ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:২৬:৩৮, রবিবার

স্মৃতি ইরানির প্রচার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা

স্মৃতি ইরানির প্রচার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট প্রচারে স্মৃতি ইরানির পাশে থাকা বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার তাকে হত্যা করা হয়। অনেকে মনে করছে তিনি রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন। যদিও পুলিশ এখনই কিছু মন্তব্য করেনি। অমেঠির বারাউলিয়া গ্রামের প্রধান ছিলেন সুরেন্দ্র। শনিবার রাতে তার উপর অতর্কিতে হামলা করা হয়। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ৫০ বছরের সুরেন্দ্র৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লখনউয়ের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায় সে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দয়া রাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। আসল দুষ্কৃতীকারীদের খোঁজে তৎপরতা চলছে। ভোট প্রচারের সময় আমেঠির বারাউলিয়া গ্রামে স্মৃতি গরিবদের জুতো বিলি করে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, জুতো বিলি করে তিনি আমেঠি ও রাহুল গান্ধীকে অপমান করেছেন৷ কড়া জবাব দেন স্মৃতিও। স্থানীয়দের দাবি, বারাউলিয়া গ্রামে জুতো বিলির দায়িত্বে ছিলেন সুরেন্দ্র৷ তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭ এমএইচ/
এনডিএ জোটের নেতা হলেন মোদী

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে এনডিএ জোটের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজেপি ও এনডিএ শরিকদের দিল্লিতে ডাকা হয়েছিল। সংসদে সেন্ট্রাল হলে এদিন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোদীকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। মোদীর পাশে উপস্থিত ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলী মনোহর যোশী ও অমিত শাহ। এবারই প্রথম লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়নি আদবানীকে। তার কেন্দ্র গান্ধীনগর থেকে লড়েছেন অমিত শাহ। বয়সের কারণেই আদবাণীকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। আর বর্ষীয়ান নেতাকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে বলে সরব হন বিরোধীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ফোনও করেছিলেন আদবানীকে। যদিও জয়ের পর প্রথমেই বর্ষীয়ান এই দুই নেতার সঙ্গে দেখা করে তাদের আশীর্বাদ চেয়ে নেন মোদী ও অমিত শাহ। এদিনই রাত আটটা নাগাদ নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন। নরেন্দ্র মোদীকে নেতা বেছে নিয়েছেন এনডিএ শরিকরা। এদিন বিজেপি নেতারা ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান প্রকাশ সিং বাদল। তিনি নরেন্দ্র মোদীর নাম নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাবে সম্মত হন জনতা দল ইউনাইটেডের নেতা নীতীশ কুমার ও শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নিজের ভাষণে বলেন, আমি জোটসঙ্গী সকলকে এবং বিজয়ী সাংসদদের নরেন্দ্র মোদীকে এনডিএ-র নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাছার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ৩৫৩ জন সাংসদ সর্বসম্মতভাবে এদিন মোদীকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এবার তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে সরকার গঠনে আর্জি জানাবেন। শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ থেকে নরেন্দ্র মোদী ইস্তফা দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। এবং সম্মত হন। এবার তিনি সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন এবং সেই মতো রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে আগামী ৩০মে প্রধানমন্ত্রী পদে দ্বিতীয়বারের জন্য শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭ এমএইচ/

আমি মুসলিম তোষণ করি, ইফতারে যাব: মমতা

মুসলমান তোষণের অভিযোগকে পালটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘‘যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া উচিত।’’ রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল মমতাকে হতাশ করেছে। ২২টি আসনের থেমে গিয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে আসন সংখ্যা ২ থেকে ১৮টি তে বাড়িয়ে নিয়েছে বিজেপি। একাধিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দাবি করেছেন, বিজেপির এই সাফল্য বা তৃণমূলের পতনের অন্যতম কারণ মেরুকরণের রাজনীতি। এই পর্যায়ের ধর্মীয় মেরুকরণ বঙ্গ রাজনীতিতে আগে দেখা যায়নি৷ ভোটের ফলাফলেও যা স্পষ্ট। ফলাফল প্রকাশের পাক্কা দু’দিন পর সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা নিজের মন্তব্যের মাধ্যমেই তোষণের রাজনীতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি কিন্তু ইফতারে যাচ্ছি। আপনারাও আসবেন। আমি তো মুসলমানদের তোষণ করি। ১০০ বার যাব। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া উচিত।’’ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যে ৩৩টি সভা করেছেন। প্রতিটি সভাতেই তারা মমতার সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে সরব হয়েছেন। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীরাই যে মমতার ভোটব্যাংক তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মোদী-শাহ। অন্যদিকে সিপিএমও বারবার প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে মমতার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে গিয়েছে। যুতসই জবাব দিতে মমতা শনিবার বিকালের সাংবাদিক সম্মেলনকেই বেছে নিয়েছেন। সাফ জানিয়েছেন, ‘‘আমার মা বলেছিলেন মমতা যেন মমতাই থাকে। মনে রাখবেন, মমতা মমতাই থাকবে। নিজেকে কোনওদিন বদলাবে না।’’ রাজ্যের ১২টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত লোকসভার ৯টিতে ভালো ফল করেছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের দিকেই যে আগামী নির্বাচনে তাকিয়ে থাকবেন মমতা তা শনিবার আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তিনি দলের দিকে নজর দিতে চান, এদিন তা জানিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন দলকে বেশি সময় দিতে চান। তথ্যসূত্র: কলকাতা ২৪×৭ এমএইচ/

নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে : মমতা

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসময় তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বলেন, ভোটে বিজেপি যা টাকা খরচ করেছে, তা যেকোনও কেলেঙ্কারিকে হার মানাবে। তিনি আরও বলেন, টাকা ঢোকানোর জন্যই বারবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদল করেছে, প্রশাসন কমিশন সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, কমিশন কিছুই বলেনি। আমাদের কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন পদক্ষেপ নেয়নি। এসময় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগও তোলেন। ২২টি আসনে জিতেছে তার দল তৃণমূল। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে ভোট জয়ের চেষ্টা করেছে বিজেপি। আর গোটা বিষয়টিতে সাহায্য করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য একটু বেশিই কাজ করে ফেলেছি। এত কাজ করা হয়তো উচিৎ হয়নি। এবার দলের জন্য বেশি সময় দেব।’ তিনি আক্ষেপের সুরে আরও বলেন, মানুষ দুটাকা কিলো চাল পেয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী সবই পেয়েছে। তারপরেও কেউ খুশি নয়।  ইস্তেহারের সব কাজই সারা হয়ে গিয়েছে। ওরা (বিজেপি) তো কিছুই করেনি। তাই এবার না হয় দলীয় কাজেই বেশি মন দেব। সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দলের প্রত্যেকের কাছে পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। কিন্তু ওরা সবাই আমায় চায়। আমার চেয়ারের প্রয়োজন নেই। তবে একটা শর্তেই আমি কাজ চালিয়ে যাব। যদি সবাই একক শক্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে।” আগামী ৩১ মে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি ফের বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।   এনএম/এসএইচ/

বাংলায় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কারা এগিয়ে?

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। তাই নতুন সরকার গঠন করা নিয়ে ব্যস্ত এখন বিজেপি। এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ইতোমধ্যে চলছে না আলোচনা-সমালোচনা। টানা দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। আর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রিত্ব নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূলের ঘাটি হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে এবার খুব ভালো করেছে বিজেপি। আর এই রাজ্যে এবার বিজেপি থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারে। এই রাজ্যে কে কে মন্ত্রিত্ব পাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। এ মাসের শেষে শপথ নেবে মোদি মন্ত্রিসভা। কারা থাকছেন স্বরাষ্ট্র-অর্থ-প্রতিরক্ষা-বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। বিজেপির কেউ, না শরিক দলের? জল্পনায় উত্তাল বিজেপির অন্দরমহল। গুজগুজ, ফিসফাস, কানাকানি ছেঁকে যে নামগুলি উঠে আসছে তার মধ্যে বিগ ফোরে নুতন মুখ আসারই সম্ভাবনা। যেমন অমিত শাহ। বিজেপি সভাপতি এত দিন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য থাকলেও এ বার পেতে পারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়। বিজেপির একাংশের মতে, অমিত শাহ হতে চলেছেন আগামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংহ যাবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু বিজেপিরই অন্য অংশের মতে, অমিত শাহ দলের সভাপতি। গোটা দল চলে তাঁর নির্দেশে। সুতরাং সেই ক্ষমতা ছেড়ে তিনি কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে ফাইল নাড়াচাড়া করে সময় কাটাবেন, এমন ভাবা যুক্তিহীন। যেখানে দলের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি দ্বিতীয় বার দলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে থাকতে পারেন ২০২৪, অর্থাৎ আগামী লোকসভা পর্যন্ত। তাই সরকার না দল— অমিত শাহ কী বেছে নেন, তাই দেখার। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত সুষমা স্বরাজের। এ বারের নির্বাচনে লড়েননি তিনি। যদিও তাঁকে রাজ্যসভা থেকে জিতিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে অরুণ জেটলিকে নিয়ে। শারীরিক অসুস্থতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’সপ্তাহের বেশি তিনি ঘর থেকে বেরোননি। আজ সচিবদের সঙ্গে বাড়িতে বৈঠক করলেও পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তার থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জেটলির অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পীযূষ গয়ালের নাম সে ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছে। যদিও দলের একাংশ সংস্কারমুখী নিতিন গডকড়ীকে অর্থমন্ত্রী দেখতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে বিগ ফোরে অন্তর্ভুক্ত হবেন কোনও নতুন মুখ। অমেঠীতে রাহুল গান্ধীকে হারানো স্মৃতি ইরানি যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে চলেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত অনেকেই। সূত্রের মতে, গ্রামোন্নয়ন বা নগরোন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। অতীতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে স্মৃতি মিডিয়ার উপর নজরদারি চালিয়ে অযথা বিতর্ক বাধানোয় তাঁকে ওই পদে না বসানোর পক্ষেই বিজেপির একাংশ। পদোন্নতি হতে পারে মুখতার আব্বাস নকভির। তাঁকে তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে পারেন মোদি। আর এবার একাধিক মন্ত্রীর দাবিদার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে আশাতীত ভালো ফল করেছে বিজেপি। একে ১৮টি আসন, তায় দু’বছর বাদেই বিধানসভা ভোট। সুতরাং অন্তত দুটি পূর্ণমন্ত্রী ও একাধিক প্রতিমন্ত্রীর দাবি রয়েছে রাজ্যের। পূর্ণমন্ত্রীর দৌড়ে আছেন আগের মন্ত্রিসভার দুই জয়ী প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় এবং এস এস অহলুওয়ালিয়া। তবে সূত্র বলছে, দুজনের মধ্যে অন্তত একজনের মন্ত্রিত্ব যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য ক্যাবিনেট মন্ত্রী হতে পারেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু বিধানসভার আগে রাজ্য ছেড়ে দিল্লিতে মন্ত্রিত্ব সামলানো তার পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সদ্য সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার এবং সুভাষ সরকারের মধ্যে একজনকে প্রতিমন্ত্রী করা নিয়ে ভাবনা চলছে। তালিকায় নাম রয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে হারানো অর্জুন সিংহ এবং দুবারের সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁর। দৌড়ে সামান্য হলেও এগিয়ে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ভাবা হচ্ছে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম। আজ বিকেলে সাউথ ব্লকে বিদায়ী সরকারের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে জয়ের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র দিয়ে আসেন। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার। এসএইচ/

ইরানের হুমকি মোকাবেলায় অস্ত্র বিক্রি:ট্রাম্প

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদিতে ইরানের হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরানের হামলা ঠেকাতে সৌদির কাছে শত শত ডলারের অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। অস্ত্র বিক্রির কারণ হিসেবে ট্রাম্প সৌদি আরবের প্রতি ইরানের হুমকিকেই সামনে আনছেন। তবে, এ অস্ত্র বিক্রি করেছেন তিনি কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে। এজন্যে তিনি এমন একটি আইনের আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন যেটি সচরাচর ব্যবহার করা হয় না। তবে, সৌদির কাছে এ অস্ত্র বিক্রিকে কেন্দ্র কের বেশ সমালোচনার ‍মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। দল ও দলের বাহিরে তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। যদিও ট্রাম্প বলছেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে সেটা জাতীয়ভাবে জরুরী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, তার কথায় মন গলেনি নিজ দল ও বিরোধী শিবিরে। প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের অনেক নেতা কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, প্রস্তাবটি ক্যাপিটল হিলে উত্থাপন করা হলে এর বিরোধিতা করা হতো। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডনের কাছে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদির ভূমিকা এবং গত বছরের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কংগ্রেসের সদস্যরা আরব দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছেন। এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও শুক্রবারই কংগ্রেসকে অবহিত করেছেন। এক চিঠিতে তিনি বলেছেন,"ইরানের শত্রুতামূলক তৎপরতার কারণে অনতিবিলম্বে অস্ত্র বিক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" "ইরানের নানা তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুমকি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ব্যাপারেও। তিনি আরও বলেছেন, ইরান যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে `দুঃসাহসিক` কোন তৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য যতো দ্রুত সম্ভব এসব অস্ত্র বিক্রি করতে হবে। এমন খবর প্রকাশে তীব্র সমালোচনা ‍মুখে পড়েন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট দলের সেনেটর রবার্ট মেনেন্দেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প `কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোকে সুবিধা` দিচ্ছেন। "আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে তিনি আবারও ব্যর্থ হয়েছেন। মানবাধিকার রক্ষায় তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন। রিপাবলিকান সেনেটর জিম রিশ বলছেন, এমন একটি খবরের কথা ট্রাম্প প্রশাসন থেকেও তাকে জানানো হয়েছে। তিনি এখন এর আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই করে দেখছেন। এদিকে, সৌদির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির খবর শুনে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক শান্তির জন্যে এটা এক বিপদজনক সিদ্ধান্ত। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার পরপরই সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে আরো যুদ্ধবিমান ও ড্রোন মোতায়েন করবে। পাঠাবে আরো দেড় হাজারের মতো মার্কিন সৈন্য। (সূত্র: বিবিসি)  আই/কেআই

রাহুলের পদত্যাগ নাটক

ভারতে ১৭ তম লোকসভা নির্বাচনে বিরাট জয়ে যখন উল্লসিত মোদীর ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ঠিক তখন নির্বাচনে ভরাডুবিতে মান-অভিমান ও ভাঙনের সুর ভারতের সবচেয়ে ইতিহাস সমৃদ্ধি দল কংগ্রেসে। সাতদফা ভোটগ্রহণের পর  বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। যেখানে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে নয়া উত্থান ঘটে মোদী ও তার দল বিজেপির। আর গত বছরের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও, ভরাডুবি থেকে রেহাই মেলেনি রাহুল গান্ধী ও তার দলের। এমনিক নিজ আসনেও জিততে পারেননি রাহুল।  নির্বাচনে এতো বাজেভাবে হারায় রাহুল ও দলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক মহলে। মোদীর যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটা ব্যর্থ রাহুলের। তাই গুঞ্জন ওঠে পদত্যাগের। এমনকি ভারতীয় অনেক সংবাদমাধ্যম রাহুলের পদত্যাগের খবর প্রচার করে। সত্যিই কি রাহুল পদত্যাগ করছেন? ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের অনেক সংবাদমাধ্যমে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মোদীর নতুন রাজ্যভিষেক নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়ার কথা, তারচেয়ে  আলোচনার শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির প্রধানের পদত্যাগ নাটক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, কংগ্রেসের এমন লজ্জাজনক হারে নিজেকে দায়ী করেই কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন রাহুল। হ্যা ঘটনা অনেকটা সত্যই। তবে, তা আর চূড়ান্ত রুপ নিতে দেননি কংগ্রেসের প্রবীন নেতারা।  নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ ও দলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে শনিবার দিল্লীতে আলোচনা সভার আয়োজন করে কংগ্রেস। যেখানে ওয়ার্কিং কমিটিতে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু কমিটির সকলেই একযোগে রাহুলের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। রাহুলের বিপরীতে এমন অবস্থায় সভাপতির হাল ধরার মতো যে কেউ নেই, সে ইঙ্গিতও দেন তারা। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, “রাহুল ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তা সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়।” বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা, মনমোহন সিংহসহ দলের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দলের ভরাডুবির জন্য নিজের দায় স্বীকার করে নিয়ে বৈঠকে সকলের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাহুল। তবে সেই ইচ্ছাকে সরাসরি খারিজ করে দেন দলের সামনের সারির নেতারা। রাহুলের ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ নিয়ে খবর আসা শুরু করতেই কংগ্রেসের তরফে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। রাহুল কি কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবেন, না কি ওই পদেই থাকবেন, লোকসভার ফল বেরনোর পর থেকেই এ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। সেই জল্পনার পারদ আরও চড়ে শনিবার। গোটা রাজনৈতিক মহলে এ দিন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় ছিল রাহুলের পদত্যাগের বিষয়টি। কিন্তু সেই জল্পনায় দাঁড়ি টানে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। কোলকাতা ২৪ এর খবরে বলা হয়, বৈঠকে লোকসভা নির্বাচনে দেশ জুড়ে দলের ভরাডুবির বিষয়টি নিয়ে নিয়ে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ চলে।  কেন এমন ফল হল, কোথায় কোথায় ত্রুটি ছিল এসব নিয়ে আলোচনা।   ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪টি আসন। গত বারের তুলনায় এবার টেনেটুনে আরও ৮টি আসন বাড়াতে পেরেছে তারা। মোদীকে ঠেকাতে দেশ জুড়ে যে মোদী বিরোধী ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন রাহুল, সেই প্রচেষ্টা থমকে গিয়েছে মোদী-শাহের কৌশলে। আগের বারের তুলনায় আরও ২১টি আসন বাড়িয়ে বিপুল জয় নিয়ে এসেছে বিজেপি। মোদী ম্যাজিকের কাছে পুরোপুরি ফ্লপ রাহুলের ‘চৈকিদার চোর হ্যায়’। ভোটের ফল দেখার পরই দলের বিপর্যয়ের দায় নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন রাহুল। এরপরই কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ছিলেন রাহুল গান্ধী। তাকে প্রশ্নও করা হয়েছিল, তা হলে কি এবার সভাপতির পদ ছাড়তে চলেছেন রাহুল? এ প্রসঙ্গে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “ওয়ার্কিং কমিটি ও আমার উপর বিষয়টা ছেড়ে দেওয়াই ভাল।” রাহুলের এই উত্তরে জল্পনা বেড়েছে বই কমেনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে এমনও খবর ছড়িয়েছে, এই ‘সিদ্ধান্ত’ থেকে তাকে বিরত রাখতে নাকি দলের নবীন নেতারা রাহুলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাহুল ইস্তফা দেবেন কি না সেটা যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দলের কাছে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ এবারের ভোটে বিপর্যয়ের কারণ খোঁজার বিষয়টা। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলসহ ১৭টি রাজ্যে পুরোপুরি ধরাশায়ী কংগ্রেস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল যে ছত্রিশগড়, রাজস্থান এবং মধ্য প্রদেশে বিধানসভার জয় কংগ্রেসকে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল, সেই তিন রাজ্যেই মোদী ঝড়ে উড়ে গিয়েছে রাহুলের ক্যারিশমা। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যে উত্তরপ্রদেশে ভোট ধরে রাখতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ময়দানে নামিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন রাহুল, সেখানেও সফল হননি রাহুল। এদিকে, রাহুলের পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠার সাথে উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, কর্নাটক— এই তিন রাজ্যের দলীয় প্রধান ইস্তফাপত্র শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বলা জানানো হয়েছে। দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত রাহুল নতুন নাটকের জন্ম দেন কিনা। (সূত্র: আনন্দবাজার ও কোলকাতা-২৪) আই/কেআই

ফ্রান্সে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১৩

ফ্রান্সের লিয়ন শহরে দুর্বৃত্তের পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে অন্তোত ১৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে এমন খবর জানানো হয়েছে। পুলিশের বলছে, ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম লিয়ন শহরে রিউ ভিক্টর হুগো এবং রিউ সালা এলাকার কাছাকাছি স্থানে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনাকে হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট  ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় ব্রায়োসি ডোরে বেকারি এলাকায় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বিবিসি-র খবরে বলা হয়েছে, এটি ছিল মূলত একটি পার্সেল বোমা। এদিকে, বিস্ফোরণের পর পরই হামলাকারীকে খুঁজে বের করতে সিসি ফুটেজ দেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছে প্রশাসন। সিসি ক্যামেরা দেখে কালো সোয়েটার, হুড ও চশমা পরা সন্দেহভাজন ৩০ বছরের এক বাইসাইকেল চালককে খুঁজছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির ব্যাপারে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পার্সেল বোমাটি পুঁতে রেখেছিল। এদিকে, এমন হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফে কাসটানে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ যেসব আয়োজনে লোকজনের সংখ্যা বেশি হয়, সেকল অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিস্ফোরণকে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে আহত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সূত্র: বিবিসি, এনবিসি নিউজ। আই//

ভারতে জেএমবি নিষিদ্ধ

উগ্র ইসলামপন্থী দল জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবিকে সন্ত্রাসী দল আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি এমন তথ্য জানিয়েছে।  বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ২০০৭ সালে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ একাধিক নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে বার্তা  সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসবাদের দিকে উস্কে দেয়া এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিয়োগ করার কাজে জড়িত বলেও উদ্বৃতিতে বলা হয়। এতে বলা হয়, এসব কারণে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ অথবা জামাতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া বা জামাতুল মুজাহিদীন হিন্দুস্তান নামের সব রকম সংগঠনকে বেআইনি কার্যক্রম (প্রতিরোধ) আইন ১৯৬৭-তে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে জঙ্গি হামলার সাথে সম্পৃক্ত করেছিল বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে উল্লেখ করেছে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে `জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ বা জেএমজেবি`র জন্ম হয়। কিন্তু প্রথম কয়েক বছর এ সংগঠন সম্পর্কে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না । কিন্তু সময়ে সাথে সাথে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। ২০০১ সালের পর দ্রুত এর প্রসার ঘটে।  ২০০৪ সালের দিকে সংগঠনটির নাম বদলে হয় জামা`তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি। পরের বছরই সারা বাংলাদেশে একযোগ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রথম সবার নজর কাড়ে সন্ত্রাসী সংগঠনটি। বেকায়দায় পড়েছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ২০০৫ সালের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মুখে জেএমবি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দু’বছর পর ২০০৭ সালে সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম এবং শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসি হয়। তবে এর আরেক নেতা সালাহউদ্দিন এখনো পলাতক। বাংলাদেশে যে সকল জঙ্গি হামলা হয় সেগুলোর ইসলামিক স্টেটের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারটি অস্বীকার করে থাকেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। তারা বলেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং এগুলো স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনেরই কাজ। কিন্তু ইসলামিক স্টেটের সাথে জেএমবির এক ধরনের সম্পর্কের একটা ধারণা পাওয়া যায় আইএস`র মুখপত্র `দাবিক`-এর প্রকাশিত কিছু নিবন্ধ থেকে। এতে স্পষ্টই বলা হয়, জেএমবিকে বাংলাদেশে তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠন বলেই মনে করে আইএস। দাবিকের দ্বাদশ সংখ্যায় এক নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে একমাত্র জামা`তুল মুজাহিদীনই `যথার্থ জিহাদি সংগঠন`। সূত্র: বিবিসি আই//

বৈঠকে নাকচ রাহুলের ইস্তফা

ভারতের লোকসভা ভোটে ধরাশায়ী কংগ্রেস৷ দলের ভরাডুবির ভার নিজের কাঁধে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাহুল গান্ধী৷ তবে, তা নাকচ করে দেন দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা৷ বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ হয়েছে লোকসভা ভোটের৷ সেখানেই স্পষ্ট দেশের মানুষ মোদী বিরোধীদের উপর আস্থা রাখেননি৷ কংগ্রেসের আসন বাড়লেও গেরুয়া শিবিরের জয়ের পাশে তা ম্লান৷ এই অবস্থায় দলের হারের কারণ নিয়ে নয়াদিল্লিতে চলছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক৷ বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন- সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাজ্যসভার দলনেতা গুলাম নবি আজাদ, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং, শিলা দিক্ষিতরা৷ ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন রাজীব-সোনিয়া তনয়৷ তবে দলীয় বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে চর্চা হোক তা চায়নি কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ জানা যায় এদিন সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার প্রস্তাব দেন রাহুল গান্ধী। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করে দেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা৷ তাকেই দায়িত্বে থাকার পরামর্শ দেন তারা৷ সূত্র: কলকাতা২৪

যে ১০ কারণে দিল্লির মসনদে মোদী

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন (২০১৯)ভারতের রাজনীতির জন্য এক অনন্য উপলব্ধির নির্বাচন।  এযাবৎ কালের রাজনীতির গতানুগতিক ধারায় এই নির্বাচনের ফলাফলকে দেখতে চাইলে এই ফলাফলের যথার্থ কারণ অনুধাবন করা সম্ভব হবে না। কেননা রাজনীতিকে দেখার আমাদের যুক্তি আসলে কংগ্রেস নির্ধারিত যুক্তি, উত্তর ভারতকে বিশ্লেষণ করার যুক্তি মণ্ডলায়িত যুক্তি, দক্ষিণ ভারতকে দেখা দ্রাবিড় রাজনীতি ও ভাষা বিচ্ছিন্নতার যুক্তি, পূর্ব ভারতকে দেখা দেশের মধ্যে অন্য দেশ এবং বামপন্থী বৌদ্ধিক অনুশীলনের যুক্তি। এই সব নির্দিষ্ট ন্যারেটিভের ফাঁদে পড়ে দেশটা আর দেশ থাকে না-আলাদা আলাদা বেশ কয়েকটা দেশে পরিণত হয়। কংগ্রেস রাজনীতির আঞ্চলিক মনসবদারিতার মৌল সূত্র এই ব্যাখ্যায় দাঁড়িয়ে আছে, তারা বিভিন্ন স্থানীয় মনসবদারদের নেতা রূপে স্বীকৃতি দিয়ে একটি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা তৈরি করেছিল যার ভাঙ্গন ধরলেও বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। লক্ষ্যনীয় বিষয় ঠিক এইখানেই পরিবর্তন এসেছে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের বিজেপি রাজনীতির এই প্রচলিত ন্যারেটিভটি পাল্টে দিয়েছেন। দলীয় ভাবে বিজেপি পরিচালনার পূর্ববর্তী সঙ্ঘ নিয়ন্ত্রিত ভাবটি তো কমেছেই সেই সাথে রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু শিফট অর্থাৎ বদল হয়েছে। জাতিয়তাবাদ, সেনার শৌর্য, সাংস্কৃতিক হিন্দুত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সংখ্যালঘু তোষণের বিরোধিতা এবং দায়িত্বশীল একক নেতৃত্ব ইত্যাদি এই লোকসভা নির্বাচনের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অথচ আপনার মনে থাকবে বিগত সাধারণ নির্বাচনে ইস্যু ছিল দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, কর্মহীনতা, দেশের বিকাশ হার স্লথ হয়ে যাওয়া, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং রাজধানী সহ দেশে নারী নিরাপত্তা। কিন্তু এই ইস্যু ও ননইস্যুদের ইস্যু হয়ে ওঠার বিতর্কের বাইরে একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করছিনা তা হল প্রায় পাঁচ দশক পর দেশে একটি সম্পূর্ণ প্রো-ইনকামবেন্সি ভোট দেখা গেল। ইন্দিরা জমানার পর আবার একটি সরকার সম্পূর্ণ নিজের রাজনৈতিক যোগ্যতায় পুনরায় পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। বস্তুতঃ বিজেপি তথা মোদি-শাহ জুটি মানুষকে বোঝাতে পেরেছে দেশ একটি শক্তিশালী নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে যাকে দুহাত তুলে সমর্থন করা যায়। আপাতভাবে আমার মনে হয়েছে এই জনমত একটি ইতিবাচক সরকারপন্থী মত। স্বাভাবিক ভাবেই যেকোনো রাজনৈতিক ফলাফলের পিছনে একাধিক কারণ থাকে। উনিশের এই জনাদেশের পিছনেও সেই কারণসমূহ আছে, খুব সংক্ষেপে আমি দশটি কারণ চিহ্নিত করলাম- ১) সপ্তদশ লোকসভার জনাদেশ মূলতঃ একটি সরকারপন্থী বা প্রো-ইনকামবেন্সি রায়। এই রায়ে বিগত পাঁচ বছরে এই সরকারের নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচীর প্রতি স্পষ্ট সমর্থন ঘোষিত হয়েছে। নোটবন্দী, জিএসটি, উজ্জ্বলা জ্যোতি যোজনা, জনধন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারের সড়ক নির্মাণ, রেলের আধুনিকীকরণ প্রকল্প, সেনার ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন, দেশব্যাপী শৌচাগার প্রকল্প, আয়ুষ্মান ভারত, অটল পেনশন যোজনা, তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল, ডিজিট্যাল ইন্ডিয়া এবং সন্ত্রাসবাদের উপর তিনবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য – ইত্যাদি বিষয় মানুষের মনে যথেষ্ট দাগ কেটেছে। বিরোধীরা যতই এই প্রকল্পগুলিকে জুমলেবাজি বলে খারিজ করুক, নির্বাচনের ফল প্রমাণ দিচ্ছে মানুষের কাছে এই সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পগুলির লাভ এসে পৌঁছেছে। সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ও উত্তরপ্রদেশে মহাজোটের হাল প্রমাণ করে রাজনৈতিক সমীকরণের চেয়ে সরকারী প্রকল্প ও কর্মসূচীর জোর অনেক বেশী। ২) এই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদ অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছিল। আমি রাজনীতি ও নির্বাচনে জাতীয়তাবাদের ব্যবহারের সমালোচনার বিশেষ পক্ষে নই, কারণ জাতীয়তাবাদ এমন একটি বিষয় যা বিগত একশ বছর ধরে পৃথিবীর রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এসেছে। এই মুহুর্তে দিকে দিকে বৈশ্বিকীকরণের ফলে সঙ্কটে থাকা সভ্যতা ও সংস্কৃতিগুলি আবার জাতীয়তাবাদের দিকে পুনরায় হাঁটতে শুরু করেছে। এখানে মনে রাখার বিষয় যদিও ভারতে বিশ্বায়নের প্রতিক্রিয়ায় নয় তবুও ভারতের রাজনৈতিক সত্ত্বা ও ধর্মীয় পরিচিতির উপর একটা আঘাতের আশঙ্কা শাসক দলের তরফে বারবার প্রচার করা হয়েছে যা জনমানসে গ্রাহ্য হয়েছে। রাষ্ট্ররক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সাড়া পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তাকে মানুষের মনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া কঠিন ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার দল এই কাজে সফল। ৩) সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদী সরকারের সক্রিয়, আপসহীন মনোভাব জনগনের মনে একটা নিরাপত্তাবোধ এবং যুবসমাজের কাছে একটা ইতিবাচক, সক্রিয় সরকারের ভূমিকা তৈরি করতে সাহায্য করেছে। চিরকালীন গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই দেশে অযাচিত আঘাতের জবাবে পাল্টা মারের প্রয়োজনীয়তা মানুষ স্বীকার করে। মুম্বাই হামলার মতো বীভৎসও হামলা তথা সোজা কথায় চাপিয়ে দেওয়া সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের পরিণতিতে শান্তির কথা বলা যে জনমানসে গ্রহণীয় নয় তা বালাকোট বায়ুসেনা অভিযানের পর জনগনের বিপুল উল্লাস এবং সমর্থনের মাধ্যমে পরিষ্কার বোঝা যায়। ৪) আর্থিক বিকাশ ও সংস্কারের প্রশ্নে জনগন মোদী ক্যাবিনেটকে সম্ভবত আরও সময় দিতে চেয়েছে। আচ্ছে দিন, কালো টাকা ফেরানো এবং আর্থিক বিকাশের প্রশ্নে দেশ ইতিপূর্বেও মনমোহন সিং সরকারকে সময় দিয়েছিল। বস্তুতঃ আমরা যতই নোটবন্দীর ব্যর্থতার কথা বলিনা কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করেন সেদিন সরকার কালো টাকার উপর ব্যবস্থা নিতে আন্তরিক ছিল। আপনারা যারা সাধারণ মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেশেন তারা জানবেন আজও মানুষ সেই পর্বের স্মৃতি মনে রেখে নগদে অর্থ সঞ্চয় বা গচ্ছিত করা থেকে বিরত থাকেন। এছাড়াও জি এস টি ইত্যাদি সংস্কারের মাধ্যমে সাময়িক অসুবিধে হলেও ব্যবসা  করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সরলীকরণ হয়েছে। প্রাথমিক রিভার্স এফেক্ট চার রাজ্যের বিধানসভাতে দেখা গিয়েছিল কিন্তু জিএসটির মাধ্যমে বিপুল করফাকি ও মধ্যসত্ত্ব ভোগীদের ভূমিকা হ্রাস ছোট ব্যবসায়ীদের খুশি করেছে। লক্ষ্য করবেন ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে কম ফলে বড় ব্যবসায়ীদের করের নামে গোপন মুনাফা করার ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় তারা খুশি হয়েছিলেন। ৫) ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ার মতো প্রকল্প যুব সমাজকে আকর্ষণ করেছে। বিগত পাঁচ বছরে প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং পরিষেবা ব্যবহারে খরচ কমা তথ্য সংগ্রহ এবং যোগাযোগকে সহজ করে তুলেছে। স্বাভবিক ভাবেই এই লাভ শাসকদলের ঘরে উঠেছে। ৬) নরেন্দ্র মোদীর আমলে বিশ্বমঞ্চে ভারতের দরাদরির সামর্থ্য বেড়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সম্মান ও ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচারের কাজে দক্ষ প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের রাজনৈতিক ফসল আপন ঘরে তুলেছেন। ৭) এই লোকসভা নির্বাচনে মেরুকরণের রাজনীতি বিরাট জায়গা জুড়ে ছিল। সরকারী প্রকল্প রূপায়নে মানুষের হয়রানি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মোদী সরকারের ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলো সুলভ থাকা সত্ত্বেও বিরোধীরা তা নিয়ে প্রচারে ঢেউ তুলতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মরুকরণের সুক্ষ্ম আবেগে হাওয়া দিতে সফল হয়েছে মানতেই হবে। ৮) দৃঢ় ও স্থায়ী সরকার গঠনের প্রশ্নে বিজেপি বিরোধী দুই পক্ষকে দশ গোল দিয়েছে। যেখানে মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি তথা এনডিএ সরকার গড়ার স্পষ্ট দাবী দিয়ে হাজির সেখানে ইউপিএতে রাহুলে গান্ধীর দ্বিধান্বিত নেতৃত্ব এবং ইউনাইটেড ফ্রন্টে ১৪জন ক্ষমতালোভী প্রধানমন্ত্রীপদের দাবিদারের জটিল ঘোঁট- মানুষ স্পষ্ট ও স্থায়ী সরকারে আস্থা রাখা উচিত বলে মনে করেছে। ৯) বিজেপির প্রচার, বিজ্ঞাপন, নির্বাচনী কৌশল, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে আসন বাড়ানোর রাজনৈতিক ছক, বিরোধী নেতৃত্বের অপারগতা তুলে ধরা, কর্পোরেটের সমর্থন লাভ, মিডিয়াকে সঠিক ভাবে ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ার দুর্দান্ত প্রয়োগ, প্রচারে রাজনৈতিক ভিত্তিহীন নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে কংগ্রেসকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া। এছাড়াও ষোলটি রাজ্য সরকারে থাকার সুবিধে লাভ এবং সর্বোপরি অমিত শাহের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ক বিজেপিকে শুরু থেকেই লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছিল – এই অবস্থায় বিরোধীদের নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ব্যক্তি আক্রমণ ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’র মতো স্লোগান বুমেরাং হয়েছে। জনপ্রিয়তায় নরেন্দ্র মোদী এখনও দেশে বিপুলভাবে এগিয়ে এবং তার ভাবমূর্তিও স্বচ্ছ – তাঁকে ব্যক্তি আক্রমণ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জনতার কোর্ট সর্বত্র বিরোধীদের ব্যাক ফায়ার করেছে। ১০) বিগত সাত বছরে (২০১২ গুজরাট বিধানসভা থেকে) জনগনের মধ্যে জাতীয় নেতা রূপে একটি ব্যক্তির ভাবমূর্তি নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী অসম্ভব ভালো বক্তা, ম্যানেজমেন্ট গুরু, উপস্থাপনে পটু, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম, সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তিতে স্বচ্ছন্দ, জনগনের সাথে দূরত্ব রেখে যোগাযোগে পটু, ভাবমূর্তি সচেতন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক মিথ নির্মাণে পারদর্শী এবং উদ্ভাবনী রাজনেতা। তিনি তার বিরুদ্ধে থাকা ইস্যু, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দমনে সিদ্ধহস্ত। এহেন শাসক মোদী বিগত পাঁচ বছরে বিরোধীদের আশঙ্কা করা তথাকথিত গৈরিকিকরণের পথে হাঁটেননি। তিনি দল, সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মোদীকরণের পথে হেঁটেছেন। তাই ৭৮ সালের পর দেশে আরেকবার একটি ব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আকারে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সংঘটিত হল। অথ আগামী পাঁচ বছরে অনিবার্য ভাবেই প্রধানমন্ত্রীপদের আমরা রাষ্ট্রপতিকরণ দেখতে চলেছি। আপাতভাবে এই প্রবণতা বৃহত্তর অর্থে গনতন্ত্রের পথে বিপদ মনে হলেও ভারতবর্ষের মতো দেশে বহুদিন ধরে জমে থাকা কিছু জটিল ও গুপ্ত রোগ নিরাময়ের জন্য বেশ দরকারি। জনগন আশা রেখেছেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রিয় প্রধানমন্ত্রী এই রোগ নিরাময় করে দেশকে মুক্তি দেবেন। কিন্তু তিনি পারবেন কিনা সময় বলবে… আপাতত জনগণের রায়কে সম্মান করুন। সরকারকে সমর্থন ও সমালোচনা জারি রাখুন। (লিখেছেন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক- নন্দন সাহা) এমএইচ/

ভারতে গোরক্ষকদের তাণ্ডব, পেটানো হল ৩ মুসলিমকে

ভারতের লোকসভা ভোটের ফল বেরতে না বেরতেই ফের শুরু হয়ে গেল গোরক্ষকদের তাণ্ডব। গোপাচারের অভিযোগে এক মহিলা-সহ তিন মুসলিমকে গাছে বেঁধে পেটানো হল। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের  মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে। পুলিশ এক জনকে পরে গ্রেফতার করেছে। নিগ্রহকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মামলাও। নিগৃহীতরা জানিয়েছেন, তাদের শুধু গাছে বেঁধেই পেটানো হয়নি, বাধ্য করানো হয়েছে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি গরু নিয়ে অটো রিকশায় চেপে সিওনি দিয়ে যাচ্ছিলেন এক নারী-সহ তিন মুসলিম। কোনও ভাবে সেই খবর পৌঁছে যায় গোরক্ষকদের কানে। সঙ্গে সঙ্গে লাঠি, বাঁশ নিয়ে অটো রিকশাটিকে তাড়া করেন গোরক্ষকরা। ধরেও ফেলেন অটো রিকশার ওই তিন আরোহীকে। তার পর তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। তার পর এক এক করে ধৃতদের বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন গোরক্ষকরা। পরে তাদের মাটিতে ফেলেও প্রচণ্ড মারধর করা হয়। ধৃতদের দিয়েই বেধড়ক পেটানো হয় মহিলাকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তা দেখতে থাকেন পথচারীরা। তার পরেই ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করেন গোরক্ষকরা। ধৃত মুসলিমদেরও বাধ্য করানো হয় ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে। গোটা ঘটনাটির ভিডিও পরে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এআইএমআইএম দলের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি তার টুইটে লেখেন, ‘‘মোদীর ভোটাররা এই ভাবে মুসলিমদের উপর অত্যাচার আবার শুরু করে দিল। এটাই নতুন ভারতের ছবি।’’ তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি