ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:০৯:৩৬, শুক্রবার

বঙ্গবন্ধুর চাচাতো বোন হামিদা খানমের ইন্তেকাল

বঙ্গবন্ধুর চাচাতো বোন হামিদা খানমের ইন্তেকাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো বোন হামিদা খানম রানু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজের বাসায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ফুফুর মৃত্যুর খবর শুনে তার মরদেহ দেখতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানিয়েছে, হামিদা খানম রানুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হামিদা খানমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। মৃত্যুকালে হামিদা খানম এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে হামিদুর রহমান শিকদার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক। এসএ/  
নাসরীন হকের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার কর্মী নাসরীন হকের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৬ সালের ২৪ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নারীর ন্যায্য পাওনা ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে জাগ্রত এক চেতনার নাম নাসরীন হক। শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন উৎসর্গ করেছিলেন অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায়। নাসরীন হক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণা বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার ও পরে অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্মরণে নারীপক্ষ আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট ভবনে ‘সুদিনের প্রত্যাশায়, তোমাকে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নারীপক্ষের সদস্য ছিলেন তিনি। এবারের অনুষ্ঠান গান, কবিতা, নাটিকা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও নাচ ‘আমি চিত্রাঙ্গদা’ দিয়ে সাজানো হয়েছে। এসএ/

কবি বেলাল চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের আজকের এই দিনে রাজধানীর ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর ফেনীর শর্শদীতে বেলাল চৌধুরীর জন্ম। রফিকউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও কবি মনিরা আখতার খাতুন চৌধুরী দম্পতির নয় সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি। ১৯৫২ সালে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জেলে যান তিনি। সাংবাদিকতা, জেলখাটা ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বিচিত্র পর্ব পেরিয়ে ১৯৬৩ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান বেলাল চৌধুরী। সেখানেই তার সাহিত্যজগতের পূর্ণ আর্ভিভাব ঘটে। বেলাল চৌধুরী ১৯৭৪ সালে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলি কবিতা সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। কলকাতা-বাসের সময় সাহিত্য পত্রিকা কৃত্তিবাস সম্পাদনায় যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরে বিভিন্ন সময় সম্পাদনা করেছেন পল্লীবার্তা, সচিত্র সন্ধানী, ভারতবিচিত্রা। সম্পাদনা করেছেন বন্ধু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিবাহ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকাও। স্বনামের পাশাপাশি তিনি বল্লাল সেন, ময়ূরবাহন, সবুক্তগীন ছদ্মনামেও লিখেছেন। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিষাদ প্রদেশে, বেলাল চৌধুরীর কবিতা, আত্মপ্রতিকৃতি, স্থির জীবন ও নিসর্গ, জলবিষুবের পূর্ণিমা, সেলাই করা ছায়া, কবিতার কমলবনে, বত্রিশ নম্বর, যে ধ্বনি চৈত্রে শিমুলে, বিদায়ী চুমুক। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- স্টম্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল, ডুমুরপাতার আবরণ, চেতনার রঙ চন্দ্রশিলা, মিশ্রচিত্রপট, নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায় ও জীবনের আশ্চর্য ফাল্কগ্দুন। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি। এসএ/  

বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি। বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান ১৯০১ সালের ১ জানুয়ারি বরিশলের বাবুগঞ্জ থানার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আইন ব্যবসা ও বিচার বিভাগে যোগদানের পর পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় তার কবরে ফাতেহা পাঠ ও নিজ গ্রাম বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠিতে দোয়া মাহফিল এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুরে বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল হবে।  এসএ/  

লোকমান হোসেন ফকিরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চলচ্চিত্র পরিচালক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতজ্ঞ লোকমান হোসেন ফকিরের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ১৯৯১ সালের আজকের দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৩৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। লোকমান হোসেন একজন সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। নিজ গ্রাম নিকরাইলে ১৯৮৬ সালে শমসের ফকির বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। তার রচিত ও সুরারোপিত কয়েকটি গান হলো আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা, পতাকায় বাঁধা লাল সূর্যটা চিরদিন অম্লান থাকবে এবং আমায় একজন সাদা মানুষ দাও যার রক্ত সাদা, আমায় একজন কালো মানুষ দাও যার রক্ত কালো। তার এই গানটিতে সুর দিয়েছেন সঙ্গীতজ্ঞ ভূপেন হাজারিকা। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  এসএ/

ড. কামাল হোসেনের ৮৩তম জন্মদিন আজ

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের ৮৩তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৭ সালের ২০ এপ্রিল তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যায় থেকে জুরিসপ্রুডেন্সে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৮ সালে ব্যাচেলর অব সিভিল ল ডিগ্রি লাভ করেন। লিংকনস ইনে বার-অ্যাট-ল অর্জনের পর ১৯৬৪ সালে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের একজন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২-এর ৮ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তাঁকেও মুক্তি দেয়া হয়। ড. কামাল হোসেন ১৯৯২ সালে গণ ফোরাম গঠন করেন। ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে তিনি এ দলের সভাপতির এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জন্মদিন উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল দশটায় আরামবাগের ইডেন কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা। সভার শুরুতে ড. কামাল হোসেনের জন্মদিন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হবে। ড. কামাল হোসেন সভার সভাপতি হিসাবে এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন। এসএ/  

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকী আজ 

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ এই অসীম সাহসী যোদ্ধা। মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মোস্তফা কামাল। এর আগে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ঘিরে তিনটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তোলে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল। দক্ষিণ দিক থেকে নিরাপত্তার জন্য দরুইন গ্রামের দুই নম্বর প্লাটুনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সিপাহি মোস্তফা কামাল ছিলেন এই প্লাটুনেই। তার কৃতিত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য মৌখিকভাবে তাকে ল্যান্স নায়েকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল তার ৭০ গজের মধ্যে শত্রুপক্ষ চলে এলেও থামেননি তিনি। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেননি। এতে পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ধাওয়া করতে পারেনি। নিজের প্রাণ দিয়ে পুরো প্লাটুনকে রক্ষা করেন মোস্তফা কামাল। আখাউড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙালির এই বীর সন্তান। তার অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এসএ/  

কাঙাল হরিনাথের ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বাউল গানের রচয়িতা কাঙাল হরিনাথ তথা হরিনাথ মজুমদারের ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ১৮৯৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৩৩ সালের ২২ জুলাই নদীয়া (বর্তমান কুষ্টিয়া) জেলার কুমারখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাঙাল হরিনাথ। ফকির চাঁদ বাউল নামে পরিচিত কাঙাল হরিনাথ গ্রামের সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য এবং তাদের শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে সারা জীবন আন্দোলন করেছেন। কাঙাল হরিনাথ সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় লিখতেন। ১৮৬৩ সালে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এতে কৃষকের প্রতি তখনকার নীলকর ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচারের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হতো। ফলে ব্রিটিশ সরকার ও স্থানীয় জমিদারদের পক্ষ থেকে তাকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পত্রিকাটি সে সময় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। হরিনাথ ফকির লালন শাহর শিষ্য ছিলেন। আধ্যাত্মবাদ প্রচারের জন্য ১৮৮০ সালে ‘কাঙাল ফিকির চাঁদের দল’ নামে একটি বাউল দল গঠন করেন তিনি। গানে ‘কাঙাল’ নামে ভণিতা করতেন বলে এক সময় কাঙাল শব্দটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। একে//

লেখিকা তসলিমা নাসরিন গুরুতর অসুস্থ

লেখিকা তসলিমা নাসরিন গুরুতর অসুস্থ। তিনি একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত। ফুসফুস, লিভার ও কিডনিতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে তার। তবে ব্যস্ততার কারণে চিকিৎসায় মন দিতে পারছেন না এই লেখিকা। আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। নিজের ফেসবুকে এক আবেগী স্ট্যাটাসে তসলিমা লেখেন- ‘এসব রোগে হঠাৎ একদিন শুনবেন মারা গেছি।’ তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘অদ্ভুত আমি। কোনো কিছু নিয়ে পাগল হই, দুদিন পর ভুলে যাই। ফুসফুসে কী সব ধরা পড়ছে, দৌড়োদৌড়ি ডাক্তারের কাছে, একজন নয়, দু-তিনজন স্পেশালিস্টের সঙ্গে মিটিং করা হয়ে গেল। এর পর কী জানি কী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম, ফুসফুস নিয়ে যে কিছু একটা করতে হবে ভুলেই গেলাম। লিভার-কিডনি নিয়েও একই ঘটনা। লিভারে ফ্যাট জমতে জমতে সর্বনাশ হচ্ছে। এ দেশি স্পেশালিস্ট, ও দেশি স্পেশালিস্ট করছি। চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ডাক্তার উপদেশ দিচ্ছেন। খুব মন দিয়ে শুনছি। তার পর মনে নেই ঘুরতে চলে গেলাম, নাকি কিছু লিখতে বা পড়তে শুরু করলাম। লিভার মাথা থেকে চলে গেল। দু-তিন বছর আর লিভারের কথা মনেও পড়ল না। সেদিন কিডনি নিয়েও টেনশনে মরে যাই মরে যাই অবস্থা। সাত দিনে সাতটা ডাক্তার দেখিয়ে ফেললাম। ডাক্তাররা প্রচুর টেস্ট দিয়েছেন করতে। আজ করব কাল করব করতে করতে একসময় ভুলেই গেলাম। এও বছর পার হবে মনে হচ্ছে। দুম করে কবে যে একদিন মরে যাব। দুদিনের জীবন, রোগ শোকের কথা ভুলে থাকাই হয়তো ভালো। উপসর্গ না থাকলে এই সুবিধা। দিব্যি বছরের পর বছর অসুখ-বিসুখের কথা না ভেবেই কাটিয়ে দেয়া যায়।’ এসএ/  

নগর গবেষক নজরুল ইসলামের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশে নগর বা নগরায়ন নিয়ে কথা কথা বলতে চাইলে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে তিনি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপকের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। শরীয়তপুরে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের জীবনের প্রথম ক’টি বছর কেটেছে গ্রামে। নদী-নালা-পানি-বিল-খালে। লেখাপড়া পুরনো ঢাকার নবাবপুর হাইস্কুল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশে। ভালো ছাত্রের তকমাটা তার বরাবরের।  ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ঢাকার উচ্চবিত্ত মানুষের আবাসন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকতেই। সেই যে ঢাকা দিয়ে শুরু, এর পর একের পর এক গবেষণা। কখনও একা, আবার কখনও পুরো গবেষণা দলকে নেতৃত্ব দিয়ে। দেশে ও বিদেশে নগর নিয়ে গবেষণার পরিধি প্রসারিত করেছেন। একজন নজরুল ইসলাম হয়ে উঠেছেন একজন নগর বিশারদ। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের প্রধান কর্মক্ষেত্র নগরায়ণ ও নগর উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা। তার বর্ণাঢ্য ও সুবিশাল কর্মজীবনের বিচিত্র অর্জন ও অভিজ্ঞতা আমাদের সবাইকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি নগর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সাম্মানিক চেয়ারম্যান। তবে তার কর্মজীবন শুধু নগর গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এমন নয়। এর বাইরেও তার বিস্তৃত জগত্ রয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সফল শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, পরিবেশবিদ, শিল্পজগতের সক্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং একজন সুলেখক। তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে এই নগর গবেষক বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮-তে ‘আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ’- এ কথা উল্লেখ রয়েছে। নিঃসন্দেহে খুবই প্রশংসনীয় অঙ্গীকার। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের গ্রামগুলো সাধারণ অর্থেই অত্যন্ত সুন্দর। ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ বাংলাদেশের গ্রাম একদিনে নয়, বরং হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হয়েছে। কোনও বাস্তু পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী বা স্থপতি কিন্তু সেখানে খুব একটা যাননি। আমার ভয়, তারা গেলেই বিপদ হতে পারে; যদি না বাংলার গ্রামকে সঠিকভাবে ধারণ করেন, অনুভব করেন, বোঝেন এমন কেউ সেখানে যান। বাংলার গ্রাম নতুন করে সাজাতে অসাধারণ বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদের প্রয়োজন হবে। তাছাড়া সুযোগ-সুবিধা নেয়ার বিষয়েও সাবধান হতে হবে। বৈদ্যুতিক লাইন যাবে, কিন্তু এর তারটি কীভাবে নেওয়া যাবে, পোলটা কোথায় বসবে, কৃষিজমির ক্ষতি হবে কি না, তা ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুত্ বরং সুবিধাজনক। তিনি বলেন, অনেকে ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন, যার কোনও দরকার নেই। ঢাকায় রাজধানী থাকবে, সচিবালয় থাকবে, কিন্তু সচিবালয়ে লোক থাকবে খুব কম। সবকিছুর বিকেন্দ্রীকরণ হবে। ঢাকা থেকে শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এই অধ্যাপক মনে করেন, রাজধানী ঢাকার ভৌগোলিক পরিসরে একাধিক সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বাস্তবতাও একটি বড় সমস্যা। সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে একটি মেট্রোপলিটন বা মেগা সিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল হতে পারে। সেখানে একজন জ্যেষ্ঠ­ মন্ত্রীকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। শুধু বয়সে বা পদে সিনিয়র নয়, যিনি একাধারে কর্মতত্পরও; সত্যিকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এই আশিতেও যথেষ্ট কর্মব্যস্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। তার সময় কাটে পড়াশোনা আর গবেষণা নিয়ে। আড্ডা, টেলিভিশন ও খবরের কাগজ তার নিত্যসঙ্গী। রকমারি বাঙালি খাবার তার পছন্দ। তিনি গতিময় এক জীবনযাপন করেন, যাকে কোনও নিয়মে ফেলা যায় না।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের জন্মদিন আজ

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের একমাত্র জীবিত উপদেষ্টা, ১৯৭১-এ ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের ৯৮তম জন্মদিন আজ। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা ন্যাপ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে পৃথকভাবে কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার জন্মদিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সম্ভ্রান্ত ভূঁইয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বয়োজ্যেষ্ঠ বাম নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বার্ধক্যের কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা বাসা বেঁধেছে তার দেহে। সম্প্রতি ফিরেছেন আইসিইউ থেকে। অনেকটাই চলৎশক্তিহীন অবস্থায় বারিধারার পার্ক রোডের মেয়ের বাসায় স্ত্রী ও কন্যার পরিচর্যায় দিন কাটছে তার। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবীন্দ্র চাকমা জানান, মোজাফফর আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের দিন সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদ মিলনায়তনে কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি