ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ১:২৯:৫২, বুধবার

আব্বা আমাদের ক্ষমা করবেন

আব্বা আমাদের ক্ষমা করবেন

বাবার কথা লিখবো কিন্তু কীভাবে লিখবো, কী লিখবো সেটাই বুঝতে পারছি না। একসঙ্গে বাবার অনেক স্মৃতি চলে আসছে, কোনটা রেখে কোনটা বলবো। তারপর আমি তো লেখক বা সাংবাদিক নই যে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখবো। আমার বাবার নাম আবু ছফা। তিনি এখন আমাদের মধ্যে নেই। আমরা আব্বা ডাকতাম। আমার আব্বা খুব বিখ্যাত বা অসাধারণ কেউ ছিলেন না। তবে মানবিক গুণাবলীতে ছিলেন অসাধারণ-অনন্য একজন মানুষ। অন্যের কষ্টে তিনি ব্যথিত হতেন। নিজের সর্বস্ব নিয়ে এগিয়ে যেতেন।
বাবা দিবস আমার জন্য দারুণ এক অপরাধবোধের দিন

বাবা হিসেবে আমি গেল প্রায় পাঁচ বছরে দুই একটা সাবজেক্ট বাদে সবগুলায় ফেইল মারসি! নিজের ত্যাড়ামির জন্য জন্মের পরপরই পোলারে ফেলায় দিসিলাম কঠিন অর্থসংকটে, বেচারাকে দেড় বছর বয়সে একবার রোযাও রাখতে হইসিলো! তখন আমি দেশের এক নম্বর চ্যানেল (ততকালীন) ছেড়ে দিয়ে বিপ্লব করিতেছিলাম। দেশের প্রথম খেলাধুলা বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল (sportstimes24) গড়ায় ব্যস্ত ছিলাম, উফ কি চেতনা! একটা সাইকেলের আবদার মিটাইতে পাক্কা আট মাস তাকে ভুজুং ভাজং দিয়ে কাটাইসি! ২২৪ টাকা পকেটে আর মাথায় একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে অসুস্থ পোলারে নিয়া হাসপাতালে হাজির হইসি! এমন আরো অনেক কেলেঙ্কারির ঘটনা আছে! তাই বাবা দিবস আমার জন্য দারুণ এক অপরাধবোধের দিন। কিছু স্বান্তনাও অবশ্য আছে। এই সংগ্রামের মধ্যেও আমি আমার ছেলেকে প্রথম যেই শব্দটা শিখেয়েছি তা হলোঃ `না`। যারা আমার ছেলেকে চেনেন তারা জানেন ও বোল্ডলি না বলতে জানে। না কইতে হেডাম লাগে! যেইটা আমার নাই! অহন একটু আক্টু হইতাসে! এখন চেষ্টা চলছে ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে ঊঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে শেখানো। আশিভাগ পেরেছি, বাকিটাও হয়ে যাবে। আরেকটা প্রচ্ছন্ন আস্কারা আছে, সেটা আমি করেই ছাড়বো, ঋদ্ধের মাথায় গেঁথে দিব `অলওয়েজ লিসেন টু ইউর হার্ট`। সবকিছু গুল্লি মেরে শুধু হৃদয়েরটা শুনো, দেখবা তুমিই সেরা, তোমার সবকিছুই সেরা! এইটা আমার মা আমাকে ঢুকায় দিয়ে, গ্যাছে সো আমিও দিয়াম! আমি তো পারলাম না, হয়ত পারবোও না আদর্শ বাবা হইতে দোয়া কইরেন আমার বাবাটার জন্য, সে যেনো পারে। আরকে//

বাবার সবটুকু-ই তো সন্তানের

বাবা ঠিক মা নয়। একটু দূরের। বাইরে বাইরেই বেশি থাকেন। কঠিন চেহারা। শক্ত চোয়াল। অত সহজে হাসেন না। বাবার সঙ্গে কথা বলতে হয় মেপে। ভুলচুক হলেই বকা খাওয়ার ভয়। চারপাশে দেয়াল তুলে রাখা এই বাবাকে কোনো না কোনো সময় ঠিক চিনে ফেলে সন্তান। বাইরে তিনি যত কঠিন, ভেতরে ততটাই কোমল। তাই বাবাকে স্মরণ করতে কোন নিদির্ষ্ট দিবসের প্রয়োজন হয় না। তবুও প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। যাদের বাবা আছে তারা এই দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করে থাকেন। আর যাদের বাবা নেই তারা অনেকেই তাদের বাবাকে নিয়ে নানান ধরনের স্বরণীয় ঘটনা লিখে থাকেন। তেমনিভাবে বাবা সঙ্গে কাটানো স্মৃতিচারণ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো: আকিদুল ইসলাম। বাবার কনিষ্ঠ আঙ্গুল ধরে হাঁটা শেখার কথা ঠিক মনে নেই। তাঁর হাতে হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। পঞ্চম শ্রেণীতেই বাড়ির বাইরে হোস্টেলে থাকার ফলে সেই শাসনটাও ঠিক পাইনি। স্বাধীনচেতা মনোভাবে বেড়ে ওঠা মনটাও খুব করে ঐ গুলোর অভাববোধের তাড়না দিতো। “মা” ময় ছিলো পুরোটা। আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই আমার ছাত্র আক্ষেপ আর ভালোবাসার অভাববোধের অনুযোগে বলে উঠলো-“স্যার, বাবার সাথে অনেক দিন দেখা হয় না। ঘুমানোর পরে আসে আবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই বের হয়ে যায়”। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি মায়ার জলে চোখ ছলছল করছে। কিছু বললেই কেঁদে ফেলবে। ভাবলাম তাই করি,কেঁদে সে হাল্কা হোক। কিন্তু সাথে সাথে পরিবেশটা হাল্কা করে ফেললাম তার প্রিয় ক্রিকেটের গল্প করে। কয়েকশ ক্রিকেটারের নাম লেখা তার প্রিয় ডায়রিটা দেখতে চাইলাম। তাতে সে হয়তো ঠিক হলো....!!! কিন্তু আমার ঐ স্বাধীনচেতা মনটা আবার অনুযোগ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। মনে পড়লো বাবার হাতের উপর হাত রেখে লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করেছি। তাঁর কষ্টের সময় একফোঁটা ঘামকে বাঁচিয়েছি। জমিতে ধানের চারা লাগানোর সময় তাঁর সকালের খাবার নিজ মাথায় করে নিয়ে গেছি। তাঁর অনেকটুকু কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। যার বাবার সবটুকু-ই তো সন্তানের জন্য। বাবা ! ও বাবা! আজ খুব করে মনে পড়ছে তোমার ঘামের লবণাক্ত স্বাদটা। যখন তুমি আমাকে সাইকেলের সামনে বসিয়ে দীর্ঘপথ সাইকেল চালাতে। পড়ে যাওয়ার ভয়ে পিছনে বসাতে না। তখনকার তোমার কষ্টের নিশ্বাসটা আমার কানে বাজে বাবা। আমি তোমার মুখের দিকে তাকালেই তোমার ঘামের ফোঁটা আমার কাপালে পড়তো। বেয়ে পড়া সেই এ ফোঁটা লবণাক্ত ঘামের স্বাদ আমার সারা জীবনের চেয়েও বেশি মূল্যবান বাবা। আমার মনও তাই আক্ষেপ আর ভালোবাসার অভাববোধের অনুযোগে বলে উঠলো,,অনেক দিন তোমার সাথে দেখা হয় না বাবা।     টিআর/

বাবা হতে না পারা মিজানুরের গল্প

বাবা এক অম্লান অভিভাবকত্ব ও পরম যত্নের আশ্রয়ের নাম। বাবা ডাকেই যত অধিকার, ভালোবাসা ও ভরসা নিহিত থাকে। পৃথিবীর সব পুরুষই চান এক সময় বাবার এই অবস্থানে নিজেকে দেখতে, বাবা ডাকটি শুনতে। পৃথিবীর সকল কিছুর বিনিময়ে যেন তারা সন্তানের মুখে এ ডাকটি শুনতে পান। বাবা দিবস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন সনি ইলেকট্রনিক্স এ কর্মরত মিঞা মিজানুর রহমান কাজল। তিনি বাবা না হওয়ার যাতনা নিজের ফেসবুক প্রফাইলে তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রফাইলে তার স্ট্যাটাসটি একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘এই বিবাহিত জীবনে পরিচিত ও অপরিচিতজন থেকে একটি কথা বহুবার শুনতে হয়েছে- ভাই, ছেলে-মেয়ে কতজন? এ কথা সে কথার বুঝ দিয়ে হয়ত সাময়িক সময় পার করতে চেষ্টা করেছি কিন্তু এত বছরেও সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষা কিংবা বুঝার বাকী থাকে না অনেকেরই। তারপরেও প্রতিমুহূর্তে এই একই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আজও পথ চলছি। তাই জীবনের একটি দুঃখজনক ঘটনা শেয়ারের মাধ্যমে আমি আজ তা প্রথমবারের মত আমার টাইমলাইনে প্রকাশ করছি। যা আমি গত ২০১৬ সালে Justice for Women নামক একটি গ্রুপে লিখেছিলাম এবং লেখাটি ভাইরাল হয়েছিল। হয়ত অনেকেই পড়েছেন কিন্তু কারওই জানা নেই লেখাটি যে আমার ছিল। আজ বাবা দিবসে নিজে বাবা না হওয়ার সেই বিষয়ের লেখাটি হুবহু তুলে ধরলাম। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম সেই অনেক বছর আগে। বিয়ের ৩ বছর পর আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করে। কিন্তু ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও সন্তানের কোনো হার্টবিট আসে না। যার দরুন ডাক্তার বাধ্য হয় ডিএনসি করতে। যা হোক আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাই কিন্তু কয়েক বছর পার হলেও কিছুই আর সম্ভব হয় না। এরই মাঝে টেস্ট করে ধরা পড়লো স্ত্রীর ইউটেরাসে টিউমার দেখা দিয়েছে। অনেকগুলো হওয়াতে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন অপারেশন করতে হবে। ঢাকার বড় বড় ডাক্তার খুঁজে ডিসিশন নিলাম স্কয়ার হাসপাতালে বসেন নার্গিস ফাতেমা নামের এক ডাক্তার। তার হাতেই করাবো অপারেশন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডা. নার্গিস ফাতেমাকে দেখালে তিনিও বললেন ইউটেরাস সেইভ রেখে টিউমারগুলো রিমুভ করবেন। তিনি বললেন, এটি একটি প্যাকেজের মাধ্যমে সেখানে করা হয় যা সবকিছু দিয়ে পয়ষট্টি হাজার টাকা খরচ লাগবে। আমি রাজি হলাম এবং স্ত্রীকে ভর্তি করলাম কিছুদিন পর। অপারেশন ভাল করলেন অনেক সময় নিয়ে। ডাক্তার আমাকে টিউমারগুলো দেখিয়ে বললেন অনেক টিউমার ছিল যা রিমুভ করতে অনেক সময় লেগেছে এবং রুগী এখন ভাল আছে, তবে একরাত পোস্ট অপেরেটিভ কেয়ার ইউনিটে থাকতে হবে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়াতে আমি বিকালে দেখতে সেই রুমের সামনে গেলাম। সিকিউরিটিকে অনুরোধ করলে আমাকে রুমে ঢুকতে দিল। কিন্তু গিয়ে দূর থেকে দেখি এ কি অবস্থা! আল্লাহ্ শেষবারের মত দেখাতেই হয়ত আমাকে ওখানে নিয়েছিলেন। ডিউটিরত ডাক্তার ও সিষ্টার সব কাউন্টারে বসে আড্ডা দিচ্ছে অথচ রুগী ওখানে মৃত্যুশয্যায় হাত নেড়ে নেড়ে ডাকছে তা কেউ শুনছে না। যেন গরু জবাই করে ফেলে রেখেছে। আমার স্ত্রীর শরীর সাদা হয়ে গিয়েছে। আমি চিৎকার করে ডিউটি ডাক্তার ডাকতে তারা এসে ব্লাড প্রেসার মেপে দেখে প্রেসার ৩৫ এ নেমে গিয়েছে। সাথে সাথে ডা. নার্গিস ফাতেমা খবর পেয়ে এসে হাজির। তিনি এই অবস্থা দেখে ডিউটি ডাক্তারের উপর চোখ গরম করলেন কিন্তু আমি থাকাতে কিছু না বলে দ্রুত ICU তে নিয়ে গেলেন। আমাকে বললেন যত দ্রুত এবং যত ব্যাগ পারেন রক্ত সংগ্রহ করেন এখনই। আমি পাগল হয়ে গেলাম। ICU তে ডাক্তার ব্লাড প্রেসার বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে গেল এবং সবাই বোর্ড মিটিংয়ে বসে গেলেন। আমি ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে থাকলাম। রাতে ডাক্তার আমাকে ICU তে ডাকলেন এবং বললেন রুগীর টিউমার রিমুভ করার স্থান গুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না এ জন্য ব্লিডিং হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বললেন যেন তাকে বাঁচানো যায়। আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে বলে আসলাম তোমাকে আমার ঘরে নিয়ে যাবই। সারারাত কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করতে থাকলাম সৃষ্টিকর্তার নিকট। রাত থেকে রক্ত দিচ্ছে অথচ তা বের হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে ১১ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়ে গেল। ডাক্তাররা আবার আমাকে ডাকলেন এবং বললেন তাকে আবার অপারেশন করতে হবে এবং পুরো ইউটেরেসটি ফেলে দিতে হবে। যার কারণে আমার স্ত্রী আর কোনদিন মা হতে পারবেন না। আমি সাথে সাথে ডাক্তারকে কাগজে সাইন দিয়ে বললাম আপনি ফেলে দেন আমার বাচ্চার দরকার নাই। আবার অপারেশনে ঢুকালো। সর্বমোট আমি ১৮ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে ক্রসম্যাচ করেছিলাম। অপারেশন হলো এবং ICU তে তিন দিন রেখে বেডে দিল। আল্লাহর রহমতে তখন কিছুটা ভাল। আমাদের রুমের মাঝে পর্দা দেওয়াসহ তখন পাশে আর একজন রুগী ছিলেন। এক আমার স্ত্রী আর অন্যজন সে দিনই বাচ্চা হওয়া এক ভদ্রমহিলা। একজন মা হলেন আর অন্যজন চিরতরে মা হওয়া থেকে বঞ্চিত হলো একই রুমে শুয়া। নির্মম সেই মুহূর্ত কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের পাশের রুগী যখন জানতে পারল আমার স্ত্রীর এই সমস্যার কথা। সাথে সাথে পর্দার এপাশ থেকে শুনতে পেলাম সিস্টারকে ফোন করে বলছে তাকে এই রকম রুগীর কাছে কেন রাখা হয়েছে? তার বাচ্চার নাকি ক্ষতি হবে। শুনেও আমরা না শুনার ভান করলাম। তিনি দ্রুত রুম ছেড়ে অন্য কেবিনে চলে গেলেন। এর তিন দিন পর যখন কাউন্টারে বিল দিতে গেলাম তখন দেখি আমার পয়ষট্টি হাজার টাকার প্যাকেজের বিল দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ টাকা। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। যাদের অবহেলার কারণে আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো আবার তারা টাকাতে একটুও ছাড় দিলো না। আমি স্কয়ার হাসপাতালের অপারেশন হেডের কাছে গেলাম ও তাকে সব খুলে বললাম। তার নিকট দরখাস্ত দ্বারা আবেদন করলাম আমাকে কিছু টাকা যেন মওকুফ করা হয়। কিন্তু তিনি মোটেও শুনলেন না। তিনি ডাক্তার নার্গিস ফাতেমাসহ অন্য ডাক্তারদের ডাকালেন এবং সকল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আমাকে বললেন, আপনার স্ত্রীকে বাঁচানো গিয়েছে এটাই বড় কথা আর মৃত্যুশয্যা যাওয়াতে তাদের নাকি কোন দোষ ছিল না। আমি ওদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফ্যামিলির কাছ থেকে কোনো সাপোর্ট পেলাম না। সবাই বললেন আল্লাহ কপালে রেখেছেন এখন আর কি করার! স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠলো আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের টোনাটুনির সংসারের অনেক বছর পার হয়ে গেল। দুজনই কর্মজীবনে ব্যস্ত। দিন শেষে ঘরে ফিরি। আর মন খারাপ রোধ করতে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই। দেশ কিংবা সমাজের অনেককেই দেখি মেয়েদের সন্তান না হওয়ার কারণে স্বামী তালাক দিতে চায় কিংবা দিয়ে দেয়। আমি সেই সমস্ত পুরুষদের বলতে চাই, স্ত্রীকে সবার আগে ভালোবাসুন তারপরে অন্য সব চাওয়া পাওয়া। একজন স্ত্রী শুধুমাত্র সন্তান পয়দা দেওয়ার মেশিন নয় যে তা দিতে না পারলে আপনি তাকে ছেড়ে দিবেন। সন্তান আল্লাহ্ দিয়ে থাকেন। তিনি যেমন দিতে পারেন তেমনি নিতেও পারেন। এখানে কারও কোনই হাত নেই। সবার আগে সংসারে সুখ। একটি সুখি সংসার বেহেস্তের বাগান স্বরূপ। আর পৃথিবীটা থাকার জায়গা না। আমরা কেউই থাকবো না। কেউ আজ কেউ কাল। সব কিছুই পড়ে রবে তবে কেন আমাদের এত চাওয়া পাওয়া? এভাবে দিন চলে যায় জীবন থেকে সময় হারিয়ে যায় স্বপ্ন গুলি স্মৃতি শুধু পড়ে রয় !! জগতের এইতো রীতি একদিন হবে যে ইতি সুখে দুঃখে কেটে যাবে মানুষ নামের দেহ বাতি!! মিঞা মিজানুর রহমান কাজলের ফেসবুক থেকে নেয়া এমএস/

‘বাবার জন্যে গর্বে বুক ভরে যায়’

বাবাকে নিয়ে অনেক গান কবিতা লেখা হলেও বাবার অপূর্ণতা কি কখনো পূরণ করা যায়? কে না চায় বাবার আদর ভালবাসা পেতে। এই পৃথিবীতে কারও বাবা আছে আবার কারও নেই। বাবা দিবসে বাবাকে মনে করেন অনেকেই। যাদের বাবা নেই তারাই বোঝে বাবা হারানোর বেদনা। আর যাদের বাবা আছে তারা কি বুঝবে বাবা হারানোর কষ্ট? বাবা দিবস নিয়ে অনেক গুণীজনরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন। তার তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করছেন। তেমনি একজন গুণী ও আলোকিত মানুষ নওশেবা সাবিহ কবিতা। তিনি শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা “টইটম্বুর” এর সম্পাদক। তিনি লিখেছেন তার বাবাকে নিয়ে। আবেগ, অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তার লেখাটি একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- ‘রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে হরহামেশাই বটবৃক্ষ চোখে পড়ে আমাদের। তখন বটবৃক্ষের গুণাগুণ মনে করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তবে বটবৃক্ষ কী, সেটা ভালোমতো টের পেয়েছি ২০০৮ সালে । আমার মা সেলিমা সবিহ্ (টইটম্বুরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক) হঠাৎ করে গত হলেন (২০০৮ সালের ১২ জানুয়ারি)। সেই থেকে আমার বাবা চিত্রশিল্পী (চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও টইটম্বুর উপদেষ্টা) ও কথাশিল্পী সবিহ্ উল আলম একাধারে আমার মা ও বাবা দুটোই। বলতে গেলে আমরা ৩ ভাইবোনই (নায়ক, কবিতা ও সুমন) একেবারে ছোট থেকেই আমাদের বাবা-মাকে পেয়েছি বন্ধুর মতো । সব কথাই আমরা তাদের সাথে ‘শেয়ার’ করতাম। কোনো রাখ-ঢাক ছিল না। পরিচিত -পরিজনরা ব্যাপারটি লক্ষ্য করে যেমন অবাক হতেন, তেমন প্রশংসাও করতেন । হঠাৎ করে মা চলে গেলেও বাবার সাথে বন্ধুত্বে ছেদ পড়েনি এতটুকুও। আমার বাবা বরাবর চুপচাপ স্বভাবের মানুষ। কিছুটা আমার দাদা কথাশিল্পী মাহ্বুব উল আলম -এর মতো। আমার কাছে অন্তত তাই মনে হয়। দাদার মতো নিজের ব্যাপারে উচ্চকিত নন। বাবা খুব নিয়ম মাফিক এবং নীতিবান। নিজের কাজ নিরিবিলিতে করতে খুব পছন্দ করেন। এখন তো ৭৮ বছর বয়সেও সকাল থেকে রাত অবধি টানা ব্যস্ত থাকেন। মাশাআল্লাহ্। ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন সময়মতো। আমার মাসহ হজব্রত পালন করেন ২০০৩ সালে। খুব ভোরে উঠে নামাজ পড়ে, কোরআন পড়ে নিয়মিত ডায়েরি লেখেন। খুব স্বল্পাহারী। ছোটবেলা থেকেই দেখছি খুব কম খান। খুব একটা খাদ্যরসিক নন । তবে কারো হাতের রান্না পছন্দ হলে প্রশংসা করেন। আমার হাতের অনেক রান্নাই আমার বাবার প্রিয় - তবে মসুরের ডাল দিয়ে চিংড়ি শুঁটকির রান্না বেশি প্রিয়। আমার বাবার ২ পৌত্র ও ১ পৌত্রি আর ১ দৌহিত্র (আমার ছেলে #যাররাফ)। নাতি-নাতকুড়দের সাথেও রয়েছে বাবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ওরা ওদের যে কোনো কথা ‘শেয়ার’ করে তাদের দাদা-নানার সাথে। বন্ধুত্বের কথা নিয়ে বলি - আমরা ৩ ভাই বোন ছাড়াও বাইরের আরও অনেক ক’জন ছেলেমেয়েও বাবাকে বন্ধুর মতো ভাবে । শুধু তা-ই নয়, তারা বাবাকে ‘চাচা’ সম্বোধন করলেও ‘পিতৃপ্রতিম’ মনে করে শ্রদ্ধার আসনে বসায়। এখানেই শেষ নয়, যাদের ‘বাবা’ নেই, তাদের তো বাবা নিজের ছেলে-মেয়ে বলেই গণ্য করেন। পাশাপাশি তারাও তাদের যে কোনো সমস্যা, সুখ-দুঃখের কথা বাবার সাথে শেয়ার করে । আর বাবা সানন্দে তাদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান বাৎলে দেন । বাবা প্রায়ই গর্ব করে বলেন- তার অ-নে-ক ক’ জন ছেলেমেয়ে । আসলেই তাই । আমিও মাঝে মাঝে ভাবি - বাবা এতো এতো ছেলেমেয়েকে একই সঙ্গে ‘স্নেহ-সুধা’ বিলান কীভাবে ? আসল কথা - বিধাতা কাউকে না কাউকে এমন ক্ষমতা দিয়েই দুনিয়ায় পাঠান । আমার ভাবতে ভালো লাগে যে, আমার বাবা এই গুটিকয়েকের একজন । আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করেন - তোমরা ভাইবোন ক’ জন? আমি কিন্তু চটজলদী হিসেব করে উত্তর দিতে পারি না। তার কারণ রক্তীয় ভাইবোনের চেয়ে আমার আত্মিক ভাইবোনের সংখ্যাই বেশি । দিনে দিনে এই সংখ্যা শুধু বাড়ছেই .................................... আর সেটা বাবার কারণেই। এতে আমি অখুশি নই, বরং গর্বিত। আমি এই লেখা শুরু করেছি ‘বটবৃক্ষ’ দিয়ে। হ্যাঁ, আমার বাবা হলেন ‘বটবৃক্ষ’। তাঁর স্নেহ-ছায়ায়, মায়া-মমতায় সবাই আরামে থাকতে পারে। এ মুহূর্তে আমাদের জীবনপথের চলমানতায় বলতে গেলে পুরোটাই জুড়ে আছেন আমার ‘বাবা’। যদি বলি - আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হাসি-কান্নায়, সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায়, সাফল্য-ব্যর্থতায়, উত্তেজনায়-অবসাদে, জীবন - সংগ্রামে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো ঘিরে আছেন আমার বাবা। তাহলেও বোধ করি এক বর্ণ মিথ্যে বলা হবে না - এমনই আমার ‘বাবা’ ! বিভিন্ন সময়ে অনেকেই আমায় বলেছে - ইস্ তোমার বাবা যা ভালো আর ফ্রেন্ডলি, আমার বাবাও যদি এমন হতেন?! - এ কথা শুনে বাবার জন্যে গর্বে বুক ভরে যায়। আমার কাছে আমার বাবা অনেক গুণের আধার। পুত্রপ্রতিম কাউকে তিনি ‘বাবা’ আর কন্যাপ্রতিম কাউকে ‘মা’ সম্বোধন করেন। পাতানো সন্তানরা এতে যারপরনাই আনন্দিত হয়, খুশি হয় - এটা বেশ বুঝতে পারি । বাবার চরিত্রের একটি বিশেষ দিকের কথা না বললেই নয়, বাবা তাঁর পজিটিভ অ্যাটিচ্যুড দিয়ে অনেক কঠিন সমস্যা খুব সহজেই মোকাবেলা করেন। অনেকেই জানেন - বাবা তাঁর পজিটিভনেস দিয়ে অনেক ‘বেপথু’ মানুষকে সুপথে এনেছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখছি বাবা অনেকের বিয়েতে ঘটকালি করেছেন এবং করছেন। আবার অনেকের ভাঙা ঘর (মানে ভেঙে যাওয়া বিয়ে) জোড়া দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর অকাট্য যুক্তি হলো - যে কোনো জিনিস ভাঙতে এক সেকেণ্ডও লাগে না, কিন্তু জুড়তে লাগে অ-নে-ক সময় - অ-নে-ক দিন । বিয়েটাও তেমনই। আমার বাবার সাথে আমার এক উল্লেখযোগ্য স্মৃতি হলো - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর তাঁর মেয়ে রানু মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া - ‘আয় খুকু আয় ...... ‘গানটি। আমরা মানে আমি আর বাবা অনেক অনুষ্ঠানে অনেকবারই গানটি পরিবেশন করেছি। সবাই খুব প্রশংসা করেছেন আমাদের দ্বৈত পরিবেশনা। কেন যেন এই গানটি গাইবার সময় আমি আর বাবা অনেক ইমোশনাল আর নস্টালজিক হয়ে পড়ি। তখন আমার ইমোশনাল বাবাকেও আমি ‘ফিল’ করতে পারি। আমি বাবার কাছ থেকে প্রথম জেনেছি যে, আনন্দ শেয়ার করলে বাড়ে আর দুঃখ শেয়ার করলে কমে। আমি নিজেও কোনো সমস্যায় পড়ে যখন থৈ পাই না, তখন শরণাপন্ন হই বাবার । তাঁর সঙ্গে শেয়ার করে হালকা হই, পথের দিশা পাই । অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই । আমার বাবা তাই শুধু আমাদের পরিবারেরই নয়, অন্য অনেক পরিবারেরও বটবৃক্ষ। বাবা দিবসে আমার এই ‘বটবৃক্ষ’ বাবার দীর্ঘায়ু কামনা করি, যেন তিনি দীর্ঘদিন তাঁর এতো এতো ছেলেমেয়ের মাঝে স্নেহ-সুধা বিলিয়ে যেতে পারেন। শেষ করি ছোট্ট একটি কথা দিয়ে -‘বাবা নামের মাহাত্ম্য তাইদামের চেয়েও দামীখুঁজে ফিরি সকল কাজেইগর্বিত এই আমি।’

আমার বাবা ‘লেহা ভাই’

বাবা একটি মধুর নাম। কত কষ্ট করে তিনি আমাদের লালন-পালন করেন। আদর করেন, ভালোবাসেন। আমাদের আহার অন্বেষণ করেন। সারাদিন কাজ শেষে ফিরে পরিবারে সময় দেন। শত কষ্টের পরও কাউকে বুঝতে দেন না তার কষ্ট। গোপনেই থেকে যায় সেই কষ্ট। সেই বাবাকে স্বরণ করেই আজকের এই দিনটি পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। যাদের বাবা আছে তারা এই দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করে থাকেন। আর যাদের বাবা নেই তারা অনেকেই তাদের বাবাকে নিয়ে নানান ধরনের স্বরণীয় ঘটনা লিখে থাকেন। তেমনি বাবা হারানোর ব্যাথা নিয়ে বাবাকে স্বরণ করে স্মৃতিচারণ করেছেন বিশিষ্ঠ সাংবাদিক দৈনিক যুগান্তরের প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম। বাবাকে নিয়ে লেখা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি একুশে টেলিভিশন পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘আমার ছে‌লে‌বেলায় আমা‌দের গ্রা‌মে যাত্রাপালা খুবই জন‌প্রিয় ছিল। রুপবান না‌মের যাত্রা দেখার জ‌ন্যে মঞ্চায়‌নের আগ থে‌কে গ্রা‌মের লোক‌দের ম‌ধ্যে রব উঠে যেত। ওই সম‌য়ে আমা‌দের গ্রা‌মে আমার বাবা ছাড়া লেখাপড়া জানা কোনও লোক ছি‌ল না। তাই গ্রা‌মের যুবকরা যাত্রাপালা কর‌তে গি‌য়ে বিপা‌কে পড়‌তেন। যাত্রার বই প‌ড়ে দেয়ার কেউ ছিল না। আমার বাবা‌কে বই পড়ার জ‌ন্যে ডে‌কে নি‌তেন। গ্রা‌মের লো‌কেরা তা‌কে "‌লেহা ভাই" ব‌লে ডাক‌তেন। বাবার আসল নাম মো. মোফাজ্জল হো‌সেন। ত‌বে সবাই লেহা ভাই না‌মে চিনত। কারণ তি‌নি একমাত্র লেখাপড়া জানা‌ লোক। নন মে‌ট্রিক পর্যন্ত লেখাপড়া ক‌রে‌ছেন, মে‌ট্রিকু‌লেশন মা‌নে এসএস‌সি পরীক্ষা দেন‌নি কিংবা পাশ করেন‌নি। যাত্রাপালার তি‌নি ছি‌লেন ফ্রমমাস্টার। যাত্রার বই পড়‌তেন আর তা শু‌নে  অভিনেতারা ম‌ঞ্চে পারফর্ম কর‌তেন। নন মে‌ট্রিক হ‌লেও বাবার সব বিষ‌য়ে জ্ঞান ছিল। পেশায় তি‌নি কৃষক ছি‌লেন। দিনভর মা‌ঠে গরুর লাঙ্গ‌লে হাল চাষ থে‌কে শুরু ক‌রে কুড়াল দি‌য়ে লাক‌রি সংগ্রহ সবই তি‌নি ক‌রে‌ছেন। আমার ম‌নে আছে, বাবা আমার চুল কে‌টে দি‌তেন, সব সম‌য়েই রাউন্ডছাট, মা‌থার চার‌দি‌কে ‌গোল ক‌রে চুল কাটা। আমি খুব অপছন্দ করতাম। আমা‌দের বা‌ড়ি‌তে পা‌শের গ্রা‌মের র‌ঞ্জিত না‌মের একজন নরসুন্দর আস‌তেন, তার হেয়ার স্টাইল আমার পছন্দ হ‌লেও অর্থ সাশ্রয় কর‌তে বাবা জোর ক‌রে নি‌জে আমার চুল ছে‌টে দি‌তেন। তার অন্য সন্তান‌দেরও তাই কর‌তেন। আমার বাবার পাঁচ ছে‌লে ও চার মে‌য়ে। দুই ছে‌লে ইতিম‌ধ্যে মারা গে‌ছেন। বাবা মারা যান ১৯৯৯ সা‌লে। সারা‌দিন ক‌ঠোর প‌রিশ্রম করার পর চাঁদ‌নি রা‌তে আমা‌দের বা‌ড়ির উঠা‌নে গ্রা‌মের লো‌কেরা সবাই সম‌বেত হ‌তেন । আমা‌দের বা‌ড়ি‌তে ছিল কাসাসুল আম্বিয়া না‌মের বই। এতে আম্বিয়া‌দের জীবন কা‌হিনী কা‌ব্যিক ঢং‌য়ে লেখা ছিল। বাবা সুর ক‌রে বইটি থে‌কে পড়‌তেন, কারবালার বি‌য়োগান্তর কা‌হিনী, পড়ার সম‌য়ে সমবেত কেউ চো‌খের পা‌নি ধ‌রে রাখ‌তে পার‌তেন না । বাবা ছি‌লেন সরল‌সোজা মানুষ। বৈষ‌য়িক চিন্তা তার ছিল না। তি‌নি সংসা‌রের জ‌ন্যে গাধার খাটু‌নি খে‌টে‌ছেন। তার উপার্জ‌নে জ‌মি কেনা হ‌লেও তার রে‌জি‌স্ট্রি আমাদের না‌মে আর মা‌য়ের না‌মে ক‌রে‌ছেন। আমা‌দের ভাইবোন‌দের লেখাপড়া করা‌নোর, সংসার কীভা‌বে চল‌বে সবই দেখ‌তেন মা। বাবা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছি‌লেন। তি‌নি নামাজ পড়‌তেন, আজান দি‌তেন। আমা‌দের গ্রা‌মের নাম কদম দেউ‌লি, থানা বারহাট্টা, জেলা নেত্র‌কোনা। আমা‌দের পাশ্ববর্তি দেউ‌লি গ্রা‌মের বে‌শির ভাগ হিন্দু সম্প্রদা‌য়ের লোক। তা‌দের স‌ঙ্গে বাবার বন্ধুত্ব ছিল। বাবা আমা‌দের খুব ভালবাস‌তেন। তাই স্ত্রী সন্তান‌দের রে‌খে কোথাও যে‌তেন না। মা মা‌ঝে মা‌ঝে ঝগড়া কর‌তেন তাব‌লিগে যাওয়ার জন্য। বাবা তাব‌লিগ পছন্দ কর‌তেন না। আমা‌দের পাশ্বব‌র্তি আরেক গ্রা‌মের নাম সতরশ্রী। ওই গ্রা‌মে আকবর আলী রেজভী না‌মের একজন পীর ছি‌লেন। তি‌নি তাব‌লিগ পছন্দ কর‌তেন না। বাবা ছি‌লেন ওই পী‌রের ভক্ত। ত‌বে তাব‌লি‌গের লো‌কেরা তা‌কে দাওয়াত দি‌তে এলে তা‌দের স‌ঙ্গে বিন‌য়ের স‌ঙ্গে কথা বল‌তেন । মারা যাওয়ার আগে বাবা খুব অসুস্থ ছি‌লেন। ওই সম‌য়ে আমি ঢাকায়। বাংলাবাজার প‌ত্রিকায় জু‌নিয়র রি‌পোর্টার। আমি কখনই ভা‌বি‌নি তি‌নি মারা যা‌বেন। তাই ভে‌বে‌ছিলাম ক‌য়েক‌দিন পর বা‌ড়ি যাব, বাবার সেবা করব। কারণ বাবা আমার ঢাকায় থাকা পছন্দ কর‌তেন না। তি‌নি চাই‌তেন আমিও যেন তার সব সন্তা‌নের ম‌তো বা‌ড়ি‌তে থা‌কি। অসুস্থ থাকার দিনগু‌লো‌তে বার বার বল‌তেন আমি যেন বা‌ড়ি চ‌লে যাই। আমি ভাব‌তেও পা‌রি‌নি বাবা আমা‌দের ছে‌ড়ে চ‌লে যা‌বেন। বাংলাবাজা‌রে আমার চিফ রি‌পোর্টার মোল্লাহ আমজাদ হো‌সেন এক‌দিন আমা‌কে বল‌লেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা সুন্দরবন যা‌চ্ছেন। সুন্দরবন‌কে বিশ্ব ঐ‌তিহ্য ঘোষণা ক‌রে‌ছে ইউনে‌স্কো। তার উদ্বোধন। হে‌লিকপ্টা‌রে সাংবা‌দিক নি‌য়ে যা‌বেন। মোল্লাহ ভাই আমা‌কে ওই ট্রি‌পে যে‌তে বল‌লেন। আমার পোশাক প‌রিচ্ছদ এত ভাল না। প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে যে‌তে হ‌লে ভাল পোশাক দরকার। মোল্লাহ ভাই আ‌মা‌কে কিছু টাকা দি‌লেন জামা কেনার জন্য। জু‌নিয়র রি‌পোর্টার হিসা‌বে প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে হে‌লিকপ্টা‌রে সুন্দরব‌নের ম‌তো জায়গায় যাওয়া একটা বিরাট সু‌যোগ। আমার কেন জা‌নি যে‌তে ভাল লাগ‌ছিল না। আমি টাকাটা মোল্লাহ ভাইকে ফেরত দি‌য়ে বললাম, আমি যাব না। মোল্লাহ ভাই তখন আমা‌দের আরেক সহকর্মী শাবান মাহমুদ‌কে ওই ট্রি‌পে যে‌তে ব‌লেন । শাবান মাহমুদ খু‌শি‌তে আত্মহারা। তি‌নি তখন ছাত্রলী‌গের রাজনী‌তি‌তে স‌ক্রিয়। শেখ হা‌সিনার স‌ঙ্গে যাওয়ার সু‌যোগ তার জ‌ন্যে বিশাল ব্যাপার। শাবান ভাই সুন্দরবন গে‌লেন। সুন্দরবন থে‌কে প্রধানমন্ত্রী ফি‌রে গে‌লেও সাংবা‌দিকরা বেশ ক‌য়েক দিন সেখা‌নে থাক‌লেন। প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন যাওয়ার প‌রের দিন আমার ডে অফ। আমি তখন ব্যা‌চেলর। আমি আর আমার ভা‌গ্নে শ‌ফিউল আলম দোলন মুগদাপাড়ায় একটা ফ্ল্যাট ভাড়া ক‌রে থা‌কি। ডে অফের দিন কী ম‌নে ক‌রে বিকাল পাঁচটার দি‌কে অফি‌সে গেলাম। মোল্লাহ ভাই আমাকে কিছু টাকা দি‌য়ে বল‌লেন তাড়াতা‌ড়ি বা‌ড়ি যাও তোমার বাবা অসুস্থ। তোমার বা‌ড়ি থে‌কে ক‌য়েকবার ফোন এসেছে। আস‌লে তখন বাবা মারা গে‌ছেন। ১৯৯৯ সা‌লের ঘটনা। তখন আমার মোবাইল ছিল না ব‌লে জানা‌তে পা‌রে‌নি। তেঁজগাও‌য়ে বাংলাবাজার অফিসের কা‌ছে মহাখালী গি‌য়ে বা‌সে উঠলাম। রাত ১১ টায় নেত্র‌কোনো পৌঁছলাম। নেত্র‌কোনা থে‌কে আমার বা‌ড়ি ২০ কি‌লো‌মিটার দূ‌রে। এত রা‌তে কীভাবে যাব! আমি তখন ‌নেত্র‌কোনায় আমার এক বন্ধু নেত্র‌কোনা সরকারী ক‌লে‌জের সা‌বেক ভি‌পি গাজী মোজা‌ম্মেল হক টুকুর বাসায় যাই। আমা‌কে দে‌খে টুকু আমার বাবার মারা যাওয়ার খবর জানাল। সে আমা‌কে তার মোটরসাইকেলে রা‌তে বা‌ড়ি পৌঁছে দিল। আমি সে‌দিন অজানা কার‌ণে সুন্দরবন যাইনি ব‌লে বাবার জানাজায় শ‌রিক হ‌তে পে‌রে‌ছিলাম। অকার‌ণে ডে অফ অফিসে যাওয়ায় বাবার মরা মুখটা অন্তত দেখ‌তে পে‌রে‌ছিলাম। দুই দশক আগে বাবা চ‌লে গে‌লেও এখনও শূন্য শূন্য লা‌গে। আমি নি‌জে বাবা হওয়ায় সন্তা‌নের প্র‌তি বাবার দরদ খুব বে‌শি অনূভব ক‌রি। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া কর‌বেন।

আজ ১৩ জুন, ‘গোলাহাট গণহত্যা’ দিবস

১৯৭১ সালের ১৩ জুন, সৈয়দপুর শহরে সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয়। এ দিন শহরের ৪৭৮ জন মাড়োয়ারি পরিবারের সদস্যকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার নামে ট্রেনে তোলা হয়। এরপর রেলওয়ে কারখানার উত্তর প্রান্তে সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। শিশুদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন নির্বিচারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী অবাঙ্গালী বিহারী ও বাঙ্গালি রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী সম্মিলিতভাবে এদের হত্যা করে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, রংপুর বিভাগের অধিভুক্ত সৈয়দপুর একটি রেলওয়ে টাউন এবং ব্যবসায়কেন্দ্র। আগে এটি নিলফামারী জেলার অন্তর্গত ছিল। অবিভক্ত ভারতবর্ষে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের উত্তরপুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সংযোগস্থল ছিল। ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুবিধার জন্য এ অঞ্চল তাই মারোয়াড়ি ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভারত বিভাগের পুর্ব থেকেই তারা এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। তারা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বসবাস করে সেখানকার স্থানীয় হয়ে যায় এবং অনেকেই বিভিন্ন জনহিতকর কাজের কারণে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। যেমন : মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী তুলসিরাম আগারওয়াল তুলসিরাম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ তে ব্রিটিশ ভারত বিভাগের পরে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষ ভারতে চলে যেতে বাধ্য হলেও অনেকেই থেকে যায়। যুক্তপ্রদেশ এবং বিহার থেকে আগত উর্দুভাষী মুসলামানেরা সৈয়দপুর শহরে এসে বসবাস শুরু করে। এরা ছিল শহরবাসীর প্রায় ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উর্দুভাষী মুসলমানরা সরাসরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করে। এজন্য সৈয়দপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়। ১৯৭১-এর ১২ এপ্রিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে রংপুর সেনানিবাসের অদূরে বিখ্যাত তুলসিরাম আগারওয়াল, যমুনাপ্রসাদ কেরিয়া, রামেশ্বরলাল আগারওয়ালকে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ড মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। উর্দুভাষী বিহারীরা মাড়োয়ারিদের বাড়িঘর, দোকান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লুটপাট শুরু করে। যা হোক; পাকিস্তান সেনা কর্তৃপক্ষ ১৩ জুনের এ গণহত্যার নাম দিয়েছিল, ‘অপারেশন খরচাখাতা’। যদিও এই গণহত্যা ‘গোলাহাট গণহত্যা’ নামে পরিচিত। এসএ/    

বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস আজ 

আজ ‘বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হচ্ছে দিনটি। অ্যাক্রিডিটেশন হচ্ছে, পণ্য ও সেবার গুণগত মানসনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি। কোনো শিল্পপণ্য ও সেবা অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির জন্য অ্যাক্রিডিটেশন সনদের প্রয়োজন না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তা রফতানির ক্ষেত্রে ওই পণ্যের অনুকূলে অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরির টেস্টিং সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে অ্যাক্রিডিটেশনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কারিগরি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিন অ্যাক্রিডিটেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রামাণ্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন অপারেটররা এসএমএস পাঠিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন বিষয়ে জনগণকে সচেতন করবে। দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে প্রচারসামগ্রী, ব্যাগ, কলম, বুকলেট, বর্ণিল স্যুভেনির ও পোস্টার প্রকাশ করেছে বিএবি। শিল্প মন্ত্রণালয় ও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন এবং পল্গ্যাকার্ডে সাজানো হয়েছে। বিএবি ইতিমধ্যে বিএসটিআই, বিসিএসআইআর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ল্যাবরেটরির মতো সরকারি পরীক্ষাগারসহ দেশীয় ও বহুজাতিক ৬২টি টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরি, দুটি মেডিকেল ল্যাবরেটরি, দুটি সনদ প্রদানকারী সংস্থা ও পাঁচটি পরিদর্শন সংস্থাসহ মোট ৭১টি প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রিডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিডিই টেস্টিং ল্যাবরেটরি ও রূপপুর পরমাণু প্রকল্পের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ল্যাবরেটরিও বিএবির অ্যাক্রিডিটেশন লাভ করেছে। এ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড (বিএবি) বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। বিএবির আজকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিএবি এ সভার আয়োজন করছে। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের এতে প্রধান অতিথি থাকার কথা। এ ছাড়া শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম। এসএ/

আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস আজ

আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস আজ। আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীন জাতীয় আর্কাইভস আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভসের (আইসিএ) ‘এ’ ক্যাটাগরির সদস্য। এ বছর আইসিএ ৩ থেকে ৯ জুন আর্কাইভস সপ্তাহ ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আজ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের নভেম্বরে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় আর্কাইভস ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণের প্রথম পর্যায় ২০০৪ সালে এবং দ্বিতীয় পর্যায় ২০১২ সালে শেষ হয়। বর্তমানে জাতীয় আর্কাইভসের কার্যক্রম পাঁচতলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন এবং সাততলাবিশিষ্ট ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। দিবস উপলক্ষে আজ সকালে আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভস ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/

আন্তর্জাতিক মহাসাগর দিবস আজ

আজ ৮ জুন, আন্তর্জাতিক মহাসাগর দিবস। ১৯৯২ সালের এই দিনে দিবসটি পালন শুরু হয়েছিলো। সে বছর ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোতে সংঘটিত ধরিত্রী সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে গৃহীত ১১১নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে দ্যা ওসেন প্রজেক্ট এবং ওয়ার্ল্ড ওসেন নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রতি বছরের ৮ জুন আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পলিত হচ্ছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববাসী ৮ জুনকে পালন করে আসছে বিশ্ব মহাসাগর দিবস হিসেবে। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাগর-মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। সাগর-মহাসাগরকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা হলো এসব সাগর আর মহাসাগর। পৃথিবীর ৩ ভাগ জল আর ১ ভাগ স্থল। ফলে ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় নানামুখী সংকট বিদ্যমান। গোটা বিশ্বে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগত আজ বিপন্ন প্রায়। পৃথিবীতে মানব জাতির টিকে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হল সাগর। খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে মহাসাগর থেকে। তাছাড়া মহাসাগরগুলো বায়ুমণ্ডলর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। কিন্তু মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জলবায়ুর বৈরী থাবায় মহাসাগরগুলোর প্রতিবেশ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে এর জীববৈচিত্র্য। এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশ্ব মহাসাগর দিবস পালন করা হয় প্রতিবছরের ৮ জুন। সমুদ্রের অবদান, আবেদন, প্রয়োজনীয়তা আর উপকারীতাকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবার সামনে তুলে ধরতে পালন করা হচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এসএ/  

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস কাল

আগামীকাল ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১০ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজকপক্ষ থেকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবি জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে। এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে। অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাক শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এদিন সূর্যোদয়ের পর বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে আগামীকাল ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল শাখাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি