ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ১৯:১০:২৯, বৃহস্পতিবার

বাগান বাড়িতে গুপ্ত রহস্য, মাটি খুঁড়ে যা পাওয়া গেল ...

বাগান বাড়িতে গুপ্ত রহস্য, মাটি খুঁড়ে যা পাওয়া গেল ...

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনের এক বাড়িতে থাকছেন জন সিমসের নামের এক ব্যক্তি। বাড়িটি তিনি কিনেছিলেন তার বন্ধুর কাছ থেকে। কেনার পরই শুনলেন এক গুঞ্জন, তার বাড়ির বাগানে নাকি কিছু একটা আছে! কিন্তু সেটা কী, তা কেউ জানে না। অতি সাধারণ দেখতে এই বাড়িতে কী আছে? বহুবার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন করলেও মেলেনি কোনও উত্তর। তাই জন সিদ্ধান্ত নেন তিনি নিজেই খুঁজে দেখবেন এই রহস্য। যেমন ভাবা তেমন কাজ। জন পর দিন থেকেই তার নতুন বাড়ির বাগান খোঁড়া শুরু করেন। কিন্ত পাওয়া যাচ্ছিল না কিছুই। হতাশ হয়ে এক রকম আশা ছেড়েই দেন তিনি। মাটি খোঁড়া থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পৌরসভায় বাড়ির রেকর্ড খতিয়ে দেখতে যান রহস্য উদ্ধারে মরিয়া জন। সেখানেই তিনি খুঁজে পান তার বাড়ির নকশা, যা তার অভিযানকে নতুন দিশা দেয়। বাড়ির নকশাতেই দেখতে পান আঁকা রয়েছে আরও কিছু ঘর, যার অবস্থান জনের বাগানে। রেকর্ড অনুযায়ী ‘উইটেকার পুলস’ নামে এক সংস্থা ১৯৬১ সালে এখানে কাজ করার জন্য অনুমতি নিয়েছিল। কিন্ত জনের বাড়িতে তো কোনও সুইমিং পুল নেই! পুরনো রেকর্ডগুলি দেখার পর জনের মনে উৎসাহ ও সন্দেহ দুই-ই বেড়ে যায়। রহস্য সমাধানে জন একদল বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেন। তারা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সারা বাগান খোঁজা শুরু করলেও প্রথমে মেলেনি কিছুই। এরপরই একদিন আওয়াজ করে ওঠে মেটাল ডিটেক্টর। তবে এক জায়গায় নয়, দুই জায়গায়। উত্তেজনা ও আনন্দে আত্মহারা জন এবং তার সাহায্যকারীরা দ্বিগুণ উৎসাহে খোঁড়া শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন ধাতব কিছুর উপস্থিতি। প্রায় তিন ফুট খুঁড়ে তারা একটি বড় ঢাকনা দেখতে পান। জন একপ্রকার হতাশই হন। তিনি ভেবেছিলেন, এটা হয়ত কোনও সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা। এত দিনের পরিশ্রম কি তবে বিফল হল? কিন্তু খোঁড়া না থামিয়ে আরও সাবধান হয়ে কাজ চালিয়ে যান তারা। আরও বেশ কিছুটা খোঁড়ার পর জন বুঝতে পারেন, এটা কোনও সেপটিক ট্যাঙ্ক নয়, বরং একটা গুপ্ত রাস্তা! ঢাকনার নীচেই রয়েছে সুড়ঙ্গ, যা কোথায় গিয়েছে কেউ জানে না। দমকলকর্মী জন সুড়ঙ্গের ভিতরে কী আছে তা জানার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। কিন্তু ভিতরে যদি থাকে বিষাক্ত গ্যাস! ঢাকনা খুলে অপেক্ষা করলেন এক দিন। পরের দিন গিয়ে সুড়ঙ্গে খোঁজ পান একটি স্পাইরাল সিঁড়ির। কিন্তু সিড়ির হাল দেখে কেউ নীচে নামার সাহস দেখাননি। তাই নামার আগে প্রথমে সিঁড়ি সারানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিছুটা সারানোর পর জন ও তার বন্ধুরা একটি বড় পাইপ সুড়ঙ্গের মধ্যে নামান, যা হাওয়া চলাচলে সাহায্য করবে। তবে স্পাইরাল সিঁড়িটি পুরোটা সারানো সম্ভব না হওয়ায় তারা মইয়ের সাহায্যে নীচে নামেন। সুড়ঙ্গে নেমে অবাক হন তারা। দেখেন, এটি কোনও সুড়ঙ্গ পথ নয়, বরং এক বিশাল ঘর। তবে কি সবাই এই রহস্যের কথাই বলছিলেন? কী ছিল এই ঘরে? কেনই বা তৈরি করা হয়েছিল এই ঘর? এত বড় ঘর কিন্তু কোনও আসবাবপত্র নেই! আস্তে আস্তে তারা বুঝতে পারেন, এই ঘরটি অন্য কিছু নয়, একটি বাঙ্কার। ঠান্ডা যুদ্ধ চলাকালীন এই বাঙ্কারটি তৈরি করা হয় বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যায়, শুধু উইটেকার পুল নয়, লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যরোলিনা পুলস নামক এক সংস্থা ১৯৬১ সালের মধ্যে প্রায় ৫০০টি নিউক্লিয়ার শেল্টার বানায়। জন ঠিক করেন, এই বাঙ্কারকে তিনি মিউজিয়ামে পরিবর্তিত করবেন। সেই মতো তিনি একটি ওয়েবসাইট খোলেন যেখানে সাধারণ মানুষের অনুদানে তিনি বাকি সংস্কারের কাজে নামেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম যেমন হ্যাম রেডিও, গেগার কাউন্টার, পানির ব্যারেল দিয়ে তিনি সাজাচ্ছেন এই বাঙ্কার। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/  
হারানো প্রেমিক যুগলের দেখা হলো ৭৫ বছর পর!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭৫ বছর পর দেখা হল হারানো প্রেমিক যুগলের। ১৯৪৪ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কেটি রবিন্স পূর্ব ফ্রান্সের ব্রায়িতে একটি রেজিমেন্টে নিযুক্ত ছিলেন। জার্মানির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সে সময় জোট বেঁধে লড়াই করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের সেই ঘাঁটিতে থাকাকালীন তরুণ রবিন্স ১৮ বছর বয়সী ফরাসি মেয়ে জেনেই পিয়ারসন নি গেনেই- এর প্রেমে পড়েন। তবে তাদের দেখা হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই, পূর্ব ফ্রন্টের উদ্দেশ্যে কেটি রবিন্সকে তাড়াহুড়ো করে গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়। একজন আরেকজনের থেকে আলাদা হওয়ার সময় তারা ভাবছিলেন যে তাদের আবার দেখা হবে কি না। কেটি রবিন্স পরে জেনেইয়ের একটি ছবি তার কাছে রেখে দেন। তারপর দীর্ঘ ৭৫ বছর পেরিয়ে যায়। তাদের দেখা হয়নি ঠিকই, কিন্তু জেনেইয়ের শেষ স্মৃতি হাতছাড়া করেননি রবিন্স। এরপর একদিন ফ্রান্সের একদল সাংবাদিক বিশেষ প্রতিবেদনের কাজে রবিন্সের সাক্ষাতকার নিতে আসেন। সে সময় ফ্রান্সের সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। তাদের সঙ্গে দেখা হতেই ফ্রান্সের প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-টু এর সাংবাদিকদের জেনেই-এর সেই ছবিটি দেখান রবিন্স। বলেন, তিনি ফ্রান্সে ফিরে গিয়ে জেনেইকে না হলে তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে চান। সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সাক্ষাতের কয়েক সপ্তাহ পরেই রবিন্স ডি-ডে ল্যান্ডিং অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং এর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সে যান। তিনি ভাবতেও পারেননি, তার জন্য কত বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে। রবিন্সকে চমকে দিতে, ফ্রান্সের ওই সাংবাদিকরা আগে থেকেই সেই নারীকে খুঁজে বের করেন। এরপর মুখোমুখি করেন দুজনকে। রবিন্সকে সাংবাদিকরা নিয়ে যান সেই রিটায়ার হোমে, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন মিজ গেনেই। দীর্ঘ ৭৫ বছর পর দেখা হতেই তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন। সে সময় রবিন্সের গায়ে ছিল সামরিক পোশাক আর মিজ জেনেই কালো পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছিলেন পরিপাটি করে। পরে মিজ গেনেই সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সবসময়ের রবিন্সের কথা মনে করতেন। আশা করতেন যে, একদিন রবিন্স নিশ্চয়ই ফিরে আসবে। নিজেদের আলাদা হওয়ার মুহূর্তটি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে স্মৃতিচারণ করেন মিজ গেনেই। বলেন, ‘রবিন্স যখন ট্রাকে করে ফিরে যাচ্ছিল, আমার মন এতোটাই ভেঙে পড়েছিল যে আমি ভীষণ কাঁদছিলাম। আমি আশা করেছিলাম যুদ্ধ শেষে সে হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবে না।’ তবে বাস্তবে এই দীর্ঘ সময়ে তাদের একবারের জন্যও দেখা হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপের কথাও জানান মিজ গেনেই। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘রবিন্স এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কেন ছিল? আমার কাছে আরও আগে কেন ফিরে আসেনি? আমি ভাবি, যদি সে আরও আগে ফিরতো।’ মিজ জেনেই পরে বিয়ে করেন। সেই সংসারে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, রবিন্সও পরে বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিবার নিয়ে থাকছেন তিনি। অবশ্য তাদের দুজনই এখন নিজেদের সঙ্গীকে হারিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি

প্রেমিকার বাড়িতে অনশন, অবশেষে ভালোবাসার জয় (ভিডিও)

ভালোবাসার দাবিতে প্রেমিক তার প্রেমিকার বাড়িতে অনশনে বসেছেন। সঙ্গে নিয়েছেন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা আছে ‘আমার আট বছর ফিরিয়ে দাও’। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিককে আশপাশের লোকজন বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু যুবক অনড়। প্রেমিকা সাড়া না দিলে অনশন তুলবেন না তিনি। এভাবে যুবকটির শরীর ক্রমে খারাপ হওয়ায় অবশেষে প্রেমিকার বাড়ির বরফ গলল। দু’পক্ষ রাজি হওয়ায় রাতেই মেয়েটিকে সিঁদুর পরিয়ে দেন যুবক। মন্দিরে মালাবদল হয়। রাতে ধূপগুড়ির মানুষ খুশি, কারণ ‘জয় হয়েছে ভালবাসার’। জানা গেছে, প্রেমিকার বাড়ি শহরের কলেজপাড়ায়। তার সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়। জানতে পেরে রোববার প্রেমিকার বাড়ির সামনে অনশনে বসেন স্থানীয় যুবক অনন্ত বর্মণ। যুবকটি জানায়, মেয়েটির সঙ্গে তার আট বছর ধরে সম্পর্ক। সম্পর্ক ভেঙে হঠাৎ কাউকে বিয়ে করে চলে যাওয়াটা ঠিক নয়। অনন্ত আরও দাবি করেন, তার সঙ্গেই বিয়ে দিতে হবে মেয়েটির। তার বাড়ির লোকেরাও সম্পূর্ণ ভাবে তারই পাশে। বাড়ির ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় অনন্তর বাড়ির লোকেরা মেয়েটির বাড়িতে যান। স্থানীয়েরাও মেয়ের বাড়ি লোকেদের প্রশ্ন করেন, সব জানা সত্ত্বেও কেন তারা লুকিয়ে অন্যত্র মেয়ের বিয়ে ঠিক করছেন? মেয়ের বাড়ির লোকেদের অবশ্য দাবি, বিয়েতে মেয়ের আপত্তি ছিল না। বিষয়টি নিয়ে মেয়ের বাড়ির লোকজন পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করেন। এর মধ্যে সোমবার আলিপুর দুয়ার থেকে পাত্রের বাড়ির লোক মেয়েটির বাড়িতে আসেন। অনন্ত তাদের বাঁধা দেন। সব দেখে এলাকার মানুষ এগিয়ে আসেন। তারা প্রেমিকযুগলকে মিলিয়ে দিতে উদ্যোগী হন। রাতে অনন্তের বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিঁদুর পরিয়ে তারা যান স্থানীয় কালী মন্দিরে। শাস্ত্র মেনে মন্দিরেই মালাবদল হয়। ভালবাসার জয় পাওয়ার পরে অনন্ত বলেন, ‘‘ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। আমরা দুজনেই খুশি।’’ ভিডিও :   তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

রান্নাঘরের মেঝেতে হঠাৎ কুমির, আতঙ্কে গৃহিণী

মাঝ রাতে একটি রান্নাঘরের মেঝেতে ১১ফুট লম্বা এক কুমির দেখে ওই ঘরে অবস্থানকারী নারী আতঙ্কিত হয়ে পরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গত রাত সাড়ে তিনটায় এ ঘটনা ঘটে। মেরি উইসুচেন নামের ওই নারী রান্না ঘরে কিছু একটা পড়ে যাচ্ছে এমন শব্দ শুনে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। উঠে দেখতে গেলেন কী হয়েছে, যা দেখলেন তা ছিল যেন দুঃস্বপ্নের চেয়েও বেশি। রান্নাঘরের মেঝেতে চড়ে বেড়াচ্ছে ১১ফুট লম্বা এক কুমির। বিশাল লেজের আঘাতে জিনিসপত্র উল্টেপাল্টে ফেলছে, আর যেন ক্রদ্ধ হুঙ্কার করছে। এর আগে কুমিরটি রান্নাঘরের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেছে। ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরে যান মেরি। কিন্তু হুশ যায়নি তার, তিনি ফোন দেন ৯১১ এ, এরপর ফোন দেন পরিবেশ বিভাগে। ক্লিয়ারওয়াটার পুলিশ জানিয়েছে, কুমিরটি একটি পুরুষ কুমির। তাদের ধারণা কাছাকাছি কোন কুমির প্রজনন কেন্দ্র বা চিড়িয়াখানা থেকে হয়তো পালিয়ে এসেছে। পরে স্থানীয় একজন শিকারিকে খবর দিয়ে আনা হয়। তিনি জালে আটকে কুমিরটিকে ধরে স্থানীয় এক চিড়িয়াখানার পরীক্ষাগারে দিয়ে আসেন। কিন্তু বেরিয়ে যাবার আগে কুমিরটি মেরির ওয়াইন র্যাক উল্টে ফেলে। কুমিরটি এক ঘণ্টা ছিল মেরির বাড়িতে। তবে এ সময় কেউ হতাহত হয়নি। ফ্লোরিডায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কঠোর আইন থাকায় প্রাণ সংশয় না হলে কেউ প্রাণী হত্যা করতে পারেনা, যে কারণে সেখানে কুমিরের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে প্রায়ই রাস্তাঘাটে এবং মানুষের বাড়িতে চলে আসে কুমির। ফ্লোরিডায় কেবল ২০১৮ সালেই আট হাজারের বেশি কুমির মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তবে কুমিরের আক্রমণে অনেক সময় মানুষের আহত এবং নিহত হবার খবরও পাওয়া যায়। যদিও সে সংখ্যা আনুপাতিক হারে উদ্বেগজনক নয়। গত জুনে এক বাড়িতে কুমিরের আক্রমণে মারা যান একজন নারী। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে মাত্র ২২জন মানুষ মারা গেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কাঠের বাড়ি

কাঠের বাড়ি। শত হাজার কারুকার্য বা বাহারি বিচিত্র ঢং নিয়ে ঐতিহ্যের প্রমত্যভাবে বয়ে চলছে কাঠের বাড়ি।পাহাড়ি অঞ্চল, শীত প্রধান অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে কাঠের নানা রকমের বাড়ি দেখা যায়। অনেক সময় আধুনিকতার একটু ছোঁয়ায় এ কাঠের বাড়ি হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের এক অন্যান্য নির্দশন। ছোট ছোট কক্ষের সমন্বয়ে এক তলা, দ্বিতলা, ৩য় তলা কাঠের ঘরের সঙ্গে আমরা কম বেশি পরিচিত। তবে কাঠের বাড়ি বা ঘরের উচ্চতা যদি হয় ১৮ তলা তাহলে চোখ তো কপালে উঠার দশা। কিন্তু এমনই ঘটেছে নরওয়েতে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আধুনিক বহুতল এ কাঠের বাড়ি। মিয়োসা হ্রদের তীরে ১৮ তলা কাঠের  এ বাড়িটির উচ্চতা ৮৫ মিটার। নরওয়ের এই বাড়ির মতো পৃথিবীর অন্য কোথাও এমন বাড়ি নেই। এই বাড়ির প্রকল্পটি স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ী আর্তুর বুর্খাটের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। কংক্রিট ও ইস্পাতের বাড়ি নির্মাণের চেয়ে এই বাড়ি নির্মাণে কার্বন কম নির্গমন হয়েছে। ইস্পাত ও কংক্রিটের তুলনায় এই ভবন ৬০ শতাংশ কম সিওটু নির্গমন করে ৷ কাঠ দিয়ে অনেক কিছু নির্মাণ করা যায়। এমন জটিল ও বহুতল ভবনও নির্মাণ করা সম্ভব কাঠ দিয়ে। এমনটি বলছিলেন প্রকল্প প্রধান আর্তুর বুর্খাটে। এ বাড়ির বাসিন্দা লাইফ আটলে ভিকেন বলেন, ‘কাঠের ঘরে থাকার মজাই আলাদা। এই ঘরের চারিপাশে কাঠের সংস্পর্শ রয়েছে। কাঠের উষ্ণ তাপমাত্রায় বিশেষ এক অনুভূতির মধ্যে এখানে বসবাস করা যায়।’ কাঠের ঘরে থাকলে মনে হয় যেন ঘরটা জীবন্ত। অন্যদিকে কংক্রিটের ঘরে থাকলে জড়বস্তু মনে হয় বলে মন্তব্য করেন বাড়ির অন্য এক বাসিন্দা। বহু বছরের মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে এই ভবনটিকে তীব্র বাতাস ও চরম আবহাওয়ার ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণে পারদর্শী একটি কোম্পানি বাড়িটি ডিজাইন করেছে৷ প্রকল্পের সমন্বয়ক ও্যস্টেন এলিগসাস বলেন, এ কাজটা আমাদের জন্য নতুন ছিল। কঠোর পরিশ্রম ও র্নিঘুম রাত কাটানোর পর আমরা এটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এত উঁচু ভবন তার উপর সব হালকা উপকরণ, এটা আমাদের জন্য সমস্যা ছিল। উপরন্তু উপত্যাকায় ধমকা হওয়ার জোড়াজুড়িতে ভবনটি হেলে পড়ার ভয় ছিল।’ এই কাঠের ভবনের ভর সামলাতে ভবনের স্তম্ভগুলোকে মাটির অনেক গভীরে বসানো হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও বড় বিষয় ছিল ৷ মোটা কাঠের স্তম্ভগুলি এমনকি ইস্পাতের তুলনায় আরও বেশিক্ষণ আগুনের শিখা সামলাতে পারে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে এটাও বড় সুবিধা ৷ হোটেল ও সম্মেলন কক্ষও রয়েছে কাঠের এ বহুতল ভবনে। বহুতল এই কাঠের ব্যতিক্রমী মিয়োসা টাওয়ারকে ভবিষ্যতের ফ্ল্যাটবাড়ির ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে৷ বাড়িটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের প্রতীক মনে করেন প্রকল্প সমন্বয়ক। ভবিষ্যতে নির্মাণের ক্ষেত্রে কাঠ পরিবেশবান্ধব উপকরণ হতে পারে৷ এমএস/কেআই

মন্দিরে ইফতার! (ভিডিও)

ভারতের অযোধ্যার বাবরি মসজিদ তথা রাম মন্দির নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এই বিতর্ক নিয়ে সেখানে ঝড়েছে অনেক প্রাণ। তবু সেই বিতর্কের শেষ নেই। সম্প্রতি মজানের পবিত্র মাসে সম্প্রীতির নয়া নজির দেখল বাবরি বিধ্বস্ত অযোধ্যা। ধর্মের বেড়াজাল ভেঙে সোমবার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ অযোধ্যার সীতারাম মন্দির চত্বরে বসে ইফতার করলেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত গণমাধ্যমকে জানান, এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে এই মন্দিরে। ভবিষত্যেও করা হবে। প্রত্যেক ধর্মের উৎসব এভাবেই প্রত্যেকের সমান উৎসাহের সঙ্গে পালন করা উচিত। মন্দির কর্তৃপক্ষের এই ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত রীতিমত খুশি স্থানীয় মুসলিমরা। অবশ্য এই নজির নবরাত্রিতেও দেখা যায় অযোধ্যায়। স্থানীয় মসজিদে পালন করা হয় নবরাত্রি। ধুমধাম করে সব রকম রীতি মেনে নবরাত্রি পালনে হিন্দুদের সঙ্গেই মেতে ওঠেন সেখানকার মুসলমানরা। ভিডিও এমএইচ/

কিভাবে মাপা যায় মহাকাশের তাপমাত্রা?

মহাকাশ শব্দটি ভেবে চোখ বন্ধ করলেই বিশাল শূন্যতা দেখতে পাই। যে শূন্যতার কোন শেষ নেই। নানান রহস্য। কিন্তু একটা বিষয় সব সময়ই যেন পাশ কাটিয়ে যায়। সেটা হলো মহাকাশের তাপমাত্রার পরিমাপ। বিষয়টি নিয়ে নিরন্তন আলোচনা না হলেও পরিবর্তনশীল বিশ্বব্রাহ্মণ্ডে অন্য সব কিছুর মতোই তাপমাত্রাও বিবর্তনের (এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে যাওয়া বা স্তরান্তর হওয়া) পথে। বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে বিশদ গবেষণা করে বিশ্লেষণ করেছেন। এখনও চলছে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা। একটা বিশাল প্রশ্ন মাথায় আসে, কিভাবে মাপা হয় মহাকাশের তাপমাত্রা, কিভাবে এর পরিমাপ করা সম্ভব? মুহূর্তেই মাথায় আসে একটাই নাম থার্মোমিটার। এর সাহায্যেই না আমরা আমাদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করি। অসুস্থ হলে, গায়ে জ্বর এলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়৷ জড় বস্তুর ক্ষেত্রে তার উপাদানের কণার গতির উপর তাপমাত্রা নির্ভর করে৷ যেমন পানি৷ পানির অণুর গতি অত্যন্ত কম হলে তা বরফে রূপান্তরিত হয়৷ গতি বেড়ে গেলে ঘূর্ণায়মান কণাগুলির মধ্যে সংঘাত ঘটে এবং উত্তাপ সৃষ্টি হয়৷ পানি তখন তরল হয়ে যায়৷ কণার গতি আরও বেড়ে গেলে পানি ফুটতে শুরু করে৷ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক বিকিরণকে থার্মোমিটার হিসেবে ব্যবহার করেন৷ সেগুলির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত কম, তার উৎসস্থান ততই উষ্ণ হয়৷ বিগ ব্যাং। এটা একটা আদি বিস্ফোরণ যা বেশ প্রচলিত এক সংজ্ঞা। এটা নাকি ১৪০০ কোটি বছর আগে বিশাল এক বিস্ফোরণের ফলে এ বিশাল মহাকাশের সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় অকল্পনীয় মাত্রার উত্তপ্ত এক গ্যাস। এ গ্যাস থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ ও মহাজাগতিক বস্তুগুলির জন্ম হয়েছিল৷ সে সময়ে নানা রকম তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়েছিল৷ আমাদের সূর্যের মতো নক্ষত্রের অত্যন্ত গতিশীল ও শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে৷ সেই সব ক্ষেত্র কণাগুলির গতি মারাত্মক হারে বাড়িয়ে দিতে পারে৷ ফলে চারিপাশের পরিবেশের তাপমাত্রা কয়েক লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলে৷ ব্ল্যাক হোলের তাপমাত্রা আরও বেশি৷ তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সব উপাদান ও কণা টেনে নিংড়ে নিয়ে বাষ্পে পরিণত করে৷ গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ও গ্রহগুলির মাঝের অংশে প্রায় মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি মাত্রার চরম শীতল তাপমাত্রা বিরাজ করে৷ সেখানে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক ও ধীর গতির কণা রয়েছে৷ ফলে সেগুলির মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও বিরল৷ তাছাড়া বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্প্রসারিত হয়ে চলছে৷ এই সম্প্রসারণের ফলে কণাগুলির মধ্যে দূরত্বও বেড়ে চলেছে৷ দূরত্ব বাড়ার ফলে তাপমাত্রাও কমে চলেছে৷ ইউরোপের প্লাংক নামের স্যাটেলাইট কয়েক বছর আগে সেই শীতল তাপমাত্রা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেছে৷ মহাকাশে ভাসমান টেলিস্কোপের সাহায্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিকিরণ মাপতে ও তা পরীক্ষা করতে পারেন৷ বিকিরণের উৎস, তার ঘনত্ব মেপে তাঁরা উৎসের তাপমাত্রা নির্ণয় করতে পারেন৷ তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে।   এমএস/ এসএইচ/

চাঁদে ভূমিকম্প!

পৃথিবীর মতো সক্রিয় কোনও টেকটনিক প্লেট নেই চাঁদে। তাই ভূমিকম্প হওয়ার কোনও কারণ নেই পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটিতে। কিন্তু সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীদের চোখে চাঁদে ভূমিকম্প হওয়ার চিহ্ন ধরা পড়েছে। শুধু তাই নয় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে চাঁদ ধীরে ধীরে আরও ঠাণ্ডা হচ্ছে। আর এ কারণে এটি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। গত কয়েকশো কোটি বছরে চাঁদের আয়তন ১৫০ ফুট কমেছে বলে গবেষণায় জানা গেছে। নাসার স্যাটেলাইট এলআরও-র পাঠানো ছবি দেখে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। মোট ১২ হাজার ছবির ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। আরও দেখা গেছে যে চাঁদের উত্তর মেরুর কাছে লুনার বেসিন মারে ফ্রিগোরিস বেশ খানিকটা সরে গেছে এবং এর গায়ে ফাটলও দেখা গেছে। চাঁদের ছোট হয়ে যাওয়ার কথা নেচার জিওসায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অ্যাপোলো মহাকাশচারীরা ১৯৬০ সাল থেকে এই বিষয়ে গবেষণা করছেন।

জীবন্ত অক্টোপাস খেতে গিয়ে এ কী হাল হল তরুণীর! (ভিডিও)

রেস্তোরাঁয় গিয়ে জ্যান্ত অক্টোপাস অর্ডার করেন এক চীনা তরুণী। জ্যান্ত অক্টোপাস খাওয়াটা ছিল তার বহু দিনের স্বপ্ন! সেই স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত অনেকের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম বেছে নেন তিনি ‘লাইভ স্ট্রিমিং’-এর জন্য। খাবার পরিবেশনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওর মাধ্যমে ‘লাইভ’ হলেন তরুণী। জ্যান্ত অক্টোপাস হাতে তুলে খেতে গিয়েই বিপদে পড়লেন তিনি। নিজের সব ক’টি শুঁরের মতো পা দিয়ে তখন আষ্টেপৃষ্ঠে তরুণীর মুখ জড়িয়ে ধরেছে ওই অক্টোপাস। তরুণীর মুখের প্রায় অর্দ্ধেক অংশ তখন অক্টোপাসের কবলে। যন্ত্রণায়, ভয়ে তখন চিত্কার শুরু করে দিয়েছেন ওই তরুণী! দু’হাত দিয়ে প্রাণপনে অক্টোপাসের কবল থেকে নিজেকে ছাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এ দিকে গোটা ঘটনা তখন ‘লাইভ’ ভিডিওর মাধ্যমে অনেকেই দেখে ফেলেছেন। পরিস্থিতি তখন এমন যে, কোনও রকমে নিজের চোখটুকু বাঁচাতে চাইছেন ওই চীনা ব্লগার। মিনিট খানেকের রুদ্ধশ্বাস টানাটানির পর শেষমেশ অক্টোপাসের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন ওই চীনা ব্লগার। তবে তত ক্ষণে তার গালের একটা অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে আর সেখান থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করেছে। জানা গেছে, চীনের ফটো শেয়ারের অ্যাপ্লিকেশন ‘কুয়াশিউ’-এ (Kuaishou) লাইভ স্ট্রিমিং করছিলেন ওই তরুণী। এই ঘটনার ভিডিওটি এখন রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ডেইলি মেল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পর তিনি আর কখনওই অক্টোপাস খাবেন না বলে জানিয়েছেন। এই অক্টোপাসটিকেও যে তিনি খাননি, তা সহজেই অনুমান করা যায়! অক্টোপাস সাধারণত আত্মরক্ষার জন্য বা শিকার ধরার ধরার জন্য এই ভাবে তার ৮টি শুঁরের মতো পা ব্যবহার করে। এই ভিডিও দেখে অনেকেরই অনুমান, খাদকের হাত থেকে বাঁচতে শেষমেশ পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছিল ওই অক্টোপাস। ভিডিও তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

কুকুরের প্রতি বিরল ভালোবাসা

ট্রেনের নীচে পড়ে পিছনের দু’টি পা চলে গিয়েছিল ছোট্ট কুকুরছানাটির। চিকিৎসকেরা আশা দেখেননি। কিন্তু হাল ছাড়েননি এক জন। গত তিন মাস ধরে চিকিৎসা করে পথকুকুরটিকে শুধু প্রাণেই বাঁচাননি, তার জন্য বানিয়েছেন আস্ত ‘ওয়াকিং ট্রলি’। দু’চাকাওয়ালা সেই ট্রলি নিয়েই এখন মহানন্দে ঘুরছে পাঁচ-ছ’মাসের কুকুর ‘তৈমুর’। গত ৭ জানুয়ারি ভারতের ইছাপুর স্টেশনের কাছে ট্রেনের নীচে পড়ে গিয়েছিল তৈমুর। তখন সে মাত্র দেড় মাসের। পিছনের দু’টি পা-ই কাটা পড়ে। ব্যারাকপুর পশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পায়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও সে বাঁচবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। এর পরে উদ্ধারকারীরা খবর দেন শ্যামনগরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ গোস্বামীকে। গত ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা পশু-পাখিদের চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলাই তার নেশা। গুরুতর জখম তৈমুরকে বাঁচানোটাই তখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় পেশায় পিয়ানো শিক্ষক প্রসেনজিৎবাবুর কাছে। তার দাবি, ‘‘প্রথমে ওর অবস্থা দেখে আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। ব্যারাকপুর হাসপাতাল ওর পায়ে চট সেলাই করার মতো করে সেলাই করেই ছেড়ে দিয়েছিল। পায়ের কিছু হাড়ের অংশ বাইরে বেরিয়ে ছিল।’’ ওই অংশ থেকে গ্যাংগ্রিন হওয়ার ভয় ছিল। প্রসেনজিৎনিজেই ওর পরিচর্যা করেন। তার দাবি, ‘‘৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এই কাজ করেছি। ঝুঁকি ছিল, কিন্তু না হলে ওকে বাঁচানো যেত না।’’ তৈমুরকে সুস্থ করতে চিকিৎসায় খামতি থাকেনি। কিন্তু শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি বছর একান্নের প্রসেনজিৎ। ‘‘আড়াই মাস পরে যখন ও অনেকটাই সুস্থ, মনে হয় আর পাঁচটা বাচ্চার মতো ওকে হাঁটাব। কেনই বা ও একটা ছোট্ট ঘরে বন্দি হয়ে থাকবে!’’— বলছেন তিনি। সেই মতো ইন্টারনেট ঘেঁটে কুকুরদের জন্য ওয়াকিং ট্রলির নকশা তৈরি করেন তিনি। তৈমুরের শরীরের দৈর্ঘ্য, ওজন সব কিছু দেখে কাঠ, অ্যালুমিনিয়াম শিট, বেল্ট, প্লাইউড দিয়ে নিজেই বানিয়ে ফেলেন আস্ত ওয়াকিং ট্রলি! পিছনের পা দু’টি যাতে মাটিতে ঘষে না যায়, সে জন্য পা রাখার ব্যাগও রাখেন তাতে। দুর্ঘটনার ঠিক তিন মাস ২২ দিনের মাথায়, গত বুধবার ওই ওয়াকিং ট্রলি উপহার পায় তৈমুর। নতুন ট্রলি পেয়ে কেমন আছে তৈমুর? শ্যামনগরের রথীন ভৌমিক বলছেন, ‘‘ও খুবই উত্তেজিত। তবে চাকা দিয়ে হড়হড় করে এগিয়ে যাচ্ছে বলে একটু ভয়ও পাচ্ছে। এখনও ছোট তো!’’ দুর্ঘটনার পরে রথীনবাবুই তৈমুরকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পর থেকে তার আবাসনের একতলাতেই আশ্রয় পেয়েছে তৈমুর। ওই আবাসনের কেয়ারটেকার ওর দেখভাল করেন। আর প্রসেনজিৎবাবু বলছেন, ‘‘এক জায়গায় কুঁইকুঁই করে কাঁদত। সেই জায়গা থেকে খুশিমতো হেঁটেচলে বেড়াচ্ছে, এটা যে কী তৃপ্তি বলে বোঝানো যাবে না।’’ কিন্তু ছোট্ট তৈমুর বড় হয়ে যাওয়ার পরে কী হবে? প্রসেনজিৎবাবু জানাচ্ছেন, প্রতি ছ’মাস অন্তর তৈমুরের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ট্রলির মাপ বদল করে দেওয়া হবে। যেখানে এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে ১৬টি কুকুরছানা পিটিয়ে মারা বা বেহালায় পথকুকুরের গায়ে অ্যাসিড মারার ঘটনা ঘটে, সেখানে পথকুকুরের জন্য প্রসেনজিৎবাবুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেনদের একাংশ। ফেসবুকে একটি গ্রুপে তৈমুরের ট্রলি সংক্রান্ত পোস্ট ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। তবে ভ্রূক্ষেপ নেই ছোট্ট তৈমুরের। নতুন ঠিকানার চৌহদ্দিতে ওয়াকিং ট্রলি নিয়ে খোশমেজাজে হেঁটে বেড়াচ্ছে সে। তথ্যসূত্র: আনন্দাবজার এমএইচ/

ঘূর্ণিঝড়ের অনেক আগেই আভাস পায় এই পাখি!

গোল্ডেন উইং ওয়ার্বলার নামক পাখিকে নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা এক আশ্চর্যজনক তথ্য পেয়েছেন। এই পাখিরা নাকি ঘূর্ণঝড়ের অনেক আগেই এ সম্পর্কে আভাস পেয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের   মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ইকোলজিস্ট আসলে গোল্ডেন ওয়ার্বলার পাখির মাইগ্রেশন প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তখনই এই পাখিগুলোর এই গুণের কথা সামনে আসে। এই পাখিগুলো সাধারণত ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য হয়। ওজনে ৭ থেকে ১২ গ্রাম। মূলত মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকাতেই এদের দেখা যায়। তবে ভারতেও ওয়ার্বলার রয়েছে। সেগুলো অবশ্য গ্রিন ওয়ার্বলার। এই পাখিগুলো সারা শীত মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকায় কাটায়। ডিম পাড়া এবং সন্তান প্রতিপালনের জন্য উত্তর-পূর্ব আমেরিকার আপ্পালাচিয়ানসের গ্রেট লেকে চলে যায়। ফের ফিরে আসে। মাইগ্রেশন প্যাটার্ন পর্যালোচনার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ আমেরিকার টেনেসির এক ঝাঁক ওয়ার্বলারের উপর পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন। তাদের অবস্থান জিয়োলোকেটর দিয়ে নজর রাখা হচ্ছিল। টেনেসিতে পৌঁছে অবাক হয়ে যান বিজ্ঞানীরা। ওই এলাকা সে সময় প্রচুর ওয়ার্বলারে ভরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে এলাকা ফাঁকা ছিল। কোনও এক অ়জ্ঞাত কারণে তারা এলাকা ছেড়ে ৯০০ মাইল দূরে চলে যায়। এই অদ্ভুত আচরণের কারণটা কিছু দিন পরেই আঁচ করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্বলাররা টেনেসি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরই টর্নেডো আসে সেখানে। মারা যান ৩৫ জন মানুষ। টর্নেডোর প্রভাব কেটে যাওয়ার কয়েক দিন পরই আবার তারা ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, টর্নেডোর জন্যই আগাম চলে গিয়েছিল পাখিগুলো। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের অনেক আগে কী ভাবে ঝড়ের কথা জেনে ফেলে পাখিগুলো? ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফির তথ্য বলছে, ঝড় থেকে এক প্রকার ইনফ্রাসাউন্ড বার হয়। সেই ইনফ্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক এতটাই কম যে মানুষ সেটা শুনতে পায় না। কিন্তু ওয়ার্বলার সেটা শুনতে পায়। অনেক দূর থেকেই তাই ঝড়ের আঁচ করে নেয় তারা। তাই সহজেই টর্নেডো এড়াতে পেরেছিল ওই গোল্ডেল উইং ওয়ার্বলাররা। এই তথ্য অবশ্য শুধুমাত্র গোল্ডেন উইং ওয়ার্বলারের উপর প্রযোজ্য বলেই জানা গিয়েছে। এই ভাবেই ভারতের গ্রিন ওয়ার্বলাররাও ফণীর পূর্বাভাস পেয়ে গিয়েছিল কি না তা জানা যায়নি। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ

খাবার ভেবে টাকা খেয়ে নিল পোষ্য!

ছোট্ট কুকুর ওজি। দুষ্টুমিতে তার জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি সে এমন এক দুষ্টুমি করেছে, যা নিয়ে আলোচনায় মেতেছে নেট দুনিয়া। পোষ্যের এই দুষ্টুমির জেরে তার মালিকের এখন মাথায় হাত। ওজিকে নিয়ে ব্রিটেনের নর্থ ওয়েলস এলাকায় থাকেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি তার বাড়ির লেটারবক্সে এসেছিল একটি খাম। ওই ব্যক্তি বাড়ি না থাকায় লেটার বক্সে খাম দেখে ওজি মুখে করে তুলে নিয়ে চলে যায় ঘরে। কিন্তু খামের ভিতর কী আছে তা জানতে বোধহয় ওজি একটু বেশিই আগ্রহী হয়ে পড়েছিল। তাই দাঁত দিয়ে সেই খাম টুকরো টুকরো করে। খামের ভিতর ছিল ২০ ইউরোর আটটি নোট। খাম ছেঁড়ার ফলে টুকরো টুকরো হয়ে যায় সব নোটগুলি। ভারতীয় মুদ্রায় ওই নোটের বাজার মূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা। বাড়ি ফিরে ওজির এই কাণ্ড দেখে মালিকের মাথায় হাত। আর্থিক ক্ষতি নয়, তখন তাঁর চিন্তা ওজিকে নিয়ে। নোট পেটে চলে গিয়েছে এই আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি ওজিকে নিয়ে যানচিকিৎসকের কাছে। সেই মারফি অ্যান্ড কো ভেটেনারি প্রাকটিস তাদের ফেসবুক পেজে ছবি-সহ গোটা বিষয়টি আপলোড করে। তার পরই ভাইরাল হয়েছে পোস্টটি। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

মানুষের আদিম প্রজাতির সন্ধান মিলল তিব্বতের সুউচ্চ গুহায়

তিব্বতের অত্যন্ত উঁচু স্থানে মানুষের আদিম একটি প্রজাতি ‘ডেনিসোভান’দের বসবাসের প্রমাণ মিলেছে। চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা একমাত্র বর্তমান মানব প্রজাতি- হোমো স্যাপিয়েন্স-এর সঙ্গেই এটি যুক্ত ছিল। আধুনিক মানুষের প্রাচীন এই পূর্বপুরুষ থেকে একটি জিন বর্তমান প্রজাতিতে এসেছে যার মাধ্যমে আধুনিক মানুষ অনেক উঁচু কোনও স্থানে টিকে থাকার ক্ষমতা পেয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার’-এ। ডেনিসোভানরা ছিল মনুষ্য প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি রহস্যময় প্রজাতি, যারা এখনকার আধুনিক মানুষের আগে এশিয়ায় বসবাস করতো। ধারণা করা হয়, হাজার বছর আগে তারা পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে পর্যন্ত সাইবেরিয়ার ডেনিসোভা গুহাতে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে হাড় ও দাঁতের কিছু নমুনায় এই প্রজাতি সম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু সেখান থেকে পাওয়া ডিএনএ থেকে জানা যায় যে এরা মানবজাতির একটি স্বতন্ত্র শাখা ছিল। এখন বিজ্ঞানীরা অন্য একটি সাইট থেকে প্রথম ডেনিসোভা জীবাশ্ম চিহ্নিত করলো। ১৯৮০ সালে তিব্বতের মালভূমিতে ৩ হাজার ২৮০ মিটার উচ্চতায় বৈশিয়া কার্স্ট গুহাতে পাওয়া যায় নিচের ডেনিসোভা প্রজাতির নিচের চোয়ালের হাড়। কার্বন টেস্টের বদলে ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিং করা হয় অস্থিগুলোর বয়স বের করার জন্যে। চোয়ালের হাড়গুলো প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বছরের পুরনো বলে জানা যায়। এই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক যিনি জার্মানির লিপজিগের বিবর্তনবাদী নৃতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটে কাজ করেন, জিন জ্যাকস হাবলিন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এতটা উঁচুতে মানুষের আদি প্রজাতির বসবাসের প্রমাণ পাওয়াতে। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা বর্তমান মানুষের আদি প্রজাতি নিয়েনডারথাল বা ডেনিসোভা নিয়ে গবেষণা করেছি তখন দেখা গেছে যে তাদের চরম পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি ছিল না ‘ তিব্বত মালভূমিতে পাওয়া ডেনিসোভান সাইট সম্পর্কে হাবলিন বলেন, ‘এটি একটি মালভূমি এবং অবশ্যই সেখানে বাস করার মতো প্রচুর সম্পদ ছিল, আর তারা শুধু মাঝে মাঝে আসতো এমনও নয়।’ গবেষকরা এই জীবাশ্মে সংরক্ষিত কোনও ডিএনএ-র খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তখন তারা ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রোটিন সংগ্রহ করেন। সেই কৌশলকে বলা যেতে পারে প্রাচীন প্রোটিন বিশ্লেষণ। গবেষণা পত্রটির আরেক লেখক ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের ফ্রিডো ওয়েলকার বলেন, ‘আমাদের প্রোটিন বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্য বলে যে, নিচের চোয়ালের হাড়টি হোমিনিন গোত্রের কারো যারা ডেনিসোভা গুহা থেকে প্রাপ্ত ডেনিসোভানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল।’ এই আবিষ্কারটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় যে, ডেনিসোভা গুহাবাসীদের এমন একটি জিন ছিল যা জাইপোক্সিয়া বা অধিকতর উচ্চতায় অক্সিজেনের অভাবের বিরুদ্ধে কাজ করে। এতদিন এটি ঘিরে একটি রহস্য ছিল কেননা সাইবেরিয়ার গুহাটি সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার উচ্চতায়। এখনকার দিনে শেরপা, তিব্বতি এবং এ অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠীরও একই ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা কি না হোমোসাপিয়েন্সরা হাজার হাজার বছর আগে ডেনিসোভানদের সঙ্গে মিশে গিয়ে অর্জন করেছিল। প্রকৃতপক্ষে এই জিনগত বৈচিত্র্যটি ইতিবাচক প্রাকৃতিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এসেছে। সূত্র: বিবিসি একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি