ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৪৭:০৫, শুক্রবার

শমীকে নিয়ে উত্তাল মিডিয়া, কি ঘটেছিল সেদিন?

শমীকে নিয়ে উত্তাল মিডিয়া, কি ঘটেছিল সেদিন?

সাংবাদিকদের সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শমী কায়সারের আচরণকে ‘নিকৃষ্ট দুর্ব্যবহার’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে শমীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন দুটি। শমী কায়সারকে নিয়ে মিডিয়ায় উত্তাল মিডিয়া। মুল ধারার মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে শমীকে নিয়ে বেশ সমালোচনা। আসলে কি ঘটেছিল সেইদিন প্রেসক্লাবে। এক যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এ আহ্বান জানান বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। ডিইউজে যুগ্ম-সম্পাদক আকতার হোসেনের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরীদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকেই নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন সেলেব্রিটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানো’র সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন, তা সেলেব্রিটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মত একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়। এ ধরনের নিকৃষ্টতম দুর্ব্যবহারের জন্য সাংবাদিক সমাজের কাছে শমী কায়সারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা বলেন, যত বড় সেলেব্রিটিই হোন না কেন, তার সংবাদ বর্জন করা হবে। প্রয়োজন হলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে সাংবাদিক সমাজ নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিস্তারিত জানাতে বাধ্য হবে। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটনবিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শমী কায়সার। তিনি ই-ক্যাবের সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শমী কায়সার জানান, তার মোবাইল ফোন দুটি খুঁজে পাচ্ছেন না। এতে উপস্থিত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক হতভম্ব হয়ে পড়েন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। একপর্যায়ে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা মিলনায়তনের মূল গেট বন্ধ করে দেন। শমী কায়সার উপস্থিত সবার দেহ তল্লাশি করার কথা বললে সাংবাদিকরা তাতে সম্মতি দেন। দেহ তল্লাশি শেষে সাংবাদিকরা বের হতে চাইলে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এতে সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করার উদ্যোগ নেন। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের লাইটিংয়ের দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মী মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে বের হয়ে যান। ওই দৃশ্য দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন শমী কায়সার। পরে শমী কায়সার সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার ফেসবুকে লিখেন, ‘ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটনবিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধনকালে বক্তব্য দিতে যাই আমি। বক্তব্য শেষ করে কেক কাটার সময়ই হঠাৎ দেখি- আমার স্মার্টফোন দুটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোন দুটিতে কল দিয়ে তখনো সচল পাচ্ছিলাম। আসলে মুঠোফোন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে সেখানে। আয়োজকরা ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে মিলনায়তনের মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা সহযোগিতার মনোভাবে দেহতল্লাশি করার অনুমতি নিয়ে এগিয়ে আসেন। পরে সাংবাদিক ভাইদের ক্যামেরায় কিছু চলমান ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছে। তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে মূলত অসাধু কারণে এখানে এসেছিল এবং সে এর আগেও প্রেসক্লাব ও শিল্পকলায় এইরূপ জঘন্য কাজ করেছে। প্রেসক্লাব আমার নিজের জায়গা বলেই আমি দাবি অনুভব করি। আয়োজকরা এবং উপস্থিত সবাই আমার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। আমি স্বাভাবিক ভাবেই খুব আপসেট ছিলাম, কিন্তু আমি এমন কোনো অসম্মানজনক বক্তব্য দেইনি এবং আমি একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিকের সন্তান হিসেবে তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটির জন্য সব উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করি। এটা আসলেই অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।তবে, তার ওই ঘটনার জন্য সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে সাংবাদিকরা শমী কায়সারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিকরা শমী কায়সারের এই ব্যবহার নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। ফেসবুকে তাকে নিয়ে নিন্দার ঝড় থামছে না। এসএইচ/
সাংবদিক মারধরের প্রতিবাদে বেরোবিসাসের মানববন্ধন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিস লিমিটেডের গ্রাহক হয়রানি ও প্রতারণার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। এই হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)। মারধরের শিকার হওয়া সাংবাদিকরা হলেন- ডিবিসি নিউজের রংপুর ব্যুরো চীফ নাজমুল ইসলাম নিশাত, বার্তা২৪.কমের রংপুর স্টাফ করোসপন্ডেন্ট ফরহাদুজ্জামান ফারুক ও ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মহসীন আলী। রোববার বেলা ১১টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ, সময় টেলিভশনের স্টাফ রিপোর্টার হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, বেরোবি ডিবেট ফোরামের সভাপতি এইচ এম আব্দুল কাদের প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হলো জাতির বিবেক। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা মারধর ও লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা খুবই দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক না কেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় সরকারের কাছে হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানান বক্তারা।প্রতিবাদ সভা সঞ্চালনায় ছিলেন বেরোবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম বকুল এবং সভাপতিত্ব করেন বেরোবিসাসের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এসএইচ/

নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করুন: নিজাম হাজারী

নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানিয়েছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি বলেন, আপনারা ফেনীর সন্তান হলেও রাজধানীতে বসে সারাদেশের সংবাদ পরিবেশন করছেন। জাতি আপনাদের কাছে নিরপেক্ষ সংবাদ আশা করে। শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ন্যাম ভবনে ফেনী সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা(এফএফএফডি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিজাম হাজারী এমপি বলেন, আপনারা ঢাকায় সাংবাদিকতা করলেও ফেনীর জন্য আপনাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। ফেনীর উন্নয়নের জন্য আমাদের অনেক কাজ করার আছে। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি ফেনীবাসীর জন্য। ফেনীর উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে মানুষ হিসেবে ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যেতে পারে। আমি আশা করবো আপনারা আমার ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে বলবেন যাতে আমি শুধরে নিতে পারি। তিনি দলমত নির্বিশেষে ফেনীবাসিকে সমান চোখে দেখেন এবং ফেনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাকে গুরত্ব দেন বলেও মন্তব্য করেন। ফেনী সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা (এফএফএফডি)-এর সভাপতি তানভীর আলাদিনের নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম জাহিদ, সহ-সভাপতি আমানুর রহমান ও জিল্লুর রহীম আজাদ, যুগ্ম-সম্পাদক জাফর ইকবাল, সংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন তারেক, কোষাধ্যক্ষ এহ্সান জুয়েল, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মীম, সদস্য ইলিয়াস মাহমুদ প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার। এসি  

চার সাংবাদিক পেলেন সাইবার অপরাধবিষয়ক পুরস্কার

চার সাংবাদিক পেলেন ‘সাইবার অপরাধ ও সহিংস উগ্রবাদ বিষয়ক সাংবাদিকতা ফেলোশিপ-২০১৯’ এর পুরস্কার।  শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটেতে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক মীর মো. নজরুল ইসলাম। সাইবার অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য তাদেরকে ফেলোশিপ সনদ, সম্মাননা স্মারক এবং সম্মানি হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। পুরস্কার পাওয়া চার জন হলেন, বিবিসি বাংলার ফয়সাল মো. তিতুমীর, নিউজ২৪-এর সিউল আহমেদ, এনটিভির আরাফাত আলী সিদ্দিকী এবং দৈনিক সমকালের সাজিদা ইসলাম পারুল। ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ হাসান, উপদেষ্টা এ কে এম নজরুল হায়দার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম আনিছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এমএইচ/

সরকার মিডিয়ায় কোন ধরনের সেন্সরশিপ আরোপ করছে না : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’-এর প্রতিবেদন নাকচ করেছেন। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’ কর্তৃক তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ‘প্রেস ফ্রিডম সার্ভে ইনডেক্স’-এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সরকার মিডিয়ায় কোন ধরনের সেন্সরশীপ করছে না।’ ওই জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নিচে নেমে ১৫০তম হয়েছে। আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘রূপসী বাংলা জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান’-এ যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত না এবং আমি মনে করি বাংলাদেশে গনমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’ বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (বিপিজেএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ড. হাছান বলেন, ‘সংগঠনটির সূত্রে, আমি জানি শীর্ষ দশটি দেশে সংবাদ প্রকাশে অনেক বিধি নিষেধ রয়েছে। এমনকি তাদেরকে (গণমাধ্যম) যেকোন ভুল সংবাদের জন্য জরিমানা দিতে হয়। আমি জানিনা তারা কিভাবে জরিপ করেছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং গত ১০ বছরে গণমাধ্যম শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটেছে। সংবাদপত্রের সংখ্যা সাতশ’ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার দুইশ’ হয়েছে এবং ৩৩টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রচার চালাচ্ছে।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, সরকার গণমাধ্যমের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি (বেগম জিয়া) এখন কারাগারে। ‘তিনি যদি জামিন প্রার্থনা করেন আদালতই একমাত্র তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে বেগম জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে তার আবেদনটি সরকার বিবেচনা করবে। এছাড়া তার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।’ বিএনপি’র নির্বাচিত এমপি’দের সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা যদি সংসদে যোগ দেয় দেশের জনগণ তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো।ড. হাছান বলেন, বিএনপি সংসদে যোগ দিলে তা হবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। ‘আমি মনে করি তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. হাছান ফটোসাংবাদিকতা পেশায় নতুনদের উৎসাহিত করার জন্য প্রতি বছর এধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করার জন্য ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রতি আহবান জানান। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।এছাড়া শিল্পকলা একাডেমীর সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান, বিপিজেএ’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পরে মন্ত্রী তিনজন প্রবীণ ফটো সাংবাদিকের (মরনোত্তর) পরিবারের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।এই তিন সাংবাদিক হচ্ছেন এস এম মোজ্জাম্মেল হোসেন, মোশাররফ হোসেন লাল ও জহিরুল হক। এসএইচ/

সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ হলেন পিআইবি’র মহাপরিচালক

প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ পিআইবির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে সিনিয়র সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। সেই পদে জাফর ওয়াজেদকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। পেশাদার সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে একাধিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। দৈনিক সংবাদের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলাবাজার পত্রিকা ও মুক্তকন্ঠের প্রধান প্রতিবেদক এবং দৈনিক জনকণ্ঠের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন বৈশাখী টেলিভিশন ও সিএসবি নিউজ চ্যানেলেও। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন তিনি। এদিকে গত ১১ মার্চ পিআইবির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিআইবি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়েছিলো। আরকে//

বিএফইউজে ঈদের আগে নবম ওয়েজ বোর্ড চায়

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আগামী ঈদের আগে নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে গণমাধ্যমকর্মী আইন পাশ করার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাই বন্ধেরও দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।বরিশাল সার্কিট হাউজে বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালালের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ দাবি জানানো হয়। মহাসচিব শাবান মাহমুদের সঞ্চালনায় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিনের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ মামুন, খায়রুজ্জামান কামাল, শাহনেওয়াজ দুলাল, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সী মাহবুবুল আলম সোহাগসহ আরও অনেকেই। ঈদের আগে নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ না করলে এবং গণমাধ্যমকর্মী আইন সংসদে পাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেন সাংবাদিক নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মনোতোষ বসু, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ ও মহসীন কাজী। এর আগে বিএফইউজে নেতারা বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিস উদ্বোধন করেন। এসএইচ/

মিয়ানমারে বন্দি দুই রয়টার্স সাংবাদিক পেলেন পুলিৎজার

মিয়ানমারে কারাদণ্ডরত দুই রয়টার্স সাংবাদিক সোমবার (১৫ এপ্রিল) সাংবাদিকতায় সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ উগ্রপন্থী বৌদ্ধ গ্রামবাসী ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ করায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের এ প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়েই আটক হয়েছিলেন ওই দুই রয়টার্স সাংবাদিক। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায় মিয়ানমার পুলিশ। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। এ বছরের ১১ জানুয়ারি আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখা হয়। প্রায় ৫০০ দিন ধরে মিয়ানমারের কারাগারে থাকা ওই দুই রয়টার্স সাংবাদিককে সোমবার (১৫ এপ্রিল) পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন দিন গ্রামে সংঘটিত এক গণহত্যার চিত্র তুলে এনেছিলেন তারা। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া এ বছর আরও একটি পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রয়টার্সের এডিটর ইন চিফ স্টিফেন জে. এডলার বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি পাওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার খবর সংগ্রহ করার জন্য রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিক ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া ওই বছর আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার পান তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরেইন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, পেন/বারবেই ফ্রিডম টু রাইট অ্যাওয়ার্ড, ওসবর্ন এলিয়ট প্রাইজ, ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, জেমস ফলে মেডিল মেডেল ফর কারেজ ইন জার্নালিজম। মিয়ানমারে সেই দেশের সেনা সদস্যরা ওই দেশের রোহিঙ্গাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে খুন-ধর্ষণ করে। আর প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা। তথ্যসূত্র :রয়টার্স, সিএনএন। এসএইচ/

চাই মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা

জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের গ্রেফতারে আমি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করছে চিৎকার করে। ইকুয়েডরের সরকারের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ কমে গেছে। শেষপর্যন্ত আপোস! পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ২০১২ সালে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তখন তার পক্ষে বাইরে অপেক্ষায় থাকা জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অবাধ তথ্য প্রবাহের এক বিশ্ব চাই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার আছে। চাই মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবে। জনগনকে তথ্য জানাবে।’ অবরুদ্ধ থাকা অবস্থাই আরেক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘হুমকির মুখেও উইকিলিকস দাঁড়িয়ে আছে। টিকে আছে মত প্রকাশের অধিকার ও আমাদের সামাজিক সবলতা। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বোধোদয় চাই। তারা রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল মূল্যবোধে ফিরে আসুক। বিপদজনক ও নিপীড়নকারী এক দুনিয়ার দিকে আমাদের সবাইকে টেনে নেয়া থেকে বিরত থাকুক। আজ সাংবাদিকরা প্রতিহিংসার ভয়ে ভীত এবং নাগরিকরা কথা বলে অন্ধকারে ফিসফিস করে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বদলাতে হবে।’ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠার পর এটি আমার মতো অনেকের কাছেই অজানা ছিল। ২০১০ সালে বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার গোপন দলিল ফাঁস করে দিয়ে। বেরিয়ে যায় মার্কিনের আসল চরিত্র। দেশে দেশে মার্কিন কৌশল, নিবর্তনমূলক আচরণ উন্মোচিত হয়ে যায়। আর তাই খড়গ তুলে ধরে জুলিয়ানের ওপর, যেমন তুলে ধরা হয়েছিল অতীতে আরও অনেকের ওপর। তার বিরুদ্ধে দুটি নারী নির্যাতন মামলা করা হয়। লন্ডন পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য জুলিয়ান আশ্রয় নেন ইকুয়েডরের দূতাবাসে। আমরা যারা সংবাদকর্মী তাদের কাছে জুলিয়ান বড় আদর্শ। আমাদের নায়ক বলি ওঁকে। আমরাও অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাসী। জনগনের জানার অধিকার আছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি হ্যাক করে কোন অন্যায় করেনি জুলিয়ান। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা ঠুনকো একটি বিষয়। এরপরও মামলায় লড়বেন জুলিয়ান। তাকে আটক রেখে নয়, জামিন দিয়ে মামলা মোকাবেলা করার সুযোগ দেয়া হোক। জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের মুক্তি চাই। উইকিলিকস বেঁচে থাক। আসুন সবাই অবাধ তথ্য প্রবাহের দাবিতে সোচ্চার হই। লেখক : সিনিয়র বার্তা সম্পাদক মাছরাঙা টেলিভিশন এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি