ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ০:৪৯:৫৭, বুধবার

Live Scroll from Stock Exchange
 DSE
Up: 169 Dn: 85 Unc: 64
Up: 169 Dn: 85
Last Update:
T.Trd:   mn
T.Trd: mn
Live Scroll from Stock Exchange
 CSE
Up: 80 Dn: 48 Unc: 31
Up: 80 Dn: 48
Last Update: 6/18/2019 11:31:49 AM
T.Trd: 60.50  mn
T.Trd: 60.50 mn
Last Update:
বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। 
মানবসম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ (ভিডিও)

প্রস্তাবিত বাজেটে একশ’ কোটি টাকার স্টার্ট আপ ফান্ড দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তারা। তবে সঠিকভাবে বরাদ্দ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। তরুণ উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব। চামড়াজাত ব্যাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে কর্পোরেট উপহার সামগ্রী তৈরির কাজ করেন। তার কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ জনের। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে ২০০৫ সালে একজন কর্মীকে নিয়ে পথচলা, সহজ ছিলো না শুরুর সময়টা। এবারের বাজেটে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের ব্যবসা প্রসারে একশ’ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এই উদ্যোক্তা। শুধু ঋণ দেয়া নয়, দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণ, সেমিনারসহ বিভিন্ন দেশের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও দরকার বলেও মনে করেন তিনি। বাজেটের এই দিকটিকে এককথায় দারুণ বলছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে মানবসম্পদের উপর বিনিয়োগ বাড়ানোর দরকার। তবে শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, তরুণদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি কওে দেয়ার তাগিদ এই অর্থনীতিবিদের । শুধু সার্টিফিকেটের জন্য নয়, দক্ষতা বৃদ্ধিতে তরুণদের বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিলেন এই অর্থনীতিবিদ।

বাজেট জনমুখী ও ব্যবসা সহায়ক: এফবিসিসিআই

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) প্রস্তাবিত বাজেটকে জনমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলছে, এই বাজেট ব্যবসা-বান্ধব এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের জনমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বাজেট দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রীসহ বাজেট প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এফবিসিসিআই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। ফাহিম বলেন, মূসকের একাধিক হার নির্ধারণ, মহিলা উদ্যোক্তাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ৫০ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি এবং এসএমই খাতকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্ণওভার নির্ধারণ ব্যবসা-বান্ধব। কিন্তু শুধুমাত্র ১৫ শতাংশ হারের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। যদি সকল হারের ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হয় তাহলে এসএমই খাত বিকাশে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, শিল্পখাতে বিনিয়োগ,উৎপাদন স্বক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানীমুখী শিল্পের বহুমুখী প্রসার, প্রণোদনা ও অধিক প্রতিযোগিতা সক্ষম করাকে উন্নয়ন কৌশল হিসেবে নেয়া হয়েছে যা ইতিবাচক। পচনশীল নয় এমন পণ্য এবং হোম এ্যাপ্লায়েন্স খাতে শুল্ক সুবিধা দেয়ায় স্থানীয় শিল্প উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এফবিসিসিআই তার বাজেট মূল্যায়নে কৃষকের স্বার্থে শস্যবীমা চালু একটি প্রগতিশীল উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি মনে করে বছরব্যাপী কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য ও সুষ্ঠু সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত গুদাম নির্মাণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এফবিসিসিআই আরো বলছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্পখাতের বিকাশকে যেমন উৎসাহিত করবে তেমনি তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ প্রনোদনা প্রদান এবং হ্রাসকৃত করহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ফজলে ফাহিম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, চা শ্রমিকসহ সকল উপকারভোগীর সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা মানবিক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, যুবকদের মধ্যে ব্যবসা উদ্যোগ সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। মানসম্পন্ন কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, অবকাঠামো, উদ্ভাবনী ও আইসিটি, আর্থ-সামাজিক, দারিদ্র বিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটকে এফবিসিসিআই সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছে। সূত্র-বাসস এমএস/আরকে

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে শার্শায় আ.লীগের আনন্দ মিছিল

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করেছে। শুক্রবার বিকেলে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন এর নেতৃত্বে নাভারন- সাতক্ষীরা মোড় থেকে এ আনন্দ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আফিল উদ্দিন এমপি এ বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে কোনো ঋণের বোঝা নেই। বাজেট গণমুখী, বাস্তবসম্মত। গত দশ বছরে দেশের যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই বাজেট। এই বাজেট দেশের মানুষের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের।’ এ বাজেট গত বছরগেুলো সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আনন্দ মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক ও যশোার জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ। এনএম//আরকে

এ বাজেট বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে

সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের এই স্লোগানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। জন্মশতবার্ষিকীতে এ বাজেট বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে বলে এ বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট। এর আকার যাই হোক না কেন সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশের জন্য এখন এর বাস্তবায়নই বড় কথা। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা বলে মনে করেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা জনকল্যাণ ও উন্নয়নমুখী। এ বাজেট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সহায়ক হবে। মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির জনক যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা। তার হাত ধরে সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এ বাজেট সেই স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সংসদে যে জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখা স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। ঘোষিত এ বাজেটকে উন্নয়নমুখী বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজুল আলম বেন্টু। তিনি বলেন, সরকারের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উন্নয়নমুখী এবং ব্যবসাবান্ধব। এ বাজেট পাস হলে রাজশাহীসহ দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে। সরকার মধ্যম আয়ের দেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন দেখছে তা পূরণেও সহায়ক হবে। বাজেটে সরকার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করার পাশাপাশি বাজেটে দেশের উন্নয়নের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যাতে উন্নত জীবনযাপন করতে পারে সে দিক বিবেচনা করে গ্রামে শহরের সুবিধা দেয়ার যে পরিকল্পনা বাজেটে রাখা হয়েছে তা যুগান্তকারি পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন রাজশাহীর এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এটি চ্যালেঞ্জিং বাজেট। তবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অর্জন ও এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে বাজেটে রাজশাহীর মানুষকে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, এবার যে বাজেট প্রস্তাব করা হলো তা বাংলাদেশকে নিয়ে সরকারের স্বপ্নপূরণের বাজেট। এটি পাস হওয়ার পর বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। গেল অর্থবছরের বাজেট ছিলো নির্বাচনী বাজেট। তবে এবারের বাজেট স্বপ্নপূরণের। এ বাজেট সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের বাজেট।

এডিপির জন্য ২ লাখ ২৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগসহ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে। এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ অধিবেশন কক্ষে যান। পরে অনুমতি নিয়ে প্রথমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করেন। এরপর শুরু করেন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বেড়েছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ অন্যান্য প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী অর্থবছরে জন্য খাত ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিহন খাতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। অন্যান্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে শিক্ষার প্রসার ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২১ হাজার ৩ ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা এডিপির ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জনে কৃষিখাতে খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম দশ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা,রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৪টি। সূত্র: বাসস। এমএস/

বাজেট নিয়ে ৭০ শতাংশ খুশি বিজিএমইএ

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পোশাক রফতানিতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালকে সাধুবাদ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, বাজেটে আমরা শতভাগ খুশি না হলেও ৭০ শতাংশ খুশি হয়েছি। পোশাকখাতে এবার কিছু বেশি বরাদ্দ পেয়েছি। বাজেট এবার ভালো হয়েছে, এই বাজেট জনকল্যাণমুখী। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনটি ফেসবুকে লাইভ করা হয়। এরআগে, বিকাল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেটের বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে বাজেট বক্তৃতার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট পেশ করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাকের চারটি খাতে বিদ্যমান ৪ শতাংশ রফতানি প্রণোদনার পাশাপাশি নতুন অর্থবছরে বাকি সব খাতের জন্য এক শতাংশ হারে রফতানি প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়। এজন্য আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে আরও দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই খাত এখন যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সেখানে এই বরাদ্দও আমরা যৎসামান্য মনে করি।প্রণোদনা অন্তত ৩ শতাংশ দিলে আমাদের জন্য ভালো হতো। রুবানা হক বলেন, এবারের বাজেটে গতানুগতিকের বাইরে অনেকগুলো নতুন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সামাজিক বেষ্টনীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে, প্রবাসী আয়কে উৎসাহিত করার জন্য শতকরা ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের যেন সামাজিক সুরক্ষা খাতের অধীনে আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেটের আগে আমরা এটি প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে যে খাতগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে পোশাক শ্রমিক নেই। কিন্তু যেহেতু বরাদ্দের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩শ’ ৬৭ কোটি টাকা সেই হিসাব অনুযায়ী পোশাক শ্রমিকদেরও এর আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক। তিনি বলেন, বাজেট এবার ভালো হয়েছে, এই বাজেট জনকল্যাণমুখী। পোশাক রফতানিতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে রুবানা হক বলেন, বাজেটে আমরা শতভাগ খুশি না হলেও ৭০ শতাংশ খুশি হয়েছি। পোশাকখাতে এবার কিছু বেশি বরাদ্দ পেয়েছি। ১ শতাংশ নগদ সহায়তার প্রস্তাবনা দিলেও বিজিএমইএ’র দাবি ছিল ৩ শতাংশ। এ খাতে আগে কখনো ভর্তুকি না থাকায় এবারের বাজেটে ৩ শতাংশ সহায়তা আশা করেছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে পোশাক শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন রুবানা হক। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষার খাতে পোশাক শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি আমাদের অনেকদিনের। সুরক্ষা খাতে অন্যান্য সংঘঠনের শ্রমিকরা থাকলেও বিজিএমইএ’র শ্রমিকরা নেই। এটি দুঃখজনক এবং আগামীতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিজিএমইএ’র শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেলা ৩টার কিছুক্ষণ পর জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আরকে//

রেলে ১৬ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে (২০১৯-২০২০) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬ হাজার ৩৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই বরাদ্দের কথা জানান। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য পরিচালন খাতে ৩ হাজার ৭৫৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ৩২৬ কোটি ৬৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘সরকার রেলওয়েকে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ খাতে উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। রেলখাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২০৪৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ২৩০ টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কার, রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরকরণ, নতুন ও বন্ধ রেল স্টেশন চালু করা, নতুন ট্রেন চালু ও ট্রেনের সার্ভিস বৃদ্ধি করা, ট্রেনের কোচ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ অব্যাহত রয়েছে।’ আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে ১১১০.৫০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল রেল ট্র্যাক, ৫২ কিলোমিটার নতুন রেল ট্র্যাক নির্মাণ, ১০০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ২টি আইসিডি নির্মাণ, ৩টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ, ১ হাজার ১২০টি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ, ৩টি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ আধুনকায়ন/নির্মাণ এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ সূত্র: বাসস। এমএস/আরকে    

আইসিটি খাতে ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রাস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ছিল ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এ কথা জানান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মঞ্জুরি ও বরাদ্দ দাবীসমূহে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন খাতে ২৮৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের খাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এসবের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট, ই-আরপি প্রকল্প, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প, সফটওয়্যারের কোয়ালিটি পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী (বরেন্দ্র সিরিকন সিটি) স্থাপন প্রকল্প, গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প, মোবাইল গেম ও এপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প, সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে আইসিটি প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো স্থাপন কর্মসূচি প্রভৃতি। আরকে//

বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই টাকা বৈধ করা যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে পণ্য বা সেবা উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়কে দশ বছরের জন্য বিভিন্ন হারে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে অপ্রদর্শিত আয় থেকে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎসের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিলে ওই অর্থের উৎস সম্পর্কে আয়কর বিভাগ থেকে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না। এ সংক্রান্ত একটি বিধান আয়কর অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট হারে কর দেওয়া হলে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কেও কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। তবে এই হারটি অত্যধিক হওয়ায় করদাতারা খুব একটা সাড়া দিচ্ছেন না। ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে বিনিয়োগ স্বপ্রণোদিতভাবে আয়কর নথিতে প্রদর্শনে করদাতাগণকে আরও আগ্রহী করার জন্য এ সংক্রান্ত বিদ্যমান কর হার হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। করের ওই হার কমে কত হবে, তার উল্লেখ অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় না থাকলেও তিনি আশা করছেন, এ হ্রাসকৃত করহারের সুযোগ নিয়ে করদাতারা ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে তাদের অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ অতি দ্রুত আয়কর নথিতে প্রদর্শন করবেন এবং স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিতভাবে করের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কোন প্রশ্ন ছাড়া ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় এবং দালান নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া আছে। এনএম/আরকে

ভ্যাট আইনে ব্যাপক ছাড়

জাতীয় বাজেটে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর-মুসক) আইন বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। এ আইন কিভাবে কাজ করবে এবং কি হারে ভ্যাট দিতে হবে তার কথাও বলা হয়েছে নতুন বাজেটে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ কিভাবে কাজ করবে তার ব্যাখ্যা এ বাজেট প্রস্তাবে তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী মহলের দাবির প্রতি সম্মান দেখাতে অধিকতর যুগোপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে আইনে কিছু সংস্কার ও সহজীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসকের বাইরে রাখতে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূসক থেকে অব্যাহতি প্রদান হয়েছে এবং বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা হতে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। মূসক নিবন্ধন সীমা ৮০ লক্ষ টাকা হতে ৩ কোটি টাকায় উন্নীতকরণ করা হয়েছে। পণ্যের অব্যাহতি, সেবার অব্যাহতি ও সম্পূরক শুল্ক হারের সমন্বয়ে ৩টি তফসিল রয়েছে এ আইনে। ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয়েছে। কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সুর্নিদিষ্ট কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ঔষধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানের ন্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার যথাক্রমে ২.৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যহত রাখা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে করভার কমানো জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন আইনটি অনলাইন ভিত্তিক বিধায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সরবারহের ক্ষেত্রে চালানের তথ্য ধারনের জন্য দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ও সেলস ডেটা কালেকটর স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর কিছু সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আইন পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি রেখে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা ২০১৬ এর কতিপয় বিধি সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংযোজন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনে কয়েকটি খাতকে এর আওতা মূক্ত রাখা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বেজা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মত ফাস্ট ট্রাকভৃক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভ্যাটের আওতামূক্ত রাখতে সংসদে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ভারী প্রকৌশল শিল্প, রপ্তানি খাতের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ ও বিকাশের জন্য অটোমোবাইল, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, মোটরসাইকেল, মোবাইল শিল্পসহ কতিপয় শিল্পখাতে বর্তমানের ন্যায় মূসক ও সম্পূরক শুল্ক থেকে বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করে বনরুটি ও পাউরুটি, হাতে তৈরী কেক ও বিস্কুকের ১৫০ টাকা পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কৃষিখাতে প্রনোদনার জন্য পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার অপারেটেড সিডার, লোলিক্ট পাম্প, রোটারী টিলারের উপর মূসক অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে। নারী উদ্যোক্ত পরিচালিত ব্যবসায়ীক শো রুম, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগানদার ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সেবা, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস, যোগানদার ও বিদুৎ সেবার উপর মূসক রাখা হয়নি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থা, করসালটেন্সি ও সুপাভাইসারি ফার্ম, যোগানদার ও আইন পরামর্শক সেবার উপর মূসক রাখা হয়নি। রূপপুর পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়াডিং সংস্থা, বীমা কোম্পানি, যোগানদার ও ব্যাংকিং সেবার উপর মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ ও সম্মান প্রদান করে এসব বিষয়কে মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে বাজেটে বলা হয়। এদিকে কিছু পণ্যের উপর করারোপ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সব পণ্য মূসকের বাইরে ছিল। প্লাস্টিক ও এ্যালুমিনিয়ামের তৈরী তৈজসপত্র, সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল, সানফ্লাওয়ার ওয়েল, সরিষার তেল, টিভি ও অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সরবারহকারী, জ্যোতিষী ও ঘটকালী ইত্যাদি সেবার ওপর স্থানীয় পর্যায়ে এবং টেলিকম সেক্টরের উপর আমদানি পর্যায়ে মুসক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য কিছু সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি, থ্রি হুইলার, এ্যম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ব্যতীত অন্যান্য সকল গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, পিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ গ্রহন ও নবায়নের ক্ষেত্রে যে চার্জ পরিশোধ করা হয় তার উপর ১০ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ও চার্টার্ড বিমানের যাতায়াতের উপর ২০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ, আইসক্রিমের উপর ৫ শতাংশ, মোবাইল ফোনের সিম/রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ পরিবর্তে ১০ শতাংশ মূসক নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ধূমপান বিরোধী রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিগারেটের নিম্নস্তরের দশ শলাকার (দশ পিছ) দাম ৩৭ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ, মধ্যম স্তরের দশ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ, উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ৯৩ ও ১২৩ টাকা যার সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ নিধারণ করা হয়েছে। হাতে তৈরী ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা যার সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ, ফিল্টার সংযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা যার সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর হওয়ায় বিড়ি ও সিগারেটের মত জর্দা ও গুলের উপরও শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দশ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা যার সম্পূরক শুল্ক ৫০ শতাংশ, দশ গ্রাম গুলের দাম ১৫টাকা যার সম্পূরক শুল্ক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইনটি কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে দুই বছরের জন্য আইনটি স্থগিত রাখা হয়। দুই বছরে পরে তবে এ আইনটি চলতি অর্থবছর বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে ইতোমধ্যেই ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এক মত হয়েছে। এমএস/আরকে

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি