচি প্রায়শ্চিত্তকাল। প্রায় ছয় সপ্তাহের এই সময়ে রোববার দিন বাদে প্রতিদিন নানাভাবে নিজের পাপের জন্য অনুতাপ প্রার্থনা করে খ্রিস্টানরা। উপবাস থাকা, নিয়মিত প্রার্থনা আর পাপস্বীকারের মাধ্যমে পালিত হয় প্রায়শ্চিত্তকাল। রোববার বাদে উপবাস থাকার এই কর্মসূচি চলে ৪০ দিন। এছাড়া প্রায়শ্চিত্তকালে প্রতি শুক্রবার বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্ত করে খ্রিস্টানরা। কারণ বাইবেলের মতে, যিশুর মৃত্যু হয়েছিল শুক্রবারে ঠিক দুপুর তিনটায়। ইস্টার সানডের আগের শুক্রবার তাই বেশ ঘটা করে পালিত হয় গুড ফ্রাইডে। অনেকে এই দিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বা গ্রেট ফ্রাইডে বলেন। কালো পোশাক পরে সেদিন যিশুখ্রিস্টের মৃত্যুর শোক অনুভব করতে খ্রিস্টানরা সমবেত হন গির্জায়, চলে বিশেষ প্রার্থনা। তবে বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পালিত হয় না। বলা হয়, ২১ মার্চের পর যখন আকাশে প্রথম দেখা যায় পূর্ণ চাঁদ, তার পরের রোববার পালন করা হয় ইস্টার। মূলত গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বেশ কয়েকটি দিনপঞ্জিকার হিসেব মিলিয়ে বের করা হয় ইস্টারের তারিখ, যা ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে। ইস্টারের একটি বড় আকর্ষণ হল, ‘ইস্টার এগ’ বা ‘ইস্টারের ডিম’। ডিমকে ধরা হয় নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে, ঠিক যেমন করে নতুন জীবন পেয়েছেন যিশু। ইস্টার উপলক্ষ্যে মুরগির সেদ্ধ করা ডিমের খোলসের উপর তৈরি করা হয় নানা ধরনের নকশা। পেঁয়াজের খোসা, বাদাম, ফুলের পাঁপড়ি থেকে শুরু করে রংতুলি, সুতা-জরি আরও অনেককিছু দিয়ে সাজানো হয় এই ডিমগুলো। দেশ এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী এর ব্যবহার ভিন্ন। আমেরিকাসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে ইস্টারের আগের দিন চলে ডিমে নকশা করার কাজ। সারাদিন ডিমে নকশা করার পর রাতের বেলা পরিবারের ছোটরা ঘুমিয়ে পড়লে বড়রা ডিমগুলো লুকিয়ে ফেলেন বাড়ির বিভিন্ন স্থানে। এরপর ইস্টার সানডের সকালে শুরু হয় ডিম খোঁজার প্রতিযোগিতা। সেদ্ধ করা মুরগির ডিম ছাড়াও এখন পাওয়া যায় চকলেট ডিম এবং প্লাস্টিকের ডিম, যেগুলোতে থাকে নানা ধরনের ক্যান্ডি। ডিম নিয়ে করা হয় আরও একটি বিশেষ খেলা, যার নাম এগ রোল। এই খেলায় শিশুরা তাদের নকশা করা ডিমকে লম্বা হাতলওয়ালা একটি চামচ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। যার ডিম যত দ্রুত পৌঁছাতে পারবে সীমানায়, সেই হবে বিজয়ী। আমেরিকার বাইরে ইউরোপের অনেক দেশে এই খেলার প্রচলন রয়েছে। ইস্টার উপলক্ষে ডিম নিয়ে নাচানাচিও করা হয়! মেঝেতে অনেক নকশা করা ডিম ঢালাওভাবে বিছিয়ে তার উপর শুরু হয় নাচ। লক্ষ্য একটাই, ভাঙা যাবে না কোনো ডিম। এই খেলার উৎপত্তি জার্মানিতে। আর বুলগেরিয়া, গ্রিস এবং সাইপ্রাসের অধিবাসীরা ইস্টারের দিন পরিবারের সদস্যদের গায়ে ডিম ছুড়ে মারেন। ডিম না ভাঙাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। লেবাননে ইস্টারের আগের দিন বাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয় নকশা করা ডিমগুলো। ইস্টারের দিন বাড়ির বাচ্চারা সেই ডিম ভেঙে খায় এবং বিশ্বাস করে যিশু পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়াতে ইস্টারের পরের দিন চলে পানি খেলা। সকালবেলা একটি বিশেষ কঞ্চির সাহায্যে পছন্দের নারীর গায়ে আলতোভাবে আঘাত করেন পুরুষেরা, অনেকে ছুড়ে মারেন ঠাণ্ডা পানি। কথিত আছে, আগামী এক বছরের জন্য নারীদের সৌন্দর্য এবং সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে এই বিশেষ কঞ্চির আঘাত পাওয়া জরুরি! এমনকি কোনো নারীকে যদি আঘাত না করা হয়, তবে তিনি মন খারাপ করেন। রীতি অনুযায়ী নারীরা পুরুষদের একটি করে ডিম উপহার দেন, যেগুলো তারা নিজের হাতে নকশা করে থাকেন। অথবা তার বাড়িতে দাওয়াত করেন। আর যদি কোনো বাচ্চা আসে, তবে তাকে দেওয়া হয় মিষ্টি কিংবা খুচরো পয়সা। সেদিন বিকেলে প্রতিশোধ নিতে পারেন নারীরা, তখন তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো পুরুষের গায়ে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া পোল্যান্ডে চলে দিনব্যাপী পানি খেলা। ইস্টার বানি অর্থাৎ ইস্টারের খরগোশ হল অনেকটা সান্তাক্লজের মতো। বলা হয়, ইস্টারের আগের দিন রাতে ঝুড়িতে করে রঙিন ডিমসহ নানা ক্যান্ডি এবং খেলনা নিয়ে শিশুদের বাড়িতে রেখে যায় ইস্টার বানি। উর্বরতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয় খরগোশকে। চকলেট ইস্টার বানি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে ডিম কিংবা খরগোশ, কোনোটির উল্লেখ নেই বাইবেলে। গুয়াতেমালা এবং ব্রাজিলে ইস্টার উপলক্ষে রাস্তা সাজানো হয় এক ধরনের বিশেষ কার্পেট দিয়ে, যা তৈরি হয় বিভিন্ন রংয়ের ফুলের পাপড়ি এবং কাঠের গুঁড়ি দিয়ে। ইস্টারের ঠিক ৪৯ দিন আগে অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলিয়ান কার্নিভাল। ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয় চারদিনব্যাপী এই উৎসব। এসএ/

শব-ই-বরাতে করণীয় ইবাদত

মহান আল্লাহ বান্দার মুক্তির জন্য অনেক উসিলা ও সুযোগ তৈরি করে রেখেছেন। বছরের কোন কোন মাস, দিন ও রাত্রিকে করেছেন বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বরকতময় এ সময়গুলোতে সামান্য মেহনত ও প্রচেষ্টার ফলে বিশাল প্রতিদানের অধিকারী হওয়া যায়, যা অন্য সময় অধিক মেহনত করেও অর্জন করা সম্ভব নয়। সেই সময়গুলোর মধ্যে শবে-বরাত অন্যতম। হাদীসের আলোকে করণীয় ইবাদত - এ রাতের জন্য স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত নেই। বরং এ রাতে এমন সব নেক আমল করা উচিত যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতপ্রাপ্তির উপযুক্ত হওয়া যায়। যেমন :১. মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায যেনো অবশ্যই জামাআতের সঙ্গে হয়। ২. সাধারণভাবে যে নিয়মে নফল নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়া অর্থাৎ দুই রাকাত করে যতো রাকাত সম্ভব হয় এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে।৩. তাওবা করা। তাওবা বলা হয় তিন জিনিসের সমষ্টিকে। - কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। - সঙ্গে সঙ্গে এই পাপটি পরিহার করা। - পাপটি আর করবে না এই মর্মে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। - কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা, দুরূদ শরীফ পড়া, যিকির-আযকার করা ও ইস্তিগফার করা ইত্যাদি।- সম্ভব হলে এ রাতে কিছু দান সদকা করে এবং নফল নামাজ পড়ে মৃতদের রূহে সাওয়াব পৌঁছানো।- পরদিন অর্থাৎ ১৫-ই শাবান নফল রোযা রাখা। রোযা রাখার বিষয়টি উল্লেখিত হাদীস ছাড়াও অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।- সলাতুত্ তাসবীহ : যদি সলাতুত্ তাসবীহকে এই রাতের বিশেষ ইবাদত মনে না করে আদায় করতে চান, তাহলে করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এই নামাযের নিয়মটি কোনো বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নিবেন।এই আমলগুলো ছাড়া এ রাতকে কেন্দ্র করে যতো রুসুম-রেওয়াজ রয়েছে, সবই বিদআত ও কুসংস্কার। একজন মুসলমানের জন্য সেগুলো পরিত্যাগ করা আবশ্যক। উল্লেখ্য যে, এ রাতের আমলগুলো সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত। যেমন প্রচলন দেখা যায় যে, এই রাতে নফল ইবাদতের জন্য লোকজন দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হয়, কোথাও মিলাদ হয়, কোথাও এক সঙ্গে বসে জোরে জোরে জিকির হয়, যার দরুণ একাকী ইবাদতকারীর ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অথচ এ রাতে এগুলো করার কোনো প্রমাণ হাদীসে নেই এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাব্-য়ে তাবেঈনের যুগেও এর কোনো প্রচলন ছিলো না। তবে যদি বাসায় অলসতার কারণে ইবাদত না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে মসজিদে এসে ইবাদত করতে দোষের কিছু নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যঘাত ঘটার কারণ হবে না। এসএ/  

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইস্টার সানডে আজ রোববার। এটি খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস। খ্রিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসীদের মতে, ইস্টার সানডেতে যিশুখ্রিষ্ট মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়ে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। পুণ্য শুক্রবার বা গুড ফ্রাইডেতে বিপথগামী ইহুদি শাসকগোষ্ঠী তাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে যিশুখ্রিষ্টকে অন্যায়ভাবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে রোববার তিনি মৃত্যু থেকে জেগে ওঠেন বা পুনরুত্থান করেন। যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থানের এই রোববারকেই ইস্টার সানডে বা পুনরুত্থান রোববার বলা হয়। খ্রিষ্টধর্ম মতে, দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। এটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দের দিন। চল্লিশ দিনের প্রায়শ্চিত্তকাল বা রোজা শেষে এ ইস্টার সানডে তাদের জন্য বয়ে আনে আনন্দের বারতা। আজকের দিনটিকে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করবে তারা। এ উপলক্ষে দেশের সব চার্চে বিশেষ খ্রিষ্টযোগ বা প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইস্টার সানডে উপলক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন, খ্রিষ্টান লীগ এবং ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ নেতারা পৃথক বিবৃতিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এসব বিবৃতিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এসএ/  

আজ পবিত্র শবেবরাত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ রোববার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে।বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে পবিত্র শবেবরাতে দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করেছেন।এ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শবেবরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত ও বরকতময় রজনী। মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বারতা নিয়ে লায়লাতুল বরাত প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমাদের মাঝে সমাগত।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার কুসংস্কার ও কূপমন্ডূকতা পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’এ রজনীতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগামীকাল বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।এছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। এসএইচ/

শবে বরাতে বায়তুল মুকাররমে রাতব্যাপী ইবাদত

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যতার মধ্য দিয়ে রোববার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন রোববার সন্ধ্যা (বাদ মাগরিব) থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে রাতব্যাপী ইবাদাতের আয়োজন করেছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ‘শবে বরাতের ফজিলত’ বিষয়ে ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম। রাত ৯টা ৫ মিনিটে ‘ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্ব’ বিষয়ে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করবেন তেজগাঁও মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রাজ্জাক আল আযহারী। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ‘শবে বরাত ও রমজানের তাৎপর্য’ বিষয়ে ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা এহসানুল হক জিলানী। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ‘তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত’ বিষয়ে ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। সব শেষে ফজরের নামাজের পর আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মুনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। শনিবার (২০ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আরকে//

মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকবে যে ৭টি জিনিসের সওয়াব

ইসলাম একটি পরিপূর্ন শাশ্বত জীবন বিধান। মানুষের সার্বিক জীবনের সব সমস্যার সমাধান রয়েছে মহান রাব্বুল আলামীনের ঐশি পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোর আনুল কারীমের মধ্যে। এ শাশ্বত জীবন বিধান মানব সমাজে বাস্তবে অনুসরণ ও  অনুকরণের জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার মহান মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদকে (সা:) আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা  বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- তেমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তার প্রতিটি কথা, কাজ, অনুমোদন, নির্দেশনা, আদেশ, নিষেধ ও  উপদেশ দুনিয়া- আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী।  তাকে সমগ্র মানব জাতির শিক্ষক রূপে এ ধরাধমে প্রেরণ করা হয়েছে। তার সে কালজ্বয়ী আদর্শ ও অমিয়বাণী দ্যুাতি ছড়িয়ে পথপদর্শন করেছে যুগ যুগান্তরে। তার পরশে আলোকিত হয়েছে বর্বর জাহিলি সমাজ। ঘন ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতি পরিণত হয়েছে গোটা বিশ্বের অনুকরণীয় আদর্শে। সাহাবি হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেন- রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, সাতটি জিনিসের সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পরও অব্যাহত  থাকবে। ১. কেউ যদি দ্বীনের শিক্ষাদান করে থাকে, বা ২. কোনও খাল খনন করে থাকে, বা ৩. কুপ খনন করে (পানি পানের জন্য) দিয়ে থাকে, বা ৪. বাগান লাগিয়ে থাকে, বা ৫. মসজিদ নির্মাণ করে দিয়ে থাকে, বা ৬. কুরআনের উত্তরাধিকারী বানিয়ে থাকে, বা ৭. এমন নেক সন্তান রেখে গিয়ে থাকে, যারা তার মৃত্যুর পর তার পিতার  জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করে (ক্ষমা চায়)। যে  ব্যক্তি দ্বীনের জ্ঞান ও শিক্ষা প্রচার করে মারা যাবে, তার শিখানো লোকেরা যতোদিন পর্যন্ত দুনিয়াতে নেক কাজ করতে থাকবে ততোদিন সেই নেকীর অংশ পেতে থাকবে। যদি কেউ নিজের সন্তানকে শিক্ষা-দীক্ষা দান করে থাকে, যার ফলে ওই সন্তান নেক্কার হয়; তবে ওই সন্তান যতোদিন নেক কাজ করতে থাকবে ততোদিন পর্যন্ত তার পিতা-মাতাও এ নেকীর অংশ পেতে থাকবে। এভাবে যদি কেউ কাউকে কুরআনের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যায়, অথবা মসজিদ তৈরি  করে দেয় বা মুসাফিরদেও জন্য জন্যে কোনও সরাইখানা তৈরি করে দেয় কিংবা জনকল্যাণে খাল খনন করে দেয় অথবা জীবনের অন্যকোনও নেক কাজ করে এবং তাতে নিজে অর্থ খরচ করে থাকে, তবে  যতোদিন পর্যন্ত মানুষ ওই সব জিনিস থেকে উপকার লাভ করতে থাকবে ততোদিন পর্যন্ত দাতার আমলনামায় নেকী লেখা হতে থাকবে। - (ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযায়মাহ) ব্যাখ্যা: মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমলের খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এমন কিছু জনকল্যাণমূলক নেক কাজ আছে, যেগুলোকে আমরা সদকায়ে জারিয়া বলে থাকি, তা শেষ হয় না। যতোদিন পর্যন্ত মানুষ তার শিখানো বা বানানো বা ওয়াকফ করা জিনিস থেকে উপকার পেতে থাকবে, ততোদিন পর্যন্ত তার আমলনামায় উক্ত জিনিসের নেকী লাগাতর লেখা থাকবে। সুতারাং মানুষের জীবদ্দশায় এমনি ধরণের নেক কাজ বেশি বেশি করা যার সওয়াবের ধারা শেষ হবে না। (আল্লামা জলীল আহসান নদভী কতৃক রচিত ‘যাদেরাহ’ হাদিস গ্রন্থ থেকে সংকলিত)  গ্রন্থনা: আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল

‘খ্রিস্টাব্দ’ ও ‘খ্রিস্টপূর্বাব্দ’-এর জন্মকথা

‘খ্রিস্টাব্দ’ শব্দটির শুরুর কথা আমরা অনেকেই জানতে চাই। তাই এর উৎপত্তির একটু ধারণা দেওয়ার জন্যই আজকের লেখা। আসলে খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টের জন্মের বছর থেকে যে বছর গণনা করা হয়, তাকেই খ্রিস্টাব্দ বলে। যিশুখ্রিস্টের জন্ম, জীবন, সেবা কাজ, মৃত্যু, পুনরুত্থান অবিস্মরণীয় করে রাখার জন্য সাধু গ্রেগরি নতুন এ বছরের গণনা শুরু করেছেন। আর বর্তমান পৃথিবীতে এ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও প্রচলিত। আমাদের অনেকেরই জানা আছে, বছর গণনায় ইংরেজিতে BC ও AD দুটি শব্দ প্রচলিত। BC শব্দের অর্থ হলো Before Christ, বঙ্গানুবাদ হলো খ্রিস্টপূর্ব বা খ্রিস্টপূর্বাব্দ। আর AD এসেছে লাতিন শব্দ Anno Domini Nostri Jesu Christi-যার ইংরেজি অনুবাদ হলো The year of our Lord, বঙ্গানুবাদ হলো খ্রিস্টাব্দ। সহজ কথায় বলা যায়, যিশুখ্রিস্টের জন্মবছর থেকে যে বছরের গণনা শুরু করা হয়েছে, তা-ই হলো খ্রিস্টাব্দ (AD)। আর যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগ থেকে যে বছর গণনা করা হয়, তা হলো খ্রিস্টপূর্বাব্দ (BC)। এ গণনারীতি অনুযায়ীই কোনও শূন্য বছর নেই, অর্থাৎ যিশুখ্রিস্টের জন্মবছরই হলো খ্রিস্টপূর্ব (BC) বছরের শেষ বছর আর খ্রিস্টাব্দের (AD) প্রথম বছর। বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে, গণমাধ্যমে, পত্রপত্রিকায়, অফিস-আদালতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খ্রিস্টাব্দকে ইংরেজি বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেকে লেখে এভাবে, ‘২০১৮ ইং’। ১ জানুয়ারিকে অনেকে বলে, ‘ইংরেজি’ বছরের প্রথম দিন। প্রকৃতপক্ষে এ পৃথিবীতে ইংরেজি বছর বলতে কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই। একেবারেই ভুল করে তা ব্যবহার করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ করছি। অনেকে আবার অজ্ঞানতাবশত তা করছে। সঠিকটা জানা, ব্যবহার করা ও প্রয়োগ করাই তো প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির পরিচয়। ইতিহাস বিকৃত করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যবহার বা শব্দের ভুল প্রয়োগ কোনোভাবেই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। বরং আমাদের দায়িত্বশীল কাজ হলো, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া। তাদের বিভ্রান্ত না করা।

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

আজ বুধবার রাতে পালিত হবে পবিত্র শবেমেরাজ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এ রাতে অলৌকিকভাবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঊর্ধ্বাকাশে গমন করে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। আজ তাই পবিত্র এই দিনে জিকির-আজকার, নফল নামাজ, দোয়ার মধ্য দিয়ে শবেমেরাজের রাত অতিবাহিত করেন মুসলমানরা। হাদিস ও সাহাবিদের বর্ণনা অনুযায়ী, মেরাজের রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.) নিয়ে কাবা শরিফের হাতিমে যান। জমজমের পানিতে অজুর পর বোরাক নামক বাহনে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। এরপর প্রথম আকাশে পৌঁছান মহানবী (সা.)। সেখানে হজরত আদম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এভাবে সাত আকাশ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাক্ষাৎ করেন হজরত ঈসা (আ.), হজরত ইয়াহইয়া (আ.), হজরত ইদ্রিস (আ.), হজরত হারুন (আ.), হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে। সপ্তম আকাশ থেকে সিদরাতুল মুনতাহায় গমন করেন মহানবী (সা.)। সেখান থেকে আরশে আজিম যান। এক ধনুক দূরত্ব থেকে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় মহানবী (সা.)-এর উম্মতদের জন্য। মেরাজ শেষে পৃথিবীতে ফিরে রাসুল (সা.) পুরো ঘটনা হজরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসুল (সা.) তাকে সিদ্দিকী বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। মক্কার কাফেররা রাসুলের মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করে। শবেমেরাজ উপলক্ষে আজ আসরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও দোয়ার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এছাড়া দেশের প্রতিটি মসজিদে বাদ মাগরিব দোয়া ও বিশেষ বয়ান করা হবে। বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন শবেমেরাজ উপলক্ষে আজ সকালে রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মাহফিল ও দুপুরে সেখান থেকে হাইকোর্ট মাজার পর্যন্ত শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এসএ/  

শবে মিরাজ বুধবার

দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাতে পালিত হবে শবে মিরাজ। ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী লায়লাতুল মিরাজের রাতেই মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) সাত আসমান অতিক্রম করে আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। ৯ মার্চ থেকে রজব মাস শুরু হওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন গত ৭ মার্চ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভার পর ৩ এপ্রিল সারাদেশে শবে মিরাজ পালনের কথা জানিয়েছিল। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বুধবার বাদ আসর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মি’রাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদের আয়োজন করেছে। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম এদিন ওয়াজ করবেন। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি