ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৮ ৮:৪৪:০২, মঙ্গলবার

বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই

বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক মাহফুজ উল্লাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাংককে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। আজ শনিবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকরের দাবি

মহান মে দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সংবাদপত্রসেবীদের জন্য গঠিত নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর ও অবিলম্বে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাস ও সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বুধবার দুপুরে মহান মে দিবস উপলক্ষে ইউনিয়ন কার্যালয়ে যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নূরে জান্নাত আখতার সীমা, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ ও আসাদুজ্জামান। সভা পরিচালনা করেন ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক আখতার হোসেন। সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকরে বিলম্ব হওয়ায় গণমাধ্যম কর্মীরা চরম অর্থনৈতিক টানা পোড়েনে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম কর্মীদের জীবন যাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাই অবিলম্বে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নবম ওয়েজবোর্ড কার্যকরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। (সূত্রঃ বাসস) কেআই/

নিবন্ধন পেয়েছে বাংলাদেশ মিডিয়া ফোরাম

বাংলাদেশি মিডিয়া শিল্পের অগ্রগতির জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ মিডিয়া ফোরাম (বিএমএফ)। দেশের বিজ্ঞাপনদাতা, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, চ্যানেলগুলোর জন্য অনন্য এ প্ল্যাটফর্মটি এরই মধ্যে মিডিয়া পেশাদারদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, তথ্যভিত্তিক মিডিয়া পদ্ধতি ও প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যৌথ স্টক কোম্পানিগুলোর রেজিস্ট্রার ও নিবন্ধন আইন ১৮৬০-এর অধীনে নিবন্ধন পেয়েছে বিএমএফ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএমএফ সভাপতি মো. মোর্শেদ আলম বলেন, এটি একটি স্বাধীন, অলাভজনক, প্রগতিশীল মিডিয়ার গবেষণা ও বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যাবে। নিবন্ধন পাওয়ায় তিনি ফোরামের সব প্রতিষ্ঠাতা, সহযোগী সদস্য ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া শিল্পের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করার আশা প্রকাশ করেন বিএমএফ সভাপতি। বিএমএফ’র প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্যরা হলেন- মোরশেদ আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রুপ এম বাংলাদেশ, বিএমএফ’র সভাপতি, ইবনে হাসান খান পরিচালক, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, চ্যানেল আই, বিএমএফ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মো. কামরুল হাসান, বিজনেস ডিরেক্টর, এসিআই লিমিটেড, বিএমএফ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সৈয়দ আশিক রহমান, সিইও, আরটিভি, বিএমএফ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াউদ্দিন আদিল, সিইও, টপ অফ মাইন্ড, বিএমএফ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, তানভীর ফারুক, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, অ্যাপলইড বিজনেস ইনিসিয়েটিভ (এবিআই), বিএমএফ’র সাধারণ সম্পাদক, মাজহারুল হক চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাভাস মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএমএফ’র যুগ্ম সম্পাদক, শিকদার আখতার-উজ-জামান, মিডিয়া ও স্পনসরশিপ প্রধান, গ্রামীণফোন লিমিটেড, বিএমএফ’র যুগ্ম সম্পাদক, শরীফুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম, বিএমএফ’র অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, অজয় কুমার কুণ্ডু, চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা, মিডিয়াকম লিমিটেড, বিএমএফ’র ট্রেজারার, আমান আশরাফ ফয়েজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গাজী টিভি, বিএমএফ’র পরিচালক, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন। কেআই/

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর জানাজা সম্পন্ন

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর জানাজা আজ (রোববার) বাদ আসর জাতীয় প্রেসক্লাবের টেনিস মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দেশের রাজনীতিক, সুধীজনদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে তার মরদেহ প্রেসক্লাবে আনা হয় এবং নামাজে জানাজা শুরু হয় ৫টা ২০ মিনিটে।  মাহফুজ ‍উল্লাহ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জানাজার আগে সাংবাদিক মাহফুজ ‍উল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, তিনি সময়ের অগ্রগামী লেখক-সাহিত্যিক। উনাকে হারানোর যে অভাব, তা কোনোদিনও পূরণ হবে না। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসতেন। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ভাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়তে পেরেছিলেন। তিনি সবসময় প্রেস ক্লাবে আসতেন। গত ৩০ বছর ধরে তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন তার অভাব অনুভব করবে। বড় ভাই অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, মাহফুজউল্লাহ অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিল। আপনারা সাক্ষ্য দেন তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। আপনারা দোয়া করবেন তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। জানাজা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিএনপি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, নোয়াখালীর জার্নালিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া জানাজায় আরো অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ,  জাসদ সভাপতি আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্য’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ ও শাবান মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও শহীদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ। আগামী ১ মে বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মরহুমের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে মর্মে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  কেআই/ 

বিকালে প্রেস ক্লাবে জানাজা

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার জোহরের নামাজের পর গ্রিনরোড ডরমিটরি মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। আর দ্বিতীয় জানাজা হবে আসরের নামাজের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এরপর তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। মাহফুজ উল্লাহ শুধু বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিকই ছিলেন না, একাধারে লেখক, কলামিস্ট, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ ছিলেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর ছিলেন। এছাড়াও নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দেশের এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। তার পিতার নাম হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম ফয়জুননিসা বেগম। ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত মুজাফফর আহমেদের দৌহিত্র তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশায় নিবেদিত হন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্মলগ্ন থেকে কাজ করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যোগ দেন মাহফুজ উল্লাহ। দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন মাহফুজ উল্লাহ। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। বাম রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন মাহফুজ উল্লাহ। যে কারণে তার বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসাবেও পরিচিতি রয়েছে। রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি ছিল মাহফুজ উল্লাহর। তাকে উপস্থাপনাও করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ হিসাবে পরিচিত মাহফুজ উল্লাহ। সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০ এর অধিক বই লিখেছেন মাহফুজ উল্লাহ। বইগুলো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিলাভ করেছে। বইগুলোর অধিকাংশই বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহীত আছে। তার লিখিত বইগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, যে কথা বলতে চাই উল্লেখযোগ্য। এসএ/

সংবাদের বেনাপোল প্রতিনিধির উপর হামলা

দৈনিক সংবাদের বেনাপোল প্রতিনিধি দেবুল কুমার দাসকে পাটবাড়ি আফিল সড়কে হুন্ডি ব্যবসায়ী ও শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের সদস্য উজ্জল বিশ্বাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী শনিবার সকালে পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনার পর ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসীরা দল তার বাড়ি গিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। বিচার চেয়ে বিচারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার পরিবার। এঘটনায় এখনও থানায় মামলা করা হয়নি। সাংবাদিক পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আহত দেবুল কুমার জানান, দুপুরের দিকে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে উজ্জলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দেবুল কুমারের সাথে উজ্জলের পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। উজ্জল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। ইতিপূর্বে দেবুলকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল উজ্জল বাহিনী। বেনাপোল পাটবাড়ি গ্রামের রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন,উজ্জলসহ তিন জন অতর্কিতভাবে এসে বলে তোকে মেরে এবার গোপালগঞ্জে পাঠিয়ে দেব বলেই সাংবাদিক দেবুলের উপর হামলা চালায়। তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেছে এ সন্ত্রাসী। এসময় তার জামা কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে। আহত সাংবাদিক দেবুল কুমার দাসের স্ত্রী শিখা সরকার বলেন, আমি ঘটনার সময় বাড়িতে রান্না করছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে দেখি সে আহত অবস্থায় বসে আসে। তার গায়ে কাঁদামাটি লেগে আছে। শরীরের কয়েক জায়গায় ফুলে আছে। আহত অবস্থায় তাকে বাড়ি নিয়ে এসে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন,ঘটনাটি সাংবাদিকদের ফোনে শুনেছি। এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেবুলের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রেসক্লাব বেনাপোল, বেনাপোল টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, শার্শা প্রেসক্লাব, সীমান্ত প্রেসক্লাব, বন্দর প্রেসক্লাব, মানবাধিকার কমিশন, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, বেনাপোল রিপোর্টারস ইউনিটসহ বিভিন্ন সংগঠন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার না হলে সাংবাদিকরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন। কেআই/

একনজরে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক মাহফুজ উল্লাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাংককে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। আজ শনিবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মাহফুজ উল্লাহ শুধু বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিকই ছিলেন না, একাধারে লেখক, কলামিস্ট, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ ছিলেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর ছিলেন। এছাড়াও নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দেশের এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। তার পিতার নাম হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম ফয়জুননিসা বেগম। ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত মুজাফফর আহমেদের দৌহিত্র তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশায় নিবেদিত হন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্মলগ্ন থেকে কাজ করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যোগ দেন মাহফুজ উল্লাহ। দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন মাহফুজ উল্লাহ। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। বাম রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন মাহফুজ উল্লাহ। যে কারণে তার বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসাবেও পরিচিতি রয়েছে। রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি ছিল মাহফুজ উল্লাহর। তাকে উপস্থাপনাও করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ হিসাবে পরিচিত মাহফুজ উল্লাহ। সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০ এর অধিক বই লিখেছেন মাহফুজ উল্লাহ। বইগুলো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিলাভ করেছে। বইগুলোর অধিকাংশই বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহীত আছে। তার লিখিত বইগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, যে কথা বলতে চাই উল্লেখযোগ্য। টিআর/

সম্মাননা পেলেন একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক মইনুল

গুণী সাংবাদিক হিসেবে সম্মাননা পেলেন একুশে টেলিভিশনের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি এইচ এম মইনুল ইসলাম। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সংস্কৃতি পরিষদ (বাসপ) বিভিন্ন পেশার ১৪ জন গুণী মানুষকে এ সম্মাননা প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে ১৪২৬ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন গীতিকার ও চিত্রপরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বাসপ-এর চেয়ারম্যান কবি রানা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা এম সানোয়ার হোসেন, মো. ওবায়দুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মূর্তুজা আলী চৌধুরী, কেটিভি বাংলার চেয়ারম্যান মামুনুর হাসান টিপু, এ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক নূরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম টুববুস, কবি শাহীন রেজা, চিত্রপরিচালক শাহ্ আলম মন্ডল, কবি শান্তনা মিঠু প্রমুখ। বাগেরহাটের প্রতিথযশা সাংবাদিক মইনুল ইসলাম ৯০ এর দশক থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি পাক্ষিক সিডরের সম্পাদক এবং একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

শমীকে নিয়ে উত্তাল মিডিয়া, কি ঘটেছিল সেদিন?

সাংবাদিকদের সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শমী কায়সারের আচরণকে ‘নিকৃষ্ট দুর্ব্যবহার’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে শমীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন দুটি। শমী কায়সারকে নিয়ে মিডিয়ায় উত্তাল মিডিয়া। মুল ধারার মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে শমীকে নিয়ে বেশ সমালোচনা। আসলে কি ঘটেছিল সেইদিন প্রেসক্লাবে। এক যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এ আহ্বান জানান বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। ডিইউজে যুগ্ম-সম্পাদক আকতার হোসেনের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরীদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকেই নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন সেলেব্রিটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানো’র সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন, তা সেলেব্রিটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মত একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়। এ ধরনের নিকৃষ্টতম দুর্ব্যবহারের জন্য সাংবাদিক সমাজের কাছে শমী কায়সারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা বলেন, যত বড় সেলেব্রিটিই হোন না কেন, তার সংবাদ বর্জন করা হবে। প্রয়োজন হলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে সাংবাদিক সমাজ নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে বিস্তারিত জানাতে বাধ্য হবে। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটনবিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শমী কায়সার। তিনি ই-ক্যাবের সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শমী কায়সার জানান, তার মোবাইল ফোন দুটি খুঁজে পাচ্ছেন না। এতে উপস্থিত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক হতভম্ব হয়ে পড়েন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। একপর্যায়ে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা মিলনায়তনের মূল গেট বন্ধ করে দেন। শমী কায়সার উপস্থিত সবার দেহ তল্লাশি করার কথা বললে সাংবাদিকরা তাতে সম্মতি দেন। দেহ তল্লাশি শেষে সাংবাদিকরা বের হতে চাইলে শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এতে সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করার উদ্যোগ নেন। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের লাইটিংয়ের দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মী মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে বের হয়ে যান। ওই দৃশ্য দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন শমী কায়সার। পরে শমী কায়সার সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার ফেসবুকে লিখেন, ‘ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটনবিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধনকালে বক্তব্য দিতে যাই আমি। বক্তব্য শেষ করে কেক কাটার সময়ই হঠাৎ দেখি- আমার স্মার্টফোন দুটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোন দুটিতে কল দিয়ে তখনো সচল পাচ্ছিলাম। আসলে মুঠোফোন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে সেখানে। আয়োজকরা ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে মিলনায়তনের মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা সহযোগিতার মনোভাবে দেহতল্লাশি করার অনুমতি নিয়ে এগিয়ে আসেন। পরে সাংবাদিক ভাইদের ক্যামেরায় কিছু চলমান ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছে। তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে মূলত অসাধু কারণে এখানে এসেছিল এবং সে এর আগেও প্রেসক্লাব ও শিল্পকলায় এইরূপ জঘন্য কাজ করেছে। প্রেসক্লাব আমার নিজের জায়গা বলেই আমি দাবি অনুভব করি। আয়োজকরা এবং উপস্থিত সবাই আমার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। আমি স্বাভাবিক ভাবেই খুব আপসেট ছিলাম, কিন্তু আমি এমন কোনো অসম্মানজনক বক্তব্য দেইনি এবং আমি একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিকের সন্তান হিসেবে তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটির জন্য সব উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করি। এটা আসলেই অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।তবে, তার ওই ঘটনার জন্য সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে সাংবাদিকরা শমী কায়সারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিকরা শমী কায়সারের এই ব্যবহার নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। ফেসবুকে তাকে নিয়ে নিন্দার ঝড় থামছে না। এসএইচ/

সাংবদিক মারধরের প্রতিবাদে বেরোবিসাসের মানববন্ধন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বপ্নতরী এগ্রো সার্ভিস লিমিটেডের গ্রাহক হয়রানি ও প্রতারণার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। এই হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)। মারধরের শিকার হওয়া সাংবাদিকরা হলেন- ডিবিসি নিউজের রংপুর ব্যুরো চীফ নাজমুল ইসলাম নিশাত, বার্তা২৪.কমের রংপুর স্টাফ করোসপন্ডেন্ট ফরহাদুজ্জামান ফারুক ও ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মহসীন আলী। রোববার বেলা ১১টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ, সময় টেলিভশনের স্টাফ রিপোর্টার হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, বেরোবি ডিবেট ফোরামের সভাপতি এইচ এম আব্দুল কাদের প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হলো জাতির বিবেক। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা মারধর ও লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা খুবই দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক না কেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় সরকারের কাছে হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানান বক্তারা।প্রতিবাদ সভা সঞ্চালনায় ছিলেন বেরোবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম বকুল এবং সভাপতিত্ব করেন বেরোবিসাসের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এসএইচ/

নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করুন: নিজাম হাজারী

নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানিয়েছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি বলেন, আপনারা ফেনীর সন্তান হলেও রাজধানীতে বসে সারাদেশের সংবাদ পরিবেশন করছেন। জাতি আপনাদের কাছে নিরপেক্ষ সংবাদ আশা করে। শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ন্যাম ভবনে ফেনী সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা(এফএফএফডি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিজাম হাজারী এমপি বলেন, আপনারা ঢাকায় সাংবাদিকতা করলেও ফেনীর জন্য আপনাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। ফেনীর উন্নয়নের জন্য আমাদের অনেক কাজ করার আছে। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি ফেনীবাসীর জন্য। ফেনীর উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে মানুষ হিসেবে ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যেতে পারে। আমি আশা করবো আপনারা আমার ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে বলবেন যাতে আমি শুধরে নিতে পারি। তিনি দলমত নির্বিশেষে ফেনীবাসিকে সমান চোখে দেখেন এবং ফেনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাকে গুরত্ব দেন বলেও মন্তব্য করেন। ফেনী সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা (এফএফএফডি)-এর সভাপতি তানভীর আলাদিনের নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম জাহিদ, সহ-সভাপতি আমানুর রহমান ও জিল্লুর রহীম আজাদ, যুগ্ম-সম্পাদক জাফর ইকবাল, সংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন তারেক, কোষাধ্যক্ষ এহ্সান জুয়েল, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মীম, সদস্য ইলিয়াস মাহমুদ প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার। এসি  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি