ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ১:৪৯:১০, বুধবার

২০৩৩-এ মঙ্গল যাত্রা? তৈরি হচ্ছে নাসা

২০৩৩-এ মঙ্গল যাত্রা? তৈরি হচ্ছে নাসা

নিল আর্মস্ট্রং চাঁদে প্রথম পা রেখেছিলেন ১৯৬৯ সালে। এর পরে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর কেটে গেছে। পুরনো সেই মুহূর্ত ফিরিয়ে আনতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসাও। ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি নির্দেশিকায় সই করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দেশিকার বক্তব্য ছিল এ রকম, চাঁদে ফের মানুষ পাঠানো হোক। এবং তার পরের গন্তব্য হবে মঙ্গল গ্রহ। নাসা জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে ফের চাঁদে পাড়ি দেবেন মহাকাশচারীরা। আর মঙ্গলে ২০৩৩ সালে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩৩ সালের মধ্যে লালগ্রহে পা ফেলা খুবই কঠিন। এক প্রকার অসাধ্য সাধন করতে হবে বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি একটি সম্মেলনে নাসার অন্যতম কর্তা জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেন, ‘‘নতুন চন্দ্রাভিযানে আমাদের দক্ষতা, ক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। সেখানে সফল হলে পরবর্তী লক্ষ্য মঙ্গল।’’ হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারের অন্যতম বিশেষজ্ঞ রবার্ট হাওয়ার্ডের মতে, বিষয়টি বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তিগত ভাবে যত না জটিল, তার থেকেও বেশি চিন্তার বিশাল অঙ্কের খরচ। তা ছাড়া রাজনৈতিক বাধার মুখেও পড়তে হতে পারে। দেশের সরকার এমন অভিযানে কতটা ইচ্ছুক, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘‘বহু মানুষ চান সেই ‘অ্যাপেলো মোমেন্ট’-এর স্বাদ নিতে। কিন্তু তার জন্য কেনেডির মতো প্রেসিডেন্ট-ও চাই। দেশের মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।’’ ‘‘তবে ২০২৪ নয়, ২০২৭ সাল তো হয়েই যাবে,’’ বলছেন হাওয়ার্ড। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন— মহাকাশযানের নকশা তৈরি, তার পর যান নির্মাণ, বিভিন্ন পরীক্ষা, এ সব তো রয়েইছে। চাঁদে পাড়ি দেওয়ার পরে পৌঁছতে লাগবে তিন দিন। কিন্তু মঙ্গলে পৌঁছতে কমপক্ষে ৬ মাস। গোটা অভিযান শেষ করতে দু’বছরেরও বেশি। ২৬ মাস অন্তর মঙ্গল ও পৃথিবী সবচেয়ে কাছে আসে। মঙ্গলে পাড়ি দেওয়ার জন্য ওই সময়টাই সেরা। বিজ্ঞানীদের একাংশ অবশ্য খরচের থেকে অন্য বিষয়ে বেশি চিন্তিত। নাসার বিজ্ঞানী জুলি রবিনসন বলেন, ‘‘দ্বিতীয় চিন্তা হচ্ছে, খাবার। অত দিনের জন্য খাবার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’’ তা ছাড়া কেউ অসুস্থ হলে নিজেদের দেখভাল, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া জানতে হবে। মহাকাশচারীদের পোশাকও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে বাঁচার মতো পোশাক চাই। এবং সর্বোপরি, টানা দু’বছর জনমানব-বর্জিত হয়ে থাকা। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/
টাওয়ার স্থাপনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মোস্তাফা জব্বার

দেশে ফাইভ-জি চালু এবং টাওয়ার স্থাপনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে টাওয়ারের র‌্যাডিয়েশনের সর্বনিম্ন মান ২ দশমিক ৭ হাজার, সেখানে আমাদের টাওয়ারগুলোর বিকিরণের মান দশমিক ৫ বা দশমিক ৬। অথচ এ টাওয়ার স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৮ মে) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যারা অপারেটর আছে তাদের বোধ হয় দিনক্ষণ গুণতে হবে কোন দিন ভয়েস কলের দিন শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ মানুষ ভয়েস কল না করে ডাটা দিয়ে কল করবে। এটি পরিপূর্ণরূপে আইওটি নির্ভর প্রযুক্তিতে সারাবিশ্বে বিকশিত হবে, তার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আমাদের অপারেটরদের বিশাল একটি বিষয় হিসেবে কাজ করবে। ‘ফাইভ-জির আবির্ভাবের পরে প্রচলিত ব্রডব্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা থাকবে বা তারা কি ব্যবসা করার প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাবে? ফাইভ-জি নির্ভর যে প্রযুক্তির যুগে পৌঁছেছি এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক সোসাইটি, বক্ল চেইনের কথা বলি। এগুলো বলার বড় প্ল্যাটফর্ম চতুর্থ শিল্প বিপ্লব।’ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে সব দেশে এক রকম হবে তা কিন্তু নয়। শিল্পোন্নত দেশে মানুষ ছাড়া কাজ করার জন্য চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির, আর আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মানবসম্পদকে ব্যবহার করা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেন আমরা শিল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেই মান অর্জন করতে পারবো। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য ফাইভ-জি নিয়ে সম্প্রতি কিছু কিছু বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বলার চেষ্টা করা হয়েছে- আমি যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করি তাহলে নাকি আমার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, আমি যদি টাওয়ার বসাই সেখানে নাকি বন-জঙ্গল ধংস হয়ে যায়, পাখির ডিম নাকি ফুটতে পারে না। যদি ফাইভ-জি আনি তাহলে পাখি সব মরে যাবে। অনুষ্ঠান মঞ্চে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অন্যরা‘এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে- বিভ্রান্তিগুলোর পাশাপাশি তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন যে এগুলো আসলে প্রযুক্তিকে ঠেকিয়ে রাখার এক ধরনের অপচেষ্টা।’ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, যখন লাউয়াছড়াতে টেলিটকের টাওয়ার তৈরিতে বাধা দেওয়া হয়, তখন বিটিআরসির কাছে জানতে চেয়েছি আমাকে প্রকৃত চিত্র দেখান, যে আমরা সত্যিকার অর্থে যে প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করছি তাতে মানুষ বা বণ্যপ্রাণি কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় কি-না? ‘বিটিআরসি আমাকে স্পস্ট দেখিয়েছে, যেখানে পৃথিবীতে র‌্যাডিয়েশন মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড ২ দশমিক ৭ হাজার, সেখানে আমাদের টাওয়ারগুলোর বিকিরণের অবস্থা দশমিক ৫ বা দশমিক ৬ এর উপরে যায় না। অথচ আমাদের ঠেকানো হয় যেন আমরা প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে না পারি।’ বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মেনুফেস্টোতে বলা আছে, আমরা ২০২১-২৩ সালের সালে ফাইভ-জির যাত্রা শুরু করবো। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পলক বলেন, দেশে ১৫ কোটি সিম ও ১০ কোটি গ্রাহকের প্রথম এবং প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, কোয়ালিটি অব সার্ভিস। অপারেটরদের বিরুদ্ধে একটাই অভিযোগ। যদিও তারা অনেক কাজ করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য। কিন্তু যখন কলড্রপ হয়, ফোরজি থ্রিজিতে নেমে যায়, থ্রিজি টুজিতে নেমে যায় তখন আমাদের গ্রাহকদের বিরূপ মন্তব্য সরকারকে শুনতে হয়। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, মান নিয়ে কোনো কম্প্রেমাইজ করতে চাই না। কিন্তু হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- মান নির্ধারণের ব্যাপারে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ফাইভ-জি দিতে পারবো বলে আশা রাখি। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। এছাড়া রবি, হুয়াওয়ে, নোকিয়া এবং আইএসপিএবি’র পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্তাপন করা হয়। আরকে//

দেশেই তৈরি হবে ৫জি সমর্থনযোগ্য হ্যান্ডসেট ডিভাইস: পলক

৫জি সমর্থনযোগ্য হ্যান্ডসেট ডিভাইস দেশেই তৈরি করার জন্য নীতিগত সব সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, দেশি ডিভাইস দিয়ে ৫জি সেবা দিলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়ে এদেশে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি স্থাপন করবে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৮ মে) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন পলক। ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাসের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে নোকিয়া, হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ওয়াং শিউ জেরি এবং নোকিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক রিজিউনের গর্ভনমেন্ট রিলেশন বিভাগের প্রধান গিয়ম মাসকট প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান দু’টি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, দেখলাম, তারা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছে। আমরা ৫জি আমদানি করতে চাই না। এখানে ৫জি এনাবল মোবাইল সেট উৎপাদন করুক। হুয়াওয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রেজেন্টেশনে হুয়াওয়ে তাদের অনেক সাফল্য বললো। কিন্তু বাংলাদেশে হুয়াওয়ে তাদের এতো মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলারের বিজনেস করছে, তাদের ছোট আরএনডি সেন্টার কি বাংলাদেশে করতে পারে না? বাংলাদেশে কি করবে তারা, তারা শুধু ব্যবসা করে নিয়ে চলে যাবে? স্যামসাংয়ের চেয়ে বেশি মার্কেট শেয়ার হুয়াওয়ের। তাদের টেলিকমিউনেকশন নেটওয়ার্ক ইক্যুপমেন্ট, হ্যান্ডসেটসহ অন্যান্য প্রজেক্ট আছে। স্যামসাং যদি এখানে আরএনডি সেন্টার করে, সেখানে যদি ৫০০ ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে পারে সাফল্যের সঙ্গে; তাহলে হুয়াওয়ে কেন বাংলাদেশে আরএনডি সেন্টার স্থাপন করবে না? শুধু প্রেজেন্টেশন দিয়ে বড় বড় কথা বললে হবে না! বাংলাদেশে কন্ট্রিবিউট করতে হবে। তিনি বলেন, মোবাইল হ্যান্ডসেটসহ দেশীয় ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে ৫জি সমর্থনযোগ্য হ্যান্ডসেট বানাবে, এজন্য যতো পলিসি সাপোর্ট আমরা দেবো। বিদেশি কোম্পানিগুলোর উপর প্রেসার পড়ে তারা যাতে বাধ্য হয়ে আরএনডি সেন্টার এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট এখানে স্থাপন করে। প্রযুক্তি-দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নিয়ে পলক বলেন, পদ্মাসেতু পার হয়ে ডান পাশে ৭০ একর জায়গায় ‘শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট ফর ফ্রন্টিটেয়ার টেকনোলজি’ স্থাপন করবো; যেখানে আগামী দিনে যারা ভবিষৎ বিশ্বের প্রযুক্তির নেতৃত্ব দেবে, তারা সেখান থেকে তৈরি হবে। আরকে//

কাল থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই-১ মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণের বর্ষপূর্তি উদযাপনের পর আগামীকাল থেকে বাণিজ্যিক এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে বলে জানা গেছে। বিসিএসসিএল-এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, কয়েকমাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সঙ্গে অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষর করবো। বিএস-১ থেকে সেবা পেতে চ্যানেলগুলোর কোন রকম আর্থ স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজন হবে না। টেলিভিশন চ্যানেলের আর্থ স্টেশন স্থাপন অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় বিএস-১ এর ভূ-কেন্দ্রের সঙ্গে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করছে বিসিএসসিএল। গত বছর ১২ মে বিশ্বের ৫৭ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ) চ্যাম্পিয়ানশিপ ম্যাচটি পরীক্ষামূলক সম্প্রচার করে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চ্যানেলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার করা হয়। একই সঙ্গে আগামীকাল দেশের প্রথম ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) সেবারও উদ্বোধন করা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ‘আকাশ’ নামের এই সেবাটি বাজারে আনছে। বিসিএসসিএল-এর চেয়ারম্যান জানান, বেক্সিমকো ‘আকাশ’ ডিটিএইচ-এর মানসম্পন্ন সেবার জন্য বিএস-১ এর ৫ ট্রান্সপন্ডারস বরাদ্দ নিয়েছে। এছাড়াও ব্যাংকের এটিএম সেবা প্রদানের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যাংক বিএস-১ এর ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এটিএম সেবা প্রদানে বিএস-১ এর ব্যান্ডউইথ নিয়েছে। আরকে//

বন্ধ হচ্ছে ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং অ্যাপ ‘ডিরেক্ট’

ফেসবুকের মালিকানাধীন ফটো শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং অ্যাপ ‘ডিরেক্ট’ বন্ধ হচ্ছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে মূলত ইনস্টাগ্রামে মেসেজ আদান-প্রদান করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে এখন সরাসরি মেসেজিংয়ের সুবিধা থাকায় ‘ডিরেক্ট’ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যম গেজেটস নাউ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘ডিরেক্ট’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অবশ্য এতে গ্রাহকদের চিন্তিত না হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, ডিরেক্টের সব মেসেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টাগ্রামে স্থানান্তরিত হবে। ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ জানায়, সামনের দিনগুলোতে ডিরেক্ট অ্যাপে তারা আর কোনও ধরনের সাপোর্ট দেবে না। গ্রাহকদের কনভার্সেশনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টাগ্রামে চলে যাবে। ইনস্টাগ্রামে মেসেজ আদান-প্রদানের জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ‘ডিরেক্ট’ চালু হয়। এতে স্ন্যাপচ্যাটের মতো অনেক ফিল্টার আছে, যা ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম গ্রাহকদের কাছে মেসেজ পাঠানো যায়। অ্যাপটি প্রথমে ছয়টি দেশে চালু করা হয়। এগুলো হলো চিলি, ইসরায়েল, ইতালি, পর্তুগাল, তুরস্ক এবং উরুগুয়ে। পরে বিশ্বজুড়ে এটা চালুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আআ//

ভূমিকম্প, আগুন রক্ষায় প্রযুক্তি আবিষ্কার কাজী এমরানের

ভূমিকম্প, আগুন কিংবা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে চুরি ডাকাতির কবল থেকে রক্ষায় নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কুমিল্লার কাজী এমরান হোসেন জুমন। তার দাবি আবিস্কৃত প্রযুক্তিগুলো কাজে লাগালে আগুন ও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আগেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কাজী এমরান হোসেন জুমন। ছেলেবেলা থেকেই ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি নিয়ে গবেষণা করার শখ তার। আর এজন্য প্রায়ই ভাঙারির দোকান থেকে পুরনো যন্ত্রপাতি কিনে দেখতো সে। এই শখ থেকেই সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীতে। ২০১০ সালে ঢাকার নিমতলী ও তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টে-এ আগুনে পুড়ে মানুষের মৃত্যু তাকে ভাবিয়ে তোলে। আগুন থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে একটি যন্ত্রের কাঠামো দাঁড় করায় সে। এ বিষয়ে এমরান জানান, তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি ‘ধোঁয়া বা উত্তাপ সৃষ্টি হলে সয়ংক্রিয় ভাবে- বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিবে, জোরে অ্যালার্ম বাজবে, এরপর গ্যাস বের হয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করবে। ২০১৫ সালে জুমন এই ডিভাইসটি তৈরি করেন। জুমনের এই সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। তার নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কারে খুশি অফিসের কর্মকর্তারাও। সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। এ ধরনের নতুন নতুন উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে উৎসাহিত করার দাবী স্থানীয়দের। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/  

মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ কি?

মহাকর্ষের বিশেষ উদাহরণ হলো মধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ। যার কারণে ভূপৃষ্ঠের উপরস্থ সকল বস্তু ভূকেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। মধ্যাকর্ষণের প্রভাবেই উপরিস্থিত বা ঝুলন্ত বস্তু মুক্ত হলে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ভরসম্পন্ন বস্তুসমূহে ওজন অনুভূত হয়। একটি বস্তুর ভর যত বেশি হয়, মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে তার ওজনও তত বেশি। বিজ্ঞানী নিউটন সর্বপ্রথম মহাকর্ষ বলের গাণিতিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। আধুনিক পদার্থবিদ্যায় মহাকর্ষ সবচেয়ে সঠিকভাবে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব (আইনস্টাইন দ্বারা প্রস্তাবিত) দ্বারা বর্ণনা করা হয়। আইনস্টাইনের মতে স্থান-কালের বক্রতার কারণেই মহাকর্ষ বল সৃষ্টি হয়। এই মধ্যাকর্ষণ শক্তি থাকার কারণেই মানুষ পৃথিবীর উপর চলাফেরা করতে পারছে, বৃষ্টির পানি নিচে মাটিতে আসে, গাছের ফল জমিনে পড়ে, বাতাস পৃথিবীর সঙ্গে লেগে থাকে। শুধু তাই নয় পৃথিবী হতে কোন বস্ত্তর দুরত্ব যতই বাড়তে থাকে ততই তার ওজন কমতে থাকে। আর যদি মধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যবস্থা মহান স্রষ্টা না করতেন তবে পৃথিবীর সব কিছু মহাশূন্যে হারিয়ে যেত, তা আর পাওয়া যেত না। অপরদিকে, অভিকর্ষজ বল হলো পৃথিবী তার কেন্দ্রাভিমুখে উপরস্থ সকল বস্তুকে যে বলে আকর্ষণ করে সেই বল। সর্বপ্রথম নিউটন অভিকর্ষজ বল সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। কথিত আছে, একদিন নিউটন আপেল গাছের নিচে বসে ভাবছিলেন এমন সময় তার মাথায় একটি আপেল এসে পড়ে। আপেলটি কেন মাটিতে পড়ল এই নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেই তিনি অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। এই সৌরজগতের যে কোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে তাকে মহাকর্ষীয় বল বলে। আর এই দুটি বস্তুর মধ্যে একটি যদি পৃথিবী হয় তখনি এই বলকে অভিকর্ষজ বল বলে। অভিকর্ষজ বল ‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তি’ নামেও সাধারণের কাছে পরিচিত, যদিও বল ও শক্তি এক জিনিস নয়। সুতরাং অভিকর্ষ বল মহাকর্ষ বলের একটি অংশ। বিশ্বে যে চার প্রকারের মৌলিক বল রয়েছে তার মধ্যে একটি হল মহাকর্ষীয় বল। আই//

বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি ৩১টি টেলিভিশন। উৎক্ষেপণের এক বছর পর বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গত বছরের ১১ মে উৎক্ষেপণ করা হয় স্যাটেলাইটটি। উৎক্ষেপণের ছয় মাস পর স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে স্যাটেলাইটটির দায়িত্ব বুঝে নেয় রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। বিসিএসসিএল সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইটটি দিয়ে নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের মাধ্যমে আগামী ১৯ মে এই সেবা চালু হবে। আর একই দিনে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ‘ডাইরেক্ট টু হোম’ (ডিটিএইচ) সেবা চালু হবে। এতে ক্যাবল ছাড়াই অ্যানটেনার মাধ্যমে টেলিভিশন দেখা যাবে। এ ছাড়া সরকারের পরিকল্পনায় আছে, হাতিয়া দ্বীপের ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানে টেলি-মেডিসিন ও টেলি-এডুকেশন সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়। তবে এখনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সরকারের আয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে কোনও টাকা পায়নি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বাণিজ্যিক সম্প্রচারেও প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে সেবা দিতে হবে। এ সময় কোনও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইটের সঙ্গে ৩১টি বেসরকারি টেলিভিশনের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ সেবা। বাণিজ্যিক সম্প্রচারের প্রথম তিন মাস পর প্রতিটি টিভি চ্যানেল থেকে মাসিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করা যাবে বলে আশা করেন বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান।

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে করণীয়

জনপ্রিয় মেসেজিং আ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, তারা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, গ্রাহকদের মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইসে এক ইসরায়েলি কোম্পানির তৈরি একটি স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দিচ্ছে হ্যাকাররা। যারা মাধ্যমে দূর থেকে কারো মোবাইল কল বা টেক্সট বার্তার ওপর নজরদারি করা যাবে। কিভাবে হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকবেন? হোয়াটস আ্যাপ তাদের প্রায় ১৫০ কোটি গ্রাহককে দ্রুত তাদের এ্যপটি আপডেট করার পরামর্শ দিয়েছে। মনে রাখবেন সেই আপডেট আপনাকে করতে হবে নিজে নিজে - যাকে বলে ম্যানুয়েলি। কারণ অ্যাপস্টোরের মাথায় সেই লাল ডটের হাতে এটা ছেড়ে দিলে চলবে না, যেহেতু অ্যাপটি হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। হোয়াটসএ্যাপের মতো ইন্টারনেটে সেবার জনপ্রিয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণই ছিল এর নিরাপত্তা। অর্থাৎ যার অ্যাকাউন্ট - তিনি ছাড়া আর কেউ এতে কোনভাবে ঢুকতে পারবে না, জানতে পারবে না তিনি কি বলছেন, কি বার্তা বিনিময় করছেন - তার গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই স্পাইওয়্যার - যা ইসরায়েলে তৈরি বলে বলা হচ্ছে তা সেই নিরাপত্তা দেওয়ালও ভাঙতে সক্ষম, নজরদারি করতে সক্ষম। যে কলটির ঘাড়ে চড়ে এই স্পাইওয়্যার আপনার ফোনে ঢুকছে - সেই কলটি আপনি না নিলেও তা আপনা-আপনি আপনার ফোনে ইনস্টল হয়ে যাবে। সেই কলটি আপনি দেখতেও পাবেন না, কারণ হ্যাকাররাই তখন এ্যাপটির নিয়ন্ত্রণ নিযে নিয়েছে। তাই এখানে জেনে নিন, আর কি কি করতে পারেন আপনি। যদি আপনি নিজে বা আপনার কোন বন্ধু আপনাদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপের কথাবার্তা আইক্লাউডে বা গুগলড্রাইভে ব্যাকআপ করে রাখে - তাহলে একটা সমস্যা আছে। সেটা কিন্তু এনক্রিপ্টেড নয় অর্থাৎ গোপনীয়তার সুরক্ষা এ ক্ষেত্রে কাজ করবে না। তাই গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাইলে আপনি হয়তো ব্যাকআপ ডিজএ্যাবল অর্থাৎ অকার্যকর করে দিতে পারেন। আপনার সেটিং-এ গিয়ে চ্যাট ব্যাকআপ অপশন থেকে আপনি এটা করতে পারেন। যে কোন তথ্য নিরাপদ এবং অন্যের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখার জন্য মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন একটা ভালো উপায়। হোয়াটসঅ্যাপ সহ অনেক অ্যাপেরই নানা রকম নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা আছে। আপনি যদি সেটিং>অ্যাকাউন্ট>প্রাইভেসিতে যান তাহলে আপনি সবই দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আপনার প্রোফাইল ফটো, বা আপনি কোথায় ছিলেন বা আছেন তা কে কে দেখতে পারবেন। আপনি `read receipt` অর্থাৎ কারো পাঠানো বার্তাটি যে আপনি পড়েছেন তার প্রমাণস্বরূপ সেই টিক চিহ্নটা সুইচ অফ করে দিতে পারেন। আপনি যদি একজন আইনজীবী, এ্যাকটিভিস্ট, মানবাধিকার কর্মী বা সাংবাদিক হন - তাহলে ব্যাপারটা জরুরি। আপনি যদি এরকম কিছু না হন তাহলে হয়তো অতটা চিন্তার কারণ নেই। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

রুয়েটে দেশের প্রথম হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন

একটি পরিত্যক্ত গাড়ি ব্যবহার করে সোলার সিস্টেম মাধ্যমে হাইব্রিট গাড়ি উদ্ভাবন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) গবেষক দল। মাত্র দুই বছরের চেষ্টায় তিনটি সুবিধাসম্পন্ন দেশের প্রথম এ হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক। ড. এমদাদুল হক বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এখন জ্বালানি ব্যবহার কিভাবে কমানো যায় সেদিকে নজর দিচ্ছে। কারণ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে যত জ্বালানি আছে শেষ হয়ে যাবে। তাই আমরা এমন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছি যা জ্বালানি ব্যবহার কমাবে। আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। কারণ এই গাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জ্বালানি কম খরচ হবে। একইসঙ্গে একটি পরিত্যক্ত গাড়িকে সহজেই ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হবে। উদ্ভাবিত এই গাড়িটির জ্বালানি খরচ খুবই কম হবে।’ উদ্ভাবিত হাইব্রিড গাড়ির সুবিধাগুলো হচ্ছে, একইসঙ্গে ইলেকট্রিক্যাল প্লাগ ইন, ইঞ্জিনসেবা ও সোলার চার্জিং সিস্টেম। এর ফলে জ্বালানি শেষ হলেও চলবে গাড়ি। সোলার সিস্টেম থাকায় যানজটে আটকে থাকলেও ব্যাটারি চার্জ হবে। তাই শক্তি বা জ্বালানির অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া আছে প্লাগ চার্জিং সিস্টেমও। বিদ্যুতের সাহায্য নিয়ে চার্জ দেয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা জানান, পোর্টেবল ডিভাইসের মতো এই প্রযুক্তিটি এখন যেকোনো গাড়ির সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। মূলত একটি পরিত্যক্ত গাড়ি ব্যবহার করে হাইব্রিড গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহীর একটি গ্যারেজ থেকে গাড়িটি সংগ্রহ করা হয়। ব্যাটারি ব্যবহার করেও ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি পাওয়া সম্ভব হবে। তাছাড়া একবার চার্জ হলে জ্বালানি ব্যবহার ছাড়াই একটানা ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলা সম্ভব। একটি পরিত্যক্ত গাড়ি থেকে হাইব্রিড গাড়ি রূপান্তর করে ব্যবহার উপযোগী করতে খরচ পড়বে মাত্র ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে এই প্রকল্পটি পান রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের এই শিক্ষক। এরপর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু হয়। যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সঙ্গে এই উদ্ভাবন কাজে অংশগ্রহণ করেন বিভাগের শিক্ষক ফজলুর রশীদ। এছাড়াও বিভাগের ২০১৩-১৪ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান, ওবায়দুল হাসান, তানভির রহমান, তরিকুল ইসলাম ও ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হক ফরিদ কঠোর শ্রম দিয়েছেন। গবেষকদের ব্যাটারি দিয়ে সহযোগিতা করেছে গেস্টন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।   এমএস// এসএইচ/  

সব টিভি চ্যানেলকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আনা হবে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার শুরু করবে আগামী রোববার থেকে এবং পর্যায়ক্রমে সব টিভি চ্যানেলকে স্যাটেলাইটের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। স্যাটেলাইট থেকে ক্যাবল টিভি দেখার সেবা ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ সেবাও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, ১৯ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হবে। এ অনুষ্ঠানে স্যাটেলাইটটির বহুমুখী ব্যবহারের ওপর কয়েকটি প্রদর্শনী হবে। ২০১৮ সালের ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ভাসানচরে (যেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কথা রয়েছে) ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সব টিভি চ্যানেলকে স্যাটেলাইটের আওতায় আনা এবং এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভাসানচরে (যেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কথা রয়েছে) ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেছেন, স্যাটেলাইট এক বছর হলেও আমরা বুঝে পেয়েছি নভেম্বরে। এর আগে এটি ফ্রান্সের থ্যালাস এলিনিয়া স্পেসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। টিআর/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি