ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৮ ৮:৪৩:১৮, মঙ্গলবার

সরকারিভাবে জর্দান নেবে ১৪০০ কর্মী

সরকারিভাবে জর্দান নেবে ১৪০০ কর্মী

বাংলাদেশ থেকে জনবল নেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্দান। স্বল্প খরচে ১৪৪৭ জনকে নেবে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে গার্মেন্ট খাতে এ জনবল নেওয়া হবে। এসব লোকবল নেবে জর্দানের পাঁচটি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। কোন কাজে কতজনমেশিন অপারেটর পদে ১২৭১ জন, লিংকিং অপারেটর পদে ১২৫ জন, সুইং মেশিন অপারেটর পদে ৫০ জন, ওয়েলফেয়ার অফিসার পদে একজনসহ মোট ১৪৪৭ জন কর্মী পাঠানো হবে। জর্দানের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি, সেঞ্চুরি মিরাকেল, রেইনবো টেক্সটাইল, গ্যালাক্সি অ্যাপারেল ও এটাটেকস ফরেন ট্রেড বাংলাদেশ থেকে এসব কর্মী নেবে।বাছাইয়ের দিনবোয়েসেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, বাছাই পরীক্ষায় হাজির হওয়ার দিন সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে জীবনবৃত্তান্ত, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, মূল পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ছবিযুক্ত অংশের এক সেট রঙিন ও চার সেট সাদা-কালো ফটোকপি। রেইনবো টেক্সটাইল এলএলসির জন্য দুই কপি রঙিন ছবি হলেই চলবে। এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে), বর্তমানে কর্মরত অফিসের পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্র না থাকলে হাজিরা কার্ড সঙ্গে নিতে হবে।যোগ্যতা মেশিন অপারেটর পদে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। থাকতে হবে যেকোনো তৈরি পোশাক কারখানায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা। লিংকিং অপারেটর পদে আবেদন করতে এ পদেও চাওয়া হয়েছে একই যোগ্যতা। ওয়েলফেয়ার অফিসার পদে স্নাতক হতে হবে। সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, লেখা ও কম্পিউটারে দক্ষতা থাকা চাই। সব পদে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। প্রার্থীকে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হতে হবে এবং থাকতে হবে পাসপোর্টের মেয়াদ।বেতনপ্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানেই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিত্সাসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা দেবে। চাকরিতে যোগদানের বিমানভাড়া এবং চাকরি শেষে দেশে ফেরার বিমানভাড়া নিয়োগকারী কম্পানি বহন করবে।যোগাযোগএ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করুন বোয়েসেল, প্রবাসী কল্যাণ ভবন (পঞ্চম তলা), ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন রোড (রমনা থানার পশ্চিম পাশে), রমনা, ঢাকা-১০০০।ফোন : ০২-৯৩৩৬৫০৮, ৯৩৬১৫১৫ ও ৯৩৬১১২৫ওয়েব : www.boesl.org.bd/ এআর /
দক্ষ কর্মীর অভাবে বাংলাদেশের চাকরির বাজারে বিদেশিদের দাপট

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতিবছর কয়েকশো কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। শুধু ভারতেই যাচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। তারা বলছেন, দক্ষ জনশক্তির অভাবেই বাংলাদেশ কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যবসায়ী নেতা ফজলুল হক বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি, গার্মেন্টস, ওষুধ কোম্পানি কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কাজ করছেন অনেক বিদেশি নাগরিক। তিনি জানান, এসব কর্মীদের মধ্যে শীর্ষে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা। এর পরে পাকিস্তান, ফিলিপিন, কোরিয়া ও চীন থেকে আসা কর্মীরা। এই তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দেশে মিড লেভেল ও টপ লেভেলের প্রফেশনালদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে আসা কর্মীরা চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে এসব কর্মী আনতে হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি বলছে, তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ২৪ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানাতে বিদেশি কর্মীরা কর্মরত আছেন। দু`বছর আগে সিপিডির আরেক গবেষণার তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যে রেমিটেন্স যায় তার মধ্যে শুধু ভারতেই যায় ৫০০ কোটি ডলারের মতো, জানান সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি জানান, দক্ষতার ঘাটতির কারণেই বিদেশি কর্মীদের হাতে চলে যাচ্ছে দেশের অর্থ। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু তারপরও কেন বাইরের দেশের কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে? এ প্রশ্নে ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, পেশাগত দক্ষতার অভাবের পাশাপাশি ভাষা-গত দক্ষতারও অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং পেশাগত কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার অভাবটাই প্রকট। আমাদের এখানে ইউনিভার্সিটিগুলোতে যে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে সেগুলো বেশিরভাগই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে ফোকাস করে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের ফোকাসটা অন্য জায়গায়। ফলে যেরকম গ্রাজুয়েট দরকার সেরকম আমরা পাচ্ছি না। একদিকে দেশের ভেতরে বেকার এবং শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যেখানে প্রকট সেখানে দেশ থেকে প্রবাসী অর্থ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থে দেশ সচল করার কথা বলা হচ্ছে একদিকে কিন্তু অন্যদিকে বিদেশি কর্মীদের হাত দিয়ে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে বহু কোটি ডলার। তার মতে, দেশের ভেতরে যারা গ্রাজুয়েট হচ্ছেন, তারাও উপযুক্ত মানসম্পন্ন নন। তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আপনি আশ্চর্য হবেন যে, এক-তৃতীয়াংশ বেকার দেখতে পাচ্ছি যারা গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন, অন্যদিকে দেশের ভেতরেই বিদেশিরা কাজ করছেন এবং দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে এমপ্লয়াররা প্রফেশনাল লোক খুঁজছেন, দেশের ভেতরে পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিদেশি প্রফেশনালরা আমাদের এখানে কাজ করছেন, আমাদের জায়গাগুলো তাদের দিয়ে দিতে হচ্ছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। গবেষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তৈরি পোশাকে যে উন্নতি হয়েছে তার বড় অংশই এসেছে দক্ষ শ্রমিকদের হাত ধরে। সেখানে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে দক্ষতার ঘাটতির বিষয়টি থেকে গেছে উপেক্ষিত। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

নির্মাণ খাতে ৫ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেবে এইচবিআরই

নির্মাণশ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই)। প্রশিক্ষণ কাজ এগিয়ে নিতে এরইমধ্যে ৮০জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এভাবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মোট ৩৮৪ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যারা জেলা পর্যায়ে গিয়ে ট্রেইনার হিসেবে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের পাঁচ লাখ পেশাদার নির্মাণশ্রমিক তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন। এইচবিআরআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত এইচবিআরআই নির্মাণশ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে অর্থসহায়তাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। প্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশন ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাশ হলেই এ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে প্রস্তবনা পাশ হওয়ার জন্য ছয় মাস সময় হাতে রেখে এরইমধ্যে প্রশিক্ষণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক গড়ে তোলা হচ্ছে। এইচবিআরআই ভবনে এরইমধ্যে তিনধাপে ৮০ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রতিটি জেলা থেকে ২জন ডিপ্লোমা ইন সিভিল এবং ৪জন ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রনিক্স হিসেবে মোট ৩৮৪ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। এরপর প্রশিক্ষিত প্রকৌশলীরা দেশের ৬৪ জেলায় মাঠ পর্যায়ের নির্মাণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রকল্পের বিষয়ে কথা হয় প্রকল্পটির সমন্বয়ক ও এইচবিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক আকতার হোসেন সরকারের সঙ্গে। নিয়োগের বিষয়ে খসড়া প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রাথমিক পর্যায়ে এখন ট্রেনিং ফর ট্রেইনার (টট) কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে গণপূর্ত, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এখানে দেওয়া হচ্ছে। তারা এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা যে জ্ঞান অর্জন করবেন, তা সাধারণ শ্রমিকদের শেখাবেন। আমাদের আলোচনা চলছে। প্রতি জেলার পিডব্লিউডি অফিসে এ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে। আগামী  পাঁচ বছর পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। প্রশিক্ষণের পরে নির্মাণশ্রমিকদের একটি সনদপত্র দেওয়া হবে। সেই সনদ তাঁরা দেশে-বিদেশে দেখাতে পারবেন। এটি দেখালে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা প্রকাশ পাবে, যা তাদের পারিশ্রমিক বাড়াতে সাহায্য করবে। জেলা পর্যায়ে প্রতি ব্যাচে ২০ জন শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হাতেকলমে তারা শিখবেন মোট ৬০ দিন। প্রশিক্ষণের সময় শ্রমিকেরা প্রতিদিন নাস্তা ও দুপুরের খাওয়াসহ যাতায়াতের জন্য ১০০টাকা ভাতা পাবেন। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ চলবে। জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠিয়েছে এইচবিআরআই। ডিপিপি পাশ হলেই প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কাজ এগিয়ে নিতে সারা দেশ থেকে ১ হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ডিপ্লোমা ইন সিভিল ও ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রনিক্স এ পাশ করা প্রার্থীরাই আবেদনের সুযোগ পাবেন। প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে এ নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের সমমানের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা থাকবে। আরকে// এআর

জনশক্তি রফতানি : অবশেষে দুয়ার খুলছে আমিরাতের

প্রায় ছয় বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া একেবারেই কমিয়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এখন ১৯টি খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে আমিরাত। সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৬০০ ডলার (৫০ হাজার টাকা)। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বিষয়ে দুবাইতে দেশটির সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কয়েক দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত আলোচনা শেষে উভয় দেশের আগ্রহ ও সম্মতির ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারক সই হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বর্তমানে আরব আমিরাত সফর করছেন। সফরে তিনি বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯ ক্যাটাগরির কর্মী নিয়োগ বিষয়ে দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। আমিরাতের পক্ষে সমঝোতায় সই করেন মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমিরেটাইজেশন-এর আন্ডার সেক্রেটারী সাইফ আহমেদ আল সুআইদি। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণির কর্মী যাবেন সমঝোতা স্মারকের অধীনে। তবে প্রথম পর্যায়ে শুধু নারীরা যাবেন। তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম জানান, নারী ও পুরুষ দুই ধরনের কর্মী যাবেন। তিনি বলেন, নারীদের কাজ করার মতো ১৯টি খাতই নেই আরব আমিরাতে।  তবে সমঝোতা স্মারকের আওতায় কত সংখ্যক কর্মী আরব আমিরাত যাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, আরব আমিরাতের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাঠানো হবে। তাদের চাহিদার বিপরীতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে। সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে চার লাখ ২০ হাজার কর্মী নিয়েছিল আমিরাত। পরের বছরগুলোতে বার্ষিক দুই লাখের বেশি করে বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে যান। ২০১২ সালে দুই লাখ ১৫ হাজার কর্মী আমিরাত যান।  কিন্তু ২০১২ সালের ১২ আগস্ট নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর থেকে পাঁচ বছর কেটে গেলেও দেশটিতে নতুন করে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ ছিল। একে//এআর

নারীদের প্রশিক্ষণ দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর

বর্তমানে দেশের নারীরা ছোট ছোট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা অনেক সময় সফল হতে পারেন না। অথচ দেশের মোট জনশক্তির অর্ধেকই নারী। নারীকে যদি কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তবে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়ে যাবে বহুগুণে। দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্ত করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে নিতে হবে। নারীদেরকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে সরকার মহিলা অধিদফতরের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীদেরকে আরও স্বাবলম্বী হতে সহয়তা করবে। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিবে দরজি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই বিষয়ে নারীদেরকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীকে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। প্রশিক্ষণের তথ্য প্রতি বছর তিনটি সেশনে এখানে প্রশিক্ষাণার্থী নেওয়া হয়। প্রথম সেশন জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সেশন, দ্বিতীয় সেশন মে থেকে আগস্ট এবং তৃতীয় সেশন সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। এ তিনটি সেশনে মোট ৩০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস। দ্বিতীয় সেশনের জন্য আবেদন করতে হবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে (৩৭/৩, ইস্কার্টন গার্ডেন রোড, ঢাকা) মহিলা অধিদফতরের অফিসে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আবেদনকারীরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতি ব্যাচে সর্বোচ্চ ৩০ জন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। মে মাস থেকে ক্লাস শুরু হয়ে  চলবে আগস্ট পর্যন্ত। আবেদনকারীকে প্রতিটি কোর্সের ফি বাবদ ৩৩০ টাকা প্রদান করতে হবে। তবে এর মধ্যে ২০০ টাকা জামানত জমা হিসেবে নেওয়া হবে। যা কোর্স শেষে প্রশিক্ষাণার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে। দরজি বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন,‘নারীদেরকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই বাড়তি আয়ের সুযোগ পেতে পারে। দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষে এই অধিদপ্তর বিনামূল্যে সেলাই মেশিন সরবরাহ করে থাকে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা পেশার নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এই ট্রেডে কাজ শিখে অনেকে উদ্যেক্তা হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সচেষ্ট হয়েছেন।" প্রশিক্ষণ নিতে আসা আকতারা বাণু একুশে  টেলিভশন অনলাইনকে বলেন, ‘আমি পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারিনি। তাই এখানে এসে কাজ শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’ অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী তানজিনা বলেন, ‘আমি একজন পুলিশের বাসায় কাজ করতাম। বাহিরে কাজ করতে ভালো লাগে না। আর তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে টেইলার্সে যেন কাজ করতে পারি সেজন্য এখানে আসা। এই প্রশিক্ষণ আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করবে।” অন্য কোর্সের নাম চার মাস মেয়াদি কম্পিউটার বেসিক, উইন্ডোজ অপারেশন ও আউটসোর্সিং কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা এসএসসি। কোর্স ফি আড়াই হাজার টাকা। গ্রাফিকস ডিজাইন ও আউটসোর্সিং বিষয়ে ভর্তির যোগ্যতা এইচএসসি। কোর্স ফি পাঁচ হাজার টাকা। ওয়েব ডিজাইন কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা এইচএসসি। কোর্স ফি আট হাজার টাকা। এ সকল কোর্সের প্রতি শিফটে নেওয়া হবে ২০ জন করে। এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে কম্পিউটার প্রোগ্রামার ফজলে রব একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘ কম্পিউটারের এই প্রশিক্ষণ কোর্স সময় উপযোগী পদক্ষেপ । সমাজের অনগ্রর নারীরা এসব কোর্স করে  স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে। নারীরা ঘরে বসেই সেলাই কাজ এবং এডভান্সড কোর্স হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েভ ডিজাইন, আউট সোর্সিং করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মজীবনে উদ্যেক্তা হয়ে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন অনেক নারী। প্রশিক্ষণ নিতে আসা রাবেয়া আকতার বলেন, ‘এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আউটসোর্সসিং করে নিজের আয় বাড়াতে চাই। ক্যারিয়ার গড়তে চাই। এখানে বেশ আগ্রহের সাথে শিখতে পারছি।’ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভর্তি আবেদন পত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ও স্ট্যাম্প সাইজের এক কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি যুক্ত করতে হবে। কেআই/টিকে

বিনামূল্যে বৃত্তিসহ প্রশিক্ষণের সুযোগ

অষ্টম শ্রেণী পাশেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছে দেশের বেশকিছু পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে থেকে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে আপনিও হতে পারে ভালো একজন কর্মজীবী মানুষ, পেতে পারেন ভালো কোনো চাকুরি। দেশের বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ এর মধ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে । তারই অংশ হিসেবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতির আওতায় পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর তার বাস্তবায়নে কানাডীয় সরকারের অর্থায়নে ও আন্তর্জাতিক শ্রম-সংস্থা কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ স্কিল এমপ্লয়মেন্ট এন্ড প্রোডাক্টটিভিটি (বি-সেপ) প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস ফরমিং, বডি অ্যান্ড গ্লেজ প্রিপারেশন, গ্লেজিং, ডেকোরেশন অ্যান্ড প্রিন্টিং বিষয়ে এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ‘প্যাকেজিং’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। এ ছাড়া ঢাকা দারুস সালামের বাংলাদেশ কোরিয়া-কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেকানিক্যাল মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ে এবং ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আবেদনের নিয়ম এবং যোগ্যতা ক) ভর্তির জন্য প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাশ অথবা সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রি-ভোকেশনাল সনদপ্রাপ্ত অথবা সংশ্লিষ্ট পেশায় এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। খ) এই প্রশিক্ষণে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবে, মেধা এবং কোটার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে।সাধারণ আসনে ভর্তির সুযোগ ছাড়াও মহিলাদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মহিলা আবেদনকারী না পাওয়া গেলে পুরুষ আবেদনকারীদের মধ্য হতে মেধার ভিত্তিতে আসন পূরণ করা হবে।গ) সকল পেশায় প্রতিবন্ধি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ৫% কোট সংরক্ষিত থাকবে । পেশাভেদে শারীরিক সামর্থ্য ও অন্যান্য শর্তাদি বিবেচনাপূর্বক নির্বাচনী কমিটি প্রার্থীতা চূড়ান্ত করবে ।ঘ) বর্তমানে সরকারী, বেসরকারী ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণ এ প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।ঙ) প্রশিক্ষণার্থীর ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর হতে হবে।চ) সকল ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, আদিবাসি ও প্রতিবন্ধি কোটা অনুসরণ করা হবে।বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.btebcbt.gov.bd অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে । সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফরম জমা দেওয়ার সময় ভর্তির আবেদন ফি বাবদ একশত টাকা জমা দিতে হবে। প্রশিক্ষণের সময় প্রশিক্ষণ সপ্তাহে ৬ দিন এবং প্রশিক্ষণের সময় (প্রতিষ্ঠান) ভেদে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা অথবা দুপুর ২টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলবে। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক NTVQF অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে । ভর্তি হতে যা যা আনবেন ভর্তির আবেদন ফরমের সাথে ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সকল শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিকট হইতে নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হবে।আসন সংখ্যা প্রতিটি ট্রেডে সর্বোচ্চ ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে । আসন সংখ্যার বেশী আবেদন জমা হলে এ্যাপ্টিচুড টেস্টের মাধ্যমে মেধা ও কোটার ভিত্তি প্রশিক্ষণার্থী বাছাই ও ভর্তি করা হবে। ভর্তি কার্যক্রমের সময়সীমা *আবেদন পত্র বিতরণ শুরু-১ লা এপ্রিল, ২০১৮*আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ-১৮ এপ্রিল*এ্যাপ্টিচুড টেস্ট -২০ এপ্রিল*নির্বাচিত প্রশিক্ষনার্থীর তালিকা প্রকাশ-২২ এপ্রিল* প্রশিক্ষণ শুরু-২৫ এপ্রিল এই সব প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস এন্ড সিরামিকস এর অধ্যক্ষ মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ । যা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আগে সিরামিকস সেক্টরে শ্রমিকদেরকে নিজেরা কারখানাতে প্রশিক্ষণ দিত এখন তারা দক্ষ হয়েই কারখানাতে যাবে তাই আমি বলতেই পারি এই খাতে কাজের মান আগের চেয়ে বাড়বে। এই প্রশিক্ষণের সাথে তাদের জীবিকার জন্যে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। কোর্স শেষে সনদ পাবে যা দিয়ে একজন প্রশিক্ষার্থী যে কোথাও চাকুরি পাবে । আমাদের দেশের এই শিল্পখাতে এই প্রশিক্ষণ চালু হওয়ায় নতুন মাএা যোগ হয়েছে বলে মনে করি।’ জুনিয়র ইনিসট্রাক্টর টেকনিক্যাল মোহাম্মদ আলী আজম খান মোজাহেদী বলেন, ‘সরকারের ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নের লক্ষে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে মোট শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ কারিগরিখাতে জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ লোকের প্রয়োজন । কারণ বিশ্বে প্রতিটি উন্নত দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ৬৫ শতাংশের নিচে নয়। সুতরাং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই।আমরা যেহেতু উন্নত রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি তাই পেশাভিত্তিক স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিকল্প নেই। যেহেতু এই প্রশিক্ষণে ভর্তিতে তেমন জুট ঝামেলা নেই তাই যেকোন বেকার তরুণ এই প্রশিক্ষণ নিয়ে সিরামিকস শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে।’ঢাকা পলিটেকনিক কেমিক্যাল এন্ড ফুড টেকনিক্যাল বিভাগের ইন্সট্রাকটর এ এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বি-সেপ প্রকল্পের অর্থায়নে ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং বিষয়ক ২০ জনের প্রশিক্ষণ চলছে । এছাড়াও শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মত উদ্যোগতাদের জন্য সার্টিফিকেট ( NTVQF) সার্টিফিকেট প্রদানের লক্ষে আরফিএল পদ্ধতি এই প্রশিক্ষণ করানো হচ্ছে। যেকোন বেকারকে যদি কর্ম উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় তাহলে যেকোন লোক বেকার কিংবা অদক্ষ থাকবে না। এতে করে সম্ভাবনা তৈরি হবে । এই কোর্স বাংলাদেশে প্রথম। এই ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থী মোহাম্মদ কাউছার বলেন, ‘আমি রূপসী বাংলায় গেস্ট সার্ভিসে কাজ করি। তাই ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং কোর্স করতে আসছি। একজন গেস্টকে কীভাবে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে সে ব্যাপারে এই এখানে শেখানো হচ্ছে।এতে করে ভালো সেবা দিতে পারবো।’ নাজিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমি কেটারিং সার্ভিস করি। এই কোর্সে খাদ্যকে কত তাপমাত্রায় ভালো রাখতে হয়, ভোক্তাদের কাছে কীভাবে সতেজ খাবার পৌঁছে দিতে হয় সে ব্যাপারে এখানে হাতে কলমে শেখানো হয়।’ এমজে/  

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ সঙ্গে সনদ

জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর আওতায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১-এ বর্ণিত কাঠামো অনুযায়ী কানাডা সরকারের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক শ্রম-সংস্থা লেবার অর্গানাইজেশনের কারিগরি সহায়তায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।   যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ১) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস প্রতিষ্ঠানের আওতায় * ফোরমিং *বডি এন্ড গ্লেজ প্রিপারেশন *গ্লেজিং *ডেকোরেশন এন্ড প্রিন্টিং (NTVQF Level-o1) ২)  ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আওতায়- প্যাকেজিং (NTVQF Level-o1) ৩) বাংলাদেশ কোরিয়া-করিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আওতায়- ইনডাস্ট্রিয়াল ম্যাকানিকেল মেইনটেনেন্স (NTVQF Level-o2)। ৪) ঢাকা মহিলা পরিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আওতায়- ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইন্সটলেশন এন্ড মেইনটেনেন্স (NTVQF Level-o2)। আবেদনের নিয়ম এবং যোগ্যতা * ক্রমিক নং-১ ও ২ এ বির্ণিত প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত অকৃপেশনে ভর্তির জন্য প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি/জেএসসি/জেডিসি পাশ অথবা ভাষা, ও গণিতে সক্ষমতা অথবা সংশ্লিষ্ট অকুপেশনে প্রি-ভোকেশনাল-২ সনদ প্রাপ্ত অথবা সংশ্লিষ্ট অকুপেশনে ০১ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসহ ভাষা, গণিত ও ভোকেশনাল স্কীলে সক্ষমতা টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। *ক্রমিক নং ৩ ও ৪-এ বির্ণিত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত অকুপেশনে প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এসএসসি পাশ বা সমমানের যোগ্যতা অথবা সংশ্লিষ্ট অকুপেশনে ১ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা । * উপর্যুক্ত প্রশিক্ষণে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবে, মেধা এবং কোটার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে। সাধারণ আসনে ভর্তির সুযোগ ছাড়াও মহিলাদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মহিলা আবেদনকারী না পাওয়া গেলে পুরুষ আবেদনকারীদের মধ্য হতে মেধার ভিত্তিতে আসন পূরণ করা হবে। * সকল অকুপেশন প্রতিবন্ধি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ৫% কোট সংরক্ষিত থাকবে। অকুপেশন ভেদে শারীরিক সামর্থ ও অন্যান্য শর্তাদি বিবেচনাপূর্বক নির্বাচনি কমিটি প্রার্থীতা চূড়ান্ত করবে। * বর্তমানে সরকারী, বেসরকারী ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণ এ প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। * প্রশিক্ষণার্থীর ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর হতে হবে। * সকল ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, আদিবাসি ও প্রতিবন্ধি কোটা অনুসরণ করা হবে। * প্রশিক্ষণ সপ্তাহে ৬ দিন এবং প্রশিক্ষণের সময় (প্রতিষ্ঠান) ভেদে সকাল ৮ টা হইতে দুপুর ২ টা অথবা দুপুর ২ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে। * প্রশিক্ষণ শেষে এ্যসেসমেন্টের মাধ্যমে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক NTVQF অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। *বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.btebcbt.gov.bd অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট হতে ডাউনলোড করা যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফরম জমা দেয়ার সময় ভর্তির আবেদন ফি বাবদ অফেরৎযোগ্য ১০০/- (একশত) টাকা জমা দিতে হবে। * আবেদন ফরমের সাথে ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সকল শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিকট হইতে নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হবে। * প্রতিটি অকুপেশনে সর্বোচ্চ ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে। আসন সংখ্যার বেশী আবেদন জমা হলে এ্যাপ্টিচুড টেস্টের মাধ্যমে মেধা ও কোটার ভিত্তি প্রশিক্ষণার্থী বাছাই ও ভর্তি করা হবে।বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।  ভর্তি কার্যক্রমের সময়সীমা *আবেদন পত্র বিতরণ শুরু-১ লা এপ্রিল, ২১০৮ *আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ-১৮ এপ্রিল, ২০১৮ *এ্যাপ্টিচুড টেস্ট -২০ এপ্রিল, ২০১৮ *নির্বাচিত প্রশিক্ষনার্থীর তালিকা প্রকাশ-২২ এপ্রিল, ২০১৮ * প্রশিক্ষণ শুরু-২৫ এপ্রিল, ২০১৭ বি.দ্র: আবেদন ফরম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১লা এপ্রিল,২০১৮ তারিখ থেকে পাওয়া যাবে। সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো(৩১ মার্চ, ২০১৮) এমএইচ/টিকে

বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার, নতুন কর্মসংস্থান ১৩ লাখ

বাংলাদেশে বেকার জনসংখ্যা বেড়েছে। গত এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকার বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার। তবে বেকার বাড়লেও বেকারত্বের হার আগের মতোই আছে। অর্থাৎ, ৪ দশমিক ২ শতাংশে রয়েছে। এদিকে গত এক বছরের ব্যবধানে ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে এমন তথ্যই ওঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপের এ ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জরিপের ফল প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ জরিপ করেছে বিবিএস। ত্রৈমাসিকের পাশাপাশি পুরো অর্থবছরের পরিসংখ্যান একীভূত করে মোট শ্রমশক্তির চিত্র তুলে ধরেছে সংস্থাটি। জরিপে মোট জনসংখ্যা ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে ১০ কোটি ৯১ লাখ মানুষের বয়স ১৫ বছরের বেশি। আর ১৫ বছরের বেশি বয়সী লোকদের কর্মক্ষম হিসেবে ধরা হয়। তাদের মধ্যে ৬ কোটি ৩৬ লাখ লোক শ্রমশক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি ৪ কোটি ৫৫ লাখ লোক শ্রমশক্তির বাইরে। তার লেখাপড়া করছেন বা গৃহিণী বা বেশি বয়স্ক হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই। এছাড়া শ্রমশক্তিতে থাকা লোকদের মধ্যে কাজ ৬ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার করছেন। বাকি ২৬ লাখ ৮০ হাজার লোক বেকার। বেকারদের মধ্যে ১৩ লাখ নারী ও ১৪ লাখ পুরুষ রয়েছেন। তবে বেকারত্বে পুরুষের হার বাড়লেও নারীদের বেকারত্বের হার কমেছে। নারীদের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নারীদের বেকারত্বে হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০১৩ সালে ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দেশে যে হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এছাড়া শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাজের সুযোগ প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ শ্রমশক্তির ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মসংস্থানে আছে। যা আগের জরিপে ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল। আর নারী শ্রমশক্তির মধ্যে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশের। যা আগের জরিপে ছিল ৩৫ শতাংশ ৬ শতাংশ। আর মোট শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশের। যা আগের জরিপে ছিল ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এই কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বেশি হয়েছে কৃষি খাতে। তবে আগের তুলনায় তা কমেছে। কৃষির পরেই রয়েছে সেবা খাত। এ খাতে ৩৯ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে। আর শিল্প খাতে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে। গত বছরের জরিপে দেখা গেছে মোট কর্মসংস্থানের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ আনুষ্ঠানিক খাতে হয়েছে, এবারের জরিপে তা বেড়ে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতমধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। আর এ অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে। সরকার আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে। সরকার এমন একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করতে চায়, যাতে সহজেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতে পারে। এ জরিপ প্রকল্পের পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। কারণ শিক্ষিত লোকেরা সুশৃঙ্খল কাজ চান। তাই কিছু সময় বেকার থাকেন। একে// এআর

ভাতাসহ চার বছর মেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ

বৈশ্বিক শ্রম বাজারের প্রকৃতি ও চাহিদার কথা সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটি তিন ধরণের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ ছয় মাস মেয়াদী, ডিপ্লোমা কোর্স চার বছর মেয়াদী এবং তিন দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। যেটিকে অভিজ্ঞতা সনদও বলা হয়ে থাকে। ডিপ্লোমা কোর্স- কমপক্ষে এসএসসি পাশ করা যে কোন শিক্ষার্থী ভাতাসহ চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ৯৩টি  পলিটেকনিকে ১২টি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিটি বিষয় ১২০ জন করে ভর্তির সুযোগ পাবেন। প্রতি বছরের শুরুতেই ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান- সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের অংশ হিসেবে ও পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি ৯৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইতোমধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার ২৪৭ জন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীকে মাসে ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থী সবাই এ বৃত্তি পেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ: এ প্রকল্পে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ৪৯টি পলিকেটনিক শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ১৭৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের দেশে-বিদেশে সাবজেকটিভ প্যাডাগোজি ফাউন্ডেশন ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, এবং আর্থিক সহায়তায়সহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে স্টেপের যোগাযোগ পরামর্শক মো. জিল্লুর রহমান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ডিল্পোমা কোর্সের ব্যবস্থা করছে সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে ৩৩টি পলিকেটনিকের মানোন্নয়নে প্রত্যেকে প্রতিষ্ঠানকেই সর্বোচ্চ সাত কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এমনকি ওয়ার্কশপ/ল্যাবরেটরির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার সরবারহ করা করা হয়েছে। তিনি আরও  জানান, একদিকে যেমন বিনামূল্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে অন্য দিকে প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি পাচ্ছে। এছাড়া ডিপ্লোমা শেষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। যেসব বিষয়ের ডিপ্লোমা করা সুযোগ- ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (কনস্ট্রাকশন), মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, প্লাম্বিং,টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ওয়েল্ডিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, সুইং মেশিন অপারেশন, আইটি সাপোর্ট, সোলার ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিং বিষয়ে। আবেদনের যোগ্যতা- এসএসসি পাশ যে কোন শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। যেভাবে আবেদন- আগ্রহী প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রগুলো থেকে বা প্রকল্পের ওয়েবসাইট (www.step-dte.gov.bd) থেকে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। নিবন্ধন ফরমে প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কর্মস্থলের ঠিকানা, পদবি, পছন্দের বিষয়, জন্ম তারিখ ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ফরমের সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, পরীক্ষা পাসের সনদসহ লিখিত আবেদনপত্র প্রার্থীর নিকটস্থ বা পছন্দের কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বরাবর জমা দিতে হবে। বিস্তারিত জানতে- স্টেপের ২০টি আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রসহ বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ), কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এফ-৪/বি, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা ১২০৭ এই ঠিকানায় অথবা ফোন করতে পারেন ০১৯৯২-০০৭১৩৭ এই নম্বরে। এ ছাড়া www.step-dte.gov.bd এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন। এসএইচ/

তিন দিনের প্রশিক্ষণেই মিলবে দক্ষতার সনদ!

দেশে এমন লোকের অভাব নেই যে বিভিন্ন কাজের দক্ষতা আছে অথচ সনদ নেই। দক্ষতার সনদ না থাকায় দেশে বিদেশে তাদের কাজের তেমন মূল্যায়ন হয় না। এমন কাজ জানা লোকের বিনা মূল্যে মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণে দক্ষতা সনদ দিচ্ছে সরকার। স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সাল থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের দেশ-বিদেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি তিন ধরণের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ ছয় মাস মেয়াদী, ডিপ্লোমা কোর্স চার বছর মেয়াদী এবং তিন দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে, যেটিকে অভিজ্ঞতা সনদও বলা হয়ে থাকে। দক্ষতা সনদ: সারা দেশের মোট ৩০টি আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রের মাধ্যমে ১২ বিষয়ে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীদের এদক্ষতা সনদ দেওয়া হবে। মোট ৩০ হাজার প্রার্থীকে এ প্রকল্পের অধীনে দক্ষতা সনদ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৫২ জন প্রার্থীকে দক্ষতা সনদ প্রদান করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা যা বললেন এবিষয়ে জানতে চাইলে স্টেপের যোগাযোগ পরামর্শক মো. জিল্লুর রহমান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, এমন অনেক মানুষ আছে যাদের বিভিন্ন কাজের দক্ষতা আছে কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি। তাদের তিন দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূল্যবান সনদ প্রদান করা হবে। প্রার্থীদের ছয় ধরনের কাজের মাধ্যমে মূল্যয়ন করা হয়। এই অভিজ্ঞতা সনদ নিতে কোন প্রকার টাকা লাগে না। এমনকি প্রার্থীদের তিন দিনের থাকা খাওয়া ব্যবস্থাসহ যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। এসনদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীর একদিনে যেমন কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মিলবে। অন্যদিনে কর্মজীবনে উন্নতি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ : প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। যেসব বিষয়ের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সনদ দেওয়া হবে: ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (কনস্ট্রাকশন), মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, প্লাম্বিং, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ওয়েল্ডিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, সুইং মেশিন অপারেশন, আইটি সাপোর্ট, সোলার ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিং বিষয়ে। প্রার্থীদের অবশ্যই এসব বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয়ে কাজ করার কিছু অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনের যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। যেভাবে আবেদন আগ্রহী প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রগুলো থেকে বা প্রকল্পের ওয়েবসাইট (www.step-dte.gov.bd) থেকে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। নিবন্ধন ফরমে প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কর্মস্থলের ঠিকানা, পদবি, পছন্দের বিষয়, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ফরমের সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, পরীক্ষা পাসের সনদসহ লিখিত আবেদনপত্র প্রার্থীর নিকটস্থ বা পছন্দের কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বরাবর জমা দিতে হবে।  বিস্তারিত জানতে স্টেপের ২০টি আরপিএল অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রসহ বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ), কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এফ-৪/বি, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা ১২০৭ এই ঠিকানায় অথবা ফোন করতে পারেন ০১৯৯২-০০৭১৩৭ এই নম্বরে। এ ছাড়া www.step-dte.gov.bd এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।  টিআর/এসএইচ/                    

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি