ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৮ ৮:৫৩:২৪, মঙ্গলবার

২০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরবো: নাজমুন নাহার

২০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরবো: নাজমুন নাহার

নাজমুন নাহার সুপরিচিত একটি নাম। বিশেষ করে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে। সারা বিশ্ব ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি একের পর এক দেশ ভ্রমণ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন সারা বিশ্বে। তিনি বিশ্বাস করেন- ‘স্বপ্ন দেখলে আর তার জন্য কাজ করলে পৃথিবীতে সবই সম্ভব’। ইতোমধ্যে তিনি ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীর বাকি দেশগুলোও ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ দেশ ভ্রমণ করে গিনিজ বুকে নাম উঠাতে চান। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নারী হিসেবে ২০০ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়তে চান। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বের কল্যানে কাজ করতে চান। সারা বিশ্বের শিশুদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। সম্প্রতি তিনি এই ১২৫ দেশ ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন একুশে টেলিভশন অনলাইনের অফিসে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদদাতা মাসুদ রানা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে এই ভ্রমণের পেছনে কে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে? নাজমুন নাহার: আমি যখন ছোট ছিলাম তখন পাখির আকাশে উড়া দেখে আমিও স্বপ্ন দেখতাম আকাশে উড়ার। তখন বাবাকে এই কথা বললে তিনি আমার সাহস দিয়েছেন। তাছাড়া বিদেশ ভ্রমণে আমার বাবা ও দাদা আমাকে সার্বক্ষণিক উৎসাহিত করেছেন। আমার দাদা উনিশ শতকের শুরুর দিকে আরব দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়িয়েছেন। বাবাও বহু দেশ সফর করেছেন। এই দুজনকে দেখে আমি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তবে বাবার উৎসাহ ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমি থেমে নেই, লাল সবুজের পতাকা হাতে দুর্বার গতিতে বিশ্ব জয় করতে এগিয়ে চলছি। বুকে আমার বাংলাদেশ। হাতে লাল সবুজের পতাকা। বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি বাংলাদেশের কথা, মানবতার কথা, বিশ্ব শান্তির কথা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি কবে থেকে এই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু করলেন?নাজমুন নাহার: আমার এই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ ছিল ভারত। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তাম। ২০০০ সালে ভারতের ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে আমার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। তখন আমি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যাই। এটাই আমার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন আমি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে আমার বিশ্ব যাত্রার শুরু। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি বিশ্বের যে দেশগুলোতে ভ্রমণ করছেন। সেগুলো কোন মাধ্যমে বেশি? নাজমুন নাহার: আসলে আমি বেশির ভাগ দেশ ভ্রমণ করেছি সড়কপথে। অনেক সময় দীর্ঘ পথ বাসে কাটাতে হয়েছে। নিজে গাড়ি চালিয়ে গেছি। কষ্ট হলেও যাত্রাটা আমি উপভোগ করেছি। এমনও অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি যে মোটরবাইকে চড়ে অনেক দীর্ঘ সময় যেতে হয়েছে। এছাড়াও কোনো দেশের একেবারে গ্রামের পথে যেতে পায়ে হেঁটেও গেয়েছি। অনেক পাহাড়ি এলাকা পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি কবে? কোন দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে একশতম দেশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন? নাজমুন নাহার: আমি ২০১৮ সালের ১ জুন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একশতম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করি। আমি বাংলাদেশের পতাকা হাতে জাম্বিয়ার সীমন্তবর্তী লিভিংস্টোন শহরে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ব্রিজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জিম্বাবুয়েতে পৌঁছাই। ইতিহাসে আমার শততম দেশ ভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইলো এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি ইতোমধ্যে ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তবে শততম দেশ ভ্রমণের সেই অনুভূতিটি কেমন ছিল? নাজমুন নাহার: সেই দিনের অনুভূতি সত্যি অসাধারণ ছিল। সেই দিন বাংলাদেশের পতাকা হাতে আমি যেন একা হাঁটেনি সেই দিন হেঁটেছিলাম বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ আমার সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো সমস্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। সেই দিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন পতাকা তলে বেড়ে উঠেছি সেই সব যোদ্ধাদের। আর তাদের জন্যই আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি বিশ্বের বুকে পতাকা তুলে ধরার পাশাপাশি আর কি ধরনের কাজ করছেন? নাজমুন নাহার: আমি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্কুল, কলেজ এবং সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনে আমার মোটিভেশনাল স্পিসের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নিজের দেশের তরুণ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছি। এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে আমি বিশ্বেও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছে দেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ভ্রমণের সময় আপনি কোন বাধা বা বিপদসংকুল অবস্থায় পড়েছিলেন কি না? নাজমুন নাহার: হ্যাঁ, হয়েছি। বাংলাদেশের পতাকা হাতে এই দুর্বার দেশ জয় কতটা কঠিন ও বিপদসংকুল অভিযাত্রা ছিলো তা বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমি মনে করি, পৃথিবীতে যা কঠিন তা সুন্দর। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণের সময়ও আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্যুকে জয় করে আজ আমার বেঁচে থাকা এই মৃত্যুঞ্জয়ী আমি বাকি সব দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছি এখনও। দুরহ পথ সাধ্য করেছি। বাংলাদেশের লাল সবুজের এই পতাকা আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই পতাকা আমাকে ছায়া দিয়েছে। বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনই আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সঙ্গে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একজন নারী এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি নারী হিসেবে এই ভ্রমণের সময় আপনার কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা? নাজমুন নাহার: আমি মনে করি, প্রথমত এটি মানসিক সংগ্রাম। এ সংগ্রামে জয়ী হতে পারলে যে কোনো জিনিসই সহজ হয়ে যায়। পৃথিবীর যেখানেই যাই সেখানে আমি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা সঙ্গে করে নিয়ে যাই। লাল-সবুজ এই পতাকা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফলে আমার জন্য সব কিছু সহজ হয়ে যায়।  একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাংলাদেশের পতাকা কেন সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন?নাজমুন নাহার: পতাকা আমার কাছে দেশপ্রেমের একটি চিহ্ন, আবেগ ও ভালোবাসা। এই পতাকার মাঝে লুকিয়ে আছে ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা। আছে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো বহু শহীদের রক্ত। তাদের কারণে আমরা এ পতাকা পেয়েছি। আমরা তো নিজ নিজ ক্ষেত্রে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। আমি ভ্রমণ করছি, পৃথিবী দেখছি। কিন্তু আমার দেশ আমার সঙ্গে যাচ্ছে এ পতাকার মাধ্যমে। আমি পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি শান্তির বার্তা। আমরা একই পরিবারের মানুষ, একই পৃথিবীর মানুষ, ধর্ম-বর্ণ, জাতি আমি যে-ই হই না কেন শেষ পর্যন্ত আমরা তো সবাই একই আকাশের নিচে বসবাস করছি । একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ১৮ বছর ধরে আপনি বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এ জন্য তো সময় এবং অর্থ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এসব আপনি কীভাবে ব্যবস্থা করলেন? নাজমুন নাহার: আমি বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে প্রথম কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছি। পরে আমি বৃত্তি নিয়ে সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। সেখানে পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখতে থাকি আরও দেশ ভ্রমণের । সেই সময় আমি বিশ্ব ভ্রমণের লক্ষ্যে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য প্রচুর কাজও করতাম। ‘আমি জানতাম কষ্ট করে উপার্জন না করতে পারলে আমি ভ্রমণ করতে পারবো না। তাই গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কোন কোন দিন আছে, আমি ১৭-১৮ ঘণ্টা ধরেও কাজ করেছি। আর সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ করছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: টার্গেট পূরনের পর আপনার কি পরিকল্পনা আছে?নাজমুন নাহার: ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি উদ্যোগ শুরু করেছি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলের শিশু ও তরুণদের স্বপ্ন দেখানো। আর তাদের কাছে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এই দেশগুলো ভ্রমণ করতে গিয়ে ভিসা সমস্যায় পড়েছেন? নাজমুন নাহার: আমি তেমন সমস্যায় পড়ি নাই। কারণ হিসেবে বলা যায়, আমি যেহেতু আমেরিকা,  বৃটেন, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ ভ্রমণ করেছি। তাই অন্য দেশে যেতে চাইলেই তারা আমাকে ভিসা দিয়েছে। তেমন কোনো সমস্যায় পড়ি নাই। তবে, একে বারেই যে সমস্যা হয়নি তা নয়, সেটা খুব বেশি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিদেশ ভ্রমণের সময় রাষ্ট্রদূতদের সহায়তা পেয়েছেন কি না?নাজমুন নাহার: বিশ্বের যেসব দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রয়েছে তাদের কাছে তেমন যাই নাই। আর আমি তেমন কোনো সমস্যায় পড়ি নাই এ জন্য আসলে তাদের সহায়তার প্রয়োজন পড়ে নাই। তবে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা বেশ হেলফুল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এই দেশগুলো ভ্রমণের জন্য কোনো স্পন্সর পেয়েছেন কি?নাজমুন নাহার: আমি স্পন্সর পাই নাই। আমার কষ্টের জমানো টাকা দিয়েই দেশ ভ্রমণ করে যাচ্ছি। এ জন্য আমাকে খুব কষ্ট করে দেশ ভ্রমণ করতে হয়। এ জন্য অনেক সময় কোনো গ্রামের ভেতর কারো গেস্ট হয়ে থাকতে হয়েছে। এমনও হয়েছে খোলা যায়গায় রাত কাটাতে হয়েছে। তবে, ইচ্ছে শক্তি থাকায় আমি একটির পর একটি দেশ ভ্রমণ করে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পরিবারের কাউকে নিয়ে দেশ ভ্রমণ করেছেন?নাজমুন নাহার: হ্যাঁ, আমি আমার মাকে নিয়ে বিশ্বের প্রায় ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছি। সেটা অন্যরকম এক ভালো লাগা। সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নাজমুন নাহার ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই নাজমুন নাহার মেধাবী এবং বিনয়ী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশের পর কৃতিত্বের সঙ্গে জেলা বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। দালাল বাজার নবীন কিশোর (এনকে) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সুইডেনে যান। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন! ব্যবসায়ী পিতা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মা তাহেরা আমিন। নাজমুন নাহার তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট। এসএইচ/
বিশাল ছাড় নিয়ে শুরু হলো পর্যটন মেলা

মানুষ ভ্রমন প্রিয়। ভ্রমন পিপাসায় বিশ্বকে দেখার জন্য বা একটু প্রশান্তির খোঁজে ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে। মানুষের ভ্রমনকে আরও শান্তিদায়ক ও কম খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। এমন দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নিয়েই শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী ‘নভোএয়ার ঢাকা ট্রাভেল মার্ট’। ‘দি বাংলাদেশ মনিটর’ আন্তার্জাতিক এ পর্যটন মেলার আয়োজন করে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে ২১ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিজিট করা যাবে। আজ বৃহস্পতিবার মেলাটি উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। মনিটর এবার ষোড়শবারের মতো মেলার আয়োজন করছে।প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার মাহবুব সুলতান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা মেলার আয়োজন করেছি। এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ৭টি দেশের ৪১টি প্রতিষ্ঠান, ৫টি প্যাভিলিয়ন ও ৭০টি স্টলে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শণ করছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলা আরও বশি জমবে বলে আশা করি। কারণ দিনে দিনে মানুষের মধ্যে ভ্রমনের চাহিদা বাড়ছে। গত বছর প্রায় ১৪ হাজার মানুষ মেলা দেখতে এসেছে এবার আরও বেশি সমাগম হবে বলে মনে করি। মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা যায় দেশি বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান। তারা ভিজিটরদের নানা অফারের মাধ্যমে আকর্ষণ করছে ও তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরছে। মেলার শুরুতেই বিশাল প্যাভিলিয়ন নিয়ে আছেন লেক্সাস হলিডেস। এ প্রতিষ্ঠানের সিইও অজিত কুমার শাহা তিনি বলেন, এবারের মেলায় আমাদের বিশাল ছাড় রয়েছে। যারা ভ্রমন পিপাসু তারা চাইলে আমাদের ‘ড্রীম ক্রুসেস’ এর মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সমুদ্র ভ্রমন করতে পারে। এই প্যাকেজে একজন যদি টিকিট বুক করে তাহলে সঙ্গে একজনকে আমরা ফ্রি দিচ্ছি। সুতরাং যে কেউ মেলায় এসে এই সুযোগটি নিতে পারে। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই আমাদের সার্ভিস রয়েছে। এসব দেশের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ আমরা ছাড় দিচ্ছি। এই মেলায় অংশ নিয়েছে রিজেন্ট এয়ার। তারাও দিচ্ছে বিশাল ছাড়। প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ আরিফ ইকবাল। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। মেলায় এসে এই তিনদিনের মধ্যে কেউ বুকিং দিলে তারা এই সুযোগ পাবেন। এছাড়া আমাদের আরেকটি অফার হলো হলিডে প্যকেজ। এই প্যাকেজের মাধ্যমে খুবই কম খরছে যে কেউ আমাদের সেবা নিতে পারে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ওমান, ব্যাংকক এসব দেশে নিয়মিত আমাদের ফ্লাইট যাচ্ছে। দেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে কিছু বিদেশি স্টল। সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তারাই মেলায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরছেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে এল এইচ ট্রাভেল মানে একটি প্রতিষ্ঠান। এ কোম্পানীর সিইও নিকিটা টেং। তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি হেসে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, এই প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। আমরা চাই এদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণ মানুষ বালিতে বেড়াতে যাক। তাদেরকে আমরা বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করবো। এছাড়া আমাদের এখানে আসলে আমরা সর্বোচ্চ ছাড়ের ব্যবস্থা করবো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মেলার একপ্রান্তে বড় একটি প্যাভিলিয়ন নিয়ে বসেছে। তারাও দিচ্ছে ছাড়। এর রেভেনিউ অপারেশন্স এনালিস্ট তবিবুর রহমান বলেন, মানুষকে ভ্রমনে আগ্রহী করার জন্য আমাদের রয়েছে বিশাল ছাড়। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যন্ড, ইয়াঙ্গুন এসব দেশে আমরা ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছি। এছাড়া কেউ কলকাতায় যেতে চাইলে ১০ শতাংশ ছাড় পাবে। এই ছাড়ের মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। কেমন লেনদেন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরও আমরা সর্বোচ্চ আয় করেছি। ২ কোটির উপরে আমাদের লেনদেন হয়েছে। এবারও আমরা ভালো আশা করছি। তবে প্রথম দিন শুরুতে লোকজন একটু কম। সামনে বাড়বে বলে আশা করছি। এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে আছে নভোএয়ার। তারা ডোমেস্টিক এয়ার সার্ভিস দিয়ে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের হেড অফ মার্কেটিং হিমাদ্রী। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে আছি। যারা দেশের মধ্যে ভ্রমন করতে চায় তাদেরকে আমরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে বিশেষ সুযোগ দিচ্ছি। মেলা চলাকালিন সময়ে যে কেউ এ সুযোগ নিতে পারে। এসি  

প্রাচীন স্থ্যাপত্যের অনন্য নির্দশন লাকমা রাজবাড়ি (ভিডিও)

প্রাচীন স্থ্যাপত্যের অনন্য নির্দশন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার লাকমা রাজবাড়ি। রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে বাড়িটির অবস্থা এখন ভগ্নপ্রায়। রাজ-রাজরার ইতিহাস জানতে এখানে দর্শনার্থীরা আসলেও আগ্রহ হারান অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আগাছার ভীড়ে। সরকারিভাবে রাজবাড়িটি রক্ষার দাবি স্থানীয়দের। দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তঘেঁষা জেলা জয়পুরহাট। জেলা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া সীমান্তের কোল ঘেঁষে লকমা গ্রামে অবস্থিত এই রাজ বাড়ি। রাজ বাড়িটি কত সালে নির্মান হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি। অনেকের মতে, বাড়িটি ১৩ শতকে লক্ষণ সেনের আমলের।  আবার অনেকে বলেন, চৌধুরী হাদী মামুন নামের কোন এক ব্যক্তি আড়াইশ বছর আগে বাড়িটি নির্মান করেন করেছিলেন। তিনতলা রাজবাড়ির একতলা অনেক আগেই দেবে গেছে মাটির নীচে। বাড়িটিতে আছে হাতিশালা, ঘোড়াশালা আর কাচাড়ি বাড়ি। রাজবাড়ির স্থাপত্য নৈপুন্য দেখতে এখনো ভীর করেন দর্শনার্থীরা। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আগাছার ভীড়ে এর নির্মাণ শৈলী দেখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে । রাজবাড়িটি সংরক্ষণের পাশপাশি, পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে এরইমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাচীন স্থাপত্যের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা লকমা রাজবাড়িটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার দাবি জয়পুরহাটবাসীর। বিস্তারিত দেখতে ভিডিওতে ক্লিক করুন :     এসএ/

টুঙ্গিপাড়ায় পর্যটন কেন্দ্রের পরিকল্পনা (ভিডিও)

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই থাকে। সমাধি ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানে পর্যটকদের জন্য নেই তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা। তবে শিগগিরই টুঙ্গিপাড়ায় আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায় ঘুমিয়ে আছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানে সমাধিসৌধ উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সী দর্শনার্থীরা এখানে এসে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স এলাকায়  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর, সংগ্রহশালা দেখে অনেক বিষয়ে জানতে পারছেন তারা। কমপ্লেক্সের পাশে আছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। শির্ক্ষাথী-দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত থাকে পার্কটি। শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থীরা, মহানায়কের সমাধি সৌধে এসে জানায় তাদের উচ্ছাসের কথা। পর্যটক ও দর্শনার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের। জাতির পিতার সমাধি ঘিরে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সচিব। নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পিত গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন :    এসএ/    

সংরক্ষণের অভাবে সুখাইর জমিদারবাড়ি (ভিডিও)

সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার শত বছরের সুখাইর জমিদার বাড়ি। জঙ্গলে ঢেকে গেছে এর বেশীর ভাগ অংশ। খসে পড়ছে ভবনের পলেস্তেরা। এছাড়া জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা। সুনামগঞ্জের সুখাই জমিদারবাড়ী। এলাকায় প্রচলিত রয়েছে, জমিদার মথুর রায় চৌধুরীর পরিবারের পূর্ব পুরুষ বাড়ীর ভেতরে একটি গোপন কক্ষ নির্মাণ করে তাতে মুল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে সেখান থেকে নানারকম ভয়ংকর শব্দ আসায় ভয়ে আর কেউ সে কক্ষে যায়নি। এখনো জমিদারবাড়ীর মালঘর থেকে ভয়ংকর শব্দ আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রাচীন কারুকাজের এই দীর্ঘ প্রাসাদটির ভেতরে রয়েছে অনেকগুলো কক্ষ। আছে মন্দির। যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। তবে সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে জমিদার বাড়ির সৌন্দর্য্য। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। জানা যায়, বৃটিশদের দুই হাজার মন চাল দিয়ে রায়বাহাদুর উপাধি পান জমিদার মথুর রায় চৌধুরী। পরে তার অনুরোধে বিট্রিশরা সেখানে হাসপাতাল, পোষ্ট অফিস ও সাবরেজিস্টারী অফিস নির্মাণ করে। বিটিশ আমলে এমন স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও গ্রামটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রাচীন এই জমিদার বাড়ি সংরক্ষণ ও পর্যটকদের জন্য যাতায়াত-সহ সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি সুনামগঞ্জবাসীর।   এসএ/  

সুন্দরবন জয় করলো বিয়ন্ড বাউন্ডারি ট্রাভেলিং ক্লাব

বিয়ন্ড বাউন্ডারি ট্রাভেলিং ক্লাব ২১-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’ জয় করলো। দেশের পর্যটন শিল্পের প্রচারণা ও সংরক্ষণে বিয়ন্ড বাউন্ডারি ট্রাভেলিং ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি ছিল বিয়ন্ড বাউন্ডারি ক্লাবের ১২তম ট্যুর। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ট্যুরে বিয়ন্ড বাউন্ডারির সম্মানিত সদস্য মোঃ মোস্তফা খায়ের, জেনারেল সেক্রেটারি ও ট্যুর ম্যানেজার মনিরুজ্জামান চৌধুরী, ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি, শাহ মোঃ আবু সাইদ, ট্রেজারার রেজোয়ান খান, গেস্ট মেম্বার তমাল উদ্দনিসহ ভ্রমণপিপাসু ৩৮ জন মেম্বার অংশগ্রহণ করেন। ‘সুন্দরবন’ ট্যুরে বিয়ন্ড বাউন্ডারি সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, কটকা, করমজল, কচিখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ ও সুন্দরবন রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে । আরকে//

অপরূপ প্রকৃতিকন্যা নেত্রকোণার দুর্গাপুর (ভিডিও)

নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুর। এখানে প্রকৃতি সেজে আছে অপরূপ রুপে। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ সোমেশ্বরী আর এক পাড়ে সাদা মাটির পাহাড় এই সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মনোরম এই দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন জাগয়া থেকে দুর্গাপুরে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে আয় হতে পারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে গারো পাহাড়। এর পাদদেশে সীমান্তবর্তী সুসং দুর্গাপুর উপজেলা। প্রবেশদ্বার বিরিশিরিতেই দর্শনার্থীদের নজরকাড়ে টংক বিদ্রোহের সাক্ষী ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি। পাহাড়ী এই জনপদে আরও আছে হাজং মাতা রাশিমনির স্মৃতিসৌধ, রানীখং মিশন, সাদা মাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদীসহ নানা দর্শনীয় স্থান। নিজেদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে বসবাস করছে গারো, হাজং ও বানাই সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসেন দুর্গাপুরে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে। সুসং দুর্গাপুরকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করে এর উন্নয়ন চান সংশ্লিষ্টরা। এসএ/    

খাগড়াছড়িতে সমৃদ্ধ হচ্ছে পর্যটন খাত (ভিডিও)

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় খাগড়াড়িতে সমৃদ্ধ হচ্ছে পর্যটন শিল্প। স্পটগুলোকে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটক বান্ধব হিসেবে। আর এ কারণেই দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। এ খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা পর্যটন স্পট, দেবতা পুকুর, রহস্যময় সুড়ঙ্গ, মায়াকানন রিছাং ঝর্নাসহ পর্যটন স্পটগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন মায়াবিনী লেকের সৌন্দর্যও টানছে পর্যটকদের। পাহাড়ের কৃত্রিম লেকে দেশীয় নৌকা ও স্পীড বোটে ভেসে বেড়ান সৌন্দর্যপিপাসুরা।  নয়নাভিরাম সাজেক ভেলিতে লেগেই থাকে পর্যটকের ভিড়। সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু রিসোর্ট। প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের সাথে সূর্যাস্ত ও সূর্যদয়ের মনোরম দৃশ্য দেখতে বার বার ছুটে আসেন পর্যটকরা। বর্ষায় মেঘেদের লুকোচুরি খেলারও দেখা মেলে সাজেকে। সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। দূর থেকে দেখা যাবে ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশের সেবা। পর্যটন স্পটগুলোকে আরো উন্নত করতে কাজ করছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। তবে পর্যটনের বিকাশে পরিবেশের ভারসাম্য রেখেই উন্নয়ন করার তাগিদ পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের।  

ঘুরে আসুন সীতাকুন্ড শিবচতুর্দশী মেলা 

ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের অন্যতম তীর্থস্থান সীতাকুন্ড। প্রায় দেড়`শ বছরের পুরনো শিবচতুর্দশী মেলার জন্য সীতাকুন্ডের পরিচিতি আজ বিশ্বজুড়ে। আগামী চার, পাঁচ ও ছয় মার্চ তিন দিনব্যাপী সীতাকুন্ডে শিবচতুর্দশী মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।     শিবচতুর্দশী মেলার অন্যতম বিশেষ দিক হলো তিন দিনে এখানে প্রায় সাত- আট লক্ষ, কখনো কখনো দশ লক্ষ লোকের সমাগম হয়। বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বের কোথাও হিন্দু ধর্মমতাবলম্বীদের এতো বড় সমাগম একসাথে হয়- এমনটি এখনো দাবি করতে পারেননি কেউ। প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় আসা পূর্ণ্যার্থীরা সারাদিন উপবাস থেকে পাহাড়ের উপর অবস্থিত মন্দিরগুলোতে দুধ ও ডাবের জল দিয়ে শিবকে স্নান করাবেন। সকল পাপ মুছে ফেলার মানসে স্নান করবেন ব্যসকুন্ডে। মূলত প্রতি বছর শিব চতুর্দশী তিথিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সীতাকুন্ড উপজেলা সদরের এই মেলার অবস্থান। সীতাকুন্ড পৌরসদর থেকে পূর্ব দিকে থেকে চলে গেছে সীতাকুন্ড কলেজ রোড। যার শেষ হয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে। এ পাহাড় বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এর সর্বোচ্চ চূড়াটির উচ্চতা প্রায় ৩৬৫ মিটার বা ১২০০ ফুট প্রায়। চূড়ায় ওঠার পথটি বেশ দুর্গম। বাজার ছেড়ে কিছুটা সামনে এগুলেই পথটি ক্রমশ: উপরের দিকে উঠে গেছে। এ পথে রয়েছে শংকর মঠ, শ্মশান, গিরিশ ধর্মশালা, ননী গোপাল তীর্থ মন্দির, ভৈরব ধর্মশালাসহ আরও অনেক দেবালয়। আরও কিছুটা পথ ওঠার পরে দেখা যাবে ভবানী মন্দির। ভবানী মন্দির ছেড়ে আরেকটু পথ এগুলেই শম্ভুনাথ মন্দির, ছোট্ট একটি পাহাড়ি ঝর্ণা। আর এখান থেকেই চন্দ্রনাথ মন্দিরের দিকে উঠতে হয়। পুণ্যার্থীদের পাহাড়ে ওঠার জন্য এখান থেকে শান বাঁধানো সিঁড়ি তৈরি করা আছে। তবে পাহাড় কেঁটে বানানো সিঁড়িগুলোর একেকটি ধাপের উচ্চতা এতো বেশি যে, একটু উঠলেই হাঁপিয়ে যেতে হয়। বেশ কিছুটা পথ কষ্ট করে উঠলেই চোখে পড়বে প্রাচীন বটবৃক্ষের পাশে দুটি মন্দির। এর মধ্যে যেটি পুরানো মন্দির সেটির নাম বিরূপাক্ষ। এ জায়গাটির উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু’শ মিটার। এখান থেকে দক্ষিণ দিকে দৃষ্টি সীমানা ছাড়িয়ে যায় বঙ্গোপসাগর অবধি। বিরূপাক্ষ মন্দির ছেড়ে পূর্বদিকে সর্পিল পথ চলে গেছে পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দিরে। শিব চতুর্দশী পূঁজা উপলক্ষে সীতাকুন্ডে মেলায় আসা পূর্ণ্যার্থীরা পাহাড় বেয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার দৃশ্য দূর থেকে অনেকটা পিঁপড়ার সারির মতো মনে হয়। বিভিন্ন মন্দিরে পূঁজা-অর্চনা করলেও ভক্তদের সবার কাছেই মূল আকর্ষণ থাকে পাহাড়ের চূড়ার চন্দ্রনাথ মন্দির। তাই দলবেঁধে সবাই ছুটেন মন্দিরটির দিকে। অনুষ্ঠানে আগত ভক্তরা অনেকেই পুণ্যস্নানে নিজেকে পবিত্র করে নেন চূড়ায় ওঠার আগে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঠিক গোড়া থেকে দুটি পথ চলে গেছে চূড়ার দিকে। মেলার সময় অতিরিক্ত লোক সমাগম হয় বলে বাঁয়ের পথটি কেবল পাহাড়ে ওঠার জন্য। আর ডানের পথটি কেবল পাহাড় থেকে নামার জন্য ব্যবহার করা হয়। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া থেকে পূর্ব দিকে নিচে নামলেই ইকোপার্কের শুরু। এটি দেশের প্রথম ইকো পার্ক। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২০০৪ সালে গড়ে তোলা হয়েছে এ ইকোপার্কটি। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে নানান প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও এ পার্কের ভেতরে রয়েছে কয়েকটি ছোট-বড় পাহাড়ি ঝর্ণা। জেনে রাখুন- চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা খুব বেশি না হলেও এর চূড়ায় ওঠার পথটি বেশ সরু এবং দুর্গম। শিব মেলার সময় ভক্তদের ভিড় থাকে বলে বেশ চাপাচাপি করে এ পথে উঠতে হয়। কিভাবে মেলায় যাবেন: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোন বাসে সীতাকুন্ড যাওয়া যায়। এছাড়া, মেলার সময় বেশিরভাগ ট্রেনই সীতাকুন্ড স্টেশনে থামে। চট্টগ্রাম শহরের অলঙ্কার মোড় থেকেও বাসে আসা যায়।   থাকার জায়গা: সীতাকুন্ডে থাকার জন্য বর্তমানে ভালো মানের বেশকিছু হোটেল রয়েছে। সাধারণ মানের হোটেলও রয়েছে অনেকগুলো। তবে সামান্য কয়েকটি হোটেল মেলায় আগত দর্শনার্থীদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই সীতাকুন্ডে ভ্রমণে গেলে চট্টগ্রামে থাকাই সবচেয়ে ভালো। চট্টগ্রাম শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের অনেক হোটেল রয়েছে। তবে, অনেক পুণ্যার্থী মেলাতে যাওয়ার সময় থাকার জন্য তাবু কিংবা বিভিন্ন বেড নিয়ে যান।   আপনিও চাইলে মেলায় ঘুরে আসতে পারেন। ধর্মীয় অনুভূতি ছাড়াও অর্জন হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। আআ/এসি  

টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে পরিজায়ি পাখি (ভিডিও)

পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়। তাদের মূল আকর্ষণ অতিথি পাখি। তবে, হাওড়ে এই মৌসুমে আসেনি আগের মত পরিজায়ি পাখি। শিকারীদের তৎপরতা আর সীমান্তে ওপার থেকে রাতে সার্চ লাইটের আলো ফেলায় পাখিদের আনাগোনা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে অন্যতম অতিথি পাখির অভয়াশ্রম টাঙ্গুয়ার হাওর। শীতে এ হাওরে সাইবেরিয়া, চীন, হিমালয়, ভারত, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হতো ২১৯ প্রজাতির পাখি। কিন্তু এ বছর হাওরে অতিথি পাখিদের বিচরন কমে যাওয়ায় পর্যটকরা হতাশ। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অতিথি পাখি আসা কমে যাবার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ আর টাঙ্গুরা হাওড়ের শীতের অন্যতম আকর্ষন রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি পর্যটক ও স্থানীয়দের। দেখুন বিস্তারিত ... এসএ/  

দেশ ভ্রমণে শতকে পা দিলেন খুলনার আসমা

একেবারে একা বেড়াতে বেড়াতে বিশ্বের ১০০টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন খুলনার মেয়ে আসমা। বারো বছর আগে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু করেন আসমা। তার পরে ভারত আর নেপাল। তত দিনে বিশ্বদর্শনের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছে। বাড়ি থেকে পিছুটান আসেনি, বললে ভুল হবে। ‘মেয়েরা এ সব পারে না,’ প্রতিবেশী-স্বজনদের টিপ্পনী জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে তার। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ ঘুরেছেন হিচ হাইক করে— ট্রাক, মোটরগাড়ি বা যে যানবাহন যখন জুটেছে, তাতে সওয়ার হয়ে। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ভিড়ে। হন্ডুরাসের ইউটিলার সৈকতে ক্যারিবীয় সাগরে পা ভিজিয়ে ভেবেছেন— দুনিয়ার সব সৈকত কেন এত সুন্দর হয় না! লরিতে দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে তার পর ১২ মাইল ধুলো ওড়ানো পথ হেঁটে পৌঁছে যান বলিভিয়ার ভালেগ্রান্দেতে। প্রত্যন্ত এই গ্রামের স্কুলে গুলি করে মারা হয়েছিল চে গেভারাকে। ফিজি, অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে বড় সুন্দর লেগেছিল দেশটিকে। কাজও জুটে গেল সেখানকার রেড ক্রশে। এখন বছর দেড়েক টানা কাজ করেন সেখানে আর অস্ট্রেলিয়ার পারথে। তার পরে ৪ মাস বেড়ানো, এক মাস বাংলাদেশে গিয়ে বাবা-মা আর ভাইয়ের সঙ্গে থাকা। ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল, নেননি। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সন্তান তিনি। বাংলাদেশের পাসপোর্টই রেখেছেন, সেই পাসপোর্টেই দেশ-বিদেশ ঘুরছেন। বিপাকেও পড়তে হয়েছে। ভিয়েতনামে ঢোকার পরে ফিরতি বিমান টিকিট দেখতে চাওয়া হয়। অথচ কথা ছিল সড়ক পথে কাম্বোডিয়া যাবেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট বলেই যে অভিবাসন কর্তারা কানে কথা তুলছেন না তা লক্ষণে বুঝেছিলেন। ঠাঁই হল জেলে। ২৪ ঘণ্টা পর গলাধাক্কা দিয়ে ফেরত। তুরস্ক থেকে টুরিস্ট বোটে সাইপ্রাস যাওয়ার পরেও আসমাকেই বেছে আলাদা করা হল। তিনি যে থেকে যাবেন না, নিশ্চয়তা কী? সে বারও ডিপোর্ট করার আগে ২৭ ঘণ্টার জেল। তবু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়েননি আসমা। বেড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ দেশান্তরের বিপদ নিয়েও প্রচার করেন আসমা। সারা জীবনের সঞ্চয় বাজি রেখে বেআইনি ভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমানো যে প্রাণঘাতী হতে পারে, দালালরা সে কথা বলে না। বিপন্ন মানুষদের ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিয়ে আসমা সাবধান করেন সবাইকে। বাংলাদেশে বন্ধুদের বলেন, বেরিয়ে পড়ো। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরেও যে কী সুন্দর একটা পৃথিবী রয়েছে দেখো। সভ্যতা, জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাসে কত বৈচিত্র, কত আনন্দ। যেখানে যান, সেখানকার খাবার চেখে দেখেন আসমা। ঘোড়ার মাংসের ঝাল চচ্চড়ি, কুমিরের ডালনা, হাঁসের রক্তের বরফি। বিয়ের জন্য চাপ আসায় বাড়িতে বলেছিলেন, ৫০টা দেশ দেখে তবে। ২০১৪-য় ব্রাজিলে পা রাখতেই ৫০ পূর্ণ হয়। গত অক্টোবরে তুর্কমেনিস্তানে ১০০। শুধু বিয়েটা এখনও করা হয়ে ওঠেনি বছর ৩৩-এর বিশ্বনাগরিক আসমার। তবে করবেন। তাই বাদ রেখেছেন সুইৎজ়ারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডসকে। ভেবে রেখেছেন, বরকে সঙ্গে নিয়েই যাবেন ওই দুই স্বপ্নের দেশে। এমএইচ/

ভ্রমণপ্রেমী ব্রিটিশ তরুণী ন্যান্সি বাংলাদেশে  

ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা/তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা/ও সে যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা/এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গানটিতে বাংলার আবহমান গ্রামীণ সৌন্দর্য আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। সত্যিই এমন মায়া মমতাময় চিত্র আর অপরূপ সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে। আর হয়তো এ কারণেই ব্রিটিশ নাগরিক এলিস ন্যান্সি টেইলর (২৮) বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের রাইট রবিনসন কলেজের সাবেক শিক্ষক এই নারী ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। প্রকৃতি, মানুষ আর বৈচিত্র্যের আহ্বানে। কখনও সড়কপথে তার বাহন সাইকেল আবার কখনও নদীপথে রাবারের ভেলায়। ভ্রমণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে যোগ দেন ম্যারাথনে। এবার তার ইচ্ছা নদীপথে বাংলাদেশের গ্রাম জনপদ দেখার। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে আসেন ন্যান্সি। বাংলাদেশি বন্ধু রাসেলের সঙ্গে যান নীলফামারীর ডিমলার নদী বেষ্টিত গ্রামগুলোতে। রাসেলের পরিকল্পনাতেই নদীপথে বাংলাদেশকে রাবারের ভেলায় চড়ে দেখার পরিকল্পনা করেন তিনি। বন্ধু রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে দুটি রাবারের ভেলায় নীলফামারীর ডিমলা থেকে পাঁচ দিনে নৌপথে বৈঠা চালিয়ে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্রে আসেন। নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্ট থেকে যাত্রা করেন ন্যান্সি ও বন্ধু রাসেল। গ্রাম আর চরে নেমে সাধারণ মানুষের ঘরে বিশ্রাম নেন এই পথে আসার সময়। মঙ্গলবার তিস্তা নদী পরিভ্রমণ শেষে ঢুকে পড়েন গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে। ব্রহ্মপুত্র নদ ধরে চলে আসেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে। গাইবান্ধায় এসে রাসেলের ভেলা ফেটে যাওয়ায় দুঃসাহসী এই অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। রাতে গাইবান্ধার একটি রেস্টহাউসে উঠেন তারা। বন্ধু রাসেল ঢাকায় ফিরে যেতে চাইলেও অভিযাত্রার ছন্দপতন টানতে নারাজ অদম্য সাহসিকা এলিস ন্যান্সি। একাই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার পরিকল্পনায় অটল থাকেন তিনি। ব্রিটিশ তরুণী এলিস ন্যান্সি জানান, রাসেলের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বহু দিনের। তারা একসঙ্গে ঘুরেছেন ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশে। কিলিমানজাদারো পাহাড়ে, আমাজান ফরেস্টে, ব্রাজিলে কিংবা গভীর সমুদ্রে। ভ্রমণ প্রসঙ্গে ন্যান্সি টেইলর বলেন, আমরা দুজন দুটি ভেলায় যাত্রা করেছিলাম। রাসেলের ভেলাটি ফেটে যাওয়ায় সে যেতে পারছে না। কিন্তু এই সুযোগ আমি ছাড়তে চাই না। আমরা এ রকম চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। নদীপথে যেতে যেতে গত পাঁচ দিনে বাংলাদেশের মানুষের অতিথিপরায়ণ মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ন্যান্সি আরও বলেন, এতো সুন্দর নদী আর প্রকৃতি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। নিস্তব্ধ চরে অতিথি পাখির ঝাঁক তার মন কেড়েছে। যাত্রাপথে যেখানেই বিশ্রাম বা রাত যাপনের জন্য ক্যাম্প করেছি সেখানেই মানুষ আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। ভাষা না জানলেও চরের নারীরা তাকে জড়িয়ে ধরে তাদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছে। সবচেয়ে ভালো খাবার রান্না করে খাইয়েছে। ফিরে আসার সময় কেউ কেউ চোখের পানিও ফেলে। মানুষ এত ভালো হয় কী করে! মাহফুজুর আহমেদ রাসেল জানান, ইংল্যাল্ডে পড়তে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ন্যান্সির। কাজ করে টাকা জোগাড় করে বন, পাহাড়, বরফের প্রান্তর, সমুদ্র, নদী দেখার জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ উন্মাদনা প্রথম দিকে তার কাছে অদ্ভুত মনে হতো। কিন্তু এক সময় তিনিও ভিড়ে যান সেই দলে। দুই বছর আগে দেশে ফিরে ঢাকার ছেলে রাসেল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় নিজের আবাস গড়ে তোলেন। বন, পাহাড় ছাড়া এখন তার কিছুই ভালো লাগে না। মাহফুজ দেশে ফিরলেও যোগাযোগ নষ্ট হয়নি। রাসেল বলেন, কথা বলার সময় ন্যান্সি বারবার একটি ম্যাপ দেখছিলেন। বারবার বলছিলেন, বল তো পুরো বাংলাদেশ নদী দিয়ে ঘুরতে কত সময় লাগবে। ন্যান্সি আরও বলেন, ‘ম্যাপ দেখে আমরা দক্ষিণ দিকে রওনা হয়েছিলাম। যত সময় লাগুক, যত কষ্ট হোক, ইচ্ছে ছিল সব কটি নদী কিভাবে এক হয়ে সাগরে মেলে সেটি দেখার। সেখান থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার। পথে কত সৌন্দর্য আর মানুষের সঙ্গে দেখা হবে। তাই আমি হাল ছাড়িনি। এবার যদি না হয়, আবার ফিরে আসব। ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও উন্নত সংস্কৃতির কথা আমি জানি। তিনি বলেন, ন্যান্সি এখন আমাকে ছাড়াই একা নদীতে নেমেছে। আমার মন ভীষণ খারাপ। কারণ শুধু প্রকৃতির কাছে যাওয়ার লোভে কোনো ব্যক্তিগত জীবন গড়ে তুলিনি। শুধু ভেলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় দুই বছরের পরিকল্পনার সঙ্গে আমার থাকা হলো না।   এসএইচ/

১২৫ দেশে লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরলেন নাজমুন

লাল সবুজের পতাকা হাতে বিশ্ব মানচিত্রের ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশের নারী নাজমুন নাহার। এবারের তিন মাস সফরে টানা সড়ক পথে ভ্রমণ করেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। আজ সোমবার সকালে সড়ক পথে তিনি পৌঁছান নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গত তিন মাস তিনি তার ভ্রমণের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তের মোকাবেলা করেন পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে। সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সব দেশ গুলো ভ্রমণের জন্য যে ভাবে ম্যাপ করেছেন নাজমুন ঠিক সে ভাবেই তিনি পাড়ি দিয়েছেন। তিনি মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার, নাইজেরিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ অতিক্রম করেন। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণ অনেক চ্যালেঞ্জিং হলেও এই আফ্রিকার গোল্ড কোস্ট লাইনের দেশগুলো তাকে অনেক দুর্লভ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তার এই দুর্দান্ত যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। কোনো বাঁধাই তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। লাল সবুজের পতাকা হাতে সাহারার তপ্ত মরু থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশ, পর্বত শৃঙ্গ, শহর, বন্দর, আফ্রিকার দুর্গম জঙ্গল সব জায়গায় যার পদচিহ্ন পড়ছে একে একে। সব কঠিনকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের এই নারী সম্প্রতি কয়েক হাজার মাইল সড়ক পথে পাড়ি দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার সব কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে এক অনন্য মাইল ফলক গড়েন। পাশা পাশি তিনি তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে তিনি স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান। বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার এই দুর্বার দেশ জয় কতটা কঠিন ও বিপদসংকুল অভিযাত্রা ছিলো তা নিয়েই তিনি বলেন- যা কঠিন তা সুন্দর। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণের সময়ও আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্যুকে জয় করে আজ আমার বেঁচে থাকা এই মৃত্যুঞ্জয়ী আমি বাকি সব দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছি এখনও। দুরহ পথ সাধ্য করেছেন নাজমুন নাহার। বলা চলে হার না মানা বাংলাদেশের এই সাহসী নারী। তিনি বলেন- ` বাংলাদেশের লাল সবুজের এই পতাকা আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই পতাকা আমাকে ছায়া দিয়েছে অনেক।বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনি আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সঙ্গে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ। এসএইচ/

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি