ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৯:০১:৫৯, বুধবার

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

আজ ১২ জুন, বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। ‘শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে।
বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস আজ 

আজ ‘বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হচ্ছে দিনটি। অ্যাক্রিডিটেশন হচ্ছে, পণ্য ও সেবার গুণগত মানসনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি। কোনো শিল্পপণ্য ও সেবা অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির জন্য অ্যাক্রিডিটেশন সনদের প্রয়োজন না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তা রফতানির ক্ষেত্রে ওই পণ্যের অনুকূলে অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরির টেস্টিং সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে অ্যাক্রিডিটেশনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কারিগরি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিন অ্যাক্রিডিটেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রামাণ্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন অপারেটররা এসএমএস পাঠিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন বিষয়ে জনগণকে সচেতন করবে। দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে প্রচারসামগ্রী, ব্যাগ, কলম, বুকলেট, বর্ণিল স্যুভেনির ও পোস্টার প্রকাশ করেছে বিএবি। শিল্প মন্ত্রণালয় ও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন এবং পল্গ্যাকার্ডে সাজানো হয়েছে। বিএবি ইতিমধ্যে বিএসটিআই, বিসিএসআইআর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ল্যাবরেটরির মতো সরকারি পরীক্ষাগারসহ দেশীয় ও বহুজাতিক ৬২টি টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরি, দুটি মেডিকেল ল্যাবরেটরি, দুটি সনদ প্রদানকারী সংস্থা ও পাঁচটি পরিদর্শন সংস্থাসহ মোট ৭১টি প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রিডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিডিই টেস্টিং ল্যাবরেটরি ও রূপপুর পরমাণু প্রকল্পের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ল্যাবরেটরিও বিএবির অ্যাক্রিডিটেশন লাভ করেছে। এ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড (বিএবি) বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। বিএবির আজকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিএবি এ সভার আয়োজন করছে। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের এতে প্রধান অতিথি থাকার কথা। এ ছাড়া শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম। এসএ/

আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস আজ

আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস আজ। আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীন জাতীয় আর্কাইভস আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভসের (আইসিএ) ‘এ’ ক্যাটাগরির সদস্য। এ বছর আইসিএ ৩ থেকে ৯ জুন আর্কাইভস সপ্তাহ ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আজ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের নভেম্বরে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় আর্কাইভস ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণের প্রথম পর্যায় ২০০৪ সালে এবং দ্বিতীয় পর্যায় ২০১২ সালে শেষ হয়। বর্তমানে জাতীয় আর্কাইভসের কার্যক্রম পাঁচতলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন এবং সাততলাবিশিষ্ট ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। দিবস উপলক্ষে আজ সকালে আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভস ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/

আন্তর্জাতিক মহাসাগর দিবস আজ

আজ ৮ জুন, আন্তর্জাতিক মহাসাগর দিবস। ১৯৯২ সালের এই দিনে দিবসটি পালন শুরু হয়েছিলো। সে বছর ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোতে সংঘটিত ধরিত্রী সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে গৃহীত ১১১নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে দ্যা ওসেন প্রজেক্ট এবং ওয়ার্ল্ড ওসেন নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রতি বছরের ৮ জুন আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পলিত হচ্ছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববাসী ৮ জুনকে পালন করে আসছে বিশ্ব মহাসাগর দিবস হিসেবে। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাগর-মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। সাগর-মহাসাগরকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা হলো এসব সাগর আর মহাসাগর। পৃথিবীর ৩ ভাগ জল আর ১ ভাগ স্থল। ফলে ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় নানামুখী সংকট বিদ্যমান। গোটা বিশ্বে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগত আজ বিপন্ন প্রায়। পৃথিবীতে মানব জাতির টিকে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হল সাগর। খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে মহাসাগর থেকে। তাছাড়া মহাসাগরগুলো বায়ুমণ্ডলর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। কিন্তু মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জলবায়ুর বৈরী থাবায় মহাসাগরগুলোর প্রতিবেশ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে এর জীববৈচিত্র্য। এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশ্ব মহাসাগর দিবস পালন করা হয় প্রতিবছরের ৮ জুন। সমুদ্রের অবদান, আবেদন, প্রয়োজনীয়তা আর উপকারীতাকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবার সামনে তুলে ধরতে পালন করা হচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এসএ/  

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস কাল

আগামীকাল ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১০ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজকপক্ষ থেকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবি জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে। এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে। অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাক শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এদিন সূর্যোদয়ের পর বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে আগামীকাল ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল শাখাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসএ/  

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ জাপানি ভাষায় প্রকাশ

এবার জাপানি ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অগ্নিঝরা ভাষণ। ঐতিহাসিক সেই ভাষণের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। ভাষণটি ইংরেজি ছাড়া অন্য যে-কোনো বিদেশি ভাষা হিসেবে জাপানিতেই প্রথম অনুবাদ করা হলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৯ মে জাপান সফরের সময় জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল সভা করেন। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রী জাপানি ভাষায় অনুবাদকৃত ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পুস্তিকা উন্মুক্ত করেন এবং জাপানি ব্যবসায়ীসহ উপস্থিত সকলের মধ্যে বিতরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার প্রমাণ ৭ই মার্চের ভাষণ, যার মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের মর্মার্থ জাপানিদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে পুস্তিকাটি জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বিতরণ করা হবে। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ প্রথম বিদেশি ভাষা হিসেবে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রাফিক নভেল মুজিবের জাপানি অনুবাদ উন্মুক্ত করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী মিজ আকি আবে। নভেলটি জাপানের বিভিন্ন স্কুলে পাঠ করে শোনানো হয় এবং বিতরণ করা হয়। এসএ/  

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস 

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম দিনে দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথভাবে দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। বর্তমানে দেশে ক্রমবর্ধমান জিডিপিতে পশুসম্পদের অবদান ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রত্যক্ষভাবে ২১ শতাংশ এবং মোট আমিষের ৮ শতাংশ আসে দুগ্ধ সেক্টর থেকে। বর্তমানে এই সেক্টরে বহু বেকার শিক্ষিত যুবক বিনিয়োগ করছে। অনেক প্রবাসীও এই সেক্টরে বিনিয়োগ করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জব্বার জানান, দেশে দুগ্ধ শিল্প অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশে দুধের চাহিদা বছরে ১৪৬ দশমিক ৫১ লাখ টন। উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭২ দশমিক ৭৫ লাখ টন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে প্রতিদিন অন্তত ২৮০ মিলিলিটার দুধ গ্রহণ করা উচিত। অথচ আমরা মাথাপিছু প্রতিদিন দুধ গ্রহণ করছি মাত্র ১২৫ দশমিক ৫৯ মিলিলিটার। দেশে দ্রুত দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এসএ/  

মুজিব বর্ষেই মুক্তি পাবে জাতির পিতার জীবনী

মুজিব বর্ষেই মুক্তি পাবে জাতির পিতার জীবনী নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তিও হয়ে গেছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন উপমহাদেশের বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রসহ অন্য চরিত্রে কারা থাকছেন তা ঠিক না হলেও শ্যুটিং স্পট নির্ধারণের কাজ চলছে। গোপালগঞ্জের পাটগতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম। ডাক নাম খোকা। ভালো নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুনের চার মেয়ে ও দুই ছেলের সংসারে তিনি তৃতীয়। মধুমতি পাড়ে দৌড়াদৌড়ি আর খেলাধুলায় কেটেছে শৈশব। প্রাথমিক শিক্ষা গিমেডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন। ১৯৪২ সালে ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, ইসলামিয়া কলেজে। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। দেশ বিভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তিন হন ১৯৪৮ সালে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বহিস্কার হন শেখ মুজিব। ৪৯ সালের ২৩ জুন গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানি শোষন বঞ্চনা থেকে বাঙালির মুক্তির জন্য ৬৬ তে ছয় দফা দেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দেয় ছাত্র-জনতা। বঙালির ঠিকানা হয়ে উঠে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর। সেখান থেকেই আসে আন্দোলন সংগ্রামের সব নির্দেশনা। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য। জাতিরপিতার জীবনী নিয়েই বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। কাজ শুরু হবে আর কিছু দিনের মধ্যেই। সিনেমার নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। চিত্রনাট্য লিখবেন অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদি। তারা দু’জনই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, রোজগার্ডেন, রেসকোর্স ময়দান, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসহ দেশের নানা স্থান ঘুরছেন। এ বিষয়ে কথা বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মাণ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভী। এরইমধ্যে দুইদেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানান তিনি। চলচ্চিত্রটি নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাবে বলে জানালেন ড. রিজভী। চলচ্চিত্রটির বেশিরভাগ চরিত্রে অভিনয় করবেন বাংলাদেশি শিল্পীরা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে আইনের প্রয়োগ জরুরি

আজ ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। ১৯৮৭ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এর সহযোগী সংস্থাসমূহ এ দিনকে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এ বছর বিশ্ব  তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Tobacco and Lung Health’। বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর ৫টি প্রধান কারণে মধ্যে ২ টিই ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতা থেকে হয়ে থাকে। তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ফুসফুসের যেসমস্ত রোগ হয়ে থাকে তার মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সার, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস (সিওপিডি), যক্ষা এবং অ্যাজমা বা হাঁপানি অন্যতম। তামাক ব্যবহারের ফলে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মারা যায়। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও বহু মানুষ মৃত্যু বরণ করে। কেবল সিগারেট বা বিড়ি নয়, নানা ধরণের ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য যেমন জর্দ্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদিও ফুসফুসের অপূরণীয় ক্ষতি করে থাকে। ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের মধ্যে অন্তত ৩০ ধরনের কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক রয়েছে। এরমধ্যে বিশেষ ধরনের নাইট্রোস্যামিন পাওয়া যায়, যা ফুসফুস ক্যন্সারের জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফুসফুস ছাড়াও মুখগহবর, গলনালী এবং পাকস্থলী ক্যান্সারের জন্যও দায়ী ধোঁয়াবিহীন তামাক। বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অব টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC)- এর প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোও সোচ্চার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকার প্রতি বছর বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়িয়েছে ও উচ্চহারে কর আরোপ করেছে। তামাক পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্ক বার্তা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতো উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিগারেটের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে ধূমপায়ী কমানোর উদ্দেশ্যে চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সিগারেটের মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে এক বছরে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম আট টাকা বেড়ে ২৭ টাকা থেকে ৩৫ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশে সিগারেট উৎপাদনের জন্য কোম্পানীগুলোকে সর্বোচ্চ ৮১ ভাগ কর পরিশোধ করতে হয়। এটা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আট বছরে ধূমপায়ী কমেছে ২৭ লাখ। সরকার ও তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর নানামূখী পদক্ষেপের কারণে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমলেও অন্যদিকে বাজারে অবৈধভাবে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া সিগারেটের দৌরাত্ম বেড়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কোন কোন সিগারেটের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। এ দাম বৃদ্ধির সুযোগে দেশব্যাপী ২০ টি অবৈধ প্রস্তুতকারী প্রায় ৫০ টি ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে ছেড়েছে। ফলে এখাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন করে জেটিআই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের পর থেকেই বিভিন্ন উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা ও শিল্পী তাহসানের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এই প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে জাপান টোব্যাকোর ব্র্যান্ড কালার ও স্লোগান ‘জাপানিজ কোয়ালিটি’। অথচ আইন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোনও তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। বর্তমানে যে হারে ধূমপায়ী কমছে তাতে আগামী ২১ বছরের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জন কঠিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যতম একটি বাঁধা হচ্ছে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ সিগারেট। এছাড়া সম্প্রতি আইন ভঙ্গ করে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের (জেটিআই) মতো সিগারেট কোম্পানী। এ ধরনের প্রচারণাও সরকারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অশনি সংকেত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইন ভঙ্গ করে সিগারেট কোম্পানীর এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ সিগারেটের সহজলভ্যতা সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনকে বাঁধাগ্রস্ত করছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই এই অবৈধ তামাকের বাজার ও বেআইনি প্রচার-প্রচারনা বন্ধ করতে হবে। এজন্য এই খাতে মাঠপর্যায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর বর্তমান আইনের প্রয়োগ জরুরি দরকার।   টিআর/  

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ ২৯ মে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সব পুরুষ-নারীকে শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে সর্বোৎকৃষ্ট পেশাদারি মনোভাব বজায়, কর্তব্যপরায়ণতা, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের আত্মত্যাগের ঘটনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও যথোচিত সম্মানপূর্বক স্মরণ করা হয় এ দিনে। ২০০৩ সাল থেকে এ দিনটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুনরায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। দিবসটি উপলেক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমাদের শান্তিরক্ষী সদস্যরা আগামী দিনগুলোতেও বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে- এ প্রত্যাশা করি।’ বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, শান্তিরক্ষী সদস্যরা তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার দ্বারা সারাবিশ্বে শান্তিরক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সব বাংলাদেশি সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘সেই সাথে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী পাঠানোতে বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ জনের অধিক শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে গত বছর মারা গেছেন ৯৮ জন। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এসএ/  

আজ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস

বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ মঙ্গলবার (২৮ মে)। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নানা কর্মসূচি পালন করেছে। ‘মর্যাদা ও অধিকার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি সেবায় অঙ্গীকার’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত জটিলতার কারণে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এবং ২৬ লাখ মৃতজন্মসহ ৩০ লাখ নবজাতক অকাল মৃত্যুবরণ করে। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন ৮৩০ জন মা মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫ হাজার ৪৭৫ জন মা এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন মা মৃত্যুবরণ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের চেয়ে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৭২ জন মা মৃত্যুবরণ করেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৭৬ জন। বর্তমানে ৩৭ ভাগ মা কমপক্ষে চারটি প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করে থাকে। দেশে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৪৭ শতাংশ। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব-পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার ৩২ শতাংশ। মোট মাতৃমৃত্যুর ৭৩ শতাংশই ঘটে প্রসব-পরবর্তী সময়ে। যাদের ৫৬ ভাগই মারা যায় প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এসব মাতৃমৃত্যুর ৩১ শতাংশই ঘটে রক্তক্ষরণের কারণে। ২৪ ভাগ মৃত্যুর জন্য দায়ী খিঁচুনি বা একলাম্পশিয়া। এছাড়া ৩ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাধাগ্রস্ত বা অবিরাম প্রসব ব্যথার কারণে। মোট মাতৃমৃত্যুর ৫৩ ভাগই ঘটে থাকে বাড়িতে প্রসবের কারণে। উল্লেখ্য, সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালন শুরু হলেও মাতৃ স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব ও এর কার্যকারিতা অনুধাবন করে ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে যথাযথভাবে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়। দিবসটি অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) পালন করে আসছে। এসএ/  

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস আজ

বিশ্বব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। এবারের জীববৈচিত্র্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আমাদের জীববৈচিত্র্য, আমাদের খাদ্য; আমাদের স্বাস্থ্য’। খাদ্যব্যবস্থা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পৃথিবীতে বাস করে হাজারো প্রাণী। তাদের নাম, পরিচিতি আর স্বভাবের কথা তুলে ধরতে গেলে হাজার পৃষ্ঠায় কোটি শব্দ লিখলেও শেষ হবে না। আধুনিক পৃথিবীতে এখন সব জায়গাতেই মানুষের পদচারণা। মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি মিলিয়েই আমাদের পৃথিবী নামের সবুজ গ্রহটি। বিশ্ববাসীর ব্যবহারের জন্য একটি মাত্র এ জীবমন্ডলটি রয়েছে। মানুষ এটিকে এতোটাই নির্দয়ভাবে ও নির্বিচারে ব্যবহার করছে। বর্তমানে সমস্ত বিশ্ব ব্যবস্থাই হুমকির দরজায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। জীব বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ২২ মে দিনটি বিশ্ব জীব বৈচিত্র্য দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। বিশ্ব জীব বৈচিত্র্য দিবসের ধারণটির সূচনা হয় ১৯৯২ সালে। রাষ্ট্র, সরকার ও পৃথিবীর বড় বড় সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ব্রাজিলের রিও-তে শীর্ষ ধরিত্রী সম্মেলন-এ জীব বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এসএ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি