ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৪৬:৫৭, বুধবার

ঈদের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব পুরস্কার

ঈদের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব পুরস্কার

রমজান শেষে পশ্চিমাকাশে যখন চাঁদ উদিত হয় তখন সেই রাত চাঁদনী রাত অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের রাত। এই রাতকে পুরস্কারের রাত বলা হয়েছে। সকাল হলেই মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কঠিন সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে রমজানকে অতিবাহিত করার ফল হিসেবেই এই পুরস্কার। ঈদের আনন্দে যাতে আল্লাহকে ভুলে না যাই, সে লক্ষ্যে রমজানের ইবাদতের ন্যায় চাঁদ রাতেও আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবো,  ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হবো, বেশি বেশি প্রার্থনা করবো, শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবো। সমাজ, রাষ্ট্র এবং কবরবাসীদের জন্য দোয়া করবো। ঈদুল ফিতরের সকালে আল্লাহ তাআলা সকল জনপদে ফেরেশতাদেরকে পাঠান, তারা প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়ান। অতঃপর উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন। যা জীন ও মানুষ ব্যতীত সকল প্রাণী শুনতে পায় : ‘হে মুহম্মদের উম্মত! তোমরা এক করুণাময় প্রতিপালকের দিকে বেরিয়ে এসো, যিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে দান করেন এবং বড় বড় গোনাহ মাফ করেন।’ যখন বান্দারা ঈদের নামাজ আদায়ে ঈদগাহে সমবেত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলেন : ‘কোন শ্রমিক যখন তার কাজ সম্পন্ন করে, তখন তাকে কি প্রতিদান দেয়া উচিত?’ ফেরেশতারা বলেন- ‘হে আমাদের প্রভু, তার প্রতিদান এই যে, তার প্রাপ্য পুরোপুরিভাবে দেয়া হোক।’ আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘তাহলে তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের রমজানের রোজা ও রমজানের রাতের নামাজের প্রতিদান হিসেবে তাদের জন্য আমার ক্ষমা ও সন্তোষ ঘোষণা করলাম।’ আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন : ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা আমার কাছে চাও। আমার সম্মান ও প্রতাপের শপথ, আজ তোমরা তোমাদের আখেরাতের সঞ্চয়ের জন্য যা কিছু চাইবে তা আমি দিব। আর দুনিয়ার জন্য যা কিছু চাইবে তাও আমি বিবেচনা করব। আমার মর্যাদার শপথ, আমি তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবো, যতক্ষণ তোমরা আমার দিকে মন নিবিষ্ট রাখবে। আমার সম্মান ও প্রতাপের শপথ, আমি তোমাদেরকে অপমানিত করবো না। তোমাদেরকে অপরাধীদের সামনে লাঞ্ছিত করবো না। তোমরা আমাকে সন্তুষ্ট করেছ, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছি।’ এরপর ফেরেশতারা আনন্দিত হয় এবং রমজান শেষে এই উম্মতকে আল্লাহ তাআলা যা দান করেন, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (বায়হাকী) আসুন, ঈদ শেষে রমজানে যে রকম ইবাদতের অনুশীলন হয়েছে তা যেন বজায় রাখতে পারি এ নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। তথ্যসূত্র : মাওলানা হারুনুর রশিদের রমজানে করণীয় ও বর্জনীয় গ্রন্থ। এএইচ/
রোজার বিদায়ে ভারাক্রান্ত মুমিনের অন্তর

মহাপূণ্যের সওগাত নিয়ে আসা পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের পথে। মুমিন বান্দা তার অন্তরে ব্যাথা অনুভব করছেন। কেননা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রমজানের সঙ্গে ভালবাসা গড়ে উঠেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি রুটিন গড়ে তুলেছে। সেই রমজান আল্লাহর বান্দাদেরকে ছেড়ে যাচ্ছে এই ভেবেই মুমিনের অন্তর ভারাক্রান্ত। রমজানের আজ ২৮ তারিখ। আর মাত্র একটি বা দুটি রোজা আছে। রহমত, বরকত, মাগফিরাতসহ অফুরন্ত নেয়ামতের চাঁদরে আবৃত এই রমজান বিরহে বান্দার অন্তরে কান্নার ঝড় বইছে। যদি আরও কিছু দিন থাকতো তবে রমজানের সঙ্গে মহব্বত আরও বাড়তো। অন্তর হতো প্রশমিত। মুমিনের মনে হচ্ছে রমজান এই এলো এই চলে গেলো। রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালবাসার গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। তা অনুভব করা যায় তখনই, যখন নামাজের মধ্যে বিগলিত হয়ে দুই চোখ অশ্রু ঝাড়ছে অবিরত এবং অন্তর হয়েছে ভারমুক্ত। অন্তর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। ইফতারের মুহূর্তগুলো পরিবারের প্রতিটি বান্দার মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই পরিবেশ অন্য কোন সময়ে পাওয়া সম্ভব নয়। পরিবারের বাহিরে মসজিদে মসজিদে ধনী-গরিব এক কাতারে বসে ইফতার করেছে। এক রোজাদার অন্য রোজাদারের প্রতি কত বিনয়ী ছিল। ভাবুন, রমজান কী ভালবাসা তৈরি করে দিয়ে গেছে? তারাবি নামাজ বান্দার অন্তরে কোরআনের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি করেছে। খতম তারাবি আদায়ের জন্য আল্লাহর বান্দারা নামাজ শুরুর অনেক আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়েছে। ধৈর্যের সঙ্গে মহব্বতের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত শুনেছে, অন্তরে সৃষ্টি হয়েছে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা। আল্লাহ তাআলা কোরআনের মধ্যে যেন মধু দিয়েছেন, বান্দা যত শুনছে ততো ভালো লাগছে। মনে সৃষ্টি হয়েছে- আহ্‌! কেরাতটি যদি আর একটু লম্বা হতো তবে একটু বেশি শুনতে পেতাম! সেহরিতে ছোট-বড় সবাই অংশগ্রহণ করেছে। ছোটরা হয়তো রোজা পূর্ণ করতে পারেনি। সেহরির এই পরিবেশ সবার অন্তরে অন্যরকম ভালোবাসা সৃষ্টি করে গেছে। এই ভালোবাসা রমজান ছাড়া হবে না। সর্বোপরি আল্লাহর বান্দারা রমজানকে ভালো ভেসে ফেলেছে। রমজান চলে যাবে এই ভেবেই মুমিনের অন্তর ভারাক্রান্ত। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের যে অনুশীলন হলো অন্য মাসগুলোতে তা বজায় রাখতে পারলেই রোজার প্রতি মহব্বত বজায় থাকবে। এই ভালোবাসা আরও দৃঢ় হবে। রোজার ভালবাসা অন্তরে জাগ্রত রেখে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবেই রমজানকে আবার পাবার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হবে। এএইচ/

ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা

রমজান শেষে আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর। এবার আনন্দ-হিল্লোলের বার্তা নিয়ে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ হেসে ওঠার অপেক্ষা। এক মাস সিয়াম সাধনা করার পর এই দিনটিকে মহা আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে সারা পৃথিবীর মুসলিম সমাজ। রোজা শেষে এ দিনের আনন্দ একে অপরের মধ্যে উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়। ঈদের চাঁদ দেখে মহাখুশিতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করে থাকেন। কেউ কেউ ঈদের কার্ড বিনিময় করেন। ধনী-গরিব সবাই ঈদের দিনটি আনন্দের সঙ্গে অতিবাহিত করেন। সবাই যার যার সাধ্যমতো আয়োজন করে থাকেন। ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে নামাজ শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। এরপর কেউ কেউ আপনজনদের কবরও জিয়ারত করে থাকেন। চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজান মাসের বিদায় হবে। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি আল্লাহ তাআলা খুশির দিন ঘোষণা করেছেন। যেন রোজা শেষে বান্দা আনন্দের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করতে পারে। এ জন্য এ দিনে রোজা রাখাকে হারাম করে দিয়েছেন। চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রেডিও-টিভিতে খুশির গান প্রচার করে থাকে। ‘রমজানেরই রোজা শেষে এলো খুশির দিন’ গান প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও মনের অজান্তে এ গান গেয়ে উঠে। শান-সওগাতে পরিপূর্ণ এ মাস বিদায় নেওয়ার পরপরই আমাদের মধ্যে উপস্থিত হবে লাইলাতুল জায়েজা তথা প্রতিদানের রাত। পাঁচটি বড় রাতের মধ্যে এটি একটি। এ রাতে আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হয়। এ রাত তথা ঈদের রাত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ সাহাবি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। সেসব রাতগুলো হচ্ছে- জিলহজের ৮, ৯ ও ১০ তারিখ; রমজানের শেষ দিনগত রাত এবং ১৫ শাবানের রাত। চাঁদরাতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে জলিলুল কদর সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন ঈদুল ফিতরের রাত আসে, তখন সেটাকে লাইলাতুল জায়েজা, অর্থাৎ পুরস্কারের রাত বলে আহ্বান করা হয়। যখন ঈদের দিন ভোর হয়, তখন আল্লাহর ফেরেশতারা পৃথিবীতে শুভাগমন করে। সব অলিগলি ও রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে যায় আর বলে- হে উম্মতে মোহাম্মদী, দয়াবান প্রতিপালকের দরবারে এগিয়ে চলো। এএইচ/

জাকাত ফিতরা আদায় হয়েছে কি?

রমজানের আজ ২৭ তারিখ। মহিমান্বিত এ মাসটি শেষ হতে আর মাত্র দুই থেকে তিন বাকি। আপনি কি জাকাত ও ফিতরা আদায় করেছেন? না হয়ে থাকলে অতি দ্রুত আদায় করুন। পূণ্যের মাস রমজান কিন্তু শেষের পথে। এ মাসে এক পূণ্যে ১০ থেকে ৭০০ গুণ বেশি সওয়াব। এখনই হিসাব করে জাকাত-ফিতরা আদায় করুন। জাকাতকে আল্লাহ ফরজ করেছেন। জাকাতকে গরিবের হক হিসেবে আল্লাহ নির্ধারিত বিধান করেছেন। জাকাত না দিলে বা অস্বীকার করলে দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে। জাকাত সমাজে শান্তি আনয়ন করে। জাকাতের ওপর অর্থনীতির যে ভিত তৈরি হয় তাতে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে যায়। জাকাত আখিরাতের মুক্তিকে নিশ্চিত করে। জাকাত যে কোন সময় আদায় করা যায় তবে রমজানে সওয়াবের পরিমাণ বেশি সেহেতু ইসলামী সমাজ রমজানেই জাকাত আদায় করে আসছে। ধন-সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ অর্থাৎ ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত দিতে হয়। ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হয়। ফিতরা ঈদের দিন সকালের মধ্যেই আদায় করার নিয়ম। ফিতরা নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও আদায় করা যায়। চলতি বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে কেউ ইচ্ছা করলে সর্বনিম্ন এই হার থেকে সর্বোচ্চ হারে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটি দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করেছে। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। পণ্যগুলোর স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের সময়ে সবাই এক রকম ফিতরা আদায় করতেন না। খেজুর, যব, কিসমিস, মুনাক্কা, পনির ও গম দিয়ে ফিতরা আদায় করা হতো। যার যে রকম সুযোগ ছিল তিনি সেভাবে আদায় করতেন। এতে ফিতরার বিভিন্নতা বুঝা যায়। তাছাড়া যদি সবাই এক রকম ফিতরা আদায় করতো তাহলে এক রকমেরই ঘোষণা থাকতো। তাই আমাদের জীবন যাত্রার মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে যার সঙ্গতি আছে তার উপর ভিত্তি করে ফিতরা আদায় করা উচিত। ফিতরা বিতরণ বিষয়ে কোরআন হাদীসে আলাদা কোন খাত উল্লেখ নেই বিধায় কোরআনে বর্ণিত যাকাতের খাতসমূহে বিতরণের জন্য ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেছেন। তবে হাদীসের বর্ণনার ধারা মোতাবেক প্রতীয়মান হয়েছে যে ফিতরা আদায়ে ফকির মিসকিনের হক বেশি। যেহেতু হাদীসে বলা হয়েছে ঈদের পূর্বে তাদের কাছে এ অর্থ পৌঁছে দেয়ার কথা। এ ছাড়া বুখারীতে ইবনে ওমায়েরের এক বর্ণনায় জানা যায়, সাহাবগণ ঈদুল ফিতরের দুই একদিন আগে আদায়কারীর কাছে বায়তুলমালে ফিতরা জমা দিতেন। ইবনে আদী ও দারেকুতনীতে ‘মিসকিনদেরকে সেদিন রুজির সন্ধানে ঘুরাফিরা থেকে রেহাই দাও’ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাজা ও আবু দাউদে ইবনে আব্বাসের একটি বর্ণনায় মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা যাতে হয়ে যায় একথা তারই সমর্থন করে। এতে বুঝা যায় ফকির মিসকিনদের অগ্রাধিকার সহ বর্ণিত খাতে তা ব্যয় করলে ফিতরার হক আদায় হয়ে যাবে। অতএব, ইসলামের বনিয়াদি নীতির স্বার্থে, দুনিয়া ও আখিরাতের  মুক্তির লক্ষ্যে এবং সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে সম্পদশালী মুসলমানের উচিত সুষ্ঠুভাবে জাকাত প্রদান করা। জাকাত যেমনিভাবে গরিব ও দরিদ্র মানুষের ভাগ্য বদলে দেয় এবং স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে, তেমনি ফিতরাও গরিব ও দরিদ্র মানুষের জীবনে আনে স্বস্তি। এ দুই খাত থেকে তারা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পায়। আসুন  আর দেরি না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জাকাত ও ফিতরা আদায় করি, আর কল্যাণময়ী জীবন গড়ি। এএইচ/  

এখনও সময় আছে ক্ষমা পাবার

রমজান আসে সৌভাগ্য নিয়ে। অর্থাৎ এক মাস সিয়াম সাধণার পর বান্দা মহান আল্লাহর কাছ থেকে নাজাত লাভ করে। রমজানের শেষ দিন অর্থাৎ ঈদের রাত পর্যন্ত বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ করুণা, রহমত, মাগফিরাত নাজিল হতে থাকে। তাই এখনও হতাশা কিছু নেই। রমজানের বাকি দিনগুলো একাগ্রচিত্তে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার এবং সৎকর্মে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ এখনও রয়েছে। উদ্দেশ্য এখন একটাই হোক- আল্লাহতাআলার কাছ থেকে ক্ষমা লাভ। লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের আশায় যেভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিল ধর্মপ্রাণ মানুষেরা, রমজানের বাকি দিনগুলো যদি এভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো যায়, তবে আল্লাহর ক্ষমা লাভ অসম্ভব নয়। ‘রমজান মাসতো সেই মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়াত আর যা সুস্পষ্ট পথ নির্দেশনা আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টির মানদণ্ড।’ (সূরা বাকারা ১৮৫) তাই কোরআন তেলাওয়াত করি অর্থ বুঝে, এতে আমলের ভিত শক্ত হবে এবং পূ্ণ্যও আসবে। রমজান শেষ হয়ে যাচ্ছে ভেবে নফল ইবাদতে মশগুল থাকি। কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে স্মরণ করতে থাকি, যিনি আমাদেরকে এই পূণ্যের মাস দান করেছেন তাকে। জিকিরের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ঘটুক। বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করতে হবে। জিকিরের মাধ্যমে বান্দা নিজের একান্ত চাহিদাগুলো তাঁর কাছেই তুলে ধরবে। আল্লাহ তাআলা বান্দার কাঙ্খিত জিনিস দান করবেন অর্থা দোয়া কবুল করবেন। দান হলো সর্বোত্তম সৎকর্ম। দানে আল্লাহতাআলা বেশি খুশি হন। দানকারী ব্যক্তির প্রতি সৃষ্টিকর্তার নেক দৃষ্টি থাকে। রমজানের বাকি দিনগুলো এবং ঈদের দিন পর্যন্ত বেশি বেশি দান করতে থাকি। যাকাত ও ফিতরা আদায় যদি বাকি থাকে তাও পরিশোধ করে নেই। এগুলো গরিবের হক, তাদেরকে বঞ্চিত করবেন না। এগুলোর প্রতি আল্লাহর দৃষ্টি রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’- উচ্চারণ ভালো কাজসমূহের মধ্যে এটি সর্বোত্তম। তাই সবসময় মুখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জারি রাখি বা বলতে থাকি। চোখের পানি ঝড়িয়ে বার বার প্রার্থনা করতে থাকি- হে রাব্বুল আলামীন তুমি তো অতীব ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ কর অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি তো পরম দয়ালু, আমাকে দয়া কর। রমজানের ফজিলত যে ভাবে তুমি তোমার প্রিয়বান্দাদেরকে দান কর, আমাকেও সেভাবে দান কর। এই কর্মগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করতে থাকি আল্লাহর ক্ষমা পাবোই। এএইচ/  

রমজানে কেন কোরআন নাজিল করা হয়েছে

রমজান মাসে প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার জাবালে রহমত, তথা হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)–এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল–কোরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে’(সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় রাত্রি কী? মহিমান্বিত নিশি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেয়। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ রুহুল কুদুস হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা উদয় পর্যন্ত’(সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’–এর ফারসি হলো শবে কদর। অর্থ সম্মানিত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রজনী। একশ আসমানি সহিফা, চারখানা কিতাবসহ মোট এক শ চারটি কিতাবের মধ্যে কোরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এই কিতাব নাজিল হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীগণের ইমাম, রাসুলদের সরদার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি। এই কোরআনের স্পর্শ বড়ই সৌভাগ্যের। হজরত জিবরাইল (আ.) কোরআন বহন করেই ফেরেশতাদের সরদার হওয়ার গৌরব লাভ করেছেন। মরুর দেশ ‘জাজিরাতুল আরব’ এই কোরআনের স্পর্শেই পবিত্র আরব ভূমির সম্মান লাভ করেছে। অলক্ষুনে ও দুর্ভোগালয় খ্যাত ‘ইয়াসরিব’এই কোরআনের বরকতেই পুণ্য ভূমি ‘মদিনা মুনাওয়ারা’র সম্মানে ধন্য হয়েছে। পাপের আকর শিরক ও কুফরের শীর্ষ তীর্থস্থান ‘বাক্কা’ এই কোরআনের কল্যাণে পবিত্র মক্কা নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোরআনের পরশে স্বল্পমূল্য কাপড়ের ‘গিলাফ’ বুকে জড়ানোর সম্মান পাচ্ছে। এই কোরআনের ছোঁয়ায় সাধারণ কাঠের ‘রেহাল’ সম্মানের চুমু পাচ্ছে। সর্বোপরি কোরআনের সংস্পর্শে একটি সাধারণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’বা ‘শবে কদর’রজনীর সম্মানে বিভূষিত হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে যাঁর যতটুকু সম্পর্ক ও সংস্পর্শ থাকবে, তিনি ততটুকু সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। প্রিয় হাবিব (সা.) বলেন, ‘কোরআনওয়ালাই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর প্রিয় ব্যক্তি’ (বুখারি)। ‘যার অন্তরে কোরআনের সামান্যতম অংশও নেই, সে যেন এক বিরান বাড়ি’ (বুখারি ও মুসলিম)। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো’(মুসলিম)। এ রাতগুলো হলো ২১,২৩, ২৫,২৭ ও ২৯। আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়। অর্থাৎ ২০,২২, ২৪,২৬ ও ২৮ রমজান দিবাগত রাতসমূহ। মুফাসসিরিনে কিরাম বলেন, আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’শব্দদ্বয়ে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিন তিনবার রয়েছে; ৯–কে ৩ দিয়ে গুণ করলে বা ৯–কে ৩ বার যোগ করলে ২৭ হয়, তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। (তাফসিরে মাজহারি)। হজরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.) ! আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি বলবে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। ”’ (ইবনে মাজা, অস-সিলসিলাতুস সহিহাহ, নাসিরুদ্দিন আলবানি)। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে’ (বুখারি শরিফ, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ২৫, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৯-৩০, হাদিস: ৩৪)। শবে কদরের বিশেষ আমলসমূহ হলো নফল নামাজ-তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, ছলাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সলাতুল হাজাত, সলাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি পড়া। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, সুরা ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরা তিলাওয়াত করা; দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; তাওবা ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসকার ইত্যাদি করা। টিআর/

পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। হাজার মাস ইবাদত অপেক্ষা উত্তম করে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরকে সম্মানিত করেছেন। এই রাতে মসজিদে মসজিদে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমাগম ঘটে। উদ্দেশ্য একটাই ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতকে জাগিয়ে রাখা। মসজিদের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও প্রস্তুতি ছিল কদরের রাতকে সফল করার। গত রাতেই খতমে তারাবি শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে খতমে কোরআনকে কেন্দ্র করে মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয় এই রাতে এবং ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করা হয় এই রাতে। তাই শবেকদরের রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহপাকের ক্ষমা প্রার্থনা ও পুণ্য লাভের আশায় অতিবাহিত করেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কুরআন তেলাওয়াত, বেশি বেশি নফল নামাজ, জিকির-তাসবিহ এবং চোখের পানি ঝড়িয়ে ইবাদতের মাধ্যমে কাটিয়েছেন রাতটি। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে দোয়ায় অংশ নেন। মুসলিম জনগোষ্ঠী ফজরের নামাজের পর সৃষ্টিকর্তার করুণা লাভের জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এরপরও সবার ভেতরে আকুলতা ছিল যদি আর একটু বেশি ইবাদত করা যেত, হয়তো আল্লাহর সান্নিধ্য আরও একটু বেশি পেতাম। পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দেশের সব মসজিদেই তারাবির নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন ছিল। শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। ২৭শে রমজানের রাত শেষ হয়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠী এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে কাটিয়েছে। রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদরকে তালাশের কথা বলেছেন। সে মতে ২৯ রমজানের রাতও শবে কদর তালাশের রাত। এএইচ/  

কদরের রাত্রিতে রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

লাইলাতুল কদর বা শবেকদরে ঈবাদতের বিষয়ে নির্ধারিত কোনো আমল বা নামাজ কোরআন-হাদিসে বর্ণিত নেই। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে এত রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে, এমন আমল করতে হবে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো আমলের কথা উল্লেখ নেই। এ রাতের মূল আমল হল নিজের গুনাহখাতা আল্লাহ থেকে মাফ করিয়ে নেয়া। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন যদি আমি জানতে পারি যে, শবেকদর কোন রাতে হবে, তাতে আমি কী বলব? রাসুল (সা.) বললেন- তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি।’ (অর্থ) হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিজি)। দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থেকে এ সময়ে বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়ায় মগ্ন থাকতে হবে। কদরের তালাশে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করাটাই মূল বিষয়। এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি। আরকে//

দৈনিক আমল কণিকা

আজ শনিবার ২৬ রমজান। লাইলাতুল কদরের রাত অর্থাৎ হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রাত। আজকের আমল হোক জান্নাতে যাতে আফসোস না হয় এর জন্য আল্লাহর যিকির ও নবীর উপর দরুদ পাঠ, সর্বোত্তম উচ্চারণ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং পাপের জন্য তওবার ফিকির। জান্নাতের ভেতর আফসোস আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের কোন একটি বৈঠকও যদি আল্লাহর যিকির ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ থেকে বঞ্চিত থাকে, কিয়ামতের দিন সেই বৈঠকটি হবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য চরম আফসোসের বিষয়; সওয়াবের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করলেও তাদের আফসোস থেকে যাবে। লা ইলাহা ইল্লাহু এর গুরুত্ব আবূ যার গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। জবাবে তিনি বললেন, ‘কোনো মন্দ কাজ সংঘটিত হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে একটি ভালো কাজ সম্পাদন করো, তাহলে তা মন্দকে মুছে দিবে।’ আমি বললাম- হে আল্লাহর রাসূল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’- উচ্চারণ করা কি ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, ভালো কাজসমূহের মধ্যে এটি সর্বোত্তম। সামর্থের সবটুকু দিয়ে পাপ এড়িয়ে চলো আতা ইবনু ইয়াসার (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু)কে ইয়েমেনে (গভর্নর হিসেবে) প্রেরণ করার সময় মুআয বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন।’ নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সামর্থের সবটুকু দিয়ে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকো; প্রত্যেক বৃক্ষ ও পাথরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহর যিকর করো এবং কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে তাওবা শুরু করো- গোপন পাপের তাওবা গোপনে, আর প্রকাশ্য পাপের তাওবা প্রকাশ্যে। তথ্যসূত্র : ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, অনুবাদ: জিয়াউর রহমান মুন্সী, রাসূলের চোখে দুনিয়া গ্রন্থ। এএইচ/

আজ লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী। এ রজনী এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এই রাত লুকায়িত আছে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে। অধিকাংশ আলেম সমাজের মত হচ্ছে রমজানের ২৭ তারিখের রাতই লাইলাতুল কদর। আজ শনিবার ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর ২৭ রমজানের রাত শুরু অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরের রাত। কোরআন শরীফে আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘আমি কোরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি। কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সূরা কদর ১, ৩), ‘এই রাতে সব ব্যাপারে জ্ঞানগর্ভ ফয়সালা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।’ (সূরা দোখান ৪) অর্থাৎ কোরআন শরিফ নাজিলের সঙ্গে রাতটি সম্পর্কিত হওয়ায় কদরের এত মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য। রাব্বুল আলামিন মুসলিম উম্মার জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম করেছেন লাইলাতুল কদরকে এবং এই রাতে বান্দার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা দিয়ে থাকেন। আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন, ‘ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত ওই রাতটি পুরোপুরি শান্তিময়।’ (কদর ৫) অর্থাৎ পুরো রাতটি মুসলিম উম্মার জন্য কল্যাণকর। এ রাতের সুফল পুরোপুরিভাবে পেতে কোরআন শরিফের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করাই আসল কাজ। বুঝে বুঝে কোরআন পাঠ, কোরআনের মর্ম অনুধাবন, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং কোরআনের বিধান ও নির্দেশনা অনুসরণে জীবন যাপনই মুমিনের জীবনের সাফলতার চূড়ান্ত স্তর। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমান সহকারে সওয়াবের আশায় ইবাদত করে তার পূর্বের গুণাহসমূহ মাফ করা হয়। (বুখারী) মুমিন বান্দারা কদরের রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। এর ফজিলত লাভের আশায় অনেকেই ইতিকাফে বসেন। এই রাতে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-তাসবিহের সঙ্গে যেমন অতীত জীবনের পাপ মোচনের জন্য প্রভুর কাছে আকুল আবেদন জানাবেন, তেমনি তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে আল কোরআনের আলোকে আগামীর দিনগুলো অতিবাহিত করার। হে আরশের মালিক! পবিত্র রমজান পেয়েও আমরা এর পুরো ফজিলত হাসিল করতে পারিনি, যেভাবে ইবাদত-বন্দেগি করার দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি, কিন্তু এই পবিত্র রাতের উসিলায় রমজান মাসের পুরো ফজিলত দান কর, যেভাবে তুমি তোমার প্রিয় বান্দাদেরকে দান করেছ। আমাদেরকে জাহান্নামের আজাদ রক্ষা কর, আমাদের জন্য যা কল্যাণকর তা থেকে বঞ্চিত করো না, আমরা তো তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আমিন!  এএইচ/

যে কারণে মহিমান্বিত ‘লাইলাতুল কদর’

‘লাইলাতুল কদর’ মানে হচ্ছে, ‘কদর’-এর রাত’। আর ‘কদর’মানে হচ্ছে, মাহাত্ম ও সম্মান। অর্থাৎ মাহাত্মপূর্ণ রাত্রি ও ‘সম্মানিত রাত্রি’। এ রাতের বিরাট মাহাত্ম ও অপরিসীম মর্যাদার কারণে রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির মেয়াদ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাগণকে লিখে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মার জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম করেছেন লাইলাতুল কদরকে। এ রজনী এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই রজনীকে পাওয়ার জন্য মন ও দেহের প্রস্তুতির দরকার রয়েছে। রমজানের শেষ দশক লাইলাতুল কদর তালাশের। রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতের কথা বলেছেন। তাই শবেকদর পাওয়ার জন্য আমাদের সর্বচেষ্টা করা উচিত। মুমিন বান্দারা এই রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে তারা ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। প্রথম দুই দশকের চেয়েও শেষ দশকে ইবাদতে মশগুল থাকেন বেশি করে। লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি। কোরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা আল কাদর : ১-৫)। কদর নামকরণের কারণ: যেহেতু এ রজনী অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সম্মানিত তাই এ রজনীকে লাইলাতুল কদর বলা হয়ে থাকে। আবার এ রাত্রে যেহেতু পরবর্তী এক বৎসরের অবধারিত বিধিলিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় সে কারণেও এ রজনীকে কদরের রজনী বলা হয়। সূরা কদর অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি: ইবনে আবি হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সম্মুখে বনী ইসরাঈলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল যাবত ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি। রাসুলুল্লাহর (সা.) যবান মোবারক থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে রাসুলের (সা.) নিকট এমন সময় এই সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন। (তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন ও তাফসিরে মাজহারি)। লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব: কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সূরা অবতীর্ণ করেন। কেবল কোরআন নয় বরং হাদিসেও কদরের ফজিলত রয়েছে বলে প্রমাণ রয়েছে। কদরের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরায়ে কদরে এরশাদ করেন-নিশ্চয়ই আমি পবিত্র কোরআনুল কারীমকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। উক্ত রজনীতে ফেরেশতাগণ ও জিবরাঈল (আ.) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন এটা শান্তিময় রজনী যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা আল কদর : ১-৫)। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয় আমি তা (কোরআন) এক মোবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা আদ দুখান : ১-৪)। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (তাফসিরে মাজহারি)। মিশকাত শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারি, হাদিস নং : ৬৭২)। লাইলাতুল কদর কবে: লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনও তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের রাত। আসলে এ ধারণাটি সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনও বলেন নি যে, ২৭ রমজানের রাত কদরের রাত। তবে ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজন পর্যন্ত বেজোড় যে কোন রাতই শবে কদর হতে পারে। লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবী করীম (সা.) এরশাদ করেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতসমুহে তা খোঁজ করবে। (বুখারি, হাদিস নং :৭০৯)। রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর। (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬৯)। একদা হযরত উবায়দা (রা.) নবী করীম (সা.) কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো। (বুখারি, হাদিস নং: ২০১৭)। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কেউ লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায় তবে সে যেন তা রমজনের শেষ দশ রাত্রিতে খোঁজ করে। (মুসলিম, হাদিস নং : ৮২৩)। তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজানের রাতগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ইবনে মাজাহ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৭)। শবে কদরে কী করব: রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ‘লাইলাতুল কদর’ লাভ করার জন্য রমজানের শেষ দশরাত জাগ্রত থেকে ইবাদতে কাটিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীকেও সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেন, শবে কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে যাতে বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই যেন ক্ষ্যান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের ফজিলতের উপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ করে না বসে। তাই বান্দার উচিত শেষ দশকের কোন রাতকেই কম গুরুত্ব না দেয়া এবং পুরোটাই ইবাদাতের মাধ্যমে শবে কদর অন্বেষণ করা। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা.) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫১)। এনএম//আরকে

রমজানে বিভিন্ন ব্যথায় করণীয় (ভিডিও)

রমজান মাসে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন আসে। পরিবর্তনের এ ছোঁয়া খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে ইবাদত পর্যন্ত গড়ায়। সবাই চান ব্যথামুক্ত থেকে এ সময় ইবাদত করতে। তাই এ রমজান মাসে কিভাবে ব্যথামুক্ত ইবাদত করবেন? কিভাবে ব্যথা থেকে বাঁচবেন? এ সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে একুশে টিভির অন্যতম জনপ্রিয় ‘সিয়াম ও আপনার স্বাস্থ্য’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. শফিউল্লাহ প্রধান- বাত, ব্যথা ও প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ ও কনসালট্যান্ট ডি পি আর সি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। উপস্থাপনায় ছিলেন অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতি লেখক- মাহমুদুল হাসান। ডা. শফিউল্লাহ প্রধান বলেন, বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়। অনেকের ধারণা নামাজ পড়লে কোমর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এ সম্পর্কে ডা. শফিউল্লাহ প্রধান বলেন, এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। বরং নামাজ পড়ার কারণে কোমরের ব্যথা থেকে শুরু করে শরীরের নানা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মূলত যারা বসে বসে ডেস্কে কাজ করে। তাদের মধ্যে কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। অপরদিকে যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ের তাদের সাধারণত কোমর ব্যথা হয় না। কেননা এর মাধ্যমে শরীরের অঙ্গগুলোর প্রয়োজনীয় ব্যয়াম পেয়ে থাকে। ব্যথার বিভিন্ন ধরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের মাংসপেশির ব্যথা, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদণ্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। এর মধ্যে চলাফেরা, জীবিকার ধরণ, খুব বেশি ভার বা ওজন বহন, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য এ ব্যথা হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিও আথ্রাইটিস বা গিঁটে বাত, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার ক্যান্সার, বোন টিবি, মাংসপেশির সমস্যা, স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, এছাড়া অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি। ব্যথার উপসর্গ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়ার কারণে কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। এর মাধ্যমে সহজেই ব্যথা দূর করা সম্ভব। এ সময় অনেকেই বাতের ব্যথায় ভুগছেন। বাতের ব্যথায় হাঁটতে, বসতে, উঠতে অনেকেই কষ্ট পান। এক্ষেত্রে নিয়মিত নামাজ পড়া যেতে পারে। কেননা নিয়মিত নামাজের মাধ্যমে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে অতিরিক্ত ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ দিতে হবে। ভিডিও  https://www.youtube.com/watch?v=o-KAHmK73HI এমএইচ/আরকে

আজ জুমাতুল বিদা

আজ রমজানের শেষ জুমা। অর্থাৎ জুমাতুল বিদা। জুমাতুল বিদা মনে করাচ্ছে রমজান শেষ হয়ে যাচ্ছে। হৃদয়ে রমজান বিদায়ের সুর বেজে ওঠছে। শান-শওকতে পরিপূর্ণ রমজান আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মসজিদে মসজিদে রমজানের শেষ জুমাটি বিশেষ গুরুত্বসহকারে পালিত হয়ে থাকে। সকাল থেকে মুসল্লিরা আগে আগে মসজিদে যাবেন। জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় যত ভুলত্রুটি হয়েছে তার জন্য ক্ষমা যাবেন, আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের কামনায় চোখের পানি ঝরাবেন। দোজখের আগুন থেকে বাঁচার আকুতি জানাবেন। জীবনের পথ যেন কল্যাণময় হয় তার জন্য হাত তুলবেন। রমজানের শেষ জুমাটি কুদস দিবস হিসেবেও মুসলিম উম্মার কাছে পরিচিত। মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখল মুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন এটি। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে আছে। ইমাম খোমেনির আহ্বানে ১৯৭৯ সালে ইরানে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। এএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি