ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৫২:০৫, বুধবার

ড. কামাল আ.লীগের পক্ষে কাজ করেছেন: নাসিম

ড. কামাল আ.লীগের পক্ষে কাজ করেছেন: নাসিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত নেতা ব্যর্থ কামাল হোসেনকে ভাড়া করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে সামনে দাঁড় করালেন। ওরা কামাল হোসেনকে ভাড়া করলেন। আর তিনি কাজ করলেন আমাদের জন্য। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করিয়ে দিলেন আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। সমস্ত মাঠ খালি হলে গেলো, ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে বিএনপির মুরোদ। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপি হেরে গেছে। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। ওরা মাত্র কয়েকজন সংসদে বসে আছে। ওদের জীবনের পাতায় পাতায় ভুল। আমার বিএনপির বন্ধুরা বারবার ভুল করেছেন। ২০১৪ সালে একবার ভুল, গোস্যা করে নির্বাচনে এলেন না। অবরোধ করে জ্বালাও পোড়াও করলেন। তখন আমরা যেই ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম, মনে করলেন এটা কী হলো! তিনি বলেন, ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচন এলো। তারা লোক ভাড়া করলো। কাকে করলো? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত নেতা, অত্যন্ত শিক্ষিত ও বিদগ্ধ নেতা। আওয়ামী লীগে চক্রান্ত করে ব্যর্থ হওয়া কামাল হোসেনকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করালেন। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করিয়ে দিলেন আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। সমস্ত মাঠ খালি হলে গেল, আমার নিজের এলাকায় তাদের খুঁজেই পাইনি। খেলা যদি ফাঁকা মাঠে হয় কী করবো? ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। তারা মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেলো। এভাবে আমরা বারবার গোল দেবো ইনশাআল্লাহ। এই যে ভুলের রাজনীতি তারা করে, এই ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাবেক এই সাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা বারবার হেরে গেছেন। ভোটে নেমে মাঠ থেকে পালিয়ে গেলেন। আপনাদের দিয়ে কিছু হবে না। আপনারা খেলতেও জানেন না। খেলা পরিচালনাও করতে জানেন না। আন্দোলন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। এসি  
বর্ণিল আয়োজনে আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ইতিহাস ও গৌরবের একটা সমুজ্জল নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রতিটি পদচারণায় যার সংগ্রাম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পূর্ণ মুক্তির স্নিগ্ধতা জড়িয়ে রয়েছে। যে দলের হাত ধরেই বাংলাদেশে স্বাধীনতা রচিত হয়েছে। দেশের জনমানুষের কথা বলার একমাত্র এ প্লাটফর্মই মানুষের আস্থার ঠিকানা। যে ঠিকানায় নির্ভিঘ্নে দেশ তথা বিশ্ববাসী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সেই কবে থেকে। এ আওয়ামী লীগেরই আজ ৭০ জন্মদিন। এ জন্মদিন শুধু একট দলেরই জন্মদিন নয়, বাঙ্গালির অস্তিত্বের পূর্ণ আবেশ। আওয়ামী লীগের জন্মদিন তথা ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বহূরূপী সাজে সজ্জ্বিত হয়েছে দেশ। রাজধানীজুড়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, অর্জন-সাফল্যের বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বার এবং দেশের চারবারের ক্ষমতাসীন এ দলটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যে ভবনে এ দলের সূচনা হয়েছিল পুরান ঢাকার সেই রোজ গার্ডেন হয়ে নবাবপুর রোড থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীজুড়ে আলোকসজ্জা ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডের মাধ্যমে রাজধানী এক অনন্য মাত্রায় সেজে উঠেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে মাসব্যাপি নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, রাজধানীজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জাসহ প্রধান প্রধান সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে সজ্জ্বিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এসব কর্মসূচি সফল করার জন্য দলের নেতারা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ নিজেদের মধ্যে কয়েক দফায় বৈঠকে অংশ নেন। রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, স্বাধীনতার সারথী এ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা ঢাকাকে দলটির উজ্জ্বল অর্জন এবং গৌরবের অবস্থান প্রকাশে সড়কের আইল্যান্ড, সড়কের দুইপাশ, লাইট পোস্টে রঙিন আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছবি সংবলিত ফেস্টুন রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থান পেয়েছে। অনেক বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে এক ঝলকেই দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য অর্জন।  এছাড়াও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লড়াই সংগ্রামের অনবদ্য কাণ্ডারি জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকসহ জাতীয় চার নেতার ছবি ঠাঁই পেয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সোনালি অর্জন-সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছবি এবং ছোট ছোট উন্নয়ন স্লোগান সংযুক্ত করা হয়েছে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে ছবি ব্যবহারে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয় দলের পক্ষ থেকে। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সজ্জায় বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রতিষ্ঠালগ্নের নেতারাসহ জাতীয় চার নেতাদের ছবিই স্থান পেয়েছে। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এ দলটি ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে ৭১ তম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। ৪৭ এ ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তানের অন্যায় অবস্থান ও নিপিড়নের বিরুদ্ধে একমাত্র কাণ্ডারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি এ দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, জন্মলগ্নে এই দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। জন্মলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব  পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। এমএস/

গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছরে আওয়ামী লীগ

দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মলগ্নে এ দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। জন্মলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ। যার প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের শুধু প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারাও। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়। অব্যাহত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার তরুণ সংগ্রামী জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়ে কারান্তরালে থেকেও ভাষা আন্দোলনে পালন করেন প্রেরণাদাতার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের পটভূমিতে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের হয় শোচনীয় পরাজয়। পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিত করে এক মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ। আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই মাতৃভাষা বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন ‘শহীদ দিবস’। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি। মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে জনগণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর আইয়ুবের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ভাষণ ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অভ্যুদ্বয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির স্বতন্ত্র জাতি-রাষ্ট্র ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সুমহান ঐতিহ্যের প্রতীক। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বঙ্গবন্ধুর সরকার স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তায় ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নবউদ্যামে সংগঠিত হয়। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক নবতর সংগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় অনেক অশ্রু, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা, রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ এবং সাবমেরিনের মালিকানা অর্জনের মধ্য দিয়ে জল-স্থল-মহাকাশ জয় করেছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও সংগ্রামের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ বাঙালি জাতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার মূলে রয়েছে জনগণের এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব। জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস জনগণ, শক্তির উৎস সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের সাহসী মিছিলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জনগণের ভেতর থেকে উত্থিত একটি প্রগতিশীল সংগ্রামী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ হচ্ছে সমাজের অগ্রসর চিন্তা-চেতনা, আদর্শ, লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রবাহিনী। নেতা-কর্মীদের ইস্পাতদৃঢ় মনোবল এবং ঐক্যবদ্ধতার ফলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, কোনোদিন হবেও না। আওয়ামী লীগের নিযুত নেতাকর্মীরা আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সাত দশকের লড়াই-সংগ্রামের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এমএস/

ছাত্রদল থেকে ১২ জনকে বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ জন নেতাকর্মীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শনিবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এর আগে বয়সসীমা নির্ধারণ না করে ধারাবাহিক ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দাবিতে এসকল নেতাকর্মী শনিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিম্ন বর্ণিত নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নেতারা হলেন- ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন, ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক এবং সদস্য আজীম পাটোয়ারি। এমএইচ/  

সাত দশকে আওয়ামী লীগের অর্জন

২৩ জুন ২০১৯ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অর্জন অনেক। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে কোন স্বাধীন ভূখণ্ড ছিল না। আওয়ামী লীগ অতুলনীয় রাজনৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন বিশ্বমানের একজন নেতা তৈরি করেছে। বিশ্ব রাজনীতির হাজার বছরের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতার একক নেতৃত্বে মাত্র ২২ বছরের কম সময়ের মধ্যে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার কোনো দ্বিতীয় নজির নেই। শেখ মুজিব তার ৪ দশকের রাজনৈতিক জীবনে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আওয়ামী লীগের ৭০ বছরকে মোটা দাগে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পুরোভাবে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। মাঝখানে ৬ বছর বাদ দিয়ে ৩৮ বছর ধরে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পিতা ও কন্যার মধ্যে আওয়ামী লীগে কার অবদান বেশি- সেই বিচারের ভার ইতিহাসের। তবে এটুকু বলতে পারি, কঠিন চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে ৭০ বছরের আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে আনতে নিঃসন্দেহে পিতা-কন্যাই সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বলা যায়, একে অপরের পরিপূরক। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যথার্থই বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। আর দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।’ এটা ঠিক, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনাকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ গঠনের পর থেকেই পশ্চিমা শোষক, শাসক ও পাকিস্তান সামরিক চক্র এ দলের বিরোধিতা করে আসছে। পাকিস্তানের ২২ বছরে প্রায় ১২ বছর শেখ মুজিবকে জেলে অন্তরীণ রাখা হয়। শুধু পূর্ব বাংলার মানুষের পক্ষে ন্যায্য কথা বলার জন্য শেখ মুজিবকে দু’বার ফাঁসির মঞ্চে যেতে হয়েছে। শেখ মুজিব তার কঠিন রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন আত্মগোপনে যাননি। তিনি যে কতবার গ্রেফতার হয়েছেন, এর সঠিক হিসাব এ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি। জেলে যাওয়ার জন্য একটি ছোট্ট বেডিং সব সময়ই রেডি থাকত। জেলখানাকে বলা হতো মুজিবের দ্বিতীয় বাসভবন। বাংলা ও বাঙালির দুঃখী মানুষের নেতা শেখ মুজিবের কোন পারিবারিক জীবন ছিল না। জেল থেকে বের হয়ে নৌকায়, সাইকেলে ও হেঁটে সারা বাংলা ঘুরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের চাটুকার গভর্নর মোনায়েম খান প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি যতদিন গভর্নর থাকব, শেখ মুজিব ততদিন সূর্যের মুখ দেখতে পারবে না।’ অর্থাৎ মুজিবকে জেলের ভেতরেই থাকতে হবে। মোনায়েম খান এমন কথাও বলেছিলেন, ‘কোন সরকারি কর্মকর্তা শেখ মুজিবের মেয়েকে বিয়ে করলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।’ কিন্তু ফাঁসির মঞ্চে নিয়েও সাহসের বরপুত্র শেখ মুজিবকে দমাতে পারেনি। আসলে শেখ মুজিবের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন করবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কামিয়াব হন। তরুণ নেতা শেখ মুজিবসহ অন্য নেতারা পাকিস্তান সৃষ্টির অব্যবহিত পরেই বুঝে ফেলেন, এ অদ্ভুত আকৃতির দেশ দীর্ঘকাল টিকে থাকবে না। ১৯৪৯ সালের ১৮, ১৯ ও ২০ জুন পূর্ববঙ্গ মুসলিম লীগের দ্বিতীয় কাউন্সিলে মুসলিম লীগের প্রথম সারির নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান পূর্ব বাংলার নেতাদের একাংশকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। এই সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা ১৯৪৯-এর ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কেএম দাশ লেনে অবস্থিত রোজ গার্ডেন হলরুমে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে একটি সম্মেলনে মিলিত হন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক সম্মেলনে কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সভায় পূর্ব বাংলায় একটি আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমএলএ) শামসুল হক ‘মূল দাবি’ নামক একটি লিখিত পুস্তিকায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, জনগণের প্রত্যাশা ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সারা দেশ থেকে শ’তিনেক প্রতিনিধি ওই সম্মেলনে উপস্থিত হন। এই সম্মেলনেই পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠন করা হয়। মওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়। যুবনেতা শেখ মুজিব কারাগারে থেকেই মাত্র ২৯ বছর বয়সে দলের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটির অন্য নেতারা হলেন- সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান খান, সাখাওয়াত হোসেন (ঢাকা চেম্বারের প্রেসিডেন্ট), আলী আহমদ এমএলএ, অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ খান, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান, ২নং যুগ্ম সম্পাদক খোন্দকার মোশতাক আহমদ, সহ-সম্পাদক- একেএম রফিকুল হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ- ইয়ার মোহাম্মদ খান। কারাগার থেকে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত শেখ মুজিব মুক্তিলাভ করেন জুলাইয়ের শেষ দিকে। জেল থেকে বের হয়ে তিনি বিরাজমান খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেন। মুজিব সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার হয়ে কয়েকদিন পর বের হয়ে আসেন। অক্টোবরে আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন শেখ মুজিব। ১৯৫৩ সালের ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে শামসুল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৮ বছরের মাথায় ১৯৫৫ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দেয়া না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।’ এভাবেই আওয়ামী লীগ স্বায়ত্তশাসন দাবির মাধ্যমে স্বাধীনতার সোপান তৈরি করে। গোড়া থেকেই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় যে শেখ মুজিবের ছিল, তা গণপরিষদের প্রদত্ত তার বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। ২৫ আগস্ট (১৯৫৫) করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে প্রদত্ত বক্তব্যে শেখ মুজিব বলেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটা নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য। এই নাম আপনারা আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ওই নাম পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা।’ এভাবে আইনসভায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের আপনারা আর পূর্ব পাকিস্তানিদের আমরা বলে উল্লেখ করে মুজিব জানান দিলেন, পাকিস্তান এক সময় দুই টুকরা হয়ে যাবে। ওই বছরই (১৯৫৫) ২১ অক্টোবর দলের বিশেষ কাউন্সিলে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কাউন্সিলে শেখ মুজিব দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৭ সালের ৩০ মে শেখ মুজিব পুরো সময় দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। আওয়ামী লীগ আজকে বঙ্গবন্ধু ও দলের সেই আদর্শ থেকে দূরে সরে এসেছে। ওই সময় সিদ্ধান্ত ছিল, যিনি মন্ত্রী হবেন, তিনি দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন না। ১৯৭২ সালে দলের বিশেষ কাউন্সিলে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে দিলে জিল্লুর রহমান সেই পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। মন্ত্রিত্ব ছেড়ে ওই পদে আসেন এএইচএম কামারুজ্জামান। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস। একটি মাত্র নিবন্ধে এই ঐতিহ্যবাহী দল সম্বন্ধে কোনোকিছুই লেখা সম্ভব নয়। আইয়ুবের সামরিক শাসনের বেড়াজালের মধ্যে ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ শেখ মুজিব সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে ৬-দফা দাবি পেশ করেন বাংলার নেতা মুজিব। আওয়ামী লীগ নেতারা ৩ মাসের প্রচারণায় ছয়-দফাকে জনপ্রিয় দাবিতে পরিণত করে তোলেন। এরপর আবার শুরু হলো গ্রেফতার, হয়রানি, নির্যাতন। আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। বেশ কয়েকবার গ্রেফতার ও জামিনে মুক্তির পর ’৬৬-এর ৮ মে রাতে মুজিব, তাজউদ্দীনসহ বড় নেতাদের গ্রেফতার করা হয় দেশরক্ষা আইনে। গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও ছয় দফার সমর্থনে স্বৈর-সামরিক শাসনের মধ্যেই ৭ জুন সফল হরতাল পালন করা হয়। এরপর মুজিবকে হত্যার জন্য নয়া ষড়যন্ত্র করে আইয়ুব-মোনায়েম চক্র। ১৯৬৮-এর ৩ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে এক নম্বর আসামি করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ১৭ জানুয়ারি রাতে বঙ্গশার্দুল মুজিবকে মুক্তি দিয়ে জেলগেটে পুনরায় গ্রেফতার করে সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হয় ১৯ জুন। এ সময় জেলে থেকেই শেখ মুজিব বাংলার মানুষের মুকুটহীন সম্রাটে পরিণত হন। গণঅভ্যুত্থানে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে মুজিবসহ ৩৪ জনকে মুক্তি দেয়া হলো। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা কারাগারে গুলিতে হত্যা করে পাকি সামরিক চক্র। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ লোকের সমাবেশে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ’৬৯-এর ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দীর স্মরণসভায় পূর্ব পাকিস্তানের নামকরণ করেন বাংলাদেশ। ১৯৬৯-এর ২৫ মার্চ আইয়ুবের বিদায়ের পর জেনারেল ইয়াহিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর বড় অর্জন বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশে পরিণত করা। ’৭০-এর ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় ১৬৯ (১৬২+৭) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭ (১৬০+৭) আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টি পায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে ইয়াহিয়ার সামরিক চক্র। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের কামান-বন্দুকের সামনে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ সারা বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানো হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক চক্র বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। ওই রাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করে। শত্রুর হাতে বন্দী বঙ্গবন্ধু মুজিবকেই করা হয় রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবন্ধুর নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তাজউদ্দীন-নজরুলদের যোগ্য পরিচালনায় ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র দশ মাসে জাতিকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য সংবিধান উপহার দেয়। সরকার অল্প সময়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশের স্বীকৃতি আদায় করে। স্বাধীনতার শত্রুরা সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। জিয়ার সামরিক চক্র আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করে। জিয়া, এরশাদ, খালেদা তিনজনই জাতির পিতা হত্যার বিচার বন্ধ, স্থগিত ও আত্মস্বীকৃত খুনিদের পুরস্কৃত করেন। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কামড়াকামড়ির মধ্যে দিল্লি প্রবাসী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ১৭ মে দেশে ফিরে তিন ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর সেনাপ্রধান জিয়া উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। এরপর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির গদি ছিনতাই করে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। ঘাতক সর্দার জিয়া শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা-ষড়যন্ত্রে মদদ দেননি, তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানের দালালদের ক্ষমতায় বসান। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করেন। ইতিহাস একদিন বলবে, মুক্তিযোদ্ধা জিয়া প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী ছিলেন। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা তিনজনই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। এ তিন কুচক্রী মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তানে পরিণত করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা নেতৃত্বে এসে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনেন। জিয়া-এরশাদ তো স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রায় পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তরিত করেছিল। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আসলে জিয়ার বানানো পূর্ব পাকিস্তানেই ফিরে আসেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করে বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগকে ভারতীয় কংগ্রেসের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় কংগ্রেস একাধারে ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল। কংগ্রেসের নেতৃত্বেই ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতাবিরোধী জিয়া চক্র বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাড়ে তিন বছরের মাথায় রাষ্ট্রপিতাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে। শেখ হাসিনা জনক হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা ২০০৮ থেকে পর পর ৩ বার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এনেছেন। যদ্দুর জানা যায়, গণতান্ত্রিক বিশ্বে ভোটের মাধ্যমে এভাবে অন্য কোন নেতা শেখ হাসিনার মতো ৪ বার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়নি।

রাজধানীর পরিবাগের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানী ঢাকায় পরিবাগের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শেলটেকের এক ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাসেল সিকদার জানান, ১৫ তলা ভবনটির ১১ তলায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ টি ইউনিট কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তাও জানা যায়নি বলে জানান এ কর্মকর্তা। তিনি জানান, আগ্নিকাণ্ডের ফলে ফ্লাটে একজন আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ধোঁয়ার কারনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হয়েচ্ছে। স্থানায় বাসিন্দা সৈয়দ তানভীর শিমুল জানান, দুপরের দিকে পরীবাগের ১০ নম্বরের ভবনটি থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে বারান্দায় গিয়ে পাশের ভবনে ধোয়া দেখতে পাই। এরপর দমকলকর্মীরা এসে একজনকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যায়। এমএস/

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন সেলিমা-টুকু

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দীর্ঘদিন থেকে শূন্য থাকা দুই পদে নতুন মুখকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল মাহমুদ টুকুকে শূন্যপদে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত সবশেষ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটিতে কয়েকটি পদ খালি রাখা হয়। এর মধ্যে দুটি পদে তাদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাকিগুলোও পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।   এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রমুখ।

‘বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছেন’

দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই দুটি মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ সরকারের আমলে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আদালতে সরকারের হাত নেই বলেই উচ্চ আদালতও খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। বিএনপি নেতাদের জানতে হবে মামলা কয়টা, জামিন নিয়েছে কয়টা। আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দিতে চাইলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে না। এটি সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আদালত যে কাউকে জামিন দিতে পারে।’ উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার মানহানির দুই মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত মামলা দুটি বিচারাধীন।   এমএস/টিআর

বৈঠকে ফখরুল-মওদুদের বাকযুদ্ধ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাকযুদ্ধে নেমেছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাল্টাপাল্টি প্রশ্ন আর আক্রমনাত্মক বাক্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন একে অপরের ওপর। শেষ পর্যন্ত স্কাইপিতে অংশ নিয়ে বৈঠকের সভাপতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর হস্তক্ষেপে দুইজনের তর্কবিতর্কের বিরতি হয়। তবে উভয়ের ক্ষোভ আর প্রশ্নের উত্তর ও কোন সমাধান বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকের সমাপ্তি হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ক্ষুব্ধ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান, কার সিদ্ধান্তে ভোটবিহীন সরকারের অবৈধ সংসদে যেতে চার এমপি শপথ নিলেন। আবার আপনি এমপি হয়ে কার সিদ্ধান্তে শপথ নিলেন না। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাই ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে স্থায়ী কমিটি বা দলের সংসদীয় বোর্ড কেন জানল না? এতে কি স্থায়ী কমিটিকে অপমান করা হয়নি? আপনি কার ব্যাগ ক্যারি করতে এ সিদ্ধান্ত নিলেন? জবাবে মির্জা ফখরুলও কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, হোয়াট ডু ইউ মিন? যা হয়েছে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেই হয়েছে। তা ছাড়া ব্যাগ ক্যারি করার অভ্যাস আমার নেই, আপনারই আছে। আপনিই তো এরশাদের দল করেছেন। তার ব্যাগ ক্যারি করেছেন। জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আগে কী করেছি, সেটা মূল বিষয় নয়। এখন কী করছি, সেটা দেখার বিষয়।’ এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেই ফেলেন, এভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। আপনারা যদি মনে করেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিই?। এ সময় স্কাইপিতে অংশ নিয়ে বৈঠকের সভাপতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই নেতার তর্কবিতর্ক ‘চুপচাপ’ শুনছিলেন। শেষ মুহূর্তে অবশ্য ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার অঙ্গীকার করে হাসিমুখে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষ হয়। স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, চার এমপির শপথ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দেওয়া, বগুড়া-৬ আসনে জি এম সিরাজকে প্রার্থী করাসহ কয়েকটি ইস্যুতে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন প্রভাবশালী দুই সদস্য। একপর্যায়ে তারা উচ্চবাচ্যও শুরু করেন। বেশ কিছু সময় এ বিতর্ক চলে। পরে অবশ্য স্থাইপিতে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সবশেষে সবাই একমত হন, যে কোনো মূল্যে দলের ঐক্য বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না। এরপর সবাই হাসিখুশি মুখে বেরিয়ে আসেন। স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের তর্ক-বিতর্ক চলার একপর্যায়ে আরেক সদস্য সবার উদ্দেশে বলেন, এর আগে আমরা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না বললেও গিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। ৮৬ সালে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও তা পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতেই পারে। আমরা নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। শপথও নিয়েছি। সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করতেই পারি। কিন্তু আপনি কেন বললেন এটি শুধু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। তিনি যখন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা দলীয় সিদ্ধান্তই বলতে হবে। আবার আপনি শপথ নিলেন না। তাহলে দাঁড়াল কী? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একই বিষয়ে দুটি সিদ্ধান্ত দিলেন? আবার আপনি বললেন শপথ না নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল? এটিও কেন বলতে গেলেন। এ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু কর্মসূচি দেব। তবে এখনই তা চূড়ান্ত হয়নি। আমরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়েই আলোচনা করেছি। আরকে//

প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করেছে গণফোরাম

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে গণফোরাম। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘বাজেট ২০১৯-২০: গণফোরাম-এর মতামত’ শীর্ষক বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বাজেট প্রত্যাখ্যান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্মাদক রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট জনগণের বাজেট নয়, এটি একটি অদূরদর্শী ও দুর্বলভাবে প্রণীত বাজেট। এই বাজেটে দেশের প্রকৃত সমস্যা মোকাবিলার কোনো চেষ্টা নেই।’ এছাড়া বাজেটটি যারা প্রণয়ন করেছে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র ও বেকারত্বের মতো সমস্যা মোকাবিলার কোনো উদ্যোগ নেই। এই বাজেটে দেশের জণগণের স্বার্থহানী ঘটেছে।’ এছাড়া তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে যারা লুটেপুটে খাচ্ছে এবং যারা অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করছে বাজেটটি তাদের সুবিধার জন্য করা হয়েছে।’     এনএম/টিআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি