ঢাকা, ২০১৯-০৫-২৬ ১১:০০:২৩, রবিবার

৩০ মে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেবেন মোদী

৩০ মে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেবেন মোদী

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ  (ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স)। আরও বেশি আসন নিয়েই দ্বিতীয়বার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী ।   ৩০ মে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিবেন নরেন্দ্র মোদী । আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে দিল্লিতে। বৈঠকে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী। সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সেই বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এ দিনের বৈঠকে কেন্দ্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আজকের বৈঠকে নেতা নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের অনুমতি চাইবেন নরেন্দ্র মোদি। অনুমতি পাওয়ার পর আগামী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, সাত দফায় অনুষ্ঠিত ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হয় গত ২৩ মে। এদিন নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ফল অনুযায়ী ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৫১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। নিরঙ্কুশ এই জয়ের পর শুক্রবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তথ্যসূত্র: নিউজ১৮  এমএইচ/
ভেনেজুয়েলায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৫

ভেনেজুয়েলায় একটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন বন্দি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভেনেজুয়েলার পোর্টটুগেসা রাজ্যের জেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন কারারক্ষী আহত হয়েছেন। তবে কী কারণে ওই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জানা গেছে, আকারিগুয়া নামের ওই কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ২৫০ জনের। কিন্তু বর্তমানে ওই কারাগারে ৫৪০ জন বন্দি ছিলেন। ভেনেজুয়েলার কারা পর্যবেক্ষক হামবার্তো প্রাডো বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এছাড়া কারাগারে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, ওই পুলিশ স্টেশন কারাগারের কিছু বন্দি বৃহস্পতিবার কয়েকজন দর্শনার্থীকে জিম্মি করে। পরে স্পেশাল ফোর্সেস (এফএইএস) পুলিশ ওই ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে কারাবন্দিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় কারাগারে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। গত বছরের মার্চ মাসে, একটি পুলিশ কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৮ জন বন্দি নিহত হয়। এর আগে ২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলে একটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: আরো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানি বাহিনীগুলোর অব্যাহত হুমকি মোকাবেলায় সেখানে পনেরোশো সেনা পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রও মোতায়েন করা হবে। কংগ্রেসকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই সেনা মোতায়েন তুলনামূলকভাবে স্বল্প। যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে। এ মাসে ওমান উপসাগরে কয়েকটি তেলের জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এরপর ওই এলাকায় বিমানবাহী রণতরী এবং বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শানাহান বলেছেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা চেয়ে কমান্ডারদের অনুরোধের তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এই পদক্ষেপ হলো ইরানিয়ান সেনাবাহিনী, আইআরজিসির অব্যাহত হুমকির মোকাবেলায় এই সেনারা একটি রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করবে। আইআরজিসি হলো ইরানি রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস, সামরিক বাহিনীর একটি এলিট শাখা, যাদের গত মাসে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শানাহান বলছেন, প্রকৌশল দলের অংশ হিসাবে সেখানে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ও নজরদারি সরঞ্জাম এবং বিমান মোতায়েন করা হবে। একটি ফাইটার এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও পাঠানো হবে। শানাহান বলেন, ‘এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়।’ এর আগে শুক্রবার সকালের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, `খুবই ছোট একটি বাহিনী` সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চাই এবং অতিরিক্ত সেনা এই নিরাপত্তায় কাজ করবে। তবে এর ফলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয় না যে, ইরান একটি যুদ্ধ চায়, এবং আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি, তারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় না।’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এই মাস থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে, যখন ইরানের কাছ থেকে কেনাকাটা করা দেশগুলোকে দেওয়া ছাড় তুলে নেয় ওয়াশিংটন। ইরানের তেল বিক্রি শূন্যতে নামিয়ে আনাই ওই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য, যা দেশটির সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। ছয় জাতির সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে গতবছর পুনরায় ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এখন ঘোষণা দিয়েছে, ওই চুক্তিতে দেওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি তারাও স্থগিত করতে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি তেলে ট্যাংকারে অন্তর্ঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরে সৌদি আরবের দুইটি তেল পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা করে সাময়িকভাবে তেলের পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যাদের সমর্থন করছে ইরান। ইরান এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল গিলডে এজন্য আইআরজিসিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

গান্ধী-নেহরু বলয়ের রাজনীতি কি এখানেই শেষ?

ভারতের  সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয় পেয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী নেহরু-গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকারী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান এই নেহরু-গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারের। রাহুল গান্ধীর প্রপিতামহ জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তার পিতামহী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর পিতা রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের তরুণতম প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বলা যেতো, ২০১৪ সালে কংগ্রেসের ফলাফলই ছিল সবচাইতে খারাপ। সেবার কংগ্রেস মাত্র ৪৪টি আসনে জিতেছিল, আর এবার জিতেছে ৫২টি আসনে। কিন্তু এবার একটা বাড়তি আঘাত হলো, উত্তর প্রদেশের আমেথিতে রাহুল গান্ধী হেরে গিয়ে পার্লামেন্টে তার নিজের আসনটিও খুইয়েছেন। অবশ্য আগামী পার্লামেন্টে রাহুল গান্ধীকে বসতে দেখা যাবে - কারণ কেরালার একটি আসন থেকেও তিনি নির্বাচন করেছিলেন এবং তাতে তিনি জিতেছেন। কিন্তু আমেথি`তে রাহুলের পরাজয়ের গুরুত্ব-তাৎপর্য অনেক। বিবিসির গীতা পান্ডে লিখছেন, রাহুল গান্ধীর পারিবারিক পূর্বসুরীদের চিরকালের পাকা আসন এই আমেথি । সেখান থেকে তার পিতামহী ইন্দিরা, বাবা রাজীব ও মা সোনিয়া সবাই জিতেছিলেন, এমনকি রাহুল নিজেও গত ১৫ বছর ধরে ওই আসনে জিতে আসছিলেন । তাই আমেথিতে রাহুলের হেরে যাওয়া এক বিরাট অপমান। শুধু তাই নয়, রাহুল হেরেছেন বিজেপি`র স্মৃতি ইরানীর কাছে - যিনি অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। মনে রাখা দরকার, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস জিতবে এমনটা খুব কম লোকই ভেবেছিলেন, কিন্তু তারা অন্তত এটুকু আশা করেছিলেন যে ২০১৪-র নির্বাচনের চাইতে এবার ভালো ফল করবে কংগ্রেস। সেটা হয় নি, এবং ঠিক এটাই পার্টির ভেতরে-বাইরে সবাইকে অবাক করেছে। রাহুল গান্ধী ফলাফলের পর বলেছেন, ভয় পাবার কিছু নেই, তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং শেষপর্যন্ত তারা বিজয়ী হবেন। কিন্তু লখনৌ শহরে কংগ্রেসের অফিসে যে ক`জন কর্মী টিভির পর্দায় তাদের দলের পর্যুদস্ত হবার খবর দেখছিলেন, তাদের কাছে সে সম্ভাবনা এক মরীচিকা বলেই মনে হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী বলছিলেন, ‘আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খুবই কমে গেছে, আমাদের প্রতিশ্রুতি লোকে বিশ্বাস করছে না। অন্যদিকে মোদী তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু লোকে তার কথা এখনো বিশ্বাস করছে।’ কংগ্রেসের এমন ফলাফলের পর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন উঠবে, উঠছেও। অনেক বিশ্লেষকই তার পদত্যাগ দাবি করছেন। সমস্যা হলো, আগের মতোই এসব দাবি আসছে পার্টির বাইরে থেকে। কংগ্রেসের নেতারা এসব দাবি কানে তুলবেন না, এটাই মনে হয়। দিল্লীর বাতাসে গুজব ভাসছে যে রাহুল গান্ধী নাকি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস রাজনীতিবিদ মণিশংকর আইয়ার বলেছেন, এ পরাজয়ের কারণ নেতৃত্ব নয়। ‘কংগ্রেস তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না, গান্ধী পদত্যাগ করতে চাইলেও তা মানবে না।‘ স্থানীয় অনেক নেতার কথায় রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের চাইতেও দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনে প্রচার-কৌশলে ভুলভ্রান্তিই ছিল কংগ্রেসের আসল সমস্যা। কংগ্রেসের বিশ্লেষকরা আড়ালে ঠিকই স্বীকার করেন যে নরেন্দ্র মোদীর জনসম্মোহনী ব্যক্তিত্বের সাথে লড়াইয়ে রাহুল বরাবরই পিছিয়ে পড়ছেন। তাদের মতে কংগ্রেসের সামনে এক বিরাট বাধা হলো ‘ব্র্যান্ড মোদী’। তারা বলেন, নরেন্দ্র মোদী তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু তার কথা এখনো লোকের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে পারে। আর রাহুল গান্ধীর সমালোচনা হচ্ছে যে তার কোন আকর্ষণী শক্তি নেই, লোকজনের সাথে তিনি সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন না, তিনি দিকভ্রান্ত এবং প্রায়ই নানা রকম রাজনৈতিক ভুল করে বসেন। মোদী নিজেই অনেকবার বলেছেন যে রাহুল গান্ধী এ অবস্থানে এসেছেন নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং পারিবারিক যোগাযোগের কারণে। কংগ্রেসের সদস্যরাও জনান্তিকে বলেন, রাহুল একজন সহজ-সরল মানুষ, প্রতিপক্ষের যে কৌশলী ধূর্ততা - তা তার নেই। নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে ভারতের তিন জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন ঠিকই - কিন্তু সে পরিবারের ঐতিহ্য এখন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। এ যুগের ভারতের উচ্চাভিলাষী তরুণদের কাছে জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধী আর প্রাসঙ্গিক নন, তাদের অবদান অনেক দূর অতীতের ইতিহাস মাত্র। একালের প্রজন্মের কাছে বরং কংগ্রেসের ২০০৪-২০১৪ শাসনকালের বিতর্ক-দুর্নীতিই প্রধান। এটা স্পষ্ট যে এই প্রজন্মের কাছে রাহুল গান্ধী তার ‘ভিশন’ বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কংগ্রেসের নেতারা তাদের এই বিপর্যয়ের জন্য রাহুল গান্ধীকে দোষ দিতে চান না। তবে একজন বলেছেন, রাহুল গান্ধীর একজন `অমিত শাহ` দরকার - যিনি তার জন্য নির্বাচনী বিজয়ের একটা কৌশল তৈরি করতে পারবেন। যেমনটা বিজেপির প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদীর জন্য করেছেন। আসলে, সাম্প্রতিক কালে রাহুল গান্ধীর ইমেজ আগের চাইতে খানিকটা উন্নত হচ্ছিল বলেই বলা যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে যখন তার বোন প্রিয়াংকা গান্ধী উত্তর প্রদেশের প্রচারণায় যোগ দেন - তখন অনেকে মনে করেছিলেন হয়তো এই দুই গান্ধী কিছু ঘটিয়ে ফেলতেও পারেন। অনেক দিন ধরেই কিছু কংগ্রেস সমর্থক বিশ্বাস করতেন যে রাহুল নয়, বরং প্রিয়াংকাই হচ্ছেন সেই `গান্ধী` - যিনি এ পরিবারের বংশানুক্রমিক রাজনীতিকে রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু প্রিয়াংকা গান্ধী সে দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। মনে করা হয় রাহুল ও প্রিয়াংকার সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। তাই এখন ভাইকে হটিয়ে দেবার কোন পরিকল্পনায় বোন অংশ নেবেন এমন সম্ভাবনা কম. তবে প্রিয়াংকা হয়তো আগামীতে একটা বৃহত্তর ভুমিকা নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত এটাই বলা হচ্ছে যে, কংগ্রেস পার্টির ভারতকে যেমন করে গড়তে চায় – ‘সেই ভিশন’ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু মোদী যেভাবে ভারতের রাজনৈতিক হৃৎস্পন্দন ধরতে পেরেছেন এবং তা প্রভাবিত করেছেন - কংগ্রেস সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের আত্মানুসন্ধান করতে হবে, কেন এটা ঘটলো তা বের করতে হবে, বলছেন দলটির নেতারা। তারা আরো বলছেন, নির্বাচনের ফল যতই খারাপ হোক, রাহুল গান্ধীর পাশে তারা থাকবেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শুধু রাহুল নয় আরো অনেক নেতাই তো হেরে গেছেন। সব নির্বাচনেই এটা হয়, অনেকে জেতেন, অনেকে হারেন। এরা আরো মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ১৯৮৪ সালে এই বিজেপিই মাত্র দু`টি আসন পেয়েছিল। ‘তারা সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখানে আসতে পারে, তাহলে আমরাও পারবো।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

কতটা সঙ্কটে পড়েছে কংগ্রেস?

ভারতের  সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল ভোটে জয়ের উল্টোদিকে রয়েছে কংগ্রেসের দ্বিতীয়বারের মতো ভরাডুবি। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার তারা একটানা দশ বছর বিরোধী আসনে বসতে চলেছে। এ নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা এতটাই কম, যে আনুষ্ঠানিক বিরোধী দলের স্বীকৃতিও তারা পাবে না। ভারতের রাজনীতিতে `দ্য গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি` বলা হয়ে থাকে যে দলটিকে, তারা মাত্রা ৫২টি আসন পেয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৪৪টি আসন। এরকম শোচনীয় ফলাফলের কারণ বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে দলের ভেতরে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘যে সব ইস্যুর ভিত্তিতে আমরা প্রচার চালিয়েছি, যেমন নোট বাতিল, জি এস টি, দুর্নীতি - এইসব ইস্যুগুলো আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যে ঠিকমতো পৌঁছিয়ে দিতে পারি নি, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে। আবার ব্যাপক ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচার আর জাতীয়তাবাদের ভাবনা দিয়ে যে মোহজাল বিজেপি সম্প্রসারিত করতে পেরেছে, সেই মোহজালটা আমরা ছিন্ন করতে পারি নি। এটা আমাদেরই দায়।’ বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল যখন স্পষ্ট, তখনই একটি সংবাদ সম্মেলনে এসে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী অভিনন্দন জানালেন নরেন্দ্র মোদীকে। অথচ এই রাহুল গান্ধীই কয়েকদিন আগে পর্যন্তও মোদীকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক জনসভায় স্লোগান তুলেছেন চৌকিদার চোর হ্যায়। বিজেপি আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের সোচ্চার হয়েছে তার দল। বিজেপি যখন উগ্র জাতীয়তাবাদ আর হিন্দুত্বের কথা বলেছে, তখন কংগ্রেস নিয়ে এসেছে বেকারত্ব, নোটবাতিল, কৃষকদের সমস্যার কথা -- যেগুলো ভারতের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা। কিন্তু ভোটের ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে কংগ্রেসের কথা খুব বেশী মানুষ কানেই তোলেনি। আনন্দবাজার পত্রিকার অবসরপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক রজত রায় বলছিলেন, এই নির্বাচনে হেরে গিয়ে কংগ্রেস সঙ্কটে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু দলটার সঙ্কট আরও অনেক গভীরে। ‘যখন থেকে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নানা রাজ্যে আঞ্চলিকদলগুলো তৈরী হতে শুরু করল, কংগ্রেসের সঙ্কটের শুরুটা তখন থেকেই। যে সর্বভারতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল কংগ্রেসের সেটা ধীরে ধীরে খর্ব হতে থাকল। পরে যদিও নানা আঞ্চলিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ায় গেছে তারা। একই সঙ্গে তারা অন্য আরেকটা বিপদেরও সম্মুখীন হয়েছে’ বলছিলেন রায়। তার কথায়, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকারী হিসাবে তাদের যে একটা সর্বভারতীয় আখ্যান বা ন্যারেটিভ ছিল, সেটাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল যখন বিজেপি হিন্দুত্ববাদ, দেশ আর জাতীয়তাবাদের মিশ্রণে একটা নতুন আখ্যান নিয়ে হাজির হল।’ ‘সেটাকে প্রতিহত করার প্রচেষ্টা যে কংগ্রেস খুব একটা করেছে, এমনটা চোখে পড়ে নি। তার ফলে বিজেপি-র নতুন আখ্যানটাই কিন্তু সংখ্যগরিষ্ঠ হিন্দুদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠল ধীরে ধীরে।’ কিন্তু বিজেপি-র বিরুদ্ধে তো কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ব্যাপক সরব হয়েছিলেন বিগত লোকসভার বিতর্কগুলোতে আর নির্বাচনী জনসভাগুলোতে। তাহলে কি গান্ধী পরিবারের কথায় সাধারণ মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারছেন না? দিল্লিতে কর্মরত সংবাদ প্রতিদিন কাগজের সিনিয়ার সংবাদিক নন্দিতা রায়ের কথায়, শুধু গান্ধী পরিবার নয়, আজকাল আর কোনও পরিবারের নামেই মানুষ ভোট দেন না। পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস ভোটারদের আর আকৃষ্ট করে না। ‘বৃহস্পতিবার যে ফল ঘোষণা হয়েছে, সেদিকে তাকালেই দেখবেন রাজনৈতিক পরিবারগুলোর উত্তরাধিকারীরা বেশীরভাগ জায়গাতেই কিন্তু হেরেছেন। মানুষের কাছে আসলে আর এই পারিবারিক ঐতিহ্যগুলো কোনও অর্থ বহন করে না।’ ‘গান্ধী পরিবার নিশ্চই স্বাধীনতা আন্দোলনে বা স্বাধীন ভারতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু যারা কম বয়সী ভোটার, তাদের কাছে তার কোনও মূল্যই তো নেই। তারা পারফরম্যান্স দেখে এখন ভোট দেয়,’ বলছিলেন নন্দিতা রায়। রজত রায়েরও বক্তব্য, ‘গান্ধী পরিবারের ঐতিহ্য ভাঙ্গিয়ে আর কতদিন ভোট চাওয়া যেতে পারে! কিন্তু তার মানে এই নয় যে গান্ধী পরিবার শেষ হয়ে গেল এই একটা ভোটেই। রাহুল গান্ধীর বয়স কম। তাই নিজেকে উন্নীত করার এখনও অনেক সময় আছে তার হাতে।’ শোচনীয় ফলাফলের পরেই প্রশ্ন উঠেছে যে রাহুল গান্ধী কি পদত্যাগ করবেন কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে? কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের কথায়, ‘তাকে সরিয়ে দিয়ে নেতৃত্বে আনা যেতে পারে, এমন একটি নামও তো আমি ভেবে পাই নি। কে নেতৃত্ব দেবে দলকে?’ সভাপতি পদ থেকে এখনই রাহুল গান্ধী যে সরছেন না, সেটা মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু তার নেতৃত্বে কংগ্রেস আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বিশ্ব নেতৃত্বের চোখ এখন মোদির দিকে

টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ইতিহাসে মোদির আগে মাত্র দুজন টানা প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। একজন কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু অন্যজন ইন্দিরা গান্ধী। দীর্ঘ সময় পর ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নরেদ্র মোদি টানা দ্বিতীয়বার শপথ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ২৯ মে শপথ নিতে পারেন মোদি। আর নতুন প্রধানমন্ত্রীত্ব নেওয়ার জন্য শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে। তার নতুন সরকার গঠন করা নিয়ে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছেন নরেন্দ্র মোদি। নতুন সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে তিনি বেশ ব্যস্ত বলে জানা গেছে। সাত দফা ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলে বিজেপি ভারতের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা জয় পায়। উল্লাসে ফেটে পড়ে ভারতবাসী। ফলে, মোদির শপথ এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা না হলেও ভারতীয় গণমাধ্যমের ইঙ্গিত আগামী ২৯ মে শপথ নিতে পারেন মোদি ও তার মন্ত্রিসভা। এদিকে মোদির শপথ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পূতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতারা। টাইমস নাউ নিউজের বরাত দিয়ে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। ১৭তম লোকসভার এ নির্বাচন সাত দফায় অনুষ্ঠিত হয়। ১১ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু ১৯ মে শেষ হয়। ২৩ মে ভোট গণনা শুরু হয়। সময় যত গড়িয়েছে বিজেপি শিবিরে জয়ের আনন্দ ততোটাই ছড়িয়েছে। শেষ হাসিটাও হেসেছে তাই মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি।  ২০১৪ সালের মে মাসে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। তবে এবারো তিনি বিশ্ব নেতাদের শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠাবেন। টাইমস নাউ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল ম্যাঁক্রনকে ওই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে বিজেপি। বিজয়ের পর একের পর এক বিশ্বনেতারাও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান,বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে কাজ করার কথাও তারা বলেছেন বার্তায়।  ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরই যুক্তরাজ্যকে টপকে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে ভারত, যাদের রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জরুরি এক বিশাল তরুণ কর্মশক্তি। শুধু গত বছরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় কোম্পানিগুলোয় ৪৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দেশটিতে অনেক নতুন নতুন সড়ক তৈরি রয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়ন, গরিবদের জন্য সস্তার রান্নার গ্যাস, গ্রামে পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি, একটি একক বিক্রয় কর, প্রতিশ্রুতিশীল একটি স্বাস্থ্য বীমা নীতি তৈরির মতো অনেক কাজ হয়েছে।  এছাড়া  বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে আস্তে আস্তে চীনের পাল্টা শক্তি হয়ে উঠছে ভারত,বলছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স। দ্বিতীয় মেয়াদেও যদি মোদি ভারতীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে হয়তো দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক জোট এবং বন্ধুত্বের পালাবদল দেখা যেতে পারে। যার কারনে বিশ্ব নেতাদের চোখ এখন ভারতের দিকে। মোদির দিকেই লক্ষ্য থাকবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের। মোদির এমন বড় জয়ের ব্যাপারে বলা হচ্ছে এবার মূলত বামপন্থীদের ভোটের একটা বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে পারার জন্য বিজেপি এত ভালো ফল করেছে বলে মনে করেন মমতা ব্যানার্জী। ‘কমরেডরা এবার দলে দলে পদ্মফুলে ভোট দিয়েছে’, অভিযোগ তৃণমূল নেতা পার্থ চ্যাটার্জীর। বামফ্রন্ট একটিও আসন না পাওয়ার দিকে উনার ইঙ্গিত।  বিজেপি নেতা ও কৌঁসুলি সুনীল দেওধর অবশ্য বললেন, বাম শুধু নয়, তৃণমূলেরও একটি অংশ তাদের দিকে ঝুঁকেছে মমতার ‘অপশাসনের’ ফলে। কেআই/

প্রথম বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মুসলমান!

তিন বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অবর্তমানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। তিনি যদি তেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত হন, তবে তিনিই হবেন দেশটির প্রথম কোনো মুসলমান প্রধানমন্ত্রী। বৃটেনের সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় উঠে এসেছে ৪৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদের নাম। ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন সম্পর্কিত সরকারি নীতি নিয়ে কেলেঙ্কারির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড পদত্যাগ করলে পরদিনই তার জায়গায় নিয়োগ পান সাজিদ জাভিদ। তারপর ক্যারিবীয় অভিবাসী শিশুদের ওপর একটি কেলেঙ্কারি ভালোভাবে সামাল দিয়ে ৪৯ বছর বয়সী এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এক পাকিস্তানি মুসলমান অভিবাসীর ঘরে ল্যানক্যাশায়ারের রোচড্যালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সাজিদ জাভিদের বাবা ১৯৬০ এর দশকে পাকিস্তান থেকে এদেশে এসে প্রথমে কাপড়ের কারখানায় শ্রমিক হন। পরে বাস চালাতেন। এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানি অভিবাসী বাস-চালকের সন্তান সাজিদ জাভিদ একটি আধুনিক, বহু-সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক ব্রিটেনের প্রতিচ্ছবি। অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক এ বিনিয়োগ ব্যাংকার। সাজিদ জাভিদ ছাড়াও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছেন বরিস জনসন, জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসাম। টিআই/এসএইচ/

মোদীর শপথে থাকতে পারেন পুতিন-ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতারা

ভারতের ইতিহাসে মোদীর আগে মাত্র দু’জন টানা প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। একজন কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু অন্যজন ইন্দিরা গান্ধী। দীর্ঘ সময় পর ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নরেদ্র মোদী টানা দ্বিতীয়বার শপথ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ২৯ মে শপথ নিতে পারেন মোদী। সাতদফা ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলে বিজেপি ভারতের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা জয় পায়। উল্লাসে ফেটে পড়ে ভারতবাসী। ফলে, মোদীর শপথ এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা না হলেও, ভারতীয় গণমাধ্যমের ইঙ্গিত আগামী ২৯ মে শপথ নিতে পারেন মোদী ও তার মন্ত্রীসভা। এদিকে মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পূতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতারা। টাইমস নাউ নিউজের বরাত দিয়ে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। ১৭ তম লোকসভার এ নির্বাচন সাতদফায় অনুষ্ঠিত হয়। ১১ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু ১৯ মে শেষ হয়। ২৩ মে ভোট গণনা শুরু হয়। নির্বাচনের আগে ও পরে যেসকল জরিপ হয়েছিল, প্রত্যেকটি জরিপে বিজেপির ক্ষমতায় আসার বার্তা দিয়েছিল বুথ ফেরত সংস্থাগুলা। তার ফল ভারতবাসী দেখতে পায় বৃহস্পতিবার ফল গণনা শুরু হলে। সময় যত গড়িয়েছে বিজেপি শিবিরে জয়ের আনন্দ ততোটাই ছড়িয়েছে।  শেষ হাসিটাও হেসেছে তাই মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টি। দিন নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ফল অনুযায়ী ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৫১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট এগিয়ে রয়েছে  ৯১টি আসনে। এরইমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একের পর এক বিশ্বনেতাও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদী। তবে এবারে তিনি বিশ্ব নেতাদের শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠাবেন। টাইমস নাউ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রনকে ওই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে বিজেপি। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে বিজেপি পেয়েছে ৩০৩ আসন। বিশাল এই জয়ের পর শুক্রবার প্রবীন বিজেপি নেতা এলকে আদভানির বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছেন মোদী। টাইমস নাউ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৮ মে বারানসিতে নিজের নির্বাচনী আসনের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে যাবেন মোদি। সেখান থেকে ফিরে ২৯ মে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন মোদী। আই/কেআই   

মোদির পুনরায় বিজয় বিশ্বের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে

ভারতে দ্বিতীয়বারের মত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিতা অর্জন করলো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। আর মোদির দ্বিতীয় দফার মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হবে। তখন তার দেশটি চীনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশে পরিণত হবে, যে দেশটি হবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। তার দলের মূল নীতিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ থাকলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতৃত্ব দেবেন মোদি, যে দেশটি কাশ্মীর আর দক্ষিণ চীন সাগরের মতো দুইটি উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে। তিনি এমন এক সময় ভারতকে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব দিতে চলেছেন, যখন ভারতের সামনে অনেক সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। তার এই বিজয় বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে, এখানে এমন পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হলো- ভারতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরই যুক্তরাজ্যকে টপকে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে ভারত, যাদের রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জরুরি এক বিশাল তরুণ কর্মশক্তি। শুধু গত বছরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় কোম্পানিগুলোয় ৪৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দেশটিতে অনেক নতুন নতুন সড়ক তৈরি রয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়ন, গরীবদের জন্য সস্তার রান্নার গ্যাস, গ্রামে পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি, একটি একক বিক্রয় কর, প্রতিশ্রুতিশীল একটি স্বাস্থ্য বীমা নীতি তৈরির মতো অনেক কাজ হয়েছে। তবে শ্লথগতির চাহিদার কারণে এখনও দেশটিতে অনেক অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে কয়েক দশক ধরে চলা বেকারত্ব। বাড়তে থাকা অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে দেশটিকে প্রতিমাসে কয়েক লাখ নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, যাতে ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। গত মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির সরকার এটি করতে পারেনি, কিন্তু এবার তাদের তা করতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই নতুন চাকরি তৈরি করতে গিয়ে ভারতকে কি অর্থনৈতিক সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে? জাতীয়তাবাদের লড়াই বিশ্বের অনেক দেশেই এখন জাতীয়তাবাদের শ্লোগান শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’, পুতিনের ‘মেক রাশিয়াকে গ্রেট এগেইন’, শী জিনপিংয়ের ‘চীনের মানুষের নতুন করে জেগে ওঠা’র মতো শ্লোগান রয়েছে। মোদিও তার নির্বাচনের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাম ও এবং তার রাজত্বের হারিয়ে যাওয়া গৌরবের শ্লোগান ব্যবহার করেছেন। মোদি বলেছেন, ‘রাম ছিলেন একজন আদর্শ রাজা এবং তার শাসন ছিল আদর্শ ব্যবস্থা’, ‘রাম রাজ্য ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠাতা জনক এবং বিজেপি সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে’ ইত্যাদি। যদিও বিজেপি নেতারা বরাবরই বলে আসছেন যে, তারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নন। ‘তাদের দল ১৩০ কোটি ভারতীয়ের জন্যই, ধর্ম নিয়ে তারা কোনও বিভেদ করেন না’, বলেছেন বিজেপি মুখপাত্র নালিন কোহলি। এখন বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসছে আর যারা হিন্দু জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের দাবি করছেন, তাদের পোস্টারে দেখা যাচ্ছে রামের ছবি। গত নভেম্বরে বিবিসির গবেষণায় দেখা গেছে যে, এ রকম একটি জাতীয়তাবাদের পরিচয় তৈরির চেষ্টায় মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হয়েছে, ডানপন্থী নেটওয়ার্কে মিথ্যা গল্প তৈরি করা হয়েছে আর সামাজিক মাধ্যমে এ রকম একটি বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শক্তিমান ব্যক্তিত্বের রাজনীতি আর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব নরেন্দ্র মোদিকে নিজেদের ম্যানিফেস্টোতে শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি, বিশেষ করে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাটিতে অভিযান চালানোর পর। আগের কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কমে গেলেও, ওই হামলার পর তার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে। তার সমর্থকরা বরাবরই, তাদের ভাষায় নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরে তৃণমূল থেকে নিজের চেষ্টায় তার উঠে আসার বিষয়কে তুলে ধরেছেন। সাধারণ ভারতীয়দের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে যে, তিনি একজন একনিষ্ঠ, কঠোর পরিশ্রমী আর চৌকস ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে ভারত দুইবার পাকিস্তানকে মোকাবেলা করেছে আর একবার চীনকে- যারা এই অঞ্চলের অপর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে আস্তে আস্তে চীনের পাল্টা শক্তি হয়ে উঠছে ভারত, বলছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স। দ্বিতীয় মেয়াদেও যদি মোদি ভারতীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে হয়তো দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক জোট এবং বন্ধুত্বের পালাবদল দেখা যেতে পারে। ডানপন্থীদের উত্থান ও জনপ্রিয়তা জনপ্রিয় শ্লোগান এবং ধারণা নিয়ে ডানপন্থী রাজনীতি করছে বিজেপি। যখন অভিবাসীদের ‘পশু’ বলে বর্ণনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ অবৈধ অভিবাসীদের বর্ণনা করেছেন ‘তেলাপোকা’ বলে, এবং তাদের বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি হিন্দু আর বুদ্ধ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন। উত্তর প্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, কংগ্রেস সবুজ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। (সবুজ বলতে ইসলামকে বর্ণনা করা হচ্ছে।) গত পাঁচ বছরে বিজেপির শাসনামলে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক সবচেয়ে অবনতি হয়েছে এবং দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হয়তো নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবেও বিভেদের এসব শ্লোগান নেওয়া হতে পারে, কিন্তু সেখান থেকে ফিরে আসাটা কঠিন। আর বাস্তবতা হলো, জনপ্রিয় নেতারা সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সঙ্গেই থাকেন। ফলে প্রশ্ন হলো, তারা কি আসলে কখনও সেখান থেকে ফিরতে চাইবেন কি না? জলবায়ু পরিবর্তন গ্রিনপিস এন্ড অ্যানালাইসিসের মার্চ ২০১৯ সালের রিপোর্টে বায়ু দূষণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ৩০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ২২তম। যদিও চীনের জনসংখ্যাকে ছাড়াতে ভারতের আরও পাঁচবছর সময় লাগবে, তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে দিয়েছে, সামনের বছর নাগাদ ভারতের পানি, বাতাস, মাটি এবং বনের ওপর চাপের দিক থেকে দেশটি বিশ্বের শীর্ষে উঠে যাবে। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, ঘন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আর লাখ লাখ মানুষের দরিদ্রসীমার নীচে থাকার বিষয়টি নরেন্দ্র মোদিকে কঠিন সংকটের মুখে ফেলতে পারে। অর্থনীতির যে কোনও ধরণের শ্লথগতির ফলে চাকরি বাজারে মন্দা নামবে। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশটির প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলবে, যা পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে এসব কিছু সত্ত্বেও প্যারিস চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের হার আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি একে//

ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে বামেরা!

ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিতা অর্জন করলো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। আর রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসের জন্য এই ফল বিরাট এক ধাক্কা। অন্যদিকে, ভারতে সংসদীয় রাজনীতিকে আপন করে নিতে বামদের তাত্ত্বিক দ্বিধা ছিল। কিন্তু এই গণতন্ত্রে একবার পা রাখার পর সে দেশে কখনও যা হয়নি তাই এবার দেখেছে ভারত। গোটা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে যাচ্ছে বামেরা! বাংলায় সব সমীক্ষার ইঙ্গিত সত্য প্রমাণিত করে হাতে থাকা দুটি আসনও হারিয়েছে সিপিএম। গত বছর ত্রিপুরায় ক্ষমতা হারানোর পর সেখানে লড়াই যথেষ্ট কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেই ধারা বজায় রেখেই উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে জোড়া আসনই সিপিএমের হাতছাড়া। আর এক খন্ড দ্বীপের মতো আশার বাতি জ্বলে ছিল কেরালায়। গোটা দেশ যখন নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছে, মালাবার উপকূলই একমাত্র সম্পূর্ণ উল্টো দিকে গিয়ে বিজেপি বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু কেরালায় মোদিবিরোধী হাওয়ার ফায়দা বামেরা লুটতে পারেননি, ভোট গেছে কংগ্রেসের বাক্সে। ওই তিন রাজ্যের বাইরে বামদের দিকে আর যেখানে সবার নজর ছিল, তার নাম বিহারের বেগুসরাই। এখানে মোদি বিরোধিতার মুখ হয়ে সিপিআই প্রার্থী ছিলেন কানহাইয়া কুমার। কিন্তু গতকাল ভোট গণনার পর দেখা গেল বেগুসরাইবাসী তরুণ বাম নেতার প্রতি সদয় হননি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন? আসলে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর আমলেও পার্লামেন্টে বামদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তারা এভাবে অপ্রাসঙ্গিকতার অন্ধকারে তলিয়ে গেল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বাম নেতারা বলছেন, তীব্র মেরুকরণের ভোটে তারা এবার পায়ের তলায় মাটিই খুঁজে পাননি। সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘুর ধর্মীয় বিভাজনে এবারের ভোট ভাগ হয়েছে বলে রাজনৈতিক শিবিরের প্রাথমিক ধারণা। বাম নেতাদের বিশ্লেষণ হচ্ছে-মোদিকে হটিয়ে তারা কেন্দ্রে সরকার গড়তে পারবেন না এমন ধারণা থেকেই মানুষ তাদের দিকে ফিরে তাকায়নি। বাংলা কিংবা কেরালা যেটাই হোক সংখ্যালঘু মানুষের সমর্থন তাদের দিকে আসেনি। দিল্লিতে মোদিকে ঠেকানোর আকাংখা থেকে কেরালা ক্ষমতাসীন বামের পক্ষে না গিয়ে প্রায় ৪৪ ভাগ সংখ্যালঘু ভোটই কংগ্রেসের বাক্সে পড়েছে। বাংলায় বামদের অবস্থা আরও খারাপ। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বিজেপির ভোট এবার বেড়ে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ভাগ। বামদের ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ ভাগে। অনেকের ধারণা, বামদের ২০ ভাগ ভোটের পুরোটাই যোগ হয়েছে বিজেপির লাভের খাতায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্লোগান শুরু হয়েছে, ‘বামের ভোট রামে’। পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির সমীকরণে বামফ্রন্ট এবং বিজেপি দুই পক্ষেরই অবস্থান তৃণমূল বিরোধী। বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে এই দুই পক্ষের ভোট কেন মিশে গেল তার তিনটি কারণ উঠেছে রাজনৈতিক শিবিরের প্রাথমিক আলোচনায়। প্রথমত, দেশে নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রত্যাবর্তনকে ঠেকানোর চেয়েও রাজ্যে তৃণমূলের হাত থেকে মুক্তি পাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বাম কর্মী সমর্থকরা। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছিল বাম শিবিরের বড় অংশে। কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলে কেন্দ্রে বিকল্প সরকার গড়ার যে বার্তা দেওয়া যেতো তা সম্ভব হয়নি। এই হতাশাই বহু বাম সমর্থককে পদ্মমুখী করে তুলেছে। আর তৃতীয়ত, পরপর নির্বাচনে ব্যর্থ বাম নেতৃত্বের কোনও নিয়ন্ত্রণ কর্মী-সমর্থকদের ওপর কাজ করেনি। সূত্র: আনন্দবাজার

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি