ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:২৮:৩৭, বুধবার

স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়

স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়

আমরা স্বপ্ন দেখি। সবাই কমবেশি স্বপ্ন দেখি। কখনো এ স্বপ্ন হয় মধুর, কখনো ভয়ংকর। দুঃস্বপ্ন দেখলে আমরা ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসি। নিজেকে প্রবোধ দেই, না ওটা শুধু স্বপ্ন- ঘাবড়াবার কিছু নেই। স্বপ্নের কারণ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্কের অন্ত নেই। অনেকে স্বপ্নকে নেহাত স্বপ্নই বলতে চেয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়। অনাগত কঠোর বাস্তবের প্রতিচ্ছায়াও থাকে এই স্বপ্নে। একস্বপ্নে নিজেকে মৃত দেখার ঘটনা বিরল নয়। আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার কয়েকদিন পূর্বে এমনি স্বপ্ন দেখেছিলেন আমেরিকার মহান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন। তিনি তার স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়ার্ড লেমনের নিকট তার স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনা করেন। লিঙ্কন বলেন, আমি স্বপ্ন দেখলাম, আমি হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু কোনো কক্ষেই কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু শুনছি প্রতিটি কক্ষ থেকে ভেসে আসছে কান্নার শব্দ। হোয়াইট হাউসের পূর্বদিকের কক্ষে আমি দেখতে পেলাম পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রক্ষিত একটি কফিন। প্রহরী সৈনিকদের চারদিক ঘিরে রয়েছে শোকাচ্ছন্ন নারী-নর। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার লাশ? হোয়াইট হাউসে কে মারা গেছেন? তারা জবাব দিল, প্রেসিডেন্টের। তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট লিঙ্কন স্বীকার করেন যে, যদিও এটি ছিল একটি স্বপ্ন, তবুও তা আমার মনের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। সারারাত আমার আর ঘুম এল না। মনে হলো, আমি সবকিছুর পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। মনটা বেদনায় লীন হয়ে গেল। অনেক চেষ্টা করেও আমি এই বেদনাদায়ক অনুভূতিকে দূরে ঠেলে দিতে পারছিলাম না। লিঙ্কন যেদিন আততায়ীর হাতে নিহত হন, সেদিন বিকেলে তিনি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকেন। নির্ধারিত কক্ষে ঢুকে মন্ত্রীরা দেখতে পান যে, প্রেসিডেন্ট আগেই এসে আসন গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার মাথা টেবিলের ওপর নোয়ানো। দুহাতের মাঝে মাথা এমনভাবে ডুবে আছে যে, তার মুখাবয়ব দেখার উপায় নেই। মন্ত্রীদের পদশব্দে প্রেসিডেন্ট মাথা তুললেন ও ঠিক হয়ে বসলেন। ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা শিগগিরই কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনতে পাবেন। সম্বোধনের জবাব দিয়ে প্রেসিডেন্ট তাদের বললেন। মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমাদের জন্যে কি কোনো অশুভ সংবাদ রয়েছে? একজন মন্ত্রী জানতে চাইলেন। লিঙ্কন জবাবে বললেন, আমি কিছু শুনিনি। আমার কাছে কোনো খবরও নেই। কিন্তু গতরাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। আমি স্বপ্নে দেখলাম, একটি নৌকায় আমি সম্পূর্ণ একা। নৌকায় কোনো দাঁড় নেই, কোনো হাল নেই। অথৈ সাগরে নিঃসহায়ের মত একা ভেসে চলেছি। কক্ষের মাঝে নিঃসীম-নিস্তব্ধতা নেমে এল। এখন কি বলতে হবে, কেউই তা জানেন না। প্রেসিডেন্ট বলে চললেন : গৃহযুদ্ধকালে কয়েকবার আমি এ স্বপ্ন দেখেছি। প্রতিবারই একদিন বা দুদিনের মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হ্যাঁ, ভদ্রমোহদয়গণ। আমার মনে হচ্ছে, সম্ভবত আগামীকাল- সম্ভবত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আপনারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর পাবেন। এর পাঁচ ঘণ্টা পরই মহান লিঙ্কন আততায়ীর হাতে নিহত হন। দুইস্বপ্ন-একটি মাত্র স্বপ্ন ইউরোপের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছিল ব্যাপকভাবে। রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার তখনও জীবিত। তার একজন প্রভাবশালী সভাসদ সিসিরো এক রাতে স্বপ্ন দেখেন যে, সিজারের যোগ্য উত্তরাধিকারী মনোনয়নের জন্যে দেবতা জুপিটার সিনেটের তনয়দের প্যারেড পরিদর্শন করছেন। কিন্তু কাউকেই দেবতার মনঃপুত হলো না। এমন সময় প্যারেডের মাঠে দেখা গেল এক অদ্ভুত তরুণকে। দেবতা জুপিটার তাকেই মনোনীত করলেন সিজারের উত্তরাধিকারী। ঘুম ভাঙার পরও সিসিরোর মনে স্বপ্নে দেখা তরুণের মুখচ্ছবি ভাসতে লাগল। পরদিন সিসিরো দরবারে যাওয়ার পথে একদল তরুণের সাক্ষাৎ পেলেন। তারা শরীরচর্চা শেষে ফিরছিল। তাদের মধ্যেই তিনি দেখতে পেলেন স্বপ্নে দেখা তরুণকে। সিসিরো এর পূর্বে সে তরুণকে কখনো দেখেননি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারলেন, তরুণের নাম অক্টাভিয়াস। তার বাবা-মার তেমন কোনো পরিচিতি রাজধানীতে নেই। কয়েক বছর পরের কথা। সিজারের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলো। সিসিরো তার স্বপ্নের বলে বলিয়ান হয়ে সর্বশক্তিতে অক্টাভিয়াসের পক্ষ সমর্থন করলেন। অক্টাভিয়াস আরোহণ করলেন রোমের সিংহাসনে। অক্টাভিয়াসই পরে সর্বশ্রেষ্ঠ রোম সম্রাট হিসেবে অগাস্টাস নামে ইতিহাসখ্যাত হন। তিন১৯০৯ সালে সারা ভারতে তখন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের জোয়ার বইছে। লণ্ডনে লেগেছে তার ঢেউ। সন্ত্রাসবাদীরা ভারতের সাথে সংশ্লিষ্ট বৃটিশ অফিসারদের হত্যা করতে পারে এ আশঙ্কা তখন লণ্ডনের সবার মনে। ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীদের ওপর নজর রাখার দায়িত্ব স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড বিশেষ গোয়েন্দা ইন্সপেক্টর ম্যাক লাফলেনের ওপর অর্পণ করেন। ইন্সপেক্টর ম্যাক লাফলেন এক রাতে স্বপ্ন দেখেন লালধিংরা নামে এক ভারতীয় ছাত্র একটি বিরাট ভবনের বাইরে রিভলবার হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপর থেকে তিনি লালধিংরার ওপর সতর্ক নজর রাখতে লাগলেন। স্বপ্ন দেখার পর ইন্সপেক্টর ভবনটি সনাক্ত করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু লণ্ডনের বহু রাজপথ পরিক্রমণ করেও তিনি সে ভবনটি সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। ১৯০৯ সালে পহেলা জুলাই দক্ষিণ কেনিংস্টনের ইম্পেরিয়াল ইন্সটিটিউটে ভারতের সাথে সংশ্লিষ্ট বৃটিশ অফিসারদের সম্মানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ভারতবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্যার কার্জন উইলি এবং তার বিশিষ্ট বন্ধু পার্সি চিকিৎসক ডাক্তার কাউস লাল কাকাও এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন। জমজমাট এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পরেও চলতে থাকে। রাত নয়টায় স্যার কার্জন ও আরো কয়েকজন অতিথি বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্যার কার্জন ভবনের প্রধান সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। কিন্তু তিনি নিচে নেমে আসতে না আসতেই একটি স্তম্ভের আড়ালে আত্মগোপনকারী লালধিংরা বিদ্যুৎগতিতে তার সামনে এসে দাঁড়ায়। মাত্র দুহাতের ব্যবধানে থেকে লালধিংরা পরপর পাঁচটি গুলি করে তাকে। ডাক্তার লালকাকা কার্জনের পেছনে আসছিলেন। তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে বাধা দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু লালধিংরার রিভলভারের শেষ গুলিটি আঘাত করে। তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। ইন্সপেক্টর লাফলেন পরদিন দিবালোকে ভবনটির সামনে এসে দাঁড়ান। এবার সনাক্ত করতে পারেন ভবনটিকে। স্বপ্নে তিনি এ ভবনটিই দেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখার পর লণ্ডনের বহু রাজপথের দু’ধারে তিনি এ ভবনটির খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে কেনিংস্টনের এক্সিবিশন রোড ও তার আশেপাশের কয়েকটি রাস্তায় তিনি আসেন নি। চারদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ঘটনা। এ সময় একটি স্বপ্ন মিত্রপক্ষের সামরিক গোপনীয়তা রক্ষায় যথেষ্ট সহায়ক হয়েছিল। তখন চীনা বন্দর সোধাতোর বৃটিশ কন্সাল ছিলেন রোনাল্ড হল। তার স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন : এক রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি স্বপ্নে দেখি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা ঘটায় আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি তখন আর মুক্ত নই। বৃটিশ কন্সাল হিসেবেও আমি কর্মরত নই। এই স্বপ্ন আমাকে বেশ প্রভাবিত করে। আমি গভীর রাতে ঘুমুতে গেলেও খুব ভোরে উঠে পড়ি। অস্বস্তি দূর করার জন্যে নিচের তলায় নেমে যাই ম্যানিলা বেতারের ভোরের খবর শোনার জন্যে। ম্যানিলা বেতার ধরার সাথে সাথেই আমি শুনলাম, আজ সকালে ম্যানিলায় বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। কালবিলম্ব না করে আমি আমার দফতরের পথে রওয়ানা হই। দফতরে পৌঁছেই সকল গুরুত্বপূর্ণ দলীল-দস্তাবেজ ভস্মীভূত করতে শুরু করি। দলীল-দস্তাবেজ ভস্মীভূত করে নিশ্চিহ্ন করতে না করতেই জাপানীরা আমাকে বন্দী করে। আমার আমেরিকান সহকর্মী অবশ্য এতটা ভাগ্যবান ছিলেন না। জাপানীরা তাকে বিছানা থেকেই গ্রেফতার করে। ফলে তিনি কোনো কিছু ভস্মীভূত করতে সক্ষম হননি। স্বপ্ন দেখার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই আমি জাপানি জেনারেলের কাছ থেকে একটা চিঠি পাই। তাতে লেখা ছিল, যেহেতু অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাই বৃটিশ কন্সাল হিসেবে আমার আর কোনো মর্যাদা নেই। পাঁচপ্রখ্যাত মার্কিন কথাশিল্পী মার্ক টোয়েন ছিলেন অতিমাত্রায় অনুভূতিপ্রবণ। পেনসিলভানিয়া স্টিমারে খালাসীর কাজ করার সময় একদিন তিনি তার বোনের বাসায় বেড়াতে যান। রাতও কাটান সেখানে। রাতে তিনি দেখেন এক অভাবিত স্বপ্ন। তিনি দেখেন একটি হল ঘর, অনেক লাশের মধ্যে রয়েছে তার ছোট হেনরীর লাশ। অন্যান্য লাশ কাঠের কফিনে থাকলেও হেনরীর লাশ রয়েছে ধাতব কফিনে। হেনরীর বুকের ওপরে রয়েছে শ্বেত পুষ্পস্তবক। আর তার মাঝখানে শোভা পাচ্ছে একটি লাল গোলাপ। এ স্বপ্ন তাকে এত আচ্ছন্ন করে ফেলে যে তিনি বিছানা থেকে উঠে পোশাক পরে বেরিয়ে পড়েন। সে গভীর রাতে রাস্তায় কোনো গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই রওয়ানা হন ভাইয়ের লাশ দেখার উদ্দেশ্যে। অবশ্য আধা মাইল হাঁটার পর তিনি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন যে, তিনি শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখেছিলেন, এর সাথে বাস্তবের কোনো যোগাযোগ নেই। তাই আবার বাসায় ফিরে আসেন। সকালে নাস্তার টেবিলে তিনি স্বপ্নের কথা বলেন তার বোনের কাছে। এর কয়েকদিন পর তিনি ও হেনরী পেনসিলভানিয়া স্টীমারে করে নিউ ওরলিন্সে যান। সেখান থেকে তাকে বদলী করা হয় টিএ লেকী স্টীমারে। পেনসিলভানিয়া দু’দিন আগেই নিউওরলিন্স থেকে যাত্রা শুরু করে। কয়েকদিন পরে পেনসিলভানিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটে হেনরী মারাত্মকভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার পর ছয় দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেনরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। মার্ক টোয়েনকে তার ভাইয়ের লাশ দেখানোর জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। হেনরীর লাশ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যের লাশের সাথে একটি হল কক্ষে রাখা হয়েছিল। হল কক্ষে হেনরীর লাশ ছাড়া অন্যান্যের লাশ ছিল কাঠের কফিনে। হেনরীর লাশই শুধু ছিল ধাতব কফিনে। তার তারুণ্য ও আকর্ষণীয় চেহারা মেমফিসের মহিলাদের বেশ প্রভাবিত করেছিল। তারা চাঁদা করে হেনরীর জন্যে একটা ধাতব কফিন কেনে। তার জন্যে বিশেষভাবে তৈরি করে শ্বেত পুষ্পের একটা তোড়া। তারা তোড়াটি রাখে হেনরীর ঠিক বুকের ওপর। মার্ক টোয়েন হল ঘরের দরজায় এসেই থমকে দাঁড়ান, এবার বাস্তবতাকেই স্বপ্ন বলে ভ্রম হয় তাঁর। স্বপ্নে দেখা ঘটনা আর বাস্তবতায় অমিল নেই কোনো—শুধু লাল গোলাপটি ছাড়া। তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে যখন এ কথা ভাবছেন, তখন আর এক মহিলা একটি লাল গোলাপ হাতে নিয়ে তার গা ঘেঁষে কক্ষে প্রবেশ করে। মহিলা সরাসরি হেনরীর কফিনের নিকট যায়। শ্বেত পুষ্পস্তবকের ওপর আলতোভাবে রাখে লাল গোলাপটি। ছয়প্রখ্যাত বৃটিশ সেনাপতি জেনারেল গর্ডন তখন ভারতে। এক রাতে স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি একটি খরস্রোতা নদী পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নদী পার হওয়ার জন্যে একটি ধূসর রঙের নৌকায় কয়েকজন সৈন্যসহ উঠছেন। মাঝপথে যাওয়ার পর তাদের নৌকা ডুবতে শুরু করে। এ সময় তিনি তার পাশে যে সৈনিককে দাঁড়ানো দেখতে পান তাকে তিনি ইতিপূর্বে অবাধ্যতার জন্যে শাস্তি দিয়েছিলেন। পর পর কয়েক রাত তিনি এ স্বপ্ন দেখেন। প্রতিবারেই নৌকা নিমজ্জিত হতে শুরু করার সময় তার পাশে সেই সৈনিককে দাঁড়ানো দেখতেন। এর অল্প কিছুদিন পর জেনারেল গর্ডনকে একটি খরস্রোতা নদী অতিক্রম করতে হয়। তিনি নৌকায় উঠতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ লক্ষ করলেন যে, নৌকাটি স্বপ্নে দেখা নৌকার ন্যায় এবং এর রংও ধূসর। আরো ভালো করে লক্ষ্য করতেই তিনি দেখতে পেলেন যে, তার সঙ্গী সৈনিকদের মধ্যে এমন একজন রয়েছে, যাকে তিনি ইতিপূর্বে অবাধ্যতার জন্যে শাস্তি দিয়েছেন। একজন জেনারেলের পক্ষে স্বপ্নের ওপর গুরুত্ব দান কিছুটা অস্বাভাবিক। কেউ কেউ একে বোকামিও মনে করতে পারেন। কিন্তু জেনারেল গর্ডন নৌকায় উঠলেন না। বরং সৈনিকদের নৌকা টেনে ডাঙ্গায় তোলার নির্দেশ দেন। নৌকা ডাঙ্গায় ওঠানোর পর তা ওল্টাতে বলেন। নৌকা ওল্টানোর পর দেখা যায় যে, নৌকার তলায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র। নৌকার ওপর পাটাতনের জন্যে তা দেখা যাচ্ছিল না। নৌকা ওপরে তোলার এই অভাবিত ঘটনা দেখে সৈনিকটি জেনারেল গর্ডনের পায়ে লুটিয়ে পড়ে। সকল অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে সে। জেনারেল গর্ডন লিখেছেন, ‘যদি আমি আমার স্বপ্নের সতর্কবাণীতে কান না দিতাম, যদি সতর্ক না হতাম, তবে আমার সাথে সবাইকে নদীতে নিমজ্জিত হতে হতো। কারণ নদীর স্রোত ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।  
বাসাই আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ক্লাব

আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন৷ নইলে, শূন্য থেকে শুরু করে, ফ্যামিলি কে ক্যাপিটেল না করে, আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না৷ সুন্দর একটা সংসার দিয়েছেন৷ আর্থিক বা সামাজিকভাবে আমার এখন যে অবস্থান, তাতে করে সন্ধ্যার পর কোনো ক্লাবে বা আড্ডায় যাইনা বলে রীতিমত লজ্জা পেতে হয়৷ তবু পারিনা৷ দিন শেষে বাসায় চলে আসি৷ আমার পরিবার প্রীতির ব্যাপারটা নিয়ে অনেকেই মুখটিপে হাসে৷ দুই কন্ন্যাকে জ্বালাতন করে আমি খুব মজা পাই৷ টাইম পাস করার জন্য এর চাইতে ভালো কোনো খেলা আমি এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি৷ আমার জন্য ওদের পড়াশুনাটা রীতিমত ডিফিকাল্ট হয়ে যায়৷ সারাক্ষণ একটা না একটা কিছু নিয়ে ওদের সাথে লেগেই থাকি৷ তারপরও ওরা সব পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়৷ এটা ওদের মায়ের একক কৃতিত্ব৷ ওরা খুব ভাগ্যবতী, এমন একজন মা পেয়েছে বলে৷ আমিও খুবই ভাগ্যবান, এমন একজন সেরা মাকে স্ত্রী হিসেবে পেয়েছি বলে৷ মহান আল্লাহতাআলা এক্ষেত্রেও আমাকে বঞ্চিত করেননি৷ তাই সবাইকে বলি ... ‘বাসাই আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ক্লাব’৷ এই বিশেষ মুহুর্তে এই শ্রেষ্ঠ মায়ের জন্য এবং পৃথিবীর সকল মায়ের জন্য অনেক অনেক ভালবাসা ও শুভেচ্ছা। ‘হ্যাপি মাদার্স ডে’!    

কংক্রিটের শহর এখন লাল কৃষ্ণচূড়ার দখলে

বৈশাখের তপ্ত রোদে অতিষ্ঠ জনজীবন। যেন রাস্তায় বের হওয়ার উপক্রম নেই। সূর্য্যিমামা সমস্ত তেজ যেন ঢেলে দিয়েছে। চারদিকে ক্লান্ত পথিকের শুধু হাঁসফাঁস। এমন রোদ্দুরে একটুখানি প্রশান্তির ছোঁয়া খুঁজে ফিরে দু’চোখ। নিমিষেই ক্লান্ত চোখ ও মনকে জুড়িয়ে দিতেই যেন রাস্তার দুধারে ফোটে আছে রঙিন কৃষ্ণচূড়া  ফুল। লাল-হলুদ ফুটন্ত এসব ফুলগুলো যেন পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রশান্তির। কংক্রিটের শহরে যেদিকে চোখ যায় শুধু চোখে পড়ে, আকাশচুম্বী দালান। সেই শহরে এখন কৃষ্ণচূড়া ফুলের আধিপত্য। গ্রীষ্মের অতি পরিচিত এই  ফুল রাজধানীকে রাঙিয়ে তুলেছে। নগর জীবনের সকল বিড়ম্বনা ও হতাশার ভেতরও যেন সামান্য হলেও মনে দোলা দিয়ে যায় এই ফুল। রাজধানীর প্রধান প্রধান বেশিরভাগ সড়কের পাশেই এখন এ ফুল ফোটতে দেখা যাচ্ছে। এমন মন মাতানো ফুলে যেন খুশির আবিরে ছড়িয়ে পরেছে সবখানে। সেই সঙ্গে কৃষ্ণচূড়ার লাল টুকটুকে আদুরে পাপড়ি দিয়ে ছেয়ে গেছে সবুজ শ্যামল পরিবেশ।   কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য সকলের মন ছাপিয়ে কবির হৃদয়ে দোলা দিয়েছে। বাঙালীর কবিতা, সাহিত্য, গান কিংবা উপমায় এ ফুলের কথা নানা ভঙ্গিমায় এসেছে। কখনো গানে গানে মাতিয়ে তোলে আমাদের। ‘‘কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে, তুমি আসবে বলে রঙধনুটা মেঘ ছুয়েছে আকাশ জুড়ে, তুমি আসবে বলে’’।আবার কবিতায়,‘‘কৃষ্ণচূড়া লাল রঙেতে,ভরিয়েছে বসন্ত। আমার মনের কষ্ট,কেন ভরায় হৃদয় দিগন্ত!’’। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম  হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চলব্যাপী ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।এ অঞ্চলে এপ্রিল থেকে জুন মাসে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। তবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটতে দেখা যায়। এনএম/কেআই      

জাবির বটতলায় কি খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা?

প্লেটে প্লেটে সাজানো বাহারি রকমের ভর্তা। মাছ থেকে শুরু করে ডাল, সীম কিংবা বাদাম দিয়ে বানানো হয়েছে এসব ভর্তা। দোকানে ডুকতেই যে কারো চোখে পড়বে এসব খাবার। এমন আকর্ষনীয়ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়, দেখলে জিভে জল না এসে উপায় নেই। এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার খাবারের দোকানের চিত্র। কিন্তু এমন মুখরোচক খাবার কতটা স্বাস্থ্য সম্মত ও কিভাবে তৈরী হয় তা বিন্দু মাত্র যাচাই করেন না, এখানকার ক্রেতা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। যে কারণে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন পেটের পীড়া ও গ্যাষ্টিক এর মত রোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে। অনেকে আবার এসব খাবারের কারণে দীর্ঘমেয়াদী লিভারের সমস্যায়ও ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা.তৌহিদুর রহমান জানান, ‘প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ রুগীই আসে খাদ্য জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে।’ তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে নূন্যতম পেটের পীড়া ও গ্যাষ্টিকের প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকার কারণে মেডিকেলে এসেও সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, ‘বটতলার খাবারের মধ্যে সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর হলো ভর্তা। হরেক রকমের এসব সুস্বাদু ভর্তার মধ্যে রয়েছে নিম্নমানের তেলের আধিক্য। বেশিরভাগ ভর্তাই দেখা যায় প্রতিদিন সম্পূর্ণ বিক্রি হয়না। তাই পরের দিন এসব ভর্তা নতুন কিছু ভর্তার সঙ্গে মিশিয়ে অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা হয়। আর এগুলো তখন দেখতে নতুন ভর্তার মত মনে হয়।’ এছাড়া প্রতিদিন নতুন ভর্তা বানাতেও অতিরিক্ত তেল তারা ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি। তার দাবি, ‘কিছু খাবারে হয়তো আমরা অতিরিক্ত মশলা ও তেল ব্যবহার করি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি তেল ব্যাবহার হয় এই ভর্তায়। ৭০-৮০ টাকার ভর্তায় দেখা যায় প্রায় ১৫০-২০০ গ্রাম তেল দিয়ে তা ভাজা হয়। কেন এসব বিক্রি করেন বা এমন অতিরিক্ত তেল ব্যাবহার করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবাই বিক্রি করে তাই আমরাও করি। একবার স্যাররা এসব বন্ধ করে দিয়েছিলেন,পরে আবার বিক্রি শুরু করেছে সবাই’। শুধু মাত্র ভর্তায়ই নয়, অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, পুরনো খাবার ফ্রিজে রেখে পরের দিন গরম করে তা বিক্রি করতে। প্রত্যেকটি খাবারে অতিরিক্ত মশলাও ব্যাবহার করতে দেখা যায় দোকানদারদের। এছাড়া কিছু নির্ধারিত আইটেম বিক্রি করতে দোকানদারদের বলা হলেও তারা হরেক রকম খাবার তৈরী করছেন। তাই প্রায়ই বাহিরের দর্শনার্থী না আসলে এসব বেশির ভাগই অবিক্রিত থেকে যায়। যা পরের দিন তারা বিক্রি করেন। অনেক দোকানদারকে দেখা যায় কবুতরের মাংসও বিক্রি করতে। আর এসব বিক্রি না হলে পরের দিন মুরগীর মাংস,কয়েলের মাংস মিশিয়ে তা বিক্রি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, ‘কোন দোকানেই কবুতরের মাংস বলতে কিছু নেই। কয়েলের মাংস তারা ছোট ছোট করে তা কবুতর বলে চালিয়ে দেন।’ অনেক দোকানের পেছনে গিয়েও দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব খাবার। আর প্রত্যেক দোকানের খাবারই খোলা রাখা হয়। এতে দেখা যায় প্রায়ই মাছি বসে খাবারে। অন্যদিকে খাবারের মান ভালো না করার পিছনে কিছু শিক্ষার্থী খেয়ে টাকা না দেওয়ার কারণকেও দায়ী করছেন দোকানদাররা। তাদের দাবি, ছাত্র রাজনীতি করেন এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের কাছে আমরা হাজার হাজার টাকা পাই। যার কারনেও খাবারের মান ভালো করা সম্ভব হচ্ছে না। পূর্বে হল প্রশাসন এসব বিষয়ে মাঝে মাঝে তদারকি করলেও বর্তমানে বেশিরভাগ হলই এ বিষয়ে উদাসীন। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগেও আমি বটতলার কিছু দোকানের ভর্তা ফেলে দিয়েছি। কিন্তু এদের প্রায়ই সতর্ক করার পরও তারা এসব করছে। দোকানের বরাদ্ধ বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তারা কোন ভাবেই থামছে না। এছাড়া হল প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও যদি একটি মনিটরিং সেল গঠন করে তা প্রতিদিন তদারকি করে, তাহলে এ সমস্যা কিছুটা কমে বলে মনে করছি।’ এসি      

হাবিপ্রবিতে স্থাপত্য বিভাগের ‘স্থাপত্যে অনুরণন’ প্রদর্শনী

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলন কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় স্থাপত্য বিভাগের আয়োজনে দুইদিনব্যাপী স্থাপত্যে অনুরণন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে। প্রদর্শনীতে দুই শতাধিক মডেল, ফটোগ্রাফি, অংকন, বঙ্গবন্ধুর ছবি সুতা দিয়ে আর্টসহ অনেক কিছু দেখানো হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রায় সবাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসেন। দিনাজপুর এবং আশপাশের জেলাগুলো হতেও দর্শনার্থীরা এই প্রদর্শনী দেখতে আসেন। বর্তমান অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে নিয়ে এসে দিনাজপুর শহরকে একটি অগ্রগণ্য শহরে রুপ দেওয়ার জন্য পরামর্শ, সুপারিশ ও নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের কনভেনশন সেন্টার ও আর্ট ক্যাম্পাস, শিশুদের পার্ক, জলজ উদ্যান, ইকোলজিক্যাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ শহরের রূপরেখা ফেস্টুনে লিখে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, দিনাজপুর শহরকে পরিকল্পনামাফিক ও নান্দনিকভাবে সাজাতে প্রদর্শনীতে যেসব নকশা বা স্থাপত্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আগামীর দিনাজপুর গড়ে তুলতে পারলে এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ নানাবিধ উন্নয়নের সাথে আমরা একটি পরিকল্পিত শহর পাবো। স্থাপত্য বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুদ্দীন খান বলেন, বর্তমান অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে নিয়ে এসে দিনাজপুর শহরকে একটি অগ্রগণ্য শহরে রুপ দেওয়ার জন্য পরামর্শ, সুপারিশ ও নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শহরের কনভেনশন সেন্টার ও আর্ট ক্যাম্পাস, শিশুদের পার্ক, জলজ উদ্যান, ইকোলজিক্যাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ শহরের রূপরেখা ফেস্টুনে লিখে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ডঃ বিধান চন্দ্র হালদার প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, ‘হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের বয়স বেশিদিন হয়নি। মাত্র ৫ বছরে এই বিভাগ স্থাপত্য বিষয়ে যা করে চলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আগামীতে এ রকম প্রদর্শনী আয়োজন করার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আর্কষণে স্থাপত্যের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন। হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ ফজলুল হক বলেন, ‘আমি নিজেও এই আয়োজন প্রতিবার দেখতে আসি। স্থাপত্য বিভাগের বিভিন্ন নকশা ও ভবনের চিত্রগুলো মাফিক যেকোনো শহর গড়ে তোলা হলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক শহরের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান নাইম মিথুন বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিভাগ বলা চলে। আমাদের বয়স খুবই কম। এর মধ্যেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে চেষ্টা করছি দিনাজপুর এবং আশপাশের অঞ্চলকে কীভাবে পরিকল্পনামাফিক সাজানো যায় তারই বিভিন্ন প্রকৃতির নকশা। আশা করি আমরা আগামীতে আরো ভালো মানের পরিকল্পনা নিয়ে শহরের জন্য কাজ করতে পারবো।’ এসি    

মানুষকে সচেতন করতে সাঈদ রিমনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু কেউ কেউ আছেন এর থেকে ব্যতিক্রম। নিজেকে ছাড়িয়ে আশ-পাশের জগত তাদেরকে ভাবায়। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ তারা ভেতর থেকে অনুভব করে। তেমনি একজন সাঈদ রিমন। ছবিগুলোর দিকে একটু খেয়াল করুন। একটু দেখলে বুঝতে পারবেন প্রতিটি ছবিতে ভিকটিম একজন। তিনি সাঈদ রিমন। পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। রাজধানীতে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি করেন। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরে তার আরেকটি পরিচয় আছে। সেটা হলো দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ উদ্যোগে সমাজের মানুষদের সচেতন করতে নানা ধরনের কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। তার এই সচেতনতার অন্যতম মাধ্যম হলো স্থিরচিত্র। সেসব স্থিরচিত্রে তিনি মডেল হিসেবে বা অভিনেতা হিসেবে নানা ধরনের অঙ্গ-ভঙ্গিতে ছবি তুলেন। তারপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন, বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ক্যাম্পেইন করে থাকেন। সাঈদ রিমনের ক্যাম্পেইনের বিষয় নানা ধরনের। সড়ক দুর্ঘটনা, মাদক, বাসে ট্রেনে মোবাইল ছিনতাই, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারা, বাসে বা লেগুনায় উঠার সময় মোবাইল নিয়ে দৌড় দেওয়া, পাবলিক গাড়ীতে মলম পার্টি, অপরিচিত লোকের দেওয়া খাবার খেয়ে জ্ঞান হারানো, পানিতে শিশু ডুবে যাওয়া, বেকারত্ব ইত্যাদি। বেকার এর অভিনয়ে রিমন সাঈদ রিমন এসব ঘটনায় অভিনয় করে সেই অভিনয়ের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র মুখে বললে এসব ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে মানুষের মনে কোন অনুভূতি জাগে না। বা জাগলেও সেটা কম। কিন্তু যদি স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করা যায় তাহলে মানুষের মনে তীব্র অনুভূতি জাগে। যা তাকে এসব ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করবে। সাঈদ রিমনের জন্ম বরগুনার পিটিআই সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। পড়াশুনা করেছেন নিজ এলাকায় বরগুনা জিলা স্কুলে, নটরডেম কলেজে, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাঈদ রিমন- এর বাবা মৃত আবদুল খালেক। তিনি ছিলেন পেশায় ব্যাংকার। মা সুলতানা রাজিয়া। ব্যক্তিজীবনে সাঈদ রিমন বিবাহিত। স্ত্রী সাদিয়া মিমি স্কুল শিক্ষিকা। পানিতে ডুবে যাওয়া শিশুকে উদ্ধারের ভূমিকায় সাঈদ রিমন শুধু নিজের অভিনয়কৃত স্থিরচিত্রের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেন তাই নন; চলার পথে বাসে ট্রেনে নিজ হাতে লিফলেট বিতরণ করেন। কোন জমায়েত পেলেই সেখানে মানুষকে ছবি ও লিফলেটের মাধ্যমে সচেতন করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। তারা হলেন নাজিম আল নবী ও আহমেদ আল নোমান। তার স্থিরচিত্র তোলেন মো. ফয়সাল ও রমিজ জাবেদ টিংকু। সাঈদ রিমন বলেন, এই মানুষগুলো আমাকে এতো বেশি ভালবাসে, কাজের প্রতি তাদের এত বেশি নিষ্ঠা আমার অবর্তমানে তারা এ কাজ চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ও মানসিকতা রাখে। কেন এমন কাজে সম্পৃক্ত হলেন প্রশ্নে সাঈদ রিমন বলেন, ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া আশপাশের কিছু অনিয়ম আমাকে নাড়া দেয়। যেমন মাদক। আমরা যে মুখে `মা` ডাকি সে মুখে মাদক নেব এটা কেমন কথা। আমি ভাবতাম এর বিরুদ্ধে যদি একজন মানুষকেও সচেতন করতে পারি তবে সেটাই স্বার্থকতা। এরপর আস্তে আস্তে সড়ক দুর্ঘটনা, পাবলিক গাড়ীতে অসতর্কতার কারণে বিপদে পড়া এমন নানা বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে শুরু করি। তিনি বলেন, আমার তোলা বেশির ভাগ ছবিই ঢাকার ফার্মগেট, আবদুল্লাহপুর সহ ব্যস্ত সব এলাকায় অভিনয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। ট্রেনের ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে রাজধানীর এয়ারপোর্ট ষ্টেশন থেকে। মাদক সচেতনতায় সাঈদ রিমন সাঈদ রিমন- এর আইডি থেকে এসব ছবি ভাইরাল হয় প্রচুর পরিমাণে। তিনি জানান, তার স্ত্রী তাকে একাজে সবসময় অনুপ্রেরণা দেন। সাহস জোগান সহকর্মী এমনকী তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন সে প্রতিষ্ঠানের বস পর্যন্ত। তবে বিব্রতকর হওয়ার অভিজ্ঞতাও কম নয়। তার ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সেগুলোকে সত্য মনে করে কেউ কেউ তার ছবি দিয়ে " একে ধরিয়ে দিন" এমন পোস্ট দিতেও দেখা যায়। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে সাঈদ রিমন জানান, একবার ফার্মগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার অভিনয় করছিলেন তিনি। আগে থেকে পুলিশ কে জানানো ছিল। কিন্তু মানুষ ধরে নেয় এটা সত্য ঘটনা। ফলে পুরো টিমকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ঠিক তেমনি ভাবে বাসে বা ট্রেনে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিনয় করার আগেও সতর্কতামূলকভাবে পুলিশকে জানিয়ে রাখা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিট্রনের উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি বরগুনার পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় আমাকে যথেষ্ঠ উৎসাহ দিতেন। আমাকে একটি প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন। যা বিভিন্ন আইনী প্রক্রিয়ায় যথেষ্ঠ কাজ দেয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক - এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, " আমি যখন বরগুনার পুলিশ সুপার ছিলাম তখন সাঈদ রিমনের সাথে আমার পরিচয় হয়। তার ব্যতিক্রমী চিন্তায় আমি মুগ্ধ। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু সাঈদ রিমন তাই করে যাচ্ছেন। " তিনি আরও বলেন, "আমি বরগুনা পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় তার এসব স্থিরচিত্র দিয়ে স্টীকার করিয়েছি। এতে সাড়াও পেয়েছি বেশ। দেশের সব তরুণরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে সোনার বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। " সাঈদ রিমন বলেন, আমি কাজ করে যেতে চাই। আমার দ্বারা যদি একজন মানুষও সচেতন হয় তাহলে সেটাই স্বার্থকতা। যদি একটি প্রাণও বাঁচে তবে সেটাই আমার প্রাপ্তি। আআ/এসি        

আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে পাখি (ভিডিও)

আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তবে নগরায়ন আর শিল্পায়নের তাড়নায় থাকা সৈয়দপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম যেন হাঁটছে উল্টোপথে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির শামুকখোল পাখিরা এখানে পেয়েছে এক আশ্চর্য আশ্রয়। গ্রামবাসীরাই পরিচর্যা করছে পাখিদের। নীলফামারির সৈয়দপুর উপজেলার সোনাখুলি গ্রাম। প্রত্যন্ত এই গ্রামে বট-পাকুড় গাছে বাসা বেধেছে শামুকখোল পাখি। গ্রামবাসী যেহেতু পাখি শিকারের বিরুদ্ধে, এখানেই নিরাপদ বোধ করছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এই পাখিরা। পাখিদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে প্রভাবশালী শিকারীদের মামলা-হয়রানিও ভোগ করতে হয়েছে গ্রামবাসীকে। এরপরও তাদের দমানো যায়নি। এখন পাখির ঝাক দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। তবে গ্রামবাসীর এই পাখিপ্রেম একদিনে হয়নি। বাস্তুসংস্থানের ধারাবাহিকতায় পাখি আর মানুষের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নেপথ্যে কাজ করছে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসনও। সৈয়দপুরে আরো পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে চায় তারা। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। যখন আবাসস্থলের অভাবে ক্রমেই কমছে শামুকখোল পাখির সংখ্যা, তখন সোনাখুলি গ্রামের এই উদ্যোগ যেন পথ দেখালো, এমনটাই বলছেন পাখিপ্রেমীরা। বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন :   এসএ/এসইউ    

চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়: যেখানে মেটে প্রাণের তৃষ্ণা  

দেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম মূলত বাণিজ্যিক নগরী হিসেবেই প্রসিদ্ধ। সমুদ্র বন্দর ও প্রচুর শিল্পকারখানার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য্যের কারণে চট্টগ্রাম প্রাচ্যের রাণী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বহু আগে। এসবের সমন্বয়ের চট্টগ্রাম নগরীর ঠিক মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে চেরাগী পাহাড় বা চেরাগী মোড়।        শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার অন্যতম ক্ষেত্র চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়। এক দিকে আন্দরকিল্লা মোড়, পেছনে ডিসির পাহাড়, বিপরীতে জামালখান সড়ক। এর মাঝেই অবস্থিত চেরাগী মোড়। চেরাগ থেকে চেরাগী:  এদেশে ইসলাম প্রসারে আরব থেকে আসা সূফি সাধকরাই সবসময় ভূমিকা রেখেছে। কথিত আছে সুফি সাধক হযরত বদর আউলিয়া (র.) সমুদ্রে ভাসমান এক খণ্ড পাথরের উপর আরোহন করে চট্টগ্রামে আসেন। কিন্তু তখনকার চট্টগ্রাম আজকের মতো এমন জনবহুল তো ছিলই না বরং তা ছিল জন-মানবহীন গভীর পাহাড় পর্বতে ঘেরা। জ্বীন-পরীরা সেখানে বাস করতো এমনটাই বিশ্বাস করে অনেকে। হযরত বদর আউলিয়া (র) একটি অলৌকিক মাটির চেরাগ হাতে নিয়ে গভীর বন-জঙ্গল দিয়ে একটি পাহাড়ের উপর উঠলে জ্বীন-পরীরা তাকে বাধা দেয় এবং বলে, তাদের আবাস স্থলে কোন মানুষের স্থান নেই। রাতের অন্ধকার নেমে আসলে হযরত বদর আউলিয়া (র ) জ্বীন পরীদের নিকট শুধু চেরাগ রাখার স্থানটুকু চাইলে তারা সম্মতি জ্ঞাপন করে। তিনি অলৌকিক চেরাগ জ্বেলে দিলে তা থেকে তীব্র তেজ বিকিরণ করতে থাকলে জ্বীনপরীরা শরীরে প্রকট জ্বালা যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। অতঃপর এক পর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আস্তে আস্তে এখানে মানুষ বসবাস করতে শুরু করে। তবে এ কাহিনীর কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি আজকে হয়তো উপস্থাপন সম্ভব নয়। কালক্রমে চেরাগি পাহাড় চত্বরটি হয়ে উঠে চেরাগী মোড়। আজকের চেরাগী   আজকের সময়ে চেরাগী মোড় বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে অসংখ্য দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা, টিভি চ্যানেলের অফিস। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর প্রকাশনা সংস্থা, মুদ্রণ, হকার সমিতির কার্যালয়। মূলত চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করেই চেরাগী মোড়, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কাটা পাহাড়, চন্দনপুরা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে বিশাল ছাপা খানার বাজার। যেখানে সকাল সাতটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছাপা খানার মেশিন ঘুরতে থাকে। চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যান্ড দল, ব্যাংক-বীমা, অ্যাডফার্ম, স্টেশনারি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র, হাসপাতাল, মন্দির, হল সর্বোপরি সকল প্রকার বাণিজ্যিক, সমাজকল্যাণমূলক ও শিল্প সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছে শহর বন্দর গ্রামগঞ্জ হতে শত শত হাজার হাজার মানুষ। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের অন্যতম এ চেরাগী পাহাড়ে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকার। ঢাকার পরেই প্রকাশনা বাজারের দিক থেকে চট্টগ্রামের অবস্থান দ্বিতীয় যা চেরাগীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডা মুখর চেরাগী    চট্টগ্রামের কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যজন, শিল্পী, গায়ক, সৃজনশীল বইয়ের পাঠক- লেখক, সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিককর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আড্ডার অন্যতম ঠিকানা চেরাগী। মানুষ তার প্রাণে শান্তি খুঁজে পায় সংস্কৃতি চর্চায়। চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পীরা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির ধারক বাহক। যা মানুষকে শুদ্ধ চর্চায় ধাবিত করে। গভীর বনে গেলে যেমন পাখির কলকাকলি ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না, চেরাগী মোড়ও তেমনি সবসময় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের গুঞ্জনে মুখরিত থাকে। ভোরের চেরাগী  ভোর পাঁচটা থেকে ছ`টার মধ্যে ঢাকার দৈনিক পত্রিকাগুলোর গাড়ী গিয়ে হাজির হয় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোও ততোক্ষণে ছাপাখানা থেকে বের হয়ে এসে হাজির হয় চেরাগীতে। হকার অফিসগুলোর সামনে শুরু হয় হকারদের ব্যস্ততা। গরম গরম পত্রিকাগুলোর মৌ মৌ সৌরভে তখন মুখরিত চেরাগীমোড়। শুধু খবরের উত্তেজনা নয়, এক সদ্য ছাপা হওয়া সংবাদপত্রের সুগন্ধ এক মনমাতানো পরিবেশ সৃষ্টি করে। শুরু হয় হকারদের ছুটে চলা। সাইকেলের পেছনে পত্রিকা বেঁধে টুং টাং শব্দ করে যখন হকাররা ছুটে চলে তখন নগরে ঘোষিত হয় নতুন বারতা। সন্ধ্যার আড্ডা    বসার জায়গা নেই বললেই চলে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা। আজাদী ভবন, বঙ্গবন্ধু ভবন, লুসাই ভবনের নিচে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না। হাতে চায়ের কাপ, ঠোঁটে সিগারেট এখানে কমন দৃশ্য। চটপটি, ফুচকা, নানা রকমের পিঠাও থাকে।সাংবাদিকপাড়া হিসেবে খ্যাত চেরাগী পাহাড়ের সন্ধ্যা কালীন আড্ডায় উঠে আসে দেশ বিদেশ নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা, তর্ক। তারুণ্যের বিদ্রোহের যে স্বরূপ তা অবলোকন করতে হলেও আসতে হবে চেরাগীতে। মধ্য রাতের টং চা   চেরাগীর মোড় ও আশেপাশের টংয়ের চা দোকানগুলো খোলা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। রাত ২টা-৩টা বা মধ্য রাতের আড্ডাবাজরা ভিন্ন ক্যাটাগরির হয়। এসব দোকান ঘিরে যেমন থাকে রাত জাগা সাংবাদিক তেমনি থাকে কবিতার পরের লাইন মেলানোর নেশায় ছুটে চলা দিশেহারা যুবক। বইঘর   চট্টগ্রামের সব বড় বড় প্রকাশনা ও বইয়ের দোকানগুলো চেরাগী মোড় ও আশপাশে অবস্থিত। শুধু ফেব্রুয়ারি নয়, বরং সারাবছরই দেশবিদেশের খ্যাতিমান লেখক গবেষকদের আড্ডা থাকে এসব প্রকাশনা ও বইয়ের দোকান ঘিরে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা সংস্থা হলো বলাকা প্রকাশন, শৈলী প্রকাশন, আবীর প্রকাশন, নন্দন, শব্দচাষ, বাতিঘর ইত্যাদি। এখানকার বড় বইয়ের দোকান, বাতিঘর, নন্দন, প্রথমা, গ্রন্থনিলয় বেশ প্রসিদ্ধ। কথাকলি নামের বইয়ের দোকানটি কালের সাক্ষী। ফুলের বাজার চেরাগী  চেরাগী পাহাড়, এই এলাকাকে অন্যতম নান্দনিক রুপ দিয়েছে এখানে অবস্থিত প্রচুর ফুলের দোকান। দেখলে মনে হবে এ যেন এক ফুলের রাজ্য। এর সুবাসে মুগ্ধ করে রাখে সবাইকে। পাহাড়ের নগরীতে ডিসি পাহাড়   পাহাড় কেটে কেটে বানানো নগরী চট্টগ্রাম। চেরাগীর মোড়ের পেছনে অবস্থিত বিশাল ডিসি`র পাহাড়। যেখানে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন অবস্থিত। এই পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতকৃত মঞ্চ। কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত এ মঞ্চে সারা বছরই কোন না কোন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাছাড়া তরুণ তরুনীদের ঘনিষ্ট সাহচর্য বা কোন আপনজনের সান্নিধ্যে আলাপচারিতার জন্যও ডিসি হিল নিরাপদ। নাট্যদল, আবৃত্তি সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন  চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে কাজ করছে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি নাট্য সংগঠন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিনোদিনী, ফেইম, লোক থিয়েটার, প্রতিনিধি, প্রতিভাস, ইত্যাদি। আবৃত্তি সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বোধন, প্রমা, ত্রিতরঙ্গ, কিংবদন্তি, অনার্য অন্যস্বর, শব্দনোঙর ইত্যাদি। সাংস্কৃতি সংগঠনগুলোর মধ্যে চারণ, উদীচী, সমগীত, অবসর, লোক সাংস্কৃতিক মঞ্চ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। লিটলম্যাগ: কিছুদিন আগেও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিতে প্রথা ভাঙ্গার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হতো লিটলম্যাগকে। চট্টগ্রামের লিটলম্যাগ আন্দোলন দীর্ঘদান ধরে আবর্তিত হচ্ছে চেরাগী মোড়কে কেন্দ্র করে। লিটলম্যাগ কর্মী, লেখক, সম্পাদকরা এখানে স্বপ্ন বুনেন এক নতুন পৃথিবী গড়ার। ইট পাথরের নগরায়নে যখন নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চাইবে তখনই সামান্য স্বস্তি মেলবে চেরাগী মোড়ের আড্ডায়। চেনা-অচেনা বড় কথা নয়, এখানে সবাই সবার পরিচিত। সবাই সবার কথা শুনে। নিজের মতাদর্শ বুক ফুলিয়ে বলার এমন সুযোগ দেশের আর কোথায় আছে!   এসি  

কিভাবে আসলো ভালোবাসা দিবস! 

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এই দিবসটি কিভাবে বা কোথা থেকে আসলো। এক নজরে জেনেনিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।কথিত রয়েছে- প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল রোমান দেব-দেবীর রানী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে লোকে বিশ্বাস করত। কারো করো মতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হওয়ার কারণ ছিল এটিই। আবার কেউ বলেন, রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তার মতে, যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা? সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। যার নাম ভ্যালেন্টাইন। অসীম সাহসী এযুবকের প্রতিবাদে ক্ষেপে উঠেছিলেন সম্রাট। রাজদ্রোহের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা মাথা কেটে ফেলা হয় তার। ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে।তবে এটিও সর্বজন স্বীকৃত নয়। এখানেও দ্বিমত আছে। কারও কারও মতে, প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীদের প্রতি ছিলেন ভীষণ সদয়। অসুস্থ মানুষের ওষুধ খেতে কষ্ট হয় বলে তিনি তেঁতো ওষুধ ওয়াইন, দুধ বা মধুতে মিশিয়ে খেতে দিতেন। সেই ডাক্তার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। প্রাচীন রোমে খ্রিস্টধর্ম তখন মোটেও জনপ্রিয় ছিল না। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের শাস্তি দেওয়া হতো। একদিন রোমের এক কারা প্রধান তার অন্ধ মেয়েকে ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। ভ্যালেন্টাইন কথা দিয়েছিলেন তিনি তার সাধ্যমতো চিকিৎসা করবেন। মেয়েটির চিকিৎসা চলছিল এমন সময় হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন বুঝতেপেরেছিলেন, খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে। ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বা কারও মতে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তার আগে ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার পর কারা প্রধান চিরকুটটি দিয়েছিলেন মেয়েটিকে। তাতে লেখা ছিল, ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’ (‘From your Valentine’)। মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ত্রৌকস ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল কারণ, ইতোমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দু’চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। ভালবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এই দিনটিকে মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করে আসছে।ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তির বিষয়ে আরেকটি সম্পূর্ণভিন্নমত রয়েছে। এই মতের লোকেরা বলেন, ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে প্রিয়জনকে ভালোবাসার বার্তা পাঠানোর আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাচীনকালে মানুষের বিশ্বাস ছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি হলো পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়তে বসে। আবার কেউ বলেন, মধ্যযুগের শেষদিকে মানুষ বিশ্বাস করত এদিন থেকে পাখিদের মিলন ঋতু শুরু হয়। পাখিরা সঙ্গী খুঁজেবেড়ায়। পাখিদের দেখাদেখি মানুষও তাই সঙ্গী নির্বাচন করে এ দিনে।৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উদ্ভব হলেও এটি বিশ্বব্যাপী প্রথম দিকে তেমনিভাবে প্রচার ও প্রসার লাভ করেনি। পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্ম দিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা বিরত থাকে না। খ্রিস্টীয় চেতনা ভ্যালেন্টাইন দিবসের কারণে বিনষ্ট হওয়ার অভিযোগে ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন্স উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিক ভাবে এ দিবস উৎযাপন করা নিষিদ্ধ করেছিল। এছাড়া অস্ট্রিয়া,হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবসটি জনগণ ও সরকারিভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এসে ভ্যালেন্টাইন্স দিবসের কদর প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরা এই দিবস উপলক্ষে এই দিনে প্রায় কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে। ভালোবাসা দিবসের জন্য মানুষেরা কার্ড, ফুল, চকোলেট ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে। যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনে প্রায় আনুমানিক ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।এসি/

দানবীয় থাবার ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য

দেখে আঁতকে উঠতে হয়। মানুষের হাতের তুলনায় তাকে ‘দানবীয়’ বলতেই হয়। এমনই এক থাবার ছবি ঘিরে টুইটারে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। বিজ্ঞান বিষয়ক গণমাধ্যম ‘লাইভসায়েন্স’- এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, টুইটারে সারা ডেভিস নামের এক নারী এই ছবিটি পোস্ট করার পরে তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বলেতে শুরু করেন, এটি নির্ঘাত ডাইনোসরের থাবা। কিন্তু ডাইনোসরের থাবা ধরে রয়েছে গ্লাভস পরা মানুষের হাত- এটা কী করে সম্ভব! আর খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এই থাবা মোটেই নকল নয়। সারা ডেভিস পেশায় একজন প্যালিওন্টোলজিস্ট। অর্থাৎ ফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তার টুইটে এহেন থাবা দেখে লোকের সন্দেহ ডাইনোসরের দিকে ঢলতেই পারে। কিন্তু সারা জানাচ্ছেন, এই থাবা ডাইনোসর অথবা লুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনও প্রাণীর নয়। এই থাবার অধিকারী বহাল তবিয়তেই বেঁচে রয়েছে। সারা জানাচ্ছেন, এটি একটি পাখির পা। পাখিটির নাম ‘সাদার্ন ক্যাসোওয়ারি’। তাদের ‘জীবন্ত ডাইনোসর’ বলেই গণ্য করা হয়। প্রজাতি হিসেবে তারা কিউয়ি-র আত্মীয়। একই বংশধারা থেকে তাদের জন্ম। মূলত অস্ট্রেলিয়ায় এদের বাস। এরা উড়তে পারে না। সারা তার টুইটে এই ধরনের পাখিদের সঙ্গে ডাইনোসরদের সম্পর্ককেই ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। সারার গবেষণার বিষয় ‘অ্যাভিয়ান প্যালিওন্টোলজি’, অর্থাৎ বিলুপ্ত পাখিদের নিয়েই তার কাজ। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে পিএইচডি স্তরে গবেষণারত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে একটি মৃত সাদার্ন ক্যাসোওয়ারির দেহ ব্যবচ্ছেদ করার সময়েই তিনি এই ছবিটি তোলেন এবং তা টুইট করেন। সূত্র: এবেলা একে//

গদখালী যেভাবে ফুলের রাজ্যে পরিণত হলো

বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিকরগাছার একটি এলাকা বিখ্যাত হয়ে উঠেছে ফুল চাষের কারণে।গদখালী নামের ওই গ্রাম ও আশপাশের হাজার হাজার একর জমিতে বছর জুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশী বিদেশী নানা জাতের ফুল যার বার্ষিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।  এই গ্রামের ফুল সারাদেশ তো বটেই, যাচ্ছে বিদেশেও।কিন্তু এই গ্রামটি কি করে সাধারণ ধান পাটের বদলে ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত হয়ে ফুলের রাজ্যে পরিণত হলো?যশোর সদর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দুরে ঝিকরগাছার এই গদখালী গ্রাম।  খুব ভোরেই এখানে জমে উঠে বাংলাদেশের বৃহত্তম ফুলের বাজার। ঢাকাসহ নানা জায়গার ব্যবসায়ীরা এসে ট্রাক বা পিক আপ ভর্তি করে ফুল নিয়ে যান আর এসব ফুল বিক্রি হয় সারাদেশে বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে।   কিন্তু এতো ফুল হয় কোথায়। রাস্তার দু`পাশে চোখ ও প্রাণ জুড়ানো অসংখ্য ফুলের বাগান। একজন চাষি বাগানে কাজ করছিলেন। তিনি বলেন প্রতিদিন তার বাগান থেকে ৪/৫ হাজার গোলাপ হয় আবার কখনো সেটি পাঁচশও হয়।      "জানুয়ারিতে ফুল আসবে। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি এখন"।  প্রতিদিনই এই গদখালী ও আশপাশের এলাকায় ফুলের রাজ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন অসংখ্য নারী পুরুষ।  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা একজন নারী বলেন, "চারপাশে ফুল আর ফুল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে গোলাপ নেই এখন। জারবেরা, গ্লাডিওলাস এগুলো দেখেও শান্তি পেলাম"।আরেক জন বলেন, "একটা হচ্ছে অনেক ধরণের ফুল আরেকটা হলো অনেক বেশি পরিমাণ ফুল। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফুল এখান থেকেই যায়"।অপর একজন বলেন, "কোথা থেকে এতো ফুল আসে সেটি দেখতেই গদখালীতে এলাম"।গদখালীতে ফুল চাষ শুরু হয়েছিলো কিভাবে তার খোঁজ নিতে গিয়ে সন্ধান মিললো শের আলী সরদারের।   তার দাবি চার দশক আগে তার হাত ধরে এখানে শুরু হয় ফুলের চাষ আর এলাকার ক্ষেতখামার থেকে বিদায় নিতে শুরু করে ধান পাট বা এ ধরণের প্রচলিত শস্য।তিনি বলেন, "১৯৮২ সালে এরশাদ আমলে এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমার বাবার নার্সারি ছিলো এবং আমি সেখানেই বসে ছিলাম। ভারত থেকে আসা এক ভদ্রলোক এসে পানি চেয়েছিলো।""তার হাতে ফুল। তিনি বললেন এই ফুল পশ্চিমবঙ্গে অনেক হয়। তো আমি ভাবলাম পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের মাটি তো এক। তখনই শুরু করলাম রজনীগন্ধা দিয়ে"।শের আলী সরদার ও স্থানীয় অন্যদের ভাষ্যমতে এভাবে প্রায় চার দশক আগে ফুল চাষের যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো তার এখন বিস্তার ঘটেছে পুরো অঞ্চল জুড়ে। এখন আসছে নিত্য নতুন জাতের ফুল। কোন ধরণের ফুল বেশি হয়গদখালীর যেকোনো দিকে তাকালেই চোখে পড়ে একটার পর একটা ফুলের বাগান। বিশেষ করে গোলাপ, গাঁদা আর অর্কিড, পাতাবাহার, রজনীগন্ধার বাগান রয়েছে অসংখ্য।  এর বাইরেও চোখে পরে পলি হাউজ বা ফুল চাষের বিশেষ ঘর। এসব ঘরে হয় জারবার ফুলের চাষ যার চাহিদা এখন অনেক বেশি বেড়েছে বলে জানা শের আলী সরদার। স্থানীয় চাষিদের একজন শাজাহান কবীর বলেন এসব ফুলের বাইরেও লিলিয়ামসহ নানা জাতের ফুল চাষ করছেন তারা।   বিদেশ থেকে আসছে বিশেষজ্ঞ চাষিরা গদখালীতে ফুল বাগান ঘুরে দেখার সময়ই দেখা হলো বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি মো: আব্দুর রহিমের সাথে।তিনি বলছেন, ভারত ও চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চাষিদের আনা হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তার জন্য বিশেষ করে পলি হাউজগুলো তৈরিতে সহায়তার জন্য।"ভারত ও চীন থেকে কৃষকরা আসেন আমাদের সহায়তায়। আবার বিএডিসি যে গবেষণা করে সেখানেও তারা সহায়তা করেন"।  কৃষক শাজাহান কবীর বলেন, নিত্য নতুন জাতের ফুলের চাষের জন্য আলাদা জ্ঞানের দরকার হয় এবং সেটি তারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাচ্ছেন।   এর ফলে ফুলের বাজার এখন গোলাপ, গাঁদা আর রজনীগন্ধার ওপর নির্ভরশীল নেই। কৃষকরা কেমন লাভবান হচ্ছেন? ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিমের ভাষ্যমতে, ফুলের বাজার এখন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার।প্রবীণ চাষি শের আলী সরদার বলছেন ধান ও পাটের চেয়ে ফুলেই বেশি লাভ আর এখন অনুষ্ঠান বা দিবস বেশি হয় বলে ফুলের চাহিদাও অনেকে বেড়েছে।শাজাহান কবীর বলেন, "সামনে ১৪ই ফেব্রুয়ারি আসছে। গ্রামের সবাই জানে তার আগেই প্রচুর ফুল সরবরাহ করতে হবে। সঙ্গত কারণেই দামও বাড়বে।""আবার তার কদিন পরেই একুশে ফেব্রুয়ারি তখন ফুল লাগবে একেবারে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত। এ ধরণের আরও কিছু দিবস আছে যেগুলোতে ফুলের ব্যবহার দিন দিন বাড়বে। তাই ফুল চাষে বিনিয়োগ নিরাপদ"।রহিম বলছেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই ফুল চাষ এবং নিত্য নতুন ফুলের জাত নিয়ে সরকারী বেসরকারি গবেষণাও শুরু হয়েছে।"আর এতসব উদ্যোগের কারণেই অন্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষেই চার পাঁচ গুন বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।"  ফলে চাষিদের ফুল চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার সংখ্যাও প্রতিবছরই বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। ফলে গদখালীর ফুলের সুবাসও ছড়িয়ে পড়ছে দেশ দেশান্তরে।  সূত্র: বিবিসি বাংলা    এসি       

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি