ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:০৩:০০, শুক্রবার

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘আমিই করবো ম্যালেরিয়া নির্মূল’। ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল প্রথম ম্যালেরিয়া দিবস পালন করা হয় আফ্রিকায়। এরপর ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির ৬০তম অধিবেশনে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের প্রস্তাবনা করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগের মারাত্মক প্রদুর্ভাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এবং কক্সবাজার মধ্য ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তবে আগের তুলনায় ম্যালেরিয়ার প্রভাব অনেক কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য মতে, দেশের মোট ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৯৩ শতাংশই তিন পার্বত্য জেলায়। ২০১৭ সালের ম্যালেরিয়া রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ রোগীই ফ্যালসিপেরাম জীবাণুঘটিত। এসএ/    
আজ আন্তর্জাতিক ডিএনএ দিবস

পাটের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ঘাটনের পর থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞানপ্রেমী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ডিএনএর ব্যাপারে কিছুটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি প্রণোদনায় এই গবেষণা কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রধান কারিগর ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জীববিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম। সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের একঝাঁক উদ্যোগী গবেষক। সফটওয়্যার কম্পানি ‘ডাটা সফট সিস্টেম বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সাংবাদিকরা তখন এই আবিষ্কারকে ‘পাটের জীবনরহস্য উদ্ঘাটন’ বলে প্রচার করেছিলেন। কারণ ড. আলম নাকি এমনটাই চেয়েছিলেন। সেই থেকে বাংলা ভাষায় জিনোম সিকোয়েন্স বিষয়টি ‘জীবনরহস্য’ বলেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। যদিও জীবনের রহস্য উদ্ঘাটন এখনো সুদূরপরাহত। তাই আমাদের কিছু কিছু বিজ্ঞানী জিনোম সিকোয়েন্সের আভিধানিক অর্থ জীবনরহস্য মানতে নারাজ। আমিও সেই দলে। তবে জীবনরহস্য শব্দটি যে আমাদের দেশেই প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে এমন নয়। ডিএনএর কাঠামো-বৈশিষ্ট্য জানার পরপরই আবিষ্কারকদের একজন ফ্রান্সিস ক্রিক ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সালে কেমব্রিজের এক পানশালায় বসে ঘোষণা দেন যে তাঁরা জীবনের রহস্য খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘found the secret of life’। অবশ্য এর কিছুদিনের মধ্যেই—অর্থাৎ একই বছরের এপ্রিলের ২৫ তারিখে ওয়াটসন ও ক্রিকের ডিএনএর কাঠামোসংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। ওয়াটসন ও ক্রিক ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে কাজ করতেন। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর (১৪ মে ১৯৫৩) ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্যার লরেন্স ব্রাগ  (Sir Lawrence Brag) এ ব্যাপারে লন্ডনের গাই মেডিক্যাল স্কুল হাসপাতালে একটি বক্তৃতা দেন। ঘটনাটি ওখানকার খবরের কাগজ News  Chronicle-এ "Why You Are You. Nearer Secret of Life" শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এখানে কিন্তু ডিএনএর কাঠামো উন্মোচনকে জীবনরহস্যভেদী আবিষ্কারের কাছাকাছি কিছু একটা বলা হয়েছে। নেচারের একই সংখ্যায় আরো দুটি একই মাপের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। যা হোক, ডিএনএ আবিষ্কার এবং এর কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার, দুটি ভিন্ন বিষয় হলেও আমাদের অনেকেই তা গুলিয়ে ফেলি। ফলে অনেকেই ওয়াটসন ও ক্রিককে ডিএনএ আবিষ্কারক বলে ভুল করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ডিএনএর আবিষ্কারক নন। তাহলে ডিএনএর আবিষ্কারক কে বা কারা? ডিএনএ প্রথম শনাক্ত করেন সুইস রসায়নবিদ  ফ্রেডরিখ মিয়েশ্চার (Friedrich Miescher) ১৮৬০ সালে। এর বেশ পরে আরেক মার্কিন ফোবিয়াস লেভেনে (১৮৬৯-১৯৪০) (Phoebus Levene) এবং অস্ট্র-হাঙ্গেরিয়ান বিজ্ঞানী এরউইন শারগাফ (১৯০৫-২০০২) (Erwin Chargaff) এই অতিকায় অণুটির প্রাথমিক রাসায়নিক উপাদান এবং সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে সম্পৃক্ত তা নিয়ে ধারাবাহিক বেশ কিছু গবেষণা করে জীববিদ্যার নতুন এক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মিয়েশ্চার কিন্তু ডিএনএ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে কাজে নামেননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, শ্বেত রক্তকণিকার প্রোটিনের উপাদান আলাদা করা এবং বৈশিষ্ট্যায়ন করা। কিন্তু তার পরিবর্তে এমন এক পদার্থ তার সামনে ধরা দেয়, যেটা এনজাইম সহযোগে বিশ্লেষিত হয় না এবং যার মধ্যে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটা প্রোটিন না হলেও প্রোটিনের মতোই কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন নিউক্লিইন। এই নিউক্লিইনই পরবর্তীকালে নিউক্লিক এসিড এবং অবশেষে ডিওক্সিরিবোনিউক্লিক এসিড বা ডিএনএ নামে পরিচিতি পায়। এর পরে আসে লেভেনের কথা। তিনিই প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন যে নিউক্লিক এসিড অনেকগুলো নিউক্লিওটাইডের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এবং একেকটি নিউক্লিওটাইড আবার একটি নাইট্রোজেন-ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন—এই চারটি ক্ষারকের যেকোনো একটি), একটি চিনির অণু এবং একটি ফসফেট গ্রুপ সহযোগে গঠিত। এরউইন শারগফ লেভেনের কাজের ওপর ভিত্তি করে ডিএনএ সম্পর্কিত আরো তথ্য উদ্ঘাটন করেন। পাশাপাশি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত কানাডিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী অসওয়াল্ড অ্যাভারির (১৮৭৭-১৯৫৫) (Oswald Avery) বিখ্যাত গবেষণাপত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন যে বংশগতির একক বা জিন (Gene) ডিএনএ সমন্বয়ে গঠিত। তিনিই ১৯৫০-এর দিকে প্রথম লক্ষ করেন যে প্রজাতিভেদে ডিএনএর নিউক্লিওটাইড কম্পোজিশন আলাদা হয়ে থাকে। এবং প্রজাতি বা টিস্যু-নির্বিশেষে ডিএনএর অ্যাডিনিনের (A) পরিমাণ সাধারণত থাইমিনের (T) সমান হয়ে থাকে। গুয়ানিন (G) এবং সাইটোসিনের (C) বেলায় একই কথা প্রযোজ্য। ডিএনএর কাঠামো দাঁড় করাতে এসব তত্ত্ব এবং তথ্য থেকে অনুগামী গবেষকরা সুবিধা নিয়েছিলেন। এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে সবার ওপরে ছিলেন ওয়াটসন ও ক্রিক। আর এ থেকেই বোঝা যায়, ওয়াটসন ও ক্রিক ডিএনএ আবিষ্কার করেননি, আবিষ্কার করেছেন ডিএনএর কাঠামো-বৈশিষ্ট্যকে। সেটাই ডিএনএ আবিষ্কার থেকে কোনো অংশেই কম নয়। যা হোক, আলোচনার শুরুতে উল্লিখিত তিনটি গবেষণাপত্রকে আধুনিক মলিকুলার বায়োলজি বা বায়োটেকনোলজির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলো একই দিনে বিখ্যাত নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দিনটি ছিল ২৫ এপ্রিল ১৯৫৩। গুরুত্বের বিবেচনায় ওয়াটসন এবং ক্রিকের গবেষণাপত্রটি একটু ওপরে স্থান পেয়েছে বলে মনে হয়। কারণ ১৯৬২তে যখন শারীরবিদ্যা বা মেডিসিনে তিনজন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীর মধ্যে প্রথম দুজন ছিলেন ওয়াটসন ও ক্রিক। আর তৃতীয়জন হলেন উইলকিন্স। দুঃখজনক বিষয় হলো, রোজালিন্ডকে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় আনা হয়নি। কারণ তিনি পুরস্কার প্রদানের বছর চারেক আগেই অকালে মৃত্যুবরণ করেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে।  নোবেল কমিটি কখনোই মৃত ব্যক্তিদের পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করে না। যা হোক, তাঁর পিএইচডির ছাত্র গোসলিংকে তো বিবেচনা করা যেত। কারণ গোসলিং উইলকিন্স এবং রোজালিন্ড দুজনের সঙ্গেই কাজ করেছিলেন। এর পর থেকে ডিএনএ-সংক্রান্ত গবেষণা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে। একে একে আরএনএ, জেনেটিক কোড, জিন প্রকৌশল, জিনোম সিকোয়েন্স, জিন এডিটিং—কত কিছু আমাদের সামনে হাজির হয়। মানুষের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয় ২০০৩-এ। এরপর বিভিন্ন ফসল বা গৃহপালিত প্রাণীর জিনোম সিকোয়েন্স করা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের জিনোম সিকোয়েন্সও করা শুরু হয়। এমনকি যদি কেউ নিজের জিনোম সিকোয়েন্স করতে চায়, তা-ও এখন সম্ভব। এবং তা বেশ সাশ্রয়ী। আর এসব কারণেই  National Human Genome Research Institute (NHGRI)-এর বিজ্ঞানীরা ডিএনএর কাঠামোসংক্রান্ত গবেষণাপত্রগুলো প্রকাশের দিন ২৫ এপ্রিলকে বিশেষভাবে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেটাই হলো বিশ্ব ডিএনএ দিবস বা আন্তর্জাতিক ডিএনএ দিবস। উদ্দেশ্য ছাত্র, জনতা এবং অনুসন্ধিত্সুদের মধ্যে জিনোমিক গবেষণার হালফিল জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া এবং জীবপ্রযুক্তি মানবকল্যাণে কতখানি প্রভাব রাখতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। লেখক: কনসালট্যান্ট, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট মহাপরিচালক (ভূতপূর্ব), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৮৮৭ সালের এ দিনেই যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দরের। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘১৩২ বছর ধরে দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে প্রধান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় সফল ছিল বলেই আজ দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। প্রতি বছর যে বাজেট হচ্ছে তার সিংহভাগ অর্থের জোগান দিচ্ছে এ বন্দর। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারলেও সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি আমরা।’ ১৯৭৭ সালে ‘এসএস টেনাসিটি’ নামক জাহাজে ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং শুরু হয়। ১৯৮৮ সালেই স্পর্শ করে এটি এক লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাইলফলক। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার ওঠানামা হয় ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৯টি। আর ২০১৮ সালে এসে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ২৯ লাখের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের মাত্রাও। ২০১০ সালে চার কোটি ৫৩ লাখ টন কার্গো পণ্য ওঠানামা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৮ সালে এসে খোলা পণ্য ওঠানামার হার বেড়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ টনেরও বেশি। ২০১০ সালে দুই হাজার ২০৩টি জাহাজ এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৮ সালে একই বন্দর হ্যান্ডেল করেছে তিন হাজার ৭৪৭টি জাহাজ। পোর্ট ইউজার্স ফোরাম ও চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সীমিত সম্পদ দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমরা সর্বোচ্চ সেবা পাচ্ছি। আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় সেবার পরিমাণ কম হলেও আমরা এ বন্দরকে নিয়ে আশাবাদী। নতুন টার্মিনাল চালু এবং নতুন যন্ত্রপাতি বহরে যুক্ত হলে বন্দরের সক্ষমতা যেমন বাড়বে তেমনি কমবে আমাদের খরচও।’ বিজিএমইএর বন্দর ও কাস্টমবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও দেশের ভরসা হয়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দর। পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জেটি থাকলে এ বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ত। তখন পণ্য নিয়ে আর কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হবে না। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর হবে বিশ্বমানের বন্দর।’ এসএ/

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

আজ ২৪শে এপ্রিল। দেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ট্রাজেডির ৬ষ্ঠ বার্ষিকী। ২০১৩ সালের এ দিনে সাভারে ধসে পড়েছিল ৯ তলা ভবন রানা প্লাজা। ছয় বছর পার হয়ে গেলেও এ ঘটনায় হতাহত শ্রমিক ও তার স্বজনেরা সুবিচার পাননি। বিচার হয়নি অভিযুক্তদের। মামলাগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। নিহত শ্রমিকদের স্বজনেরা যেমন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি, তেমনি যথাযথ সহায়তা না পাওয়ায় আহত অনেক শ্রমিকই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আজও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ একসঙ্গে না দেয়ায় (যারা পেয়েছেন) এসব শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়নি। প্রায় ৫১ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গড়া হাইকোর্ট বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন হতাহত ও তাদের স্বজনেরা। তবে ওই দুর্ঘটনার পর ছয় বছরে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে কারখানা নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অগ্রগতি হয়েছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও অনেক কারখানার মান উন্নয়নের কাজ বাকি রয়ে গেছে। এ ছাড়াও সরকারি উদ্যোগে কারাখানাগুলোর পরিবেশ ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নতি না এলে তা ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় আবারও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বছরের পর বছর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। আরকে//

এখনও কাঁদে নিহত শ্রমিকদের আত্মা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ছয় বছর আজ। ঘটনার অর্ধযুগ পরেও, সেই দিনের ভয়ঙ্কর স্মৃতি তাড়া করে ফেরে, প্রাণে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের। এখনও সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন নি; কাটাচ্ছেন দুর্বিসহ বেকারত্ব। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সাভারে ধসে পড়েছিল ৯ তলা ভবন রানা প্লাজা। ছয় বছর পার হয়ে গেলেও এ ঘটনায় হতাহত শ্রমিক ও তার স্বজনেরা সুবিচার পাননি। বিচার হয়নি অভিযুক্তদের। মামলাগুলোর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। নিহত শ্রমিকদের স্বজনেরা যেমন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি, তেমনি যথাযথ সহায়তা না পাওয়ায় আহত অনেক শ্রমিকই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আজও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। সরকারী হিসেবে ১১শ’ ৩৮ জন; বে-সরকারী হিসেবে ১১শ’ ৭৪ জন নিহত হয় ওই ঘটনায়। উদ্ধার অভিযান চলে, ২১ দিন ধরে। সনাক্ত করা যায়নি অনেককে, লাশের ঠিকানা হয়, জুরাইন কবরস্থানে। রানা প্লাজা ঘটনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পরে, পুরো পোষাক শিল্প। ক্রেতারা নানান শর্ত আরোপ করে; জিএসপি সুবিধা বাতিল করে। টনক নড়ে, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর। এরপর, শ্রম আইনের সংস্কার হয়েছে, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ উন্নয়নে কাজও চলমান। কিন্তু, ছয় বছর পরে এসে হিসেব নিকেশে দাড়ায়, যারা বা যাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ, তাদের অবস্থা কি? অনেকেই, পাননি সঠিক চিকিৎসা। অনেকেই, এখনও বেকার। আবার এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তির অকাল মৃত্যুতে অনেক পরিবারের চলার পথ নেই। প্রকৃত ক্ষতি পূরন বলতে যা বোঝায় তা পাননি, বেশীরভাগ ক্ষতিগ্রস্তরা। ভবন মালিকসহ জড়িতদের সঠিক বিচার চান তারা। ঐদিনের দুর্বিসহ স্মৃতি থেকে জীবনকে আলাদা করার আসলে আর সুযোগ নেই। কিন্তু, ঘটনার পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাগুলো যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তবে ঘটনার পর পোশাক শিল্পখাতে কর্মপরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন বিশ্লেষকরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ একসঙ্গে না দেয়ায় (যারা পেয়েছেন) এসব শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়নি। প্রায় ৫১ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গড়া হাইকোর্ট বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন হতাহত ও তাদের স্বজনেরা। তবে ওই দুর্ঘটনার পর ছয় বছরে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে কারখানা নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অগ্রগতি হয়েছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। এসএ/  

বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস আজ

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস। ১৯৯৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পঠন-পাঠন, প্রকাশনা ও কপিরাইটকে উৎসাহ দিতে দিবসটি উদযাপন শুরু করে ইউনেস্কো। ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো লন্ডনে আন্তর্জাতিক গ্রন্থ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরবর্তী ১০ বছর ‘পড়ুয়া সমাজ’ গঠনের ঘোষণা সেই সম্মেলনে। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, সৃজনশীল কাজগুলোর কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি ভূমিকা রাখে। এ উপলক্ষে আজ রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যৌথ উদ্যোগে ‘আমাদের সৃজনশীল গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/

আজ থেকে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। এবারও দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথাও ভাবুন’। পুষ্টি সপ্তাহ শেষ হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘সপ্তাহের প্রথম দিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে র‌্যালি ও হোটেলে আলোচনা সভা হবে। একইসঙ্গে হোটেলে পুষ্টি মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের স্টল থাকবে।’ সপ্তাহ উপলক্ষে সেমিনার, মাতৃপুষ্টির বিষয়ে সব ধরনের গণমাধ্যমে সেলিব্রেটিদের বক্তব্য প্রচারসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই পুষ্টি সপ্তাহেরও উদ্বোধন করেন।’ ১০০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে পুষ্টি সপ্তাহের বিষয়টি ছিল জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১০০ দিনের কর্মসূচির প্রায় সব বাস্তবায়ন করতে সমর্থ হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যতা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। দারিদ্র্যতা কমলে পুষ্টিহীনতা কমবে। নারীর ক্ষমতায়ন করলে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না। পুষ্টিহীনতায় ভুগলে শিশুর নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ হয়ে থাকে।’ ‘পুষ্টি সপ্তাহে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি শাক-সবজি, ফলমূলসহ সুষম খাবার খেতে হবে। তেল, চিনি, লবণ কম খান। এ ম্যাসেজ আমরা মানুষকে দিতে চাই।’ এসএ/  

আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস

আজ ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। যাকে বলা হয় ‘আর্থ ডে। পৃথিবীকে নিরাপদ এবং বসবাসযোগ্য রাখতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ দিবস পালিত হচ্ছে। এই ধরিত্রীকে রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। সর্বপ্রথম ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে দিবসটি পালিত হয়, এবং বর্তমানে আর্থ ডে নেটওয়ার্ক কর্তৃক বিশ্বব্যাপী সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৩ সংখ্যারও অধিক দেশে প্রতি বছর পালন করা হয়ে থাকে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারিভাবে এই দিবস পালিত করা হয়। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলিতে বসন্তকালে আর দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে শরতে ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। এই দিবস ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় এবং ১৪১ সংখ্যক জাতি দ্বারা আয়োজন করা হয়েছিল। একই ধরনের আরেকটি উৎসব হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে ৫ জুন এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পালিত হয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ধরিত্রী দিবসে যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং অন্যান্য ১২০ সংখ্যক দেশ দ্বারা এক দিকনির্দেশ প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলস্বরূপ ঐতিহাসিক খসড়া আবহাওয়া রক্ষা চুক্তির একটা আসল প্রয়োজনীয় সক্রিয়তার মধ্যে প্রবেশ করতে স্বস্তি এসেছিল, যে সিদ্ধান্ত প্যারিসে ২০১৫ জাতি সংঘ আবহাওয়া পরিবর্তন সম্মেলন-এ উপস্থিত ১৯৫টা দেশের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে সানফ্রান্সিস্কোতে ইউনেস্কো সম্মেলনে শান্তি কর্মী জন ম্যাককনেল পৃথিবী মায়ের সম্মানে একটা দিন উৎসর্গ করতে প্রস্তাব করেন এবং শান্তির ধারণা থেকে, উত্তর গোলার্ধে বসন্তের প্রথম দিন হিসেবে ২১ মার্চ, ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম এই দিনটা উদযাপিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই দিনই পরে একটা পরিঘোষণায় অনুমোদিত হয়, যেটা লিখেছিলেন ম্যাককনেল এবং মহাসচিব উ থান্ট জাতি সংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এক মাস পর একটা পরিবেশগত শিক্ষামূলক দিন হিসেবে একটা আলাদা ধরিত্রী দিবসের অবতারণা করেন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটর গেলর্ড নেলসন, যেটা প্রথম সংঘটিত হয় ২২ এপ্রিল, ১৯৭০। এই নেলসন পরবর্তীকালে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডাল অফ ফ্রিডম পুরস্কারে পুরস্কৃত হন। যখন এই ২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত, তখন ডেনিস হায়েস একটা সংগঠন চালু করেন, যিনি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আসল জাতীয় সমন্বয়সাধক ছিলেন; যেটা ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছিল এবং ১৪১টা দেশে সংগঠিত ঘটনা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এক বিরাট সংখ্যক সামাজিক গোষ্ঠী ধরিত্রী সপ্তাহ উদযাপন করে, বিশ্ব আজ যেসব পরিবেশগত বিষয়াদির সম্মুখীন হয় সেগুলো নিয়ে সারা সপ্তাহ জুড়ে নানা কার্যাবলি চলে। টিআর/

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘খোকা যখন ছোট্ট ছিলেন’ গ্রাফিক নভেল প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘আমার পিতা শেখ মুজিব’ শিরোনামে স্মৃতিচারণামূলক বই লিখেছেন। এবার এই বই অবলম্বনে রাকীব রাজ্জাক ও আবদুল্লাহ মামুনের চিত্রাঙ্কণে প্রকাশিত হয়েছে গ্রাফিক নভেল ‘খোকা যখন ছোট্ট ছিলেন’। একই সঙ্গে গ্রাফিক নভেলটি অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে গ্রাফিক চলচ্চিত্রও। সাজ্জাদ আহমেদের চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করেছেন সুদীপ্ত সাহা। সুদীপ্ত সাহা ও সাজ্জাদ আহমেদ রচিত বইটি সম্পাদনা করেছেন জুনায়েদ হালিম ও দুরন্ত বিপ্লব। এটি প্রকাশ করেছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হাসুমণির পাঠশালা। শনিবার জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন ও চলচ্চিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। উদ্বোধন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী জাকির হোসেন পুলকের আঁকা ‘খোকা যখন ছোট্ট ছিলেন’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর শিশু-কিশোর জীবনের ২০টি সিরিজ চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসহীন নেতা। জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে আজীবন অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন, আদর্শ আমাদের তার গভীর জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশ ও জনগণের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার কথাই মনে করিয়ে দেয় প্রতিনিয়ত।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা জাতির জীবনে সব সময় আসে না। আমরা ধন্য যে, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুণগুলো শিশুদের কোমল মনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বইটির মোড়ক উন্মোচন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনভিত্তিক ধারাবাহিক চিত্রকর্মের উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ওপরে বয়নকৃত সূচিশিল্পও প্রদর্শিত হচ্ছে। এ প্রদর্শনী আজ রোববার পর্যন্ত চলবে। এসএ/  

মুজিববর্ষ পালনে কর্মসূচি নেবে উপকমিটিগুলো

মুজিববর্ষ পালনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিগুলোকে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপকমিটিগুলো উৎসবমুখর ও যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে মুজিববর্ষ পালনে কর্মসূচি পরিকল্পনা ঠিক করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেবে। কেন্দ্র তা চূড়ান্ত করবে। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভার একাধিক সূত্র এমনটা জানিয়েছে। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল ১১টায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে তৃণমূলের সংগঠনের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। আগামী ঈদুল ফিতরের পর সম্মেলনের কাজ শুরু হবে। তবে এর আগেই আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দ্রুততার সঙ্গে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করবেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহ্মুদ স্বপন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা তৃণমূলে সংগঠন গোছানোর কাজে গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টায় খুলনা বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে খুলনা বিভাগে সংগঠন গোছানোর বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক হবে।’ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, মুজিববর্ষ পালনে আওয়ামী লীগের উপকমিটিগুলো নিজেদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে কেন্দ্রে জমা দেবে।   এসএ/  

২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস

আগামীকাল ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। যাকে বলা হয় ‘আর্থ ডে’। পৃথিবীকে নিরাপদ এবং বসবাসযোগ্য রাখতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ দিবস পালিত হচ্ছে। এই ধরিত্রীকে রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। সর্বপ্রথম ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে দিবসটি পালিত হয়, এবং বর্তমানে আর্থ ডে নেটওয়ার্ক কর্তৃক বিশ্বব্যাপী সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৩ সংখ্যারও অধিক দেশে প্রতি বছর পালন করা হয়ে থাকে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারিভাবে এই দিবস পালিত করা হয়। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলিতে বসন্তকালে আর দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে শরতে ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। এই দিবস ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় এবং ১৪১ সংখ্যক জাতি দ্বারা আয়োজন করা হয়েছিল। একই ধরনের আরেকটি উৎসব হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে ৫ জুন এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পালিত হয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ধরিত্রী দিবসে যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং অন্যান্য ১২০ সংখ্যক দেশ দ্বারা এক দিকনির্দেশ প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলস্বরূপ ঐতিহাসিক খসড়া আবহাওয়া রক্ষা চুক্তির একটা আসল প্রয়োজনীয় সক্রিয়তার মধ্যে প্রবেশ করতে স্বস্তি এসেছিল, যে সিদ্ধান্ত প্যারিসে ২০১৫ জাতি সংঘ আবহাওয়া পরিবর্তন সম্মেলন-এ উপস্থিত ১৯৫টা দেশের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে সানফ্রান্সিস্কোতে ইউনেস্কো সম্মেলনে শান্তি কর্মী জন ম্যাককনেল পৃথিবী মায়ের সম্মানে একটা দিন উৎসর্গ করতে প্রস্তাব করেন এবং শান্তির ধারণা থেকে, উত্তর গোলার্ধে বসন্তের প্রথম দিন হিসেবে ২১ মার্চ, ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম এই দিনটা উদযাপিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই দিনই পরে একটা পরিঘোষণায় অনুমোদিত হয়, যেটা লিখেছিলেন ম্যাককনেল এবং মহাসচিব উ থান্ট জাতি সংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এক মাস পর একটা পরিবেশগত শিক্ষামূলক দিন হিসেবে একটা আলাদা ধরিত্রী দিবসের অবতারণা করেন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটর গেলর্ড নেলসন, যেটা প্রথম সংঘটিত হয় ২২ এপ্রিল, ১৯৭০। এই নেলসন পরবর্তীকালে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডাল অফ ফ্রিডম পুরস্কারে পুরস্কৃত হন। যখন এই ২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত, তখন ডেনিস হায়েস একটা সংগঠন চালু করেন, যিনি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আসল জাতীয় সমন্বয়সাধক ছিলেন; যেটা ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছিল এবং ১৪১টা দেশে সংগঠিত ঘটনা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এক বিরাট সংখ্যক সামাজিক গোষ্ঠী ধরিত্রী সপ্তাহ উদযাপন করে, বিশ্ব আজ যেসব পরিবেশগত বিষয়াদির সম্মুখীন হয় সেগুলো নিয়ে সারা সপ্তাহ জুড়ে নানা কার্যাবলি চলে। এসএ/

আমার জীবনের এক বিশেষ দিন

১৯৭১-এর ২০ এপ্রিল আমার জীবনের এক বিশেষ দিন। এই দিনে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক সরকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের মহামান্য উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, বেতারের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান এমসিএ, দ্য পিপল পত্রিকার সম্পাদক আবিদুর রহমান এবং আমাকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টায় সামরিক আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। ’৭১-এর এই দিনে প্রকাশিত সব পত্রিকায় আমাদের পাঁচজনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশটি সিঙ্গেল কলামে ছাপা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘পাঁচ ব্যক্তির প্রতি সামরিক আইন কর্তৃপক্ষ সকাশে হাজির হওয়ার নির্দেশ’। আমাদের সবার বিরুদ্ধে পাকিস্তান পেনাল কোডের ১২১, ১২৩ক, ১৩১ ও ১৩২ এবং সামরিক বিধি ৬, ১৪, ১৭ ও ২০ এবং ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক নির্দেশ-১২৪ ও ১২৯ আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়। এ নির্দেশে একমাত্র আবিদুর রহমান ছাড়া অন্য কারও কোনো পেশাগত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। এটি ছিল পাকিস্তান সামরিক সরকারের একটি হাস্যকর অপপ্রয়াস। কারণ যাদেরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তারা বাংলার মানুষের কাছে সুপরিচিত রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি। বলা বাহুল্য, সেদিন আমরা কেউই বেলুচিনের কসাইখ্যাত জেনারেল টিক্কা খানের আদালতে হাজির হইনি। সামরিক আদালত ’৭১-এর ৮ জুন আমাদের অনুপস্থিতিতে প্রত্যেককে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান বহির্বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছিল, পুরো এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিহিত করে প্রচার করা হতো ‘তাদের নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে ’৭১-এর ২৫ মার্চ পাকবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরুর পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার ফলে অখণ্ড পাকিস্তানের কফিনে যে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয়েছিল, ’৭১-এর ১০ এপ্রিল ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ অনুসারে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলাকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ‘মুজিবনগর’ ঘোষণা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই কফিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা হয়। সেদিনের সেই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নিয়মতান্ত্রিক এবং বৈপ্লবিক অভ্যুদয়। দেশের অভ্যন্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি নিষ্ঠুর গণহত্যার খলনায়ক জেনারেল টিক্কা খান ও সামরিক শাসকদের জন্য ছিল চরম আঘাত। এ রকম আঘাতের পর জেনারেল টিক্কা খান আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক নির্দেশ জারি করে। আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক ট্রাইব্যুনালের রায় ভারতের মাটিতে বসে শুনলাম এবং হাসলাম। কারণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তখন এগিয়ে চলেছে। মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান হিসেবে ৭টি জেলার দায়িত্বে ছিলাম আমি: পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী। এ অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর সদস্যদের দেরাদুনে প্রশিক্ষণের পর বিমানে করে দমদম বিমানবন্দর হয়ে ব্যারাকপুরে আমার যে ক্যাম্প ছিল, সেখানে তারা অবস্থান করত। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতাম। কতজনের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছি; তাদের অনেকের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আর কোনোদিন দেখা হয়নি। ব্যারাকপুরে আমার ক্যাম্পেই মুজিব বাহিনীর জন্য ভারতীয় সাহায্য আসত। এ সাহায্য আমি, মণি ভাই, সিরাজ ভাই, রাজ্জাক ভাইয়ের কাছে পৌঁছাতাম। আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতেন ভারত সরকারের একটি সংস্থার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী ফণীন্দ্র নাথ ব্যানার্জি (যিনি ‘নাথ বাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন)। তিনি আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছেন। ’৬৯-এর অক্টোবরে লন্ডনে বঙ্গবন্ধু এই ‘নাথ বাবু’র সঙ্গে মিটিং করেছিলেন। ‘নাথ বাবু’ মুক্তিযুদ্ধে অক্লান্ত পরিশ্রম ও আমাদের অপরিসীম সাহায্য করেছেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এসে তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানকালে তিনি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। কৃতজ্ঞচিত্তে তার অবদান স্মরণ করছি। পাকিস্তান সামরিক শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি যে কী নিষ্ঠুর ছিল; তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এবং এ মামলার রায় থেকে উপলব্ধি করা যায়। আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। ভাবতে কত ভালো লাগে, জাতির জনকের নির্দেশিত পথেই আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য আমি সব রেখে গেছি, যে নির্দেশ আমি দিয়েছি, সেই নির্দেশিত পথে তোমরা পরিচালিত হও। বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে গেলে তোমরা সর্বাÍক সাহায্য পাবে।’ ভারতে গিয়ে চিত্তরঞ্জন সুতার (সূত্রধর) যে বাড়িতে অবস্থান করতেন; অর্থাৎ ‘সানি ভিলা, ২১ নম্বর রাজেন্দ্র রোড, নর্দান পার্ক, ভবানীপুর, কলকাতা’, সেই বাড়িতেই আমরা অবস্থান করেছি; সেখান থেকেই মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনা করেছি। চিত্তরঞ্জন সুতার ছিলেন বামপন্থী নেতা। তিনি জীবনে বহুবার কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন। ’ ৭০-এর নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগে যোগদান করে স্বরূপকাঠি থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক ছিলেন এবং আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছেন। তার অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য খরচ হিসেবে বঙ্গবন্ধু আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। নির্বাচনে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার টাকা। বাকি ৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড ব্যাংকের ভোলা শাখায় জমা ছিল। পাকিস্তান সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে। তবে দেশ স্বাধীনের পর তা ফেরত পেয়েছিলাম। সেদিন অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনই আজ প্রয়াত। জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ উভয়েই ’৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের গুলিতে শহীদ হন। মুজিবনগর সরকারের তথ্য ও বেতার উপদেষ্টা আবদুল মান্নান স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সরকারের স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন; কয়েক বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কবি-সাংবাদিক-শিল্পপতি হিসেবে সুপরিচিত ‘দ্য পিপল’ পত্রিকার সম্পাদক নিভৃতচারী সজ্জন মানুষ আবিদুর রহমান ইতিমধ্যে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। এখন বেঁচে আছি কেবল আমি। যে প্রশ্নটি আমায় নিয়তই তাড়া করে- সেদিন কেন আমাদের সঙ্গে আবিদুর রহমানকেও পাকিস্তান সামরিক সরকার জড়িত করেছিল? আসলে সামরিক সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল। কারণ আবিদুর রহমান সম্পাদিত ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য পিপল’ ছিল জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নির্ভীক কণ্ঠস্বর। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীতে অবস্থিত ‘দ্য পিপল’ পত্রিকার দফতরটি ’৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে গ্রেনেড ও ট্যাংক হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় পাক বাহিনী। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর অফিসটির ধ্বংসস্তূপ থেকে পত্রিকাটির দু’জন কর্মীর পোড়া কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। কত ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছি; বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ কালরাতে গ্রিনরোডে অবস্থিত ‘চন্দ্রশিলা’ নামে যে বাসায় আমি এবং প্রয়াত শ্রদ্ধাভাজন নেতা আবদুর রাজ্জাক থাকতাম, পাক বাহিনী তা ধ্বংস করে দেয়। সেখানে সংরক্ষিত ’৬৯-এর গণআন্দোলনের দুর্লভ ছবি, দেশি-বিদেশি খবরের কাগজ ও দলিলপত্রাদি ভস্মীভূত হয়। আজ যখন পাকিস্তান সামরিক আদালতের একটি নির্দেশের ওপর স্মৃতিচারণ করছি, তখন মনে পড়ছে- যে বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছি, যুদ্ধ করেছি, পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী যেখানে আমাদের অবর্তমানে ১৪ বছর সাজা দিয়েছে, সেই বাংলাদেশেও আমাকে অন্তত ৭ বার কারাগারে যেতে হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একনাগাড়ে ৩৩ মাস ময়মনসিংহ এবং কুষ্টিয়া কারাগারে বন্দি ছিলাম। ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি অবস্থায় আমাকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছিল। ৩ মাস আমি সূর্যের আলো দেখিনি। এ সময় আবিদুর রহমান ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাকে ২০ মাস কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। ’৮২-এর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর আমাদের এক কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ করলে সাজেদা চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম এবং আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে সাভার থানায় আটকে রাখে। একই বছর জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমাকে গ্রেফতার করে চোখ বেঁধে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে ৮ দিন, এরপর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ দিন রেখে সিলেট কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ’৮৪-তে গ্রেফতার করে কুমিল্লা কারাগারে ৬ মাস বন্দি করে রেখেছিল। ’৮৭-তে ভোলা থেকে আমাকে গ্রেফতার করে বরিশাল কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাখা হয়েছিল। ’৯৬-তে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে আমাকে গ্রেফতার করে; তখন রাজশাহী কারাগারে ফাঁসির আসামির মতো দিন কাটাতে হয়েছে। ২০০২-এ চিকিৎসা শেষে বিদেশ থেকে ফেরার পর গ্রেফতার করে প্রথমে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১ রাত, পরে কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির আসামি এরশাদ শিকদারকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল; সেই কক্ষে রেখে ১২ দিন পর কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। জীবনে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করেছি। তবে সবচেয়ে দুঃখ পেয়েছি ২০০২ সালে; যখন কাশিমপুর কারাগার থেকে আমাকে কুষ্টিয়া কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, আরিচা ফেরিঘাটে একটি পতাকাবাহী গাড়ি দেখলাম, জানলাম- স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ গাড়িতে করে যাচ্ছেন। ভাবলাম- যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, সংগ্রাম করেছি; সেই দেশের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমার হাতে হাতকড়া আর স্বাধীনতাবিরোধী মুজাহিদের গাড়িতে স্বাধীন বাংলার পতাকা! আবার ২০০৭ সালে ১/১১-এর মধ্যে আমাকে এবং আমার স্ত্রী ও মেয়েকে দুর্নীতি মামলার আসামি করা হয়েছিল। এ দুঃখ রাখব কোথায়? জীবনে এসব সহ্য করতে হয়েছে। যখন ’৮২-তে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদকালে আমার চোখ ছিল বাঁধা; তখন ভাবছিলাম, পাকিস্তান আমলে সেই ’৬৯-এর ১৭ সেপ্টেম্বর আমরা যখন সামরিক আইন ভঙ্গ করেছিলাম, তখন ‘সামারি মিলিটারি কোর্টে’ আমাকে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার চোখ ছিল খোলা। আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে? কর্নেল আকবর, আমি দেখতে পেয়েছি একজন কর্নেল আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। যে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখে ভাবতাম, একদিন বাংলার সন্তানরাই হবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর প্রধান; সে স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস- পাকিস্তান আমলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমার চোখ ছিল খোলা আর স্বাধীন বাংলাদেশে জিজ্ঞাসাবাদের সময় চোখ ছিল বাঁধা। কোনো কিছুতেই কোনো দুঃখ নেই! কেননা, এ ক্ষুদ্র জীবনে এমন এক মহান নেতার সান্নিধ্য পেয়েছি যে, জীবন আমার ধন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে বীজ তিনি রোপণ করেন, তা বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ’৪৮-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-র ৬ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং পরিশেষে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। ’৭০-এর নির্বাচনের পরপরই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সামরিক শাসকগোষ্ঠী বিজয়ী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তখন থেকেই তিনি স্থির করেন রাজনৈতিক ঘটনাধারাকে এমনভাবে নিয়ে যাবেন যে, ওরা হবে আক্রমণকারী আর আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সারা বিশ্বের সমর্থন পাবেন; যাতে কোনো পক্ষই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ তুলতে না পারে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতা। শ্রী চিত্তরঞ্জন সুতারকে বঙ্গবন্ধু ভারতে পাঠিয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন সুতার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ভারতে গিয়ে আমাদের জন্য সব ব্যবস্থা করেছিলেন। এখানেই বঙ্গবন্ধু ক্ষান্ত হননি। সিরাজগঞ্জ থেকে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত সদস্য আমার প্রিয় বন্ধু ডা. আবু হেনাকে অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে ভারতে পাঠিয়েছিলেন। আবু হেনা যে পথে গিয়েছিলেন ও যে পথে ফিরে এসেছিলেন, ঠিক সেই পথেই ২৯ মার্চ কেরানীগঞ্জ থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সারিয়াকান্দি-বগুড়া হয়ে ৪ এপ্রিল আমরা ভারতে পৌঁছাই। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, জাতীয় নেতা এএইচএম কামরুজ্জামান ও শেখ ফজলুল হক মণি। আর ডা. আবু হেনা ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। মুক্তিযুদ্ধের ৯টি মাস আবু হেনা আমাদের সঙ্গে থেকে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। মনে পড়ে, ১৭ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বজ্রকণ্ঠে স্লোগান তুলেছিলাম- ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’; ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’; ‘আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’; ‘আমার নেতা তোমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব’; ‘জয় বাংলা’। শত-সহস্র মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে সমবেতভাবে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেছে মুজিবনগরের আম্রকানন। সেদিন আমার পরিবার-পরিজন জানত না আমি কোথায় আছি, কীভাবে আছি বা আদৌ বেঁচে আছি কিনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মহিমান্বিত সেসব দিনের কথা ভাবলে গর্বে আজও বুক ভরে ওঠে। লেখক : আওয়ামী লীগ নেতা; সংসদ সদস্য; সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি tofailahmed69@gmail.com এসএ/  

উদযাপন উপকমিটিতে মাশরাফি-সাকিব

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতি বছর ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এই মহান নেতার জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যা বাস্তবায়নে কাজ করছে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। একই সঙ্গে জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে আটটি উপকমিটি করা হয়েছে। এর একটি হলো- ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠন করেছে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট সেই কমিটি। এতে রাখা হয়েছে দেশের দুই সেরা ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে। এ ছাড়া সেটিতে দেশের বরেণ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিরা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজক উপকমিটিও। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দেশব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। আমাদের বিশ্বাস, সবার চেষ্টা ও আন্তরিকতায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি করবে নতুন ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সব কিছু দেখভাল করবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। এর আগে তার জন্মশতবর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে আটটি বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করে এটি। উপকমিটিগুলো হলো- সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আলোচনাসভা আয়োজন; আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজন, প্রকাশনা ও সাহিত্য, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও অনুবাদ, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, মিডিয়া, প্রচার ও ডকুমেন্টেশন এবং চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২০ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা আগেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি