ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৪৮:২০, শুক্রবার

হাবিপ্রবিতে স্থাপত্য বিভাগের ‘স্থাপত্যে অনুরণন’ প্রদর্শনী

হাবিপ্রবিতে স্থাপত্য বিভাগের ‘স্থাপত্যে অনুরণন’ প্রদর্শনী

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলন কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় স্থাপত্য বিভাগের আয়োজনে দুইদিনব্যাপী স্থাপত্যে অনুরণন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে। প্রদর্শনীতে দুই শতাধিক মডেল, ফটোগ্রাফি, অংকন, বঙ্গবন্ধুর ছবি সুতা দিয়ে আর্টসহ অনেক কিছু দেখানো হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রায় সবাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসেন। দিনাজপুর এবং আশপাশের জেলাগুলো হতেও দর্শনার্থীরা এই প্রদর্শনী দেখতে আসেন। বর্তমান অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে নিয়ে এসে দিনাজপুর শহরকে একটি অগ্রগণ্য শহরে রুপ দেওয়ার জন্য পরামর্শ, সুপারিশ ও নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের কনভেনশন সেন্টার ও আর্ট ক্যাম্পাস, শিশুদের পার্ক, জলজ উদ্যান, ইকোলজিক্যাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ শহরের রূপরেখা ফেস্টুনে লিখে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, দিনাজপুর শহরকে পরিকল্পনামাফিক ও নান্দনিকভাবে সাজাতে প্রদর্শনীতে যেসব নকশা বা স্থাপত্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আগামীর দিনাজপুর গড়ে তুলতে পারলে এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ নানাবিধ উন্নয়নের সাথে আমরা একটি পরিকল্পিত শহর পাবো। স্থাপত্য বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুদ্দীন খান বলেন, বর্তমান অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে নিয়ে এসে দিনাজপুর শহরকে একটি অগ্রগণ্য শহরে রুপ দেওয়ার জন্য পরামর্শ, সুপারিশ ও নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের কনভেনশন সেন্টার ও আর্ট ক্যাম্পাস, শিশুদের পার্ক, জলজ উদ্যান, ইকোলজিক্যাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ শহরের রূপরেখা ফেস্টুনে লিখে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ডঃ বিধান চন্দ্র হালদার প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, ‘হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের বয়স বেশিদিন হয়নি। মাত্র ৫ বছরে এই বিভাগ স্থাপত্য বিষয়ে যা করে চলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আগামীতে এ রকম প্রদর্শনী আয়োজন করার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আর্কষণে স্থাপত্যের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন। হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ ফজলুল হক বলেন, ‘আমি নিজেও এই আয়োজন প্রতিবার দেখতে আসি। স্থাপত্য বিভাগের বিভিন্ন নকশা ও ভবনের চিত্রগুলো মাফিক যেকোনো শহর গড়ে তোলা হলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক শহরের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান নাইম মিথুন বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিভাগ বলা চলে। আমাদের বয়স খুবই কম। এর মধ্যেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে চেষ্টা করছি দিনাজপুর এবং আশপাশের অঞ্চলকে কীভাবে পরিকল্পনামাফিক সাজানো যায় তারই বিভিন্ন প্রকৃতির নকশা। আশা করি আমরা আগামীতে আরো ভালো মানের পরিকল্পনা নিয়ে শহরের জন্য কাজ করতে পারবো।’ এসি    
মানুষকে সচেতন করতে সাঈদ রিমনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু কেউ কেউ আছেন এর থেকে ব্যতিক্রম। নিজেকে ছাড়িয়ে আশ-পাশের জগত তাদেরকে ভাবায়। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ তারা ভেতর থেকে অনুভব করে। তেমনি একজন সাঈদ রিমন। ছবিগুলোর দিকে একটু খেয়াল করুন। একটু দেখলে বুঝতে পারবেন প্রতিটি ছবিতে ভিকটিম একজন। তিনি সাঈদ রিমন। পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। রাজধানীতে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি করেন। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরে তার আরেকটি পরিচয় আছে। সেটা হলো দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ উদ্যোগে সমাজের মানুষদের সচেতন করতে নানা ধরনের কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। তার এই সচেতনতার অন্যতম মাধ্যম হলো স্থিরচিত্র। সেসব স্থিরচিত্রে তিনি মডেল হিসেবে বা অভিনেতা হিসেবে নানা ধরনের অঙ্গ-ভঙ্গিতে ছবি তুলেন। তারপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন, বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ক্যাম্পেইন করে থাকেন। সাঈদ রিমনের ক্যাম্পেইনের বিষয় নানা ধরনের। সড়ক দুর্ঘটনা, মাদক, বাসে ট্রেনে মোবাইল ছিনতাই, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারা, বাসে বা লেগুনায় উঠার সময় মোবাইল নিয়ে দৌড় দেওয়া, পাবলিক গাড়ীতে মলম পার্টি, অপরিচিত লোকের দেওয়া খাবার খেয়ে জ্ঞান হারানো, পানিতে শিশু ডুবে যাওয়া, বেকারত্ব ইত্যাদি। বেকার এর অভিনয়ে রিমন সাঈদ রিমন এসব ঘটনায় অভিনয় করে সেই অভিনয়ের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র মুখে বললে এসব ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে মানুষের মনে কোন অনুভূতি জাগে না। বা জাগলেও সেটা কম। কিন্তু যদি স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করা যায় তাহলে মানুষের মনে তীব্র অনুভূতি জাগে। যা তাকে এসব ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করবে। সাঈদ রিমনের জন্ম বরগুনার পিটিআই সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। পড়াশুনা করেছেন নিজ এলাকায় বরগুনা জিলা স্কুলে, নটরডেম কলেজে, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাঈদ রিমন- এর বাবা মৃত আবদুল খালেক। তিনি ছিলেন পেশায় ব্যাংকার। মা সুলতানা রাজিয়া। ব্যক্তিজীবনে সাঈদ রিমন বিবাহিত। স্ত্রী সাদিয়া মিমি স্কুল শিক্ষিকা। পানিতে ডুবে যাওয়া শিশুকে উদ্ধারের ভূমিকায় সাঈদ রিমন শুধু নিজের অভিনয়কৃত স্থিরচিত্রের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেন তাই নন; চলার পথে বাসে ট্রেনে নিজ হাতে লিফলেট বিতরণ করেন। কোন জমায়েত পেলেই সেখানে মানুষকে ছবি ও লিফলেটের মাধ্যমে সচেতন করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। তারা হলেন নাজিম আল নবী ও আহমেদ আল নোমান। তার স্থিরচিত্র তোলেন মো. ফয়সাল ও রমিজ জাবেদ টিংকু। সাঈদ রিমন বলেন, এই মানুষগুলো আমাকে এতো বেশি ভালবাসে, কাজের প্রতি তাদের এত বেশি নিষ্ঠা আমার অবর্তমানে তারা এ কাজ চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ও মানসিকতা রাখে। কেন এমন কাজে সম্পৃক্ত হলেন প্রশ্নে সাঈদ রিমন বলেন, ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া আশপাশের কিছু অনিয়ম আমাকে নাড়া দেয়। যেমন মাদক। আমরা যে মুখে `মা` ডাকি সে মুখে মাদক নেব এটা কেমন কথা। আমি ভাবতাম এর বিরুদ্ধে যদি একজন মানুষকেও সচেতন করতে পারি তবে সেটাই স্বার্থকতা। এরপর আস্তে আস্তে সড়ক দুর্ঘটনা, পাবলিক গাড়ীতে অসতর্কতার কারণে বিপদে পড়া এমন নানা বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে শুরু করি। তিনি বলেন, আমার তোলা বেশির ভাগ ছবিই ঢাকার ফার্মগেট, আবদুল্লাহপুর সহ ব্যস্ত সব এলাকায় অভিনয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। ট্রেনের ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে রাজধানীর এয়ারপোর্ট ষ্টেশন থেকে। মাদক সচেতনতায় সাঈদ রিমন সাঈদ রিমন- এর আইডি থেকে এসব ছবি ভাইরাল হয় প্রচুর পরিমাণে। তিনি জানান, তার স্ত্রী তাকে একাজে সবসময় অনুপ্রেরণা দেন। সাহস জোগান সহকর্মী এমনকী তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন সে প্রতিষ্ঠানের বস পর্যন্ত। তবে বিব্রতকর হওয়ার অভিজ্ঞতাও কম নয়। তার ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সেগুলোকে সত্য মনে করে কেউ কেউ তার ছবি দিয়ে " একে ধরিয়ে দিন" এমন পোস্ট দিতেও দেখা যায়। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে সাঈদ রিমন জানান, একবার ফার্মগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার অভিনয় করছিলেন তিনি। আগে থেকে পুলিশ কে জানানো ছিল। কিন্তু মানুষ ধরে নেয় এটা সত্য ঘটনা। ফলে পুরো টিমকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ঠিক তেমনি ভাবে বাসে বা ট্রেনে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিনয় করার আগেও সতর্কতামূলকভাবে পুলিশকে জানিয়ে রাখা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিট্রনের উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি বরগুনার পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় আমাকে যথেষ্ঠ উৎসাহ দিতেন। আমাকে একটি প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন। যা বিভিন্ন আইনী প্রক্রিয়ায় যথেষ্ঠ কাজ দেয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক - এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, " আমি যখন বরগুনার পুলিশ সুপার ছিলাম তখন সাঈদ রিমনের সাথে আমার পরিচয় হয়। তার ব্যতিক্রমী চিন্তায় আমি মুগ্ধ। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু সাঈদ রিমন তাই করে যাচ্ছেন। " তিনি আরও বলেন, "আমি বরগুনা পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় তার এসব স্থিরচিত্র দিয়ে স্টীকার করিয়েছি। এতে সাড়াও পেয়েছি বেশ। দেশের সব তরুণরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে সোনার বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। " সাঈদ রিমন বলেন, আমি কাজ করে যেতে চাই। আমার দ্বারা যদি একজন মানুষও সচেতন হয় তাহলে সেটাই স্বার্থকতা। যদি একটি প্রাণও বাঁচে তবে সেটাই আমার প্রাপ্তি। আআ/এসি        

আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে পাখি (ভিডিও)

আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তবে নগরায়ন আর শিল্পায়নের তাড়নায় থাকা সৈয়দপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম যেন হাঁটছে উল্টোপথে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির শামুকখোল পাখিরা এখানে পেয়েছে এক আশ্চর্য আশ্রয়। গ্রামবাসীরাই পরিচর্যা করছে পাখিদের। নীলফামারির সৈয়দপুর উপজেলার সোনাখুলি গ্রাম। প্রত্যন্ত এই গ্রামে বট-পাকুড় গাছে বাসা বেধেছে শামুকখোল পাখি। গ্রামবাসী যেহেতু পাখি শিকারের বিরুদ্ধে, এখানেই নিরাপদ বোধ করছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এই পাখিরা। পাখিদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে প্রভাবশালী শিকারীদের মামলা-হয়রানিও ভোগ করতে হয়েছে গ্রামবাসীকে। এরপরও তাদের দমানো যায়নি। এখন পাখির ঝাক দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। তবে গ্রামবাসীর এই পাখিপ্রেম একদিনে হয়নি। বাস্তুসংস্থানের ধারাবাহিকতায় পাখি আর মানুষের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নেপথ্যে কাজ করছে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসনও। সৈয়দপুরে আরো পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে চায় তারা। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। যখন আবাসস্থলের অভাবে ক্রমেই কমছে শামুকখোল পাখির সংখ্যা, তখন সোনাখুলি গ্রামের এই উদ্যোগ যেন পথ দেখালো, এমনটাই বলছেন পাখিপ্রেমীরা। বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন :   এসএ/এসইউ    

চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়: যেখানে মেটে প্রাণের তৃষ্ণা  

দেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম মূলত বাণিজ্যিক নগরী হিসেবেই প্রসিদ্ধ। সমুদ্র বন্দর ও প্রচুর শিল্পকারখানার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য্যের কারণে চট্টগ্রাম প্রাচ্যের রাণী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বহু আগে। এসবের সমন্বয়ের চট্টগ্রাম নগরীর ঠিক মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে চেরাগী পাহাড় বা চেরাগী মোড়।        শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার অন্যতম ক্ষেত্র চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়। এক দিকে আন্দরকিল্লা মোড়, পেছনে ডিসির পাহাড়, বিপরীতে জামালখান সড়ক। এর মাঝেই অবস্থিত চেরাগী মোড়। চেরাগ থেকে চেরাগী:  এদেশে ইসলাম প্রসারে আরব থেকে আসা সূফি সাধকরাই সবসময় ভূমিকা রেখেছে। কথিত আছে সুফি সাধক হযরত বদর আউলিয়া (র.) সমুদ্রে ভাসমান এক খণ্ড পাথরের উপর আরোহন করে চট্টগ্রামে আসেন। কিন্তু তখনকার চট্টগ্রাম আজকের মতো এমন জনবহুল তো ছিলই না বরং তা ছিল জন-মানবহীন গভীর পাহাড় পর্বতে ঘেরা। জ্বীন-পরীরা সেখানে বাস করতো এমনটাই বিশ্বাস করে অনেকে। হযরত বদর আউলিয়া (র) একটি অলৌকিক মাটির চেরাগ হাতে নিয়ে গভীর বন-জঙ্গল দিয়ে একটি পাহাড়ের উপর উঠলে জ্বীন-পরীরা তাকে বাধা দেয় এবং বলে, তাদের আবাস স্থলে কোন মানুষের স্থান নেই। রাতের অন্ধকার নেমে আসলে হযরত বদর আউলিয়া (র ) জ্বীন পরীদের নিকট শুধু চেরাগ রাখার স্থানটুকু চাইলে তারা সম্মতি জ্ঞাপন করে। তিনি অলৌকিক চেরাগ জ্বেলে দিলে তা থেকে তীব্র তেজ বিকিরণ করতে থাকলে জ্বীনপরীরা শরীরে প্রকট জ্বালা যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। অতঃপর এক পর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আস্তে আস্তে এখানে মানুষ বসবাস করতে শুরু করে। তবে এ কাহিনীর কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি আজকে হয়তো উপস্থাপন সম্ভব নয়। কালক্রমে চেরাগি পাহাড় চত্বরটি হয়ে উঠে চেরাগী মোড়। আজকের চেরাগী   আজকের সময়ে চেরাগী মোড় বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে অসংখ্য দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা, টিভি চ্যানেলের অফিস। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর প্রকাশনা সংস্থা, মুদ্রণ, হকার সমিতির কার্যালয়। মূলত চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করেই চেরাগী মোড়, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কাটা পাহাড়, চন্দনপুরা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে বিশাল ছাপা খানার বাজার। যেখানে সকাল সাতটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাপা খানার মেশিন ঘুরতে থাকে। চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যান্ড দল, ব্যাংক-বীমা, অ্যাডফার্ম, স্টেশনারি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র, হাসপাতাল, মন্দির, হল সর্বোপরি সকল প্রকার বাণিজ্যিক, সমাজকল্যাণমূলক ও শিল্প সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছে শহর বন্দর গ্রামগঞ্জ হতে শত শত হাজার হাজার মানুষ। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের অন্যতম এ চেরাগী পাহাড়ে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকার। ঢাকার পরেই প্রকাশনা বাজারের দিক থেকে চট্টগ্রামের অবস্থান দ্বিতীয় যা চেরাগীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডা মুখর চেরাগী    চট্টগ্রামের কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যজন, শিল্পী, গায়ক, সৃজনশীল বইয়ের পাঠক- লেখক, সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিককর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আড্ডার অন্যতম ঠিকানা চেরাগী। মানুষ তার প্রাণে শান্তি খুঁজে পায় সংস্কৃতি চর্চায়। চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পীরা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির ধারক বাহক। যা মানুষকে শুদ্ধ চর্চায় ধাবিত করে। গভীর বনে গেলে যেমন পাখির কলকাকলি ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না, চেরাগী মোড়ও তেমনি সবসময় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের গুঞ্জনে মুখরিত থাকে। ভোরের চেরাগী  ভোর পাঁচটা থেকে ছ`টার মধ্যে ঢাকার দৈনিক পত্রিকাগুলোর গাড়ী গিয়ে হাজির হয় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোও ততোক্ষণে ছাপাখানা থেকে বের হয়ে এসে হাজির হয় চেরাগীতে। হকার অফিসগুলোর সামনে শুরু হয় হকারদের ব্যস্ততা। গরম গরম পত্রিকাগুলোর মৌ মৌ সৌরভে তখন মুখরিত চেরাগীমোড়। শুধু খবরের উত্তেজনা নয়, এক সদ্য ছাপা হওয়া সংবাদপত্রের সুগন্ধ এক মনমাতানো পরিবেশ সৃষ্টি করে। শুরু হয় হকারদের ছুটে চলা। সাইকেলের পেছনে পত্রিকা বেঁধে টুং টাং শব্দ করে যখন হকাররা ছুটে চলে তখন নগরে ঘোষিত হয় নতুন বারতা। সন্ধ্যার আড্ডা    বসার জায়গা নেই বললেই চলে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা। আজাদী ভবন, বঙ্গবন্ধু ভবন, লুসাই ভবনের নিচে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না। হাতে চায়ের কাপ, ঠোঁটে সিগারেট এখানে কমন দৃশ্য। চটপটি, ফুচকা, নানা রকমের পিঠাও থাকে।সাংবাদিকপাড়া হিসেবে খ্যাত চেরাগী পাহাড়ের সন্ধ্যা কালীন আড্ডায় উঠে আসে দেশ বিদেশ নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা, তর্ক। তারুণ্যের বিদ্রোহের যে স্বরূপ তা অবলোকন করতে হলেও আসতে হবে চেরাগীতে। মধ্য রাতের টং চা   চেরাগীর মোড় ও আশেপাশের টংয়ের চা দোকানগুলো খোলা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। রাত ২টা-৩টা বা মধ্য রাতের আড্ডাবাজরা ভিন্ন ক্যাটাগরির হয়। এসব দোকান ঘিরে যেমন থাকে রাত জাগা সাংবাদিক তেমনি থাকে কবিতার পরের লাইন মেলানোর নেশায় ছুটে চলা দিশেহারা যুবক। বইঘর   চট্টগ্রামের সব বড় বড় প্রকাশনা ও বইয়ের দোকানগুলো চেরাগী মোড় ও আশপাশে অবস্থিত। শুধু ফেব্রুয়ারি নয়, বরং সারাবছরই দেশবিদেশের খ্যাতিমান লেখক গবেষকদের আড্ডা থাকে এসব প্রকাশনা ও বইয়ের দোকান ঘিরে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা সংস্থা হলো বলাকা প্রকাশন, শৈলী প্রকাশন, আবীর প্রকাশন, নন্দন, শব্দচাষ, বাতিঘর ইত্যাদি। এখানকার বড় বইয়ের দোকান, বাতিঘর, নন্দন, প্রথমা, গ্রন্থনিলয় বেশ প্রসিদ্ধ। কথাকলি নামের বইয়ের দোকানটি কালের সাক্ষী। ফুলের বাজার চেরাগী  চেরাগী পাহাড়, এই এলাকাকে অন্যতম নান্দনিক রুপ দিয়েছে এখানে অবস্থিত প্রচুর ফুলের দোকান। দেখলে মনে হবে এ যেন এক ফুলের রাজ্য। এর সুবাসে মুগ্ধ করে রাখে সবাইকে। পাহাড়ের নগরীতে ডিসি পাহাড়   পাহাড় কেটে কেটে বানানো নগরী চট্টগ্রাম। চেরাগীর মোড়ের পেছনে অবস্থিত বিশাল ডিসি`র পাহাড়। যেখানে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন অবস্থিত। এই পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতকৃত মঞ্চ। কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত এ মঞ্চে সারা বছরই কোন না কোন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাছাড়া তরুণ তরুনীদের ঘনিষ্ট সাহচর্য বা কোন আপনজনের সান্নিধ্যে আলাপচারিতার জন্যও ডিসি হিল নিরাপদ। নাট্যদল, আবৃত্তি সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন  চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে কাজ করছে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি নাট্য সংগঠন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিনোদিনী, ফেইম, লোক থিয়েটার, প্রতিনিধি, প্রতিভাস, ইত্যাদি। আবৃত্তি সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বোধন, প্রমা, ত্রিতরঙ্গ, কিংবদন্তি, অনার্য অন্যস্বর, শব্দনোঙর ইত্যাদি। সাংস্কৃতি সংগঠনগুলোর মধ্যে চারণ, উদীচী, সমগীত, অবসর, লোক সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। লিটলম্যাগ: কিছুদিন আগেও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিতে প্রথা ভাঙ্গার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হতো লিটলম্যাগকে। চট্টগ্রামের লিটলম্যাগ আন্দোলন দীর্ঘদান ধরে আবর্তিত হচ্ছে চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে। লিটলম্যাগ কর্মী, লেখক, সম্পাদকরা এখানে স্বপ্ন বুনেন এক নতুন পৃথিবী গড়ার। ইট পাথরের নগরায়নে যখন নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চাইবে তখনই সামান্য স্বস্তি মেলবে চেরাগী মোড়ের আড্ডায়। চেনা-অচেনা বড় কথা নয়, এখানে সবাই সবার পরিচিত। সবাই সবার কথা শুনে। নিজের মতাদর্শ বুক ফুলিয়ে বলার এমন সুযোগ দেশের আর কোথায় আছে!   এসি  

কিভাবে আসলো ভালোবাসা দিবস! 

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এই দিবসটি কিভাবে বা কোথা থেকে আসলো। এক নজরে জেনেনিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।কথিত রয়েছে- প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল রোমান দেব-দেবীর রানী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে লোকে বিশ্বাস করত। কারো করো মতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হওয়ার কারণ ছিল এটিই। আবার কেউ বলেন, রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তার মতে, যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা? সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। যার নাম ভ্যালেন্টাইন। অসীম সাহসী এযুবকের প্রতিবাদে ক্ষেপে উঠেছিলেন সম্রাট। রাজদ্রোহের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা মাথা কেটে ফেলা হয় তার। ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে।তবে এটিও সর্বজন স্বীকৃত নয়। এখানেও দ্বিমত আছে। কারও কারও মতে, প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীদের প্রতি ছিলেন ভীষণ সদয়। অসুস্থ মানুষের ওষুধ খেতে কষ্ট হয় বলে তিনি তেঁতো ওষুধ ওয়াইন, দুধ বা মধুতে মিশিয়ে খেতে দিতেন। সেই ডাক্তার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। প্রাচীন রোমে খ্রিস্টধর্ম তখন মোটেও জনপ্রিয় ছিল না। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের শাস্তি দেওয়া হতো। একদিন রোমের এক কারা প্রধান তার অন্ধ মেয়েকে ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। ভ্যালেন্টাইন কথা দিয়েছিলেন তিনি তার সাধ্যমতো চিকিৎসা করবেন। মেয়েটির চিকিৎসা চলছিল এমন সময় হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন বুঝতেপেরেছিলেন, খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে। ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বা কারও মতে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তার আগে ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার পর কারা প্রধান চিরকুটটি দিয়েছিলেন মেয়েটিকে। তাতে লেখা ছিল, ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’ (‘From your Valentine’)। মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ত্রৌকস ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল কারণ, ইতোমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দু’চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। ভালবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এই দিনটিকে মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করে আসছে।ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তির বিষয়ে আরেকটি সম্পূর্ণভিন্নমত রয়েছে। এই মতের লোকেরা বলেন, ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে প্রিয়জনকে ভালোবাসার বার্তা পাঠানোর আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাচীনকালে মানুষের বিশ্বাস ছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি হলো পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়তে বসে। আবার কেউ বলেন, মধ্যযুগের শেষদিকে মানুষ বিশ্বাস করত এদিন থেকে পাখিদের মিলন ঋতু শুরু হয়। পাখিরা সঙ্গী খুঁজেবেড়ায়। পাখিদের দেখাদেখি মানুষও তাই সঙ্গী নির্বাচন করে এ দিনে।৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উদ্ভব হলেও এটি বিশ্বব্যাপী প্রথম দিকে তেমনিভাবে প্রচার ও প্রসার লাভ করেনি। পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্ম দিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা বিরত থাকে না। খ্রিস্টীয় চেতনা ভ্যালেন্টাইন দিবসের কারণে বিনষ্ট হওয়ার অভিযোগে ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন্স উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিক ভাবে এ দিবস উৎযাপন করা নিষিদ্ধ করেছিল। এছাড়া অস্ট্রিয়া,হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবসটি জনগণ ও সরকারিভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এসে ভ্যালেন্টাইন্স দিবসের কদর প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরা এই দিবস উপলক্ষে এই দিনে প্রায় কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে। ভালোবাসা দিবসের জন্য মানুষেরা কার্ড, ফুল, চকোলেট ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে। যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনে প্রায় আনুমানিক ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।এসি/

দানবীয় থাবার ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য

দেখে আঁতকে উঠতে হয়। মানুষের হাতের তুলনায় তাকে ‘দানবীয়’ বলতেই হয়। এমনই এক থাবার ছবি ঘিরে টুইটারে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। বিজ্ঞান বিষয়ক গণমাধ্যম ‘লাইভসায়েন্স’- এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, টুইটারে সারা ডেভিস নামের এক নারী এই ছবিটি পোস্ট করার পরে তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বলেতে শুরু করেন, এটি নির্ঘাত ডাইনোসরের থাবা। কিন্তু ডাইনোসরের থাবা ধরে রয়েছে গ্লাভস পরা মানুষের হাত- এটা কী করে সম্ভব! আর খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এই থাবা মোটেই নকল নয়। সারা ডেভিস পেশায় একজন প্যালিওন্টোলজিস্ট। অর্থাৎ ফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তার টুইটে এহেন থাবা দেখে লোকের সন্দেহ ডাইনোসরের দিকে ঢলতেই পারে। কিন্তু সারা জানাচ্ছেন, এই থাবা ডাইনোসর অথবা লুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনও প্রাণীর নয়। এই থাবার অধিকারী বহাল তবিয়তেই বেঁচে রয়েছে। সারা জানাচ্ছেন, এটি একটি পাখির পা। পাখিটির নাম ‘সাদার্ন ক্যাসোওয়ারি’। তাদের ‘জীবন্ত ডাইনোসর’ বলেই গণ্য করা হয়। প্রজাতি হিসেবে তারা কিউয়ি-র আত্মীয়। একই বংশধারা থেকে তাদের জন্ম। মূলত অস্ট্রেলিয়ায় এদের বাস। এরা উড়তে পারে না। সারা তার টুইটে এই ধরনের পাখিদের সঙ্গে ডাইনোসরদের সম্পর্ককেই ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। সারার গবেষণার বিষয় ‘অ্যাভিয়ান প্যালিওন্টোলজি’, অর্থাৎ বিলুপ্ত পাখিদের নিয়েই তার কাজ। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে পিএইচডি স্তরে গবেষণারত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে একটি মৃত সাদার্ন ক্যাসোওয়ারির দেহ ব্যবচ্ছেদ করার সময়েই তিনি এই ছবিটি তোলেন এবং তা টুইট করেন। সূত্র: এবেলা একে//

গদখালী যেভাবে ফুলের রাজ্যে পরিণত হলো

বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিকরগাছার একটি এলাকা বিখ্যাত হয়ে উঠেছে ফুল চাষের কারণে।গদখালী নামের ওই গ্রাম ও আশপাশের হাজার হাজার একর জমিতে বছর জুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশী বিদেশী নানা জাতের ফুল যার বার্ষিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।  এই গ্রামের ফুল সারাদেশ তো বটেই, যাচ্ছে বিদেশেও।কিন্তু এই গ্রামটি কি করে সাধারণ ধান পাটের বদলে ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত হয়ে ফুলের রাজ্যে পরিণত হলো?যশোর সদর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দুরে ঝিকরগাছার এই গদখালী গ্রাম।  খুব ভোরেই এখানে জমে উঠে বাংলাদেশের বৃহত্তম ফুলের বাজার। ঢাকাসহ নানা জায়গার ব্যবসায়ীরা এসে ট্রাক বা পিক আপ ভর্তি করে ফুল নিয়ে যান আর এসব ফুল বিক্রি হয় সারাদেশে বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে।   কিন্তু এতো ফুল হয় কোথায়। রাস্তার দু`পাশে চোখ ও প্রাণ জুড়ানো অসংখ্য ফুলের বাগান। একজন চাষি বাগানে কাজ করছিলেন। তিনি বলেন প্রতিদিন তার বাগান থেকে ৪/৫ হাজার গোলাপ হয় আবার কখনো সেটি পাঁচশও হয়।      "জানুয়ারিতে ফুল আসবে। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি এখন"।  প্রতিদিনই এই গদখালী ও আশপাশের এলাকায় ফুলের রাজ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন অসংখ্য নারী পুরুষ।  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা একজন নারী বলেন, "চারপাশে ফুল আর ফুল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে গোলাপ নেই এখন। জারবেরা, গ্লাডিওলাস এগুলো দেখেও শান্তি পেলাম"।আরেক জন বলেন, "একটা হচ্ছে অনেক ধরণের ফুল আরেকটা হলো অনেক বেশি পরিমাণ ফুল। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফুল এখান থেকেই যায়"।অপর একজন বলেন, "কোথা থেকে এতো ফুল আসে সেটি দেখতেই গদখালীতে এলাম"।গদখালীতে ফুল চাষ শুরু হয়েছিলো কিভাবে তার খোঁজ নিতে গিয়ে সন্ধান মিললো শের আলী সরদারের।   তার দাবি চার দশক আগে তার হাত ধরে এখানে শুরু হয় ফুলের চাষ আর এলাকার ক্ষেতখামার থেকে বিদায় নিতে শুরু করে ধান পাট বা এ ধরণের প্রচলিত শস্য।তিনি বলেন, "১৯৮২ সালে এরশাদ আমলে এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমার বাবার নার্সারি ছিলো এবং আমি সেখানেই বসে ছিলাম। ভারত থেকে আসা এক ভদ্রলোক এসে পানি চেয়েছিলো।""তার হাতে ফুল। তিনি বললেন এই ফুল পশ্চিমবঙ্গে অনেক হয়। তো আমি ভাবলাম পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের মাটি তো এক। তখনই শুরু করলাম রজনীগন্ধা দিয়ে"।শের আলী সরদার ও স্থানীয় অন্যদের ভাষ্যমতে এভাবে প্রায় চার দশক আগে ফুল চাষের যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো তার এখন বিস্তার ঘটেছে পুরো অঞ্চল জুড়ে। এখন আসছে নিত্য নতুন জাতের ফুল। কোন ধরণের ফুল বেশি হয়গদখালীর যেকোনো দিকে তাকালেই চোখে পড়ে একটার পর একটা ফুলের বাগান। বিশেষ করে গোলাপ, গাঁদা আর অর্কিড, পাতাবাহার, রজনীগন্ধার বাগান রয়েছে অসংখ্য।  এর বাইরেও চোখে পরে পলি হাউজ বা ফুল চাষের বিশেষ ঘর। এসব ঘরে হয় জারবার ফুলের চাষ যার চাহিদা এখন অনেক বেশি বেড়েছে বলে জানা শের আলী সরদার। স্থানীয় চাষিদের একজন শাজাহান কবীর বলেন এসব ফুলের বাইরেও লিলিয়ামসহ নানা জাতের ফুল চাষ করছেন তারা।   বিদেশ থেকে আসছে বিশেষজ্ঞ চাষিরা গদখালীতে ফুল বাগান ঘুরে দেখার সময়ই দেখা হলো বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি মো: আব্দুর রহিমের সাথে।তিনি বলছেন, ভারত ও চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চাষিদের আনা হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তার জন্য বিশেষ করে পলি হাউজগুলো তৈরিতে সহায়তার জন্য।"ভারত ও চীন থেকে কৃষকরা আসেন আমাদের সহায়তায়। আবার বিএডিসি যে গবেষণা করে সেখানেও তারা সহায়তা করেন"।  কৃষক শাজাহান কবীর বলেন, নিত্য নতুন জাতের ফুলের চাষের জন্য আলাদা জ্ঞানের দরকার হয় এবং সেটি তারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাচ্ছেন।   এর ফলে ফুলের বাজার এখন গোলাপ, গাঁদা আর রজনীগন্ধার ওপর নির্ভরশীল নেই। কৃষকরা কেমন লাভবান হচ্ছেন? ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিমের ভাষ্যমতে, ফুলের বাজার এখন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার।প্রবীণ চাষি শের আলী সরদার বলছেন ধান ও পাটের চেয়ে ফুলেই বেশি লাভ আর এখন অনুষ্ঠান বা দিবস বেশি হয় বলে ফুলের চাহিদাও অনেকে বেড়েছে।শাজাহান কবীর বলেন, "সামনে ১৪ই ফেব্রুয়ারি আসছে। গ্রামের সবাই জানে তার আগেই প্রচুর ফুল সরবরাহ করতে হবে। সঙ্গত কারণেই দামও বাড়বে।""আবার তার কদিন পরেই একুশে ফেব্রুয়ারি তখন ফুল লাগবে একেবারে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত। এ ধরণের আরও কিছু দিবস আছে যেগুলোতে ফুলের ব্যবহার দিন দিন বাড়বে। তাই ফুল চাষে বিনিয়োগ নিরাপদ"।রহিম বলছেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই ফুল চাষ এবং নিত্য নতুন ফুলের জাত নিয়ে সরকারী বেসরকারি গবেষণাও শুরু হয়েছে।"আর এতসব উদ্যোগের কারণেই অন্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষেই চার পাঁচ গুন বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।"  ফলে চাষিদের ফুল চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার সংখ্যাও প্রতিবছরই বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। ফলে গদখালীর ফুলের সুবাসও ছড়িয়ে পড়ছে দেশ দেশান্তরে।  সূত্র: বিবিসি বাংলা    এসি       

প্রত্যাশা-প্রাপ্তির মেলবন্ধন সমৃদ্ধ চান্দিনায়

রাজধানী শহরে থাকতে থাকতে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য দেখে ঋতু নির্ধারণের সক্ষমতা হারিয়েছি কখন যে, মনে করতে পারি না। ক্যালেন্ডারের পাতা হাতড়ে দেখি, পৌষের শেষ। বাল্যকালে নিজ গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে মিলানোর চেষ্টা করি খানিকটা। খুব একটা সুবিধার হলো বলতে পারি না। কেননা, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে বাংলার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও। শীতটা জেঁকে বসেনি তখনও। তবে প্রকৃতিতে শীতের আমেজ টের পাওয়া যায়। বিকালে চান্দিনার কাশিমপুরে পৌঁছি। কাশিমপুর গ্রামটি ডাকাতদের গাঁ নামেই পরিচিত ছিল বছর কয়েক আগেও, মানে ছয় বছর আগে। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম। উপজেলা শহর থেকে ৮/৯ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে হাজার চারেক লোকের বসতি। কাশিমপুরে পৌঁছি যখন, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে। বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে তখন লাল আভার সূর্য। পাশে একটি খেলার মাঠ। মুখে মৃদু হাঁসি চলে আসে। ইশ! এমন একটা খেলার মাঠের জন্য কত আহাজারি ছিল। নিজ গ্রামে খেলার মাঠ ছিল না। সেই কচি বয়সে এক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। কখনো কখনো নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে পিচ কেটে ক্রিকেট মাঠ বানিয়েছি। আজ এত সুন্দর মাঠ, শুন্য পড়ে আছে কিশোর দলের কোলাহল ছাড়া। মাঠ ছেড়ে সামনে এগোই। গ্রামের মধ্য দিয়ে সরু একটা সড়ক। অবাক লাগে, এই সরু সড়কটাও পাকা। আক্ষেপ জেগে ওঠে মনে। আমার বাড়ি নাটোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামে, বড়াল নদীর তীর ঘেষা গ্রামে। সড়ক পথের পাশাপাশি নদীপথের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কের সংযোগ আমার গ্রামে। অথচ, সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, চৈত্র মৌসুমে ধুলোর সাগর, আর বর্ষায় হাঁটু কাদা। কাশিমপুরের মতো ছোট্ট গাঁয়ের সরু সড়কেও যেখানে পীচের আস্তরণ পড়েছে, আমার সড়কগুলো রয়ে গেছে বালি, এঁটেল বা দোঁ-আশ মাটির আবরণ নিয়েই। ইট-পাথরের শহরে রুটি-রোজগারে ছুটে চলা নিরন্তর। জীবন যেখানে কনক্রীটময়, সেখানে সামান্য ফুসরত পাওয়াই কঠিন। তাই তো, কত বর্ষা চলে যায়, রাতের পর রাত স্নিগ্ধ কিরণ ছড়িয়ে চলে রূপালী চাঁদ- এসব সৌন্দর্য দেখার সময় আর হয়ে উঠে না। তাই পেশাগত কাজের ফাঁকে বা দৈবক্রমে যখন সবুজ প্রান্তরে পৌঁছে যাই কখনো বা, আনন্দে মন ভরে ওঠে। তৃপ্তি ভরা চোখে দেখতে থাকি প্রকৃতির নানা রূপ আর সৌন্দর্য। কাশিমপুরের মেঠোপথ আর সোনালী ধানের খেত দেখে তাই আহলাদিত হই। একা একাই হেঁটে চলি সরু সেই পাকা সড়ক দিয়ে। চোখে পড়ে ব্যাটারি চালিত রিকসা। সহজ যাতায়াতের বাহন হিসেবে ব্যাটারি চালিত রিকসা বা ভ্যান এখানে বেশ জনপ্রিয়। হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগোই। দেখা হয় কাশিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহসানের সাথে। অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা করার ফলে সারাদেশে বিদ্যুৎ বাতির প্রসার, এলএনজি সরবরাহ, সৌর বিদ্যুতের সঞ্চালন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান, পাকা সড়ক প্রশস্তকরণের হিসাব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত বলা চলে। তাই সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সময় সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মুখে শোনা তথ্য বা পরিসংখ্যান ব্যুরো, মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাইয়ে সাংবাদিকতার মনোভাব জেগে ওঠে।  কথা জমাই। স্বভাবে অস্থির আহসান জানায়, তিন বছর আগে এই পাকা সড়ক হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফ পাকা সড়ক করে দিয়েছেন। ছোট্ট কিশোরের মুখে সাংসদের নাম শুনে আগ্রহ জাগে। ততক্ষণে সেখানে জড়ো হয় বেলাল, কাশেম, জহুরুলসহ আরো কজন কিশোর। জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, প্রবীণ এই সাংসদ নিয়মিতই গ্রামে আসেন। তাদের মাদ্রাসাতেও যেতে ভুলেন না, শ্রেণি কক্ষে গিয়ে সবার কুশল জিজ্ঞাসা করেন, বাবা মায়ের খবর জানতে চান। কে কি পড়া শিখে এসেছেন তাও জিজ্ঞাসা করেন তাদের। আহসান জানায়, সাংসদের কাজ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা নেই। তবে গ্রামে কেউ মারা গেলে, ছেলে বা মেয়ে কারও বিয়ের অনুষ্ঠান হলে বা তাদের মাদ্রাসা বা অন্য বিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম হলে সেখানে উপস্থিত হন অধ্যাপক সাহেব। আহসানদের মাদ্রাসা, কাশিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা অনুষ্ঠানেই হাজির হন অধ্যাপক আলী আশরাফ। সাংসদ বা সাহেব নয়, আলী আশরাফ তাদের কাছে পরিচিত দাদু হিসেবে। কিশোর বয়সে স্থানীয় প্রশাসনের হালহকিকত সম্পর্কে তাদের ধারণা দেখে বুঝতে পারি, কেবল সরকারি প্রেস নোটের ভাষ্যই নয়, প্রকৃতপক্ষেই বড় হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি, এগোচ্ছে দেশও। পরে খোঁজ করলাম কিশোরদের মুখে শোনা ভাসা ভাসা তথ্যের। এলজিইডির তথ্য বলছে, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের (কাবিখা) আওতায় ২৫১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩৪ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ও নগদ অর্থের ৫৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা নির্মাণ ও পুণঃনির্মাণ করা হয় গেল কয়েক বছরে। ১ হাজার ৯৬১টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান, ১৫৭টি মন্দির, ৭৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪০৭টি সংযোগ রাস্তার কাজও সম্পন্ন হয়েছে সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফের উদ্যোগে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে ১ হাজার ৫৬৮ জন। শুধু উন্নয়নই করেননি, তার কঠোর পদক্ষেপের ফলে কুমিল্লা-৭ আসনে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজ ও মাদক মুক্ত হয়েছে। আলী আশরাফ কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের বর্তমান এমপি ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার।   ২. হাঁটি আরও কিছুক্ষণ। গ্রামের এই সড়কের দুপাশেই পুকুর। অনেকগুলো পুকুর। মনে পড়ে, বনপাড়ার মালিপাড়া গ্রামে সড়কের দুপাশে এমন অসংখ্য পুকুর দেখেছিলাম। ছোটবেলায় দেখা মালিপাড়ার পুকুরে এখন মাছ চাষ হয় কি না জানি না। তবে কাশিমপুরের প্রতিটি পুকুরেই মাছ চাষ হয়, চাষ হয় হাসও, সমন্বিত পদ্ধতিতে। মজার দৃশ্য হলো, প্রতিটি পুকুরেই পানির ওপরে জালি বিছানো। রাস্তার ধারে চায়ের দোকান। বসে পড়ি সামনে পেতে রাখা বাঁশের বেঞ্চিতে। দোকানের মালিক পঞ্চাশার্ধো আবদুল মজিদ। মাথায় টুপি, মুখ ভর্তি পান। একটু পর পর পিক ফেলছেন পাশে রাখা কাগজের ঠোঙায়। মুখে প্রশান্তির ছায়া। কথা শুরু হলো। জানালেন এটিই ডাকাতদের গ্রাম। আলী আশরাফ এম পির উদ্যোগে ডাকাতদের কয়েকটি পরিবারের পূর্নবাসন হয়েছে। এলাকাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি গেল প্রায় বছর পাঁচেক হলো। গ্রামে কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে। এলাকার লোকজনও বেশ ধর্মমনা। আবার স্থানীয়দের অর্ধেকই হিন্দু ধর্মালম্বী। তা সত্বেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও হয়নি, সংঘাত তো পরের ব্যাপার। বললেন, ওই যে সড়কের ওপারের পরিবারগুলোই হিন্দু ধর্মের লোকজনের। ‘আমাদের মাঝে চমৎকার সম্পর্ক।’ চায়ের কাপে চুমুকের সাথে চোখ বুলাই দোকানের ভেতরে। দেশীয় ব্র্যান্ডের একটি ফ্রিজ, ওয়ালে ঝুলানো টিভিও। কয়েকজন বসে টিভি দেখছে। হাতে চায়ের কাপ, সিগারেটও ফুঁকছেন কেউ কেউ। মনে পড়লো বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের একটি অতি পরিচিত বক্তব্যের কথা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি প্রায়ই বলেন, বিপুল পরিমাণ চা উৎপাদন সত্বেও এখন রপ্তানি কমে গেছে। কেননা, দেশের মানুষ এখন সকাল সন্ধ্যা চা খায়। মজিদ বলছিলেন, তার দু ছেলে দুবাইয়ে কর্মরত। স্থানীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের পর দেশের বাইরে গেছে কাজ নিয়ে। ফলে সংসারে অভাব নেই দীর্ঘ দিন। তিনি সুখী, আরও বেশি সুখী এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে। তখন মাইকে ভেসে আসছিল কাশিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের একটি উঠোন বৈঠকে বক্তৃতার সুর। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এর আয়োজন করেছে আলী আশরাফের সমর্থক কর্মীরা। ওখানে বক্তব্য রাখছিলেন এমপি পুত্র মুনতাকিম আশরাফ টিটো। মজিদ জানালেন, গ্রাম ডাকাতমুক্ত হওয়ার পর নিজের অর্থে জমি কিনে এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় করে দিয়েছেন আলী আশরাফ। এছাড়া তার মেয়াদে ১০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।  আরও ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ চলমান ও ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহসহ নুতন ভবন নির্মাণ করা হয়। আরও ৮টি বিদ্যালয়ে নুতন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। মজিদের সঙ্গে যোগ করেন স্থানীয় যুবক রওশন আলী। আগ্রহ নিয়েই জানতে চাই, এমপি পুত্র সম্পর্কে। এমপি পুত্র সম্পর্কে সারাদেশে অভিজ্ঞতা যে খুব একটা সুখকর নয়, তা গণমাধ্যমের মাধ্যমেও জেনেছি। বেশিরভাগই উচ্ছেন্নে যাওয়া। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জিজ্ঞাসা। রওশন জানান, তিনি না কি ঢাকার বড় ব্যবসায়ী। নেতাও বটে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান। কিন্তু এলাকায় এলে সাধারণভাবে তাদের সাথে মিশেন। রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে বসে যুবক-মুরব্বীদের সাথে কথা বলেন, চা খান। তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। এলাকার যে কেউ ফোন দিলেই তার সাথে কথা বলতে পারেন। গরীব-দুঃখীসহ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের তিনি সহযোগিতা করেন, উৎসাহিত করেন। পরে মিলিয়ে দেখলাম মুনতাকিম ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি দেশে সরকারি-বেসরকারি সফরে গেছেন। ব্যবসায়ীদের মাঝে তার যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বেরও অধিকারী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরে আরেকটু খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বয়সে তরুণ এই নেতার এলাকা নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন একান্তই ব্যক্তিগত উদ্যোগে, যার লক্ষ্য তারুণ্য যেন প্রশিক্ষণ নিয়ে যথাযথ প্রতিভা কাজে লাগাতে পারে।   ৩. আমরা পরের দিন সকালে যাই চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই ইউনিয়নে। বাজারে চায়ের দোকানে বসি। নানা আলাপচারিতায় প্রসঙ্গ আসে জাতীয় নির্বাচনও। ততক্ষণে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী। সাথে মাদ্রাসার হুজুর শওকত আলী। তারা মোটামুটি বিচ্ছিন্নভাবে এমন তথ্যগুলোই এমনভাবেই বলছিলেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কেবলই জনগনের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছেন। নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চান্দিনা পৌরসভা গঠন করেন। গেল এক দশকে চান্দিনায় ৬৬ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৫৬ কিলোমিটার সড়ক মেরামত, ৪টি বড় ব্রীজ নির্মাণের চলমান কাজসহ চান্দিনা ও দোল্লাই নবাবপুর বাজার উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এই সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। ৮৬টি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। হাসপাতালে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। বিএনপি আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৭ টি কমিউনিটি ক্লিনিক পুনরায় চালু করা হয়েছে। মহিচাইল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে তারই নির্দেশনায়। এ ছাড়া বরকইট, মাইজখার ও বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকাব্বের আলী। বয়সের হিসাবে প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। এখনও সুঠামদেহী এই ভদ্রলোক জানালেন আলী আশরাফ সম্পর্কে। তার ভাষায়, বছরের বেশিরভাগ সময়ই আলী আশরাফ তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকা ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি করেন। সুখে-দুখে জনপ্রতিনিধিকে পাশে পেয়ে বরাবরই উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তার বাবার নামের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি গরীব দুঃখীদের সেবা করেন সারাবছরই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের সুখ-দুঃখের কথা শুনেন, সমস্যা সমাধানে আর্থিকসহ সবধরণের সহযোগিতা করেন। টাকার সংকট হলে নিজ থেকে অর্থ দিয়ে গরীব মেয়েদের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আর বলতে গেলে ওই এলাকার গরীব শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই পড়াশোনার খরচ যোগান দেন তার সংসদীয় তহবিল, বাবার নামের ফাউন্ডেশন বা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। মানবদরদী বৈশিষ্ট্যের কারণে আলী আশরাফ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে গরীবের বন্ধু বলেই পরিচিত। পরে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্যের সত্যতাও পেয়েছি। আমার কাছে মনে হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা, মাথাপিছু আয়, রপ্তানিপ্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহসহ সামাজিক নানাসূচকেই এগিয়েছে বিস্ময়করভাবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এদেশের ১৬ কোটি জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন ও চলমান উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই কাজ এগিয়ে নিতে যে দরকার একঝাঁক নিষ্ঠাবান সাংসদ। সব মানবীয় গুণাবলী নিয়ে যে আলী আশরাফ যোগ্য একজন প্রতিনিধি, তা বলার অবকাশ নেই। জনগণের ভোটের মাধ্যমে এমপি নির্বাচিত হয়ে গত তিন দশক ধরে তিনি এলাকায় সততা ও নিষ্টার সাথে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছেন। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাক- এমনটা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আমিও প্রত্যাশা করি। আলী আশরাফের সাথে রয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ও চান্দিনা উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে কথা হয় চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আইউব আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বক্সীর  সঙ্গে। তারা বলেন, বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আশরাফের অব্যাহত প্রচেষ্টায় চান্দিনা আজ উন্নত জনপদ। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ফ্রিডম পার্টি গঠন করে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আলী আশরাফ কে প্রাণনাশের চেষ্টা করে। তখন সব ভয় উপেক্ষা করে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তিনি তৎকালীন পাঁচটি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করে সংগঠনের শক্তিশালী ভীত তৈরি করেন।   ৪. চান্দিনায় গিয়েছিলাম বন্ধুর বাসায়, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগদান আর এলাকা ঘুরে দেখা। দেখার ষোলআনা পূর্ণ হওয়ার পর চেষ্টা করি এমপি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের। তিনি ঢাকায় থাকায় বন্ধুর সৌজন্যেই দেখা হয় মুনতামিক আশরাফের সঙ্গে। চান্দিনায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বসে কথা বলি। প্রায় ঘন্টাখানেকের এই আলাপের সময় দেখেছি, গেস্ট রুমে অপেক্ষা করতে এলাকার রিকসাচালক, দিনমজুর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, মসজিদের মুয়াজ্জিম ও ইমাম, স্কুলের নৈশপ্রহরীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। কেউ আসছেন অভাব অভিযোগ নিয়ে, কারও আবদার নানা সুপারিশ। মজার ব্যাপার, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আসছে তার সাথে সেলফি উঠানোর জন্য। পানের দোকানদার এক মুরব্বি তো বলেই ফেললেন, বাবার ছায়া দেখতে পান ছেলের মধ্যে। তাই আলী আশরাফ কে না পেলে তারা মুনতাকিমের কাছে ভীড় করেন। মুনতাকিমও ব্যস্ততার মাঝে হাসিমুখে সবাইকে সময় দেয়ার চেষ্টা করেন। তরুণ এই নেতা জানালেন, চান্দিনার উন্নয়নে রয়েছে তার বিশেষ পরিকল্পনা। দেশে-বিদেশে ঘোরার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপজেলাকে সমৃদ্ধ উপজেলার অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার বাবা অধ্যাপক আলী আশরাফের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে চান তিনি। জানালেন, উপজেলায় এগ্রো প্রসেসিংয়ের কয়েকটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করবেন। প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণমূলক কেন্দ্র স্থাপন করবেন। যেন, কম পড়ালেখা করেও স্থানীয় দরিদ্র যুবকরা দেশে ও বিদেশে ভালো প্রতিষ্ঠানে সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে চান। নির্বাচনের বাকি বলতে গেলে তখনও মাসখানেক, আমরা যে সময় সেখানে গিয়েছিলাম। মুনতাকিমের ব্যস্ততা বাড়ছিল মোবাইল ফোনেও, যার বেশিরভাগই এলাকার লোকজনদের। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়ি রাজধানীর উদ্দেশ্যে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে তখন ব্যস্ততম যানের দ্রুত চলাচল। গাড়িতে চেপে বসি আমরাও। সমৃদ্ধ একজনপদের তুষ্টির গল্প নিয়ে আবার ফিরতে শুরু করি ব্যস্ততম শহরে। লেখক# বিজনেস রিপোর্টার, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

কীভাবে পৃথিবীর দখল নিলো এই মুরগি

লন্ডনে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় খুঁজে পাওয়া মুরগির হাড় নিয়ে গবেষণার পর বলা হচ্ছে, এখনকার মুরগি তাদের আদি প্রজাতির চেয়ে একবারে ভিন্ন।   পৃথিবীতে যে কোনো একটি সময়ে জীবন্ত মুরগির সংখ্যা ২৩০০ কোটি।বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে আমাদের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে, মুরগি তার একটি প্রতীক। প্রাণীজগতে বিবর্তন ঘটে কম-বেশি ১০ লাখ বছর ধরে। কিন্তু মুরগির ক্ষেত্রে এই বিবর্তন হয়েছে অনেক কম সময়ে।জঙ্গলে মুরগি দিনে দিনে কমেছে, কিন্তু সেই সাথে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে দোকানে মুরগির সরবরাহ।  ব্রিটেনের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ড. ক্যারিজ বেনেট বলছেন, মুরগির যে সংখ্যা বৃদ্ধি, সেটা বিশ্বের অন্য যে কোনো প্রজাতির পাখির ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যাবেনা।"বলতে পারেন, আমরা মুরগির দুনিয়ায় বসবাস করছি।"  বিশ্বের মুরগির তুলনামূলক সংখ্যা যে কত বেশি, কিছু পরিসংখ্যান দিয়ে তা বোঝা যেতে পারে :-২০১৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৬,৬০০ কোটি মুরগি জবাই করা হয়েছে। সে তুলনায় মাংসের জন্য শুকর জবাই হয়েছে ১৫০ কোটি, গরু-মহিষ-ভেড়া জবাই হয়েছে ৩০ কোটি।     -বিশ্বে ফ্রাইড চিকেন অর্থাৎ ভাজা মুরগির দোকান রয়েছে ২৫,৫০০।     -পাঁচ থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা থেকে মাংসের জন্য উপযোগী ব্রয়লার মুরগি তৈরি হচেছ খামারে।-দু’শ বছর আগেও বিশ্বে যেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি কবুতর ছিল, এখন তা কমতে কমতে নিঃশেষ হওয়ার পথে।  ড. বেনেট বলছেন, অনেক পরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি করবে, তখন মাটির নীচে তারা হয়তবা "টিনের ক্যান, কাঁচের বোতল, প্লাস্টিকের টুকরো খুঁজে পাবে। সেই সাথে পাবে মুরগির হাড্ডি।"আট হাজার বছরে জঙ্গল থেকে ঘরে   বর্তমানের গৃহপালিত মুরগি লাল বন মুরগির বংশধর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রপিক্যাল বা উষ্ণমন্ডলীয় জঙ্গলে বিচরণ ছিল এই লাল মুরগির।আট হাজার বছর আগে ঐ বন মুরগির প্রজাতিকে বশ মানিয়ে গৃহপালিত পাখিতে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারপর দ্রুতগতিতে তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবী জুড়ে। ব্যবহৃত হতে থাকে মাংস এবং ডিমের জন্য।  পঞ্চাশের দশকে কৃত্রিমভাবে মুরগির আকৃতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই থেকে ওজনে ও আকৃতিতে মুরগির অবিশ্বাস্য পরিবর্তন হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা        এসি   

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ

কাতার, কুয়েত, আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেনকেই আমরা সাধারণত উন্নত দেশ হিসেবে চিনি। কিন্তু এই সব দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিম ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ ‘মোনাকো’। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই দেশটির মাথাপিছু আয় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। মোনাকো কখনো তাদের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে না। কিন্তু ধারণা করা হয় যে, তাদের বাৎসরিক জিডিপি আয় প্রায় ৫.৭৪৮ বিলিয়ন ডলার। আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন, প্রাইভেট ও সরকারি ব্যাংকিং খাত (ফরেন কোম্পানি রিজার্ভ)। মোনাকোতে বিশ্বের অনেক নামিদামি আন্তর্জাতিক ব্যাংক রয়েছে, যারা তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা করে।এখানে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন পর্যটক আসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে মন্টে কার্লোতে। এটিই জুয়াড়িদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মোনাকো সরকার ১৯২৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মোনাকো গ্রান্ড প্রিক্স (কার রেইস প্রতিযোগিতা) আয়োজন করে থাকে। এটি প্রতি বছরই মে মাসে আয়োজন করা হয়। মোনাকো কখনো তাদের আধিবাসীদের উপর ট্যাক্স আরোপ করে না।তবে ২০১৬ সালে মোনাকো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ট্যাক্স ট্রান্সপারেন্সি চুক্তি করেছে, যা ২০১৮ সাল নাগাদ কার্যকরী হতে পারে। মোনাকো একটি দেশ যেখানে কোনো কৃষি বা গ্রাম নেই। দেশটির পুরোটাই শহর। দেশটির ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়, মোনাকো ১৯৯৩ সালের ২৮মে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এটি রিপাবলিক অব জেনোয়া থেকে ১২৯৭ সালে ৮ জানুয়ারি স্বাধীনতা লাভ করে। সাংবিধানিক নাম প্রিন্সিপালিটি অব মোনাকো। দাফতরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ। দাফতরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ হলেও তারা বিভিন্ন ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মোনগাস্ক ও মোনাকান নামে ডাকা হয়। পতাকা হুবহু ইন্দোনেশিয়ার মতো, তবে আয়তনে ভিন্নতা আছে। আয়তন প্রায় ২.০২০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৩০৮ এর মতো। তিন দিকে ফ্রান্স আর অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর। ইতালির খুব কাছাকাছি। মুদ্রা ইউরো। গড় আয়ু ৮৯ বছরের বেশি। মোনাকোতে ১২৫ দেশের মানুষ বসবাস করে। রাজধানী মন্টে কার্লো ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত।এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি