ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ১৭:১০:০২, বুধবার

সন্দেহ সুখী জীবনের অন্তরায়

সন্দেহ সুখী জীবনের অন্তরায়

ছোট একটি শব্দ। কিন্তু তার ক্ষমতা অনেক। কেঁড়ে নিতে পারে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো। বাঁধিয়ে দিতে পারে একে অপরের মধ্যে কলহ। পরিবারকে নিতে পারে ধ্বংসের কিনারে। ধাবিত করতে পারে মৃত্যুর দিকে। নানা অঘটনের ঘটক হলো সন্দেহ। দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়ে উঠে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার উপর নির্ভর করে। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ভালবাসা ও সহানুভূতি যত গভীর হয়, দুজনের বন্ধনটাও তেমন দৃঢ় হতে থাকে। আর যখনই এই  বিশ্বাস ও ভালবাসার বদলে অনুপ্রবেশ করে অবিশ্বাস বা সন্দেহ তখনই দুজনের মধ্যে বাড়তে থাকে দুরত্ব। যার ফলাফল দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন এবং অবশেষে পারিবারিক ভাঙন। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে জীবন গতিশীল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুকের জন্যে বাড়ছে পরিচিত মণ্ডল। বাড়ছে অপ্রয়োজনীয় সম্পর্ক। বাড়ছে নেতিবাচক আবেগ ও অনুভূতি। যা নানা সম্পর্কের পাশাপাশি টানাপোড়েন সৃষ্টি করছে বৈবাহিক সম্পর্কেও। তিল তিল করে গড়ে ওঠা সুখ নিঃশেষ করার জন্যে সন্দেহই যথেষ্ট। সন্দেহ বিভিন্ন রূপে আমাদের সম্পর্কে অনুপ্রবেশ করে। এটা কারো কারো মধ্যে থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ের। আবার কারো মধ্যে প্রকাশ পায় অস্বাভাবিক অসুস্থতা রূপে। এখন জেনে নিই কী কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং এর সহজ সমাধান: পারস্পরিক সম্মান: বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী একটি অভিন্ন সংসার জীবনে প্রবেশ করলেও  প্রত্যেকেরই রয়েছে পৃথক ব্যক্তিসত্ত্বা, পৃথক চিন্তা-ভাবনা, পৃথক চাওয়া-পাওয়া। যখন এই পৃথক সত্ত্বাটির প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া থাকে না এবং ছাড় দেয়ার কোন মানসিকতা গড়ে উঠে না তখনই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হয় সন্দেহ। যেমন স্ত্রীর ব্যাপারে স্বামীদের অতিরিক্ত অধিকারবোধ— এটাকে কোনো কোনো স্ত্রী যেমন অপছন্দ করেন, তেমনি অনেক স্ত্রী আছে পছন্দও করেন। স্বামীর একটু মনোযোগের অভাব হলে তাদের খেদের কোনো শেষ থাকে না। আবার কোনো বিষয়ে স্বামীর অতিরিক্ত প্রশ্ন, বিধি-নিষেধকে স্ত্রী প্রথমে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, পরে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে আক্ষেপ করেন। যদি স্বভাবগত ভাবে স্বামীর আচরণে এই বাড়াবাড়ি প্রকাশ পায়। তবে সংসারে শান্তির জন্য স্বামীর এই আচরণকেই উৎসাহিত করুন। তাহলে তিনি নিশ্চিত হবেন যে, সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। এ অবস্থায় সন্দেহের পরিবর্তে সহানুভূতির সৃষ্টি হবে। উভয়েরই পথ চলা সুন্দর হবে। অবস্থানগত সমস্যা : কর্মস্থলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুসম্পর্ক তৈরির ভিত্তিতে নারী পুরুষ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাঞ্চনীয়। কিন্তু অনেক দাম্পত্য জীবনে এটা হয়ে উঠে অশান্তির কারণ। অনেকের মধ্যে সন্দেহবাতিক রয়েছে। তারা স্ত্রীকে বা স্বামীকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন এবং অন্য কারো সঙ্গে কথা বলাটাকে সন্দেহের চোখে দেখেন। আর এই সন্দেহের পেছনে থাকে না কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রমাণ। এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। কর্মস্থান থেকে ফিরতে দেড়ি হচ্ছে। এটা কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাপার। তারপরও অনেকে এর জন্য দুশ্চিন্তা করেন, অস্থির হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত সন্দেহ করতে থাকেন। এই ব্যাপারগুলো উভয়কেই উপলব্ধি করতে হবে। দূরে আছেন ফোনের মাধ্যমে আপনাদের অবস্থান জানিয়ে দিন। একে অপরকে আশ্বস্ত করুন। স্ত্রী পড়াশোনা করতে গিয়ে অন্য কারো সম্পর্ক গড়ে উঠে কিনা অথবা স্বামী চাকরি করতে গেলে কলিগ সঙ্গে ভাব হয় কিনা। এ রকম উদ্বেগ সন্দেহ রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এজন্যে উভয়কেই নিজ নিজ স্থান থেকে সচেতন হতে হবে। কারণ ঘরে অশান্তি করে আপনি সুখী হবেন না। তাই সম্ভব হলে এই সম্পর্কগুলোকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। কাজের প্রয়োজনে যদি কথা বলতে হয় তবে সবার সামনে কথা বলুন। এই সন্দেহবাতিক যাদের আছে তারা নিজের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে সুযোগমতো নিজের অবস্থানকে পরিস্কার করুন। দেখবেন তখন সন্দেহের বদলে স্থান করে নিচ্ছে স্বচ্ছতা। অতীতের সর্ম্পক : বিয়ের আগে স্বামী বা স্ত্রী যে কারো প্রেমের সম্পর্ক বা গোপন বিষয় থাকতেই পারে। কিন্তু বিয়ের পরে উভয় পক্ষই যদি এই বিষয় অনুসন্ধান এবং পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেন তবে সেটা শুধু জটিলতা সৃষ্টি করবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতকে ঘিরেই দু’জনের সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। অতীতকে নিয়ে নয়। তাই অতীতে কি হয়েছে এসব নিয়ে কারোই মাথা ঘামান উচিত না। এমনকি এগুলো পরস্পরকে বলারও কিছু নাই। অতীত সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হওয়া যায় না, এগুতে হবে ভবিষ্যত ঘিরে। এরপরও যদি আপনি কিছু জেনে থাকেন বা শুনে থাকেন বা সন্দেহ তৈরি হয়ে থাকে, তবে এটা নিয়ে অগ্রসর হওয়া মানে নিজের হাতে নিজের সুখী হওয়ার সুযোগকে সীমিত করে ফেলা। তাই এক্ষেত্রে ক্ষমা করে দেয়াটাই আপনার জন্যে ভালো হবে। আর বর্তমান অবস্থাকে প্রাধান্য দিন। নেতিবাচক চিন্তা : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুধু ভালবাসা থাকলেই যে সংসারের বন্ধন দৃঢ় হবে সেটা কিন্তু নয়। অনেকসময় পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে যে কোনো একজনের মনে অপরজনকে নিয়ে জন্ম নিতে পারে ভয়, ঈর্ষা অথবা হীনম্মন্যতা । এহেন নেতিবাচক আত্মধারণা পরবর্তীতে সন্দেহ রূপে প্রকাশ পায়, যা মানসিক যন্ত্রণা দেয় দুজনকেই। নেতিবাচক আবেগে মন তিক্ত হওয়ার আগে সুযোগ বুঝে সরাসরি কথা বলুন। যদি তার কোনো অক্ষমতা থাকে সেটা সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করুন। সঙ্গীনির ভালো দিকগুলো তুলে ধরুন। এতে তিনি ভুল সংশোধনে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। একে অপরের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করতে শিখুন। কারণ পারিবারিক সমৃদ্ধির জন্যে সামনে এগুতে হবে আপনার জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে নিয়েই। স্বামী/ স্ত্রী যদি কোনো নেতিবাচক আবেগে আক্রান্ত হয়েও থাকেন। তবে আপনি তার সাথে সম্পূর্ণ ইতিবাচক ব্যবহার করুন। আপনার সঙ্গী যে আপনাকে কত ভালবাসে এটা সবসময় আকার ইঙ্গিতে তাকে বোঝাতে চেষ্টা করুন। তৃতীয় পক্ষ : দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের প্রভাব। অথবা স্বামী স্ত্রীর ভুল বুঝাবুঝির জন্য তৃতীয় পক্ষকে (আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী) জড়ানো হয়। এই বিষয়টিও সুখের সংসারে সন্দেহ হয়ে ঘর বাধে এবং ধীরে ধীরে ভয়াল ব্যধির মতো নিঃশেষ করে দিতে চায় মধুর স্মৃতিগুলোকেও। তাই সম্পর্কের জটিলতায় সবসময় সরাসরি কথা বলুন। কাউকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কারণ সর্ম্পক যত সরাসরি হবে, ভুল বুঝাবুঝি তত কম হবে। আত্মউপলব্ধি : স্বামী/ স্ত্রী যে কারো এটা হতে পারে যে, তিনি তার এই প্রিয় মানুষটিকে অহেতুক সন্দেহ করেন। এটা যে সঠিক হচ্ছে না সেটা বুঝতেও পারেন। কিন্তু কোনোক্রমেই সন্দেহের জাল থেকে বের হতে পারেন না। পরবর্তীতে এই নিয়ে তার মনে একটা কষ্ট এবং এ থেকে অনুশোচনা সৃষ্টি হয়। আসলে একে অপরকে যদি সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে ভাবতে না পারেন আপনি কখনো সুখী হতে পারবেন না। আমার স্ত্রীর জুড়ি নেই সব পুরুষেরই এমনটা ভাবা উচিত। একইভাবে প্রত্যেকটা স্ত্রীর ভাবা উচিত- আমার স্বামী হচ্ছেন পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালো মানুষ। দাম্পত্য জীবনে  দুরত্ব সৃষ্টি করবে এমন কোন নেতিবাচক আবেগ কারো কাম্য নয়। তাই আসুন এই মধুময় সর্ম্পকগুলো যেন নিজ নিজ সৌর্ন্দযে অটুট থাকে সে জন্যে সচেতন হই।  মানবিক আবেগকে জাগ্রত করে গড়ে তুলি শান্তি সুখের নীড়। এএইচ/টিআর/
রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের ৪ ক্ষতিকর দিক

রাগ আর অভিমান ভিন্ন দুটি মানসিক অনুভুতি। রাগের সাথে হিংসাত্মক মনোভাব জড়িত থাকে। রাগ হলে একজন মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। রাগ দুই ধরনের হয়; প্রকাশিত রাগ এবং অপ্রকাশিত রাগ। যারা রাগ সহজেই প্রকাশ করে তারা সাধারণত ভাল মানুষ হয়ে থাকে, আবার কিছু মানুষ আছে যারা রাগ প্রকাশ করে না কিন্তু গোপনে অনেক বড় ক্ষতি হয়।  ১. পরিবারে অশান্তি :  রাগের কুফলের সবচেয়ে নির্মম বলি হয় আমাদের পরিবারের সদস্যরা। আমরা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের ওপর রাগ করি, সন্তানের ওপর রাগ করি, সেন্টিমেন্টে আঘাত দিয়ে কথা বলি। মনে রাখতে হবে, একটি সম্পর্ক গড়তে সময় লাগে, কিন্তু ভাঙতে সময় লাগে না। রাগের মাথায় এমন কথা বলে ফেলি যে, ২০ বছরের সম্পর্ক এককথায় নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষোভ পারিবারিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। মনে রাখতে হবে, যে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না, তাতে কখনো দেয়াল তুলবেন না। ২. মানসিক প্রশান্তি নষ্ট : জন্মগতভাবে প্রতিটি মানুষ স্ফটিক স্বচ্ছ হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পারিপার্শ্বিক নেতিবাচকতায় প্রভাবিত হয়ে আপনি যখন রেগে যাচ্ছেন তখন এই অন্তরে আঁচড় পড়ে। অন্তরে যত আঁচড়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে আপনার প্রশান্তি তত কমতে থাকে। নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার যখন রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান থাকে তখন ভেতরে প্রশান্তি অনুভব করেন কিনা? আসলে কাউকে কষ্ট দিয়ে, দুর্ব্যবহার করে কখনো প্রশান্তি পাওয়া যায় না।   ৩. রাগ যত বেশি রোগ তত বেশি : আমাদের এই শরীর এক মহাবিস্ময়কর জৈব কারখানা। এই কারখানায় যত রাসায়নিক বিক্রিয়া বা রি-একশন হয় পৃথিবীর তাবৎ কারখানা সবমিলিয়ে একত্রে এত রি-একশন হয় না। আবার যখন আমরা রেগে যাই, তখন আমাদের শরীরের এড্রিনাল গ্লান্ডস (adrenal glands) কর্টিসোল (cortisol) এবং এড্রেনালিন (adrenaline) নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে থাকে।  এগুলো আসলে আমাদের শরীরে উৎপন্ন এক প্রকার বিষ বা টক্সিন। আমরা যখন রেগে যাই, আমাদের দেহে কিছু জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন, হার্টরেট, ব্লাডপ্রেসার এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দীর্ঘসময় ধরে যদি এই রেসপন্স চলতে থাকে তাহলে অনেক ধরনের ক্রনিক রোগ হতে পারে। যেমন, ইনসমনিয়া, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, আলসার, মৃগীরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাইগ্রেন, ব্যাকপেইন, ফুসফুসের অসুখ এমনকি ক্যান্সার। এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আয়ুষ্কালের ওপরও রাগের প্রভাব আছে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, রাগ যাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ। রাগ এবং স্ট্রেস আমাদের স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। কেউ যদি সার্বক্ষণিক চিন্তিত ও রাগান্বিত থাকেন, তাহলে তিনি তার আয়ু কমিয়ে ফেলছেন। বদরাগী বা রগচটা মানুষ বলে পরিচিতদের মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ বেশি। কোয়ান্টামে আমরা বলি, ক্ষোভ হচ্ছে এমন একটি বিষ যা আমি নিজে পান করছি কিন্তু প্রত্যাশা করছি প্রতিপক্ষ মারা যাবে। ৪. নেতিবাচকতা দুষ্টচক্রে জড়িয়ে যায় : রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের কারণে একজন মানুষ অবচেতনে নেতিবাচকতার ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে। রাগের কারণে কোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে সে অনুতাপ ও পাপবোধে ভোগে, যা তার ভেতরে অস্থিরতার সৃষ্টি করে। এ অস্থিরতার কারণে সে কাজে পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে ব্যর্থতা তার পিছু ছাড়ে না। তাই হতাশা বা হীনম্মন্যতা থেকেই হোক সে আবার রাগের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।   টিআর/

বিলাসবহুল এসপ্রেসো কফি মেশিন!

প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। এখন সকাল বেলা বিছানা ছাড়তে না ছাড়ছেই অনেক ব্যস্ত হয়ে পরি। এই ব্যস্ত সময়ে একটু স্বত্তি নিতে অনেকেই কফি খেতে ভালবাসা। অনেকেই আবার কফি খাওয়া বিলাসিতা মনে করেন। কফি তৈরি করাও একটা আর্ট বলা চলে, শখ হিসেবে উল্লেখ করলেও কিছু ভুল হবে না। আর কফি নিয়ে বিলাসিতা যাদের এ পর্যায়ে, তারা কফি মেশিনেও আভিজাত্যের পরশ বুলিয়ে নিতে চাইবেন নিশ্চয়ই!ভেলোস রয়্যাল ০১ হচ্ছে এমন একটি এসপ্রেসো মেশিন, যা চোখে দেখার পর ধাঁধা লেগে যাবে। সুপার ভেলোস হাউজ এর আগেও বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র ঘরানার কফি মেশিন বাজারে এনেছিল। তবে সম্প্রতি আসা এ কফি মেশিনের সঙ্গে তুলনা চলে না আগের কোনোটিরই। ভেলোস রয়্যাল ০১ তৈরি হয়েছে ১৮ ক্যারেট সাদা স্বর্ণ দিয়ে আভিজাত্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে হীরার টুকরা, থার্মোসেট গোল্ডলিড কার্বন ফাইবার, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও টাইটানিয়াম।জার্মানি থেকে পুরোপুরিভাবে তৈরি করে আনা ভেলোস রয়্যাল ০১ এসপ্রেসো কফি মেশিনের সঙ্গে রয়েছে সুদৃশ্য কমপ্লিমেন্টারি কাপসেটও।টিআর/

যৌন চাপে ভুগছেন না তো জেনে নিন?

কেরিয়ার গ্রাফ যত উর্ধ্বমুখী, ততই নিম্নগামী আপনার যৌনসুখ। জীবনের সবটুকু দিয়ে দারুণ কেরিয়ার পড়ছেন ঠিকই কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন, আপনার যৌন চাহিদা। যার ফলে যৌনতার অভ্যাস নেই এমন যুগলের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। আপনিও সেই দলেই পড়ছেন না তো? জেনে নিন কী কী কারণে এই চাপ আসতে পারেঃ কাজের স্ট্রেস: বেশিরভাগ মানুষই কাজের জন্য নয় বরং প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশের চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই নিরাপত্তাহীনতাই কোথাও আপনার ও আপনার সঙ্গীর যৌন জীবনেও বাধা তৈরি করছে। আর্থিক স্ট্রেস: লোনের চাপ, ইএমআই, ক্রেডিট কার্ডের চাপ, রোজের বেড়ে চলা খরচের চিন্তাও আপনার যৌন জীবন ব্যহত করতে পারে। আরামের খোঁজে আরও বেশি উপার্জনের দিকে দেখতে গিয়ে নিজের যৌনসুখ থেকেই বঞ্চিত হয়ে পড়বেন রোজ। জীবনের স্ট্রেস: কর্মজীবন এবং আর্থিক জীবন ছাড়াও আপনার রোজের পারিবারিক জীবন যৌনতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দম্পতির মধ্যে অমীমাংসিত রাগ ও বিরক্তি থাকে, যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শিশুর স্বাস্থ্যের উদ্বেগের বিষয় থাকে তবে যৌন অনুভূতিগুলি গড়ে ওঠার স্থান কমে আসে। জৈবিক স্ট্রেস: দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, স্থূলতা, ক্লান্তি, অনিদ্রা, অত্যধিক মদ্যপান এবং ধূমপান, ফিটনেসের অভাব ইত্যাদি অন্যান্য শারীরিক চাপগুলিও যৌন জীবনের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। আধুনিক সময়ে যারা ফাস্ট ফুড, প্যাকেজ করা খাবার, এবং বাইরে খাওয়া দাওয়া আর মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাঁরা একটু সতর্ক হোন। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে, বা ধূমপানের ফলে নিকোটিন ধমনীর ভিতরে আস্তরণ তৈরি করলে লিঙ্গে রক্ত ​​প্রবাহ সীমাবদ্ধ হয়ে আসে। যা যৌন কর্মক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। ফ্যান্টাসি স্ট্রেস: বিভিন্ন পর্নোগ্রাফির ফ্যান্টাসিতেও সমস্যা আসতে পারে যৌন জীবনে। নিজের যৌনজীবন আর পর্দার যৌন জীবন আলাদা করতে শিখুন। ফ্যান্টাসি আপনার যৌন জীবনকে আরও অ্যাডভেঞ্চারাস করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত কল্পনাপ্রবণ হয়ে চাপ বাড়িয়ে ফেলবেন না। ওয়াই ও এল ও এবং এফ ও এম ও স্ট্রেস: সোশ্যাল মিডিয়াও আপনার যৌনজীবনে চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদের ছবি, মন্তব্য বা বিশেষ মুহূর্তের ছবি আপনার জীবনে দ্বেষ হিংসা বা প্রতিযোগিতার মনোভাব আনতে পারে। ওয়াইওএলও বা `ইউ ওনলি লিভ ওয়ান্স` এবং এফওএমও বা `ফিয়ার অফ মিসিং আউট` এই দুটি চাপ আপনাকে মানসিক ভাবে বিদ্ধস্ত করতে পারে। শারীরিক নৈকট্য মন ভালো রাখারও একটা উপায়। মন ভালো রাখতে গিয়ে উপয়ায়টাই হারিয়ে ফেলবেন না। টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি