ঢাকা, ২০১৯-০৫-২১ ২৩:১৪:১৭, মঙ্গলবার

ধানের দাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই চিন্তিত: কৃষিমন্ত্রী

ধানের দাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই চিন্তিত: কৃষিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে ধানের দাম নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে তা দ্রুতই সমাধান করা হবে। এ মুহূর্তে ধান কিনে দাম বাড়ানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এটা নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। শনিবার (১৮ মে) রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ) আয়োজিত `জলবায়ু পরিবর্তন: কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ` নিয়ে সেমিনারে অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান হচ্ছে, যদি ধান রপ্তানিতে যাই। রপ্তানিতে যাওয়ার চেষ্টা করবো। হারভেস্ট হয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেব। এ সমস্যার সমাধান করবো। উৎপাদন বৃদ্ধি, মিল মালিকেরা আমন চাল বিক্রি করতে পারেনি বলে দাম কম। ক্ষেতে কৃষকরা আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দু`একজন ভাবাবেগে আগুন দিয়েছে, সারা দেশে দিচ্ছে না। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, আইডিইবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুর রহমান বক্তব্য রাখেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক নুরুল ইসলাম, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, বিসিজেএফের প্রচার সম্পাদক প্রসূন আশীষ। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কাওসার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।   টিআই/ টিআর
কাপ্তাই হ্রদে মাছের খনি

এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদ। ষাটের দশকে প্রমত্তা কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে যে সুবিশাল জলাশয় তৈরি হয়েছে, কালের পরিক্রমায় সেটিই এখন কাপ্তাই হ্রদ। দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটিকে সাপের মতো ঘিরে রাখা এ হ্রদের তীরবর্তী জীবন, পাহাড় আর প্রকৃতি পার্বত্য শহর রাঙামাটিকে অরণ্যসুন্দরী নামেই বিখ্যাত করেছে সর্বত্র। শুধু তাই নয়, এ হ্রদ এখন পার্বত্য জনপদের মানুষের জীবন আর জীবিকার অংশই বটে! পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর আয়তনের এ লেকটি মূলত তৈরি হলেও মৎস্য উৎপাদন, কৃষিজ উৎপাদন, পানিপথে যাতায়াত, ফলজ ও বনজ দ্রব্য দুর্গম পথে পরিবহন, জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে মৎস্য সেক্টরে কাপ্তাই লেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। লেকটিতে দেশীয় মৎস্য প্রজাতির এক বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধশীল পানিভাণ্ডার। গবেষণার সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক এ লেকে ২ প্রজাতির চিংড়ি, ১ প্রজাতির ডলফিন, ২ প্রজাতির কচ্ছপ ও ৭৮ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ প্রজাতির মাছ হচ্ছে দেশীয়, আর বাকি ১০টি বিদেশি। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ লেকের উৎপাদনশীলতা, মৎস্য প্রজাতি বিন্যাস, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং লেকে মৎস্য চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ৮০’র দশকের শেষার্ধ্ব থেকে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। ফলে হ্রদটিতে মাছের উৎপানের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রজনন শক্তি। তাই ২০১৮-১৯ সালের অর্থবছরে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যা অন্যান্য বছরগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ। এমন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারো হ্রদে সব ধরণের মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য আসছে পহেলা মে থেকে তিন মাস মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ হ্রদে মাছ ধরা জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫-৬৬ অর্থ বছরে মাত্র ১২০৬.৬৩ মে. টন মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য উৎপাদন শুরু হয়। কালের পরিবর্তন ও ড্রেজিংয়ের অভাবে হ্রদ থেকে বেশকিছু প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কমেনি উৎপাদন। বর্তমানে ৪২টি প্রজাতির মাছ এ লেক থেকে বাণিজ্যিকভাবে আহরিত হচ্ছে । এদের মধ্যে চাপিলা, তেলাপিয়া, কেচকি, মলা, কাটা মইল্যা, বাটা, ফলি, আইড়, গজার, শোল ইত্যাদি অন্যতম। অবশিষ্টি প্রজাতিগুলোর বাণিজ্যিক গুরুত্ব না থাকলেও জীবতাত্ত্বিক গুণাগুণ ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় লেকে সামগ্রিক মৎস্যকুলের অবস্থানে এদেরও ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, কাপ্তাই হ্রদে চাপিলা ও কাচকি জাতীয় ছোট মাছ কার্প জাতীয় মাছের ধ্বংসের কারণ। এই কারণে দিন দিন কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্ত কার্প জাতীয় মাছের আবারও ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে যাইহোক, পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ সালে ৮৬৪৪ মে. টন মাছ আহরণের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫-১৬ সালে ৯৫৮৯ মে. টন মাছ আহরণের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।  এছাড়া ২০১৬-১৭ সালে ৯৯৭৪ মে. টন মাছ আহরণের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে আয় ছিল ১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মৎস্য আহরণ হয় রেকর্ড ১০ হাজার ৫৮৭ মে. টন। বর্তমনে এ আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ আয়। মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধির নিমিত্ত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্পর্কীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। লেকের মৎস্যকুলের প্রজাতি বিন্যাস বিগত চার দশকের ব্যবধানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।  

বোরোর ভরা মৌসুমে ধানের দর নিয়ে হতাশ চাষীরা

দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে রংপুর, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বোরোর ভরা মৌসুমে ধানের দর নিয়ে হতাশ চাষীরা। নতুন ওঠা ধান নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও নেই পরিশ্রমের দাম। আশুগঞ্জে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধানের মোকাম। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে ধান বিক্রি করতে আসেন ব্যবসায়ীরা। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, নরসিংদীসহ দূরদুরান্ত থেকে ধান নিয়ে আসা কৃষকরা এবার হতাশ। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। চলতি মৌসুমে প্রতিমন ধানের মূল্য সরকারী ভাবে ১ হাজার ৪০টাকা নির্ধারণ করা হলেও ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় প্রতিমণ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ধান চাষে যা খরচ হয়, তার অর্ধেকও খরচ উঠে আসছে না, মন প্রতি লোকসান হচ্ছে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিদেশ থেকে চাল আমদানী বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি উদ্যোগে চাল কেনার জন্য ক্রয়কেন্দ্র খোলার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহে থেকে সরকারি উদ্যোগে সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এদিকে ধানের দর বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে রংপুর, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/  

বিদেশে রফতানি হচ্ছে চট্টগ্রামের আলু (ভিডিও)

বিদেশে রফতানি হচ্ছে চট্টগ্রামের আলু। চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে উৎপাদনও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও রাশিয়ায় রফতানি হচ্ছে চট্টগ্রামের আলু। এ অঞ্চলের মাটি আলু চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং চাহিদা থাকায়, কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন আলু চাষে। সব কারণেই বেড়েছে উৎপাদন। ইতিমধ্যে চলতি অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি হওয়ার কথা জানান বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশজুড়ে আলু উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে, বিদেশে রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেছেন আলু রফতানীর সঙ্গে জড়িতরা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/

রাজশাহীতে আজ থেকে আম পাড়া শুরু

আজ গাছ থেকে নামানো হচ্ছে রাজশাহীর পরিপক্ব আম। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আজ থেকে গুটি আম পাড়া যাবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে আজ বুধবার থেকে আম বাজারজাত করা শুরু হবে। ফলে গত বছরের চেয়ে এবার পাঁচ দিন আগে বাজারে আম আসতে শুরু করবে। এবারও দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাট বসছে পুঠিয়ার বানেশ্বরে। এই হাটে শুরুর দিনে আসবে গুটি জাতের আম। পর্যায়ক্রমে আমের পরিপক্বতা অনুযায়ী আম বাজারে আসবে। আর আম কেনাবেচায় ভরে উঠবে বানেশ্বরের বাজার। ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা পুরোদমে প্রস্তুত আম পাড়া নিয়ে। এ বিষয়ে জেলার বাঘা উপজেলার আম ব্যবসায়ী মোতালেব হালদার বলেন, ‘আমকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি পাল্টে দিয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের দুটি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজার। যেখানে প্রতিদিন বেচাকেনা হয় প্রায় দুই কোটি টাকার আম। আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়। গাছের আম নামানোর কামলা থেকে আম পরিবহন, আম চালানের ঝুড়ি বানানো এবং বাজারগুলোয় আমসংশ্লিষ্ট নানা কাজে এসব মানুষ ব্যস্ত সময় কাটায়। রাজশাহীর কুরিয়ার সার্ভিসগুলোও এ সময় আম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।’ উল্লেখ্য, এরপর ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপ্রসাদ ও লক্ষ্মণভোগ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৬ জুন থেকে আম্রপালি ও ১ জুলাই থেকে ফজলি আর আশ্বিনা আম পাড়া যাবে। এসএ/

ধানের জমিতে আগুন দেওয়ার ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, টাঙ্গাইলে কৃষকের ধানের জমিতে আগুন দেওয়ার যে ছবি মিডিয়ায় এসেছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সরকারকে বেকায়দা ফেলার জন্য। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের উদ্বোধন কালে তিনি এ সব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধানের সঠিক মূল্য না পেলেও একজন প্রকৃত কৃষক কখনও ধানের জমিতে আগুন দিতে পারে না। কারণ কৃষকের উৎপাদিত পণ্য তার সন্তানের মত। তিনি আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ মে থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা পরিবর্তন করে আজ থেকেই সরকারি গোডাউন গুলোতে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় মোট ৫ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন ধান ২৬ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয় করা হবে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার উদ্দিন শামীম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, সদর উপজেলাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মিল মালিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  একে//

ধান নিয়ে হচ্ছেটা কি?

ফসলের বাম্পার ফলন হলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। কৃষকের মুখে হাসি থাকলে চাঙ্গা হয় দেশে অর্থনীতি। চলতি বোরো মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা দেখে কৃষক বেজায় খুশি। কিন্তু ধান কাটার মৌসুমে সব হাসি ম্লান হয়েছে কৃষকের। কারণ ফলন বাড়লেও দাম কম ধানের। সেই সঙ্গে জনবল সংকটে কোথাও কোথাও ফসল কাটার খরচই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের জন্য। দুই মণ ধানের দামেও একজন দিনমজুর মিলছে না কোথাও কোথাও। ফলে অনেক এলাকায় কৃষকরা জমিতেই ফেলে রাখছে ধান। এমন চিত্র দেশের বিভিন্ন এলকায়। মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থানভেদে প্রতিমণ ধানের দাম হাকা হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। অথচ প্রতিমণ ধান উৎদন করতে খরচ হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা। ফলে কৃষকের লোকসান হচ্ছে গড়ে মণপ্রতি ৩০০ টাকা। কিন্তু আসল রহস্য কি? কেনোই বা এমন তারতম্য দেখা দিয়েছে দেশের অর্থনীতির বড় এই উৎস ধানের ক্ষেত্রে? এই প্রশ্ন এখন সবার। কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা, ধানের দাম কম হওয়ার পেছনে বিভিন্ন জায়গায় মজুদদার ও মিল মালিকদের কারসাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে ধান-চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়াগত ত্রুটিকেও চিহ্নিত করেছে তারা। বিশেষ করে চাল সংগ্রহের নামে মিলার-ডিলারদের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ করে দেওয়ার পদ্ধতি বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল কেনার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বোরো মৌসুমে এখনো সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করা হয়নি। কৃষক তাদের অসহায়ত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছে নানাভাবে। মাঠপর্যায়ে খাদ্য কর্মকর্তারাও ধান সংগ্রহে অনেকটা নির্লিপ্ত। কেউ কেউ বলছে, মাঠপর্যায়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও মিলার বা মজুদদার অপেক্ষায় আছে আরেক দফা বৃষ্টির। তখন কৃষকরা মাঠের পাকা ধান নিয়ে আরো বিপাকে পড়লে ধানের দাম আরো কমে যাবে, আর মিলাররা কম দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাল বানিয়ে সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নেবে। এসব বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আরিফুর রহমান অপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনো ধান সংগ্রহে গতি আসেনি। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছি যাতে তাঁরা যেন দ্রুত মাঠে নেমে পড়েন। এমনকি আমরাও মন্ত্রী মহোদয়কেসহ মাঠে নামব। কারণ আমরাও চাই কৃষক যেন বঞ্চিত না হয়। তাদের কাছ থেকেই আমরা সরাসরি ধান কিনতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই কিছু দুষ্ট লোকজন থাকে। এখানেও তেমন কিছু হতে পারে। মিলাররা নানা অজুহাতে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে চাল করে বিক্রির কারসাজি করার চেষ্টা করতে পারে। তবে আমরা এসব বিষয় কঠোরভাবে মনিটর করব।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে এটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ হয়ে গেছে যে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদন মূল্য তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ অন্য সব পেশার মতো তাদেরও উপার্জনের মূল উৎস হচ্ছে এই ধান উৎপাদন। যেখানে তার উৎপাদন খরচ এবং সংসার চালানোর মতো অর্থ ওঠানোর জন্যই কৃষকের চাষাবাদ করার কথা, সেখানে এখন উৎপাদন খরচই ঠিকমতো উঠছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে না।’ কৃষি অর্থনীবিদরা জানান, ‘সরকারের দিক থেকে কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই, প্রচুর ভালো উদ্যোগও আমরা দেখছি। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কেন যেন কিছু গলদ থেকে যায়। যে গলদের ফাঁক দিয়ে সহজেই মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের ভাগের লাভ খেয়ে ফেলে আর বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। এ ক্ষেত্রে আমার মতামত হচ্ছে, যে করেই হোক সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচির সময় সরকারের লোকজন সরাসরি যাতে কৃষকের কাছে গিয়ে ধান কিনে আনে।’ এসএ/  

সোনালি ধান কাটলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার

সোনালি ধান কেটে আবারও তাক লাগিয়ে দিলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)। মঙ্গলবার সকাল থেকে ধানকাটা শুরু করেন। জেলা পুলিশ লাইন্সের ২০ শতক পতিত জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন তিনি। ২ মাস ২১ দিন পর ধানগুলো কেটে সংরক্ষণ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া ধানগুলো মাড়াই করেন তিনি। এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে ধান কেটে ও মাড়াইয়ের কাজে সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরফুদ্দীন, পুলিশ সুপারের ছেলে যশোর ইংলিশ স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজুম সালেহীন সামির, মেয়ে নড়াইল সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিহা মুবাশ্বিরা রোজসহ নড়াইল পুলিশ লাইন্স স্কুলের ছাত্রছাত্রী, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। পুলিশ সুপারের এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকেও বিভিন্ন ধরণের উৎসাহমূলক মন্তব্য করেছেন নেটিজেরা। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ লাইন্সের অনাবাদি জমিতে ধান রোপণ করা হয়। এই ২০ শতক জমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অনাবাদি পড়ে ছিল। পুলিশ লাইন্সের কোনও জমি যাতে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে লক্ষ্যে জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। এদিকে কৃষি কাজে আন্তরিকতা সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করা হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যেন কৃষি কাজের প্রতি আন্তরিক হয়, এ লক্ষ্য নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষি কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, কোনও কাজ অবহেলা বা অবজ্ঞার নয়। তাই পুলিশ লাইন্সের পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় এনেছি। এর আগে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করেছি। জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গলের গুটি হাতে, গরু দিয়ে ২০ শতক জমি চাষ করে ধান রোপণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সেই সময় পুলিশ সদস্যদের তোলা হালচাষের ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের আলোচনায় উঠে আসে ‘কৃষিবান্ধব পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন’ এর কথা।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহরের দক্ষিণ নড়াইলে পুলিশ লাইন্সে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রায় আট বিঘা জমি পতিত ছিল। জঙ্গল ও আগাছায় পূর্ণ ছিল বেশির ভাগ পতিত জমি। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার হিসেবে নড়াইলে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে পেঁপে, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ ও মরিচসহ শাক-সবজি লাগিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ৫০০ আম গাছ লাগিয়েছেন। এ বছর গাছগুলোতে থোঁকায় থোঁকায় ঝুলছে আম। এছাড়া পুলিশ লাইন্স পুকুর, ট্রাফিক অফিস পুকুর ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুকুরে গত বর্ষা মওসুমে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৩ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। এসব মাছ পুলিশ লাইন্স মেসের পুলিশ সদস্যরা বিনামূল্যে খেয়ে থাকেন। এতে খাবার খরচ কম হচ্ছে মেসে খাওয়া পুলিশের সদস্যদের। এছাড়া পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে ৩০ বছরের নর্দমা পরিষ্কার করে ‘পুলিশ মৎস্য অ্যাকুরিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এখানে দেশি প্রজাতির বিলের মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর চারিদিকে পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। শোভা পাচ্ছে হরেক রকম ফুল। এ ব্যাপারে নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের এ ধরণের কৃষি, মৎস্য, সবজি, ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি অফিসের পতিত জমি বা চত্বরে এ ধরণের কৃষি কাজের উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এতে অফিস চত্বরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মশা, মাছিসহ জীবাণুর উপদ্রব কমবে। পাশাপাশি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বিনামূল্যে টাটকা শাক-সবজি, ফলমূল ছাড়াও বিভিন্ন কৃষি পণ্য হাতের কাছে পাবেন। এমনকি আর্থিকভাবে লাভবানও হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, কৃষিবান্ধব পুলিশ সুপারের এ ধরণের কাজকে স্বাগত জানাই। তার এ কাজ অন্যদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। এদিকে পেশাগত কাজেও সুনাম ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ইতোমধ্যে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা, চরদৌলতপুর, পারমল্লিকপুর, সরুশুনা, বাড়িভাঙ্গা খাল, লাহুড়িয়া, কোটাকোল, কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া, যাদবপুর, রঘুনাথপুর, সদরের তারাশি, শড়াতলা, চৌগাছা, হোগলাডাঙ্গার বিরোধ মীমাংসাসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫৩টি বিরোধ মীমাংসা করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় বা পুলিশের রেঞ্জ পর্যায়ে নড়াইলকে প্রথম মাদকমুক্ত জেলা ঘোষণার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’-সেবা (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে এ পদক তুলে দেন।

দিনাজপুরে জমজমাট গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার (ভিডিও)

দিনাজপুরে জমে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার। মূলত শীতের সবজি হলেও, নাভিজাত এই টমেটোর ফলন হয় গ্রীষ্মে। এর বাজারজাতকরণে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্র গাবুড়াহাটে কৃষক ও মৌসুমী ব্যাপারীদের বেশ ভীড়। সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসলে, বাড়তে পারে সম্ভাবনাময় এ সবজির বাজার। দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের গাবুড়াহাটে বসছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এ বাজার থেকে টমেটো সংগ্রহ করেন। পাইকার ব্যাপারীরা বলছেন- এবার বাজারে টমেটোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। হাট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক টমেটো দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে। বেচাকেনা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা। সরকারও ভালো রাজস্ব আয় করছে। নাভিজাত টমেটো সংরক্ষণ করা গেলে এর বাজার আরো বাড়বে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি বিভাগ বলছে, এবার ১১শ’ ২১ হেক্টর জমিতে এই গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গ্রীষ্মকালীন টমেটো সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা। মনপ্রতি এই টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। বাম্পার ফলন ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকরা।  

আমচাষীদের জন্য আর্শীবাদ ফণি (ভিডিও)

তাপদাহের পর ফণির প্রভাবে বৃষ্টি আশির্বাদ হয়েছে রাজশাহীর আমচাষীদের জন্য। বৃষ্টির কারণে আম ঝরে পড়ার হার কমবে,  আকার বাড়াতে সাহায্য করবে। ফলে এ বছরও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আমের ফলন নিয়ে প্রতি বছরই বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কায় থাকেন চাষী ও বাগান মালিকরা। এবার ঘূর্ণিঝড় ফণির আগমনী বার্তা এই শঙ্কা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো তাদের। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে ফণি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। আর এতে তাপদাহ কমে প্রকৃতি আম বেড়ে ওঠার সহায়ক হয়েছে, বলছেন পরিচর্যাকারীরা। বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বাগান মালিকদের মাঝেও। মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার আমের বৃদ্ধি বেশি। তবে পোকার আক্রমণ রোধে ব্যাগিং পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। এ বছর রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে :   এসএ/  

রাজবাড়িতে বাড়ছে পেয়াজ বীজের আবাদ (ভিডিও)

পেঁয়াজের বীজের আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন রাজবাড়ীর কৃষকরা। দর ভালো আর চাহিদা বেশি থাকায় এ জেলায় পেঁয়াজ বীজকে বলা হয় কালো সোনা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর ফলন ভালো হওয়ায় দিনদিন এ চাষে আগ্রহও বাড়ছে তাদের। থোকা থোকা সাদা পেঁয়াজ ফুল থেকে আহরিত হবে কালো বীজ। সেই বীজ বুনেই ক্ষেত জুড়ে হবে পেঁয়াজের আবাদ। এসব পেঁয়াজ বীজের চাহিদা আর দাম ভালো হওয়ায় রাজবাড়ীর ৫ উপজেলার মাঠ জুড়ে হচ্ছে এর চাষ। দেশে মোট চাহিদার ১৪ ভাগ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় রাজবাড়ীতে। এবারো ফলন ভালো ও বেশি দাম পাওয়ায় খুশী কৃষক। কৃষি কর্মকর্তা জানান, বীজ চাষে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই থাকে লাভ। কালবৈশাখী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের সর্তক থাকার পরামর্শ তাদের। জেলার মোট পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বেশী হয় কালুখালী ও সদরে। এবারো পাকা বীজ ঘরে উঠিয়ে লাভের প্রত্যাশা তাদের। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে :    এসএ/  

খরা প্রবণ এলাকায় চাষযোগ্য বারি গম-৩০ (ভিডিও)

খরা প্রবণ এলাকায় চাষযোগ্য, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ও প্রোট্রিন সমৃদ্ধ বারি গম-৩০ চাষে আগ্রহ বাড়ছে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের। নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল এই গমের উৎপাদন খরচ কম, ফলনও বেশি। কৃষকদের মাঝে এই গম জনপ্রিয় করে তুলতে মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে রাজশাহী আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্র। নতুন এই জাতের গমের নাম বারি গম-৩০। এই গমের প্রতি শীষে দানার সংখ্যা থাকে গড়ে ৫০টি করে। উচ্চ ফলনশীল প্রট্রিন সমৃদ্ধ এই গমের জাত নিজে থেকেই ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। আর উচ্চতায় খাটো হবার কারণে রক্ষা পায় ঝড় বৃষ্টির হাত থেকে। তাই বিঘা প্রতি এর ফলনও বেশি, তাই এতে লাভের আশা করছেন কৃষকরা। খরা প্রবণ উত্তরাঞ্চচলের কৃষকদের গম চাষে আগ্রহী করতে তাপ-খরা সহিষ্ণু জাতের গম উদ্ভাবন করেন রাজশাহী আঞ্চলির গম গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। নিয়ম মেনে যথা সময়ে এই জাতের গম চাষ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বারি গম-৩০ জাতের এই গম ২০১৪ সালে অবমুক্ত হয়। বপনের ৬০-৬৫ দিনেই এর শীষ আসে, ১০০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলার উপযুক্ত হয়।  

চুয়াডাঙ্গায় বারোমাসি আম চাষে সাফল্য (ভিডিও)

চুয়াডাঙ্গায় থাই বারোমাসি আম চাষে সাফল্য পেয়েছেন জীবননগর উপজেলার কয়েক যুবক। অসময়ে আম বাজারজাত হওয়ায় দামও অনেক বেশি পাওয়া যায়। চুয়াডাঙ্গা জেলার এ আমের সাফল্যের ফলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে থাই জাতের আমের চাষ। এই অসময়ে চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি আমবাগানে থোকায় থোকায় ঝুঁলছে আম। এ আম পাকতে পাকতেই গাছে দেখা যাবে আমের নতুন গুটি। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কয়েকটি স্থানে থাই বারোমাসি জাতের আম বাগানে দেখা যাচ্ছে এ দৃশ্য। ২০১০সালের দিকে জীবননগরের আবুল কাশেম থাই বারোমাসি আমগাছ রোপন করেন। একসময় গাছগুলোতে আম আসতে শুরু করে। আম সুস্বাদু হওয়ায় ভোক্তাদের আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তে থাকে। অসময়ে ৫০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয় এ আম। চাষীরা জানান, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে থাই বারোমাসি আমের চাষ হচ্ছে। একটি গাছ থেকে বছরে তিনবার আম সংগ্রহ করা যায়। এ আম পাকলেও প্রাকৃতিক উপায়েই দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা যায়। এক বিঘা জমিতে আমের চাষ করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। যা থেকে বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব বলে জানায় চাষীরা।    

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি