ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫২:৩৭, বুধবার

সরকার নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে : প্রধানমন্ত্রী

সরকার নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে : প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নারী সমাজকে নিজের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহবান জানিয়েছেন।
বিশ্বের নির্যাতিত নারীদের অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দক্ষ নেতৃত্বের জন্য পাওয়া ‘লাইফ টাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন অ্যাম্পাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেশের মানুষ এবং বিশ্বের নির্যাতিত নারীদের উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এ অ্যাওয়ার্ড আমার নয়, এটা দেশের মানুষের। আমি যে অ্যাওয়ার্ডই পাই না কেন তার ভাগিদার এ দেশের মানুষ।’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি। এর আগে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বার্লিনে সিটি কিউব আইটিবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন (আইএসএডব্লিউ) এ পদক প্রদান করে। জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পদক গ্রহণ করেন। এসএ/  

নারী দিবসে দুই মাকে নিয়ে সালমান

বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান নারী দিবসে নিজের দুই মায়ের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মা সালমা ও হেলেনের সঙ্গে তোলা ওই ছবিটি পোস্ট করেন সালমান খান। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘হ্যাপি উওমেনস ডে`। পোস্টটিতে ইতিমধ্যেই লাখ লাখ লাইক পড়েছে। জানা যায়, সালমান খানের বাবা সেলিম খান ১৯৬৪ সালে সালমাকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান আরবাজ খান, সালমান খান, সোহেল খান ও আলভিরা। পরে ১৯৮১ সালে সেলিম খান বিয়ে করেন হেলেনকে। সালমান, আরবাজ ও সোহেল তিনজনই অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বোন আলভিরার বিয়ে হয়েছে নির্মাতা অতুল অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে। আর অপর বোন অর্পিতা খানের বিয়ে হয়েছে অভিনেতা আয়ূষ শর্মার সঙ্গে। সালমান সম্প্রতি আলি আব্বাস জাফর পরিচালিত `ভারত` সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। এই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভাইজানের সাবেক প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফ। চলতি বছর ঈদে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এদিকে ভাই আরবাজ খানের `দাবাং থ্রি`র শ্যুাটিংও শুরুর কথা চলছে। এসি    

ইসলামে নারীর অধিকার

তৎকালীন আরব সমাজের নারীদের করুণ অবস্থা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘তাদের কাউকে যখন মেয়ে জন্মের সংবাদ দেওয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। এবং সে দুঃখ-চিন্তায় ব্যথিত হয়ে পড়ে। এ সংবাদটিকে তারা এত খারাপ সংবাদ মনে করত যে, নিজেকে লোকজনের থেকে গোপন রাখতে থাকে আর চিন্তা করতে থাকে যে, লজ্জা শরম ও অবমাননা সহ্য করে মেয়েটিকে রাখবে, না তাকে মাটির নিচে জীবন্ত কবর দিবে’। (সূরা নাহল-৫৮-৫৯)। রাসুল (স) এ দৃশ্য দেখে তাদের নিষেধ করলেন। তিনি বলেন, তোমরা কন্যা সন্তানদের খাবারের ভয় করো না। কেননা তোমাদের রিজিকদাতা আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ বলেন- ‘তোমাদের সন্তানদিগকে দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না। তাদেরকে আমিই রিজিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদের (কন্যা সন্তানকে) হত্যা করা মহাপাপ’। (সুরা বনী ইসরাইল:৩১) শুধু তাই নয়, রাসুল (স) কন্যা সন্তানের সম্মান বৃদ্ধি করেন। প্রিয় নবী (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানের সাথে ভালো ব্যবহার করবে তারা তার জন্য জাহান্নাম অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে’ (বুখারী, মুসলিম)। ইসলামপূর্ব সময়ে স্ত্রীদের শুধু ভোগের সামগ্রী মনে করা হত। কিন্তু ইসলাম স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর’। (সুরা নিসা:১৯)। ইসলাম স্ত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ ও দাসীর মতো আচরণসহ যে কোনো প্রকার অত্যাচার করতে বারণ করেছে। রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের জীবন সঙ্গীনীকে কখনো অত্যাচার ও দাসীর মতো মারপিট করো না’। (বুখারী ও মুসলিম) এমনকি হাদিসে এমন কথাও বলা হয়েছে যে, সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। অন্যদিকে ইসলামে মা হিসেবে নারীকে সম্মান করেছে। মায়ের সম্মান ও খেদমত জান্নাত লাভের অন্যতম উপায়। রাসুল (স) বলেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’ (আবু নাঈম শরীফ)। কোরআন শরীফে সুরা লোকমানসহ বিভিন্ন সূরায় মায়ের সাথে সদাচরণের কথা বলা হয়েছে। মা অন্য ধর্মের অনুসারী হলেও তার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। যেমন-হজরত আসমা (রা) বলেন,“আমি নবী (স) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার মাতা মুশরিক বেদ্বীন, তিনি আমার কাছে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর আপ্যায়ন করা যাবে কি? রাসুল (স) বলেন, ‘অবশ্যই তাকে আদর আপ্যায়ন ও সদ্ব্যবহার করবে’। (বুখারী শরীফ)। ইসলাম নারীকে পর্দা রক্ষা করে শিক্ষার অধিকার প্রদান করেছেন। ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে পড়ার জন্য বলেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’(সুরা আলাক:০১)। আজকের কন্যা আগামী দিনের মা। তাই রাসুল (স) শিক্ষা, কাজ-কর্মে কন্যা সন্তানকে যোগ্য করে তুলতে বলেছেন। রাসুল (স) বলেন, ‘দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ’। এছাড়া ইসলাম নারীদের পর্দা রক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করে অর্থবিত্ত উপার্জন করে এর মালিক নারী হতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা নারীর প্রাপ্য অংশ’। (সুরা নিসা:৩২)।মোটকথা, ইসলাম নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদাসীন করে অতুলনীয় মর্যাদা দান করেছে। ইসলামে সাক্ষীসাবুদ রেখে নির্দিষ্ট মোহর প্রদানপূর্বক নারীকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠা করেছে উত্তরাধিকার সম্পদে তার অধিকার।লেখক : ইসলামি গবেষক এসএ/

নারীদের অধিকার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশা রয়েছে

নারী জাতিকে যে মর্যাদা দান করেছে ইসলাম তা অন্য কোনো ধর্ম বা সমাজব্যবস্থায় আজও দেখা যায় না। নারীদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে পবিত্র কোরআনে। ঘোষণা করা হয়েছে, নারীদের ওপর যেমন পুরুষের অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদের ওপরও নারীদের অধিকার রয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীদের জীব-জন্তুর মতো হাটবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। বিয়ে-শাদির ব্যাপারে নারীর মতামতের অধিকার ছিল না। নারীরা কোনো সম্পদ বা মিরাসের অধিকারী হতো না। নারীদের মনে করা হতো পুরুষের স্বত্বাধীন। কোনো জিনিসেই তাদের নিজস্ব কোনো সত্তা ছিল না। পিতার পক্ষে কন্যাকে হত্যা করা, জীবন্ত কবর দেয়াকে বৈধ জ্ঞান করা হতো। এমনকি এ কাজকে পিতার জন্য সম্মানজনক ভাবা হতো। সব ধর্মে ও সমাজে নারীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হতো, তা ছিল অমানবিক, হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক। নারী ছিল অত্যন্ত অসহায় ঘৃণিত, লাঞ্ছিত এবং অধিকারবঞ্চিত। হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রচেষ্টায় ইসলাম ধর্মই নারীদের অধিকার দিয়ে বিশ্ববাসীর চোখ খুলে দিয়েছেন। ন্যায়-নীতির বিধিবিধান প্রয়োগ করে নারী সমাজের অধিকার সংরক্ষণ পুরুষদের ওপর ফরজ করে দেয়া হয়েছে। বিবাহ-শাদি এবং ধনসম্পদে নারীদের মালিক করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পিতা পর্যন্ত বিবাহ দিতে বাধ্য করতে পারে না। নারীর সম্পদে তার অনুমতি ছাড়া কোনো পুরুষই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। উত্তরাধিকার আইনে নারীদের সম্পত্তির অংশীদার করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের কথাও স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে নারীর মর্যাদার বা পৃথক সত্তারই ইঙ্গিত বহন করে। অর্থাৎ ‘ইবাদত-বন্দেগি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, বেহেশতে স্থান লাভ ইত্যাদিতে স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ ইসলাম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষা গ্রহণ ফরজ করে দিয়েছে। নারীরাও জ্ঞানপিপাসু, জ্ঞানের সেবক, বিজ্ঞানের ধারকবাহক। তবে পুরুষের মতো নারীদের জ্ঞান ও কর্মক্ষমতা স্বাধীনভাবে বিকাশ লাভ করতে পারে না। কিন্তু সঠিক ও নিরাপদ কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের মাধ্যমে এই শক্তির যথাযথ বিকাশ লাভ করে সমাজে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামের ঊষালগ্নে হজরত মোহাম্মদ (সা.) ধন দৌলতের সম্রাজ্ঞী হজরত খাদিজাকে বিয়ে করে ইসলামকে পরিপুষ্টি করে তোলেন। জয়নব নামে মহিলা আতর ব্যবসায়ী থেকে আতর কিনে তাকে ব্যবসায়ে উদ্বুদ্ধ করেন। রাসূল (সা.)-এর যুগে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী একজন নারী। তিনি ছিলেন হজরত খাদিজা (রা.)। ইসলামে সর্বপ্রথম শহীদও ছিলেন একজন নারী। তিনি হলেন হজরত সুমাইয়া (রা.)। কারবালা যুদ্ধের ধারাভাষ্যকারও ছিলেন একজন নারী। তিনি হলেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বোন হজরত জয়নব (রা.)। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে নারী সমাজের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারী সমাজের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৫৭ সালের এ দিনে নিউইয়র্কের একটি সুচ কারখানায় মহিলা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সূচিত করা হয়েছে এই আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের লক্ষ্য। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হজরত মোহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছরে নারীর ব্যক্তিত্ব, নারীর শিক্ষা, নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা, নারীর পোশাক পরিচ্ছদ, নারীর সাজসজ্জা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরুষের সঙ্গে নারীর অংশগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করে দিকনির্দেশনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। রাসূলের যুগে নারীরা যে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করেছিলেন আজকের সমাজে তা অনেকটা ক্ষুণ্ণ হয়ে পড়েছে। তাই নারীরা আজ সমাজে বঞ্চিত নির্যাতিত। রাসূল (সা.) প্রবর্তিত অধিকারগুলো যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয় তাহলে নারীরা পূর্ণ মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা পেতে পারে এবং বিশ্ব নারী দিবসের উদ্দেশ্য সফল হতে পারে। রাসূলের যুগে নারীরা রাসূলের সঙ্গে হিজরত করত, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত। ইবাদত-বন্দেগি, জ্ঞানচর্চা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম প্রভৃতি কাজে পুরুষের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে ইসলামী সমাজের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। আজও দুনিয়ার যে কোনো দেশে যে কোনো পরিবেশে হজরত খাদিজা (রা.), হজরত ফাতেমা (রা.), হজরত আয়েশা (রা.), হজরত জয়নব (রা.) নারী জাতির উত্তম আর্দশ। আল্লাহ আমাদের মহীয়সী নারীদের জীবন অনুসরণ করে নারী অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক দান করুন। এই হোক এবারের নারী দিবসের অঙ্গীকার। লেখক : অধ্যাপিকা, চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শেরপুরএসএ/

নারীর অধিকারে আলাদাভাবে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন

সত্যিকারের মানব সমাজে আলাদাভাবে নারীর অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। এমন সমাজে প্রয়োজনমতো নারী ও পুরুষের অধিকার থাকবে। নারী-পুরুষের অধিকারের এ সমতাই মানবিকতার পথে, মানুষের সমাজের অগ্রগতির পথে আরও একটি ধাপ। কিন্তু এটি বুঝতেও আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আজকের এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে। আজ যে নারী দিবস দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপনের ব্যাপক আয়োজন চলছে, তার পেছনে রয়েছে শত বছরের অধিক সময় ধরে চলা এই নারী আন্দোলন। ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন নারীরা নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা ছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিক। তারা দৈনিক শ্রমঘণ্টা ১২ থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৫ হাজার নারী। আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন বহু নারী। তিন বছর পর ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় `নারী শ্রমিক ইউনিয়ন`। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে তারা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার আদায় করে নেন। জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম এই আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এর পর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। জার্মানির এই নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত হয়- ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। এগিয়ে আসেন বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এখনও নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পাঠ্যপুস্তক, সিনেমা ও দৈনন্দিন কর্মে অসংখ্য রকমের অবমাননাকর শব্দের শিকার হন। শব্দকে তৈরি করা হয় নারীর বিরুদ্ধে। নারীত্ব কোনো দুর্বলতা নয়। শব্দকে লিঙ্গায়ন করা হয়। শব্দকে তৈরি করা হয় নারীর জন্য। শব্দের মধ্যে লিঙ্গ ব্যবহার করা একদম উচিত নয়। এসব পরিস্থিতির মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের সব সময় প্রমাণ করে যেতে হয়- তারাও পারে। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে নারীদের একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮৮ শতাংশ নারী রাস্তায় চলার পথে অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হন। এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ গাড়িচালক ও তার সহকারীর দ্বারা এবং ৬৯ শতাংশ দোকানদার ও বিক্রেতার মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমান পটভূমিতে আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। নারী নির্যাতন সমাজে সব সময়ই ছিল। কিন্তু এখন গণধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের চিত্র ইলেকট্রনিক বা ইন্টারনেট মাধ্যমে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাত্রা বেড়ে গেছে। এ ধরনের বর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় অসংখ্য নারীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে নারী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যেতে চাচ্ছে; অন্যদিকে তার অগ্রযাত্রায় বাধা দিতে দুর্বৃত্তরা নিপীড়নকে হাতিয়ার করছে। তবে নারী নির্যাতনের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে আইনের প্রয়োগ না হওয়া। আইন থাকা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে নিপীড়িত নারী ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। বরং নানা সময়ে তাকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়; তাকেই অপমান করা হয়- এমন ধরনের প্রশ্ন তার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়। এভাবে নিপীড়নের শিকার নারীর জীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নির্যাতকদের আইনমাফিক শাস্তি না দেওয়ার কারণে বা তারা নানাভাবে ছাড় পেয়ে যায় বলে এটাকে এক ধরনের প্রশ্রয় বলা যায়। একুশ শতকে নারীর অগ্রযাত্রা এতে বাধাগ্রস্ত হবে। এখনও অনেক বৈষম্য দৃশ্যমান। প্রতিনিয়ত নারীরাই এর মুখোমুখি হচ্ছে। তারপরও নারী আন্দোলনের সামগ্রিকভাবে অনেক অর্জনই দেখানো যেতে পারে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় নির্বাচনের পর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নারী পারিবারিকভাবে সহানুভূতি পেয়েছে, সামাজিকভাবে সহায়তা লাভ করেছে। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আইনি সহায়তাপ্রাপ্তিতে তার পক্ষে জোরালো চাপ রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি কিছুটা পেছনে তাকাই, তাহলে এগুলো অসম্ভব মনে হবে। আমি নিজেও ওখানে কাজ করেছি। এ রকম ধর্ষণের শিকার নারীদের সামাজিকভাবে তো দূরের কথা, পারিবারিভাবেই জায়গা মিলত না। স্বামীরা তালাক দিয়ে দিত। তাই আমার কাছে মনে হয়, অনেক কিছুই হয়তো নির্মূল হয়নি; কিন্তু অগ্রগতি হয়েছে। এটি একটি ভালো উদাহরণ। এ ছাড়াও ধর্মচর্চার সুযোগে ধর্ম শিক্ষকদের দ্বারা শুধু নারীরা নয়; ছেলেশিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এগুলো আগে বলা যেত না, এখন বলা যায়। বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আসছে। আমরাও অনেক কিছু জানতে পারছি। ফলে এর বিরুদ্ধে অনেক ধরনের ব্যবস্থা বা সচেতনতার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সামাজিক ব্যবস্থা, পরিস্থিতি, মানুষের মনোজগৎ সার্বিকভাবে আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। এর পেছনে দীর্ঘ সময় ধরে নারী আন্দোলন একটি ভূমিকা রেখেছে। এসব দিবস পালন মানে বছরের ৩৬৫ দিনে আমাদের দাবিগুলো ভুলে থাকা নয়। বিশেষ দিবস পালন মানে একটি দিনে বিশেষভাবে ভাবা, কথা বলা, পদক্ষেপ নেওয়া। গোটা বিশ্বের মানব সমাজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অঙ্গীকার করবে- তারা নারীর প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্র্রে বিদ্যমান সব ধরনের বৈষম্য ও দমনমূলক নিয়মনীতির অবসান ঘটাবে। সমাজ-রাষ্ট্রের মূল স্রোতে নারীকে গতিশীল করে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই নারী দিবসের মূল চেতনা। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি বিসাউ, ইরিত্রিয়া, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, উগান্ডা, ইউক্রেন, ভিয়েতনাম ও জাম্বিয়া। এ ছাড়াও চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে শুধু নারীরাই এই সরকারি ছুটি ভোগ করেন। আমি মনে করি, নারীর প্রতি অতীত ও বর্তমানে যত সহিংসতা হয়েছে বা হচ্ছে, তা রুখে দিতে হবে। এটা শুধু নারীর একার দায়িত্ব নয়। নারী সংগঠনগুলোই শুধু এ নিয়ে কথা বলবে, তা হয় না। সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ে বসবাস করেন। পুরুষ তো পশু নয়; তাদের নিপীড়ক হিসেবে ভাবতে চাই না। তাতে পুরুষেরও অমর্যাদা হয়। নারী যদি পুরুষের দ্বারা নিপীড়িত হওয়ার ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, তাহলে পুরুষের অবস্থানও নিচে নেমে যায়। তাই পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তনও খুব জরুরি। পুরুষ নিজে যখন বুঝতে শিখবে- এ ধরনের আচরণ দ্বারা সে নিজেই নিজের অবমূল্যায়ন করছে, তখন নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে। তাই নারী ও পুরুষ উভয়কে সচেতন হতে হবে। মানুষকে যারা ভালোবাসেন, মর্যাদা দেন, তারা নারীকে নিপীড়ন করতে পারেন না। তারা নিজের সম্মান ও অধিকার বোঝেন, অন্যের ব্যাপারেও সচেতন থাকেন। আমরা মানবিক সমাজের পথে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাব।লেখক : মানবাধিকার কর্মী ও `নিজেরা করি` সংগঠনের সমন্বয়কারীএসএ/

নারীর ক্ষমতায়নের বড় বাধা নির্যাতন ও সহিংসতা

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানা ব্যতিরেকে নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে সারাবিশ্বেই প্রায় একই বাস্তবতা বিরাজ করছে। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো আমাদের দেশেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা তথা পুরুষের কর্তৃত্ব, নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ক্ষতিকারক অনুশীলনগুলোর সামাজিক বৈধতা এবং অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা বা বিচারহীনতার সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন কারণে নারী ও মেয়েশিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর তাই নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা, অনুমোদিত সংবিধান, সিডও সনদসহ বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ও এই নীতিমালা বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা নারীর সমান অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন অর্জনে সহায়তা করছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’। সমাজ ও দেশের যে চিত্র আমরা পাই, সে অনুযায়ী নারী নির্যাতন মাত্রা এবং এর ব্যাপকতা ক্রমাগত বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্যাতনের নৃশংসতম বীভৎসতা। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিইপি) দরিদ্র ও অধিকারবঞ্চিত নারীর সচেতনতা বৃদ্ধি করে তাদের অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে, যা টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার (এসজিডি-৫) সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যেখানে জেন্ডার সমতা অর্জন করে সব নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এসডিজির ১৬তম লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিকরণ সমাজ গঠনে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম বাধা হলো নির্যাতন ও সহিংসতা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ব্যাপকতা, সহিংসতার ধরন জানার মাধ্যম সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কার্যকর লিংকেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সিইপি একটি অনলাইন ডাটাবেস পরিচালনা করে। সংগৃহীত তথ্যে বিশ্নেষণের জন্য কেন্দ্রীয় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) প্রস্তাবিত একটি সাধারণ বিন্যাস ব্যবহার করে সিইপি কর্তৃক পরিচালিত কর্মএলাকার ৫৬ জেলার ৩৭৯ উপজেলার অধীনে ১২৮০০ পল্লী সমাজ কর্তৃক সংগৃহীত ওয়ার্ড থেকে সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোর তথ্য বিশ্নেষণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ১২২৬৫টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ মেয়েশিশু এবং ৮৫ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ শারীরিক নির্যাতন, ৯ শতাংশ মানসিক নির্যাতন, ৬ শতাংশ আত্মহত্যা, ৪ শতাংশ ধর্ষণ এবং ২ শতাংশ নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সহিংসতার মূল কারণ অনুসন্ধানে ৫৮ শতাংশ সহিংসতা ঘটেছে যৌতুক এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে, যার সূত্রপাত আবার বাল্যবিয়ের মতো ক্ষতিকারক সামাজিক অনুশীলন থেকে। প্রাপ্ত তথ্য আরও নির্দেশ করে যে, ভুক্তভোগীর মধ্যে ১২ শতাংশই মেয়েশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, ৭৫ শতাংশ নারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং বাকি ১৩ শতাংশ নারীর বয়স ৩৫ বছরের ওপরে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে উদ্বেগজনক যে তথ্য পাওয়া যায় তা হলো, ৯১ শতাংশ নারী ঘরেই নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই পরিবারের সদস্য, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশ নারী স্বামী দ্বারা এবং ২ শতাংশ নারী স্বামীর পরিবারের সদস্য এবং বাকি ৮ শতাংশ নারী নিজ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সিইপির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই নারী অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠে। নির্যাতনের ফলে ব্যক্তি নারীর শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতনের পাশাপশি গোটা পরিবারই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বেশিরভাগ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিরূপ প্রভাব পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর পড়ে। যার ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর নির্যাতনের দুষ্টচক্র গড়ে ওঠে। তাই নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আর তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার। সন্তানদের শিশুকাল থেকেই এভাবে গড়ে তোলা, যেন তার মধ্যে নারীর প্রতি অবমাননাকর কোনো ধারণা তৈরি না হয়, নারীকে ভোগ্যপণ্য মনে না করে, পাশাপাশি প্রতিটি শিশুসন্তানকে ছেলেমেয়ে বিভেদ না করে লেখাপড়াসহ সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, খাবার গ্রহণ, ঘরের কাজ, বাইরের কাজ, স্কুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনো ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়ের মধ্যে বিভেদ না করা। নারী ও পুরুষকে সমভাবে নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য অনুযায়ী সবাই মিলে নতুন কিছু করতে হলে আমাদের প্রত্যেকের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজ নিজ পরিবারকে নির্যাতন ও বৈষম্যমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পুরুষ ও যুবদের সম্পৃক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিবার ও সমাজকে নারীর নিরাপদ স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এভাবে প্রতিটি পরিবারকে যদি আমরা নির্যাতনমুক্ত করতে পারি, তাহলে গোটা সমাজ এবং দেশ থেকে আমরা নির্যাতনের বিভীষিকা থেকে নারীকে মুক্ত করতে পারব। আমরা পারব সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যাবতীয় সৃষ্টিশীল উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নারীকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে। লেখক : পরিচালক, সামাজিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি, ব্র্যাকএসএ/

‘নারী দিবসে’ নারীদের উদ্দেশ্যে প্রিয়াঙ্কার খোলা চিঠি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের বিশেষভাবে সেলিব্রেট করা উচিত বলেই মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এই বিশেষ দিনটিতে নারীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। সমস্ত বাঁধাধরা, গতে বাঁধা জীবন ছক ভেঙে ফেলার জন্য নারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এই বিশেষ দিনটি নারী শক্তির সেলিব্রেশনের দিন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।  অভিনেত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ একটি ডেটিং অ্যাপের খোঁজও দিয়েছেন যেখানে মহিলারা তাদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারেন। প্রসঙ্গত অভিনেত্রী হিসাবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, তার কেরিয়ারে সফল। তিনি যে ভালো অভিনেত্রী সেবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলিউডের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতোমধ্যেই হলিউডেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও গতে বাঁধা ছক ভেঙে নিজের পছন্দ মতো জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছেন তিনি। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

বরগুনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বরগুনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেরির সামনে থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এরপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপর মারুফ হোসেন, সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি। আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীরা জেন্ডার সংশ্লিষ্ট সংঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের সহযোগিতায় দিবসটি আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতর । একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি