ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৪৭:৩৫, বুধবার

কুমিল্লা জেলা জজ আদালতে মঞ্চস্থ হলো ‘দিনবদলের পালা’

কুমিল্লা জেলা জজ আদালতে মঞ্চস্থ হলো ‘দিনবদলের পালা’

‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় শেখ হাসিনার অবদান, বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডে আইনি সেবাদান’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা লিগ্যাল এইড, কুমিল্লা এর আয়োজনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস- ২০১৯’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একমাত্র নাট্য সংগঠন থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্চস্থ করেছে তাদের নাটক ‘দিনবদলের পালা’। কুমিল্লা জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর এর সভাপতিত্বে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিএনসিসি রেজিমেন্ট কমান্ডার লে. কর্নেল সালাহউদ্দিন আল মুরাদসহ আরও অনেকে। পরে কুমিল্লা জেলা জজ আদালতে লিগ্যাল এইড বিষয়ক নাটিকা প্রদর্শনী করে ‘থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাইয়েব্যুন মিমির রচনায় এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম আল হাসানের নির্দেশনায় থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নাটিকা ‘দিনবদলের পালা’ মঞ্চস্থ করে। নাটিকার মূল বিষয়বস্তু হলো বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে আইনি সেবাদান এবং সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা যায় এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। নাটিকায় অভিনয় করেন অর্ক, নাবিলা, ফারাহ্, ইসতিয়াক মোহন, নাইম, রাব্বি, মাসুম এবং সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন নাজমুল এবং গুলসান।
বঙ্গবন্ধু অবিনাশী চেতনার বাতিঘর: মিনার মনসুর

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের নবনিযুক্ত পরিচালক কবি মিনার মনসুর বলেছেন ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের অবিনাশী চেতনার বাতিঘর। তিনি আমাদের একটি দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। এজন্য আমরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলার মতো আত্মপরিচয় পেয়েছি। তিনি বাঙ্গালীর জন্য রেখে গেছেন সোনার বাংলার এক আকাশচুম্বী স্বপ্ন।’ মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরে ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে’ রক্ষিত পরিদর্শন বইতে তিনি এসব মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা যেন তাঁর অতুলনীয় আত্মত্যাগ এবং দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর অনন্য ভালোবাসার যথাযোগ্য প্রতিদান দিতে পারি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর প্রাক্কালে এটাই হোক আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার।’   এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপ-পরিচালক সুহিতা সুলতানাসহ সংস্থার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সিনিয়র সভাপতি মিলনকান্তি নাথ, সহ-সভাপতি মো.গফুর হোসেন, যুগ্ম-নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেনসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, গত ৭ মে কবি মিনার মনসুরকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে। মিনার মনসুর কবি হিসেবে অধিক সমাদৃত হলেও সম্পাদক, প্রকাশক ও সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে। তিনি চরম প্রতিকূলতার মধ্যে ১৯৭৯ সালে প্রকাশ করেছেন ‘শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ’ নামে মাইলফলক গ্রন্থ। পঁচাত্তরের নজিরবিহীন নৃশংসতার পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এটিই ছিল গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম স্মারক সংকলন। অবশ্য এর আগেই বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭৮ সালের ১৫ আগস্ট তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘এপিটাফ’-এর একটি বিশেষ সংখ্যা। তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ, জীবনীগ্রন্থ, গবেষণামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ এবং সম্পাদিত গ্রন্থ রয়েছে। কেআই/      

এটুআই-ইনোভেশন ল্যাবে দেশীয় উদ্ভাবন নিয়ে মতবিনিময়

এটুআই-ইনোভেশন ল্যাব এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশীয় উদ্ভাবনসমূহ নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোববার রাজধানীর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আই ল্যাব অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় আইটিইএক্স-২০১৯ সম্মাননা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রজেক্টের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্যানেল আলোচক ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি  প্রতিমন্ত্রী  জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক। এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং এটুআই’র পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরীর উপস্থাপনায় সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত হিউম্যান রিসোর্স প্ল্যানিং চিন্তাধারার।’ ইনোভেটিভ প্রজেক্টগুলোকে পাইলটিং করার উপর গুরুত্ব দিয়ে ল্যাবকে নতুনভাবে আই ওপেনার ল্যাব বলে আখ্যায়িত করেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘আবিষ্কারের সুফল এ জাতি পাবে না যদি আমরা মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ না করি। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটি একটি আবশ্যিক বিষয়। আই ল্যাবে সকল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।’ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী  তরুণদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মানসিকতা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন।   সম্প্রতি বৃহত্তর এশিয়ার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতা আইটিইএক্স ২০১৯ এ গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও এটুআই এর আই ল্যাব বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বছর আই ল্যাব এর গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ স্বর্ণ পদক এবং অন্য ৪ টি উদ্যোগ সিলভার পদক (পাম্পিং ওয়াটার ফ্রম ডাউনহিল সোর্স টু আপহিল, ইউজড কুকিং ওয়েল, স্মার্ট হোয়াইট ক্যান এবং পিএনপিকে) অর্জন করে। গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ শুধু স্বর্ণ পদকই নয়, ২১ টি দেশের মধ্যে সেরা আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ট্রফিও অর্জন করেছে। এবারের আয়োজনে ২১ টি দেশের ১,৩২৭ টি উদ্ভাবন উপস্থাপিত হয়েছিল। আইটিইএক্স ২০১৮ তেও এটুআই এর আইল্যাব অংশগ্রহণ করে এবং দুইটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক অর্জন করে। উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এর ইনোভেশন ল্যাব (আই ল্যাব) গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশে তারুণ্য নির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগের একটি সূতিকাগার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটুআই এর আইডিয়া ব্যাংক বা সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড (এসআইএফ) এর মাধ্যমে বিগত তিন বছরে ১৪,০০০ এরও বেশি উদ্ভাবনী আবেদন পর্যালোচনা, ২,০০০ এরও বেশি আবেদন নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা ও ২১৭ টি উদ্যোগকে বাস্তবায়ন উপযোগী করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ইনোভেশন ল্যাব একটি সমন্বিত মডেল নিয়ে কাজ করছে, এতে যুক্ত হয়েছে ১৩৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বাণিজ্যিক চিন্তাবিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেন্টর প্যানেল। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট, পেটেণ্ট ও কপিরাইট এর কারণে ইনোভেশন ল্যাব একটি আলাদা রূপ লাভ করেছে (সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বোধনকৃত ডিজিটাল কপিরাইট প্ল্যাটফর্ম এটুআই ইনোভেশন ফান্ড এর অর্থায়ন ও আই ল্যাবের প্রত্যক্ষ কারিগরি সহায়তাতেই শুরু হয়েছে)। এমএস/কেআই

আজ বিশ্ব নৃত্য দিবস

নৃত্য হচ্ছে মানুষের মনোজাগতিক প্রকাশভঙ্গি। কেননা নৃত্য ও এর ভাষা কাজ করে একসূত্রে। সারা বিশ্বে প্রতি বছরের ২৯ এপ্রিল নানা উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। প্রতিবারের মতো চলতি বছরেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি। ১৯৯২ সালে দিবসটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশেও পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী দিবসটি উদযাপন করবে দেশের নৃত্য সংগঠনগুলো। এদিকে বিশ্ব নৃত্য দিবস উদযাপনে ২৩ এপ্রিল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী নৃত্যমেলা। যাতে রাজধানীর বিভিন্ন নৃত্যসংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশনায় ছিল নৃত্যানুষ্ঠান। আজ সোমবার এ আয়োজনের সমাপনী দিন। এ ছাড়া সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি-প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। একে//

শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট

  আগামী ৩ মে থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের গ্যালারি হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট এর দ্বিতীয় আসর। ফেসট এর অন্যতম আকর্ষণ দৃশ্যছায়া অ্যাওয়ার্ড নাইট। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ফিল্মগুলোর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করার পাশাপাশি থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট এর এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে অকাল প্রয়াত তরুণ মেধাবী অভিনয় শিল্পী রুমেল বড়ুয়াকে। সারা দিন ব্যাপী আয়োজনে থাকছে ফিল্মি শোভাযাত্রা, শর্ট ফিল্ম প্রদর্শনী, ফিল্ম নিয়ে সেমিনার, নির্মাণ শ্রমিকদের সিনে আড্ডা, এ্যাওয়ার্ড নাইট।  এই বছর থেকে দৃশ্যছায়া সংস্কৃতি জন সম্মাননা প্রদান করা হবে। দৃশ্যছায়া আবৃত্তি শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পাবেন বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী ও বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি প্রয়াত রণজিৎ রক্ষিত। দৃশ্যছায়া নাট্যকার সম্মাননা পাবেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী। দৃশ্যছায়া নাট্য নির্দেশক সম্মাননা পাবেন বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অসীম দাশ। দৃশ্যছায়া সঙ্গীত শিল্পী সম্মাননা পাবেন বিশিষ্ট নাট্যজন ও সঙ্গীত শিল্পী শান্তুনু বিশ্বাস। দৃশ্যছায়া মূকাভিনয় সংগঠক সম্মাননা পাবেন বিশিষ্ট মূকাভিনেতা ও প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট এর সভাপতি রিজোয়ান রাজন। এছাড়া নিয়মিত নাট্য ট্রুপ হিসেবে ফেইম স্কুল অব ড্যান্স, ড্রামা এন্ড মিউজিক সম্মাননা পাবে। দৃশ্যছায়ার সেরা অভিনয়শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পাবেন অকাল প্রয়াত তরুণ অভিনেতা ও নাট্য কর্মী রুমেল বড়ুয়া। অনলাইনে জমা দান পর্ব শেষে ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলোর নাম প্রকাশ করে চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট এর আয়োজক দৃশ্যছায়া।  উৎসবের প্রতিযোগিতা শাখায় দেখানো হবে রোদ্দুর (জেরিন চৌধুরী, মৃত্তিকা বড়ুয়া, প্রমা পারমিতা নির্মিত), বিলুপ্ত ঠিকানায় (সায়মা ফারজানা নির্মিত), পুরুষাতঙ্ক (অপরাজিতা সঙ্গীতা নির্মিত), মোমেনটস ও আন্ডার দ্যা ইন ফ্ল ুয়েন্স (রবি চক্রবর্তী নির্মিত), দ্যা ব্ল্যাক নাইট (শেখ মোহাম্মাদ আরাফাতুর রহমান নির্মিত), ফ্রিডম (মাহমুদ হাসান শুভ নির্মিত), আগুন্তুক (মিনাহাজুল আলম জিশান নির্মিত), ঢাকা শাটস (আহমেদ তাহসিন শামস নির্মিত), চক্র (মতিউর সুমন নির্মিত), একাত্তরের দিন (সাব্বির আহমেদ সোহাগ নির্মিত), থ্রি নট থ্রি (কাজি আশরাফ এলাহি নির্মিত), অনন্ত জীবন ১৯৪৬ (আব্দুল্লাহ আল মারুফ নির্মিত)। এছাড়া বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক (আনোয়ার হোসেন পিনটু নির্মিত) এবং নির্মাতা তারেক মাসুদকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ফেরা (প্রসুন রহমান নির্মিত) প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম শহরে দেখানো হবে। এসএ/  

মালঞ্চের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবের জমকালো প্রস্তুতি

পটিয়াস্থ সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চ প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ মে (বুধবার) পটিয়া খাসমহলস্থ কর্ণফূলী কমিউনিটি সেন্টার সবুজ চত্বরে দিনব্যাপি বইমেলা, গুণীজন সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতি ম্যাচসহ নানা আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে মালঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শিবুকান্তি দাশ জানিয়েছেন, এবারে মালঞ্চ গুনীজন সম্মাননা পাচ্ছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। মালঞ্চ সংগঠকদের  মধ্যে সম্মাননা পাচ্ছেন চিকিৎসক ডা. দিলীপ ভট্টচার্য্য, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল আলীম ও লেখক গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক। এছাড়া নানা উদ্দীপনামূলক অনুষ্টানের ব্যাপক প্রস্তুতি কাজ এগিয়ে চলছে। পুরোদিন মালঞ্চ পরিবারের সদস্যরা যাতে আনন্দে ভাসে তার জন্য নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রকাশ করা হবে  ইতিহাস ভিত্তিক সংকলন ‘মালঞ্চ’। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বুধবার সকাল ৯টায় সূচনা করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। বিকাল  ৩টায় দ্বিতীয় পর্বে উদ্ভোধন করবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আগ্রহী সাহিত্য সংস্কৃতিপ্রেমীগণ  নিধারিত ফরমে নিবন্ধন করতে পারেন। নিবন্ধনের জন্য যোগাযোগ আবদুর রহমান রুবেল ০১৮৪০০২৪১৮৫। কেআই/  

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র উদ্যোগে পুঁথি পাঠের আসর

শতবর্ষের ঐতিহ্যমণ্ডিত চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র উদ্যোগে প্রথমবারের মত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজসংস্কৃতি পুঁথি পাঠের এক বর্ণাঢ্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭ টায় ৩২ তোপখানা রোডস্থ চট্টগ্রাম ভবনে সমিতির মিলনায়তনে আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পুঁথি পাঠের আসরের শুভ উদ্বোধন করেন। পুঁথির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ক্রমবিকাশের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নির্বাহী সদস্য আহমদ মমতাজ। সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সদস্য-সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা কামাল চৌধুরী শানুর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমিতির সহসভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দীন খান। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও জীবন সদস্যদেরকে কষ্ট স্বীকার করে এই আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মাবুদ। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেন সমিতির সাবেক সভাপতি ও আজিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক চৌধুরীর পুত্র ও সমিতির দাতা জীবনসদস্য মো. রাজীবুল হক চৌধুরী। এই আসরের মূল আকর্ষণ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট পুঁথিপাঠক শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ। তাঁর সহযোগিতায় ছিলেন- তবলায় মো. সৈয়দুল হক, দোতারায় চিত্তরঞ্জন বর্মন, বাঁশিতে টিটু দেবনাথ, অক্টোপ্যাডে প্রণব রায়, কী বোর্ডে রতন মজুমদার, শিল্পী শিউলী মজুমদার ও ফিরোজা আকতার সামান্তা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব মো. দিদারুল আনোয়ার, সাবেক সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক, আবু আলম চৌধুরী ও মিসেস লায়লা সিদ্দিকী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য-সচিব মুহাম্মদ মারুফ শাহ চৌধুরী, নির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সহসভাপতি ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সহসভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ খালেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম ও নাছির উদ্দিন, হাসপাতাল কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউল ইসলাম মহিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরীন সিদ্দিকা লিনা। নির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সহসভাপতি ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সহসভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুদ্দিন আহমদ (বাবুল), শফিকুর রহমান শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মাহমুদ সালাহ্উদ্দীন চৌধুরী, সাহিত্য ও সেমিনার সম্পাদক ইঞ্জনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক, ক্রীড়া সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ রাসেল, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান (মন্টু), মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আনিচ উল মাওয়া (আরজু), আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুল কবির চৌধুরী, মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (হিরো), মোহাম্মদ মনসুর আলী চৌধুরী, মো. কামাল হোসেন তালুকদার, রাহুল বড়ুয়া, মোঃ গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী, মোস্তফা ইকবাল চৌধুরী (মুকুল), আলম ইশরাক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ আবছার চৌধুরী, আবরাজ নুরুল আলম ও আজম উদ্দীন তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ সমিতির অনেক জীবন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এসি  

রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন চলছে

বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণে চলছে ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। রমনার বটমূলের প্রভাতী আয়োজনে ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’ আহ্বান নিয়ে সাজানো হয়েছে। পহেলা বৈশাখ ভোর সোয়া ছটায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হয় রাগালাপ দিয়ে। এরপরই চলে প্রত্যূষে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও সৃষ্টির মাহাত্ম্য নিয়ে ভোরের সুরে বাঁধা গানের গুচ্ছ। পরের পর্বে অনাচারকে প্রতিহত করা এবং অশুভকে জয় করার জাগরণী সুরবাণী, গান, পাঠ, আবৃত্তিতে দেশ-মানুষ-মনুষ্যত্বকে ভালবাসবার প্রত্যয় নিয়ে উৎসবে যোগদিয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটায় দেশের সব অত্যাচারে নির্যাতিতদের শ্রদ্ধায় ও অনাচারের প্রতিবাদে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।  সংস্কৃতি সংগঠন ছায়ানটের শিক্ষার্থী-প্রাক্তনী-শিক্ষক নিয়ে, ছোট বড় মিলিয়ে এবারের অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করবে প্রায় শ’খানেক শিল্পী। অনুষ্ঠানে থাকছে ১৩টি একক, ১৩টি সম্মেলক গান এবং ২টি আবৃত্তি। এসএ/  

বর্ষবরণে মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উদীচীর সমাবেশ

পহেলা বৈশাখ বাংলা ও বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থিত উদীচী’র সাড়ে তিন শতাধিক শাখা সংসদের উদ্যোগে একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজিত হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম ও ইকবালুল হক খান, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত ও আকরামুল হক, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন এবং মীর্জা আতিকুজ্জামান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় সঙ্কোচনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায় তাদের স্বার্থই রক্ষা করা হলো। উদীচী সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মানবে না। অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী অপশক্তির আক্রমণ ও রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যাত্রাপালাসহ সংস্কৃতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধারা চলতে দেওয়া যায় না। উদীচী সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে এদেশের চিরায়ত সংস্কৃতির ওপর বর্বর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জাগরণ বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন জামসেদ আনোয়ার তপন। এছাড়া, নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে সবাইকে ঘরে বন্দী করে দেয়ার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, বিকাল ৬টার মধ্যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ করা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষেধ করা বিষয় সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। সংস্কৃতি কর্মীসহ সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষের প্রবল আপত্তির মুখেও গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণ উৎসবকে নির্দিষ্ট সময়ের ঘেরাটোপে বেঁধে দেওয়ার একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে সরকার। বারবার আপত্তি জানানোর পরও এবারও রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের সব উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে উৎসবমুখর বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাসকে দমন করা হচ্ছে তাই, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বিকাল ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার এ নির্দেশনা গ্রহণযোগ্য নয়। এধরনের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাবে। এছাড়া, বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা-ও সার্বিকভাবে উৎসবের বৈচিত্র্যকে খর্ব করবে। নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে কালকের মানববন্ধনে যোগ দেবে উদীচী- ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে আগামীকাল বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণভবন থেকে বঙ্গভবন মানববন্ধন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাল সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করবে উদীচীর সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা। এসএইচ/

পাহাড়ীদের বর্ষবরণ উৎসবের প্রথম দিন আজ (ভিডিও)

পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে পাহাড়ীদের বর্ষবরণের উৎসব বৈসাবি। উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বর্ষবরণের উৎসবের প্রথম দিন আজ। চৈত্রের শেষ বেলায় রঙিন ফুল নদীতে ভসিয়ে পুরোনোকে বিদায় দেয় পাহাড়ি তরুনীরা। সূচনা হয় বৈসাবি উৎসবের। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বৈসুু-সাংগ্রাই-বিজুর উৎসব এখন পাহাড়ে পাহাড়ে। নতুন পোশাক পরে, ঘরে ঘরে পাঁচন রান্না আর ঘরবাড়ি সাজ-সজ্জার আয়োজন চলছে। উৎসবের প্রথম দিনে নদীতে ফুল ভাসানো ছাড়াও বয়স্ক পূজা, বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা আর ঐতিহ্যবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম। ৪দিনের এই উৎসবে আরো থাকছে সমবেত প্রার্থনা, জলকেলি, পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান আর হাজারো প্রদীপ প্রজ্জলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃগোষ্ঠীগুলো এই বছরান্তের উৎসবকে নানা নামে ডাকলেও, সবার নিবেদন একই! এটাই নৃগোষ্ঠীগুলোর মৈত্রী বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা পেলেন পাঁচ শিল্পী

শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিবছর প্রতিটি জেলার পাঁচজন গুনী ব্যক্তিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা প্রদান করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মৌলভীবাজার পাঁচ গুণী শিল্পীকে এই সম্মাননা প্রদান করেছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, লোকসংস্কৃতি গবেষণায় রসময় মোহান্ত, সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষণায় নৃপেন্দ্রলাল দাশ, কণ্ঠসঙ্গীতে রানু সরকার, যাত্রাশিল্পে বীরপ্রতীক ফোরকান উদ্দিন, চলচ্চিত্রে সৌমিত্র দেব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের পর পরিবেশিত হয় নৃত্যসংগঠন শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশের পরিচালনায় একটি নৃত্যনাট্য ‘ইছামতির বাঁকে’। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, জেলার চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি ও মৌলভী বাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো.কামাল হোসেন, সংস্কৃতিসেবী ডা. এম এ আহাদ। কেআই/  

জমে উঠেছে বৈশাখী আয়োজন

আসছে বৈশাখ। আর তাই আসন্ন বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে বৈশাখী আয়োজন। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, গৃহসামগ্রী। চাহিদাও বেড়েছে অনেক। এসব পণ্যের জোগান দিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো পণ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ফুল, ফল ও পর্যটনের ব্যবসাও। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈশাখের অন্যতম একটি উপকরণ হচ্ছে ইলিশ। বছরের পুরো সময় ইলিশের দাম স্বাভাবিক থাকলেও বৈশাখী হাওয়া এলেই হু-হু করে বেড়ে যায় এর দম। আগে প্রতি এক কেজি ইলিশের দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পহেলা বৈশাখ যত ঘনিয়ে আসবে, এর দাম আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ইলিশকেন্দ্রিক বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হচ্ছে। এর একটি অংশ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পর্যন্ত যাচ্ছে। বৈশাখে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পোশাকের মধ্যে মেয়েদের শাড়ি, থ্রিপিস, সালোয়ার-কামিজ, অলংকার, গ্রামীণ চিত্রপট আঁকা নানা ধরনের সামগ্রী। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই থাকে দেশীয় তাঁতের কাপড়ের এবং দেশীয় উপকরণে তৈরি। এগুলো করে থাকেন গ্রামের তাঁতি ও ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তারা। ফলে এসব শিল্প চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রাম ও শহরে যেসব বৈশাখী মেলা বসে, সেগুলোয় খেলনার পাশাপাশি থাকে নানা ধরনের উপকরণ। বৈশাখে গৃহসামগ্রীর মধ্যে বিশেষ করে টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্রসহ নানা উপকরণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এগুলোর উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি এগুলোর ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে কোম্পানিগুলো বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছে। এদিকে বৈসাবি ও বৈশাখী উৎসব ঘিরে পাহাড়ের অর্থনীতিতে বিরাজ করছে চাঙাভাব। রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় নতুন করে সাজানো হয়েছে শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো। জমজমাট মেলা বসেছে বিভিন্ন স্থানে। জমে উঠতে শুরু করেছে ফলমূল, সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজার। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসবকে নিজ ভাষায় ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাইন এবং চাকমারা বিজু নামে পালন করে থাকে। এ তিন শব্দের আদ্যাক্ষর মিলিয়ে সম্মিলিত নাম দেয়া হয়েছে বৈসাবি। বৈসাবি পালিত হয় প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে ২৯-৩০ চৈত্র ও পহেলা বৈশাখ। বৈসাবিতে একাকার হয়ে যায় বৈশাখী উৎসব। পাহাড়িদের বৈসাবি এবং আবহমান বাংলার চিরায়িত বৈশাখী উৎসব ঘিরে এবারও চাঙা হয়ে উঠেছে পাহাড়ের ব্যবসাপাতি। বৈসাবি ও বৈশাখী উৎসবটি সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কেনাকাটা। তবে পুরোপুরি কেনাকাটা জমবে ৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। উৎসব ঘিরে পোশাক ও মনিহারি পণ্য কেনাকাটা শুরু হয়েছে রাঙ্গামাটির স্থানীয় বাজারে। দোকানিরা তুলেছেন বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। নারী ও শিশুদের কাপড় সেলাই নিয়ে ব্যস্ত দর্জিরা। বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলায় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ভিড় জমছে ক্রেতাদের। রাঙ্গামাটির বাজারগুলোতে পাহাড়িদের শ্রমজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের ভিড় জমছে ধীরে ধীরে। উৎসব আয়োজন ও আপ্যায়ন প্রস্তুতি নিয়ে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা শুরু করেছেন কর্তা ও গৃহণীরা। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোররা কিনছেন জামাকাপড় ও মনিহারি সামগ্রী। এসএ/

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে নিয়ে মতবিনিময় সভার মধ্যদিয়ে শেষ হলো জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের চার দিনের আয়োজন। শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে নিয়ে মতবিনিময় সভা, স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের বাস্তবায়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহমান অঞ্জন। এতে সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা হায়দার রিজভী। উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দেড় শতাধিক তরুণ নির্মাতা অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় চলচ্চিত্রের সমস্যা, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌছানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। মতবিনিময় সভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রীতি সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। গত ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিবসটি উদযাপন করছে। ৩-৬ এপ্রিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, বিষয়ভিত্তিক প্যানেল বৈঠক, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে মত বিনিময় সভা, চলচ্চিত্রের আড্ডা ও প্রীতি সম্মিলনীসহ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন ২০১৯ আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি