ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:১৯:৩৮, রবিবার

সোশাল মিডিয়া বাচ্চাদের ‘মানসিক সমস্যা তৈরি করছে’

সোশাল মিডিয়া বাচ্চাদের ‘মানসিক সমস্যা তৈরি করছে’

শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কুফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ও শিশুকল্যাণ বিশেষজ্ঞ। ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে তার অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। সম্প্রতি একদল মার্কিন শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এতে তারা ‘মেসেঞ্জার কিডস’ নামে বাচ্চাদের মেসেজিং অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ১৩ বছরের কম বয়সীদের এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করাটা দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তারা বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন যে সামাজিক মাধ্যমের কারণে কিশোরকিশোরীদের মানসিকতায় অস্বাভাবিক সব পরিবর্তন হচ্ছে, ১০ বছরের মেয়েও তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগছে। ২০১৭ সালে রয়াল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ একটি জরিপ চালায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়স্ক দেড় হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর। এতে দেখা যায় স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম তাদের মনে সবচেয়ে বেশি হীনম্মন্যতা এবং দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছে ইনস্টাগ্রামের কারণে তাদের নিজেদের দেহ নিয়ে মন খারাপ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের তরুণতরুণীদের অর্ধেকই বলেছে ফেসবুকের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি বেড়ে গেছে। দু-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছে, ফেসবুকের কারণে সাইবার বুলিয়িং বা অনলাইনে অপমান-হয়রানি করার প্রবণতা আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। কানাডার এসোসিয়েশন অব মেন্টাল হেলথ দেখেছে যে, সাত থেকে ১২ তম গ্রেডের যে সব শিক্ষার্থী দিনে দু’ঘণ্টার বেশি সোশাল মিডিয়ায় কাটায়, তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি! কানাডার কলেজিয়েট মেন্টাল হেলথ দেখেছে, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যে তিনটি সমস্যায় ভুগছে তা হলো উদ্বেগ, হতাশা আর উৎকণ্ঠা।
ভিডিও গেম আসক্তি মানসিক অসুখ

আধুনিক বিশ্বে উন্মাদনার অপর এক নাম ভিডিও গেমস। বহু বছর ধরে ভিডিও গেম হয়েছে আরও বেশি জনপ্রিয়, উপভোগ্য এবং চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ভিডিও গেম বা কম্পিউটার গেমের নেশা যে একটি মানসিক রোগ- এটি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারই স্বীকৃতি। তারা বলছে, এটা এমন এক ধরনের আচরণ যা জীবনের আর সব কিছুর আকর্ষণ থেকে একজনকে দূরে সরিয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজেস বা আইসিডি হলো এমন একটি গাইড যেখানে বিভিন্ন রোগের কোড, লক্ষণ এবং উপসর্গ সম্পর্কিত বিস্তারিত থাকে। চিকিৎসক এবং গবেষকরা এটির সঙ্গে মিলিয়ে রোগ নির্ণয়ের করার চেষ্টা করেন। গেমিং আসক্তিকে কখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা হবে, তার বিবরণ হিসেবে এ গাইডলাইনে বলা হয়েছে যে, ১২ মাস ধরে অস্বাভাবিক গেমিং আসক্তি বা আচরণ দেখা গেলে তা নির্ণয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে কারও ক্ষেত্রে যদি অস্বাভাবিক আচরণের মাত্রা অনেক বেশি হয়, তখন ১২ মাস নয়, তার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যে সব লক্ষণের কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে গেমিং নিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা (বিশেষ করে কত ঘন ঘন, কতটা তীব্র এবং কত দীর্ঘ সময় ধরে গেমিং করছে সে বিষয়ে), গেমিংকেই সবচেয়ে প্রাধান্য দেওয়া এবং নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও গেমিং অব্যাহত রাখা বা আরও বেশি গেমিং করা। অবশ্য এর আগেই পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে গেমিং আসক্তিকে প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশে তো ইতোমধ্যে এর চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট এডিকশন ক্লিনিক পর্যন্ত রয়েছে! মার্কিন শিশু-কিশোরদের অটিজম, মনোযোগ হ্রাস, হতাশা ও তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে ভিডিও গেম আসক্তির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সাবরিনা সুলতানার ক্যান্সার যুদ্ধের গল্প

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী প্রায় এক বছর আগে গলায় অসুবিধা বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। প্রথমে তিনি একজন নামী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তেমন একটা গুরুত্ব দেননি তার সমস্যাটি সমাধানে। চিকিৎসক বলেছিলেন, এটি আসলে কোন সমস্যাই নয়। এরই মধ্যে সময় কেটে গেল তিন মাস। অন্য আরেকটি শারীরিক সমস্যা নিয়ে তিনি যখন ভিন্ন এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন ওই চিকিৎসক তার ক্যান্সার হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর এই চিকিৎসা হচ্ছে দেশের বাইরে। ক্যান্সার হলেই নিশ্চিত মৃত্যু এমন ধারণা এখনো অনেকের মাঝেই বদ্ধমূল। কিন্তু সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন, আশা করছেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কিছুদিনের মধ্যেই। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন একটি পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, দেশটিতে চলতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। ক্যান্সার হওয়ার পর একজন আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার পরিবারের উপর তা কতটা মানসিক চাপ তৈরি করে, সেটি হয়তো বলে বোঝানো খুব কঠিন। অনেকই হাল ছেড়ে দেন। আবার অনেকে লড়াই চালিয়ে যান - সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী সে রকমই একজন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে প্রবল মনোবল নিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন এই শিক্ষক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি বরং অন্যদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আমার মনোবলটা অটুট ছিল।’ সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রথম বার্তাটি হচ্ছে, একেবারেই আতংকিত হওয়া যাবে না। আমরা প্রত্যেকে সবসময় নানা স্ট্রাগলের (সংগ্রাম) ভেতর দিয়ে যাই। সবকিছুর সাথে আমরা যেভাবে লড়াই করি, ক্যান্সারের সাথেও সেভাবে লড়াই করতে হবে।আমি বলবো যে দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে লড়াই করতে হবে।’ চিকিৎসকরা বলছেন, সময় মতো ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিরাময়ও সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যা আছে, তা একদিকে যেমন অপ্রতুল, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক ব্যয়বহুল। আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েও পড়ছেন। তবে কেবল ওষুধপত্র নয়, ক্যান্সার নিরাময়ে সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর মতো প্রবল ইচ্ছেশক্তি থাকাটাও দরকার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বাংলাদেশের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আহমেদ সাঈদ বলছেন, এক্ষেত্রে চিকিৎসা এবং ঔষধ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর মনোবল। ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে যারা বেঁচে আছেন, তাদের উদাহরণগুলো যদি অন্য ক্যান্সার রোগীদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে তাঁরা অনুপ্রাণিত হবেন বলে মনে করেন চিকিৎসক আহমেদ সাঈদ। তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী আছে যারা ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে ১৫-২০ বছর ভালো আছেন।’ চিকিৎসকরা বলছেন, সময় যেমন বদলেছে তেমনি ক্যান্সার চিকিৎসার নানা পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে। সুতরাং ক্যান্সার হলেই নিশ্চিত মৃত্যু - অনেক ক্ষেত্রেই এ ধারণা এখন আর আগের মতো নেই। তবে একই সাথে ক্যান্সার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ জরুরী বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণে সচেতনতার মাধ্যমে বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বাবা-মায়েদের মারাত্মক ৫টি ভুল

সন্তান বড় হয়ে কেমন মানুষ হবেন, তার একটা বড় দায় কিন্তু বর্তায় অভিভাবক এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর। সব অভিভাবকই চান যে তার সন্তান জীবনে সফল হোক বা তার জীবনে ভাল হোক, সেই মতোই সন্তানের বিষেয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তারা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কিছু ভুল করে বসেন অভিভাবকেরা এবং তার ফলাফল খুব একটা ভাল হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক অভিভাবকদের এমন পাঁচটি ভুল- প্রথম ভুল বেশিরভাগ বাবা-মায়েদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হয় তারা সন্তানকে নিয়ে বড্ড বেশি ব্যতিব্যস্ত, নয়তো উদাসীন। এই দুটির কোনওটাই ভাল প্রভাব ফেলে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কড়া শাসন প্রয়োজন যেমন, আবার কখনও কখনও প্রশ্রয়ও দরকার। দ্বিতীয় ভুল সন্তানকে ভালভাবে না বোঝা। বেশিরভাগ অভিভাবক এই বিষয়টার উপর গুরুত্বই দেন না যে তার সন্তান একজন স্বতন্ত্র মানুষ। সে তার মতো হবে এবং হতে চাইবে। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, তার ভাললাগা এবং তার বুদ্ধিবৃত্তি কতটুকু সেটা বুঝতে হবে প্রথমে। এমনটা নয় যে কেউ বিদূষী বলে তার সন্তানকেও বিদ্বান হতেই হবে। তৃতীয় ভুল সন্তানের প্রতি উদ্বেগ তার সামনে প্রকাশ করলেই সন্তান সঠিক পথে চলবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং উদ্বেগটা মনের মধ্যে রেখে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াটাই উচিত। বাবা-মার উদ্বেগ দেখে খুব হাতেগোনা সন্তান নিজে থেকে ঠিক পথে চলে। তাকে হাত ধরে ঠিক রাস্তায় নিয়ে আসতে হয়। চতুর্থ ভুল সন্তানের গায়ে কোনও লেবেল এঁটে দেওয়া হল সবচেয়ে খারাপ বিষয়। সে ‘স্মার্ট’ নাকি ‘ক্যাবলা’, ‘ভাল ছেলে’ না ‘বাজে মেয়ে’, কথায় কথায় এই বিচার করলে তার কুপ্রভাবই পড়ে সন্তানের উপর। এর সঙ্গেই চলে আসে তুলনামূলক আলোচনা। অমুকের চেয়ে ভাল বা তমুকের চেয়ে খারাপ। এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে অভিভাবকদের। পঞ্চম অভিভাবককে সব সময় ছেলেমেয়েদের ‘রোল মডেল’ হতে হয় না। যারা সেই চেষ্টা করেন, তারা সন্তানের চোখে তখন ছোট হয়ে যান যখন তাদের খামতিগুলো সন্তানের চোখের সামনে আসে। আর তখনই সন্তান তাদের অভিভাবকত্বকে অস্বীকার করতে শুরু করে দেয় মনে মনে। সূত্র: এবেলা একে//

এর চেয়ে বেশি লবণ খেলেই বাড়বে বিপদ: ডব্লিউএইচও

খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। খাবার যেমন লবণ ছাড়া স্বাদহীন, তেমনই খাবারে লবণ অতিরিক্ত হয়ে গেলেও তা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, মাত্রাতিরিক্ত লবণ আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষেও মারাত্মক ক্ষতিকর! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) -এর স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বাধিক ২ হাজার মিলিগ্রাম বা ২ গ্রাম লবণ খেতে পারেন। ২ গ্রামের বেশি লবণ খেলেই উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যাসহ একাধিক সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত লবণের কুপ্রভাব পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শরীরে। এই সময় শরীরে অতিরিক্ত লবণ গেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় আর তার প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ শিশুর ওপর। এ ছাড়াও, অতিরিক্ত লবণ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এরই সঙ্গে তীব্র মাথা ব্যাথা, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, অসাড়তা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবসহ নানা রকম শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল বৃক্ক বা কিডনি। আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ কিডনি। শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে কিডনিরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই বুঝে শুনেই লবণ খাওয়া উচিত। না হলেই বাড়বে নানা সমস্যা আর ভোগান্তি। সূত্র: জি নিউজ একে//

দাঁড়িয়ে পানি পান করলেই ৫ বিপদ!

বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য উপাদান হলো পানি। আসলে পানি খাওয়ার ফলে শুধু আমাদের তেষ্টাই মেটে না, সেই সঙ্গে শরীরে পানির মাত্রা বা ভারসাম্যও বজায় থাকে। কিন্তু কীভাবে পানি খান আপনি? জানেন কি সঠিক পদ্ধতিতে পানি না খেলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে! যেমন, অনেক সময় তাড়াহুড়োয় আমরা অনেকেই দাঁড়িয়ে পানি খাই। আর এতেই হতে পারে বিপদ! ভাবছেন, তাহলে রাস্তা-ঘাটে তেষ্টা পেলে কী করবেন? তখন তো দাঁড়িয়েই পানি খেতে হবে! উপায় আছে... তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার বিপদটা কোথায়! উদ্বেগ বাড়ে দাঁড়িয়ে পানি খেলে আমাদের স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বেড়ে যায় রক্তচাপ। ফলে এভাবে পানি খেলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় দাঁড়িয়ে পানি খেলে শরীরের ভিতরে থাকা ছাকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে শরীর পরিশ্রুত করার কাজ বিঘ্নিত হয়। আর শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় দাঁড়িয়ে পানি খেলে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে। ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে দাঁড়িয়ে পানি খেলে আমাদের বুকের পেশিতে চাপ পড়ে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের উপরেও চাপ সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। পাকস্থলীতে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় দাঁড়িয়ে পানি খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত পাচক রসের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে হজমের নানা সমস্যা তৈরি হয়। হতে পারে গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ-এর মতো হজমের অসুখও। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক পানি খাওয়ার সঠিক নিয়ম- ১) বসে পানি খান। ২) ছোট ছোট চুমুকে পানি খান। ৩) ছোট ছোট চুমুকে মুখ নামিয়ে বা সামনের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে সহজেই সুস্থ, সতেজ থাকা সম্ভব। থাকবে না কোনও বিপদের ঝুঁকিও। সূত্র: জি নিউজ একে//

ঘুমের ওষুধ খেলে জন্মাতে পারে বিকলাঙ্গ শিশু!

ঘুম নিয়ে অনেকেরই খুব সমস্যা হয়। রাত হলে ঘড়ি ধরে বিছানায় যান ঠিকই, কিন্তু ঘুম কিছুতেই আসে না! ঘুমের জন্য অপেক্ষায় বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে রাত কাবার হয়ে যায়। এমন সমস্যায় যারা আছেন, তারা অনেকেই ঘুমানোর জন্য ঘুমের ওষুধের সাহায্য নিয়ে থাকেন। কিন্তু ঘুমের ওষুধের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও! আসলে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস আমাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়। এ ছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয় বেশ কয়েকগুণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছরে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ ৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসের ফলে। মার্কিন গবেষক ড্যানিয়েল ক্রিপকে জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বছরে ১৩২ বা তার বেশি বার ঘুমের ওষুধ খান তাদের শরীরে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ, মাথার যন্ত্রণা, স্নায়ুঘঠিত বিভিন্ন সমস্যা, হৃদরোগের মতো একাধিক জটিল সমস্যা। ক্রিপকে জানান, গর্ভবতী নারীরা যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খান, সে ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গর্ভস্থ ভ্রুণ। যার প্রভাবে জন্মাতে পারে বিকলাঙ্গ শিশুও। এ ছাড়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ঘুমের ওষুধ রক্তের লোহিত বা শ্বেত কণিকার কার্যকারিতাও কমিয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চিকিত্সকের অনুমতি ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন। সূত্র: জি নিউজ একে//

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে অন্তর্বাস!

মদ্যপান আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণ পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে, এ কথা কমবেশি অনেকেরই জানা। কিন্তু এই সবের সঙ্গে আরও একটি বিষয়কে এই সমস্যার অন্যতম কারণ বলে দায়ী করছে আধুনিক গবেষণা। পিতৃত্বের স্বাদ পেতে হলে এবার আপনাকে নজর দিতে হবে নিজের পোশাক-আশাকের প্রতিও। শুক্রাণু বা স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে ফেলতে না চাইলে এবার থেকে সচেতন থাকতে হবে অন্তর্বাস বাছার ক্ষেত্রেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটার বীর্যে দেড় কোটি বা তার বেশি শুক্রাণু থাকাটাই সুস্থতার লক্ষণ। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা আঁটসাঁটো অন্তর্বাসের বদলে বক্সার জাতীয় ঢিলেঢালা অন্তর্বাসেই এই সুস্থতা ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছে। সম্প্রতি ৬৫৬ জন ১৮ থেকে ৫৬ বছর বয়সী সুস্থ পুরুষদের নিয়ে একটি গবেষণা চালান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। প্রত্যেকেরই রক্ত ও শুক্রাণুর নমুনা নেওয়া হয় ও অন্তর্বাস সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নোত্তর চলে। সম্প্রতি তাদের হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত হয় এই গবেষণার রিপোর্ট। তাতে দেখা গেছে, শুক্রাণুর সংখ্যা বা ঘনত্ব দুই ক্ষেত্রেই যে ৩৪৫ জন পুরুষ বক্সার জাতীয় অন্তর্বাস বা ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরেন, তাদের ফলাফল বেশি ভাল। কেমন তা? গবেষণায় প্রকাশ, এই ৩৪৫ জনের শুক্রাণুর সংখ্যা অন্যদের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। পিতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম জরুরি বিষয় শুক্রাণু ঘনত্ব। সেটিও এই ৩৪৫ জনের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশেরও বেশি ছিল। সক্রিয় শুক্রাণুও ছিল অন্যদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। সারা বিশ্বেই পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হিসেবে অন্তর্বাসের আদৌ কোনও ভূমিকা আছে কি-না জানতে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই গবেষণার প্রধান লিডিয়া মিনগুয়েজ-অ্যালারসিয়ন জানান, সন্তান না হওয়ার কারণ খুঁজতে বসলে জানা যায়, প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরাও দায়ী থাকেন। অন্য কোনও অসুখ বা যৌনরোগ না থাকলেও সুস্থ পুরুষদের মধ্যেও আজকাল এই বন্ধ্যাত্বের প্রবণতা বাড়ছে। জীবনযাপনের কোন কোন ভুল এই অসুখকে বাড়িয়ে তুলছে, তা দেখতেই এমন গবেষণা। তবে এই ধরনের গবেষণার সীমাবদ্ধতাও আছে। অন্তর্বাসের কাপড় ঠিক কেমন হওয়া উচিত বা একটানা কতক্ষণ অন্তর্বাস পরা বন্ধাত্বের সমস্যা ঠেকাতে কার্যকর, এমন কোনও তথ্য এখনই উঠে আসেনি গবেষণায়। তবে তা সত্ত্বেও এই গবেষণা এই সংক্রান্ত অসুখ নিরাময়ে নতুন পথের সন্ধান দিতে সক্ষম বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তার মতে, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই গবেষণাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এত বেশি মানুষের উপর এমন গবেষণা আগে কখনও হয়নি। তবে খুব আঁটসাঁট অন্তর্বাস শরীরে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (এফএসএইচ) ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে এর প্রভাবে শুক্রাণু কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ইনস্ট্যান্ট নুডলস খেলে মারাত্মক যে ৬ ক্ষতি হয়

দ্রুত গতির জীবনে অনেকেই নিজেদের খাবারের দিকে সেভাবে নজর দিতে পারেন না। কোনটা স্বাস্থ্যকর, কোনটা অস্বাস্থ্যকর- সেটা না ভেবেই তারা খাবার খান। আর এর মধ্যে অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত শরীরের জন্য মোটেই উপকারী নয়, বরং মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকে থাকবে ইনস্ট্যান্ট নুডলস। সময়ের অভাবেই হোক বা স্বাদ পছন্দ বলেই হোক- অনেকেই নিয়মিত এই ইনস্ট্যান্ট নুডলস দিয়ে পেট ভরান। কিন্তু এর ফলে শরীরের যা যা ক্ষতি হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা মোটেই সচেতন নন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এর কারণে কী কী ক্ষতি হতে পারে, দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা- ফাইবার আর প্রোটিন নেই এই ধরনের নুডলস-এ ফাইবারের পরিমাণ খুব কম। এবং এতে প্রোটিনের মাত্রাও কম। ফলত এই জাতীয় নুডলস ওজন বাড়ায়। এবং ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনুষাঙ্গিক সমস্যা হিসেবে হাজারো জিনিস হাজির হয়। মেটাবলিক সিনডরম পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে যারা সপ্তাহে অন্তত একবার ইনস্ট্যান্ট নুডলস খান, তারা এই সমস্যায় ভোগেন মারাত্মকভাবে। ফাস্ট ফুড-এর গোত্রের মধ্যে যারা অন্য খাবার খান, তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা ততটা নয়, যতটা ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এর ক্ষেত্রে হয়। পুরুষদের থেকে নারীদের এই সমস্যা অনেকটাই বেশি ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এর কারণে। ক্যানসারের আশঙ্কা ইনস্ট্যান্ট নুডলস হজম হতে অনেকটা সময় নেয়। যদি তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়, তাহলেও বিপদ আছে। সে ক্ষেত্রে ব্লাড সুগারের পরিমাণ এবং ইনসুলিনের পরিমাণও গণ্ডগোল করে দিতে পারে এটি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই নুডলস হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়। এবং তাতে বিপদ বাড়ে। কারণ সে ক্ষেত্রে শরীরের মধ্যে টক্সিক পদার্থ অনেক বেশিক্ষণ ধরে এর থেকে নির্গত হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় যাদের বলে বিউটিলেটেড হাইড্রক্সিঅ্যানিসোল এবং টি-বিউটিলহাইড্রোকুইনন সেই মারাত্মক ক্ষতিকারক দু’টি যৌগ শরীরে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকে। এই দু’টিই ক্যানসারের মতো অসুখ ঘটাতে পারে শরীরে। হৃদরোগের আশঙ্কা ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এর মধ্যে লবণের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এবং এই লবণের বেশির ভাগটাই সোডিয়াম। ফলে যারা বেশি মাত্রায় এই জাতীয় নুডলস খান, তাদের শরীরে লবণের মাত্রা বেড়ে যায়, এবং সেই কারণে বাড়তে থাকে রক্তচাপ। তাই ইনস্ট্যান্ট নুডলস সরাসরি ক্ষতি করে হৃদযন্ত্র বা হার্টের। ভ্রুণের ক্ষতির আশঙ্কা যদিও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই জাতীয় ইনসট্যান্ট ফুড বা ফাস্ট ফুড খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ। কিন্তু যারা না জেনে গর্ভাবস্থায় এই জাতীয় নুডলস খান, তাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ভ্রুণ নষ্টও হয়ে যেতে পারে ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এ থাকা টক্সিক বা বিষাক্ত পদার্থের কারণে। ওবেসিটির আশঙ্কা ইনস্ট্যান্ট নুডলস-এ থাকে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি)। অনেক ইনস্ট্যান্ট খাবারেই এই যৌগ ব্যবহার করা হয়। খাবারের গন্ধ এবং স্বাদ ভালো করার জন্য ব্যবহার করা হয় ওই যৌগটি। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, নাকি ক্ষতিকারক নয়- তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে কোনও বিতর্কই নেই- এমএসজি দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে গেলে ওজন বৃদ্ধি হয়। এই কারণে এমএসজি চিকিৎসকরাও সেই সব রোগীদের দেন, যারা দুর্বলতা বা কম ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। কারণ ওষুধ হিসেবে এই যৌগটি ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। আন্দাজ করাই যায়, কেন ইনস্ট্যান্ট নুডলস দীর্ঘদিন খেলে ওজন বাড়ে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

মাতৃত্বকালীন ছুটির পর কাজ শুরু করা কতটুকু কঠিন?

একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০১৪ সাল থেকে গবেষক হিসেবে কাজ করতেন সাদিয়া খান। চার বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০১৭ সালের শেষ দিকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে যান তিনি। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে কাজে যোগদানও করেন। কিন্তু সে চাকরি আর বেশি দিন চালিয়ে যেতে পারেননি। কিছুদিনের মধ্যেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা সাদিয়া। কারণ হিসেবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘তার সন্তানের জন্য ভালো মানের চাইল্ড ডে কেয়ার ব্যবস্থা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে।’ গবেষণার ক্যারিয়ারটি ছেড়ে দেওয়ার পর হীনমন্যতায় ভুগতেছিলেন তিনি। আর তা কাটাতেই শুরু করেন অনলাইনে পণ্য বিক্রি। রাজধানীতে নিজের বাসায় ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন পণ্যের বিস্তারিত ক্রেতাদের কাছে বর্ণনা করছেন তিনি। এতে এখন এক দিকে যেমন সন্তানকে সময় দেন, পাশাপাশি ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। শুধু সাদিয়া খান নয়, এমন বহু কর্মজীবী নারী সন্তান জন্মের পর তাদের ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ পর্যাপ্ত এবং উপযুক্ত চাইল্ড ডে কেয়ারের অভাব। অথচ বাংলাদেশের আইনে বলা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানে ৪০ জনের বেশি নারী কর্মী থাকলে সেখানে ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মানলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা খুশি কবির জানান, ‘আইন আছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। ফলে অনেক নারীকে সন্তানের জন্য তাদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে হচ্ছে। সরকারও এসব দিকে নজর দিচ্ছে না।’ বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৩টি সরকারি চাইল্ড ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে; যার ২৪টি ঢাকায়, বাকিগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায়। বেসরকারী ভাবেও অনেক শহরে চাইল্ড ডে কেয়ার গড়ে উঠেছে। কিন্তু এর ব্যবহারকারীরা বলছেন, বেশিরভাগেরই প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। যার কারণে এসব কেয়ারে বাচ্চাকে রেখে যেতে সাহস পান না অনেকে। আর যেসব কেয়ারের মান একটু সেখানে টাকা খরচ করতে হয় বেশি। যা অনেকের সাধ্যে কুলায় না বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১৬-১৭-র হিসেব মতে, বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি নারী বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত। বাংলাদেশের আইনে একজন নারী ১৬ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। কিন্তু এই ছুটি কাটিয়ে আসার পরে বাচ্চাকে দেখা শোনার জন্য পর্যাপ্ত এবং উপযুক্ত ডে কেয়ার না থাকায় বড় একটি অংশ মা হওয়ার কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে পড়েন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মিথ্যা বলার অভ্যাস থেকে বাচ্চাকে বাঁচানোর ৬ উপায়

বাচ্চারা কোনও না কোনও সময় মিথ্যা কথা বলেই থাকে। তার সব ক’টা যে খুব সচেতনভাবে, তা নয়। প্রথম প্রথম হয়তো খুব হালকা চালে কিছু মিথ্যা কথা বলতে পারে বাচ্চাটি। কিন্তু সেই মিথ্যা বলায় কোনও বাধা না পেলে, পরে বাড়তে থাকে মিথ্যার পরিমাণ। আর তখনই বিষয়টা সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই মিথ্যা বলার প্রবণতা থেকে বাচ্চাকে থামানো উচিত। যদি সেটা না হয়, তাহলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারণে-অকারেণ মিথ্যা বলাটা অভ্যাসে পরিণত হবে এবং সেটা তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য খুবই ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াবে। বাচ্চাকে একেবারে প্রথম থেকেই মিথ্যা বলা থেকে আটকানোর কয়েকটি রাস্তা- সত্যিটাই রোল মডেল মিথ্যা যে বলে, সে খারাপ, আর সত্যি যে বলে, সে ভালো। যে ভালো, তাকেই রোল মডেল করা উচিত। এ রকম একটা ধারণা ছোটবেলা থেকেই তার মনে সৃষ্টি করে দিন। মিথ্যা যে বলে, তাকে কেউ পছন্দ করে না, তার সঙ্গে কেউ খেলে না, তাকে কেউ ভালোবাসে না- এমন একটা ধারণা বাচ্চার মনে গেঁথে দিন। এমন কোনও একজন কাল্পনিক চরিত্রের কথাও তাকে বলতে পারেন, মিথ্যা বলে যার জীবন খুব কষ্টে কাটে। সত্যি বললে পুরস্কার বাচ্চা কেন মিথ্যা বলছে সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। এবং প্রথমেই সেই জায়গাটা তাকে দিতে হবে, যাতে সে সত্যি বলতে ভয় না পায়। তাকে বুঝিয়ে দিন, ঘটনাটা যত খারাপই হোক না কেন, সত্যি বলতে সে যেন কখনও না ভয় পায়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পথ, সে যদি প্রথমে মিথ্যা বলে, তারপর সত্যিটা স্বীকার করে, তাহলে তাকে পুরস্কার দিন। সে ক্ষেত্রে সত্যি বলার উৎসাহ বাড়বে। সাবধান করুন প্রথমবার মিথ্যা বললেই শাস্তি দেওয়ার রাস্তায় হাঁটবেন না। বরং তাকে সাবধান করুন। এবং এটাও পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিন, সেই কথা না মানলে কী কী শাস্তি সে পেতে পারে। যেমন ধরুন আগামী ছুটিতে তাকে নিয়ে হয়তো কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা আছে। মিথ্যা বললে, সেটা বাতিল হয়ে যেতে পারে- এমন শাস্তির আভাস দিয়ে রাখুন। ফল কী কী হতে পারে সাবধান করার পরেও বাচ্চা আবার মিথ্যা বললে, তাকে শাস্তি দিন। সে ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তির কোনও প্রশ্নই উঠছে না। অতিরিক্ত বকাবকিও তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার খুব পছন্দের কোনও জিনিস (খেলনা, বা রংপেন্সিলের সেট) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার থেকে দূরে পাঠিয়ে দিন। প্রথমে একদিনের জন্য। কিন্তু মিথ্যা বলার পুনরাবৃত্তি হলে দু’দিনের জন্য- এভাবে এই শাস্তির পরিমাণ বাড়াতে পারেন। বিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন মিথ্যা বলার পর সে যদি সত্যিটা স্বীকার করে নেয়, তাহলে তাকে যতটা পুরস্কার দেবেন বলে জানিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিছু দিন। তাতে তার বিশ্বাস বাড়বে। সে সত্যি বলার ভালো দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ যদি দেখেন কোনওভাবেই বাচ্চার মিথ্যা বলার অভ্যাস বন্ধ করা যাচ্ছে না, তাহলে মনোবিদের পরামর্শ নিন। কারণ তিনি বলতে পারবেন, কোনও থেরাপির মাধ্যমে কীভাবে তার মিথ্যা বলার অভ্যাস বন্ধ করা যায়। তবে বিষয়টি খুব বাড়াবাড়ি জায়গা গেলেই এই পদক্ষেপটি করতে হবে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

ঘন ঘন সেলফি তোলেন? আজই সাবধান হোন

সারা বছরের নানা উৎসব মুখর সময় বা বিশেষ দিনে আমরা সেলফি তুলে থাকি। তবে অনেকেই আছেন, যারা সেলফি তুলতে উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন না। যে কোনও মুহূর্তেই কেবল ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে সেলফি তোলেন অনেকেই। আপনিও কি এমন স্বভাবের শিকার? তবে কিন্তু সাবধান হওয়ার সময় হয়েছে। কেবল সেলফি তুলেই ক্ষান্ত হওয়া নয়, ফ্রন্ট ক্যামেরা ক্লিকের পরেই সোশ্যাল সাইটে তা আপলোড করাও চাই। এই ডিজিটাল যুগে এমন প্রবণতাকেই ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। সারা ক্ষণ ফ্রন্ট ক্যামেরার দিকে হাত বেঁকিয়ে ছবি তোলার স্বভাব ডেকে আনছে কারপাল টানেল সিনড্রোম। হাতের কব্জির উপর চাপ পড়ায় হাতের পেশীতে ব্যথা শুরু হয়। সেখান থেকেই ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি, ঘন ঘন সেলফি তোলার   স্বভাবের জেরে অসাড় হয়ে যেতে পারে আঙুল। বাড়াবাড়ি হলে পঙ্গুও হতে পারেন কেউ কেউ। পরবর্তী কালে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে। সম্প্রতি আমেরিকান স্কুল হেলথ অ্যাসোশিয়েশনের গবেষকরা এই অসুখের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করেছেন। আইরিশ চিকিৎসকরা এই অসুখের নাম দিয়েছেন, ‘সেলফি রিস্ট’। শহরের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নারায়ণ মুখোপাধ্যায়ও এই বিষয়টিকে খুব সহজ ভাবে দেখতে নারাজ। তার মতে, অনেক ক্ষণ ধরে ফোন ধরে থাকলে কিংবা কব্জি বেঁকিয়ে সারা ক্ষণ সেলফি তুললে এমন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বুড়ো আঙুলের স্নায়ুর উপর চাপ পড়তে থাকলে এই ব্যথা শুরু হয়। তার পর সেই ব্যথা তর্জনী ও মধ্যমা পর্যন্ত ছড়ায়। বাড়াবাড়ি হলে অস্ত্রোপচার করে আঙুলের নীচের স্নায়ুর উপর চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়। তাই অস্ত্রোপচার আটকাতে এখন থেকেই সাবধান হওয়া উচিত। নিজের প্রিয় মানুষদের নিয়ে সেলফি তুলুন, কিন্তু তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। কেবল অসুখের ভয়ই নয়, সেলফি তুলতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যুও হয়। তবু সেলফি তোলার অভ্যাস পিছু ছাড়ছে না এক শ্রেণির মানুষকে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

নকল ওষুধ চেনার ৩ উপায়

প্রত্যেকের বাড়িতেই প্রতি মাসে কিছু না কিছু ওষুধ কেনা হয়। অনেকের বাড়িতে এমন মানুষও আছেন, যাদের বেঁচে থাকাটা অনেকটাই ওষুধ নির্ভর। পাড়ার বা স্থানীয় ওষুধের দোকান বা অনলাইন থেকেও অনেকে নিয়মিত ওষুধপত্র কেনেন। কিন্তু আপনার কেনা বা বাড়িতে মজুত করা ওই সব ওষুধ নকল কি-না জানেন? ভাবছেন, চিকিত্সক বা ওষুধের কারবারীরা ছাড়া ‘খাঁটি’ ওষুধ আমার-আপনার মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা সম্ভব! হ্যাঁ, চেনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নকল ওষুধ চিনে নেওয়ার বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ডব্লিওএইচও’র পরামর্শ অনুযায়ী, নকল ওষুধ চেনার ক্ষেত্রে কয়েকটি উপায় জেনে নেওয়া যাক- ১) সিরাপ, টনিক বা ওই জাতীয় বোতলজাত ওষুধের ক্ষেত্রে ওষুধের বোতলে সিল বা প্যাকেজিং-এ কোথাও কোনও গলদ (মোড়কের রং, আকার-আকৃতি, বানান ইত্যাদি সবই দেখে নিতে হবে) আছে কি-না, প্রথমেই তা ভাল করে দেখে নিতে হবে। কোনও রকম পার্থক্য বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেই ওই ওষুধ ফিরিয়ে দিন বিক্রেতাকে। ২) বড়ি, ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে ওষুধের কোথাও কোনও অংশ ভাঙা রয়েছে কি-না, স্বচ্ছ ক্যাপসুলের ভিতরে থাকা ওষুধের গুঁড়ার পরিমাণ আগের তুলনায় কম বা বেশি আছে কি-না, ওষুধের রঙে কোনও ফারাক রয়েছে কি-না তা ভাল করে দেখে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও ওষুধের মোড়কের রং, আকার-আকৃতি, বানান ইত্যাদি সবই ভাল করে দেখে নিতে হবে। ৩) যে কোনও ওষুধের মোড়কের গায়ে তার ‘ইউনিক অথেনটিকেশন কোড’ লেখা থাকে। ওষুধ কেনার পর সেটির সম্পর্কে মনে কোনও রকম সন্দেহ দানা বাঁধলে, ওষুধের ‘ইউনিক অথেনটিকেশন কোড’ ৯৯০১০৯৯০১০ নম্বরে এসএমএস করুন। ওই ওষুধটি যেখানে তৈরি, সেখান থেকে আপনি একটি অথেনটিকেশন মেসেজ পেয়ে যাবেন। এ ছাড়াও, ওষুধ খাওয়ার পর যদি শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়, অ্যালার্জি হলে একটুও দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে সেই ওষুধটি চিকিত্সককে দেখান। সূত্র: জিনিউজ একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি