ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:২০:৫০, বুধবার

‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ হয়ে ওঠার গল্প

‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ হয়ে ওঠার গল্প

রিশান মাহমুদ রনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন। অনেকের কাছে সেই রিশান মাহমুদ রনির পরিচিতি এখন ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ হিসেবে। ২০১৫ সালে রনির হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন শপ। শূন্য হাতে শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির পরিধি ধীরে ধীরে বেড়েছে। শুরুটা হয়েছিল মাত্র সাতটি পাঞ্জাবি দিয়ে। নাট্যকলার ছাত্র হওয়ায় ডিজাইনের বিষয়টা সেখান থেকেই রপ্ত করেছেন রনি। নাটকের প্রত্যেকটা চরিত্রের বিভিন্ন দিক ধরে ধরে একটা সময় কসটিউম ডিজাইন করতে হতো তাকে। উদ্যোগ শুরু ঘটনাটা ২০১৫ সালের, পহেলা বৈশাখের। রনি ও তার সাত বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করলেন একই ডিজাইন থাকবে, কিন্তু সাতজন সাত রঙের পাঞ্জাবি পড়বেন। আর সে সাতটি পাঞ্জাবি তৈরি করে দেন রনি নিজেই। এরপর তারা সে পাঞ্জাবিগুলো পড়ে বৈশাখে ঘুরে বেড়ান। ছবিও তোলেন হরদম। বাসায় ফিরে ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড করেন রনি। তারপর থেকেই তাকে অনেকে জিজ্ঞেস করতে থাকে পাঞ্জাবিগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে। সে সময় ১০০টিরও বেশি পাঞ্জাবির অর্ডার পান রনি। স্বপ্নগুলোও ডানা মেলতে থাকে। একটি অর্ডার রনির চিন্তা-ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে। সে সময় থেকে দিনের বেশির ভাগ সময় ফেসবুকে সময় কাটাতেন তিনি। কারো ছবি, পোস্টে লাইক, কমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকা হতো তার। তার ভাবনায় এলো, শুধু শুধু ফেসবুকে থেকে লাভ কী। যদি ওখানেই সময় দিয়ে কিছু করা যায়, সেখানে তো কোনো সমস্যা নাই। এরপর পাঞ্জাবিওয়ালার চিন্তাটা আসে। নামকরণ হলো যেভাবে শুরুতে অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিল না রনির। এক বন্ধুর মাধ্যমে ফেসবুকে একটি পেজ খোলার পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু নাম নিয়ে পড়ে গেলেন দ্বিধায়। বেশ কিছুদিন ভাবার পর একটা বিষয় তার মধ্যে কাজ করল, যেহেতু পাঞ্জাবি নিয়ে কাজ করবেন, তাই নামটা ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ হলে মন্দ হয় না। এরপর এ নামেই পেজটি খুলেন তিনি। তখন থেকেই একটু একটু করে এগিয়ে চলা। সময়ের সঙ্গে পাঞ্জাবিওয়ালার পরিধি বড় হতে থাকে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পাঞ্জাবি পৌঁছানোর বিষয় নিয়ে তৈরি হলো জটিলতা। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরুর কিছুদিন আগেই একটি বাইক কিনেছিলেন রনি। শুরুর প্রায় এক বছর রনি নিজেই ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে অর্ডার অনুযায়ী পাঞ্জাবি বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসতেন। কিন্তু এটা নিয়ে রনির মধ্যে কোনো ধরনের সংকোচ ছিল না। উৎপাদন থেকে বিপণন রনি বলেন, ‘ডিজাইন মাস্টার শুধু কাটিং করে আর সেলাই করে। এছাড়া সব ধরনের ক্রেতারা যাতে পণ্যটি কিনতে পারেন, সেভাবেই মূল্য নির্ধারণ করে থাকি। যখনই আমি দেখলাম, ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি, তখনই ভাবলাম পুরো কাজটা আমি একা করতে পারলেই ভালো। এখন প্রত্যেকটা অকেশনের (উপলক্ষ্য) আগে আমার একটা প্ল্যানিং থাকে।’ অনলাইনে ব্যবসা করতে এসে বেশ কিছু খারাপ অভিজ্ঞতাও হয়েছে রনির। দেখা গেছে, তার পণ্যের ছবি নিয়ে লোগে তুলে আরেকজন তার পেজ থেকে শেয়ার করে লিখেছে, ‘এই ধরনের প্রোডাক্ট পেতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ রনি বলেন, তারা তাদের ডিজাইন ও প্রোডাক্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আমি মনে করি, এটা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের খারাপ দিকের একটি। তিনি বলেন, আবার এমনও হয়েছে, অনেকগুলো পণ্য অর্ডার করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশে অনলাইনে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-দুই দিক থেকে একে অপরের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। মার্কেটটাও সেভাবে বড় হচ্ছে না। ব্যবসায়ের শুরুতে রনি ভেবেছিলেন পাইকারি কিছু কাঁচামাল কিনে এনে পোশাক তৈরি করে তারপর তিনি বিক্রি করবেন। পরে একটা সময় গিয়ে ভাবলেন, ‘পাইকারি আমি কয়টা আনতে পারব?’ এই চিন্তুা থেকে তিনি পাইকারের কাছ থেকে পণ্য কেনা বাদই দিয়ে দিলেন। তখন রনির কাছে মনে হলো, তিনি যে ডিজাইন করবেন, সেটা হবে অনন্য, যাতে তিনি সারা বছর যে কাউকে পছন্দের পোশাক সরবরাহ করতে পারেন। উদ্যোক্তা হওয়ার নেপথ্যে প্রথাগত চাকরির দিকে না গিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেন কেন জানতে চাইলে রনি বলেন, ‘কম-বেশি সবাই তো বলে জব করি। মানে একটা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আপনি আরেকজনের বিজনেসকে দেখছেন। আমার মনে হয়েছে, ছোট্ট হোক, তবে আমি নিজেই করি। আর এখন আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে বলেই মানুষ আমার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি এমন একটা কাজ করব, যেটার সাইন আমিই থাকব। আগে আমি ট্রেইলার থেকে অর্ডার দিয়ে এক কিংবা দু’পিস বানাতাম। কিন্তু এখন সে শুধু আমার কাজই করে। তারা আমার ওপর ডিপেডেন্ট। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার দেখাশোনা করাটা খুব কঠিন হয়ে যেত রনির জন্য। তারপরও পিছু ফিরে যাননি। এ বিষয়ে রনি জানান, সাহসটা করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, যে যেই কাজই করুক না কেন, তার ডেডিকেশন থাকলে, সে ফিডব্যাক পাবেই। আগে আমি বিভিন্ন ব্যান্ডের পোশাক পড়তাম। এখন আমি নিজে নিজের পোশাক তৈরি করে পড়ি। ভবিষ্যতে শো-রুম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রনির। তার ভাষ্য, ‘পাঞ্জাবিওয়ালার বসার একটা জায়গা হবে। এটা দারুণ একটা বিষয় হবে। আলাদা একটা ব্র্যান্ড হিসেবে চিনবে মানুষ।’ এ বিষয়ে রনি জানান, নিজের পোশাকের ব্যাপারে আমি খুব খুঁতখুঁতে। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের মতকেই প্রাধান্য দেই। আলাদা একটা বৈচিত্র্য পোশাকে থাকা চাই-ই। আর সে কারণেই তার বন্ধুরা বিভিন্ন উপলক্ষ্যে আসার আগেই আমাকে বলত, শার্ট কিংবা পাঞ্জাবি ডিজাইন করে দেওয়ার জন্য। বাসায় বাসায় গিয়ে পাঞ্জাবি দেয়ার বিষয়ে রনি জানান, আমি দেই বিধায়, যারা আমার কাস্টমার, আমি অনলাইন বিজনেস করলেও তাদের সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছে। রনি বলেন, আমি মনে করি, এটা আমার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এই অবস্থানে আসার জন্য অনেকটাই সহযোগিতা করেছে। আমি শুধু সেলাই করতে পারি না। এ ছাড়া কাপড় কেনা থেকে শুরু করে সবই আমাকে করতে হয়।
বাংলাদেশি যুবকের বিশ্ব জয়ের গল্প

পটুয়াখালীর ছেলে প্রযুক্তি প্রকৌশলী জাহিদ সবুর। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয় করলেন বিশ্বকে। তিনি হলেন গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। গত ২ মে তিনি পদোন্নতি পান। ২০০৭ সালে গুগলের ব্যাক অ্যান্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ভারতের বেঙ্গালুরু অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন জাহিদ। ছয় মাস পর গুগলের ক্যালিফোর্নিয়ার অফিসে যোগদান করেন তিনি। বিশ্বে গুগলের লক্ষাধিক কর্মীর মধ্যে ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত রয়েছেন। যাদের মধ্যে জাহিদ সবুর একজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে মেধা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সেরাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জাহিদ সবুর। যোগ্যতার মানদণ্ডে বাঙালিরাও যে পিছিয়ে নেই তারই প্রমাণ গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিরেক্টর) পদে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এই বাংলাদেশি। জাহিদ সবুরের পিতা পটুয়াখালীর বাসিন্দা ড. মো. শাহজাহান সৌদি আরবে কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। সেই সূত্রে জাহিদের শৈশব কেটেছে সৌদি আরব। মা লুৎফুন্নেসা বেগম দেশ ছাড়ার আগে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। সৌদি আরব থেকে সাত বছর বয়সে দেশে ফিরে ঢাকায় অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেন জাহিদ। ছোটবেলা থেকে শুধু পড়ালেখার মধ্যেই নিজেকে আটকে রাখেননি জাহিদ সবুর। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়া, ব্যাডমিন্টন খেলা, বোনের সংগ্রহের বাংলা বই পড়া আর বন্ধুদের সঙ্গেও দারুণ সময় কাটিয়ে উপভোগ করেছেন শিক্ষাজীবনকে। মাধ্যমিকের সাদামাটা রেজাল্টের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে উদ্যোক্তাও হতে চেয়েছিলেন জাহিদ সবুর। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক পাস করেন জাহিদ। পেয়েছেন প্রায় সব একাডেমিক সম্মাননা। জাহিদ সবুর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই ফুল স্কলারশিপে পড়ে ধারাবাহিকভাবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেই কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আর সিস্টেম ডিজাইন এসবের হাতেখড়ি। কোনো কিছু সৃষ্টির যে অপার আনন্দ, তা পুরোপুরিই উপভোগ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং পুরস্কারও জিতেছেন। পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে জিআরইও দিয়েছিলেন তিনি। আমেরিকার সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টিতে আবেদন করে চারটিতে ডাক পান ফুল ফান্ডিংসহ স্কলারশিপের জন্য। কিন্তু সে মুহূর্তে গুগলে কাজ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি বলে ঢুকে পড়েন কর্মক্ষেত্রে। গুগলে কাজ শুরু করেন তৃতীয় গ্রেডে। অথচ এখন অষ্টম গ্রেডে জায়গা করে নিয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ভারতে কাজ করেছেন গুগলের ব্যাক অ্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানে সিস্টেম ডেভেলপার হিসেবে। এর ছয় মাস পর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তরে। এখন কাজ করছেন গুগলের জুরিখ দপ্তরে। জাহিদ সবুরের সাফল্য থেকে বর্তমান তরুণরা শিক্ষা নিতে পারে, সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার দরকার নেই বরং অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই পারে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। প্রযুক্তি খাতে জাহিদ সবুরের এই সাফল্য লক্ষ তরুণকে আগামীর পথ দেখাবে। দেশ যাবে এগিয়ে। এসএ/  

ছাত্রাবস্থায় বিশ্বখ্যাত আলীবাবা গ্রুপের ডিজিটাল স্পেশালিস্ট

রাজশাহী শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলার বাউসা মিয়াপাড়া গ্রামে জন্ম মীর রাসেল আহমেদের। ঠিক কবে সে জন্মগ্রহণ করেছে তা তার বাবা-মা কেউ ঠিক করে বলতে পারেন না। মা শুধু বলতে পারেন তার জন্ম ফাল্গুন মাসের ২১ বা ২২ তারিখ হবে হয়তো। বাবা-মা দু’জনেরই অক্ষর জ্ঞান নেই। বাবার গ্রাম্য ব্যবসাতেই চলতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। রাসেলের বাবা-মা পড়ালেখা না জানায় চাচার কাছে সে হাতে খড়ি নিয়েছে।   ছোট বেলায় গ্রামের একটি স্কুলে ভর্তি হয় রাসেল। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাসেল বলেন, ‘যতটুকু মনে পড়ে বাবা-মা কোনোদিন আমাকে পড়তে বসতে বলেননি। নিজের ইচ্ছাতেই পড়তে বসতাম, নিয়মিত স্কুলে যেতাম। প্রতিবারই স্কুলে ৩য় কিংবা ৪র্থ হতাম। যার কারণে বাবা-মার একটা বিশ্বাস আর আশা জন্মেছিল আমার উপরে।’ দেশে প্রথমবারের মত ২০০৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সে অংশগ্রহণ করে। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায় জিপিএ ৫ পেয়েছে রাসেল। কিছু দিন পরে বৃত্তির ফলাফলেও দেখা যায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়ছে সে। এর পর হাই স্কুলে ভর্তি হন। আর অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। তারপর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সেখানেও তুলে নেন জিপিএ ৫। এবার তার কলেজে ভর্তি হওয়ার পালা। তার ইচ্ছে ছিলো ভালো কলেজে পড়বে। স্বপ্ন ছিলো রাজশাহী কলেজে ভর্তি হবে। কিন্তু বাবা তাকে রাজশাহী পড়াবেন না। কারণ তার চিন্তা তিনি ঠিকমত খরচ বহন করতে পারবেন না। এরপর সে পরিবারকে ম্যানেজ করে ভর্তি হয় রাজশাহী কলেজে। প্রথমবারের মত বাবা-মাকে ছেড়ে শহরে যাত্রা শুরু হয় রাসেলের। রাসেল বলেন, ‘২০১১ সালে কলেজ ভর্তি হওয়ার পর রাজশাহী শহরে অনেক সংগ্রাম করেছি। মেসে থাকতাম। খাবার ভালো ছিলো না, ঠিকমত খাবার পেতাম না। একবার ডায়রিয়া হয়ে রাজশাহী মেডিকেলের বারান্দায় শুয়ে ছিলাম ৭ দিন। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ঘুরে এসেছি। বিষয়টি মনে পড়লে এখনোও ভয়ে থমকে উঠি।’ তিনি বলেন, ‘কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে স্বপ্ন হয়েছিলো বুয়েটে পড়বো। সে হিসেবেই আগাচ্ছিলাম। কিন্তু অধিক পরিমাণ ইন্টারনেট আসক্তি আমার অবস্থান থেকে দূরে ঠেলে দেয়। ২০১১-১২ সালে প্রতিদিন গড়ে ১১-১২ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম। একটার পর একটা গুগল করতাম, কারণে কিংবা অকারণে। কলেজে শিক্ষকদের কোনো প্রশ্ন করতাম না, যা করার গুগলকেই করতাম। রাসেল বলেন, ‘নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। পত্রিকা মারফত জানলাম গ্রামীণফোন-প্রথম আলো ইন্টারনেট উৎসব হবে। সেবার বাঘাতে উৎসব হয়েছিলো। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে। অনেক আশা আর উৎসাহ নিয়ে রাজশাহী থেকে বাঘায় যাই। অনেক জটিলতা শেষ করে সুযোগ পাই ইন্টারনেট উৎসবে অংশ নেওয়ার। ১০-১২ ঘণ্টা করে ইন্টারনেট ব্রাউজিং বৃথা হলো না! নির্বাচিত হলাম রাজশাহীর আইজিনিয়াস হিসেবে। প্রথম আলোতে সে সময় ছবি ছাপা হয়েছিলো। এরপরে ২০১২ সালেও রাজশাহীতে ইন্টারনেট উৎসব হয়। তখনও দ্বিতীয় বারের মত রাজশাহী থেকে আইজিনিয়াস নির্বাচিত হয়েছিলাম।’ এর পর এইচএসসির ফলাফল প্রকাশিত হয় রাসেলের। একটি বিষয় ছাড়া অন্য সবগুলোতে এ + পায় সে। বুয়েটে পড়ার লালিত স্বপ্নটা সেখানেই ভেঙ্গে যায় তার। ভর্তি হওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং ছেড়ে দেয় সে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে রাসেল। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মত ঢাকায় পাড়ি জমায় সে। কিন্তু ঢাবিতে সুযোগ হয়নি। ভর্তির সুযোগ পায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে। বর্তমানে এই বিভাগেয় মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাসেল। শুধু একাডেমিক পড়াশুনায় ব্যাস্ত থাকেনি সে, তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে রাসেল সবসময়ই অনেক বেশি উৎসাহী ছিলো। রাসেল এখন বিশ্বের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চীনের আলিবাবা গ্রুপের ডিজিটাল স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শুধু তাই নয়, সে ইউসি ব্রাউজারের কার্যক্রমের প্রথম থেকেই ইউসি ব্রাউজারের বাংলাদেশের ব্রান্ড এম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করে আসছেন। তথ্য প্রযুক্তি যে মানুষের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে তার অনন্য উদাহরণ রাসেল। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে তার মাধ্যমে চালু হয়েছে এ্যাপসের মাধ্যমে সাইকেল শেয়ারিং সিস্টেম জো-বাইক। ছেলে-মেয়ে উভয়ের ব্যবহার উপযোগী স্মার্ট বাইসাইকেল জো-বাইকে এ্যাপসের মাধ্যমে অত্যাধুনিক লক, সোলার প্যানেল, জিপিএস সিস্টেম ইত্যাদি রয়েছে। এসব সাইকেলের লক খোলার জন্য দরকার হয় একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। অ্যাপ ডাউনলোড করে, অ্যাকাউন্ট খুলে সাইকেলের সঙ্গে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সাইকেলটি ব্যবহার করা যায়। জো-বাইকের ক্যাম্পাস লিড হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন রাসেল। রাসেল একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, সে কখনোও সময় অপচয় করেনি। ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কেটেছে রেডিও, পত্রিকা আর আমার রেডিও ক্লাব নিয়ে। রেডিও ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন রাসেল। এরপর ২০১১ থেকে ১২ সাল পড়াশোনা ছাড়া পুরো সময়টা কেটেছে তার গুগলের সঙ্গে। আর তাইতো সে ২০১৩ সালে রাজশাহীর প্রথম ইন্টারনেট মিডিয়া হিসেবে চালু করেন ‘রাজশাহী এক্সপ্রেস ডট কম’ নামে একটি অনলাইন পত্রিকা। যা এখন রাজশাহী বিভাগ কেন্দ্রিক সর্বাধিক পঠিত অনলাইন পত্রিকা। পাড়ালেখা করা অবস্থায়ই WHM, Cpanel ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মিডিয়ার কাজ শিখে ফেলেন রাসেল। প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে ডুবে থাকতেন রাসেল। রাসেল বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অনেক রেডিও শুনেছি। স্কুল লাইফে দেশি এবং আন্তর্জাতিক অনেক রেডিওর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে আমার। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বিবিসি বাংলা, ডয়েচে ভেলে জার্মানি, এনএইচকে জাপান, সিআরআই চায়না, রেডিও তেহরান, ভয়েস অফ আমেরিকা। যার কারণে ২০০৯ সালে রাজশাহী বেতারে ‘সেতুবন্ধন’ নামে একটি রেডিও অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করার সুযোগ হয় আমার। ২০১০ সালে সেরা শ্রোতা হিসেবে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ হয়েছিলো বিবিসি বাংলায়।’ পড়ালেখা করা অবস্থায় এতদূর এগিয়ে যাওয়া রাসেলের জীবনের লক্ষ্য এখন তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া। নিজের স্বপ্ন নিয়ে রাসেল বলেন- ‘তখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম। সামনে পিএসসি আর বৃত্তি পরীক্ষা। বাড়িতে একটা রেডিও ছিলো। অনেক রেডিও শুনতাম। বিশেষ করে খবর। সেসময় জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন কফি আনান। তাকে দেখে আমার ইচ্ছে হয়েছিল জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার। স্কুলে যতবার রচনা এসেছে ‘জীবনের লক্ষ্য’, ততবারই লিখেছি বড় হয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব হবো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও বদলে গেছে। এখন স্বপ্ন দেখি তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বদলে দিতে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চাই।’ এসএ/  

মুক্তিযোদ্ধা পুলকেশ বড়ুয়া আর নেই

প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ কর্মী পুলকেশ বড়ুয়া আজ সোমবার ভারতের ব্যাঙ্গালোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পারিবারিক সূত্র এ কথা জানায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং পরে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি বালক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুলকেশ বড়ুয়া মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা ও আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্যা শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।  তার লাশ আগামীকাল মঙ্গলবার দেশে আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তার লাশ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তার কারিয়ানগর গ্রামে দাহ করা হবে। সূত্র: বাসস

সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরছেন ব্যারিস্টার সুমন

ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। একটি আলোচিত নাম এই সময়ে। পেশায় একজন আইনজীবী। যিনি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরছেন। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হবিগঞ্জের চুনারঘাট উপজেলায়। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করার পর ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। সেখানে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার অ্যাট ল’ করেন তিনি। লন্ডনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার বাবা মারা যাওয়ার খবর শুনেও যখন সামান্য অর্থের অভাবে বাবাকে শেষবারের মতো দেখেতে আসতে পারেননি। সেদিন নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল তার। সেই শোক সুমনকে যতটা ভেঙে দিয়েছিল ঠিক ততটাই ভীত গড়তে সহায়তা করেছিল মানুষের হয়ে মানবতার তরে নিজেকে বিলিয়ে দিতে। এরপর থেকে তিনি মানবতার কাজে ব্রতী হন। লন্ডনে বার অ্যাট ল’ সম্পন্ন করার পর অনেকেই সুমনকে সেখানেই থেকে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু দেশের প্রতি টান অনুভব করেন তিনি। সুমনের মনে হতো, লন্ডনে অনেক ব্যারিস্টার আছেন সেখানে কাজ করার জন্য। কিন্তু তার মাতৃভূমিতে যদি আরেকজন ব্যারিস্টার ফিরে ন্যূনতম হলেও কিছু করতে পারেন, তাতে দেশ উপকৃত হবে। সুমন মনে করেন, বার অ্যাট ল’ করা পর্যন্ত তিনি দেশ-জাতি-সমাজ থেকে নিয়েছেন। এরপর বিশেষ করে চার দশক পর দেশ-জাতিকে তার দেওয়ার পালা। সেই দৃষ্টিভঙ্গিই তিনি ছড়িয়ে দিতে চান। মানুষ হয়তো হবে ‘মহত্তম সম্পদ’, নতুবা ‘বৃহত্তম দায়’। দেশে ফিরে এক সময় ঢাকা হাইকোর্টে যোগদান করেন একজন আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে সমাজের মানুষের হয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছার বাস্তবায়ন। এর জন্য বেছে নেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভ। যার মাধ্যমে তিনি চারপাশে কিংবা পথে ঘাটে ঘটে চলা অনিয়ম এবং অসংগতিগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধান করে চলেছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি ইদানিং সমাজ বদলের লক্ষে ‘ফেসবুক লাইভকে বেঁছে নিয়েছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন মানুষকে জাগাতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য বেশ কিছু ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করেছেন। যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অনিয়ম অসংগতির বিষয়গুলো ফেসবুক লাইভ এসে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছেন এবং সেই সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। ফলে কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে রীতিমত সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছেন। যেখানেই অনিয়ম, সেখানেই ফেসবুক খুলে লাইভে আওয়াজ তুলছেন। শত শত ব্যবহারকারী সেই ফেসবুক লাইভ শেয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আর হাজার হাজার দর্শক সেই ভিডিও নজরে নিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তিনি কখনও রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খুটি নিয়ে লাইভে আসছেন তুলে ধরছেন এর ভয়াবহতার বিষয়গুলো, আবার কখনো রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার কিংবা নদীর ওপর কোটি কোটি টাকার ব্রিজের ওপর আলোহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্ট অথবা ফুটপাতের ওপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলার পথে ব্যাঘাত ঘটানো বিষয়গুলো নিয়ে। আর সেই ভিডিওগুলো যেই না ভাইরাল হতে শুরু করে দেশের হাজার হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওয়ালে। যেখানে দিনের পর দিন এসব অসঙ্গতি নিরসন হচ্ছে না অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই রাস্তার ওপর থেকে বিদ্যুতের খুটি সরে যাচ্ছে রাস্তার পাশে, ফুটপাতের ওপর বছরের পর বছর পরে থাকা ইট, বালি উধাও হয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে, ব্রিজ ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলজ্বল করে উঠছে কম সময়ের ব্যবধানে। সুমন জানান, হবিগঞ্জের চুনুরঘাট উপজেলার লালচান গ্রামের নদীর ওপর দিয়ে কাঠের সেতু তৈরি করেন। আর এতে ব্যয় হয় আশি থেকে নব্বই হাজার টাকা। যার সবটাই বহন করেন তিনি। সুমনের কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ- নরসিংদীর শিবপুরে রাস্তার প্রায় মধ্যখানে পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি। স্থানীয়দের ভাষ্যে, এই খুঁটির কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছিল না কর্তৃপক্ষের। সুমন এই খুঁটি দেখেই তার ‘ফেসবুক লাইভ’ শুরু করেন। এর এক দিনের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হয়। তবে সুমন সেখানেই থেমে যাননি। সড়কে এই ধরনের খুঁটি সরাতে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের নির্দেশও জারি করেছেন। ফেসবুক লাইভে সোচ্চার তিনি এই ঘটনার আগে পুরান ঢাকার (কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীর প্রবেশপথ) বাবু বাজার ব্রিজ (বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু) দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন, লাখ লাখ লোকের চলাচলের এতো গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির ওপর বাতি প্রায় ছিলই না, যেজন্য অন্ধকারেই চলাচল করতে হতো যানবাহন এবং লোকজনকে। তাতে অনেক ছিনতাইয়ের পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটতে বলে ভাষ্য স্থানীয়দের। সুমন বিষয়টি ফেসবুক লাইভে তুলে ধরলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাতি বাতিতে জ্বলে ওঠে এই ব্রিজ। এরপর রাজধানীর কাঁটাবন মোড়ে বালু ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে ফুটপাত দখল করে রেখেছিল একটি মহল। এতে জনচলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হচ্ছিল। সুমন সেটি তার ফেসবুক লাইভে প্রচার করলে দ্রুতই অপসারণ করা হয়। পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানির দোকানের সামনেই ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সুমনের ফেসবুক লাইভের পর অপসারণ হয় সেটাও। মহাসড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, ফুটপাত দখলসহ এমন আরও অনেক অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে আওয়াজ তুলে সমাধান এনেছেন তিনি। তিনি এসব লাইভে বারবারই বলে চলেছেন, সবাইকেই অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, দেশকে গড়তে হলে সবারই সদিচ্ছা লাগবে। ‘ফেসবুক লাইভ আন্দোলন’র বাইরে সুমন নিজ অর্থ-শ্রম দিয়েও করে চলেছেন অনেক কাজ। তার এলাকা হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চা বাগানের বিভিন্ন ছড়া-খালের ওপর বানিয়েছেন ২১টি সেতু। নির্মাণ করেছেন অন্তত ৪০টি রাস্তা। এতে যেমন হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে, অজস্র মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে সমাজ সচেতনতাবোধ। নিজের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ফেসবুকে প্রচার নিয়ে এক-আধটা কটূ কথাও শুনতে হয় তাকে। এই লাইভগুলো ফলোয়ার সংযুক্ত করার উদ্দেশে নয়। আমি সমাজ এবং দেশের জন্য অনেক বেশি কিছু করে ফেলেছি তা-ও কিন্তু নয়। তবে একেকটা কাজ করার মধ্য দিয়ে আমি একেকটা মেসেজ ছড়িয়ে দিতে চাই- আমার ছোট একটা কাজে কিছু আসে যায় না। একজনের পক্ষে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমি অনেক সময় নিজ হাতে এলাকার রাস্তার ময়লা পরিচ্ছন্ন করে বোঝাতে চাই- নিজের জন্মস্থানের জন্য কেউ ভিআইপি নন। এই মেসেজটা পেয়ে আমার মতো যদি হাজার হাজার মানুষ কাজ করেন, তাহলে সমস্যা বলে কোনো কিছু দেশে থাকবে না। তিনি তার জায়গা থেকে যেভাবে সমাজের জন্য, দেশের জন্য কাজ করছেন, তারুণ্যও একইভাবে কাজ করুক। সমাজের সব অসঙ্গতি ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে তুলে ধরুক কর্তৃপক্ষের সামনে। দেশের জন্য এই সামাজিক আন্দোলনটা সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাক। নতুন প্রজন্ম যদি একতাবদ্ধ হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির জন্য কাজ শুরু করে, তাহলে হতাশার কোনো জায়গা থাকবে না। এরপর বিভিন্ন এলাকায় একে একে যখন ২১টা কাঠের ব্রিজ করে ফেলি, তখন যেন মানুষের মনে সন্দেহটা দূর হতে থাকল এবং সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষেরও সাড়া মিলতে থাকল ক্রমান্বয়ে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাজের সার্থকতা তো তখনই খুঁজে পাই, যখন দেখি আমার এই লাইভ ভিডিওর কাজ দেখে কেউ আমার মতো লাইভে এসে তার এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ যখন দেখি ব্যারিস্টার সুমন দেশের আর দশটা সচেতন যুবকের মাঝে জেগে উঠতে শুরু করেছে তখনই আমার সবচেয়ে বড় সফলতা খুঁজে পাই। আসলে আমরা যদি সবাই সবার জায়গা থেকে এই দেশটাকে নিয়ে ভাবি তাহলে খুব দ্রুতই এই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর তাই তো আমি লাইভে এসে সব সময় একটা কথা বলি, চলুন, সবাই মিলে দেশটাকে বদলে দিই।’  কেআই/ 

বাংলাদেশের ৬ ছাত্রের নাসা জয়ের গল্প

মঙ্গলগ্রহে গবেষণা বা চলাফেরার জন্য প্রয়োজন যানবাহন। যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার করলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা শেষ হয়ে যায়। তাই জ্বালানি ব্যবহার না করে মানুষের উপযোগী যানবাহনের সন্ধান পেতে ‘নাসা হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ নামের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে নাসা। প্রতিবছরই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে। এবছরও ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতাটি। বাংলাদেশ থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছয় সদস্যের একটি দল (EXCELR8) এ বছর কলেজ বা ইউনিভার্সিটি দল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হান্টসভিল, আলাবামাতে অনুষ্ঠিত ‘হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ নামক এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হলেন- তৌহিদ রহমান, মোঃ তানজিল শাহরিয়া, শামুন আহেমদ, আইমান রহমান, ফারহাত তাসনিম প্রজ্ঞা ও মোহাম্মদ রিদওয়ান হোসাইন পাটোয়ারি। এর আগে গত বছর বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কলেজ/ইউনিভার্সিটি দল হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এই দল। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ও রকেট সেন্টারে তিনদিনব্যাপী (১২-১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি নাসার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক আয়োজন। এক্সেল-আর-৮ এই টিমের নানা সমস্যা সমাধানে পাশে ছিলেন দলের পরামর্শদাতা ডক্টর সাজ্জাদ হোসেন, স. ম. তৌহিদুজ্জামান, মো:রায়হান সহ আরো অনেকে। দলনেতা তৌহিদ রহমান এ প্রসঙ্গে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, নভেম্বর ২০১৮ থেকে রোভার এর নকশা, উপকরন জোগাড় করা, রোভার তৈরি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুনরায় পরিবর্তন সহ মোট ৩ মাসের মাঝে আমরা প্রতিযোগিতার উপযোগী রোভার এর কাজ সম্পন্ন করি। অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তৌহিদ রহমান বলেন, প্রথমেই বিচারকমণ্ডলী আমাদের নিরাপত্তা, রোভারের ওজনসীমা, ৫ ঘন ফুট বক্সে রোভার নেয়া যাবে কিনা তার পর্যালোচনা করেছেন যা আমরা সফলভাবে অতিক্রম করতে পেরেছি। প্রতিযোগিতায় সাত মিনিটের মাঝে মোট ১৪ টি বাঁধা অতিক্রম এবং ৫ টি কাজ সম্পন্ন করার জন্য ০.৫ মাইলের একটি পথ সাজানো হয়েছিলো, পাথর, বালু, উঁচু-নিচু পার্বত্য পথ। পাথুরে, ঢাল, গর্ত দিয়ে তৈরি লাল ভূখণ্ডে রোভারটি চালাতে হয়েছে দু`জন আরোহীকে (একজন মেয়ে, একজন ছেলে)। বেশিরভাগ বাঁধা অতিক্রমেই বাইপাস এর সুযোগ ছিল। দলগুলোর জন্য পূর্বপরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষনিক নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ ছিল, যাতে একটি বাঁধা অতিক্রমে আটকে গেলে/ রোভার কোন একটি বাঁধার জন্য উপযোগী না হলেও সময়ের সম্পূর্ণ ব্যবহার করা যায়। আমরা সেভাবেই পূর্বপরিকল্পনা এবং তাৎক্ষনিকতার সামাঞ্জস্যতা রেখে রোভার টি চালিয়েছি। ৬ মিনিটের মাঝে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে সপ্তম মিনিট রাখতে হয়েছে রোভার টি পুনরায় সূচনাস্থানে ফিরিয়ে আনতে। তৌহিদ রহমান বলেন, বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো আমরা অংশগ্রহণ করায় আমাদের প্রতি অনেকের আগ্রহ ছিল। বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে প্রায় ১১৫ টি দল এসেছিল। খুব গর্ব বোধ হয়েছিল যখন দেখি বাংলাদেশের পতাকা দেখে অন্য দল গুলো এবং অনেক বাঙালি আমাদের কাছে এসে আমাদের সঙ্গে একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছিলো। আমাদের টিমের রোভারটি ছিল সম্পূর্ণ মডুলার, যার প্রত্যেকটি পার্টস আলাদা ছিল, যেটি আমাদের পরে এসেমব্লি (জয়েন্ট) করতে হয়েছে। আমাদের এই মডুলার ডিজাইন সবার নজর কেড়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের ডিজাইন অন্য অনেক দেশের ডিজাইন থেকে আলাদা থাকায় আমেরিকা, পুয়ের্তো রিকো, পেরু সহ অনেক দেশের দল আমাদের সঙ্গে তাদের ডিজাইন এর ধারণা শেয়ার করার জন্য আমাদের অনুরোধ করে এবং ২০২০ সালে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। গত বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম দল হিসেবে আমরা নাসাতে গেলেও এই বছর রুয়েট দল ও নাসা তে আমাদের সঙ্গে অংশগ্রহন করে এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিবছর নাসা হিউমান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ এর মাধ্যমে মহাকাশে মানব পরিসরের অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী ছাত্রদের নিয়োজিত করার জন্য একটি অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং অভিসন্ধান চ্যালেঞ্জ প্রদান করে। মার্স (মঙ্গল) অভিযানের উপযোগী সম্পূর্ণ অভিনব এবং নতুন নকশা তৈরি করে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর নাসা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী দল হিসেবে “NSU EXCELR8” কে মনোনীত করে। প্রতিযোগিতাটি স্কুল-কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের অন্য একটি গ্রহের প্রেক্ষাপটে উপযোগী পৃষ্ঠে চলাচলে সক্ষম একটি গাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা`র চ্যালেঞ্জ করে। মঙ্গল গ্রহের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান ও গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে নাসার এই আয়োজন। বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন দলকে তারা আমন্ত্রিত করে তাদের অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল প্রতিবেদনের জন্য যা কিনা মঙ্গলের উঁচু-নিচু বন্ধুর পথ ও অন্যান্য বাধা বিপত্তি পাড়ি দিয়ে সীমিত সময়ে নভোচারীদের গবেষণা কাজে ব্যাবহারের সক্ষম। মঙ্গল পরিভ্রমণের সবগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে “এক্সেল-আর-৮” মানব যানটি তৈরি করতে হয়েছে নাসা প্রদত্ত গাইডবুকের শর্তাদি মাথায় রেখে। কাঁকর-কঙ্করের উঁচু-নিচু, অসমতল পথ অতিক্রম করতে সক্ষম চার চাকার একটি বাহন তৈরি করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মানবচালিত। বাহনটির সবকিছু তৈরি করা হয়েছিল দেশি প্রযুক্তিতে, মরিচা রোধক লোহা দিয়ে। মঙ্গলে কোনো জ্বালানি ছাড়াই পরিচালনা করতে হবে মাথায় রেখে এটি চালাতে ব্যবহৃত হয়েছে চেইন আর প্যাডেল। কার্যকরী ড্রাইভট্রেনের জন্য বাইসাইকেল-ড্রাইভট্রেন ব্যবহৃত হয়েছে সামনে-পিছনের চাকায়। সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল, বাহনটিকে চেইন খুলে যাবার আশঙ্কা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাঁজ করে রাখার উপযোগী করে তৈরি করা যা মাত্র ৫ ঘন ফুট আকারে (চার কোনা বক্সসদৃশ) ভাঁজ করা যাবে, যা নাসার গাইড-লাইনের অন্যতম শর্ত ছিল। চাকা গুলো তৈরি করা হয়েছে যাতে রুক্ষ এবং পাথুরে পৃষ্ঠে চলাচলে সক্ষম পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতায় দক্ষ হয়। সামনে-পেছনে আছে দু`জনের আসন। আরোহী দু`জনের কাছেই থাকবে প্যাডেল। নাসার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের শিক্ষার্থীদের আরোহী দু`জনের একজন ছেলে একজন মেয়ে ছিল, কেননা একটা ছেলে ও একটা মেয়ে মঙ্গলের মাটিতে এই মানবযানটি চালাবে। রোভারটির ওজন ছিল ৯৩ কেজি। প্রতিযোগিতায় রোভারের (বাহন) কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রোভারকে পাঠানো হয় একটি রকেটের সাহায্যে। রকেটের ভেতরে রোভারের জন্য রাখা বাক্সের দৈর্ঘ্য ৫ ফুট, প্রস্থ ৫ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট। এ বক্সের ভেতরে রাখার উপযোগী করে রোভারটি তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনে রোভারকে ভাঁজ করা যাবে। রোভারটি মঙ্গলগ্রহে দুজন নভোচারী পরিচালনা করবে। সে উপযোগী করে প্রতিযোগিতায় একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী রোভারটি পরিচালনা করবেন। শুধু ধারণা দিলেই হবে না, প্রতিযোগিতায় রোভারটিকে আধা মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। তাও গতানুগতিক পিচঢালা মসৃণ রাস্তা নয়। মঙ্গলগ্রহের ভূমির আদলে তৈরি বিশেষ পথ পাড়ি দিতে হবে। এ জন্য ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে গড়ে তোলা হয়েছে মঙ্গলগ্রহের উপযোগী ভূমি, সেখানকার আবহাওয়া, গর্ত এমনকি পাহাড়ও। রোভারটিকে প্রয়োজনে সে পাহাড়গুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে। গর্তগুলো ভরাট করতে হবে। এসি    

বার বার হেরে ফোর্বস ম্যাগাজিনে সেরাদের তালিকায় মোরশেদ মিশু

স্কুল কলেজে কখনো তার রোল নাম্বার ৩০- এর মধ্যে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় নি। স্বপ্ন দেখতেন ডিফেন্সে যোগ দিবেন। কিন্তু সেখানেও হেরে যান তিনি। এভাবে বার বার হেরে যাওয়া তরুণটি এবার ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় `থার্টি আন্ডার থার্টি` নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় যে দু`জন বাংলাদেশী তরুণ ঠাঁই করে নিয়েছেন তাদের একজন মোরশেদ মিশু। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাজিং’ ক্যাটাগরির সেরা ৩০ তরুণের তালিকায়। ইতোপূর্বে ‘দি গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে ধারাবাহিক কার্টুন একে দেশ-বিদেশে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন। এই তালিকায় স্থান করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, মোরশেদ মিশু`র কার্টুনের প্রভাব শুধু দেশে নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃত। বাংলাদেশের অন্যতম স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন আবদুল্লাহ আল মোরশেদ। যিনি মোরশেদ মিশু নামে পরিচিত। মোরশেদ মিশু গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্মমতা আর বেদনার ছবিগুলোকে আশা আর আনন্দের বার্তায় পাল্টে দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ সিরিজ। মোরশেদ মিশুর ওই সিরিজ দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর নজর কাড়ে। অন্যান্য দেশের কার্টুনিস্টরাও যোগ দেন এই চ্যালেঞ্জে। ফোর্বস ম্যাগাজিন মোরশেদ মিশুকে নিয়ে লিখেছে, যুদ্ধ আর সহিংসতা না থাকলে এই পৃথিবী কতটা সুন্দর হতে পারত, সেটাই কার্টুনের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন মোরশেদ মিশু। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় স্থান করে নেওয়ায় পর মোরশেদ মিশু তার নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, স্কুল জীবন বলেন কিংবা কলেজ জীবন, কোন পরীক্ষাতেই কখনো ১ম হওয়া তো দূরে থাক, রোল ১-৩০ এর মধ্যেও রাখতে পারতাম না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বাদই দিলাম, সেটা তো শেষই করা হলো না। তা নিয়ে আফসোস নাই, কারণ তার আগে একটা দীর্ঘ সময় স্বপ্ন দেখে আসছি ডিফেন্সে যোগ দেয়ার আর দেশের জন্য গুলি খেয়ে মরে যাবার। ডিফেন্সে চান্স না পাবার মত জীবনে অসংখ্যবার ফেইলের মুখ দেখছি। হাল ছাড়ি নাই, শুরু করলাম কার্টুন আঁকা, সুযোগ পেলাম উন্মাদে আঁকার। আঁকতে আঁকতে টের পেলাম, কার্টুন এঁকেও দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব। এই যে দেখেন, কার্টুন এঁকে বাংলাদেশের নাম ফোর্বস ম্যাগাজিনে তুলে এনেছি। Forbes 30 under 30 লিস্ট এর Media, Marketing & Advertising ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থানে নাম চলে এসেছে আপনাদের মোরশেদ মিশু’র। আবেগঘন এই স্ট্যাটাসে মোরশেদ মিশু আরও লিখেন, "আমার অনুভূতি জানতে চান???আন্তর্জাতিক মিডিয়া কিংবা প্ল্যাটফর্মে আমার নামের সাথে বাংলাদেশের নাম যতবার আসে, আমার আনন্দ লাগে। নিজের কাজ দিয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারতেছি প্রাপ্তিটা এখানেই। আর সেই সাথে আমার জুনিয়র যেসকল কার্টুনিস্ট বা আর্টিস্ট আছেন, তাদেরকেও সামান্য হইলেও অনুপ্রাণিত করতে পারতেছি। এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর হইতে পারে না।" প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে মোরশেদ মিশু বলেন, “আমাদের সোসাইটিতে তো আঁকাআঁকি বা কার্টুনকে কিংবা আর্টিস্ট হওয়াটাকে প্রফেশন হিসেবে প্রায়োরিটি দেওয়া হয় না। এই প্রফেশনটাকে তো মূল ধারার প্রফেশন হিসেবে ধরা হয় না। এই ধরনের রিকগনিশনগুলো হয়ত নতুন যারা এই কাজে আগ্রহী হবে, তাদের জন্য ইনসপিরেশন হিসেবে কাজ করবে।” মোরশেদ মিশু আরও বলেন, কার্টুনকে কেবল এক শিল্প মাধ্যম হিসেবে না দেখিয়ে একটি ‘সার্বজনীন ভাষা’ হিসেবে দেখাতে চাই, যে ভাষা বিশ্বের সব ভাষার মানুষই বুঝতে পারে, সমাজের অনেক অবক্ষয়, অনেক সমস্যার কথা অনেক সহজে যেখানে বলা যায়।" প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় এবার ঠাঁয় পেয়েছে বাংলাদেশী দুই তরুন। এরা হলেন কার্টুনিস্ট আবদুল্লাহ আল মোরশেদ। যিনি মোরশেদ মিশু নামে পরিচিত। অন্যজন হলেন রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী হুসাইন এম ইলিয়াস। উদ্ভাবন আর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ত্রিশ বছরের নিচের যে সকল তরুণরা ভূমিকা রাখছে তাদের তালিকায় উঠে এসেছে এই দুই তরুণ বাংলাদেশীর নাম। আআ/এসি  

বিশ্বজয়ী নাজমুনের ‘অনন্যা সম্মাননা’ অর্জন

আলোকিত নারী, তারুণ্যের আইকন হয়ে নারীদের সবচেয়ে সম্মানিত ‘অনন্যা সম্মাননা’ পুরস্কার অর্জন করেছেন নাজমুন নাহার। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাজমুন নাহারসহ আলোকিত ১০ জন নারীর হাতে ‘অনন্যা সম্মাননা’ তুলে দেন পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। সম্মাননা গ্রহণ করার পর নাজমুন নাহার বলেন, সমাজের ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গিয়েছি। অনেক মৃত্যুকে জয় করে পর্বত চূড়ায় আরোহন করেছি। একা একাই পৃথিবীর মানচিত্রের এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করেছি। আজ আমিই অনন্যা, পেয়েছি অনন্যা অ্যাওয়ার্ড। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, কলম সৈনিক, শুভাকাঙ্খী, বন্ধু ও পরিবারের লোকজন। নাজমুন নাহার ছাড়া এবারের সম্মাননাপ্রাপ্ত বাকিরা হলেন- ডা. সায়েবা আক্তার (চিকিৎসা), পারভীন মাহমুদ (ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন), এসপি শামসুন্নাহার (প্রশাসন), আফরোজা খান (উদ্যোক্তা), সোনা রানী রায় (কুটির শিল্প), লাইলী বেগম (সাংবাদিকতা), সুইটি দাস চৌধুরী (নৃত্যশিল্পী), রুমানা আহমেদ (ক্রীড়া) ও ফাতেমা খাতুন (প্রযুক্তি)। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ জুন নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। তার এই মাইলফলককে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা। জাম্বিয়া সরকারের গভর্নরের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘ফ্ল্যাগ র্গাল’ উপাধি। ১২৫ তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেন নাইজেরিয়া।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হল জাতীয় যুব সম্মেলন

দেশের সর্ববৃহৎ যুব সম্মেলন ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাসেম্বলি ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ থেকে ১২ মার্চ জাগো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কক্সবাজারে সি প্যালেসে তরুণদের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাগো ফাউন্ডেশনের ইয়ুথ উইং,‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)’ কর্মসূচির আওতায় এ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাকশান্দ। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় যেমন নেতৃত্ব, সড়ক নিরাপত্তা,আর্থিক স্বাক্ষরতা, তরুণদের ক্ষমতায়ন, তথ্য পাওয়ার সুযোগ,কার্যকরী যোগাযোগ, মানবসম্পদ এবং সফলতার গল্প বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের শেষদিন বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মজিবর রহমান, ইউএনডিপি’র ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্টের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট আক্তার উদ্দীন, ইউএনডিপি’র কমিউনিকেশন হেড আব্দুল কাইয়ুম এবং মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। চার দিনব্যাপী এ আবাসিক কর্মসূচির লক্ষ্য ছিলো তরুণদের ক্ষমতায়ন ও স্বেচ্ছাসেবীতায় তাদের উৎসাহিত করা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তাদের সমাজ বিনির্মাণ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা। আয়োজিত এ সম্মেলনে, সারাদেশ থেকে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা, তাদের প্রতিনিধি, স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূতসহ সমাজের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে দেখা করার সুযোগ পায়। ভিবিডি’র তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের পরিকল্পনা ও কাজ এবং এর নানা প্রেক্ষিত নিয়ে সম্মেলনে নিজেদেরও ধারণা ব্যক্ত করে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী অতিথিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের থেকে তাদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। স্বেচ্ছাসেবীরা যারা এখন অ্যাকটিভ ইয়ুথ সিটিজেন হিসেবে কাজ করছে, তাদের জেলায় ফিরে যাবেন এবং এসডিজি লক্ষ্য অনুযাযী কমিউনিটি বিল্ডিং কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হবেন। চার দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে সারাদেশের আট বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধাপে বাছাইকরণের মাধ্যমে ৫শ’ তরুণ অংশগ্রহণ করেছে। সম্মেলনে দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারিদের দক্ষতা এবং উন্নয়নের নিমিত্তে এ বছরেও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ইয়ং বাংলা, কোকা-কোলা, ওয়াটারএইড, উবার, সুযুকি, আইপিডিসি, আইএফসি, এমবিএম গার্মেন্টস, অনন্ত গ্রুপসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সম্মেলন ১২ই মার্চ শেষ হয়। কেআই/

প্রথমবার ‘বেস্ট অব নেশন’ পুরস্কার এলো বাংলাদেশে

আলোকচিত্র দুনিয়ার খ্যাতনামা ‘ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফিক কাপ’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আলোকচিত্রী পিনু রহমান জিতেছেন  ‘বেস্ট অব নেশন অ্যাওয়ার্ডস’ । তার তোলা আলোকচিত্র ‘লস্ট চাইল্ডহুড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ফটোসাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে। গত ২১ জানুয়ারি মাসে জর্জিয়ার আটলান্টায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আলোকচিত্র শিল্পীদের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে ‘দ্য ফেডারেশন অব ইউরোপিয়ান ফটোগ্রাফারস’ ও ‘প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারস অব আমেরিকা’ । আলোকচিত্রী মাহমুদ হাসান শুভর নেতৃত্বে এবারের ষষ্ঠ আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ দল।  আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬টি ক্যাটাগরিতে, ৩২টি দেশের জাতীয় পর্যায়ে বাছাই করা ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬০০টি ছবি জমা পড়ে । এর মধ্য থেকে পিনু রহমানের ‘লস্ট চাইল্ডহুড’ ছবিটিকে ‘বেস্ট অব ন্যাশন অ্যাওয়ার্ডস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় । গত ২১ জানুয়ারি জর্জিয়ার আটলান্টায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবেআগামী ৮ এপ্রিল নরওয়ের ডারমেনে ।   পিনু রহমান বলেন, ‘পুরস্কার প্রাপ্তিটা তার জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয় হলেও তার চেয়ে বড় বিষয় পুরস্কারটা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। অনেকেই জানতেন না এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করা যায়, তিনি আশা করছেন এখন আরও অনেক বেশি প্রতিযোগী বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন। কারণ, অনেক প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার আমাদের দেশে আছেন। পিনু রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি এখন একজন ব্যাংকার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই শখের বশে ফটোগ্রাফি করছেন তিনি। বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে এই ফ্রিল্যান্সার ফটোসাংবাদিকের অনেক ছবি। তার ১০টিরও বেশি ছবি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণা 

সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিশুদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুলের শিশুরা তাদের টিফিনে যে খাবার খায় তা পুষ্টিসমৃদ্ধ কি-না, সে সম্পর্কে তারা যদি সচেতন হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে তাদের পরিবারের অন্য সদস্য এবং বন্ধুরাও তা জানতে পারবে।  বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত রাইজিং সান হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকগণ এসব বলেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘একটিভ সিটিজেনস’ প্রকল্পের অধীনে যুব স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচালনায় ‘স্ট্যান্ড এগেইনস্ট ম্যালনিউট্রিশন’ নামক সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ক্যাম্পেইন কার্যক্রমটির আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর টিফিনের খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণসহ নানা দিক উপস্থাপন করেন আয়োজনকারীরা। রাইজিং সান হাই স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকসহ আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হোসেন, রনি আহমেদ, নুসরাত করিম আরিফা, তাসলিমা মিতু, ইরতিজা তাহা, শারমিন আক্তার আঁখি, নাওরিন আক্তার, ফারহানা নেলি, আফসানা রাহমান মুনমুন, উম্মে সদ্দিকিন লিটিল, মুস্তারিন তুলিসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী। অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ। তিনি পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির এ কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই ক্যাম্পেইনে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা, সুস্বাস্থ্য ও নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এ ধরণের সচেতনতা অপুষ্টি দূরীকরণ ও অপুষ্টিজনিত রোগসমূহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিত অন্য বক্তারাও। এসি    

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি