ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৪৮:১০, বুধবার

চটপটে পাখি ফটিকজল

চটপটে পাখি ফটিকজল

অতি বাহারি রংয়ের পাখি ফটিকজল। এরা অতি শান্ত প্রকৃতির এবং আরাম প্রিয়। চালচলনে অভিজাত ভাব রয়েছে। গ্রামীণ বন ও ঝোপঝাড়ের পাখি ফটিকজল। আকারে চড়ুইয়ের চেয়ে ছোট কিন্তু দারুণ চটপটে পাখি। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি প্রায় একই রকম দেখতে। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই ফটিকজল দেখা যায়।
টক স্বাদের কাউফল

আমাদের দেশ থেকে অনেক ফল হারিয়ে যেতে বসেছে। এর মধ্যে কাউফল হলো একটি। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে  এই ফলের পরিচয় তেমন নেই।  টেনিস বলের মতো গোলাকার আকৃতির। কাঁচা অবস্থায় সবুজ রংয়ের এবং পাকলে হলুদ বা কমলা রং ধারণ করে। স্বাদে টক জাতীয়। বনে-জঙ্গলে এর গাছ বেশি দেখা যায়। তাই কাউফলকে অনেকে বুনো ফল হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ইংরেজি নাম Cowa (mangosteen), বৈজ্ঞানিক নাম Garcinia cowa Roxb, এক ধরনের অপ্রচলিত টক স্বাদের ফল। এর অন্যান্য নাম হলো- কাউয়া, কাগলিচু, তাহগালা, ক্যাফল, কাউ-গোলা ইত্যাদি। এর গাছ মাঝারি আকৃতির , ডালপালা কম, উপরের দিকে ঝোপালো। গাছের রঙ কালচে ।  সাধারণত জঙ্গলে এই গাছ দেখা যায়। ফলের আকার লিচুর সমান বা সামান্য বড় হয়। আমাদের দেশ ছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে কাউ গাছ দেখা যায়। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও কাউ দিয়ে জ্যাম তৈরি করা হয়। সারাদেশে অল্পবিস্তর কাউফলের দেখা মেলে। তবে সিলেট, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে কাউফলের দেখা মেলে বেশি। পিরোজপুর ও বাগেরহাট অঞ্চলেও এ ফল জন্মে। অনেক গৃহস্থ বাড়ির লোকজন শখ করেও দুই একটি গাছ লাগায়। প্রাকৃতিকভাবে বীজ থেকে এর চারা হয়ে থাকে। তবে এর বাণিজ্যিক আবাদ নেই। গাছে ফুল ধরে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে। আর ফল পাকে জুন-জুলাই মাসে। ফল গোলাকার, অনেকটা টেবিল টেনিস আকৃতির কিন্তু খাঁজযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এ ফল পাকলে হলুদ বা কমলা বর্ণ ধারণ করে। ফলের ভিতরে চার-পাঁচটি দানা থাকে। ফল পাকার পর এই দানা চুষে খেতে হয়। বীজযুক্ত এসব দানা রসালো ও মুখরোচক। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও জ্যাম-জেলি করেও সংরক্ষণ করা যায়। কাউফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ত্বকের জন্য অধিক উপকারী। এছাড়া কপার, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেশিয়াম যা শরীরের হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। এতে আছে খনিজ ও পটাসিয়াম যা হৃদস্পন্দনে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হার্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা করে। সর্দিজ্বর ও ঠাণ্ডা প্রশমনে বিশেষ কার্যকর। এ ফল অরুচিও দূর করে।  কাউ গাছের ছাল খিচুনি রোগের জন্য এবং ফল আমাশয় ও মাথা ব্যথার জন্য ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই গাছের কষ রং ও বার্নিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তথ্যসূত্র : এটিএম নাছিমুজ্জামানের ফল পরিচিতি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট। এএইচ/

লাজুক ও রসিক পাখি ‘কমলাবউ’

কমলার রঙের জন্য সে কমলাবউ। দেখতে বেশ চমৎকার। টলটলে নীল মায়াবি চোখ। স্বভাবে লাজুক প্রকৃতির কিন্তু মিষ্টি গলার অধিকারী। এরা মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। দেখতে অনেকটা দোয়েল পাখির মত।  ফটিক জল ও দোয়েল পাখির ডাক নকল করতে পারে কমলাবউ। ইংরেজি নাম Orange-headed Thrush. বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera citrina. কোথাও কোথাও কমলা দামা নামে পরিচিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ প্রজাতির দামা পরিবারের একটি পাখি। এরা কমলাফুলি বা কমলা দোয়েল নামেও পরিচিত। এই ১৫ প্রজাতির মধ্যে কেবল কমলা দামা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দুর্লভ দামা। বাকি ১৪ প্রজাতি মাঝে মাঝে, বিশেষ করে শীতকালে দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- Animalia, পর্ব- কর্ডাটা, শ্রেণি: পক্ষী, বর্গ- Passeriformes, পরিবার- Turdidae, গণ- Zoothera, প্রজাতি- Z. citrina. বর্ণনা : কমলাবউ লম্বায় ২১ থেকে ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ৬০ গ্রাম। পুরুষ পাখি দেখতে বেশি সুন্দর। এদের মাথার চাঁদি, ঘাড় ও বুকের রং গাঢ় কমলা। আছে হালকা হলুদের ছোঁয়া ও লালচে আভা।  চোখের নিচ বরাবর তিনটি সাদা গোলাকার ফোঁটা আছে। পেট ও লেজের নিচের অংশটা সাদাটে হলুদ। পিঠ ও লেজের ওপরটা নীলচে-ধূসর। স্ত্রী পাখিও মন্দ নয়। তবে বুকের রং একটু ফিকে এবং পিঠ ও লেজ ছাইরঙা। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে ঠোঁট কালচে, পা ও আঙুল হালকা গোলাপি। মায়াবী চোখের মণি পিঙ্গল। বাচ্চাগুলোর রং গাঢ় ধূসর, তার ওপর কমলা ছোপ। স্বভাব : এরা বেশ লাজুক। সহজে অন্য পাখির সঙ্গে ঝগড়া বা মারামারিতে জড়ায় না। ডাকাডাকিও কম করে। তবে খুব ভোরে ও সন্ধ্যায় মিষ্টি গলায় অনেক সময় ধরে ডাকে। গ্রামীণ ঝোপ-জঙ্গল, বন-বাগান বা বাঁশঝাড়ের স্যাঁতসেঁতে নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। প্রজননের সময় ছাড়া সাধারণত একাকী ঘুরে বেড়ায়। এই পাখি সারা বছরই দু’বেলা গোসল করে। বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, কেঁচো এবং ফলের রস খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরা উপকারী ও গায়ক পাখিও বটে। কেননা পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে সুন্দর রাখে। প্রজননকাল : এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল। ঘন পাতাওয়ালা গাছের দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, ঘাস, সরু শিকড় ও মাটি দিয়ে চায়ের পেয়ালার মতো বেশ মজবুত করে বাসা বানায়। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাসা তৈরি করে। বাসা বাঁধার সময় পুরুষ পাখি পাতার ঝোঁপঝাড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আনন্দে গান করে। স্ত্রী কমলাবউ তিন-চারটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং গোলাপির উপর নীলের ফিকে আভা। ডিম থেকে ১৩ -১৪ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। বাচ্চারা উড়তে শেখার আগেই লাফিয়ে বাসা থেকে মাটিতে নেমে যায় এরপর বাবা-মার পেছনে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। এই পাখি অল্প খাবারে তুষ্ট থাকে। তথ্যসূত্র : এটিএম নাছিমুজ্জামানের গ্রাম বাংলার পাখি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট। এএইচ/

বর্ষার ফুল কদম

কদম ফুল ফুটক আর নাই ফুটক আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। কদম যেন বর্ষার দূত! এ বাক্যগুলো থেকে বোঝা যায় আষাঢ়ের সঙ্গে কদমের সম্পর্ক নিবীড় । সাধারণত আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই কদম ফোটে। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। গোলাকার সাদা-হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে ছোট বলের মত। গাছ ভরে এই ফুলের সমাহার ঘটে। সেই মুহূর্তটি এক অপূর্ব সৌন্দর্যের। পরিচিতি : বৈজ্ঞানিক নাম Anthocephalus indicus. ইংরেজি নাম burflower tree. কদম ফুল নীপ নামেও পরিচিত। এ ছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, প্রাবৃষ্য, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্পও কদমের নাম। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। বিশ্বের নানা দেশে কদমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন- চীন, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া। এর সংস্কৃত নাম কদম্ব। কদম্ব মানে হলো `যা বিরহীকে দুঃখী করে`! প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। মধ্যযুগের বৈষ্ণবসাহিত্যজুড়ে রয়েছ কদমের সুরভীমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা! ভগবত গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের উল্লেখ। কদমগাছ বৌদ্ধধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ভারতের পূর্বাংশে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত কদমগাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা থেকে শুরু করে রাধা-কৃষ্ণের বিচ্ছেদ - সবকিছুতেই রয়েছে কদম গাছের উল্লেখ। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- উদ্ভিদ, শ্রেণীবিহীন- সপুষ্পক উদ্ভিদ, বর্গ- Gentianales, পরিবার- Rubiaceae, উপপরিবার- Cinchonoideae, গোত্র- Naucleeae, গণ- Neolamarckia, প্রজাতি- N. cadamba. বর্ণনা : কদম গাছ দীর্ঘাকৃতি এবং বহুশাখাবিশিষ্ট।। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। এর বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। এই গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। এই ফুলের রং সাদা-হলুদে। তবে পাঁপড়ি ঝরে গেলে শুধু হলুদ রঙের গোলাকার বলের মত দেখা যায়। এই গাছের ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য তেমন একটা নেই। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও বাক্সপেটরা তৈরি হয়ে থাকে। গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে কদমফুলের তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। তথ্যসূত্র : ফুল সংক্রান্ত বই এবং ইন্টারনেট। এএইচ/

রসালো ফল ‘লিচু’

আকারে ছোট কিন্তু দৃষ্টিনন্দন, তেমনি প্রাণ জুড়ানো ফল লিচু। মুখে দিলে রসে মুখ ভরে যায়। এ জন্যে রসালো ফল লিচু। স্বাদে গুণে অনন্য এই ফল। শক্তিবর্ধকও বটে। তিন/চারটি লিচু খেলে শরীরে গতি আসে। স্বল্প সময়ের ফল লিচু। ২০ থেকে ২২ দিন বাজারে পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক ফল হিসেবে লিচুকে গণ্য করা হয়। যুগে যুগে রাজা-বাদশারা তাদের রানী-বেগমদের মন জয় করার জন্য লিচু উপহার দিতেন। ভিটামিন ও খাদ্যশক্তির অন্যতম উৎস লিচু। এতে রয়েছে মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এছাড়া শ্বেতসার এবং ভিটামিন সি-ও রয়েছে। ছোট বড় সব বয়সের মানুষই এই সুস্বাদু ফল খেতে পারে। পরিচিতি : লাই চীন নামের এক চীনা বিজ্ঞানীর গবেষণার ফল লিচু। তার নামানুসারে এই ফলের নাম হয় লিচু। এর ইংরেজি নাম Litchi. বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis. লিচু গাছ বহুবর্ষী এবং বহু শাখা-প্রশাখা যুক্ত চির সবুজ। পাতার উপরিভাগ গাঢ় সবুজ ও চকচকে হয়ে থাকে। গাছ ১০-৩৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। ডালের মাথায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুল ধরে। ফলের মধ্যে একটি মাত্র খয়েরী রঙের বীজ থাকে। বীজের বাইরের অংশ সাদা অস্বচ্ছ শাঁস। ফলটি পাকলে হলদে ও লাল রঙ ধারণ করে। লিচুর ব্যাস সাধারণত ১-১.৫ ইঞ্চি। আমাদের দেশে এটি গ্রীষ্মকালীন ফল এবং এখানে ফেব্রুয়ারিতে এর মুকুল আসে ও ফল সাধারণত মে মাসের শেষের দিকে পাকে। বাংলাদেশের সব স্থানেই লিচু হয়, তবে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে এর ভাল ফলন হয়। বিভিন্ন জাতের মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, চায়না, মঙ্গলবাড়ী, কদমি, মোজাফফর, মাদ্রাজী ইত্যাদি দেখা যায়। মঙ্গলবাড়িয়া লিচু বড় আকারের ও স্বাদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- উদ্ভিদ, শ্রেণীবিহীন- সপুষ্পক উদ্ভিদ, বর্গ- সেপিন্ডালেস, পরিবার- সেপিন্ডাসিয়া, উপপরিবার- সেপিন্ডোইডা, গণ- লিচি, প্রজাতি- এল. কিনেন্সিস। বিস্তৃতি : লিচু হলো সেপিন্ডাসিয়া পরিবারের লিচি গণের একমাত্র সদস্য। এটি নিরক্ষীয় ও উপ-নিরক্ষীয় অঞ্চলে জন্মে থাকে। এর আদি নিবাস চীনে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল সহ বিশ্বের কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তিয় বহু দেশে লিচু চাষ করা হয়। ১০০ গ্রাম লিচুতে রয়েছে : প্রোটিন ১.১ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ গ্রাম, শ্বেতসার ১৩.৬ গ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.০২ গ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০৬ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫ গ্রাম, ভিটামিন-সি ৩১ মি.গ্রা, ক্যালসিয়াম ১০ মি.গ্রা, লৌহ ০.৭ মি.গ্রাম এবং ক্যালরি ৬১ কিলোগ্রাম। লিচুর উপকারিতা : লিচুতে রয়েছে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট যা মানব দেহের জন্য প্রয়োজন। রয়েছে ভিটামিন সি যা চর্মরোগ ও স্কার্ভি দূর করে। লিচু শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। লিচুতে আছে ক্যালসিয়াম। দেহের হাড় গঠন ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এই ক্যালশিয়াম। খাদ্য হজমকারী আঁশ, ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা শরীরে জমে থাকে ও দেহ সুস্থ রাখে। লিচুর অলিগোনল নামের উপাদান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবে কাজ করে। এ উপাদান রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, ত্বকে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমায়। লিচু মানবদেহে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করে। এতে অবস্থিত ফ্ল্যাভানয়েডস নামক উপাদান স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। লিচুতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়ায়। লিচুতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে তাই ডায়াবেটিস রোগী পরিমিত লিচু খাবেন। তথ্যসূত্র : এটিএম নাছিমুজ্জামানের ফল পরিচিতি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট। এএইচ/    

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ‘জবা’

আমাদের দেশের সর্বত্রই লাল জবা ফুল দেখা যায়। দেখতে খুবই সুদৃশ্য। গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে যেন লাল ফুলটি হেঁসে থাকে। আমরা সাধারণত শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসাবে বাড়ির আঙিনা কিংবা বাড়ির ছাদে জবা ফুলের গাছ লাগিয়ে থাকি। তবে এ ফুলের রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। জবা কিন্তু গন্ধহীন। পরিচিতি : ইংরেজি নাম Hibiscus rosa-sinensis.  জবা মালভেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্ম, যার উৎপত্তি পূর্ব এশিয়াতে। এটি চীনা গোলাপ নামেও পরিচিত। এই ফুলের বাংলা নাম রক্তজবা, জবা, জবা কুসুম। শাখা কলম দ্বারা এর বংশ বিস্তার হয়। প্রায় সারাবছরই ফুল ফোটে। বর্তমানে অনেক ধরনের হাইব্রীড জবার অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মধ্যে বর্ণবৈচিত্র প্রচুর। আরও পড়ুন : পুষ্টিগুণ সম্পন্ন টক-মিষ্টি ফল ডেউয়া বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus rosa-Sinensis Linn. জগৎ-Plantae, বর্গ- Malvales, পরিবার- Malvaceae, গণ- Hibiscus, প্রজাতি- H. rosa-sinensis. বর্ণনা : জবা একটি চিরসবুজ গুল্ম। যার উচ্চতা ৮-১৬ ফুট ও প্রস্থ ৫-১০ ফুট। এর পাতাগুলো চকচকে সবুজ ও ফুলগুলো উজ্জ্বল লাল বর্ণের ও ৫টি পাঁপড়ি যুক্ত। ফুলগুলোর ব্যাস ৪ ইঞ্চি এবং গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে ফুটে। চাষবাস : বাগানের গাছ হিসেবে জবাকে গ্রীষ্মমণ্ডল এবং উপগ্রীষ্মমণ্ডল অঞ্চলে সর্বত্র ব্যবহার করা হয়। জবা যেহেতু ১০° সেলসিয়াসের নীচের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না, তাই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জবা গাছকে গ্রীনহাউসে রাখা হয়। জবা গাছের বিভিন্ন রকমের সংকর প্রজাতি আছে। যাদের ফুলের রঙ সাদা, হলুদ, কমলা ইত্যাদি। ঔষধি গুণাগুণ : ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ জবা ফুল। বিভিন্ন রোগে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল দেহের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রাকৃতিকভাবে শারীরিক সুস্থতা প্রদান করে। আরও পড়ুন : সাত রংয়ের সমাহারে বর্ণিল ‘সুমচা’ এছাড়াও অন্য যেসব রোগে কাজ করে তা জেনে নেই- ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করতে : বেশি পরিমাণে পানি পান করে, আবার ঘন ঘন প্রস্রাব করে অথচ ডায়াবেটিস রোগী নয়, এই ক্ষেত্রে জবা গাছের ছালের রস এক কাপ পানির সঙ্গে পরিমাণমত চিনিসহ মিশিয়ে ৭/৮ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়। ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় : আমাদের দেশে ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা। এর জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে। আরও পড়ুন : ঔষধি গুণে ভরপুর জামরুল হজমে সহায়তা : প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে। চুল পড়া বন্ধ করে : প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে। নারিকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। অনিয়মিত মাসিকের স্রাব : অনিয়মিত মাসিক অর্থাৎ দুই এক দিন একটু একটু হয়, আবার সময় হয়ে গিয়েছে আদৌ হয়না আবার হয়তো এক মাস বন্ধ হয়ে থাকলো, এ ক্ষেত্রে দু তিনটি পঞ্চমুখী জবা ফুলের কুঁড়ি ও আধা গ্রাম দারুচিনি এক সঙ্গে বেটে সরবত করে ঋতুকালীন সময়ে দিনে একবার করে ৩/৪ দিন খেলে মাসিক স্বাভাবিক হবে। আরও পড়ুন : পুষ্টি ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত পেঁপে ধীর গতিতে বয়স বৃদ্ধি করে : অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধই করে না নিয়মিত এই জবা ফুল আহারে বয়স বাড়ার প্রবণতাকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তুলতে সহয়তা করে। ফলে এই জবা ফুল একজনকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে। বমি করতে চাইলে : যদি বমি করার প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে ৪/৫টি জবা ফুল নিয়ে বোঁটার সঙ্গে যে সবুজ ক্যালিকাস অংশ থাকে, এই অংশ টাকে বাদ দিয়ে ফুল অংশটাকে পানি ও চিনি পরিমাণমত দিয়ে চটকে সরবত করে দিনে ২/১ বার খেলে বমি হয়ে যাবে। টাক পোকা রোগ : চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় জবা ফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠে যাবে। এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন যে কোনো সময় লাগাতে হবে এবং দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে অথবা যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হবে। আরও পড়ুন : হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও) চোখ উঠা : চোখ ওঠা রোগে জবা ফুল বেটে চোখের ভেতরটা বাদ দিয়ে চোখের উপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনের যে কোনো সময় এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন লাগাতে হবে এবং এক ঘন্টা রাখতে হবে। হাতের তালুতে চামড়া উঠা : শীতকালে হাতের তালুতে চামড়া উঠে খসখসে হয়ে গেলে জবা ফুল তালুতে মাখলে খুব উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই তিন বার এক/দুইটা ফুল হাতের মধ্যেই ডলে ডলে লাগাতে হবে। লাগিয়ে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করা যাবে। যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হব। তথ্যসূত্র : ফুল সংক্রান্ত বই এবং ইন্টারনেট। এএইচ/    

দেশীয় ফল ডেউয়ার পুষ্টিগুণ

গ্রাম-গাঁয়ের পরিচিত ফল ডেউয়া। এবড়ো থেবড়ো কিছুটা কাঁঠালের মতো দেখতে এ ফলটির ভেতরে হলুদ রঙের কোষ থাকে। পাকলে এই ফলটি অতি মোলায়েম হয়। ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই ফল ক্ষুধাবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। বৃষ্টির মৌসুমে ভর্তা করে খেতে খুবই সুস্বাদু এই ফল। পরিচিতি : ইংরেজি নাম : Artocarpus lacucha (ঢেউয়া, ডেলোমাদার, ডেউফল বা ঢেউফল)। এক ধরনের  টক-মিষ্টি ফল। এর সংস্কৃত নাম `লকুচ` ও হিন্দী নাম `ডেহুয়া`। ডেউয়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Artocarpus lacucha বা Artocarpus lakoocha Roxb. এবং ইংরেজি নাম- Monkey Jack । এটি মোরাসিই পরিবারভুক্ত ক্রান্তীয় চিরসবুজ বৃক্ষ। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচুর জন্মে। ডেউয়ার আদি জন্মস্থান বার্মা। বার্মায় এ ফলের নাম মাইয়াক লুয়াং। অঞ্চলভেদে এই ফল মানুষের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচিত। আরও পড়ুন : ঔষধি গুণে ভরপুর জামরুল বর্ণনা : ডেউয়া গাছ বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, বড় আকারের বৃক্ষ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়, এর ছাল ধূসর-বাদামী রঙের। গাছের ভেতর সাদাটে কষ বা আঠা থাকে। এর পাতা ৬-১২ ইঞ্চি লম্বা ও ৪-৭ ইঞ্চি চওড়া হয়, যা অনেকটা কাকডুমুরের পাতার ন্যায়, তবে আকারে সামান্য বড়। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল আকারে বড়, বোঁটা ছোট ও মসৃণ। এ ফুলে পাঁপড়ি নেই, ছোট গুটির মত। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের ন্যায় যৌগিক বা গুচ্ছফল। বহিরাবরণ অসমান। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ রং ধারণ করে। ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। ফলের ভেতরে থাকে কাঁঠালের মত ছোট ছোট কোষ। ফল পাকে মে-জুন মাসে। কাঁঠাল ও ডেউয়া একই গুণের অন্তর্ভুক্ত। ডেউয়ার ফুল দেখতে সাধারণ ফুলের মতো নয়, অনেকটা কাঁঠালের মোচার মতো। আসলে এই ছোট ছোট মোচা অনেক ফুলের সমষ্টি। ফলটির গা উঁচু-নিচু হয়। কাঁচা অবস্থায় টক টক স্বাদ। কিন্তু পাকলে অন্য রকম স্বাদ। সেটা টকও নয়, আবার মিষ্টিও নয়। আরও পড়ুন : পুষ্টি ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত পেঁপে কিছু কিছু ফল আছে যেগুলোর খুব একটা পরিচিতি না থাকলেও তার রয়েছে অসাধারণ ভেষজ পুষ্টিগুণ। শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালেই এসব ফল বেশি পাওয়া যায়। এ রকম ফলের মধ্যে ডেউয়া হল অন্যতম। যা আছে ডেউয়াতে : ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আঁধার বলা হয় ডেউয়া ফলকে। এগুলো ছাড়াও ডেউয়া ফলে রয়েছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়া ফলের প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে- খনিজ ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৭ গ্রাম, শর্করা ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম। আরও পড়ুন : হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও) ডেউয়া ফলের উপকারিতা : দেখতে অদ্ভুত ও খেতে টক-মিষ্টি ডেউয়া ফল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশ কিছু ভেষজ গুণও। অনিয়ন্ত্রিত ওজন এ সময়ের একটা বড় সমস্যা। অথচ ঠাণ্ডা পানিতে ডেউয়া ফলের রস মিশিয়ে নিয়মিত পান করলেই আমরা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। এমনকি ডেউয়া ফল রোদে শুকিয়ে নিয়ে অফ সিজনেও খাওয়া যায়। মুখের রুচি ফেরাতে খেতে পারেন এই ফল। ডেউয়া ফলের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে হবে। সপ্তাহ না পেরুতেই মুখে রুচি ফিরে আসবে। পেট পরিষ্কার না থাকলে সারাদিন কাটে অস্বস্তিতে। পেটের গণ্ডগোল থেকে রেহাই পেতে সকালে খালি পেটে খান কাঁচা ডেউয়া। এজন্য গরম পানির সঙ্গে কাঁচা ডেউয়া বাটা মিশিয়ে নিবেন। আরও পড়ুন : সাত রংয়ের সমাহারে বর্ণিল ‘সুমচা’ এই ফলে বিদ্যমান ভিটামিন সি ত্বক, চুল ও দাঁতের নানা রোগ প্রতিরোধ করে। আর ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কোনো কারণে বমি বমি ভাব অনুভব হলে ডেউয়া খেলে দ্রুত সেরে যায়। অত্যাধিক তৃষ্ণা নিবারণে কাজ করে টক জাতীয় এই ফল। ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে মসৃণ ভাব ফিরিয়ে আনে। অর্থাৎ শরীরের শুষ্কভাব দূর করে। ডেউয়া খেলে স্মৃতিশক্তিও বাড়ে।  মরিচ, লবণ, চিনি দিয়ে ডেউয়ার ভর্তা খেলে সানস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। তথ্যসূত্র :  এটিএম নাছিমুজ্জামানের ফল পরিচিতি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট। এএইচ/  

সাত রংয়ের সমাহারে বর্ণিল ‘সুমচা’

সাত রংয়ের সমাহারে বর্ণিল এক পাখির নাম ‘সুমচা’। অতি সুন্দর এ পাখির সৌন্দর্য্য নয়ন জুড়িয়ে দেয়। কোথাও কোথাও এদেরকে নীলপাখি বা বনসুন্দরী নামেও ডাকা হয়। এরা গানেও বেশ পারদর্শী। সুমচা মাথা ঝাঁকিয়ে ঠোঁট ঊর্ধ্বমুখী করে শিস দেয়। পরিচিতি : ইংরেজি নাম : Indian Pitta। এই পাখি ১৮-২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে এবং এর লেজ বেঁটে প্রকৃতির। চোখের উপর থেকে ঘাড় পর্যন্ত চওড়া করে কাজল টানা। মাথা বাদামি ও চোখের চারদিকে চকলেট রংয়ের বৃত্ত আছে। পিঠ সবুজ, বুক ও পেট হলদে বাদামি রঙের। লেজের তলা ও তলপেট টুকটুকে লাল। লেজের ওপরটা নীল ও ডগা কালো। লম্বা ও মজবুত পা দুটো গোলাপি রংয়ের। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : বৈজ্ঞানিক নাম-Pitta brachyura, জগৎ-Animalia, পর্ব- কর্ডাটা, শ্রেণী- পক্ষী, বর্গ Passeriformes, পরিবার-Pittidae, গণ- Pitta, প্রজাতি- P. brachyura.  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস ও ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে এই পাখি দেখা যায়। আরও পড়ুন : পুষ্টি ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত পেঁপে স্ত্রী এবং পুরুষ পাখি একই রকমের। এরা সহজে উড়তে চায় না। উড়লেও বেশি দূর যায় না। তবে উড়ার গতি খুব দ্রুত। মাটি এদের প্রিয় বিচরণ ক্ষেত্র। সাধারণত ঝোঁপঝাড়ের নিচে স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে চলাফেরা করে থাকে। পচা পাতা উল্টিয়ে ছোট কেঁচো এবং পোকামাকড় খেয়ে থাকে। চিকন সুরে মিষ্টি গলায় হুইট-টিউ-পিয়া-ট-ইউ-হুইট-টিউ স্বরে ডাকে। সকাল, সন্ধ্যা এবং মধ্য রাতে অথবা বৃষ্টির দিনে দুপুরে এদের গান শোনা যায়। স্ত্রী পাখি গানে বেশি পারদর্শী। গান গাওয়ার ভঙ্গিমাটা অত্যন্ত চমৎকার। আকাশমুখো হয়ে সারা দেহ দুলিয়ে দুলিয়ে লেজ ও পা নাচিয়ে গান করে। একটানা দীর্ঘ সময় গান করতে পারে। আরও পড়ুন : হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও) রাতেও খাবার খোঁজে। অথচ রাতে খুব বেশি চোখে দেখে না। মানুষকে এড়িয়ে চলে। মাঠ-প্রান্তরের চেয়ে জঙ্গলের ভেতর ফাঁকা স্থানে বিচরণ বেশি করে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে গলা ছেড়ে কর্কশ কণ্ঠে শিসও দেয়। শিস অনেকটাই বাঁশির সুরের মতো শোনায়। সুমচা পাখি মার্চ-সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর-জানুয়ারি মাসে মাটি থেকে স্বল্প উচ্চতায় ঝোঁপালো গাছের ডালে বা ঝোঁপের নিচে মাটিতে লতাপাতা, ঘাস দিয়ে বাসা তৈরি করে। এরা ডিম পাড়ে ৪ থেকে ৬টি।  ১৫-১৬ দিনে বাচ্চা ফোটে এবং এই বাচ্চা ১৫ থেকে ২০ দিনে উড়তে শিখে। তথ্যসূত্র : এটিএম নাছিমুজ্জামানের গ্রাম বাংলার পাখি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট। এএইচ/  

পুষ্টি ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত পেঁপে

বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফল পেঁপে। পেঁপে পরিচিত ও সহজলভ্য ফল। দেশের আনাচে-কানাচে সর্বত্র পাওয়া যায়।  দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি লোভনীয়। অতি পুষ্টিকর ও ভেষজ গুণসম্পন্ন হলো পেঁপে। প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, প্রোটিন, পুষ্টি ও মিনারেল সমৃদ্ধ এই ফল। পেঁপে পাকা খেতে যেমন সুস্বাধু তেমনি তরকারি হিসেবেও বেশ কদর রয়েছে। এ ছাড়া সালাদ, জেলী, হালুয়া, মোরব্বা ও জুস সহ উপাদেয় খাদ্য তৈরি হয় এই পেঁপে দিয়ে। পরিচিতি : ইংরেজ নাম Papaya। ইউনানী নাম পাপিতা এবং আয়ুর্বেদিক নাম অমৃততুম্বী। এই ফলের উৎপত্তি স্থান মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল ও কোস্টারিকা। বাংলাদেশসহ ভারত, আমেরিকা, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশে হয়ে থাকে। এটি একটি ছোট আকৃতির অশাখ বৃক্ষবিশেষ। লম্বা বোটাঁযুক্ত ছত্রাকার পাতা বেশ বড় হয় এবং সর্পিল আকারে কান্ডের উপরি অংশে সজ্জিত থাকে। প্রায় সারা বছরেই ফুল ও ফল হয়। কাঁচা ফল সবুজ, পাকা ফল হলুদ বা পীত বর্ণের। কাঁচা ফল বাইরের দিক গাঢ় কালচে সবুজ ভেতরে সাদা এবং পাকলে খোসাসহ কমলা রং ধারণ করে। গাছ দ্বিবীজপত্রী চিরহরিৎ ভঙ্গুর। কাণ্ড ঈষৎ ফাঁপা ও নরম। স্ত্রী এবং পুরুষ গাছ আলাদা আলাদা হয়। বিভিন্ন জাতের পেঁপে দেখা যায়। যেমন- হানিডিউ, রাঁচি, আর্লিবাউন্টি, পূষা, সোলা, সিমলা, শাহী রেডলেডী ইত্যাদি। কাণ্ডের খুব নিচ হতে ফল ধরে। আরও পড়ুন : হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও) বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- Plantae,  বর্গ- Brassicales, পরিবার- Caricaceae, গণ- Carica, প্রজাতি- C. papaya, দ্বিপদী নাম- Carica papaya. রাসায়নিক উপাদান : পাতা ও অপক্ক ফল তরুক্ষীর সমৃদ্ধ। এই তরুক্ষীরে প্রচুর পরিমাণে হজমকারী এনজাইম পেপেন বিদ্যমান। পাতায় অ্যালকালয়েড, গ্লুকোসাইড এবং ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে যা পাওয়া যায় : আমিষ ০.৬ গ্রাম, স্নেহ ০.১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৫ গ্রাম, ফাইবার ০.৮ গ্রাম, শর্করা ৭.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৫ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি। এবার দেখে নেই পেঁপের গুণাগুণ : ফলটিতে অনেক অনেক ভেষজ, প্রাকৃতিক ও খোদায়ী গুণ রয়েছে। বিভিন্ন রকম অসুখ সারাতে পেঁপে খুবই উপকারি বলেও মত দিয়েছেন ভেষজবিদগণ। ১. প্রতিদিন দুপুরে ভাত খাওয়ার পর এবং রাতে ভাত বা রুটি খাওয়ার পর এক টুকরা কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে এক গ্লাস পানি পান করলে হজম সম্পর্কিত যে কোনো অসুখ দ্রুত নিরাময় হয়। ২. আমাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার অদ্ভুত শক্তি আছে পেঁপেতে। তাই  নিয়মিত পেঁপের তরকারি খেলে উদরাময়ে উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশা সেরে যায়। ৩. পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার আধা ঘন্টা পরে আধ কাপ উঞ্চ পানি খেতে হবে। এভাবে টানা  ২ দিন খেলে  যেকোনো ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে। ৪. দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেলে জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রণা, শরীর ব্যথা কমে যাবে। ৬. কাঁচা পেঁপে বা গাছের আঠা যেকোনো দাদে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে এক দিন পর পর লাগাতে হবে। যে অ্যাকজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কাঁচা পেঁপের কষ যে কোন ঘা শুকাতে সাহায্য করে। ৭. ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ পানি মিশিয়ে ফেটিয়ে, ওই পানি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে নিলে উকুন চলে যায়। এটা টানা ২/৩ দিন করতে হবে। ৮. কাঁচা পেপে রুচি বর্ধক হিসেবেও কার্যকরী। নিয়মিত কাঁচা পেঁপের তরকারি সদ্য বাচ্চা সন্তান জন্ম দেয়া নারীদের স্তনের দুধ বাড়ায়। ৯. পেঁপের রস খেলে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এই ফল খেলে শরীর থেকে দূষিত বায়ু সহজেই বেরিয়ে যায়। ১০. পাকা পেঁপে অজীর্ণ কৃমি, আলসার, ডিপথেরিয়া ও ত্বকের ঘায়ে বিশেষভাবে কার্যকরী। চটকে মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। পেঁপে গাছের আঠা পেটের অসুখ, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি রোগের জন্যও বিশেষ উপকারী। টুথপেস্ট, ক্রীম তৈরিতে পেঁপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে বিশেষভাবে গর্ভবতী মহিলাদের বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া পেঁপের ক্ষতিকর কিছু নেই। তথ্যসূত্র : নিউট্রিশন জার্নাল ও ইন্টারনেট। এএইচ/  

হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও)

ছোট হলুদ রঙের পাখিটির নাম ফুটফুটি। দেশের কোথাও কোথাও হলুদ চটক নামেও পরিচিত। ছোট আকারের পাখিটি ঠোঁটের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত মাত্র ৮ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। আর ৮ থেকে ১০ গ্রাম এদের ওজন। পাখিটি দেখতে হলদে-ধূসর বর্ণের। ফুটফুটির ইংরেজি নাম Grey headed Flycatcher আর বৈজ্ঞানিক নাম Culicicapa ceylonensis। পাখিটির পিঠ, ডানা ও লেজ হলদে-সবুজ। বুক, পেট ও লেজের তলা হলদে রঙের। ঠোঁট ও পা হলুদাভ। পাখিটি সাহসী, বুদ্ধিমান এবং চতুর প্রকৃতির। সকাল বেলায় মোলায়েম ও মিষ্টি গলায় গান গায় ফুটফুটি। গাছের আড়ালে লুকিয়ে থেকে গান গাইতে এরা ভালোবাসে। ভোরবেলায় গান গাওয়া শুরু করে আর চারদিক আলোকিত হলেই গান থামিয়ে খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। ফুটফুটির প্রধান খাদ্য বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়। এরা খেজুর ও তালের রস বেশ পছন্দ করে। মেয়ে এবং পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। তবে পুরুষ পাখির রং কিছুটা উজ্জ্বল। ফাল্গুন থেকে জৈষ্ঠ্য মাস এদের প্রজননকাল। এ সময় ঘাস, লতাপাতা দিয়ে গাছের সরু ডালে মজবুত করে স্ত্রী এবং পুরুষ পাখি মিলে বাসা তৈরি করে। পাহাড়ি এলাকায় এরা বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। স্ত্রী ফুটফুটি সাধারণত চারটি ডিম দিয়ে থাকে। ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। স্ত্রী ও পুরুষের মধ্যে একজন বাচ্চাদেরকে পাহারা দেয় অন্যজন খাবারের সন্ধানে যায়। এভাবে তারা পালা করে বাচ্চা লালন পালন করে থাকে। তথ্যসূত্র : এটিএম নাছিমুজ্জামানের গ্রাম বাংলার পাখি গ্রন্থ। এএইচ/  

সুস্থ্-সুখী থাকতে চাইলে যা করণীয়!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুস্থ জীবনের এক চমৎকার সংজ্ঞা দিয়ে বলেছে, ‘শারীরিক রোগব্যাধি বা অক্ষমতার অনুপস্থিতিই সুস্বাস্থ্য নয়।সুস্বাস্থ্য হচ্ছে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক সুখ ও প্রাণ-প্রাচুর্য।’ অর্থাৎ শুধু পুষ্টিকর খাবার আর ওষুধই একজন মানুষকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে পারে না। অথবা সারাক্ষণ মুভি দেখলে বা টিভির সামনে বসে থাকলেই মানসিক সুখ অর্জিত হয় না। আবার পরিবারের বা চারপাশের মানুষ অশান্তিতে থাকলেও মানুষ সুখী হতে পারে না। তেমনি বৈষয়িক সাফল্য এলো কিন্তু আত্মিক শূন্যতা যদি থাকে তাহলেও জীবন পরিতৃপ্ত হয় না। অর্থাৎ জীবনের কোনো প্রয়োজনকে বাদ দিয়ে নয়, জীবনের সবগুলো প্রয়োজন সুন্দরভাবে পূরণ করতে পারলেই একজন মানুষ সুখী হতে পারে। জীবনকে দেখতে হবে পরিপূর্ণরূপে। সঠিক জীবনদৃষ্টি ও জীবনযাপনের বিজ্ঞানকে আয়ত্ত করেই একজন মানুষ সুখী জীবনের পথে অগ্রসর হতে পারে। সুস্থ জীবনের জন্যে প্রথম প্রয়োজন প্রশান্তি। যা নির্ভর করে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। সঠিক জীবনদৃষ্টির অভাব বা অবিদ্যাই মানুষের সব দুঃখের কারণ। প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি দূর করে তাকে সঠিক কর্মমুখী বা প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। সে হয়ে ওঠে শোকরগোজার। প্রতিটি সমস্যাকে গ্রহণ করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে। আত্মবিশ্বাস ও প্রজ্ঞার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যাকে রূপান্তরিত করে নতুন সম্ভাবনায়। দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সে তার জীবনকেই বদলে দেয়। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীর। স্বাস্থ্য যদি ঠিক না থাকে তাহলে অর্থ, বিত্ত, সবকিছুই অর্থহীন। হেনরি ফোর্ড আমেরিকার তার সময়ের সবচেয়ে বড় ধনকুবের ছিলেন। একজন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, গত ৬ মাসে আপনার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা কী? তিনি বলেছিলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি একটি ডিমের এক-চতুর্থাংশ খেয়ে তা হজম করতে পেরেছিলাম। এটাই আমার গত ৬ মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।’ ব্যবসার কোটি কোটি টাকা মুনাফার চেয়ে একটি ডিম খেয়ে হজম করতে পারাই তার ৬ মাসের স্মৃতিতে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এ থেকেই সুস্থতার গুরুত্ব আমরা সহজেই বুঝতে পারি। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রাচুর্য। প্রাচুর্য মানে অভাবমুক্তির অনুভূতি; যুক্তিসঙ্গত প্রতিটি চাওয়াকে সহজ স্বতঃস্ফূর্ত পাওয়ায় পরিণত করার সামর্থ্য। চতুর্থ হচ্ছে পরিবার। পরিবার আমাদের সুখের মূল আকর। পরিবারভিত্তিক জীবনযাপনের মানসিকতা ইউরোপ আমেরিকাতে নেই বলেই সেখানে এত অনাচার, এত অশান্তি। যারাই পরিবারকে তুচ্ছ ভেবেছেন, পরিবারের বাইরে আনন্দ খুঁজতে গিয়েছেন, তারা পরিণামে প্রতারিত হয়েছেন, ভুল করেছেন, অশান্তিতে ভুগেছেন। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মিক। মানুষ জন্মগতভাবেই উপাসনা করতে চায়, প্রার্থনা করতে চায়। চায় উচ্চতর কারো কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে। এক অসীম ও পরম সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের আকুতি মানুষ তার জেনেটিক ব্লুপ্রিন্টেই বহন করছে। তাইতো সবকিছু পাওয়ার পরও কোথায় যেন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। এ অপূর্ণতা এবং অতৃপ্তির কারণেই ৭০ বছর পর সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিজমের বিনাশ ঘটেছে। ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে মহা ধুমধামে বিপ্লবের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছিল। তাতে বলা হয়, সোভিয়েত ইউনিয়নে সবচেয়ে শ্রদ্ধার জায়গা হলো লেনিনের মাজার। সব সময় লোকজন সেখানে যায়। এক বৃদ্ধা এসেছেন তার মেয়ে এবং মেয়ের জামাইকে নিয়ে। এক সাংবাদিক তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন যে, লেনিনের আশীর্বাদ নিতে এসেছি। তার আশীর্বাদ পাওয়া গেলে আমার মেয়ে আর জামাতার জীবনটা সুখের হবে, সুন্দর হবে। ৪৮ বছর বয়স্ক এ মহিলার জন্ম হয়েছে বিপ্লব পরবর্তী এমন এক সোভিয়েত ইউনিয়নে যেখানে নাস্তিক্যবাদ ছিল রাষ্ট্রীয় ধর্ম। তারপরও তার মাথা থেকে সমর্পণের চিন্তা দূর করা যায়নি। যখন আর কাউকেই পাননি তখন লেনিনকেই দেবতা ভেবে তার মাজারে নিয়ে এসেছেন মেয়ে আর জামাতাকে। এটাই মানবীয় প্রকৃতি। আত্মিক শূন্যতা সে কোনো না কোনোভাবে পূরণ করবে। সত্যিকারের ধর্ম পালনের মাধ্যমেই একজন মানুষ নিজেকে অনন্য মানুষে রূপান্তরিত করতে পারে। আর ধ্যানের মাঝেই সে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পিত করতে পারে পরম সত্তার কাছে। লাভ করতে পারে সীমাহীন আত্মিক প্রশান্তি। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবনযাপনের বিজ্ঞান, যা দিয়ে সে তার মেধাকে বিকশিত করবে, জীবনের অঙ্ক মেলাবে, জীবনকে ভরিয়ে তুলবে প্রশান্তি ও প্রাচুর্যে।   আই// এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি