ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ১:১১:০৪, বুধবার

কবি নজরুলের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

কবি নজরুলের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে রাজধানীতে কবির জন্মবার্ষিকী পালনের সূচনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গ জাতীয় কবির সমাধিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে সকাল সোয়া সাতটায় পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জমানসহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, হল সংসদ, শিক্ষক সমিতিসহ ছাত্রছাত্রীরা কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে কবির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তারা হলো,সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা দেশ আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুব লীগ, ছাত্র লীগ, বাংলাদেশের কমিউিনিষ্ট পার্টি, বাসদ, বিএনপি, জাসদ, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, নজরুল ইন্সটিটিউট, নজরুল একাডেমি, মানিকগঞ্জ সমিতি-ঢাকা, ঢাবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, কবি সুফিয়া কামাল হল, সূর্যসেন হল, রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদ, ডাকসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদ, নজরুল সংগীত শিল্পী সংসদ, এফ রহমান হল ও ঋষিজ। এদিকে সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের উদ্যোগে সমাধি প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিতত্ব করেন ঢাবি উপাচার্য ড. মো: আখতারুজ্জামান। উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ডাক নাম দুখু মিয়া। শৈশবেই বাধাগ্রস্ত শিক্ষাজীবন, জীবিকার টানে কাজ করেছেন মসজিদ-মক্তবে। কৈশোরে লেটো গানের দলে পালাগানের রচয়িতা ও অভিনেতা ছিলেন। সেখান থেকেই শিল্প চর্চার শুরু। পরিচয় হয় হিন্দু পুরাণের সঙ্গে। চাষার সঙ, শকুনিবধসহ বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন কিশোর নজরুল। একদিকে মসজিদ-মক্তবের জীবন উল্টোদিকে লেটো দলের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নজরুলের সাহিত্যে এনেছে বৈচিত্র্য। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। ব্রিটিশ শোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার নজরুলের লেখনীতে ছড়িয়েছে বিদ্রোহ। জেলে বন্দী হয়েও লিখেছেন রাজবন্দীর জবানবন্দী। কবির প্রতিটি শব্দই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। কবি ছিলেন চিরবিরহী। প্রেম, ভালোবাসা আর সাম্যের বাণী সবসময়ই ধ্বণিত হয়েছে কবির কণ্ঠে। ভাতৃত্ব আর সমতা, সঙ্গীতে তুলে ধরেছেন প্রেম, প্রকৃতি আর ভালোবাসার কথকতা। এনএম/    
যেভাবে শিল্পপতি হলেন সালমান এফ রহমান

সালমান ফজলুর রহমান বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যাক্তাদের আইকন যিনি সালমান এফ রহমান নামেই বেশী পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস চেয়ারম্যান।আন্তজার্তিক পরিমন্ডলেও তিনি একজন খ্যাতিমান শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকৃত। শুধু ব্যবসায়ী হিসাবে নয় নিজেকে গড়ে তুলছেন আপাতমস্তক একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। গেল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলো দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে নতুন এক রূপ দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এই ব্যবসায়ী নেতা ও সমাজসেবকের আজ জন্মদিন। ১৯৫১ সালের আজকের এই দিনে (২৩ মে)তিনি জন্মগ্রহণ করেন। রাজধানী ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার শাইনপুকুর গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারের গর্বিত সন্তান। তাঁর বাবা মরহুম ফজলুর রহমান ছিলেন খ্যাতিমান আইনজীবী।তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টের চিফ হুইপ ছিলেন।পরবর্তীসময়ে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারের রাজস্বমন্ত্রী ছিলেন।তিনি ১৯৪৭-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তদানিন্তন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার সদস্য হিসেবে শিক্ষা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মাতা সৈয়দা ফাতিনা রহমান কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জঙ্গল বাড়ির সৈয়দ বংশের জমিদার সৈয়দ মুহম্মদ আতিকুল্লাহর কন্যা।সৈয়দ মুহম্মদ আতিকুল্লাহ হযরত শাহজালাল (রঃ) - এর সিলেট বিজয়ের প্রধান সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্দিনের বংশধর ছিলেন।সৈয়দা ফাতিনা রহমান মাতৃসূত্রে নবাব আব্দুল লতিফ, নবাব সৈয়দ মুহম্মদ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বংশধর ছিলেন।তিনি উপমহাদেশের অন্যতম প্রথম মুসলিম ছাত্রী হিসেবে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লেডি ব্রেবুন কলেজে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।কর্মজীবনে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রুবাবা রহমান এবং একমাত্র ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান।সালমান এফ রহমান ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। সালমান এফ রহমান ১৯৬০ দশকের মাঝামাঝিতে পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে তিনি ও তাঁর বড় ভাই সোহেল ফাসিউর রহমান মিলে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো) নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইউরোপের বাজারে সামুদ্রিক খাবার এবং হাড়চূর্ণ রপ্তানি শুরু করেন। এসব পণ্য রপ্তানীর বিনিময়ে তাঁরা ইউরোপ থেকে মানসম্পন্ন ঔষধ আমদানি করতেন।বছরের পর বছর ধরে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে অন্যতম সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি টেক্সটাইল, ঔষধশিল্প, সামুদ্রিক খাবার, আবাসন, কনস্ট্রাকশন, তথ্য ও প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, সিরামিকস্, আর্থিক সেবা এবং জ্বালানী সহ বিবিধ খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-এর অল্টারনেটিভ ইনভেষ্টমেন্ট মার্কেট-এ তালিকাভুক্ত প্রথম বাংলাদেশী কোম্পানি । এছাড়াও বেক্সিমকো বাংলাদেশের বেসরকারী খাতের সর্ববৃহৎ নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছে। সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ়ব্যক্তিত্বের অধিকারী সালমান এফ রহমান শুধুমাত্র বেক্সিমকো গ্রুপের বৃদ্ধি ও প্রসারই নিশ্চিত করেননি, একই সাথে তিনি সফল ভাবে বাংলাদেশের ব্যবসা খাতে উন্নয়ন এবং গতিশীলতা এনেছেন। স্বাধীনতার পরপর দেশের প্রাথমিক পর্যায়ে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।সালমান এফ রহমান দেশের বেসরকারী খাতের প্রণোদনায় নিয়োজিত শীর্ষ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব গভর্নরস এর চেয়ারম্যান।তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ এর বোর্ড অব এডিটর’স এর চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি ২৪ ঘন্টা সংবাদ-ভিত্তিক চ্যনেল ‘ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন’ এর চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল, সার্ক অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংস্থা ‘সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’, ব্যবসায়ীদের শীর্ষসংগঠন এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ-এর সভাপতি হিসেবে কাজ করেছিলেন।সালমান এফ রহমান “প্রয়াস” এর একজন পৃষ্ঠপোষক। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ শিশুদের উন্নয়ন ও সহায়তা নিয়ে কাজ করে। শিশুদের বিশেষায়িত শিক্ষা, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল পরীক্ষণ ও চিকিৎসা, বিনোদন, সহপাঠ্যক্রম সহ সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও প্রয়াস -শিক্ষক, শিশুদের বাবা-মা কেও প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত সেবা প্রদান করে থাকে দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতির পথে পরিচালনার জন্য একটি শিক্ষিত প্রজন্ম তৈরির উপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন সালমান এফ রহমান। এলক্ষ্যে তিনি তার এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অনবরত অবদান রেখে চলছেন। এর মধ্যে তাসুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, পদ্মা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের জন্য তার সহায়তা ও আর্থিক অনুদান উল্লেখযোগ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক কম্পিউটার শিক্ষাকে সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি দোহারের সকল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রদান করেন। এছাড়াও, তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষামূলক উন্নয়নের জন্য গণ সাহায্য সংস্থা (জিএসএস) এর মাধ্যমে দাতব্য কাজে অবদান রেখে চলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের উন্নয়নের স্বার্থে ২০০৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে বার্ষিক অনুদান দিয়ে আসছেন।সালমান এফ রহমান একজন বিশিষ্ট ক্রীড়া অনুরাগী। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান, খেলোয়াড়, এবং দলের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের খেলাধুলার উন্নয়নে উল্ল্যেখযোগ্য অবদান রাখছেন। বেক্সিমকো গ্রুপ ২০১১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অফিসিয়াল পৃষ্ঠপোষক ছিল। এছাড়া তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ফিফা প্রীতি ম্যাচের আয়োজন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করেন । দেশের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টিং ক্লাব ‘আবাহনী লিঃ’–এর চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এই ক্লাবটি তাঁর কাছে বিশেষ আবেগ অনুভূতির জায়গা। ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। শেখ কামাল ছিলেন সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, সিরামিকস, সিনথেটিকস, জুট, রিয়েল অ্যাস্টেট, প্রোকৌশল, মেরিন ফুড, আইটি, অ্যাভিয়েশন, অ্যানার্জি, জ্বালানি, মিডিয়া, টিভি চ্যানেল, টেলিকমিউনিকেশন সহ বিভিন্ন খাতে ৩৯ টি পাবলিক এবং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিসমূহ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ৭০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।এসব কোম্পানির উৎপাদিত বিশ্বমানসম্পন্ন উচ্চমানের পন্য রপ্তানির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে মর্যাদার অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এর মধ্যে দিয়ে দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। বিনামূল্যে ঔষধ ও পোশাক বিতরণ তাঁর নিয়মিত দাতব্য কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। দোহারের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনি ২৪০টিরও বেশি আর্সেনিক মুক্ত টিউব ওয়েল স্থাপন করেন এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন যার মাধ্যমে ১৬ জন ডাক্তার নিয়মিতভাবে চিকিৎসা এবং ঔষধ প্রদান করছেন। টিআর/

৬ গুণীকে সংবর্ধনা দিলো সিলেট রত্ন ফাউন্ডেশন

সিলেট জেলার ৬ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেট রত্ন ফাউন্ডেশন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘জীবন্ত কিংবদন্তি গুণীজন সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল-২০১৯’ শিরোনামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা নাসির এ চৌধুরী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও অর্থমন্ত্রী রেজা কিবরিয়াসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলম প্রধানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মহান মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুরের প্রথম পতাকা উত্তোলক শফিউল আলম প্রধান পঞ্চগড় জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে এই নেতার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ১৯৭৩-৭৪ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল রমনা গ্রিনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি গঠন করেন শফিউল আলম প্রধান। দিবসটি উপলক্ষে তার দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলায় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। এসএ/

বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ইলিয়াস আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদের সাবেক সদস্য ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর (দাদা ভাই) ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১৫ আগস্ট শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রিধারী ইলিয়াস আহমেদ ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ ও ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া আরামবাগ ক্রীড়াচক্র ও খুলনা আবাহানী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। শিবচরের নারী শিক্ষার অগ্রদূত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া আজ রোববার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া জামে মসজিদে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার বড় ছেলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ও ছোট ছেলে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) পরিবারের পক্ষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এসএ/  

দ্যা ভিঞ্চির যে কাজগুলো আজও রহস্যময়

রেনেসাঁ যুগের যে মানুষটি এঁকেছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত মোনালিসা, তাকে চিনি হয়তো আমরা সবাই। কিন্তু এই শিল্পীর জীবনের ব্যাপারে হয়তো জানেন না অনেকেই। আসলে বহুমুখী প্রতিভাধর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যান্য পরিচয়ও সুবিদিত- ভাস্কর, স্থপতি, সঙ্গীতজ্ঞ, সমরযন্ত্রশিল্পী এবং বিংশ শতাব্দীর বহু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্য জনক। ইতালির ফ্লোরেন্সের অদূরবর্তী ভিঞ্চি নগরের এক গ্রামে লিওনার্দোর জন্ম হয়েছিল ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল। ১৫১৩ থেকে ১৫১৬ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় তিনি রোমে দশম পোপ এর অধীনে কাটিয়েছিলেন। ১৫১৯ সালের ২ মে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। এ বছর তার তার ৫০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। ঘরোয়াভাবে লেখাপড়া করলেও কোনও রকমের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি দা ভিঞ্চি। প্রকৃতির প্রতি ভীষণ আগ্রহ থাকার কারণে তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরেই কাটাতেন। ১৪৬৬ সালে লিওনার্দো ১৪ বছর বয়সে ভ্যারিচ্চিও-র কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন। ভ্যারিচ্চিও ছিলেন সে সময়ের একজন সফল চিত্রকর। এখানে কাজ করে লিওনার্দো হাতে কলমে প্রচুর কারিগরি জ্ঞানার্জন করেছিলেন। তার সুযোগ হয়েছিল কারুকার্য, রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, ধাতু দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, প্লাস্টার কাস্টিং, চামড়া দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, গতিবিদ্যা এবং কাঠের কাজ ইত্যাদি শেখার। পরে ১৪৭২ সালে তিনি চিত্রশিল্পীদের গিল্ডে ভর্তি হন এবং এই সময় থেকেই তার চিত্রকর জীবনের সূচনা হয়। এর ১০ বছর পর তিনি মিলান গমন করেন এবং সেখানে অবস্থান কালে তার বিখ্যাত দেয়াল চিত্র দ্য লাস্ট সাপার অঙ্কন করেন। লিওনার্দো ১৪৮২ থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মিলানে কাজ করেছেন। আনুমানিক ১৫০০ সালে তিনি ফ্লোরেন্স ফিরে আসেন এবং সামরিক বিভাগে প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। এই সময়েই তিনি তার বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা অঙ্কন করেন। ‘মোনালিসা’ তৈরির সময় সাদা ক্যানভাসের উপরে বিভিন্ন স্তর তৈরির জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করেন লিওনার্দো। আর এতে তিনি এতটাই দক্ষ আর সফল ছিলেন যে পরবর্তীতে আর কেউই এই পদ্ধতিতে সমানভাবে সফল হয়নি। বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রনের তৈলাক্ত স্তর ব্যবহার করে কাজটি করেন লিওনার্দো। এতে বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদাভাবে রং মিশিয়ে তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন ‘মোনালিসা’ এর। শিল্পজগতে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির এই কাজগুলো আজও সমানভাবে রহস্যময় এবং শ্রেষ্ঠ। অনেক শিল্প-গবেষক রহস্যময় হাসির এই নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন। শিল্পকর্মটি ফ্রান্সের ল্যুভ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মোনালিসা ও দ্য লাস্ট সাপার ছাড়াও ভিত্রুভিয়ানো মানব, লেডি উইথ অ্যান এরমাইন ইত্যাদি তার উল্লেখ্যযোগ্য চিত্রকর্ম। দ্যা ভিঞ্চির মৃত্যুর পর শতাব্দী ধরে নোট, আঁকা, পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জার্নালগুলোর হাজার হাজার পৃষ্ঠাগুলো সামনে এসেছিল এবং সত্যিকারের ‘রেনেসাঁ মানুষের’ একটি পূর্ণাঙ্গ পরিমাপ প্রদান করেছে। ‘মিরর রাইটিং’ জিনিসটা প্রথম করেছিলেন দা ভিঞ্চি। তিনি তার সব নোট লিখে রাখতেন মিরর (আয়না) রাইটিংয়ে। কেন, কেউ জানে না। এমন নয় যে, এটা পড়া খুব কষ্ট; আয়নায় ধরলেই এই উল্টো লেখা সোজা হয়ে যেতো। তবুও এমনটা করতেন তিনি। আরেকটি তথ্য, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কিন্তু ছিলেন বাঁ-হাতি। তবে তিনি খুব মেধাবী হলেও, কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো আসলেই তিনি আবিষ্কার করেননি, অথচ তার নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। যেমন, ড্যান ব্রাউন তার ‘দ্য দা ভিঞ্চি কোড’ বইতে ক্রিপ্টেক্স নামক একটি যন্ত্রের কথা বলেছেন। সেটি মোটেও লিওনার্দোর উদ্ভাবন নয়। এবার আসা যাক মোনালিসার কথায়। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা। একে নিয়ে বলা হয়-ছবির নারীর নাম লিসা ঘারারদিনি। তার স্বামী ফ্রাঞ্চেস্কো লিওকে দিয়ে তার এই ছবিটি আঁকিয়ে নেন। মোনা ইতালীয় ভাষায় একটি ভদ্র সম্ভাষণ, মা ডোনা (মাই লেডি) এর শর্ট ফর্ম। আর লিসা তো তার নাম। সহজভাবে বলতে গেলে, ছবিটার নাম, ম্যাডাম লিসা। মোনালিসা সম্পর্কে বলা হয়, এটা নাকি লিওনার্দোর ছদ্ম সেলফ পোর্ট্রেইট; আবার এমন কথাও শোনা যায় যে, এটা নাকি তার মায়ের ছবি! আসলে তার ৫ বছর বয়সে মা তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি বড় হয়ে অনেক খুঁজেছেন মাকে। তিনি কি পেয়েছিলেন তাকে? তার নোটগুলো নিয়ে গবেষণা করতে গেলে ৪ বার ক্যাটেরিনার নাম দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি নোটে লিওনার্দো কেবল ‘ক্যাটেরিনা এসেছে’ এটুকুই লিখেছেন। ‘মা এসেছেন’। হতে কি পারে যে, এটা তার মা ছিল? দু’বার কেন ‘১৬ জুলাই’ লিখলেন? ১৪৮২ থেকে ১৫০০ সাল পর্যন্ত লিওনার্দো ছিলেন মিলানে। সুতরাং ১৪৯৩ সালের ওই তারিখে তিনি মিলানেই ছিলেন। অর্থাৎ মিলানেই তিনি এই ক্যাটেরিনা নামের নারীকে খুঁজে পান। সর্বশেষ যে ক্যাটেরিনার উল্লেখ পাওয়া যায় তার নোটে, সেটা হলো ক্যাটেরিনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচের কাগজে। এই ক্যাটেরিনার শেষকৃত্য করতে কত খরচ করেছেন লিওনার্দো, সেটার হিসেব ছিল সেখানে। লিওনার্দোর নিজের হাতে মিরর রাইটিং নোটে লেখা হিসাব অনুয়ায়ী, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি খরচ এখানে করা হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, এ নারীর ব্যাপারে লিও খুবই যত্ন করতেন। এ কারণেই ধারণা করা যায়, সম্ভবত তিনিই তার মা ছিলেন। তবে রহস্যের আড়ালেই রয়ে গেছেন ইতালির রেনেসাঁর এই অগ্রপুরুষ। তার কোনও স্ত্রী কিংবা সন্তানও ছিল না, যে তার সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য দেবে। যাইহোক, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রহস্য থেকে যাওয়াই ভাল। সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেলে রহস্যের আর আকর্ষণ থাকবে কোথায়? পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ক্ষণজন্মা পুরুষ কম আছে। পাঁচশ বছর আগে তিনি রেখে গেছেন অগণিত আধুনিক চিন্তা যার কারণে মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে।  

আজ কথাশিল্পী শওকত ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯১৭ সালের ২ জুন পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান হলেও সাহিত্যিক নাম শওকত ওসমানের আড়ালে আসল নামটি ঢাকা পড়ে গেছে। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদবিরোধী প্রখ্যাত এ কলমশিল্পী লেখনীর মাধ্যমে শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের কথা বলে  গেছেন। তার রচিত ‘ক্রীতদাসের হাসি’ স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে অন্যতম রচনা। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪১ সালে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে আসেন তিনি। ঢাকা কলেজে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার পেশাজীবন শুরু। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারেও চাকরি করেছেন তিনি। শওকত ওসমান প্রধানত গল্প ও উপন্যাস রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ‘জননী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘সমাগম’, ‘চৌরসন্ধি’, ‘রাজা উপাখ্যান’, ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’, ‘মনিব ও তাহার কুকুর’, ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’ প্রভৃতি। স্মৃতিকথার মধ্যে রয়েছে ‘স্বজন সংগ্রাম’, ‘কালরাত্রি খ চিত্র’, ‘অনেক কথন’, ‘গুডবাই জাস্টিস মাসুদ’, ‘মুজিবনগর’ ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরমেন্স পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, টেনাশিস পুরস্কার ও মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পদক পেয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসএ/  

কবিগুরুর ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ পঁচিশে বৈশাখ, বাংলা সাহিত্যের অনন্যপ্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি। আজ পালিত হচ্ছে কবিগুরুর ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী। কবি বলে প্রধান পরিচিতি পেলেও রবীন্দ্রনাথ একাধারে ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিকও ছিলেন। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। ভূষিত করা হয় গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায়। কথামালা, কবির কবিতা আবৃত্তি ও গান এবং গীতিনৃত্যনাট্যসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কবিগুরুর জন্মদিন উদযাপন করবে। কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, নওগাঁর পতিসর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চলছে নানা আয়োজন। শিলাইদহ কুঠিবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর একটি অংশ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে ওঠে। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪০ সালে এই জমিদারি ১৩ টাকা ১০ আনায় কিনে নেন। গেল বছর থেকে দায়সরাভাবে মাত্র দুদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করায় রবীন্দ্র ভক্তনুরাগীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাই বিগত বছরগুলোর মতো আগামীতে যেন শাহজাদপুরের কাছারী বাড়িতে জাতীয়ভাবে ৭ দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, এমনই দাবি রবীন্দ্র গবেষক, দর্শনার্থী ও সিরাজগঞ্জবাসীর।

যাঁরা ভোর এনেছিলো:মহান বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

শৈশবে তাঁকে সবাই ডাকতো রাণী বলে। বিপ্লবী জীবনে তাঁর ছদ্ম নাম ছিলো ফুলতার। তিনি জন্মেছিলেন ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট গ্রামে দ্রোহ কালে। তিনি ২১ বছর, ৪ মাস ১৯ দিনের একটি জীবনযাপন করে গেলেন। আর পৃথিবীর ইতিহাসে অমরত্বের ফলকে নিজের নামটি লিখে গেলেন। তিনি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। আমাদের প্রীতিলতা, আমাদের অহংকার। একজন বাঙালী রমনী, যিনি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহীদ। তাঁর পিতা ছিলেন জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মাতা প্রতিভাদেবী। তাঁরা ছিলো ছয় ভাইবোন। অন্তর্মুখী, লাজুক এবং মুখচোরা স্বভাবের মেয়েটি ঘর ঝাঁট দেওয়া, বাসন মাজা ইত্যাদি কাজে মা-কে সাহায্য করতেন ঠিক অন্য দশটা বাঙ্গালি কিশোরিদের মতোই । ১৯১৮ সালে ডা. খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ভালো ফলাফলের জন্য তিনি সব শিক্ষকের খুব প্রিয় ছিলেন। শিক্ষকদের একজন ছিলেন ইতিহাসের ঊষাদি। তিনি প্রীতিলতাকে পুরুষের বেশে ঝাঁসীর রানী লক্ষীবাই’য়ের ইংরেজ সৈন্যদের সাথে লড়াইয়ের ইতিহাস বলতেন। ১৯২৮ সালে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর আই.এ. পড়ার জন্য তিনি ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩০ সালে আই.এ. পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সবার মধ্যে পঞ্চম স্থান লাভ করে। এই ফলাফলের জন্য তিনি মাসিক ২০ টাকার বৃত্তি পান এবং কলকাতার বেথুন কলেজ়ে বি.এ পড়তে যান। ১৯৩২ সালে ডিসটিংশান নিয়ে তিনি বি.এ. পাশ করেন। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় কৃতিত্বের সাথে স্নাতক পাস করলেও তাঁর এবং তাঁর সঙ্গী বীণা দাসগুপ্তের পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হয়। তখন দ্রোহ কাল। চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন শেষে সক্রিয় হচ্ছিলেন। এর মধ্যে ১৯২৩-এর ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাসের মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা সরকারী কর্মচারীদের বেতনের ১৭,০০০ টাকা ছিনতাই করেন। ১৯২৪ সালে বেঙ্গল অর্ডিনান্স নামে এক জরুরি আইনে বিপ্লবীদের বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। চট্টগ্রামের বিপ্লবীদলের অনেক নেতা ও সদস্য এই আইনে আটক হন। সে সময়ে বাংলার বিপ্লবিদের অনুপ্রেরণা  ছিলেন বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম, কানাইলালগণ। ঢাকায় যখন প্রীতিলতা পড়তে যান তখন ‘শ্রীসংঘ’ নামে একটি বিপ্লবী সংঘঠন ছিল। শ্রীসংঘের ‘দীপালী সংঘ’  নামে একটি মহিলা শাখা ছিল। প্রীতিলতা দীপালী সংঘে যোগ দেন। এটি ছিলো এক ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের দীর্ঘ পরিকল্পিত আক্রমণে ধ্বংস হয় অস্ত্রাগার, পুলিশ লাইন, টেলিফোন অফিস এবং রেললাইন। ইতিহাসে এটি `চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ`। চট্টগ্রামের মাটিতে বিপ্লবীদলের এই উত্থান সমগ্র বাংলার ছাত্র সমাজকে উদ্দীপ্ত করে। বি.এ পরীক্ষা দিয়ে প্রীতিলতা কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে বাড়ি এসে দেখেন তাঁর পিতার চাকরি নেই। সংসারের হাল ধরতে তিনি নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা পদে যোগ দেন। বর্তমানে এটি অপর্ণাচরণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। এরই ফাঁকে ফাঁকে তিনি হয়ে যান পুরোধা একজন বিপ্লবী। ১৯৩২ সালের মে মাসের গোড়ার দিকের কোন একদিন নির্মল সেন প্রীতিলতাকে ‘পরিবারের প্রতি কেমন টান আছে’ তা জানতে চাইলেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘টান আছে। কিন্তু ‘duty to family-কে duty to country- কাছে বলি দিতে পারব।‘ চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের দুই বছর অতিক্রম হয়ে গেল। ইতোমধ্যে বিপ্লবীদের অনেকেই নিহত এবং অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। এই বছরগুলোতে আক্রমণের নানা পরিকল্পনার পরেও শেষ পর্যন্ত বিপ্লবীরা নুতন কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারলোনা। এসব পরিকল্পনার মূলে ছিলেন মাষ্টারদা এবং নির্মল সেন। এই দুজন আত্মগোপণকারী বিপ্লবী তখনো গ্রাম থেকে গ্রামে বিভিন্ন আশ্রয়স্থলে ঘুরে ঘুরে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই আশ্রয়স্থলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ধলঘাটে সাবিত্রী দেবীর টিনের ছাউনি দেয়া মাটির দোতলা বাড়িটা। বিপ্লবীদের কাছে ঐ বাড়ির গোপন নাম ছিল `আশ্রম`। ১৯৩২ সালের ১২ জুন তুমুল ঝড়-বৃষ্টির দিনে মাষ্টারদার পাঠানো এক লোক প্রীতিলতাকে আশ্রমে নিয়ে আসেন। বাড়িতে প্রীতিলতা তাঁর মাকে সীতাকুন্ড যাবার কথা বলেন। মাষ্টারদা এবং নির্মল সেন ছাড়া ঐ বাড়িতে আরো ছিলেন ডিনামাইট ষড়যন্ত্র মামলার পলাতক আসামী তরুন বিপ্লবী অপূর্ব সেন যাঁর ডাক নাম ছিলো ভোলা। ১৩ জুন সন্ধ্যায় সূর্য সেন এবং তাঁর সহযোগীদের সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে অবস্থানের কথা পটিয়া পুলিশ ক্যাম্প জানতে পারে এবং ক্যাপ্টেন ক্যামেরনের নেতৃত্বে রাত প্রায় ৯টার দিকে ধলঘাটের ঐ বাড়িতে ব্রিটিস বাহিনী হানা দেয়। সিঁড়ির মাথায় পৌঁছে বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিতেই নির্মল সেনের করা দুইটা গুলিতে ক্যাপ্টেন ক্যামেরন মৃত্যুবরণ করে এবং সন্মুখ সমনে নির্মল সেনও মৃত্যুবরণ করেন। প্রীতিলতা এবং অপুর্ব সেনকে সঙ্গে নিয়ে মাষ্টারদা অন্ধকারে ঘরের বাইরে আসেন। মাস্টার দা সূর্যসেন পরের দিন প্রীতিলতাকে বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাব বিপ্লবীরা ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল আক্রমণ করতে গিয়ে পারেনি। কারণ, সেদিন ছিলো গুড ফ্রাইডে। চট্টগ্রাম শহরের উত্তরদিকে পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে এই ক্লাব ছিল ব্রিটিশদের প্রমোদকেন্দ্র। পাহাড়ে ঘেরা এই ক্লাবের চতুর্দিকে প্রহরীদের অবস্থান ছিল। একমাত্র শ্বেতাঙ্গরা ব্যতীত এবং ক্লাবের কর্মচারী, বয়-বেয়ারা, দারোয়ান ছাড়া এদেশীয় কেউ ঐ ক্লাবের ধারে কাছে যেতে পারতো না। সেখানে লিখা ছিল, কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ`! সন্ধ্যা হতেই ইংরেজরা এই ক্লাবে এসে মদ খেয়ে নাচ, গান এবং আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতো। আত্মগোপনকারী বিপ্লবীরা ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের জন্য নুতনভাবে পরিকল্পনা শুরু করেন। চট্টগ্রাম শহরের কাছে দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামে ঐ ক্লাবেরই একজন বেয়ারা যোগেশ মজুমদারের বাড়িতে বিপ্লবীরা আশ্রয় পেলেন। ১৯৩২ এর ১০ আগষ্ট ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দিন আবারও ধার্য করা হয়। শৈলেশ্বর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সাতজনের একটা দল সেদিন ক্লাব আক্রমণ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। শৈলেশ্বর চক্রবর্তীর প্রতিজ্ঞা ছিল ক্লাব আক্রমণের কাজ শেষ হবার পর নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার যদি সুযোগ থেকেও থাকে, তবুও তিনি আত্মবিসর্জন দেবেন। তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। গভীর রাতে কাট্টলীর সমুদ্র সৈকতে তাঁর মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। মাষ্টারদা ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্লাবে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই আক্রমণের দায়িত্ব এবার তিনি নারী বিপ্লবীদের উপর দেবেন বলেন মনস্থির করলেন। কিন্তু সাতদিন আগেই পুলিশের হাতে পুরুষবেশী কল্পনা দত্ত ধরা পড়ে গেলেন। এবার আক্রমণের নেতৃত্বের ভার নিতে চাইলো একমাত্র নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা। সদস্য সংখ্যা হলো পনের জন। ২৩ সেপ্টেম্বর এ আক্রমণে প্রীতিলতার পরনে ছিল মালকোঁচা দেওয়া ধুতি আর পাঞ্জাবী, চুল ঢাকা দেওয়ার জন্যে মাথায় সাদা পাগড়ি, পায়ে রবার সোলের জুতা। বিপ্লবীদের আশ্রয়দাতা যোগেশ মজুমদার ক্লাবের ভিতর থেকে রাত আনুমানিক ১০ টা ৪৫ এর দিকে আক্রমণের নিশানা দেখানোর পরেই ক্লাব আক্রমণ শুরু হয়। সেদিন ছিল শনিবার, প্রায় চল্লিশজন মানুষ তখন ক্লাবঘরে অবস্থান করছিল। তিনভাগে বিভক্ত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিপ্লবীরা ক্লাব আক্রমণ শুরু করেন। পূর্বদিকের গেট দিয়ে ওয়েবলি রিভলবার এবং বোমা নিয়ে আক্রমণের দায়িত্বে ছিলেন প্রীতিলতা, শান্তি চক্রবর্তী আর কালীকিংকর দে। ওয়েবলি রিভলবার নিয়ে সুশীল দে আর মহেন্দ্র চৌধুরী ক্লাবের দক্ষিণের দরজা দিয়ে এবং ৯ ঘড়া পিস্তল নিয়ে বীরেশ্বর রায়, রাইফেল আর হাতবোমা নিয়ে পান্না সেন আর প্রফুল্ল দাস ক্লাবের উত্তরের জানালা দিয়ে আক্রমণ শুরু করেছিলেন। প্রীতিলতা হুইসেল বাজিয়ে আক্রমণ শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পরেই ঘনঘন গুলি আর বোমার আঘাতে পুরো ক্লাব কেঁপে কেঁপে উঠেছিল। যেন পাহাড়তলীতে কেঁপে উঠেছিলো খোদ ব্রিটিস সাম্রাজ্য। ক্লাবঘরের সব বাতি নিভে যাবার কারণে সবাই অন্ধকারে ছুটোছুটি করতে লাগলো। ক্লাবে কয়েকজন ইংরেজ অফিসারের কাছে রিভলবার ছিলো। তারা পাল্টা আক্রমণ করলো। একজন মিলিটারী অফিসারের রিভলবারের গুলিতে প্রীতিলতার বাঁ-পাশে গুলির আঘাত লাগে। প্রীতিলতার নির্দেশে আক্রমণ শেষ হলে বিপ্লবী দলটার সাথে তিনি কিছুদূর এগিয়ে আসেন। সেদিনের সেই আক্রমণে মিসেস সুলিভান নামে একজন নিহত হয় এবং চারজন পুরুষ ও সাতজন মহিলা আহত হয়। আক্রমণ শেষে পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রীতিলতা পটাসিয়াম সায়ানাইড মুখে পুরে দেন এবং যারা আহত হয়নি সেসব বিপ্লবীদের দ্রুত স্থানত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া প্রীতিলতাকে বিপ্লবীরা শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই স্থান ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর দিনটি ছিলো ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সাল। ৫ মে ছিলো অগ্নিযুগের এই মহান বিপ্লবীর জন্মদিন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্যে এসব সোনার মানুষ নিজেদেরকে দিয়েছিলেন কোরবানি। আমরা তাঁদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি।  লেখক পরিচিতি- গোলাম সারোয়ার। কলামিস্ট ও গবেষক।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯১তম জন্মদিন আজ

তার সমধিক পরিচিতি শহীদ জননী হিসেবে। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সদা সোচ্চার কণ্ঠ। এই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯১তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমামের জন্ম। বাবা আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পারিবারিক অনুকূল পরিবেশের সুবাদে জাহানারা রক্ষণশীল নারী সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের পর প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামও তাকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট অনুপ্ররণা যুগিয়েছেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন থেকে বি.এ পাস করে পরবর্তীকালে প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ করেন জাহানারা ইমাম। কর্মজীবনে তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে শিক্ষকতা ছেড়ে প্রগতিশীল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। একাত্তরে তার ছেলে শাফী ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেন, কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন ও পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন। রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই জাহানারা ইমাম শহীদ জননীর মযার্দায় ভূষিত হন। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম। তিনি লেখালেখিও করেছেন বিস্তর। অনবদ্য গ্রন্থ‘ একাত্তরের দিনগুল ‘ ছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য রচনাপঞ্জির মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, ‘প্রবাসের দিনলিপি’ ইত্যাদি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে। সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাকে সমাহিত করা হয়। একে//

আহমেদ আকবর সোবহান নির্বাচিত হলেন এশিয়াওয়ান পারসন অব দ্য ইয়ার

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী এশিয়াওয়ানের দৃষ্টিতে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ (পিওওয়াই) নির্বাচিত হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হোটেলে এশিয়ান বিজনেস অব সোশ্যাল ফোরাম, ইন্ডো-ইউএই বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল ফোরাম ২০১৮-২০১৯ এবং ওয়ার্ল্ড’স গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ডস অ্যান্ড লিডারস ২০১৮-১৯ শীর্ষক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপ ওয়ার্ল্ড’স গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ডস মর্যাদায় ভূষিত হয়। প্রতিবছর বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে এশিয়াওয়ান পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত করা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রাপ্ত পুরস্কারআয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, যেসব ব্যক্তিত্ব সত্যিকার অর্থে অন্য নেতাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন কেবল তারাই এশিয়াওয়ান পারসন অব দ্য ইয়ার (পিওওয়াই) অ্যাওয়ার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মাত্র ১১ জন সফল ব্যক্তিত্বকে শিল্প ও সমাজে নিজ নিজ অনবদ্য অবদানের জন্য পিওওয়াই অ্যাওয়ার্ড পদক দেওয়া হয়েছে। তালিকায় সবার শীর্ষে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে স্থান দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ট্রেড প্রমোশন বিভাগের পরিচালক ও ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশনবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মেদ নাসের হামদান আল জাবি, ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা প্রমুখ।  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি