ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:০১:৩০, রবিবার

অপরিপক্ক ৫০ মণ আম ধ্বংস

অপরিপক্ক ৫০ মণ আম ধ্বংস

রাজধানীর মিরপুর দিয়াবাড়ির আমের আড়তে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার কেজি (৫০ মণ) অপরিপক্ক আম জব্দের পর ধ্বংস করেছে র‌্যাব-৪ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঝড়ে পড়া এসব কাচা আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে তা বাজারে বিক্রি করছিল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এসব আমের উপরের অংশ পাকা দেখালেও ভেতর অপরিপক্ক ছিল। শুক্রবার এ অভিযানে ছয়টি আড়তকে ছয় লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে এই অভিযান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও কৃষি কর্মকর্তা নুর জাহান। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন বলেন, ফলের আড়তগুলো সরকার নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। এসব আম কেমিক্যাল ও কার্বাইড দিয়ে পাকানো ছিল। ল্যাংড়া আম জুনের ৬ তারিখে বাজারে আসার কথা। কিন্তু আজকেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যানানা ম্যাংগো, হিমসাগর এগুলো অনেক পরে আসার কথা থাকলেও এখনই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব আম কেটে দেখা যায় ভেতরের বিচি একেবারেই অপরিপক্ক। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। কেমিক্যাল ও বিষাক্ত কার্বাইড দিয়ে পাকানোর কারণে এগুলো কেউ খেলে প্রাণহানিও ঘটতে পারে। কাচা অপরিপক্ক আম তারা এখানে এনে পাকিয়েছে। এসব আম জব্দ করে বুলডোজার (রোড রোলার) দিয়ে গুটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে আকাশ বাণিজ্য ভাণ্ডারকে দুই লাখ টাকা, সরদার ট্রেডার্সকে দুই লাখ, ভাই ভাই ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, দেওয়ান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, জামাল এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা, মিরপুর শাহ আলী ফার্মকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আরকে//
ভারত আমাদের অনিষ্ট করবে না: আব্দুল মোমেন

ভারতের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বিপুল বিজয় পাবার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয় কিনা- তা নিয়ে বাংলাদেশের `চিন্তার কারণ` আছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতে গত পাঁচ বছর যাবত ক্ষমতাসীন বিজেপি বলে আসছে যে দেশটিতে বহু অবৈধ অভিবাসী রয়েছে - যারা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই। এই কারণ দেখিয়ে আসাম রাজ্যের মতো নাগরিক যাচাইয়ের একটি উদ্যোগ বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গেও নিতে চায় বিজেপি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। তবে এ বিষয়টিকে সরকার কিভাবে দেখছে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের জন্য অনিষ্টকর কোন কিছু ভারত করবে বলে তিনি মনে করেন না। নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময় আসাম রাজ্যে যে বিতর্কিত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে চল্লিশ লাখ মানুষ বাদ পড়েন এবং এদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী মুসলমান। আসামের মতো একটি নাগরিক তালিকা পশ্চিমবঙ্গেও করতে চায় বিজেপি। ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ দেশটির পার্লামেন্টে এমন কথাও বলেছেন যে, নাগরিক তালিকার বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশীদের মদদ দেওয়া। বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের রাজ্যগুলিতে এবারের নির্বাচনে বেশ ভালো ফলাফল করেছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় থাকার সময় গত পাঁচ বছর বিজেপির মুসলিমবিরোধী মনোভাব ছিল প্রবল। সেক্ষেত্রে তথাকথিত নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশী বিশ্লেষকরা। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, বন্ধুত্ব থাকলে কখনো বন্ধু অপর বন্ধুর অনিষ্ট করে না। ভারত সরকার আমাদের বন্ধু। আমাদের কোন অনিষ্ট করবে বলে মনে করিনা। নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের কাজটিকে ভারতের `অভ্যন্তরীণ বিষয়` বলে বর্ণনা করেন মোমেন। তার কথায়, বিষয়টি নিয়ে এখনও বাংলাদেশের চিন্তার কোন কারণ নেই বলে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখা যাক কী ইস্যু হয়, আমরা হাওয়ার মধ্যে কোন বক্তব্য দিতে চাইনা।...যদি কোন সিরিয়াস ইস্যু হয়, তখন আমরা এ নিয়ে আলাপ করবো। এবারের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের চারপাশের রাজ্যগুলোতে বিজেপির নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পরিষ্কার উত্থান দেখছেন বাংলাদেশী বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামানের মতে, ভারতে তথাকথিত নাগরিকত্ব বাছাইয়ের বিষয়টিকে শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবেনা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম অঞ্চলে একটা বড় ধরণের ধাক্কা আসছে। এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হতে পারে। দ্বিতীয় বারের মতো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন দেশটির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান মনে করেন, আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও যদি বিজেপি নাগরিকত্ব বাছাইয়ের পথে হাঁটে, তাহলে বাংলাদেশের চিন্তিত না হয়ে উপায় নেই। এ প্রসঙ্গে রওনক জাহান বলেন, তাদের নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মুসলমানদের উপরে কিংবা বাঙালিদের উপরে তারা যে ধরণের শ্লোগান ব্যবহার করছেন, এগুলো হলে আমাদের সাধারণ মানুষ তো খুব বিক্ষুব্ধ থাকবে। কিন্তু আমাদের সরকার তো কখনোই চাইবে না ভারতের সাথে সম্পর্ক বিরূপ হোক। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের সেন্টিমেন্টকে তো তাদের দেখতে হবে"-বলেন রওনক জাহান। সূত্রঃ বিবিসি কেআই//আরকে

জাতীয় কবির জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। (সূত্রঃ বাসস) কেআই/

স্ত্রীকে নকল দিতে গিয়ে কারাগারে এএসআই

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় স্ত্রীকে নকল দেওয়ার অভিযোগে পটুয়াখীতে পুলিশের এক এএসআইকে হাতেনাতে আটক করেছে দায়িত্বরাত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে শহরের রশিদ কিশলয় নিকেতনে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা এই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এএসআই মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী অংশ নেন। পরীক্ষা চলাকালে স্ত্রীকে নকল সরবরাহ করছিলেন তিনি। এ সময় ওই হলে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা বিষয়টি দেখে ফেলেন। পরে তার কাছ থেকে নকল উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তাকে ওই কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।   আই// এসএইচ/  

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী শনিবার

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল ১১ জ্যৈষ্ঠ (শনিবার)। তিনি বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রেম, সাম্য, আর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন আজীবন। তিনি প্রেম নিয়েছিলেন, প্রেম চেয়েছিলেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী কিন্তু তার প্রেমিক রুপটিও প্রবাদপ্রতিম। তাই মানুষটি অনায়াসেই বলতে পারেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়।’ পৃথিবীতে এমন কয় জন আছেন যিনি প্রেমের টানে রক্তের সম্পর্কে অস্বীকার করে পথে বেরিয়ে পড়তে পারেন? জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে নজরুল স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তি নিকেতন, ভারত এর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী এমপি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল। এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নজরুল-চেতনায় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। এছাড়াও কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর, মানিকগঞ্জের তেওতা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা এবং চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। বাংলা কবিতায় নজরুলের আবির্ভাব একেবারেই উল্কার মতো। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভুত হয়ে সমস্ত আকাশকে কিভাবে রাঙ্গীয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন তা নিয়ে এখনো গবেষণা হতে পারে। কোন সঞ্জীবনি মন্ত্রে তিনি উচ্চকন্ঠে বলতে পারেন ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’ অথবা মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না-’। সংগীত বিশিষ্টজনদের মতে রবীন্দ্রনাথ -পরবর্তি নজরুলের গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ। অধিকাংশ গান সুর প্রধান। বৈচিত্রপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায় । সুরের বিন্যাসের উপরে কথা ঢলে পড়ে। তার গানে বহু গায়ক সুর-স্বাধীনতা ভোগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে গায়ক সুরের ঢেউয়ে বেশি মেতে যান। তখন গান হয়ে যায় রাগপ্রধান। নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন।ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১২ই ভাদ্র ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নজরুল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। (সূত্রঃবাসস) কেআই/  

মোদি সরকারের কাছে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করতে পারে?

ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিতা অর্জন করলো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৫৪২টি আসনের মধ্যে এনডিএ জোট পেয়েছে ৩৫০টি, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে ৮৩টি এবং এনডিএ জোটের ২৯০টি আসন পেয়েছে বিজেপি। এ হিসেবে বিজেপি একাই সরকার গঠন করার মতো আসন পেয়ে গেলো। কারণ দেশটিতে সরকার গঠন করতে হলে ২৭২ আসনের প্রয়োজন। যাইহোক, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই দেশের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। ভারতে এ সময়ে প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কে কোনও হেরফের ঘটেনি। এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়, ভারতকে সড়কপথে ট্রানজিট দেওয়া, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সাধারণ মানুষের আসা যাওয়াও আগের চেয়ে বেড়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, এখন ভারতে নতুন সরকার গঠন হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাত্রায় তেমন পরিবর্তন আসবে না। বাংলাদেশকে এখন ভাবতে হবে কিভাবে সে সম্পর্কে আরও গতি আনা যায় ‘এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন হলো, তখন কংগ্রেস ক্ষমতায়, সে সময় যে বিষয়গুলো নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, বিজেপির আমলে তার ফলাফল দেখতে পেয়েছি আমরা।’ এখন বিজেপি পুনরায় সরকার গঠন করলে, দুই দেশের মধ্যে যে সব দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সহযোগিতা চলমান আছে, তার ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো, যেমন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো। গত মেয়াদে অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা বললেও মোদি সরকার ততটা অগ্রগতি করতে পারে নাই। ‘হয়ত এবারে নতুন দফায় সে দিকে অগ্রগতি হবে, সে আশা করা যায়। এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বলেন, আর বাণিজ্য বৃদ্ধি বলেন, আমাদের দেখতে হবে কিভাবে সেটা বাড়ানো যায়।’ গত এক দশকে নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের যে সব উদ্বেগের জায়গা ছিল, বাংলাদেশ সে সব ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছে, সেটা দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা বাড়িয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত কবির বলছেন, সে আস্থা আর সুসম্পর্ক থেকে উভয় দেশই লাভবান হচ্ছে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে দুই দেশকে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে কি শীঘ্রই হতে পারে? কিন্তু গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্কে অনেক অগ্রগতি হবার পরেও তিস্তাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বণ্টনসহ দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। দিল্লি সব সময় বলে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতেই মূলত তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। এবার নরেন্দ্র মোদি তার প্রথম দফার চেয়ে বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন, এবং পশ্চিমবঙ্গেও তার দল সাফল্যের দেখা পেয়েছে। তাহলে কী তিস্তা নিয়ে এবার আশাবাদী হতে পারে বাংলাদেশ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এখনি সে আশা করা হলে ভুল হবে। ‘মনে রাখতে হবে তিস্তা ইস্যু ভারতের জন্য একটা দরকষাকষির বিষয়। ফলে খুব শীঘ্রই এটা সমাধান হয়ে যাবে সে আশা করা ভুল হবে। এই তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আরেকটা রূপ দেখা যাবে কয়েক মাসের মধ্যেই। তখন বোঝা যাবে এ জন্য মমতা ব্যানার্জীর আপত্তিই একমাত্র কারণ কি না।’ তবে অধ্যাপক ইয়াসমিন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সম্পর্কে অগ্রগতির পেছনে সেইটি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। বাণিজ্য ঘাটতি কি পূরণ হবে অচিরেই? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশ বড়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর বাইরেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে, সম্পর্কে আস্থা ধরে রাখার জন্য যেগুলোতে মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা, বলছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। ‘ভারত বাংলাদেশকে যে লাইন অব ক্রেডিট দেয়, সেটা ছাড় করায় দীর্ঘসূত্রিতা থাকে, প্রকল্প পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। আবার এর শর্ত থাকে তাদের দেশ থেকে কাঁচামাল কিনতে হবে, সেটা অনেক সময় আমাদের জন্য সুবিধাজনক হয় না।’ ‘এর বাইরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতিও অনেক। এ সব বিষয় আগের মেয়াদে কোনও সমাধান আসেনি। এবার মোদি সরকার সে বিষয়ে নজর দেবে সেটাই হবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা।’ যদিও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে প্রবেশের অধিকার লাভ করেছে। কিন্তু নানা রকম অশুল্ক বাধার কারণে সে সুবিধা বাংলাদেশ পুরোপুরি নিতে পারছে না। ফলে সামনের দিনে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের দিকে যেতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। একে//

কাল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবুল খায়েরের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী

ফেনী জেলার পরশুরামের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব আবুল খায়ের মজুমদার এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী কাল শুক্রবার। এই উপলক্ষে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার উত্তর সলিয়া মরহুমের নিজবাড়ীতে বাদ আছর কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের উক্ত দোয়া মাহফিলে যোগদান করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মরহুম আবুল খায়ের মজুমদার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু এর পিতা। আরকে//

বিচারপতি ও কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি, কূটনীতিক এবং সরকারের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সম্মানে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ইফতারের আগে প্রধানমন্ত্রী ইফতার অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বিভিন্ন টেবিল ঘুরে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতের সব শহীদ, জাতীয় চার নেতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়া করা হয়। এ সময় দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী বিশ্বের সব দেশের সংগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছাও জানান শেখ হাসিনা। স্বাগত বক্তব্যে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা চান সরকার প্রধান। এ সময় আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসংগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ঈদের সময়কালে রাস্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে অবস্থান করবেন বলে দেশবাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী । আরকে//

নদী দখল-দুষণকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন -তথ্যমন্ত্রী

নদী দখল-দুষণকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর রাজধানীর জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ২৩ মে জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিতে নদী নিরাপত্তার সংগঠন নোঙর ও নদী রক্ষা জোট আয়োজিত নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। নোঙর সভাপতি সুমন শামস এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন সভাপতি আবু নাসের খান, রিভারাইন পিপল সভাপতি শেখ রোকন, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রেসিডেন্ট মো: মনির হোসেন, ক্লিন রিভার বাংলাদেশ সভাপতি রুহুল আমিন ও নদী গবেষক মিহির বিশ্বাস সভায় বক্তব্য রাখেন। দেশের নদ-নদীগুলোকে মানবদেহের শিরা উপশিরার সাথে তুলনা করে মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন,আমাদের দেহের শিরা যদি শুকিয়ে যায়, শরীর দিন দিন মৃত্যুর দিকে চলে যায়। দেশের নদীগুলোও ঠিক সেই রকম। আমাদের নদীগুলো যদি শুকিয়ে যায়,তাহলে একটি দেশ বিপন্ন হবে, একটি দেশের মানুষ বিপন্ন হবে, জনগণ বিপন্ন হবে, বিপন্ন হবে প্রকৃতি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিজেদের সুন্দরভাবে বাঁচার জন্যেই নদীগুলোকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখা আমাদের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নদীরক্ষার জন্য অনেক কাজ হয়েছে। নদী কমিশন গঠন হয়েছে,এটি আগে ছিল না। আমরা শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যান করেছি। আমরা এবার নতুন করে সরকার গঠনের পর অনেক নদী দখলমুক্ত করেছি। আপনারা দেখেছেন, বুড়িগঙ্গা ও কর্ণফুলীর তীরে বহু প্রভাবশালীর স্থাপনা উচ্ছেদ করা ও ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর ও অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করে ও সরকারি সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে আরো যত্নবান হবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. হাছান বলেন, নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণ শুধুমাত্র দখল দূষণ নয়, বন উজাড় হয়ে যাওয়াও এর একটি বড় কারণ। এক সময় বুড়িগঙ্গা নদীতে মানুষ গোসল করতো, এখন তা ভাবাও যায় না। প্রভাবশালী ও বিত্তশালী চক্রের লোলুপ দৃষ্টি থেকে নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দশ বছরের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও একজন পরিবেশকর্মীর অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি আপনাদের সাথে আছি, থাকবো। নদী দূষণ, দখলকারী ও প্রভাবশালীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ২০১৪ সালের ২৩ মে মেঘনাবক্ষে চারটি লঞ্চডুবিতে শতশত প্রাণহানির ঘটনা স্মরণে ২৩ মে জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিকারী নদীপুত্র হিসেবে পরিচিত নোঙর সভাপতি সুমন শামস বলেন, নদী আমাদের মায়ের মতোন। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় সকলের আন্তরিক ভূমিকাই পারে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে আমাদের বাঁচাতে। সভাশেষে নদীরক্ষা জোটের সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে নোঙর সম্মাননা ম্মারক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী। টিআর/

সুন্দরবনে এখন ১১৪টি বাঘ: বন বিভাগ

জাতিসংঘ আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ বিলুপ্ত হওয়ার সতর্ক বার্তা দিলেও বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। গত তিন বছরে বেড়েছে ৮টি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বাঘশুমারিতে ১০৬টি বাঘ থাকার কথা বলা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টি। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে জরিপ চালিয়ে বাঘের এ সংখ্যা পেয়েছে বন বিভাগ। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনার এই জরিপ চালানো হয়। এবারের জরিপের পুরুষ বাঘের চেয়ে স্ত্রী বাঘের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে। একে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার ‘সুন্দরবনের বাঘ জরিপের ফলাফল ঘোষণা ও সেকেন্ড ফেইজ : স্ট্যাটাস অব টাইগারস ইন বাংলাদেশ সুন্দরবন-২০১৮’ এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাঘ বিষয়ক বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাঘ গণনার কার্যক্রম শুরু করে বন বিভাগ। তখনকার হিসাবে বাঘের ঘনত্ব ছিল প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ২ দশমিক ১৭টি। মোট বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। সুন্দরবনের খুলনা, সাতক্ষীরা ও শরণখোলা রেঞ্জে এবারের জরিপটি শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর, যা ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪৯ দিন চলে। তিনটি রেঞ্জের তিনটি ব্লকের ১৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিশেষ ধরনের ক্যামেরা দিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বন বিভাগ এবার ৬৩টি পূর্ণবয়স্ক, চারটি তরুণ, পাঁচটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বাঘের ২৪৬৬টি ছবি পেয়েছে। এ ছবিগুলো যাচাই করেই বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউএসএআইডির অর্থায়নে বেঙ্গল টাইগার কনজারভেশন অ্যাক্টিভিটি (বাঘ) প্রকল্পের আওতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এসইসিআর মডেলে তথ্য বিশ্লেষণ করে সুন্দরবনের প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘের আপেক্ষিক ঘনত্ব পাওয়া গেছে ২.৫৫ + ০.৩২। সুন্দরবনের বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র চার হাজার ৪৬৪ কিলোমিটার এলাকাকে আপেক্ষিক ঘনত্ব দিয়ে গুণ করে বাঘের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে ১১৪টি। এবার জরিপে দেখা গেছে, বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের ঘনত্ব পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩ দশমিক ৩৩টি। খুলনা রেঞ্জে সবচেয়ে কম প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ দশমিক ২১টি বাঘ রয়েছে। প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির বলেন, বাঘের সংখ্যা বাড়লেও আশঙ্কাজনকভাবে সুন্দরবনের তিনটি রেঞ্জেই পুরুষ বাঘের সংখ্যা কমেছে। ৪৪টি বাঘিনীর বিপরীতে পুরুষ বাঘের সংখ্যা মাত্র ৯টি। এবার জরিপে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৬টি বাঘ, খুলনা রেঞ্জে ১টি, শরণখোলা রেঞ্জে ২টি পুরুষ বাঘ পেয়েছে বন বিভাগ। সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২২টি, খুলনা রেঞ্জে ৩টি, শরণখোলা রেঞ্জে ১৯টি বাঘিনী রয়েছে। পুরুষ ও নারী বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে জাহিদুল কবির বলেন, বিভিন্ন রেঞ্জে পুরুষ বাঘের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ার মানে হয়, তা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় হুমকি। বাঘের বংশবৃদ্ধিতে বড় প্রভাব রাখতে পারে এটা। আমাদের দ্রুত এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। সাতক্ষীরায় ৮টি ও শরণখোলায় ২টি বাঘের লিঙ্গ পরিচয় জানতে পারেনি বন বিভাগ। সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১২০৮ বর্গ কিলোমিটারে ৩৬টি বাঘ, খুলনা রেঞ্জে ১৬৫ বর্গ কিলোমিটারে ৪টি বাঘ, শরণখোলায় ২৮৩ বর্গ কিলোমিটারে ২৩টি বাঘের বিচরণ দেখতে পেয়েছে বন বিভাগ। ২০১৫ সালের জরিপে সাতক্ষীরায় ১৩টি, খুলনায় ৭টি, শরণখোলায় ১৮টি বাঘের দেখা পেয়েছিল বন বিভাগ। খুলনা অঞ্চলে বাঘ কমে যাওয়া কারণ হিসেবে ওই অঞ্চলে বাঘ শিকার বা আবাসভূমি উজার হওয়ার কথা উঠে এলে তা স্বীকার করে নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, যিনি সুন্দরবনের সংলগ্ন বাগেরহাট জেলার সংসদ সদস্য। সুন্দরবনে বাঘের খাবার চিত্রা হরিণ ও বুনো শুয়োরের সংখ্যা হ্রাসের দিকটি সামনে এনে জাহিদুল কবির বলেন, আমাদের এখন ভাবতে হবে, সুন্দরবনের কোন অঞ্চলে ঠিক কতটি বাঘ থাকা উচিৎ। এবারের জরিপে বন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে ওয়াইল্ড টিম, যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ সোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

কৃষকের বাড়ি গিয়ে ধান কিনলেন রাজশাহীর ডিসি

গ্রামে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিমূল্যে ধান কিনলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের। বুধবার দুপুরে জেলার পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার মধুসুদনপুর গ্রামে গিয়ে তিনি ধান কেনেন। পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ বলেন,কৃষকেরা সরকারিমূল্যে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। এমন খবরের ভিত্তিতে রাজশাহীর ডিসি যেকোনো উপায়ে ধান কেনাবেচায় কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে ডিসি এসএম আব্দুল কাদের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হোসেন ভুইয়াকে সঙ্গে নিয়ে নওহাটা পৌরসভার মধুসুদনপুর গ্রামে যান। সেখানে তিনজন কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে আড়াই মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। মজিবর রহমান নামের এক কৃষক বলেন, ডিসি উপস্থিত থেকে ধান কেনার কথা শুনে তিনি ১৫ মন ধান বিক্রি করেছেন। সরকার নির্ধারিতমূল্যে তিনি ধানের দাম পেয়েছেন। ধানের এমন মূল্য পেলে কৃষকরা উপকৃত হবে। জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন,‘কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন সব সময় তৎপর থাকবে। তিনি ও তাঁর কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার তদারকি করবেন। কোনো ব্যবসায়ী কৃষক সেজে ধান বিক্রির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। তিনি বলেন,‘আজ প্রকৃত কৃষকের কাছে থেকে ধার ক্রয় করা হচ্ছে। কৃষকদের কৃষিকার্ড ও ব্যাংক একাউন্ট করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যাংকে তাগিদ দেওয়া হবে’। তবে প্রান্তিক অনেক কৃষক কৃষিকার্ড ও ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় ধান দিতে পারছে না। এতে কৃষকরা ধান বিক্রিসহ অন্যান্য কৃষি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিলা নাসরিন, কৃষক আলহাজ্ব মাইনুদ্দিন, আব্দুল আওয়াল, মনিরুল ইসলাম, বাবু আলী প্রমুখ। কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি