ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:১৯:৫৪, শুক্রবার

বাংলাদেশের ৬ ছাত্রের নাসা জয়ের গল্প

বাংলাদেশের ৬ ছাত্রের নাসা জয়ের গল্প

মঙ্গলগ্রহে গবেষণা বা চলাফেরার জন্য প্রয়োজন যানবাহন। যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার করলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা শেষ হয়ে যায়। তাই জ্বালানি ব্যবহার না করে মানুষের উপযোগী যানবাহনের সন্ধান পেতে ‘নাসা হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ নামের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে নাসা। প্রতিবছরই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে। এবছরও ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতাটি। বাংলাদেশ থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছয় সদস্যের একটি দল (EXCELR8) এ বছর কলেজ বা ইউনিভার্সিটি দল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হান্টসভিল, আলাবামাতে অনুষ্ঠিত ‘হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ নামক এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হলেন- তৌহিদ রহমান, মোঃ তানজিল শাহরিয়া, শামুন আহেমদ, আইমান রহমান, ফারহাত তাসনিম প্রজ্ঞা ও মোহাম্মদ রিদওয়ান হোসাইন পাটোয়ারি। এর আগে গত বছর বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কলেজ/ইউনিভার্সিটি দল হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এই দল। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ও রকেট সেন্টারে তিনদিনব্যাপী (১২-১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি নাসার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক আয়োজন। এক্সেল-আর-৮ এই টিমের নানা সমস্যা সমাধানে পাশে ছিলেন দলের পরামর্শদাতা ডক্টর সাজ্জাদ হোসেন, স. ম. তৌহিদুজ্জামান, মো:রায়হান সহ আরো অনেকে। দলনেতা তৌহিদ রহমান এ প্রসঙ্গে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, নভেম্বর ২০১৮ থেকে রোভার এর নকশা, উপকরন জোগাড় করা, রোভার তৈরি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুনরায় পরিবর্তন সহ মোট ৩ মাসের মাঝে আমরা প্রতিযোগিতার উপযোগী রোভার এর কাজ সম্পন্ন করি। অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তৌহিদ রহমান বলেন, প্রথমেই বিচারকমণ্ডলী আমাদের নিরাপত্তা, রোভারের ওজনসীমা, ৫ ঘন ফুট বক্সে রোভার নেয়া যাবে কিনা তার পর্যালোচনা করেছেন যা আমরা সফলভাবে অতিক্রম করতে পেরেছি। প্রতিযোগিতায় সাত মিনিটের মাঝে মোট ১৪ টি বাঁধা অতিক্রম এবং ৫ টি কাজ সম্পন্ন করার জন্য ০.৫ মাইলের একটি পথ সাজানো হয়েছিলো, পাথর, বালু, উঁচু-নিচু পার্বত্য পথ। পাথুরে, ঢাল, গর্ত দিয়ে তৈরি লাল ভূখণ্ডে রোভারটি চালাতে হয়েছে দু`জন আরোহীকে (একজন মেয়ে, একজন ছেলে)। বেশিরভাগ বাঁধা অতিক্রমেই বাইপাস এর সুযোগ ছিল। দলগুলোর জন্য পূর্বপরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষনিক নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ ছিল, যাতে একটি বাঁধা অতিক্রমে আটকে গেলে/ রোভার কোন একটি বাঁধার জন্য উপযোগী না হলেও সময়ের সম্পূর্ণ ব্যবহার করা যায়। আমরা সেভাবেই পূর্বপরিকল্পনা এবং তাৎক্ষনিকতার সামাঞ্জস্যতা রেখে রোভার টি চালিয়েছি। ৬ মিনিটের মাঝে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে সপ্তম মিনিট রাখতে হয়েছে রোভার টি পুনরায় সূচনাস্থানে ফিরিয়ে আনতে। তৌহিদ রহমান বলেন, বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো আমরা অংশগ্রহণ করায় আমাদের প্রতি অনেকের আগ্রহ ছিল। বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে প্রায় ১১৫ টি দল এসেছিল। খুব গর্ব বোধ হয়েছিল যখন দেখি বাংলাদেশের পতাকা দেখে অন্য দল গুলো এবং অনেক বাঙালি আমাদের কাছে এসে আমাদের সঙ্গে একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছিলো। আমাদের টিমের রোভারটি ছিল সম্পূর্ণ মডুলার, যার প্রত্যেকটি পার্টস আলাদা ছিল, যেটি আমাদের পরে এসেমব্লি (জয়েন্ট) করতে হয়েছে। আমাদের এই মডুলার ডিজাইন সবার নজর কেড়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের ডিজাইন অন্য অনেক দেশের ডিজাইন থেকে আলাদা থাকায় আমেরিকা, পুয়ের্তো রিকো, পেরু সহ অনেক দেশের দল আমাদের সঙ্গে তাদের ডিজাইন এর ধারণা শেয়ার করার জন্য আমাদের অনুরোধ করে এবং ২০২০ সালে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। গত বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম দল হিসেবে আমরা নাসাতে গেলেও এই বছর রুয়েট দল ও নাসা তে আমাদের সঙ্গে অংশগ্রহন করে এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিবছর নাসা হিউমান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ এর মাধ্যমে মহাকাশে মানব পরিসরের অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী ছাত্রদের নিয়োজিত করার জন্য একটি অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং অভিসন্ধান চ্যালেঞ্জ প্রদান করে। মার্স (মঙ্গল) অভিযানের উপযোগী সম্পূর্ণ অভিনব এবং নতুন নকশা তৈরি করে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর নাসা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী দল হিসেবে “NSU EXCELR8” কে মনোনীত করে। প্রতিযোগিতাটি স্কুল-কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের অন্য একটি গ্রহের প্রেক্ষাপটে উপযোগী পৃষ্ঠে চলাচলে সক্ষম একটি গাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা`র চ্যালেঞ্জ করে। মঙ্গল গ্রহের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান ও গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে নাসার এই আয়োজন। বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন দলকে তারা আমন্ত্রিত করে তাদের অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল প্রতিবেদনের জন্য যা কিনা মঙ্গলের উঁচু-নিচু বন্ধুর পথ ও অন্যান্য বাধা বিপত্তি পাড়ি দিয়ে সীমিত সময়ে নভোচারীদের গবেষণা কাজে ব্যাবহারের সক্ষম। মঙ্গল পরিভ্রমণের সবগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে “এক্সেল-আর-৮” মানব যানটি তৈরি করতে হয়েছে নাসা প্রদত্ত গাইডবুকের শর্তাদি মাথায় রেখে। কাঁকর-কঙ্করের উঁচু-নিচু, অসমতল পথ অতিক্রম করতে সক্ষম চার চাকার একটি বাহন তৈরি করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মানবচালিত। বাহনটির সবকিছু তৈরি করা হয়েছিল দেশি প্রযুক্তিতে, মরিচা রোধক লোহা দিয়ে। মঙ্গলে কোনো জ্বালানি ছাড়াই পরিচালনা করতে হবে মাথায় রেখে এটি চালাতে ব্যবহৃত হয়েছে চেইন আর প্যাডেল। কার্যকরী ড্রাইভট্রেনের জন্য বাইসাইকেল-ড্রাইভট্রেন ব্যবহৃত হয়েছে সামনে-পিছনের চাকায়। সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল, বাহনটিকে চেইন খুলে যাবার আশঙ্কা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাঁজ করে রাখার উপযোগী করে তৈরি করা যা মাত্র ৫ ঘন ফুট আকারে (চার কোনা বক্সসদৃশ) ভাঁজ করা যাবে, যা নাসার গাইড-লাইনের অন্যতম শর্ত ছিল। চাকা গুলো তৈরি করা হয়েছে যাতে রুক্ষ এবং পাথুরে পৃষ্ঠে চলাচলে সক্ষম পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতায় দক্ষ হয়। সামনে-পেছনে আছে দু`জনের আসন। আরোহী দু`জনের কাছেই থাকবে প্যাডেল। নাসার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের শিক্ষার্থীদের আরোহী দু`জনের একজন ছেলে একজন মেয়ে ছিল, কেননা একটা ছেলে ও একটা মেয়ে মঙ্গলের মাটিতে এই মানবযানটি চালাবে। রোভারটির ওজন ছিল ৯৩ কেজি। প্রতিযোগিতায় রোভারের (বাহন) কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রোভারকে পাঠানো হয় একটি রকেটের সাহায্যে। রকেটের ভেতরে রোভারের জন্য রাখা বাক্সের দৈর্ঘ্য ৫ ফুট, প্রস্থ ৫ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট। এ বক্সের ভেতরে রাখার উপযোগী করে রোভারটি তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনে রোভারকে ভাঁজ করা যাবে। রোভারটি মঙ্গলগ্রহে দুজন নভোচারী পরিচালনা করবে। সে উপযোগী করে প্রতিযোগিতায় একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী রোভারটি পরিচালনা করবেন। শুধু ধারণা দিলেই হবে না, প্রতিযোগিতায় রোভারটিকে আধা মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। তাও গতানুগতিক পিচঢালা মসৃণ রাস্তা নয়। মঙ্গলগ্রহের ভূমির আদলে তৈরি বিশেষ পথ পাড়ি দিতে হবে। এ জন্য ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে গড়ে তোলা হয়েছে মঙ্গলগ্রহের উপযোগী ভূমি, সেখানকার আবহাওয়া, গর্ত এমনকি পাহাড়ও। রোভারটিকে প্রয়োজনে সে পাহাড়গুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে। গর্তগুলো ভরাট করতে হবে। এসি    
বার বার হেরে ফোর্বস ম্যাগাজিনে সেরাদের তালিকায় মোরশেদ মিশু

স্কুল কলেজে কখনো তার রোল নাম্বার ৩০- এর মধ্যে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় নি। স্বপ্ন দেখতেন ডিফেন্সে যোগ দিবেন। কিন্তু সেখানেও হেরে যান তিনি। এভাবে বার বার হেরে যাওয়া তরুণটি এবার ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় `থার্টি আন্ডার থার্টি` নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় যে দু`জন বাংলাদেশী তরুণ ঠাঁই করে নিয়েছেন তাদের একজন মোরশেদ মিশু। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাজিং’ ক্যাটাগরির সেরা ৩০ তরুণের তালিকায়। ইতোপূর্বে ‘দি গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে ধারাবাহিক কার্টুন একে দেশ-বিদেশে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন। এই তালিকায় স্থান করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, মোরশেদ মিশু`র কার্টুনের প্রভাব শুধু দেশে নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃত। বাংলাদেশের অন্যতম স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন আবদুল্লাহ আল মোরশেদ। যিনি মোরশেদ মিশু নামে পরিচিত। মোরশেদ মিশু গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্মমতা আর বেদনার ছবিগুলোকে আশা আর আনন্দের বার্তায় পাল্টে দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ সিরিজ। মোরশেদ মিশুর ওই সিরিজ দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর নজর কাড়ে। অন্যান্য দেশের কার্টুনিস্টরাও যোগ দেন এই চ্যালেঞ্জে। ফোর্বস ম্যাগাজিন মোরশেদ মিশুকে নিয়ে লিখেছে, যুদ্ধ আর সহিংসতা না থাকলে এই পৃথিবী কতটা সুন্দর হতে পারত, সেটাই কার্টুনের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন মোরশেদ মিশু। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় স্থান করে নেওয়ায় পর মোরশেদ মিশু তার নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, স্কুল জীবন বলেন কিংবা কলেজ জীবন, কোন পরীক্ষাতেই কখনো ১ম হওয়া তো দূরে থাক, রোল ১-৩০ এর মধ্যেও রাখতে পারতাম না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বাদই দিলাম, সেটা তো শেষই করা হলো না। তা নিয়ে আফসোস নাই, কারণ তার আগে একটা দীর্ঘ সময় স্বপ্ন দেখে আসছি ডিফেন্সে যোগ দেয়ার আর দেশের জন্য গুলি খেয়ে মরে যাবার। ডিফেন্সে চান্স না পাবার মত জীবনে অসংখ্যবার ফেইলের মুখ দেখছি। হাল ছাড়ি নাই, শুরু করলাম কার্টুন আঁকা, সুযোগ পেলাম উন্মাদে আঁকার। আঁকতে আঁকতে টের পেলাম, কার্টুন এঁকেও দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব। এই যে দেখেন, কার্টুন এঁকে বাংলাদেশের নাম ফোর্বস ম্যাগাজিনে তুলে এনেছি। Forbes 30 under 30 লিস্ট এর Media, Marketing & Advertising ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থানে নাম চলে এসেছে আপনাদের মোরশেদ মিশু’র। আবেগঘন এই স্ট্যাটাসে মোরশেদ মিশু আরও লিখেন, "আমার অনুভূতি জানতে চান???আন্তর্জাতিক মিডিয়া কিংবা প্ল্যাটফর্মে আমার নামের সাথে বাংলাদেশের নাম যতবার আসে, আমার আনন্দ লাগে। নিজের কাজ দিয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারতেছি প্রাপ্তিটা এখানেই। আর সেই সাথে আমার জুনিয়র যেসকল কার্টুনিস্ট বা আর্টিস্ট আছেন, তাদেরকেও সামান্য হইলেও অনুপ্রাণিত করতে পারতেছি। এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর হইতে পারে না।" প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে মোরশেদ মিশু বলেন, “আমাদের সোসাইটিতে তো আঁকাআঁকি বা কার্টুনকে কিংবা আর্টিস্ট হওয়াটাকে প্রফেশন হিসেবে প্রায়োরিটি দেওয়া হয় না। এই প্রফেশনটাকে তো মূল ধারার প্রফেশন হিসেবে ধরা হয় না। এই ধরনের রিকগনিশনগুলো হয়ত নতুন যারা এই কাজে আগ্রহী হবে, তাদের জন্য ইনসপিরেশন হিসেবে কাজ করবে।” মোরশেদ মিশু আরও বলেন, কার্টুনকে কেবল এক শিল্প মাধ্যম হিসেবে না দেখিয়ে একটি ‘সার্বজনীন ভাষা’ হিসেবে দেখাতে চাই, যে ভাষা বিশ্বের সব ভাষার মানুষই বুঝতে পারে, সমাজের অনেক অবক্ষয়, অনেক সমস্যার কথা অনেক সহজে যেখানে বলা যায়।" প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় এবার ঠাঁয় পেয়েছে বাংলাদেশী দুই তরুন। এরা হলেন কার্টুনিস্ট আবদুল্লাহ আল মোরশেদ। যিনি মোরশেদ মিশু নামে পরিচিত। অন্যজন হলেন রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী হুসাইন এম ইলিয়াস। উদ্ভাবন আর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ত্রিশ বছরের নিচের যে সকল তরুণরা ভূমিকা রাখছে তাদের তালিকায় উঠে এসেছে এই দুই তরুণ বাংলাদেশীর নাম। আআ/এসি  

বিশ্বজয়ী নাজমুনের ‘অনন্যা সম্মাননা’ অর্জন

আলোকিত নারী, তারুণ্যের আইকন হয়ে নারীদের সবচেয়ে সম্মানিত ‘অনন্যা সম্মাননা’ পুরস্কার অর্জন করেছেন নাজমুন নাহার। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাজমুন নাহারসহ আলোকিত ১০ জন নারীর হাতে ‘অনন্যা সম্মাননা’ তুলে দেন পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। সম্মাননা গ্রহণ করার পর নাজমুন নাহার বলেন, সমাজের ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গিয়েছি। অনেক মৃত্যুকে জয় করে পর্বত চূড়ায় আরোহন করেছি। একা একাই পৃথিবীর মানচিত্রের এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করেছি। আজ আমিই অনন্যা, পেয়েছি অনন্যা অ্যাওয়ার্ড। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, কলম সৈনিক, শুভাকাঙ্খী, বন্ধু ও পরিবারের লোকজন। নাজমুন নাহার ছাড়া এবারের সম্মাননাপ্রাপ্ত বাকিরা হলেন- ডা. সায়েবা আক্তার (চিকিৎসা), পারভীন মাহমুদ (ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন), এসপি শামসুন্নাহার (প্রশাসন), আফরোজা খান (উদ্যোক্তা), সোনা রানী রায় (কুটির শিল্প), লাইলী বেগম (সাংবাদিকতা), সুইটি দাস চৌধুরী (নৃত্যশিল্পী), রুমানা আহমেদ (ক্রীড়া) ও ফাতেমা খাতুন (প্রযুক্তি)। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ জুন নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। তার এই মাইলফলককে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা। জাম্বিয়া সরকারের গভর্নরের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘ফ্ল্যাগ র্গাল’ উপাধি। ১২৫ তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেন নাইজেরিয়া।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হল জাতীয় যুব সম্মেলন

দেশের সর্ববৃহৎ যুব সম্মেলন ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাসেম্বলি ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ থেকে ১২ মার্চ জাগো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কক্সবাজারে সি প্যালেসে তরুণদের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাগো ফাউন্ডেশনের ইয়ুথ উইং,‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)’ কর্মসূচির আওতায় এ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাকশান্দ। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় যেমন নেতৃত্ব, সড়ক নিরাপত্তা,আর্থিক স্বাক্ষরতা, তরুণদের ক্ষমতায়ন, তথ্য পাওয়ার সুযোগ,কার্যকরী যোগাযোগ, মানবসম্পদ এবং সফলতার গল্প বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের শেষদিন বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মজিবর রহমান, ইউএনডিপি’র ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্টের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট আক্তার উদ্দীন, ইউএনডিপি’র কমিউনিকেশন হেড আব্দুল কাইয়ুম এবং মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। চার দিনব্যাপী এ আবাসিক কর্মসূচির লক্ষ্য ছিলো তরুণদের ক্ষমতায়ন ও স্বেচ্ছাসেবীতায় তাদের উৎসাহিত করা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তাদের সমাজ বিনির্মাণ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা। আয়োজিত এ সম্মেলনে, সারাদেশ থেকে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা, তাদের প্রতিনিধি, স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতসহ সমাজের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে দেখা করার সুযোগ পায়। ভিবিডি’র তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের পরিকল্পনা ও কাজ এবং এর নানা প্রেক্ষিত নিয়ে সম্মেলনে নিজেদেরও ধারণা ব্যক্ত করে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী অতিথিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের থেকে তাদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। স্বেচ্ছাসেবীরা যারা এখন অ্যাকটিভ ইয়ুথ সিটিজেন হিসেবে কাজ করছে, তাদের জেলায় ফিরে যাবেন এবং এসডিজি লক্ষ্য অনুযাযী কমিউনিটি বিল্ডিং কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হবেন। চার দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে সারাদেশের আট বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধাপে বাছাইকরণের মাধ্যমে ৫শ’ তরুণ অংশগ্রহণ করেছে। সম্মেলনে দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারিদের দক্ষতা এবং উন্নয়নের নিমিত্তে এ বছরেও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ইয়ং বাংলা, কোকা-কোলা, ওয়াটারএইড, উবার, সুযুকি, আইপিডিসি, আইএফসি, এমবিএম গার্মেন্টস, অনন্ত গ্রুপসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সম্মেলন ১২ই মার্চ শেষ হয়। কেআই/

প্রথমবার ‘বেস্ট অব নেশন’ পুরস্কার এলো বাংলাদেশে

আলোকচিত্র দুনিয়ার খ্যাতনামা ‘ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফিক কাপ’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আলোকচিত্রী পিনু রহমান জিতেছেন  ‘বেস্ট অব নেশন অ্যাওয়ার্ডস’ । তার তোলা আলোকচিত্র ‘লস্ট চাইল্ডহুড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ফটোসাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে। গত ২১ জানুয়ারি মাসে জর্জিয়ার আটলান্টায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আলোকচিত্র শিল্পীদের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে ‘দ্য ফেডারেশন অব ইউরোপিয়ান ফটোগ্রাফারস’ ও ‘প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারস অব আমেরিকা’ । আলোকচিত্রী মাহমুদ হাসান শুভর নেতৃত্বে এবারের ষষ্ঠ আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ দল।  আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬টি ক্যাটাগরিতে, ৩২টি দেশের জাতীয় পর্যায়ে বাছাই করা ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬০০টি ছবি জমা পড়ে । এর মধ্য থেকে পিনু রহমানের ‘লস্ট চাইল্ডহুড’ ছবিটিকে ‘বেস্ট অব ন্যাশন অ্যাওয়ার্ডস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় । গত ২১ জানুয়ারি জর্জিয়ার আটলান্টায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবেআগামী ৮ এপ্রিল নরওয়ের ডারমেনে ।   পিনু রহমান বলেন, ‘পুরস্কার প্রাপ্তিটা তার জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয় হলেও তার চেয়ে বড় বিষয় পুরস্কারটা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। অনেকেই জানতেন না এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করা যায়, তিনি আশা করছেন এখন আরও অনেক বেশি প্রতিযোগী বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন। কারণ, অনেক প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার আমাদের দেশে আছেন। পিনু রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি এখন একজন ব্যাংকার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই শখের বশে ফটোগ্রাফি করছেন তিনি। বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে এই ফ্রিল্যান্সার ফটোসাংবাদিকের অনেক ছবি। তার ১০টিরও বেশি ছবি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণা 

সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিশুদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুলের শিশুরা তাদের টিফিনে যে খাবার খায় তা পুষ্টিসমৃদ্ধ কি-না, সে সম্পর্কে তারা যদি সচেতন হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে তাদের পরিবারের অন্য সদস্য এবং বন্ধুরাও তা জানতে পারবে।  বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত রাইজিং সান হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকগণ এসব বলেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘একটিভ সিটিজেনস’ প্রকল্পের অধীনে যুব স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচালনায় ‘স্ট্যান্ড এগেইনস্ট ম্যালনিউট্রিশন’ নামক সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ক্যাম্পেইন কার্যক্রমটির আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর টিফিনের খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণসহ নানা দিক উপস্থাপন করেন আয়োজনকারীরা। রাইজিং সান হাই স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকসহ আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হোসেন, রনি আহমেদ, নুসরাত করিম আরিফা, তাসলিমা মিতু, ইরতিজা তাহা, শারমিন আক্তার আঁখি, নাওরিন আক্তার, ফারহানা নেলি, আফসানা রাহমান মুনমুন, উম্মে সদ্দিকিন লিটিল, মুস্তারিন তুলিসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী। অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ। তিনি পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির এ কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই ক্যাম্পেইনে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা, সুস্বাস্থ্য ও নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এ ধরণের সচেতনতা অপুষ্টি দূরীকরণ ও অপুষ্টিজনিত রোগসমূহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিত অন্য বক্তারাও। এসি    

রাজধানীতে উদ্যোক্তা সামিট ৭ ও ৮ ডিসেম্বর

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইপিডিসি উদ্যোক্তা সামিট-২০১৮। আগামী ৭ ও ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই উদ্যোক্তা সামিট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের উদ্যোক্তা কার্যক্রম ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব’ এবং এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে। সামিটের উদ্বোধন করা হবে ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায়। উদ্বোধন করবেন জাতীয় অধ্যাপক ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজি এম আমিনুল ইসলাম ও আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোমিনুল ইসলাম। তরুণ ও নবীন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রাজ্ঞ উদ্যোক্তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, উদ্যোক্তার পথ চলার চ্যালেঞ্জ উত্তরণ এবং দেশে উদ্যোক্তাবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘উদ্যোগে অগ্রগামী, উচ্ছ্বাসে একত্রে’ স্লোগানে এই সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে থাকছে ১১টি সেশন, চারটি কর্মশালা। এছাড়া নির্বাচিত উদ্যোক্তারা বিনিয়োগকারীদের সামনে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরারও সুযোগ পাবেন। থাকবে উদ্যোক্তাদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরার সুযোগ।  এমএইচ/

আমরাই কিংবদন্তী’র বর্ষপূর্তি পালিত

প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করল অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘আমরাই কিংবদন্তী’। এ উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কুড়িগ্রামে ৩৫০টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও কেক কেটে ঢাকার বনানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয় ১৫ নভেম্বর। গতকাল শুক্রবার নরসিংদীর দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর স্কুল মাঠে ৫ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আগামী ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সংগঠনটির সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ছয়শ’ সদস্যকে নিয়ে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘আমরাই কিংবদন্তী’ একটি অনলাইন ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ। এখানে সারা বাংলাদেশের ২০০০ এবং ২০০২ সালের ছাত্র-ছাত্রীদের এক করে একটা প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর এই ফেসবুক গ্রুপটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সংগঠনটিতে ২০ হাজার প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সদস্য হিসেবে সারাদেশে কাজ করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ‘আমরাই কিংবদন্তী’ কাজ করছে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্টীর জন্য। ইতোমধ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মারাত্মক কিডনি সমস্যায় ভুক্তভোগী বন্ধুদের মধ্যে একজনকে গ্রুপের সব মেম্বার মিলে চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন, গত ঈদে ৬৫ জন এতিম বাচ্চাদের খাবার এবং ২৫ জন এতিম বাচ্চাদের ঈদের নতুন জামা প্রদান, গৃহহীন মানুষদের শাড়ী- লুঙ্গি প্রদান করা হয়। সারাদেশের সব সদস্যদের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ‘আমরা কিংবদন্তী’ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রায় ৪ টি বিশাল মিলনমেলা’র আয়োজন করেছে ইতোমধ্যে। চলতি বছরের ৬ জুলাই ধানমন্ডিতে আয়োজিত হয় এর প্রথম মিলন মেলা। এছাড়াও ধারাবাহিকভাবে উত্তরা, নারায়ণগঞ্জ এবং সর্বশেষ মিরপুর এলাকায় এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। অামরা কিংবদন্তী`র অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক তাপসী রাবেয়া অাঁখি একুশে টেলিভিশন অনলাইকে বলেন, অামরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সঙ্কট, বাল্য বিয়ে, গৃহকর্মী অধিকার নিয়েও কাজ করতে চাই অামরা। তিনি অারও বলেন, অামাদের প্রত্যেকের সামাজিক দায়বদ্ধতা অাছে। সেই জায়গা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে এগিয়ে অাসা উচিৎ। আ আ//

লাল সবুজের পতাকা নিয়ে ১১০ দেশ ভ্রমণ বাংলাদেশি তরুণী

বাংলাদেশি তরুণী নাজমুন নাহার ১১০ দেশ ঘুরে ফেলেছেন। প্রতিটি দেশ ভ্রমণের সময় তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন লাখো মানুষের রক্তে খচিত বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। তিনি গোটা বিশ্ব ঘুরে দেখতে চান। সম্ভবত তিনিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী, যিনি বিশ্বের এতগুলো দেশ সফর করেছেন। সুইডেন প্রবাসী এ নারী নিজের উদ্যোগেই ১১০ দেশ সফর করেছেন। ভারত ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার সফর শুরু। বিদেশে ভ্রমণ করার সময় বিভিন্ন জায়গায় তাকে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৭ বছর ধরে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু এ জন্য তো সময় এবং অর্থ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এসব তিনি কীভাবে ব্যবস্থা করলেন? এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশি এ তরুণী বলেন, প্রথম কয়েকটি দেশ তিনি ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে। এর পর তিনি বৃত্তি নিয়ে চলে যান সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখতে থাকেন আরও দেশ ভ্রমণের জন্য। সেই সময় তিনি বিশ্ব ভ্রমণের লক্ষ্যে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য প্রচুর কাজও করতেন। নাজমুনের ভাষ্য-‘আমি জানতাম কষ্ট করে উপার্জন না করলে আমি ভ্রমণ করতে পারব না। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কোন কোন দিন আছে, আমি ১৭-১৮ ঘণ্টা ধরেও কাজ করেছি। কারণ আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে-পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করা। ইউরোপে থাকার কারণেও আমার এই ভ্রমণে কিছুটা সুবিধা হয়েছে।’ একজন নারী এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি নারী হিসেবে এই ভ্রমণের সময় তার কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাহার বলেন, প্রথমত এটি মানসিক সংগ্রাম। এ সংগ্রামে জয়ী হতে পারলে যে কোনো জিনিসই সহজ হয়ে যায়। পৃথিবীর যেখানেই যাচ্ছেন নাজমুন নাহার, সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। লাল-সবুজ এই পতাকা দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় লোকজনের। জাম্বিয়া সরকারের একজন গভর্নর এ জন্য তাকে `ফ্ল্যাগ গার্ল` বলেও খেতাব দিয়েছেন। বাংলাদেশের পতাকা কেন নিয়ে যাচ্ছেন-এমন প্রশ্নে নাহার বলেন, পতাকা আমার কাছে দেশপ্রেমের একটি চিহ্ন, আবেগ ও ভালোবাসা। এই পতাকার মাঝে লুকিয়ে আছে ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা। আছে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো বহু শহীদের রক্ত। তাদের কারণে আমরা এ পতাকা পেয়েছি। ‘আমরা তো নিজ নিজ ক্ষেত্রে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। আমি ভ্রমণ করছি, পৃথিবী দেখছি। কিন্তু আমার দেশ আমার সঙ্গে যাচ্ছে এ পতাকার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে আমি পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি শান্তির বার্তা-আমরা একই পরিবারের মানুষ, একই পৃথিবীর মানুষ, ধর্ম-বর্ণ, জাতি আমি যে-ই হই না কেন শেষ পর্যন্ত আমরা তো সবাই বসবাস করছি একই আকাশের নিচে’, যোগ করেন মিস ফ্ল্যাগ গার্ল। বই পড়া থেকে ভ্রমণে আগ্রহী হয়েছেন নাজমুন নাহার। তার ভাষ্য-শৈশবে বই পড়তে পড়তেই ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ভ্রমণ কাহিনীসহ নানা বই পড়ার সময় আমার মনে হতো চলে গেছি। ওই গল্পের ভেতরে হারিয়ে যেতাম আমি। নাজমুন নাহার জানান, বিদেশ ভ্রমণে তার বাবা ও দাদা তাকে উৎসাহিত করেছেন। তার দাদা ১৯ শতকের শুরুর দিকে বিভিন্ন আরব দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বাবাও বহু দেশ সফর করেছেন। এই দুজনকে দেখে তিনি বিভিন্ন দেশ সফরে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার এই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ ছিল ভারত। সেখানে বিশ্বের ৮০ দেশের ছেলেমেয়ের এক সমাবেশে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। সূত্র : বিবিসি। / এআর /

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি