ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:৩৮:৫৯, রবিবার

কম ওজনের শিশু কেন জন্ম নেয়

কম ওজনের শিশু কেন জন্ম নেয়

সাম্প্রতি দ্য ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ১০টি দেশে সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে নবজাতকের জন্ম হয় বেশি। এসব দেশের মধ্যে এমন শিশুর জন্ম সবচেয়ে বেশি হয় বাংলাদেশে। এর পরই রয়েছে আফ্রিকার দেশ কমোরস ও নেপাল। তালিকার শীর্ষে থাকা ১০টি দেশই দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহণযোগ্য ওজনের কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুর মৃত্যুহার অনেক বেশি। তাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে নানা রকম ঝুঁকির সঙ্গে জটিল রোগ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন কারণে সন্তান পৃথীবিতে কম ওজন নিয়ে আসতে পারে। এবিষয় সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত আফরীন নীলা।কম ওজনের সন্তান জন্ম নেওয়ার জন্য অনেকটা মায়েরাও দায়ি থাকেন। আসুন জেনে নিই  মায়ের কারণ সমুহ:# উচ্চ রক্তচাপ# হৃদরোগ# কিনডিতে সমস্য# ধূমপান# মদ্যপান# সুষম খাদ্য কম খাওয়া# নিম্মবিত্ত পরিবারসন্তানের কারণসমুহ# জ্বীণগত সমস্যা* trisomy is 13,18,21* Turner`s syndrome* triploidy# জন্মগত হৃদরোগ*fcrralogy of fallor*transpositoin of great vcsscls# পেটের চামড়া তৈরি না হওয়া# জন্মগত প্রদাহ* cmv*rubella*toxoplasmosis# একাধিক সন্তান এক গর্ভাবস্থায় থাকলেলেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসারটিআর/ 
রমজানে ত্বকের যত্নে করণীয় (ভিডিও)

ত্বকের যত্ন নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত। বিশেষ করে রমজান মাসে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর ইফতারিতে ভাজাপোড়া খাই। যা শরীরের ত্বকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই এ সময় ভাজাপোড়া খাবার কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এ সময় তরমুজ, ভাঙ্গি, পেঁপে, আনারস ইত্যাদি ফল খেতে পারেন। এরকম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দি ডক্টরস’-র এবারের পর্ব প্রচার হয়েছে। অনুষ্ঠানটি  আজ শনিবার (১৮ মে) প্রচার হয়। এতে আজকের আলোচনার বিষয় ছিল- ‘রমজানে ত্বকের যত্ন’। এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. এস.এম বখতিয়ার কামাল, সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। উপস্থাপনায় ছিলেন- ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। দর্শক ও পাঠকদের সুবিধার্থে আলোচনাটি লিখিত আকারে প্রকাশ করা হলো- রমজানে ‘রমজানে ত্বকের যত্ন’ নিয়ে ডা. এস. এম বখতিয়ার কামাল বলেন, ‘আমরা সারাদিন কিছু খাচ্ছিনা। এরমধ্যে বাইরে প্রচণ্ড গরম। এতে প্রচণ্ড পানি শূণ্যতা সৃষ্টি হয়। ফলে ইফতারিতে আমাদের যেটা করা উচিত সেটা হচ্ছে অধিক পরিমাণ পানি খাওয়া। সাধারণত ইফতার ও সেহরীতে কমপক্ষে দুই লিটার পানি খাওয়া উচিত। এতে স্কিন ভালো থাকবে।’ স্কিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ভেজাল খাবারের পাশাপাশি ভেজাল কসমেটিকস শরীরের স্কিনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এই খারপ প্রভাবটা অনেক সময় খুব দ্রুত হতে পারে বা দেড়িতেও হতে পারে। দ্রুত প্রভাবের মধ্যে সাধারণত গায়ে চুলকানি বা র‌্যাশ জাতীয় কিছু শরীরে দেখা যায়। তিনি বলেন, সাধারণত যারা বাসায় থাকেন তাদের মধ্যে স্কিনের সমস্যা তেমন একটা দেখা যায় না। তবে যারা বাসার বাইরে বা মাঠে কাজ করেন তাদের মধ্যে স্কিনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই বাইরে বের হলে রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে গরমের সময় ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পড়তে পারেন। প্রচণ্ড গরমে সুযোগ পেলে ছায়ার নিচে বিশ্রাম নিতে পারেন। গোসলে সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, গোসলের সময় সাবান ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার শরীরের জন্য ভালো নয়।  সেহরী ও ইফতারে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এস.এম বখতিয়ার কামাল বলেন, রমজানে শরীর চাঙ্গা রাখতে শাক-সবিজর কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি মৌসুমী ফলও খেতে হবে। কসমেটিকস ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, যে কোনো রকমের কসমেটিকস পরিহার করাটাই ভালো। তবে কেউ যদি একান্ত চায় তাহলে কাজল এবং হালকা লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কম তারা মুখে উন্নত ব্রান্ডের স্নো ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাদের ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি তারা এগুলো না ব্যবহার করাটাই ভালো। মেকআপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পারত পক্ষে মেকআপ না নেওয়াটাই ভাল। তবে কেউ যদি পেশার জন্য মেকাআপ নিতেই হয়, তাহলে তাকে কাজ শেষে মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। গরমে দুই রানের পাশে গুটি হওয়া বিষয়ে ডা. এস.এম বখতিয়ার কামাল বলেন, অনেক সময় শরীরের দুই রানের পাশে গুটি গুটি দেখা যায় এবং এগুলো থেকে চুলকানি হয়। এটা হলো একটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন। এটার জন্য সাধারণত মাইকোনাজল জাতীয় ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, ক্রিমের পাশাপাশি আপনার পরিহিত পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। কেননা এই জিবাণুটি আপনার প্যান্টে বা আন্ডার ওয়্যারে ৬ থেকে ৭ মাস জীবিত থাকতে পারে। তাই এ পোশাকগুলো গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ইস্ত্রি করতে পারেন। এর মাধ্যমে ওই জীবাণুগুলো মরে যাবে। ঈদের সময় বাজারে প্রচলিত মেহেদী ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদ আসলে আমরা সাধারণত হাতে মেহেদী ব্যবহার করি। পূর্বে হাত রাঙানোর জন্য সাধারণত মেহেদী পাতা ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের মেহেদী পাওয়া যায়। বাজারে প্রচলিত এই মেহেদীগুলো কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। তাই এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। কেননা এ মেহেদী ব্যবহার করার ফলে হাতে গুটি গুটি দেখা দেওয়াসহ চুলকানি হতে পারে। স্কিন সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে খাবারের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, স্কিনকে সুন্দর রাখার জন্য বিভিন্ন ধরণের খাবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গাজর ও টমেটো রাখতে পারেন। এছাড়াও মৌসুমী দেশীয় ফল এবং প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খেতে পারেন। ডা. এস.এম বখতিয়ার কামাল নিজের ইফতারিতে কি কি খাবার রাখেন এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি সাধারণত তরমুজ, লেবুর শরবত, খেঁজুর ও আনারস দিয়ে ইফতার করি। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এমএইচ/  

কেন বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ

প্রতিনিয়ত বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আগে শুধুমাত্র বয়স্কদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি হলেও এখন আক্রান্ত হচ্ছে তরুণরা। তবে হতশার বিষয় হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বাড়ছে। এবিষয়ে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। বিভিন্ন কারণে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ। তবে শুধুমাত্র্র লবণের ব্যবহারের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, হাঁটাচলা ও ব্যায়াম না করার কারণে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল ও চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থেকে দূরে থাকতে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। এই রোগে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। দেশে উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্ত মানুষের অবস্থা জানতে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে এ আন্তর্জাতিক গবেষণার নেতৃত্ব দেয় সিঙ্গাপুরের ডিউক-নাস মেডিকেল স্কুল। এই গবেষণায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেয় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর`বি)। দেশের মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার ১০ অঞ্চলের ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪ হাজার ৪৪২ নারী ও পুরুষের রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, এক হাজার ১৪৮ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। অর্থাৎ মোট ২৬ শতাংশ মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাচঁতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত। টিআর/

খাদ্যে ভেজাল, সচেতন হওয়ার তাগিদ (ভিডিও)

অসাধু ব্যবসায়িদের অপতৎপরতায় দেশে এখন ভেজাল খাদ্যেও মহামারি। সর্বত্র ভেজালের সিন্ডিকেট,ভেজালের বাণিজ্য। বহুমানুষ এই মানবতাবিরোধী, জাতিবিধ্বংসী, কর্মকান্ডেলিপ্ত। প্রতিদিন তারা লাখ লাখ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর দিকে। ফল, মাছ, সব্জিতে ফরমালিন। অননুমোদিত কেমিক্যালে তৈরি হচ্ছে মানহীন খাদ্য-পন্য। নগর থেকে গ্রাম কোথায় নেই ভেজাল? এ সঙ্কটরোধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার পরমর্শ সংশ্লিষ্টদের। ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খাদ্য পন্যের ল্যাবটেস্ট করার উদ্যোগ নেয়। পরীক্ষা করা হয় ৫১টি পণ্যের ৬৪০ টিন মুনা।মধ্যে ৩০ পণ্যের ১৮৩ নমুনায় ভেজাল পাওয়ায়ায়। এরআগে ২০১৪ সালে আরেকটি পরীক্ষা কার্যক্রমে ৮২টি পণ্যেও মধ্যে ৪০ শতাংশেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়। পন্য ও প্রতিষ্ঠান ভেদে,সহনীয়মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ২০ গুণ বেশিরাসায়নিকপ্ওায়াযায়। ্ওই পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলো ডিডিটি, কার্বামেড, কার্বাইড, অ্যালড্রিন, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, সিসাও ফরমালিনসহ বেশকিছু রাসায়নিকের উপস্থিতি। রাজধানীর শ্যামপুওে আমিনফুড নামের প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীনভাবে উৎপাদন করে শিশুখাদ্য, সেমাইসহ অন্তত দশটি পন্য। প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য পন্য তৈরি শুধ ুমাত্র কেমিকেল আর রং এর মিশ্রনে। নাম-ধাম্ও উঁপাদনের তারিখ ছাড়া রাসায়নিক তো ব্যবহার হচ্ছেই। তারওপর প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোন ক্যামিস্ট। ভেজাল খাদ্য তৈরীর জন্য নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর কারখানাটিকে সিলগালক রে।, জরিমানার পর মালি কে না পেয়ে নিয়মিত মাললা করেন সঙশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। কামরাঙ্গীর চরেরএকটি কারখানয় ও নকল-ভেজালশিশুখাদ্য উৎপাদন হয়। এখানকার চিত্রও ভিন্ন কিছু নয়। । শুধুরা জধানীতেই নয়, দেশের নানা স্থানে চলছে  ভেজাল খাদ্যের রমরমা ব্যবসা। ভেজালের মহামারি মিস্টিজাত পন্যে। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রনে বিএসটিআই-এর সঙ্গে, গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরসহ বেশকিছু সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তারপরওকি ভেজাল নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয়েছে? এপ্রশ্নের উত্তর শুনবো নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার কাছ থেকে। বিএসটিআই বছর জুড়েই অভিযানপরিচালনা করে। ফলাফল জানবো প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের কাছ থেকে। নিরাপদ খাদ্য প্ওায়ামানুষেরঅধিকার।  জনগণের এ অধিকার নিশ্চিত করতেই ভেজালবিরোধী এত সব প্রতিষ্ঠানতৎপর। তারপরও লোভের কাছে হারমানছে আইন। এ পরিস্থিও অবসান জরুরি।

দেশে প্রতি বছর ৪০ হাজারের বেশি কিডনি অকেজ হয়

বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজারেরও উপরে কিডনি পুরোপুরি অকেজ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে কিডনি রোগে ভোগে। এ ধরনের রোগীর জন্য মাত্র দুরকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। হয় ডায়ালাইসিস অর্থাৎ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কিডনির কাজ করানো বা কিডনি প্রতিস্থাপন। এই দুই ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতিই ব্যয়বহুল। রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতাল বারডেমে দেখা যায়, সেখানেও কিডনি রোগীর অনেক ভিড়। ডায়াবেটিস থাকলে সেটিও একটা পর্যায়ে গিয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে ডায়াবেটিক হাসপাতালে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য বড় ইউনিট রয়েছে। বারডেমে একটি ওয়ার্ডে অসুস্থ এক তরুণীর পাশে থাকা তার অভিভাবক ফাতেমা আমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পাঁচ বছর বয়সে এই তরুণীর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল। এখন ১০ বছর পর তার কিডনি বিকল হয়ে গেছে। তারা শেষ অবস্থায় চাঁদপুর জেলা শহর থেকে ঢাকায় বারডেমে এসেছেন। ফাতেমা আমিন বলছিলেন, তরুণীটির বাবা মা অনেক আগে মারা গেছেন। এখন বোনের মেয়ের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে তিনি চরম সংকটে পড়েছেন। এখন ডায়ালাইসিস করাতে মাসে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এই টাকা যোগাড় করা তাদের মতো নিম্ন পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তার স্বামীও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। চিকিৎসা সুবিধা: কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, ‘ব্যয়ের বিষয়টা যেমন আছে, তেমনি কিডনি রোগের শেষ অবস্থার রোগীদের জন্য দেশে ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের সুবিধাও এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বছরে ৪০ হাজার রোগীর যে কিডনি বিকল হচ্ছে। তাদের সবার চিকিৎসা দিতে চাইলে মানসম্মত হানপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যাপ্তিটা দরকার। এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে নতুন ৪০ হাজার রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেয়া এবং প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না।’৮০ভাগ রোগীই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন উল্লেখ করে  অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, ‘আমাদের যে সুযোগ সুবিধা আছে, তাতে আমরা ৪০ হাজার রোগীর মাত্র ২০ভাগকে ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন করে দিতে পারি। তাতে ৮০ভাগ রোগীই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন।’ নারীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও প্রকট: পরিবারের সহযোগিতার অভাবে নারীদের একটা বড় অংশ চিকিৎসক পর্যন্তই যেতে পারেন না। অনেক নারী রোগীর সমস্যা দেখে এমন ধারণা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের ড: মেহরুবা আলমের। ডাক্তারের কাছে মেয়েদের অ্যাকসেস এখনও পুরুষের তুলনায় কম। মেয়েরা চিকিৎসকের কতটা সাহায্য পেলো, তার অর্থ কতটা আছে বা পরিবার তার চিকিৎসার জন্য কতটা অর্থ বরাদ্দ রাখছে, এসব বিষয় মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বারডেম হাসপাতালের ড: মেহরুবা আলম জানান, নারীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরো প্রকট। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের কিডনির সমস্যা একটা পর্যায়ে তাদের সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি সন্তান এসেও যায়, তাতে অনেক জটিলতা থাকে। আমাদের গত বছর একজন রোগী বাচ্চা ধারণ করলেন, ঝুঁকি থাকলেও হয়তো বাচ্চাটাকে বাঁচানো যেতো। কিডনি প্রতিস্থাপনের কতটা সুযোগ আছে: প্রতিবার ডায়ালাইসিস করার জন্য বড় অংকের অর্থ গুণতে হয়। এর সাথে তুলনা করলে কিডনি প্রতিস্থাপন বা সংযোজন করার ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কম বলে চিকিৎসকরা বলছেন। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে কিডনি পাওয়াটা বেশ কঠিন। নারীর জন্য কিডনি পাওয়া আরও কঠিন: চিকিৎসকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করছেন যে, পুরুষ রোগীর চাইতে নারী রোগীর জন্য কিডনি পাওয়া অনেক সময় বেশি কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বারডেম হাসপাতালের ডা. মেহরুবা আলম বলেন, ‘আত্বীয় স্বজনের কাছ থেকে পুরুষ রোগীর জন্য কিডনি নেয়ার প্রয়োজন যখন হয়, তখন তার স্ত্রী প্রথমে কিডনি দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু নারী রোগীর ক্ষেত্রে স্বামীর সহযোগিতা সেভাবে থাকে না।’ কী করা উচিৎ: কিডনি রোগের চিকিৎসার ব্যয় এবং সুযোগ সুবিধা কোনোটাই পর্যাপ্ত নয়। ঢাকায় সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কিছু ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে উঠেছে। ঢাকার বাইরে বড় কয়েকটি শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে সীমিতপর্যায়ে এই চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ জেলায় কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেভাবে নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিডনির চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ইউনিট করা এবং চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার ব্যাপারে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরছেন।বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টানোর বিষয়ে চিকিৎসকদের সন্দেহ রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।

চলতি বছরেই ৪৭৯২ চিকিৎসক নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে খুব শিগগিরই ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে এ বছরই ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। ইতোমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ডাক্তার নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে উল্লেখ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে জানান তিনি। আজ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১০০ দিনের ঘোষিত কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। জাহিদ মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দেশের সরকারি হাসপাতালে নতুন ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। কিছু দিন আগে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিকল্পনা বিভাগে ৫০০ চিকিৎসক নিয়োগ হয়। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ১০০ দিনের কর্মসূচি প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আই//  

সমাধান চান ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা

দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করছেন ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিসিএসে উত্তীর্ণরা ক্যাডারভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করে তারা। পরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও লাগাতার কর্মসূচির ডাক দেয় তারা। বঞ্চিত চিকিৎসকদের সম্বনয়ক ডা. দেবাশিষ দেব দেবু বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট সমস্যার সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী গত ২০১৭ সালের এপ্রিলে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসি’র পরিপত্রে সাড়ে চার হাজার ডাক্তার নিয়োগের কথা বলা হলেও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম অন্তত সাত হাজার এবং সম্ভব হলে দশ হাজার ডাক্তারই নিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করে। একই কথা বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মুখেও শোনা যায়। গ্রামে যেতে ইচ্ছুক প্রায় ৩৮ হাজার ডাক্তার ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে অংশ নেয়। আর তাতে প্রাথমিক বাছাই পর্বে টিকে ১৩ হাজার ২০০ জন ‘ দেবু আরও জানান, ‘পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার পর পিএসসি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বরাবর সাড়ে চার হাজার ছাড়াও অতিরিক্ত সাড়ে ২২৫০ জন ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে চিঠি দেয়। কিন্তু জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় পিএসসি তার পরিপত্র মোতাবেক সাড়ে চার হাজার ডাক্তারকে সুপারিশ করতে বাধ্য হয়।’ জানানো হয়, ৮৩৬০ জন চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও শুন্য পদের সংখ্যা কম হওয়ায় উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগের সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি। সুপারিশকৃত ৪৭৯২ জন ডাক্তার ছাড়াও কৃতকার্য কিন্তু নন ক্যাডার আরো ৮৩০০ জন ডাক্তার গ্রামে যেয়ে সেবা দিতে ইচ্ছুক। তাই আমলাতিন্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে এই দক্ষ জনবলকে কিভাবে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একীভূত করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা। এ বিষয়ে ডা. রাফা বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের। সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। নতুন পদের সৃষ্টি করে হলেও তাদের বিপুল পরিমাণ নন ক্যাডারকে পদায়ন করা হোক।’ প্রসঙ্গত, চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে গ্রামে গিয়ে সেবা দেয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পালনেরও দাবি জানান তারা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দক্ষ জনবলকে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একীভূত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ারও কথা বলেন তারা। এসএ/  

কখন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন সাধারণত লিভার সিরোসিস রোগীদের করা হয়, যাদের লিভার ফেইলিউর হয়ে যায়। যখন কোন লিভার সিরোসিস রোগীর পেটে পানি আসে, জন্ডিস দেখা দেয়, রক্ত বমি হয়, অসংলগ্ন কথা বলে- এই চারটির কোন একটি হলে আমরা বুঝি তার লিভার ফেইলিউর হয়েছে। তখন তার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার ভাইরাস হেপাটাইটিস- এ বা ই ভাইরাস থেকে বা গাছ গাছড়ার ওষুধ খেয়ে লিভার ফেইল করলেও আমরা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য বলি। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রসঙ্গ অাসলেই অাসে লিভার ডোনেটের কথা। অনেকেই একটি প্রশ্ন করে থাকেন। লিভার যেহেতু একটি তাই কীভাবে ডোনেট করবে? আসলে হয়তো অনেই জানেন না যে- লিভার বৃদ্ধি পায়। সাধারণত একজন ডোনারের একটি লিভারের তিনভাগের একভাগ কেটে নিয়ে রোগীকে লাগিয়ে দেওয়া হয়। যার শরীরে লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে তার আগের লিভারটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রক্তের গ্রুপে মিল থাকলে হয়। যিনি লিভার ডোনেট করে থাকেন তিনি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন। আর যার শরীরে লিভার প্রতিস্থাপন হয় তিনি মাস দুয়েকের মধ্যে পরিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।   ভারতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর জন্য প্রতি বছর চাহিদা হচ্ছে ২৫ হাজার লোকের। সেখানে তারা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করছে আড়াই হাজার লোকের। অর্থাৎ তারাও সেক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। ফলে আমরা যখন শুরু করব, তাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে। এখনো তো আমরা রক্তেই স্বয়ংসম্পূর্ণ না। অর্থাৎ আমাদের এমন একটা জায়গায় যেতে হবে যেখানে আমাদের আর ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হবে না। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেভাবে উন্নত হচ্ছে তাতে আশা করা যাচ্ছে আগামী এক দশকের মধ্যে ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। হয়তো আমরা ট্রান্সপ্ল্যান্টে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছি। কিন্তু স্টেম সেল থেরাপীতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছি। সেই দিক থেকে বলতে পারি এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাব। অন্য দেশের রোগীরা এদেশে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসবে।     (লেখক: অধ্যাপক ডা. মামুন অাল মাহতাব, চেয়ারম্যান, হেপাটোলজী বিভাগ, বিএসএমএমইউ।) আআ/এসএ/  

রমজানে দাঁত ও মুখের যত্ন নিবেন যেভাবে (ভিডিও)

একুশে টিভির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে সিয়াম ও আপনার স্বাস্থ্য। আমাদের এ অনুষ্ঠানে এবার আলোচনা করা হয়েছে ‘রমজানে দাঁত ও মুখের যত্ন’ শীর্ষক বিষয়ে । এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. আজম খান, ডেন্টাল সার্জন ও কনসালট্যান্ট, বনানী ডেন্টাল ক্লিনিক।উপস্থাপনায় ছিলেন ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। আপনাদের সুবিধার্থে আলোচনাটি উল্লেখ করা হলো: ডা. আজম খান বলেন, দাঁত আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। তাই এর যত্নে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আর রমজানে যদি আমরা সেহরি ও ইফতারের সময় দাঁতের যত্ন না নেই তাহলে এটা দাঁতসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গে সমস্যা সৃষ্টি করবে। দাঁতের যত্নে আপনাকে নিয়মিত সেহরী ও ইফতারের পর ব্রাশ করে নিতে হবে। এরফলে দাঁতের সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব। তিনি বলেন, মেসওয়াক বা ব্রাশ করার সময় একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যেন দাঁতের ফাঁকা অংশে ময়লা না জমে থাকে। যদি ময়লা জমে থাকে তাহলে এর থেকে বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া জন্মায় এবং দাঁতের ওপর আক্রমণ করে। ডা. আজম খান বলেন, রমজানে দাঁত ব্রাশ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আপনি একজন রোযাদার। আপনি যদি দাঁত ব্রাশ না করে অন্য একজন রোযাদারের সামনে যান তাহলে আপনার মুখ থেকে গন্ধ বের হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে আপনার করণে অন্যজন কষ্ট পাবে।তাই দাঁত ব্রাশ করার মাধ্যমে নিজে সুস্থ থাকুন এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তিনি বলেন, রমজানের সময় যদি দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা হয় তাহলে আপনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে পারেন। দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করলে একশ বছরেও দাঁত ঠিক থাকবে বলে উল্লেখ করে ডা. আজম খান বলেন, দাঁতের ফাঁকা অংশে যেন খাদ্যাকণা এবং মিষ্টি জাতীয় জিনিস আটকে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা ফাঁকা অংশে জমে থাকা ময়লা দাঁতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।    ব্রাশের সময় পেস্ট ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোক করে তিনি বলেন, ব্রাশ করার সময় পেস্ট যেন পেটে না যায় এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।দাঁতের পাশাপাশি মুখের অন্যান্য অঙ্গগুলোরও যত্ন নেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দাঁতের পাশাপাশি মাড়ির যত্নের প্রতিও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দাঁতের মাড়ি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মাড়ি ঠিক রাখার মাধ্যমে দাঁতের জটিল সমস্যা আপনি সহজেই দূর করতে পারবেন। ভিডিও   এমএইচ/ 

যেভাবে বুঝবেন আপনার লিভার ভালো নেই

মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। লিভারে যত্ন অপরিহার্য। আপনার লিভার সুস্থ আছে কি নেই তা বোঝা খুব মুশকিল। লিভার খুব মারাত্মকভাবে আক্রান্ত না হলে মানুষ টের পায় না যে তার লিভার অসুস্থ হয়েছে। আমাদের দেশে লিভারের রোগীরা কখনো লিভারের জন্য ডাক্তারের কাছে যায় না। বরং অন্য রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যে তার লিভার আক্রান্ত হয়েছে। যখন বুঝতে পারে তখন বেশি কিছু করার থাকে না। লিভার সিরোসিস হলে লিভার ফেইলিউর হয়ে পেটে পানি চলে আসে, জন্ডিস হচ্ছে, অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে তখনই তারা ডাক্তারের কাছে যায়। তবে লিভারের রোগ হলে পেটের ডান পাশে হালকা ব্যাথা হয়, গ্যাসের সমস্যা হয়, খাওয়া দাওয়ায় রুচি থাকে না ইত্যাদি সমস্যা হয়। না বললেই নয়, যেসব লিভার রোগী আমাদের কাছে আসেন তারা ঘটনাচক্রে আসেন। জ্বর হলে জ্বরের ডাক্তারের কাছে দৌঁড়ে মানুষ যায় কিন্তু লিভারের অসুখ নিয়ে দৌঁড়ে লিভারের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরিমাণ কম। বি ভাইরাস বা সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেটা হয়, টিকা দিতে গেলে বা আর্মির মিশনে যাওয়ার সময়, বিদেশ যাওয়ার সময় চেকআপ করতে গেলে তখন তারা ডাক্তারের কাছে আসে। ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে যা হয়, আলট্রাসনোগ্রাম করতে গিয়ে যখন দেখে লিভারে ফ্যাট, তখন তারা আমাদের কাছে আসে। লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে যদি লিভার ফেইলিউর হয়ে যায় তখন কিন্তু চিকিৎসার আর কোনো সুযোগ থাকে না। তখন আমরা সাপোর্টেড ট্রিটমেন্ট করে লিভার রোগীকে ভাল রাখি। হেপাটাইটিস বি, বি ভাইরাস, সি ভাইরাস, ফ্যাটি লিভার- এসব রোগীকে যদি আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে পাই তাহলেও চিকিৎসা করে ভাল করা সম্ভব। কিন্তু যদি শেষ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চিকিৎসার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের দেশে নেই। লিভার সিরোসিস বা অন্য কারণে লিভার ফেইলিউর হলে চিকিৎসা হচ্ছে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন করা। (আগামী পর্বে- লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কোথায় করবেন, কীভাবে করবেন) লেখক: অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবচেয়ারম্যানহেপাটোলজী বিভাগ, বিএসএমএমইউ। আআ//

আইসিডিডিআরবিতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালু

রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণের অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইস ফর অল পিএলসি এবং কানাডার ডায়াগনস আইএনসির সহযোগিতায় সোমবার বাংলাদেশে প্রথম এ অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার আইসিডিডিআরবির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সর্বাধুনিক ফ্লেয়ার প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড রেটিনা অ্যানালাইসিস (কারা) নামের এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। কারা একটি টেলি-অপথালমোলজি প্রযুক্তি, যেটি প্রচলিত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমন্বয় করে সেবাদানের স্থানে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রেটিনার ছবি আপলোড করা, ছবির মান উন্নত করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি থেকে স্ত্রিনিং এবং বিশেষজ্ঞদের দ্বারা রেটিনোপ্যাথির গ্রেডিং। কারা প্রযুক্তি নিরাপদভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় এবং এটি প্রচলিত সব ধরনের ছবির ফরমেট ও প্রায় সব ব্র্যান্ডের ফান্ডাস ক্যামেরার সঙ্গে কাজ করতে পারে। একইসঙ্গে এটি প্রচলতি ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড পদ্ধতির সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। মূল্য সাশ্রয়ী এই পদ্ধতি একাধারে বিপুল রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য উপযোগী। এটি ইতোমধ্যে হেলথ কানাডা, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপ্রাপ্ত। ডায়াবেটিস রোগের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। যা সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে রোগী স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের শিকার হতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং আরও প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের মধ্যে নিণয় না করা ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সমগ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৮ লাখ রোগী কোনো না কোনো পর্যায়ের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত। আইডিএফের হিসাবে দেখা যায়, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক ডায়াবেটিস রোগীবিশিষ্ট (১.৩৭ কোটি) ১০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে। নতুন এই প্রযুক্তির সূচনায় রোগীরা যেমন দ্রুত, সঠিক ও নিখুঁত ফলাফল পাবেন, তেমনি এটি ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণে সহায়তা দেবে। নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আইস ফর অল’র সহ প্রতিষ্ঠাতা জাহেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সঙ্গে দেশের চাহিদার অসামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি দেশের বহু মানুষের জীবনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ডায়াগনস’র সেলস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভস-স্টিফেন কোটার বলেন, আইসিডিডিআর, বি’র সঙ্গে নতুন এই উদ্যোগ গ্রহণে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং বাংলাদেশ ও এশিয়ায় অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে আমরা আইস ফর অল’র সঙ্গে যুগপৎভাবে কাজ করে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আইসিডিডিআর, বি’র ল্যাবরেটরি সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. নিয়াজ আহমেদ রোগের শুরুর দিকেই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তকরণের অপরিসীম গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমরা এমন একটি রোমাঞ্চকর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যে সময়টিতে প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির শনাক্তকরণসহ নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে। আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই বিশেষ সুবিধাকে যথাসময়ে ও সাশ্রয়ী উপায়ে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয়ে কাজে লাগাতে চাই। যাতে আমরা দিনদিন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে, তাদের ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারি। আইসিডিডিআর, বি’র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি পরীক্ষা করানো যাবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। আরকে//

জন্ডিস রোগের জন্য মালা পড়া ভিত্তিহীন

মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রোগ লিভার। লিভারের রোগগুলোর অন্যতম হলো জন্ডিস। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, জন্ডিস হলে নানা রকম গ্রামীণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন- মালা পড়া, হাত ধোয়ানো ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন। এগুলোর কোনও সুফল নেই। কিছু কিছু ব্যাপার খুব খারাপ। যেমন গাছ গাছড়ার ওষুধ খাইয়ে দেওয়া। এটা খুব বিপজ্জনক। এর ফলে কিডনি বা লিভার ফেইলিউর পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আবার কিছু কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি খুব অমানবিক। যেমন মরিচ পুড়িয়ে নাকে দেওয়া, পয়সা পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া - এ ধরনের কাজগুলো অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আমি বলি কেউ যদি মালা পড়তে ইচ্ছা হয় তাহলে পড়েন। কিন্তু কেউ এটাকে চিকিৎসা মনে করে পড়বেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হবে। আর মরিচ পোড়া বা ছ্যাঁকা দেওয়া এসব চিকিৎসা রোগীর উপর ভয়ানক মানসিক প্রভাব ফেলার ঝুঁকি থাকে যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় দীর্ঘদিন সময় লাগে। লেখক: চেয়ারম্যান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। আআ//

বাবা-মায়ের ছবিতে প্রণাম করে দিন শুরু করেন ডা. সামন্ত লাল

বাবা-মায়ের ছবিতে প্রতিদিন সকালে প্রণাম করে দিন শুরু করেন ডা. সামন্ত লাল সেন। বাবা-মায়ের ছবি রাখেন নিজের মানিব্যাগের পকেটে। নিজের অফিস রুমেও টেবিলের উপর রেখেছেন বাবা-মায়ের ছবি। যখনই মন খারাপ হয় তখন ছবিখানা বুকে জড়িয়ে ধরেন। তাতে ভেতর থেকে শক্তি পান। যখন কোনো বড় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন বা বড় সমস্যায় পড়েন তখনো হাতে তুলে নেন বাবা মায়ের ছবি। ফলে সমস্যা অতিক্রম করার শক্তি পান তিনি। ডা. সামন্ত লাল সেন শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির প্রধান সমন্বয়কারী। বাংলাদেশের বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি প্রকল্পের সমন্বয়কারীও তিনি। তিনি বলেন, মায়ের আশীর্বাদ ছাড়া আমি সামন্ত লাল সেন আজকের সামন্ত লাল সেন হতে পারতাম না। ছোট বেলা থেকে মায়ের আশীর্বাদ আমাকে আগলে রেখেছিল। এখনো মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে পথ চলি। তিনি আমার আজকের এ অবস্থা দেখে যেতে পারেন নি। তবে আমি বিশ্বাস করি, তিনি আমাকে উপর থেকে দেখছেন। আমার যা কিছু অর্জন, যা কিছু কর্ম সব বাবা-মায়ের আশীর্বাদের ফসল। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. সামন্ত লাল সেন এসব কথা বলেন। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার মা একজন সাধারণ নারী ছিলেন। খুব বেশি পড়াশুনা তার ছিল না। তিনি সবসময় আমাকে বলতেন, "বাবা তুমি যদি গরীব মানুষের জন্য কিছু কর তাহলে আমার আত্মা শান্তি পাবে।" মায়ের সেই কথা আমাকে অনুপ্রাণিত করে মানুষের জন্য কিছু করতে। ডা. সামন্ত লাল সেন আলাপকালে বলেন, যারা বাবা মাকে সম্মান করে, তারা কখনো কোথাও আটকাবে না। তাদের জীবন সম্মানের হবে। তাদের জীবন মহিমান্বিত হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন। নবগঠিত শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তার বিভাগ বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে যে কেউ তার কাছে গেলে পাশে দাঁড়ান তিনি। দেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর খুব আস্থাভাজন ডা. সামন্ত লাল সেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়াত শিল্পী সুবীর নন্দীর চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেখভাল করেছিলেন তিনি। তাছাড়া চলচ্চিত্রভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানেরও দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সেই দেখভালের সর্বশেষ অবস্থা প্রতি মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার দায়িত্বও পালন করছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করেছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। ইন্টার্নশীপ করার পর পার করেছেন দীর্ঘ যাত্রা। ডা. সামন্ত বলেন, আমরা যখন এ পেশা শুরু করি তখন খালি চোখে অপারেশন করতে হতো। এখন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে অপারেশন হয়।  এখন ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতির সাপোর্ট অনেক বেশি। সব এখন আধুনিক। ডাক্তারি করাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমাদের সময়ে অনেক কঠিন ছিল। ম্যানুয়েলের উপর নির্ভর করতাম তখন। আগে আমরা হাত দিয়ে ব্লাড প্রেসার দেখতাম, নাড়ী দেখতাম। এখন সব কম্পিউটারাইজড। সব কম্পিউটারে দেখা যায়। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমাদের সময়ে চাপ খুব কম ছিল। যেহেতু মানুষ বেড়েছে ফলে রোগীও বেড়েছে। এখন চাপ খুব বেশি। নিজের পরিচালনাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখানে ছয়-সাতশ রোগী। কিন্তু বিকালে ডাক্তার থাকে মাত্র দু`জন। মাত্র দু`জন ডাক্তার দিয়ে এতোগুলো রোগী দেখা খুব কঠিন কাজ। ফলে না চাইতেও অনেক সময় রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতি হয়ে যায়। তবু আমি আমার ডাক্তারদের বলি, আমরা ডাক্তার। আমরা যদি একটু ধৈর্য্য ধরি, মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করি তাহলে মানুষ আমাদের মাথায় তুলে রাখবে। দেশের ডাক্তারদের গুণগত মান প্রসঙ্গে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শিক্ষাগত মান বা দক্ষতা কোন দিক দিয়েই আমাদের দেশের ডাক্তাররা অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে নেই বলেও মনে করেন ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের যুগে এখন চর্চার সুযোগ বেশি। ফলে কাউকে ছোট করে দেখার বা পিছিয়ে আছে ভাবার সুযোগ নেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের ডাক্তাররা এগিয়ে আছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সাথে আলাপকালে ডা. সামন্ত লাল সেন আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের সমস্যাটা হলো আমরা পারিপার্শ্বিক সহযোগিতা পাই না। আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুবীর নন্দীর হার্টের অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিল বাংলাদেশি ডাক্তাররা আমাকে স্পষ্ট বলেছেন, তাকে কিছু করার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতির যে সাপোর্ট দরকার তা আমাদের দেশে নেই। ডা. সামন্ত বলেন, আমরা যদি লজিস্টিকস সাপোর্ট ম্যানেজ করতে পারি তাহলে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যাপারে আন্তরিক এমন প্রসঙ্গ টেনে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চোখের অপারেশন দেশে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ( ডাক্তার) নার্ভাস হয়ে যাওয়ায় তিনি তা করেন নি। ওনার কখনো শরীর খারাপ করলে বা যে কোন চিকিৎসার ব্যাপারে ওনার মায়ের নামে যে হাসপাতাল তিনি সেখানে যান। আমি যেটা বিশ্বাস করি, তিনি এদেশের ডাক্তারদের উপর আস্থাশীল। এদেশের রোগীদের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে যাওয়ার একটা প্রবণতা আছে। সিঙ্গাপুর যাওয়ারও প্রবণতা আছে। এমন প্রসঙ্গে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমাদের ( ডাক্তার) প্রতি রোগীদের বিশ্বাস কম। এটা বাড়াতে হবে। আর বাড়াতে হলে রোগীকে সময় দিতে হবে। কিন্তু রোগীর এতো চাপ সরকারী হাসপাতালে সময় দেওয়া কষ্টসাধ্য। বেসরকারী হাসপাতালগুলোও যদি এ ব্যাপারে ভাবে তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ডাক্তার যদি রোগীকে সময় দেয়, তার কথা শুনে,  ভাল ব্যবহার করে তাহলে রোগীরা চিকিৎসার জন্য দেশের হাসপাতালেই যাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সাথে আলাপের এক পর্যায়ে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রোগীরা চিকিৎসার জন্য সবাই ঢাকামুখী। সামান্য একটা গলব্লাডার অপারেশনের জন্য সবাই ঢাকা মেডিকেলে ভীড় করে। আজকাল ফুটো করে যেসব অপারেশন হয় সেগুলো উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও করা যায়। কিন্তু মানুষ টাকা পয়সা সময় খরচ করে ঢাকায় ছোটে। আমি মনে করি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর দরকার আস্থা ফিরিয়ে আনা। রোগীদের বিশ্বাস অর্জন করা। তবে শুধুমাত্র ডাক্তার একা এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।  এখানে প্যারামেডিকস বা নার্সদের বড় ভূমিকা আছে। প্রশাসনের ভূমিকা আছে। এমনকী যে সুইপার তারও ভূমিকা আছে। শত সমস্যার মাঝেও আশার আলো দেখেন ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, আমার চিকিৎসক জীবন যখন শুরু হচ্ছিল, তখন পাঁচটি বেড ছিল। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে তখন ডা. ক্রাস্ট এসেছিলেন। তিনি একজন প্লাস্টিক সার্জন নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তখন ছোট একটা রুমে বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট শুরু করেছিলাম। সেই পাঁচ থেকে পঞ্চাশ, তারপর একশ, এরপর ধীরে ধীরে পাঁচশ। আমি প্রায়ই বলি বাবার হাতে পাঁচ, মেয়ের হাতে পাঁচশ। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর হাতে পাঁচ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে পাঁচশ। পাঁচ থেকে পাঁচশ - এই অবস্থানে বার্ণ ইউনিটকে পৌঁছাতে ডা. সামন্ত লাল সেনকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। মুখ বুঁজে সইতে হয়েছে অপমান। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন ফাইল নিয়ে এ টেবিল থেকে ও টেবিলে দৌড়াদৌড়ি করতাম, তখন অনেকে বলেছিল, "ওনি এসব ধান্ধা করছেন। সব টাকা পয়সা নিয়ে এক সময় ইন্ডিয়া চলে যাবেন"। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আজ আমি তৃপ্ত। পরিশ্রম বৃথা যায়নি। আজ যেখানে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে জায়গাগুলো এক সময় বস্তি ছিল। সেই বস্তি সরিয়ে সেখানে হাসপাতাল করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. সামন্ত বলেন, এর প্রতিষ্ঠার পেছনে তাদের ভূমিকা আছে। তারাই জায়গাটা খালি করিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চাকরিটা এখনো স্থায়ী হয়নি। আমি চেষ্টা করছি তাদের চাকরিটা স্থায়ী করানোর জন্য। আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল। পাঁচশ শয্যার এ হাসপাতালটি আগামী মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নবগঠিত চালু হবে বলে জানালেন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, পুরোপুরো হয়তো একসঙ্গে চালু করা সম্ভব হবে না। প্রথমে আউটডোর ও তারপরে ইনডোর এভাবে আস্তে আস্তে চালু হবে। নবগঠিত এই হাসপাতালে বারোটি আধুনিক মডিউলের অপারেশন থিয়েটার ও স্কীন ব্যাংক থাকবে বলেও জানান ডা. সামন্ত লাল সেন। আআ//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি