ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ০:৫১:২১, বুধবার

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর বর্ণাঢ্য জীবন   

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর বর্ণাঢ্য জীবন  

বর্ণাঢ্য এক ব্যাক্তিত্ব ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্যাহ। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি একাধারে ডিপুটি স্পীকার,স্পীকার, উপরাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রপতির মত শীর্ষস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে ১৯২১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবা আবদুল ওয়াহাব মুন্সী এবং মা জরিনা খাতুনের ৬ ছেলে ৫ মেয়ের মধ্যে তিনি ১০ম। রাখালিয়া জুনিয়র মাদ্রসায় পড়াশুনা শুরু করলেও ১৯৩৮ সনে তিনি লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। এরপর ১৯৪০ সনে তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি কলকাতার রিপন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ দলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী নির্বাচিত হলে তখন মোহাম্মদ উল্লাহ ওই কমিটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহন করেন। সেই থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী কালের কমিটি পর্যন্ত তিনি আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলা আওয়ামী মুসলিম লীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ গঠিত হলে তিনি একই পদে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। ১৯৭০ সনে তিনি লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর থেকে এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মোহাম্মদ উল্লাহ মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সৈয়দ নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭২ সনে জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে তিনি ডিপুটি স্পীকার নির্বাচিত হন। দেশের প্রথম স্পীকার শাহ আব্দুল হামিদ ১ মাস ২০ দিনের মাথায় মৃত্যুবরণ করলে জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ স্পীকারের দায়িত্ব গ্রহন করেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান তার সভাপতিত্বে এবং স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করলে মোহাম্মদ উল্লাহ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহন করেন। পরে ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ২৪ জানুয়ারি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থেকে দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন| অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের আমলেও একবার মন্ত্রী হন তিনি। বিচারপতি সাত্তারের আমলের সর্বশেষ ১দিন ও তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে দেন দরবার করেন তিনি। সে বছর জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুর এলে গ্যাস প্রদানের ঘোষনা দেন। এরপরে ১৯৮০ সালে তিনি জাতীয়তাবাদি দল বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১-এর সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রায়পুর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৯৬ সনের সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার কিছুদিনের মধ্যে তিনি পুনরায় আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। মোহাম্মদ উল্ল্যাহ একসময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের ১১ নভেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই বর্ণাঢ্য ব্যাক্তির নামে রায়পুরে রয়েছে ১.৫ কিলোমিটার সড়ক। যা উপজেলা শহরে ফিসহ্যাচারীর সংলগ্নে অবস্থিত। তবে সড়কটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মিত হলেও এখন এর অবস্থা বেহাল। এছাড়া তার নামে রয়েছে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর হলেও তা এমপিও ভুক্ত হয়নি। প্রতি বছর সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন করেন জেলা শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা ছফি উল্যা খান। তিনি বলেন,বর্ণাঢ্য এই ব্যাক্তি বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া তিনি রায়পুরের মানুষের জন্যও অনেক কাজ করেছেন।  আমি বহু বছর ধরে তার মৃত্যুবার্ষীকি পালন করে আসছি। এনএম/
মমতাজউদদীনের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক

প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বরেণ্য নাট্য নির্দেশক ও অভিনয় শিল্পী, লেখক কলামিস্ট, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, ভাষা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা শোক প্রকাশ করে ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে। গত ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মমতাজউদদীন। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছে। শফিউল আলম বলেন, ইকোসক সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে। এতে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো ১৯১টি ভোটের মধ্যে ১৮১টি ভোট বাংলাদেশের পক্ষে পড়ে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বিষয়। এ জন্য মন্ত্রিসভা অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করে। আরকে//

বিপ্লবী চে গুয়েভারার জন্মদিন আজ

ইতিহাসের নন্দিত বিপ্লবী চরিত্র চে গুয়েভারা। আজ তার ৯১তম জন্মদিন। ১৯২৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না। বিপ্লবের অগ্নিপুরুষ হিসেবে, গেরিলা নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার নামই ধ্বনিত হয়। চে গুয়েভারা পেশায় ছিলেন ডাক্তার। তারপরেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খ্যাতিমান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম চে গুয়েভারা। এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুর পর তার শৈল্পিক মুখচিত্রটি একটি সর্বজনীন বিপ্লবের মুখচ্ছবি হিসেবে বিশ্বপ্রতীকে পরিণত হয়। কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে সফল বিপ্লবের পর চে বলিভিয়ায় গিয়েছিলেন আরেকটি বিপ্লবের প্রত্যয় নিয়ে। বলিভিয়াতে থাকার সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’র (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) মদদপুষ্ট বলিভিয়ান বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন। যুবক বয়সে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছায় ভর্তি হন মেডিসিন বিষয়ে। ভালোই চলছিল তার ডাক্তারি পড়াশোনা, ব্যক্তিগত জীবন আর প্রেম। বন্ধুর সঙ্গে হঠাৎ মোটরসাইকেলে বের হলেন নিজ ভূখণ্ড ভ্রমণে। এ ভ্রমণ আর্নেস্তোকে বঞ্চিত মানুষদের ‘চে’ বা ‘বন্ধু’তে পরিণত করে। দীর্ঘ এ মোটরসাইকেল ভ্রমণে আর্নেস্তো একদিকে যেমন দেখেন নিম্নশ্রেণীর মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, বঞ্চনা, নিপীড়ন; আর অন্যদিকে দেখেন শাসকের দুর্বৃত্তায়ন, শোষণ, অত্যাচার। এ বোধ থেকেই শুরু করেন মানব মুক্তির লড়াই। চে গুয়েভারা ছিলেন কিউবা বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর, বলিভিয়ার শহর লা হিগুয়েরাতে বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তার মৃত্যদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর তিনি সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন। এসএ/  

সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাবিবুর রহমান মিলনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১৫ সালের আজকের এ দিনে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। হাবিবুর রহমান ১৯৩৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) চেয়ারম্যান ও দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৩ সালে দৈনিক সংবাদের মাধ্যমে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। সেই সময় ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে তার লেখা কলাম ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ‘সন্ধানী’ ছদ্মনামে ইত্তেফাকে তার নিয়মিত কলাম ‘ঘরে বাইরে’ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। এসএ/

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ৭৩তম জন্মদিন আজ। এই প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক ১৯৪৭ সালের আজকের এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন। নন্দিত এ কথাসাহিত্যিকের লেখালেখির শুরু ষাটের দশকের মধ্যভাগে, রাজশাহী মহিলা কলেজে পড়ার সময়। সে সময়ের লেখা নিয়ে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তার দুটি গ্রন্থ ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ ও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ নিয়ে চলচ্চিত্র এবং কয়েকটি গল্প নিয়ে নাটক নির্মিত হয়েছে। সেলিনা হোসেনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কানাড়ি, রুশ, মালে, মালয়ালম, ফরাসি, জাপানি, ফিনিশ, কোরিয়ান প্রভৃতি ভাষায় সেলিনা হোসেনের বেশ কয়েকটি গল্প অনূদিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ‘যাপিত জীবন’ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি পাঠ্যসূচিভুক্ত। শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পাঁচটি উপন্যাস এমফিল গবেষণাভুক্ত। ২০০৫ সাল থেকে শিকাগোর ওকটন কলেজের সাহিত্য বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য কোর্সে তার ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটি পাঠ্যসূচিভুক্ত হয়। সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু বাংলা একাডেমিতে গবেষণা সহকারী হিসেবে। তিনি বাংলা একাডেমির ‘অভিধান প্রকল্প’, ‘বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প’, ‘বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলি প্রকাশ’, ‘লেখক অভিধান’, ‘চরিতাভিধান’ এবং ‘একশত এক সিরিজ’-এর গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। ২০ বছরের বেশি সময় তিনি ‘ধান শালিকের দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম নারী পরিচালক হন। ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি থেকে অবসর নেন। বর্তমানে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান পদে কর্মরত। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, অলক্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। এসএ/  

শিল্পী কিবরিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দেশের আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃৎ চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার। ২০১১ সালের ৭ জুন বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। দেশের চিত্রকলার বর্তমান অবস্থার পেছনে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। মোহাম্মদ কিবরিয়া ১৯২৯ সালের ১ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনেই ছবি আঁকায় হাতেখড়ি তার। ১৯৪৫ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন তিনি। ১৯৫০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট স্কুলে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। চিত্রকলায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, টোকিও স্টারলেম পুরস্কার, প্রাইড অব পারফরম্যান্স, প্রেসিডেন্ট পদক, জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মাননাসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এসএ/  

মাহবুবুল আলম এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের আজকেই এই দিনে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মাহবুবুল আলম বেশ কিছুদিন ধরে লিভার, ডায়াবেটিস ও বার্ধক্যজনিত রোগসহ শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেত্রী রওশন এরশাদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেন। শোক প্রকাশ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। মাহবুবুল আলমের জন্ম ১৯৩৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জে। ১৯৫৩ সালের সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তানে (এপিপি) কাজের মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিকতার শুরু। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তারও আগে নিউনেশন এবং সাপ্তাহিক ডায়লগের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে কিছু দিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মাহবুবুল আলম ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্য উপদেষ্টা, এর আগে ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ওয়াশিংটন দূতাবাসের বার্তা বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করেন। এইচএম এরশাদের শাসনামলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্বিশ্ব বিভাগের মহাপরিচালক ছিলেন। এরপর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির (নোয়াব) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্যা ইন্ডিপেনডেন্টের সম্পাদক ছিলেন। অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা পান মাহবুবুল আলম। মাহবুবুল আলমের স্ত্রী সুলতানা বেগম ও তিন মেয়ে মহুয়া আলম, হিজল আলম ও পাপিয়া আলম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আরকে//

কেউ দেখতে গেল না এটিএম শামসুজ্জামানকে

দেশবরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান বেশ কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নত হলেও হাসলাতালের বিছানাতেই ঈদ কাটাতে হলো তাকে। কিন্তু বছরের এই বিশেষ দিনটাতে তার পাশে পরিবার ছাড়া ছিল না কেউ। এতো জনপ্রিয়তা ও ভক্তবৃন্দ থাকতেও ঈদের দিনে তার পাশে শুধ পরিবার! যা অন্তরকে করে ব্যথাতুর, বিবেককে করে প্রশ্নবিদ্ধ। এটিএম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনি জামান বলেন, তার (এটিএম শামসুজ্জামান) শারীরিক অবস্থা এই ভালো তো এই খারাপ। কখন কী হয় বোঝা মুশকিল। তাই চিকিৎসকরাও কোনো ধরনের রিস্ক নিতে চান না। তাই তাকে তার ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। উপয় অন্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালের বিছানাতেই ঈদ কাটাতে হলো। গত ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ করেই অসুস্থ বোধ করার সঙ্গে সঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামানকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল এই বরেণ্য অভিনেতার ফুসফুসে অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে কেবিনে রাখা হয়েছিল। তারপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ৩০ এপ্রিল তাকে আবার লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব ধরনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অভিনেতার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচ বারেরও বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ অভিনয়শিল্পী। আরকে//

বাবার কবরের পাশে শায়িত হবেন মমতাজউদদীন আহমদ

নিজের ইচ্ছানুযায়ী বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার এ কথা জানান তার বড় ছেলে ডা. তিতাস মাহমুদ। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে মমতাজউদদীন মৃত্যুবরণ করার পর তার বড় ছেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান,হাসপাতাল থেকে এই কিংবদন্তির মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাকে গোসল করানো হবে। এরপর বাদ এশা তার মরদেহ রূপনগরের বাসার পাশে মদিনা মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। এরপর সোমবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে তাকে চাঁপাইনবাগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামে নিয়ে গিয়ে বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত করা হবে। তার শেষ ইচ্ছে ছিল, বাবার কবরের পাশেই যেন দাফন করা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা মমতাজউদদীন ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে থেকে চিরবিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার চার সন্তান হলেন- ডা. তিতাস মাহমুদ, তমাল মাহমুদ, তিয়াসা আহমেদ ও তাহিতি আহমেদ। মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। কলেজে পড়ার সময়ই ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ইট ও কাদামাটি দিয়ে যে শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল, তাতে ভূমিকা ছিল মমতাজউদদীনেরও। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। এই কিংবদন্তির লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ ও ‘রাজার অনুস্বারের পালা’ পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। নাট্যকলায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। লাভ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। আরকে//

মমতাজউদদীন আহমেদ আর নেই

চলে গেলেন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। রোববার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মমতাজউদদীন আহমদ-এর ভাগিনা শাহরিয়ার মাহমুদ প্রিন্স তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন। এর আগে তিনি একাধিকবার লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরে এসেছিলেন। মৃত্যুর আগে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল মমতাজউদদীন আহমদকে। মমতাজউদদীন আহমদের চিকিৎসক ছেলে সেজান মাহমুদ বাবার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বর্ণণা করতে গিয়ে বলেন, তার শরীর অক্সিজেন পাচ্ছে না। কার্বন ডাই–অক্সাইড বেরিয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কে পানি জমে গেছে। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। আরকে//

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ষাটের দশকে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৯ সালের আজকের এ দিনে ইত্তেফাকের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া গ্রামে তার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদের পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়। মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবার গ্রেফতার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণআন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়। ‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ আজিমপুর কবরস্থানে সকাল ৭টা থেকে কোরআনখানি ও সকাল ১০টায় মিলাদ ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এসএ/  

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আধুনিক শিল্পকলা চর্চার পুরোধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে মৃত্যুবরণ করেন দেশবরেণ্য এ শিল্পী। তার জন্ম ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জে। তিনি নিজে যেমন শিল্পী ছিলেন, তেমনি শিল্পী সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করেছেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পৃথিবীবিখ্যাত এ চিত্রশিল্পী ‘শিল্পাচার্য’ নামেই ব্যাপক পরিচিত। বঙ্গীয় শিল্পকলার ঐতিহ্য বিনির্মাণে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার চিত্রকর্মের সঙ্গে এ দেশের গণমানুষের নাড়ির যোগ রয়েছে। তার  চিত্রশিল্পে এ দেশের মানুষের সংগ্রামী সত্তা প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি তার আঁকা ছবিতে দুর্ভিক্ষে মানুষের আর্তনাদ এবং একই সঙ্গে প্রতিবাদ মূর্ত হয়ে উঠেছে। জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে- দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, নৌকোর গুণটানা, তিন পল্লী রমণী, মা ও শিশু প্রভৃতি। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিল্পাচার্যকে স্মরণ করবে। এছাড়া কর্মসূচিতে রয়েছে শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও আলোচনা সভা। এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি